somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার বস যদি কোন ব্লগের মডারেটর হইতেন!

০২ রা নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশের স্বপ্লকালীন চাকুরী জীবনে এক বস পেয়েছিলাম - উনি ছিলেন অফিসের বড়কর্তা আর আমি নবিস। উনার অবসরের ভাবনার বিপরীতে আমার ছিল স্বপপুরনের শুরু। যাই হোক, এই পর্যন্ত যত লোকের অধীনে কাজ করেছি - তার মধ্যে উনি ছিলেন সবচেয়ে চৌকশ। উনি ব্যবহারে ছিলেন রসিক, বুদ্ধিমান আর প্রচন্ড আধুনিক মানুষ। অন্যদিকে ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন অসামাজিক ও ধর্মীয় ভাবে গোড়া।

ভদ্রলোকের সাথে চাকুরী করা কালীন প্রচুর জ্ঞানার্জন করেছি - তারমধ্যে কিভাবে বদনার ভিতরে পলিথিনে করে ঘুষের টাকা লেনদেন হতো তার থেকে শুরু করে মন্ত্রনালয়ের মিটিং এ মন্ত্রীদের কথার মারপ‌্যাচে বোকা বানানো পর্যন্ত। আমি মোটামুটি মেন্টর হিসাবে উনাকে অনুসরন করা শুরু করেছিলাম।

কিন্তু উনার কিছু কিছু বিষয় আমার মোটেও ভাল লাগতো না। তাদের মধ্যে একটা ছিল - উনার অতিরিক্ত পিয়ন-ড্রাইভার নির্ভরতা। উনার অফিসে তিন জন পিয়ন, বাসার কাজে একজন আর একজন থাকতো বাজার হাটের দিকে দৌড়ানো অবস্থায়। আর ড্রাইভার ছিলো তিনজন - যদিও গাড়ী ছিলো একটাই। উনি টেবিলের উপর একটা পিন সরানোর জন্যেও বেল চেপে পিওনকে ডাকতে দেখছি।

ভদ্রলোক বছরের একটা উল্লখযোগ্য সময় ইউরোপ - আমেরিকা-জাপান ঘুরে বেড়াতেন। একদিন উনার কাছ থেকেই শুনলাম - উনি মাস্টার্স করেছেন ক্যালিফোর্নিয়াতে। দেখে শুনে আরো বেশী অবাক হতাম - একজন লোক এতো বিদেশ ভ্রমন করে আর দেশে এলে পিয়নদের দিয়ে সব কাজ করায়। কেন?

একদিন সাহস করে জিজ্ঞাসা করেই ফেললাম - স্যার, আপনার এতো পিয়ন নির্ভরতার কারন কি? বিদেশে থাকার সময় কিভাবে নিজের কাজ করতেন?

উনি বললেন - দেখো, যদি আমি বিদেশে না থাকতাম, তাইলে হয়তো পিয়ন দিয়ে কাজ করানো যে মজা - তা হয়তো বুঝতামই না। একবার যখন মজাটা পেয়েছি - তা আরো বেশী বেশী ব্যবহার শুরু করেছি। এখন মনে হয় আমি আসক্ত হয়ে গেছি।

(২)

এতো বছর আজ কেন বসের কথা মনে পড়লো, সেই কথাটাই বলছি। তবে আগে একটু সূচনা দেওয়াটা মনে হয় খারাপ হবে না।

বাংলা ব্লগের পথিকৃত সামহোয়ার ইনের চড়াই উৎরাই এর অনেকটাই ছিলো 'মডারেশন' বিষয়ে। কিভাবে মডারেশন হবে, কতটা হবে, কি কি মডারেশনের আওতায় থাকবে - ইত্যাদি বিষয়ে প্রচুর জ্ঞনগর্ভ আলোচনা শুনেছি। কেউ কেউ মডারেশন বলতে শুধু বিভিন্ন শব্দের অপব্যহার - বা গালাগালি থেকে মুক্তি বুঝিয়েছেন। কেউ বা ব্লগের বিপরীতে অন্য ব্লগের ষড়যন্ত্র দেখেছে - আর মডারেটরদের গালাগালি করেছেন। ইতিহাস অনেক বড়। সংক্ষেপে বলা যায় - মডারেশনের মতো একটা ব্যাপক বিষয - যার কোন সুস্পষ্ঠ সংজ্ঞা নেই - তাকে যার ইচ্ছা যযেমন তেমন ভাবেই ব্যবহার করা যায় - সেই মডারেশনের নিয়ে জ্ঞানী আলোচনা পড়ে মনে হতো - প্রচলিত মিডিয়ার কর্পোরেটের ছায়া থেকে বেড়িয়ে বিকল্প মিডিয়া হিসাবে বিশ্বে ব্লগের যে অগ্রযাত্রা তার মুল ধারা বিষয়ে খুবই কম জ্ঞানই রাখে এই সকল জ্ঞানী লোকজন।

