somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... সীমা লংঘন করাটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না
মূলত একটা রাজনৈতিক কর্মসূচীতে কিছু দাবী দাওয়া থাকে - সাধারনত একটা মুল দাবীকে ঘিরে আরও কিছু অপ্রধান দাবী দাওয়া মিলিয়ে একটা কিছু দফা তৈরি করা হয়। ঐতিহাসিক ৬ দফা থেকে শুরু করে এরশাদ বিরোধী অনেক দফা অবশেষে ৪ দফায় রূপান্তিরত হ - যদিও মূলত এরশাদের বিদায়ই ছিলও মুল দাবী।

একাধিক দফা দিয়ে মুল-দাবীকে শক্তিশালী করা ছাড়াও আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে দফাগুলো - তা হলও দুই পক্ষের মধ্যে একটা সমযোতার পথ তৈরিতে একদল কিছু দাবী মেনে নেয় - তাতে বিপক্ষেও কিছু ছাড় দিয়ে উভয় পক্ষ একটা উইন উইন পর্যায়ে যেতে পারে। এখানে মনে রাখা দরকার - দুই পক্ষেরই মরণপণ সমর্থকদের নেতারা যেভাবে উত্তেজিত করে দিনের পর দিন - তাদের কিছুটা নমনীয়তার জন্যে কিছু দাবী রাখা হয় - যাতে দুপক্ষের সমর্থকরাই নেতাদের বিজয়ী দেখার সুযোগ পেতে একটা মাঝামাঝি পর্যায়ে সমযোতা হতে পারে।

সমস্যা হয় যখন বিবদমান দলগুলোর মধ্যে গোপন কোন এজেন্ডা থাকে। তখন তারা কোন ভাবেই সমযোতায় যেতে পারে না - কারণ সমর্থকদের কাছে যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা পুরোপুরি আদায় না করে এরা যখন গোপন এজেন্ডায় সমযোতা করে তখন আন্দোলন একটা বিশৃঙ্খল অবস্থায় চলে যায় - তখন তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরী হয়ে উঠে। যা আমরা দেখেছি ১/১১ এর আগে। দুই দলই সংলাপের চেষ্টা করেছে - কিন্তু একটা সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়া যে প্রক্রিয়া গোপনের বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছিলো - তা নিয়ে কোন আলোচনা হয় নি - আর দাবী দাওয়াও সেইগুলোর প্রতিফলন ছিলও না। ফলাফল - একটা অগণতান্ত্রিক শাসনের নীচে দুই বছর থাকতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

বলাই বাহুল্য যে গনতন্ত্রিক শাসনের সরকার এবং বিরোধীদলের সমান ভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। কিন্তু ১/১১ এর পরও আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে খুব একটা নমুনা দেখিনি। যদিও শুরুর দিকে বিরোধীদল হিসাবে বিএনপির নেতারা (খালেদা জিয়া ছাড়া) সরকারের গঠনমূলক সমালোচনাই করছিলেন। এখন বিরোধীদল আক্ষরিক অর্থেই সরকারে বিরোধিতা করছে। প্রতিটি বিষয়ে শুধু নেতিবাচক ভূমিকা ছাড়া তারা সরকারকে সামান্য সময়ও দিতে রাজী না।

এই রকম একটা পরস্পরবিরোধী অবস্থানে আসার কারণ কি?

আমরা দেখেছি বিরোধীদল শুরু থেকেই সরকারের বিভিন্ন ইস্যুতে সমালোচনা করছে - অনেক ক্ষেত্রে সরকার সমালোচনার যথাযথ মর্যাদাও দিয়েছে ( সবচেয়ে বড় উদাহরণ ছিলও আড়িয়াল বিলে এয়ারপোর্ট নির্মাণ ইস্যু) । খালেদা জিয়া শুরু থেকেই সরকার ব্যর্থ হিসাবে আখ্যায়িত করে আন্দোলনের কথা বললেও - বিভিন্ন বিভাগে এবং ঢাকায় মহা-সমাবেশের মতো কর্মসূচীগুলো ছিলও মূলত শান্তিপূর্ণ এবং নিয়মতান্ত্রিক। যা জনমনে অস্থির কারণ হয়নি। গণতান্ত্রিক রাজনীতির চর্চা হিসাবেই দেখেছে সবাই। গন-অনশন কর্মসূচীও সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে।

