ঘটনা হলো আওয়ামীলীগ তুলনামুলক ভাবে ভাল নমিনেশন দিয়েছে। বিশেষ করে মুন্সীগঞ্জ সদরের মহিউদ্দিন আর তার মাফিয়া পরিবারের কাউকে নমিনেশন না দিয়ে মুন্সীগঞ্জবাসীদেরকে কৃতার্থ করেছেন।
আপাত দৃস্টিতে মনে হয়েছে - আওয়ামীলীগ নেতৃত্ব হয়তো ১/১১ এর সুযোগটা নিয়েছে। কিন্তু যখন দেখলাম ৯০ এর গনআন্দোলনের ফসল ছাত্রনেতাদের নমিনেশন না দিয়ে "বেয়াদপির" শাস্তি দিয়েছেন - দেখে হতাশ হচ্ছি।
মাহমুদুর রহমান মান্না, সুলতান মনসুর আর আখতারুজ্জামান স্বৈরাচারী এরশাদ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মাধ্যমে নেতৃত্বের যোগ্যতা প্রমান করেছেন। এরা তিনজনই ডাকসুর ভিপি হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। কোন অযোগ্যতায় উনারা নমিনেশন পেলেন না - তা যদিও পরিষ্কার করে বলা হয়নি। তবে ধারনা করা হয় - উনারা দলের ফোরামে সভানেত্রীর সাথে বিভিন্ন ইস্যুতে একমত পোষন করেননি। যা গনতন্ত্রহীন পরিবেশে নেতৃত্বদানকারী নেত্রীর কাছে চরম বেয়াদপি হিসাবে গন্য হয়েছে। ফলাফল - উনাদের নমিনেশন না দিয়ে শাস্তি - আর জনগন তিনজন যোগ্য নেতাকে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠানো সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলো। গনআন্দোলনের বিজয়ীদের মনোনয়ন বঞ্চিত করে পরাজিত ও পতিত এরশাদের সাথে সিটভাগাভাগির আলোচনার দৃশ্যটা সত্যই লজ্জাস্কর।
এখন প্রশ্ন আসে - এই তিনজন কি প্রকাশ্যে দলের বিরোধী অবস্থান নিয়ে দলের গঠনতন্ত্র ভংগ করেছে? মনে হয় না। তাইলে দলের ফোরামে ভিন্নমত পোষন করা আর আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহনের গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মতো নুন্যতম সহনশীল প্রক্রিয়াও কি আওয়ামীলীগের ভিতরে চর্চা করা নিষিদ্ধ।
বিষয়টা আরো ভয়াবহ হয়ে আসে যখন ভাবি - এই নেত্রীই একসময় সংসদে যাবে - হয়তো বিরোধী দলের নেতা বা সরকারী দলের নেতা হয়ে - তখন ভিন্নমত পোষনকারী বিপক্ষ দলের বক্তব্যকে উনি কি নুন্যতম সহনশীল হতে পারবেন?
যিনি দলের ফোরামে ভিন্নমত পোষনকারীকে সহ্য করার মতো সহনশীলতা প্রদর্শনে ব্যর্থ, গনতান্ত্রিক বাংলাদেশের নেতা হিসাবে তাঁর হাতে গনতন্ত্র কতটা নিরাপদ?
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