যাই হোক - এক পর্যায়ে মডারেশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে একদল মেধাবী লেখক আরেকটা ব্লগ তৈরী করে চলে গেলেন। কিন্তু হায় - তাকে কি ব্লগ বলা যায় - সেখানে প্রবেশের আগেই আপনার পুরো ঠিকুজী জমা দিতে হবে। তবে উনাদের ধন্যবাদই দিতে হয় - উনারা সেইটাকে ব্লগ না বলে "অনলাইন রাইটার্স কমিউনিটি" নামে ডাকছেন - যা আসলেই ঠিক। এই পরিচয়টা আসলেই ঠিক। বিকল্প মিডিয়া হিসাবে গড়ে উঠা ব্লগিং এর কোন ধরনের চিহ্ন নেই সেখানে।

যখন সেই ববলগের জন্ম হলো - তখন একবার বসে কথা মনে হয়েছিলো। বসের মতো সেই ব্লগের উদ্যেগতারাও সামহোয়ার ইনে মডারেশন বিরোধী বিবিধ কর্মকান্ডের অংশ নিয়ে মডারেশনের মজাটা বুঝেই হয়তো নিজেদের ব্লগের জন্যে কোন জানালা রাখেন - শুধু একটা দরজা রেখেছেন - মেটাল ডিটেক্টর সহ।

এবার নতুন আরেকটা ব্লগের জন্ম এবং তার মডারেটরের কর্মকান্ডের সাথে চারপাতার নিচ্ছিদ্র নীতিমালা দেখে আবারও আমার বসের কথা মনে পড়লো। যদি বসকে কোথাও কয়েকদিন ব্লগানোর সুযোগ দিয়ে নতুন ব্লগের মডারেটর বানানো হতো - উনিও হয়তো এমন নিচ্ছিদ্র নীতিমালা বানাতেন যাতে বশংবদ আর মেরুদন্ডহীন যশলোভী কিছু ব্লগার ছাড়া কোন আত্নসন্মান সম্পন্ন মানুষ সেখানে থাকতো না। কোন কর্পোরেট মানসকিতায় চালিত ব্লগকে কি প্রকৃত অর্থে বিকল্প মিডিয়অ হিসাবে ব্লগ বলা যাবে কি না, সেইটাই ভাবতে হবে। কোন পত্রিকা কোন ভাবেই চাইবে না তার উপর আশির্বাদ বর্ষনকারী গোস্ঠীর জন্যে অসস্থিকর কোন বক্তব্য - তা যতই সত্য হোক - তা বিনে পয়সায় ব্লগানো কোন অর্বাচীন ব্লগারের কাছ থেকে শুনতে। তাই তাদের দরকার একজন প্রকৃত বশংবদ মডারেটর যিনি কিনা একদল তাবেদার ব্লগার শ্রেনী তৈরী করতে পারবে। সেই ক্ষেত্রে আমার বসের মতো একজন বিচক্ষন ও চৌকশ মানুষ উপযুক্ত হতো।

বলাই বাহুল্য - অন্ধকার আর পরাজিত গোস্ঠীর জন্যে যত কঠিন আইন-কানুন তৈরী করে নিরাপদ স্থান তৈরী হবে - তারা ততই নিরাপদ বোধ করবে। সেই নিরাপত্তার দায়িত্বে আমার বস মনে হয় খুবই ভাল করতো। যেখানে পিয়নবিহীন জীবন থেকে উনি পিয়ন রাখার মজাটা বুঝেছিলেন - তেমনি মডারেশন নিয়ে হৈ চৈ করে উনিও নিশ্চয় মডারেশন কাকাহে বলে - কত প্রকার ও কি কি - তার সুস্পষ্ট উদারহন তৈরী করতেন।

তবে একটা কথা কি - পৃথীবিটা কিন্তু বিশাল -তেমনি বিশাল হলো ইন্টারনেট জগত। যাদের মুক্তমনে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশকে যশের লোভের মেরুদন্ড হারানোর উপর প্রাধান্য দিতে চান - তাদের জন্যে ইতোমধ্যে তৈরী হয়েছে নতুন নতুন জগত - যেখানে একজন মানুষ নিজের মর্যাদাকে সামান্য খাটো না করেই স্বাধীন ভাবে মতামত ব্যক্ত করতে পারবেন।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:০৫
২৪টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×