কিন্তু যখন থেকে জামায়াতের সাথে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ঘোষণা আসলো - তখন থেকে দেখা গেলো বিএনপির নেতা খালেদা জামায়াতের এজেন্ডার উপর বেশী জোর দেওয়া শুরু করলেন। আর রাজপথ হয়ে উঠলো উত্তপ্ত। বাস-পোড়ানো থেকে শুরু করে গেরিলা স্টাইলে ভরদুপুরে রাজপথে ভাংচুর আর পুলিশের উপর আক্রমণ করে জামায়াত শিবির আগেই সংহিতার কথা জানান দিয়েছিলো। এখন সেই ধ্বংসাত্মক শক্তি খালেদা জিয়া নেতৃত্বে নিরাপত্তা পেয়ে গেছে। বিএনপির ব্যনারের নীচে এখন শিবির-জামায়াতের কর্মীরা সংহিতা করছে আর তার দায় নিতে হচ্ছে বিএনপিকে।

জামায়াতের এজেন্ডাটা সবাই বুঝি - যেভাবেই হোক দ্রুত সরকারের পতন হলে নেতারা বিনাবিচারের জেল থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে। কারণ অতীত ইতিহাস থেকে দেখা যায় বিএনপি অপরাধীদের (যেমন ১৫ ই আগস্টের হত্যাকারীদের ) অপরাধের সুবিধা নিলেও যখন বিচারে সাজা পেয়েছে তার দায় নেয়নি। তেমনি যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের দল ভালভাবেই জানে একবার রায় হয়ে গেলে বিএনপি এই লোকজনের দায় নেবে না। তাই বিএনপির ঘাড়ে চেপে বসে দ্রুত সরকারকে বিদায় করতে পারলে হয়তো এই বিচার বন্ধ করা যাবে।

অন্যদিকে দেখি বিএনপির তরুণ কর্মীরা এবং সাধারণ সমর্থকদের একটা বড় অংশ যুদ্ধাপরাধীদের দায় নিতে না চাইলেও শুধুমাত্র দলের প্রতি আনুগত্যের কারণে এখন আন্দোলনের প্রতি সমর্থন করতে বাধ্য হচ্ছে। কর্মী সমর্থকদের মতামতের প্রতি তোয়াক্কা না করেই খালেদা জিয়া সরাসরি যুদ্ধাপরাধের বিচার বিরোধিতা করে বত্তৃতা দিচ্ছেন কারণ উনার ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্যে দলকে উদ্ভৃদ্ধ করতে উনি ব্যর্থ হয়েছেন। বিশেষ করে উনার ছেলেদের ভবিষ্যত বিবেচনায় উনিও দ্রুত সরকারের বিদায় চাচ্ছেন। খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে সরকারের সাথে একটা সমযোতায় আসার চেয়ে উনি সরকারের উপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে একটা মোটামুটি নিশ্চয়তা চাচ্ছিলেন। কিন্তু একসময় একটা বিশেষ মহলের চাপে ঝুলে পড়া মামলাগুলো ( বিশেষ করে ২১এ আগষ্ট, দশট্রাক অস্ত্র মামলা ইত্যাদি) আবার সচল হলে খালেদা জিয়ার জন্যে অল-আউট হয়ে নামা ছাড়া উপায় থাকেনি। উনি সমযোতার আসল পয়েন্ট তারেককে রাজনীতিতে পুনর্বাসন না করার বিষয়টি ভুলে গেলেও অনেকে ভুলে যায়নি। এখন খালেদা জিয়ার সামনে একমাত্র পথ দেশে আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন মহলকে সক্রিয় করে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করা আর নিজের এজেন্ডাগুলোর একটা নিশ্চয়তা পাওয়া।

শুরুতে যা বলছিলাম - যে কোন আন্দোলনের দাবী দাওয়াগুলো জনগণের সামনে সৃস্পষ্ঠভাবে উপস্থাপন করে তার পক্ষে জনমত তৈরি করার একটা প্রক্রিয়া রাজনীতিতে বহুল ব্যবহূত। কিন্তু বর্তমানের জামায়াত নির্ভর খালেদা জিয়া আন্দোলনের দাবীগুলো কি?

