এই পোস্টের লিংক ধরে পড়তে গিয়ে দেখলাম একজন রানা ফারুক তার বিশ্বাস পরিবর্তন করেছে। আগে "হ্যাঁ" বিশ্বাস করতেন এখন "না" বিশ্বাস করছেন।
তা বলার সাথে সাথে একদল লোক উনার পিঠ চুলকাতে শুরু করেছেন। দেখে আমার পিঠটাও চুলকাচ্ছে।
সেখানে এক একজন বীর পুরুষ বসে আছে - বলছেন উজানের দিকে সাঁতার কাটার বীরত্বের কথা। আর তার মধ্যে পাঠ্য বইএর তালিকাও আছে যার একটা বড় অংশই উনাদের লেখা।
আমার প্রশ্ন, তফাৎটা কি? আগে হ্যা বিশ্বাস করতেন না বুঝেই - এখন চমকদার কথা শুনে না বিশ্বাস করছেন। নিজের বিবেকবুদ্ধি দিয়ে বিচার করার ক্ষমতা যাদের না থাকে তাদের জন্যে চমকদার কথা আর পিঠ চুলকানো থেকে নিজেকে বাঁচানো কঠিন বটে।
সেপ্টেম্বর ১১ এর পর পরিবর্তিত বিশ্বে মুসলমান সম্প্রদায়ের উপর যে পরিকল্পিত আক্রমন আর প্রচারাভিযান চলছে তার পিছনের কারনগুলো বলার অপেক্ষা রাখে না - শুধু ইরাকের দিকে নজর দিলেই বুঝা যায়।
সেপ্টেম্বর ১১ এর পর অস্থির সময়ে কিছু সুযোগ সন্ধানী মানুষ মুক্তমনা নামে ইসলাম বিরোধী প্রচারনা শুরু করে - যাদের পেছনে একদল মানুষ প্রকৃতপক্ষে মুসলমানদের প্রতি ঘৃনা প্রচার করার জন্যেই কিছু ওয়েব ফোরামের জন্ম দেয়। এদের প্রচারনার সাথে রিচার্ড ডাউকিন আর ডারউইনের কথা এমন ভাবে মিশানো থাকে যাকে আপাত দৃস্টিতে বিজ্ঞান বলে ভুল হতে পারে - বিশেষ করে বিজ্ঞান যাদের পাঠ্য নয়। সেই অপ-বিজ্ঞানের চমকদার প্রচারনায় কিছু মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে প্রথম যে কাজটা করে তা হলো মুসলমানদের গালি দেওয়া।
তাদের আলোচনা শুনলে মনে হবে বিশ্বের সকল সমস্যার একমাত্র কারন ইসলাম। এরা ভুলেও ধর্মরাষ্ট্র ইসরায়েলের যুগ যুগ ধরে প্যঅলেস্টাইনীদের উপর অত্যাচার নিয়ে কথা বলে না। বুশের জেহাদী জোসের আক্রমনের শিকার ইরাক যুদ্ধে এদের একদলকে সমর্থন করতে দেকা যায়। মোদ্দা কথা হলো মুসলামদের উপর যে কোন ধরনের আক্রমনই এদের আনন্দ দেয়।
সুতরাং নাম যাই হোক - বর্নটার দিকেই খেয়াল রাখতে হবে। নামে মুক্তমনা হলেও প্রকৃতপক্ষে এদের কাজ একটা বিশেষ ধর্মগোস্টীর বিরোধীতা করা।
মজার কথা হলো সেখানে বিশ্বাস পরিবর্তন করার জন্যে যারা রানার পিঠ চুলকিয়েছে - এরা যখন শুনে কোন মানুষ ধর্ম বিশ্বাস পরিবর্তন করেছে - তখন তা নিয়ে ব্যঙ্গবিদ্রুপ করে।
একই অংগে কতো রূপ দেখবো আর!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



