আগামী নির্বাচনে জামায়াত বিএনপির সাথে জোট করে নির্বাচন করবে। কারন সুস্পস্ট - নিজের ভোটে ২ থেকে ৩ টার বেশী আসন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু বিগত ৩৫ বছরের সৌদি -কুয়েতের বিনিয়োগের ফলাফল হিসাবে যদি ২/৩ টি আসন নিয়ে সংসদে বসে থাকতে হয় - তাইলে ভবিষ্যতে পেট্ট্রোডলার বিনিয়োগ করে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে মধ্যপ্রাচ্যের রাজা-বাদশার দালাল তৈরী করার প্রজেক্টে হয়তো অন্য কোন দলকে নিয়োগ করা হবে। এদের জোট করে নির্বাচন করা নতুন নয় - ২০০১ সালেও মুখে যদি সৎলোকের শাসন আর আল্লার আইনের কথা বলে নির্বাচন করে একজন নির্বাচিত আরেকজন নির্বাচনে প্রতিযোগিতা না করেই মন্ত্রী হয়েছে। ঘটনাচক্রে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে জামায়াত শীর্ষে (৬৭%) অবস্থান করেছে। এদের দুই মন্ত্রী দূর্নীতির মামলায় জেলেও গেছে। তার উপরে নির্বাচন করার জন্যে এখন গঠনতন্ত্র থেকে আল্লাহর আইন কথাটি বাদও দিয়েছে।
জামায়াতের জোট করে নির্বাচনের গোপন রহস্য হিসাবে নীচের তথ্যটাও গুরুত্ব রাখে বটে।
বিষয়টা হলো জামায়াত কোটি কোটি টাকা খরচ করে - বেতনভুক সার্বক্ষনিক নেতা কর্মী নিয়োগ করে - প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত যানবাহনের ব্যবস্থা করে - ধর্মীয় জিগির তোলে কি মুলত তাদের প্রতি জনসমর্থন বাড়াতে সক্ষম হয়েছে?
উত্তর হলো - না। দিনে দিনে জামায়াতের খোলস খুলে পড়ছে আর সাধারন মানুষের কাছে এখন আর দশটা দূর্নীতিবাজ সুবিধাবাদী সংগঠন হিসাবেই জামায়াত প্রকাশিত।
নীচের তালিকায় দেখুন জামায়াতের জনপ্রিয়তার নমুনা।
১৯৯১ তে জামাত ভোট পায় ১২.১৩%,
১৯৯৬ এ ৮.৬১%
২০০১ এ এককভাবে ৪.২৯%
(সূত্রঃ প্রথম আলো, ০২ নভেম্বর ২০০৭)
এখন যদি কেউ দু্ই জাহানের নেকী হাসিল করার মানসে জামায়াতকে ভোট দিতে চান - তাদের জন্যে বিগত সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের ম্যানিফেস্টোটার দিকে একটু নজর দিতে বলবো। ওয়াদা করে ভোট নিয়ে ওয়াদার বরখেলাপির সর্বনিকৃষ্ট উদাহরন হিসাবে জামায়াতের পাঁচ বছরকে সহজেই চিহ্নিত করা যাবে।
২০০১ সালের নির্বাচনে জামাতিরা বিন এন পির সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে নিবাচন করলেও তাদের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো তারা আলাদাভাবে প্রকাশ করে। ম্যানিফেস্টোর প্রধান পয়েন্টগুলো হচ্ছে:
১. শরিয়া আইন প্রবর্তন করার জন্য প্রয়োজনীয় আইন গঠন।
২. এই লক্ষ্যে জনমত সৃষ্ঠি করা।
৩. নামাজ বাধ্যতামূলক করে একটি আইন প্রনয়ন করা।
৪. বাইতুল আমান গঠন করা
এইবার দেখি তারা কি করেছে এই বিষয়গুলোতে ক্ষমতায় থাকার সময়ে।
১. ক্ষমতায় ৫ বছর থেকেও তারা শরীয়া আইন চালুর বিষয়ে সংসদে কোন বিল আনেনি। তাদের এই কথা খালি ম্যানিফেস্টোর ছাপার অক্ষরেই রয়ে গেছে।
২. সংসদে একদিনও তারা জনমত পরীক্ষা করার জন্য আবেদন জানায় নাই যে দেশে শরীয়া আইন চালু হবে কি হবে না।
৩. নামাজ বাধ্যতামূলক করার আইনের ব্যাপারেও তারা টু শব্দটি করে নাই। শিক্ষার সর্বস্তরে ইসলামের মূল স্তম্ভগুলো সম্পৃক্ত করার কথা ঐ প্রস্তাবে ছিলো কিন্তু তারা ক্ষমতার ৫ বছর জবান বন্ধ করে ছিল তাদের এই ম্যানিফেস্টোর ব্যাপারে।
৪. বাইতুল আমান প্রতিষ্ঠা করে সরকারি কর আদায় সিস্টেমকে রিপ্লেস করার কথা থাকলেও তারা সেইটাও পালন করে নাই। তারা ব্যস্ত ছিল কিভাবে ট্যাক্স ফ্রি সুবিধা নিয়ে দামি গাড়ি আমদানি করা যায়।
এই বিষয়গুলাতে জামাতের মুখ বন্ধ করে রাখা কি বুঝায়? তারা আসলেই একটা ভন্ড দল। তারা মুখে ইসলামের কথা বলে কিন্তু কাজে ইসলামের কোন প্রকাশ নাই। ভন্ডামি আর অসততাই তাদের বৈশিষ্ট্য। তারা আকুল হয়ে থাকে কিভাবে ক্ষমতায় যাওয়া যায় তার জন্য। দেশের নিরপরাধ মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে পুজি করে তারা তাদের লক্ষ্যে (ক্ষমতায় যাওয়া আর দুর্নীতিতে ডুবে থাকা) যে কোন উপায়ে পৌছাইতে চায়। সেজন্য তাদের নিজেদের কর্মীদের বলতে বাধে না যে মরলে তারা বেহেশতে যাবে। কে যাবে আর কে যাবে না, এইটা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। তারা কিভাবে নিশ্চিত হইলো জামাত শিবিরের লোকদের সব গুনাহ্ মাপ হয়ে গেছে!
এখন বিবেচনা করে দেখুন - জামায়াতকে কেন ভোট দেবেন?
(পোস্টের তথ্যের জন্যে ব্লগার রাশেদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই)
আলোচিত ব্লগ
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের গ্রামের গল্প!

আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।