মোটাদাগে যদি দেখি - তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা। যা করতে হবে সংসদে। যদি বিএনপি সংসদে গিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একটা রূপরেখা দিয়ে তারপর আন্দোলনের নামতো - তাহলে বুঝা যেতো আসলে তারা এই বিষয়ে সিরিয়াস। খালেদা জিয়া বক্তব্যগুলো দেখলে তার থেকে সিদ্ধান্তে আসা কঠিন - তারপরও মনে হচ্ছে উনি চান সরকার যেভাবে বাতিল করেছে ঠিক সেভাবে ব্যবস্থাটা ফিরিয়ে আনুন - যাতে উনি সরকারকে পরাজিত করেছেন তার একটা বিজয় মিছিল করতে পারেন। বাস্তবতা হলও - সরকারের পক্ষে তা সম্ভব নয়। কারণ কোর্টের রায়ে বিচারপতিদের এই ব্যবস্থার বাইরে রাখার নির্দেশ দেওয়া আছে। সুতরাং সমযোতার মাধ্যমে একটা নতুন ব্যবস্থা আনা যেতে পারে। কথা থাকে যে সরকার একক ভাবে যে কেন ব্যবস্থাই আনুন না কেন - খালেদা জিয়া তারই বিরোধিতা করবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। সুতরাং সরকারের পক্ষে একক ভাবে কোন পদক্ষেপ দেওয়ার রাস্তাও বন্ধ করে রেখেছে বিরোধীদল।

তারপর দেখছি নেতারা থেকে থেকে সরকারের বিদায় ঘণ্টা বাজাচ্ছেন। এইটা খুবই বিভ্রান্তিকর। যখন ডিসেম্বরের ১৮ তারিখের বিকেলের সম্মেলনের নামে ভোর থেকে বোমাবাজি করে বিরোধীদল একটা অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে - তখন কোন সুনির্দিষ্ট দাবী দাওয়া ছাড়া খালেদা জিয়ার ডাকে জামায়াত শিবির ক্যাডারদের ঢাকায় জমায়েত হতে দেওয়াটা যে বিপজ্জনক হতে পারে - তা বুঝার জন্যে তেমন কোন গোয়েন্দা তথ্যের দরকার হয় না। আগেই বলেছি - যে কোন মূল্যে সরকারের পতনের জন্যে যে কোন ধরনের অপকর্ম করে যে কোন শক্তিকে ক্ষমতায় দেখতে জামায়াত শিবির বদ্ধপরিকর। সেই বিবেচনায় ১২ই মার্চের মহা-সমাবেশ বা চল চল ঢাকা কর্মসূচীকে কোন ভাবেই অহিংস গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার সমাবেশ হিসাবে দেখলে বিরাট ভুল হতে পারে।

খালেদা জিয়া ১/১১ এর পর থেকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হয়েছে। নিজের একক সিদ্ধান্তে সংসদ বর্জন থেকে শুরু করে যুদ্ধাপরাধীর বিচারের বিরোধিতা আর জামায়াতকে আশ্রয় দিয়ে নিজেকে বিপজ্জনক নেতা হিসাবে প্রমাণ করেছেন।


বিপজ্জনক এক নেতার নেতৃত্বে একটা সুসংগঠিত ক্যাডার দলকে গণতন্ত্রের নামে রাজধানীতে সমাবেশ করার মাধ্যমে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরির পক্ষে বিপক্ষে সবাইকে সতর্ক থাকা দরকার। ভুল হয়ে যাওয়া আগেই ভাবা দরকার। দরকার সকলের শুভবুদ্ধির চর্চার। গণতন্ত্র চর্চাকে অব্যাহত রাখার স্বার্থে সবাইকে নিজেদের সীমানা বুঝে চলা দরকার। দরকার দেশের অর্থনীতির কথা ভাবা - দরকার আইনের শাসনের প্রতি আনুগত্য - দরকার নিজেদের বিবেকের কাছে জবাবদিহি করা।


