এর কারন কি?
এই ঘটনায় একটা গল্প মনে পড়ছে।
বাংলা গদ্য সাহিত্যের প্রধান পুরুষ মানিক বন্দোপাধ্যায়ারের একটা ছোট গল্প আছে - নাম - "প্রাগৈতিহাসিক"। গল্পের মুল চরিত্র একজন ভিক্ষুক। সেই ভিক্ষুকের মুলধন হলো ওর গায়ের কয়েকটা দগদগে ঘা। এক বিকেলে সে স্ত্রীকে বলছে - দেখছস, কেমন করে ঘা'টা শুকিয়ে যাচ্ছে। ওর বৌ ও চিন্তিত হয়ে যায়। ঘা শুকালে ওদের ভিক্ষা যে কমে যাবে তাতে ওদের দু'জনেই কিছুক্ষন মন খারাপ করে বসে থাকে। পরে লোকটি একটা কাঠি দিয়ে ঘা টাকে আবার খোঁচিয়ে রক্তাক্ত করতে শুরু করে।
বিগত দুই বছর জামাত টেবিলের নীচ দিয়ে এই সরকারে সাথে প্রচুর প্রেম করেছে। সরকারের দালাল হয়ে মুজাহিদ জেলে খালেদা জিয়ার সাথে দুতালী করেছে। ওয়ারেন্ট থাকা অবস্থায়ও সরকারের সাথে সুসম্পর্ক থাকার সুবাদে সংলাপ করেছে। এখনও মুজাহিদ আর নিজামী কোন ধরনের জামিন ছাড়াই নিম্চিত ঘুরে বেড়াচ্ছে।
এরা কি কখনও ২৮শে অক্টোবররে বিচার চেয়েছে? চায় নি। কারন বিচার চাইতে গেলে ওরাও এই মামলায় ফেঁসে যাবে। কারন সেই দিন জামাতিরাই অস্ত্র বহন করছিলো। আর মাইকে যে লোকটা উস্কানী দিচ্ছিলো - মরলে শহীদ বাঁচলে গাজী, বৃষ্টির ঢিল মারো" - সেও কিন্তু জামাতের নেতা ছিলো। তা ছাড়াও জামাতিদের গুলিতে ওয়ার্কাস পার্টির সজল মারা গেছে। সুতরাং বিচার চাইতে গিয়ে নিজেরাই ফেঁসে যাবার পরিবর্তের ছবি টবি দেখিয়ে যতটা রাজনৈতিক ব্যবসা করা যায় - ততই ভাল - এইটা হলো জামাতে চালাকী।
আসলে জামাত-শিবিরের যা চরিত্র তাই ফুটে উঠে ২৮শে অক্টোবরের ঘটনায়। ওরা প্রয়োজনে আরো বোকাসোকা কিছু শিবির কুরবানী করবে - যদি তাতে ওদের রাজনৈতিক সুবিধা মিলে - এই আশায়।
দুঃখজনক হলেও সত্য ব্লগের শিবির কর্মীরাও এই পযর্ণ্ত ২৮শে অক্টোবরের বিচার চায় নি - চাইবেও না। কারন এতে ওদের ঘা দেখিয়ে করুনা ভিক্ষার ব্যবসায় অসুবিধা হবে।
আমরা চাই বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের বিচার হোক। আর যে কেউ ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কর্মীদের লাশ নিয়ে রাজনীতি না করতে পারে সেই লক্ষ্যে অবিলম্বে তদন্ত করে ২৮শে অক্টোবরের সকল দোষী ব্যক্তিকে বিচারের সামনে হাজির করা জরুরী।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

