গতকাল থেকে দেখছি - টিভি - অনলাইন পত্রিকা আর ব্লগে মার মার কাট কাট অবস্থা। কেউ বলছে সরকার কাজটা এভাবে করে ঠিক করেনি। কেউ বলছে উনি নিজের থেকে ছেড়ে দিলেই ভাল করতেন - ইত্যাদি ইত্যাদি। কত কত জ্ঞানী আলোচনা। পড়ে আর শুনে মনে হচ্ছে বাংলাদেশের আকাশে আসমান ভেঙ্গে পড়েছে। মজার বিষয় হলো - এরা যখন বুলডজার দিয়ে বস্তি গুড়িয়ে দিয়ে শত শত পরিবারকে আশ্রয়হীন করা হয় - তখন চুপচাপ বসে থাকে। যার বাড়ী নিয়ে সুশীলরা কেঁদে জামা ভিজাচ্ছে - উনারা নিশ্চয় জানেন যে উনার আরো একটা সরকারী বরাদ্ধকৃত বাড়ী আছে - যার পানি গ্যাস বিদ্যুত বিল সহ
বাবুর্চি, দারোয়ান আর ড্রাইভারের বেতন সরকার দেয়। তা ছাড়া মিন্টো রোডে উনার নামে একটা বাড়ী বরাদ্ধ আছে। উনার গুনধর পুত্ররা দেশের বাইরেও বাড়ী কিনে রেখেছে বলে জানা যায়। উনি যে বাস্তুহীন হচ্ছে না এই কথা ঠিক - তারপরও আমাদের এই মাতমের কারন কি? সরকার অন্যায় করলে কোর্ট তো খোলাই আছে - সেখানে যাওয়া কি উচিত নয়?
আসলে ঘটনাটা কি?
একজন রাজনীতিবিদ গত তিনদশক ধরে সেনানিবাসের সবচেয়ে বড় বাড়ীটিতে বসবাস করছেন। উনাকে সেই বাড়ীটি বরাদ্ধ দিয়েছেন আরেকজন অবৈধ ক্ষমতাদখলকারী সামরিক শাসক। কারন উনার স্বামী - প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় সামরিক বহিনীর অফিসারদের গুলিতে নিহত হয়ে শহীদ হয়েছে।
সেনা শাসক থেকে রাজনীতিবিদ কাম প্রেসিডেন্ট হওয়া জিয়াউর রহমানকে হত্যার দায়ে কোর্ট মার্শালে ১২ জন মুক্তিযুদ্ধাসহ পুলিশের ক্রশ ফায়ারে মেজর জেনারেল মঞ্জুর নিহত হয়েছিলেন।
নিহত প্রেসিডেন্টের হত্যায় শোকাহত জাতি কৃতজ্ঞ হয়ে মেনে নিয়েছিলো তার এতিম সন্তান আর বিধবা ষ্ত্রীকে দুইটা বাড়ী আর চাকর-বাকরসহ টেলিফোন ফ্রী দিয়ে সন্তানদের পড়াশুনার খরচ বহন করতে।
নিহত প্রেসিডেন্টের প্রাথমিক কবর চট্রগ্রাম থেকে ঢাকায় এনে গুরুত্বপূর্ন স্থানে কবর দিয়ে মাজার বানানো হয়।
কিন্তু একই ধরনের আরেকটা ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেছিলো -
১৯৭৫ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করে সেনাবাহিনীর অফিসাররা। তখন ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান উনা দুই কন্যা। যারা দেশে ফিরতে পারেনি ৬ বছর। তাদের পারিবারিক বাসস্থানটি সিল করে রাখা হয়েছিলো ৭ বছর।
একসময় সরকার তার এক মেয়েকে একটা বাড়ী বরাদ্ধ দিলেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি হয় সেই বরাদ্ধ। সেখানে থানা বানিয়ে তা উদ্ভোধন করেন দু্ই বাড়ী বরাদ্ধ পাওয়া প্রেসিডেন্টের বিধবা স্ত্রী।
আরো উল্লেখ্য যে - ঢাকায় নিহত প্রেসিডেন্টের মরদেহ তিনদিন পর গ্রামের বাড়ীতে লুকিয়ে কবর দেওয়া হয়।
এই প্রেসিডেন্টের হত্যাকারী সেনাকর্তাদের কোর্ট মার্শাল না করে প্রথ উল্লেখিত সেনাশাসক সেনাবাহিনীর প্রধান থাকার সময় খুনীদের দুতাবাসে চাকুরী দিয়ে পুরষ্কৃত করে।
সরকার নিহত প্রেসিডেন্টের বেঁচে যাওয়া সন্তানদের জন্যে কোন রকম সহায়তা দেয়নি।
একইভাবে সেনাবাহিনীর হাতে নিহত দুই প্রেসিডেন্ট - একজন চট্রগ্রামে মারা গিয়ে তিনদিন পর ঢাকায় কবর দিয়ে মাজার বানানো হয় - অন্যজন ঢাকায় নিহত হলেও টুংগীপাড়ায় কবর দেওয়া হয়। একজন হয় "শহীদ" আরকজন হন "মৃত"। একজনের বিধবা স্ত্রী পেয়ে যায় বিলাশবহুল বাড়ী আর একজন বিধবা হওয়ার সুযোগও পাননি - তাকেও হত্যা করা হয়। একজনের এতিম সন্তানদের জন্যে রাষ্ট্র সকলসুযোগ সুবিধা দিলেও - আরেকজনের এতিমরা পায় বোমার হুমকী।
এই ধরনের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ফলাফল আসলেই ভিন্ন হয়। আর আমরা সুশীল হয়ে বলি - তাইতো, এই নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থাকা উচিত না।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৮:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