এই সময়ে সরকার এবং সরকারী দলকেও ধৈর্যের সাথে কাজ করতে হবে। এইটা বলা দরকার যে সারা বিশ্বে যদি দলীয় সরকারের অধীনে সুস্থ নির্বাচন হয় – তবে বাংলাদেশে কেন হবে না? কারণ দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করার মতো যে রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং প্রাজ্ঞ নেতৃত্ব দরকার – বাংলাদেশে তা বর্তমানে অনুপস্থিত। রাজনৈতিক দলগুলোতে প্রাজ্ঞ নেতার চাইতে কৌশলী নেতার সংখ্যা বেশী – যারা রাজনৈতিক বৈরী পরিবেশে নিজেদের পদরক্ষা করাতে যথেষ্ট পারমঙ্গ। এই বাস্তবতায় আগামী সংসদ নির্বাচন একটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে হবে – এই ধরনের একটা সুস্পষ্ট ঘোষণা আসা দরকার সরকারের পক্ষ থেকে। হুমকি ধমকি দিয়ে আন্দোলনে দমনের ফলাফল হিতে বিপরীত হবে কিংবা কামরুলের মতো একজন উকিল দিয়ে খালেদা জিয়াকে জ্ঞানদান করে সমস্যার সমাধান হবে না। - কারণ খালেদা জিয়া জেনেশুনেই চরমপন্থা অনুসরণ করতে যাচ্ছেন। সুতরাং একটা সুস্পষ্ট ঘোষণার আলোকে আলোচনার একটা প্রক্রিয়া শুরু করা জরুরী। জামায়াত-বিএনপিকে লাশের রাজনীতি করার সুযোগ দিয়ে সরকার দেশকে নিরাপত্তা হীনতায় ফেলে দেবে। একটা সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরিতে সরকারের পক্ষ থেকে অনেক বেশী কৌশলী ভূমিকা দরকার।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29538851 http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29538851 2012-02-11 09:12:44
লাশের রাজনীতি এবং আমরা
খবর দেখার জন্যে টিভি অন করে মোটামুটি জানলাম চিটাগাং ইউনির্ভাসিটিতে ছাত্রলীগ- শিবির সংঘর্ষে দুইজন শিবির কর্মী নিহত। মনটা খারাপ লাগলো। সরকারী দল সরকারের ক্ষমতা ব্যয় করে এখন বিড়াল থেকে বাঘে রূপান্তরিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। চিটাগাং হলো শিবিরের জমিদারী। সেখানে ১৯৭৮ থেকে আর কারো কর্তৃত্ব চলে না - সেখানে শিবির কর্মীকে হত্যা সত্যই ক্ষমতার দরকার। অবশেষে ছাত্রলীগ কি শিবিরের জায়গা নিয়ে সেই ক্ষমতার অধিকারী হচ্ছে!

অবশেষে দেখলাম ডেইলি স্টারের ছবিটি - না, শিবির কর্মীরা রুমে আক্রান্ত হয়নি, পরীক্ষার হলো আক্রান্ত হয়, ক্লাশ রুমে আক্রান্ত হয়নি। উনারা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে জেহাদে নেমেছিলেন। কিন্তু সমস্যা হলো আগে ভিসি থেকে শুরু করে পুরো প্রশাসন এবং পুলিশ সবাই শিবিরের সহযোগী শক্তি ছিলো। এখন যে "দিনকাল বদলাইছে" -কথাটা শিবিরের নেতাদের মনে ছিলো না।

তাই - এখন আর দুঃখ করি না। যারা স্বেচ্ছায় নিজের "আদর্শ"কে রক্ষা করতে সন্সুখ যুদ্ধে যায় - তারা অবশ্যই "খুন কর - না হয় খুন হও" এই নীতি জেনেই সন্মুখ সমরে যায় - সুতরাং কাউকে না খুন হতেই হবে। অবশ্যই শিবিরে সুবিধা হলো - এরা খুন হলে "শহীদ" এবং মগবাজারের বিশেষ সার্টিফিকেটে "বেহেস্তে" চলে যায়। আর ছাত্রলীগ মরলে বড় জোর একটা মিছিল আর কিছু ফুল পেতে পারে। কথাটা মনে রাখা দরকার - নিহত শিবিরের জায়গায় ছাত্রলীগও হতে পারতো - এবং অতীতে হয়েছেও - শিবির চিটাগাং বিশ্ববিদ্যালয়ে কব্জিকাঁটা, রগকাঁটা, খুন, গুম থেকে এমন কিছু নেই যা করেনি। সুতরাং একটা সময় তাদেরও কিছুটা পেতে হবে।

আর যারা সাধারন ছাত্রদের পড়াশুনার পরিবেশ নিয়ে মর্মাহত - তাদের জন্যে বলি - ছাত্ররাজনীতির নামে রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতার সিড়ি হওয়াকে যতদিন পর্যন্ত ছাত্ররা নিজেরা নিজেদের জীবন মরনের আদর্শ হিসাবে দেখবে - ততদিন এই প্রক্রিয়ার অবসান হবে না।

আর যতদিন নেতারা এয়ারকুলারে নীচে বসে বলবে - রাস্তায় নামো - আর ছাত্ররা প্রশ্ন করতে পারবে না - কেন? ততদিন আমাদের দলীয় লেজুরবৃত্তির উপজাত হিসাবে মাঝে মধ্যেই দুইচারটা লাশ দেখতে হবে।

পরিবর্তনের জন্যে যতদিন মানুষের আকাংখাগুলো একটা সন্মিলিত স্রোতে রূপ না নিচ্ছে ততদিন এভাবেই ক্ষমতার পালাবদলে নেতানেত্রীরা লাশ দেখে পুলকিত হবে - তাদের ক্ষমতার যাওয়ার বা ক্ষমতা ধরে রাখার পথে এক একটা পদক্ষেপ হিসাবে সিঁড়ির ধাপ হয়ে থাকবে এই নির্বোধদের লাশগুলো।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29537634 http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29537634 2012-02-09 07:51:45
পতিত রাজনীতিবিদরাই সকল সমস্যার মুল...
কথাগুলো মনে হচ্ছিলো - যখন বাংলাদেশের টিভিতে মওদুদ আহমেদের মতো একজন পলিটিক্যাল প্রস্টিটিউট নিজের গুরুত্ব ধরে রাখার জন্যে সবসময় রাজনৈতিক কোন্দলকে উসকানী দেয়। বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তের আগেই নিজের চেম্বারের বসে সিদ্ধান্ত দেয় - এইটা করা যাবে না - ঐটা করা যাবে না। পরে দেউলিয়াত্বে ভোগা বিএনপি তাদের দলীয় সিদ্ধান্তেই তার প্রতিফলন করে।

মওদুদ আহমেদ যখন টিভির ক্যামেরার সামনে অত্যান্ত কনফিডেন্টলী বলে – “রাজনৈতিক সরকারের অধীনে কখনও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়”- কথাটা বাংলাদেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলের প্রতি পরম অশ্রদ্ধা ও অনাস্থার কথা প্রতিফলিত হয়। উনি নিজের দল বিএনপির একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে অক্ষমতার কথাই বলেন। কোন গনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের ব্যর্থতা নিয়ে এমনতর অহংকার করার ঘটনা বিরল।

বিশ্বের একমাত্র বাংলাদেশে গনতন্ত্রের চর্চা হয় না – সব দেশেই রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় থেকেই নির্বাচন করে – সেইগুলো কি নিরপেক্ষ হয় না?

বাংলাদেশে কেন নিরপেক্ষ দলনিরপেক্ষ সরকার দরকার – কারন মওদুদের মতো রাজনীতিবিদরাই সকল ষড়যন্ত্রের মুল উৎস। আমরা তিনটা নিরেপক্ষ সরকার দেখেছি – প্রতিটি নিরপেক্ষ সরকারের সময় গনতন্ত্র এবং মৌলিক অধিকার হুমকীর মুখে পড়েছে। হাবিবুর রহমানের সরকারের সময় আর্মির ট্যাংকের চলাচল দেখেছি রাস্তায় – লতিফুর রহমানের সরকারের কথা নিশ্চয় সংখ্যালঘুরা মনে রাখতে চাইবেনা। আর পরের বারের ইয়াজুদ্দিন সরকারের কারনে রাজনীতিবিদরা যেভাবে নিগৃত হয়েছে তা নিশ্চয়ই ভুলে যান নি।

আর এই সরকারের সময়ে চট্রগ্রাম সিটি, কুমিল্লা সিটি, নারায়গঞ্জ সিটি সিহ অনেকগুলো উপনির্বাচন হয়েছে – কোথাও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেনি। তাহলে সমস্যা কোথায়?

মওদুদ আহমেদ নিজের নষ্ট রাজনৈতিক দর্শনকে দেশের স্টেন্ডার্ড হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে চান। বিচারপতি হাসানের বয়স বাড়িয়ে উনি যে কুকর্ম করেছেন – তার জন্যে কোন জবাবদিহীতো করতে হয়নি – বরঞ্চ সেই ষড়যন্ত্রকে একটা ষ্ট্যান্ডার্ড হিসাবে মানুষের মাঝে বিশ্বাস করাতে সচেষ্ট রয়েছেন।

এই কথা সত্য মওদুদের মতো রাজনৈতিক প্রস্টিটিউটরা যতক্ষন নীতি নির্ধারনে আছে ততক্ষন পর্যন্ত রাজনীতিতে কোন সততা আর বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

রাজনৈতিক সরকারের অধীনে অবশ্যই নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব – তার জন্য চাই দলগুলো সদিচ্ছা আর জনগনের উপর আস্থা। একদল মেধাবী রাজনীতিক আর তাদের গনতন্ত্রের চর্চাই বাংলাদেশকে পতিত রাজনৈতিক নেতাদের নষ্টামী থেকে বের করতে পারবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29535234 http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29535234 2012-02-05 04:48:33
সকল চরপন্থীরাই মানবতা বিরোধী - তা যে কোন মতেরই হোক না কেন!

ছবি ১ : গোলাম আযম





ছবি ২: Kaing Guek Eav


উপরে ছবি দুইটির দুইজন মানুষ - যাদের মধ্যে কোন মিল নেই। একজনের জন্ম বাংলাদেশে (সাবেক পাকিস্তানে) আরেকজনের জন্ম কম্বোডিয়ায়। একজন আস্তিক - আরেকজন নাস্তিক। একজন সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে - আরেকজন করে না।

এরা দুইজনই এক জায়গায় এক - দুইজনই নিজেদের বিশ্বাসের কারনে নিজদেশের মানুষের উপর গনহত্যা চালিয়েছে - হত্যা করেছে হাজার হাজার মানব সন্তান।

একজন বিচারে সারজীবন জেলে থাকার আদেশ পেয়েছে আরেক জন জেলে বিচারের জন্যে অপেক্ষা করছে।

ভিন্নমেরুর দুই জনই যে কাজটা করেছে মানবতা বিরোধী অপরাধ।

(২)

এই দুইজন হলো আমাদের সামনে উদাহরন - চরমপন্থীরা যে কোন মতের পথে হউক না কেন - এরা মানবতার শত্রু - কারন এরা নিজের আদর্শকে এতো বড় করে দেখে যে মানুষকে তাদের কাছে তুচ্ছ মনে হয়।

বাংলাদেশে ৭১ এর গনহত্যা চল্লিশ বছর পর নিজের শক্তিতে মানবতাবিরোধীদের বিচারের সন্মুখিন করে একটা দারুন গর্বকরার মতো কাজ করেছে - যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম গর্বের সাথে স্মরন করবে।

আর মানবতাবিরোধী চরম পথের যে অনুসারী বাংলাদেশকে তাদের মতো করে দেখতে চায় - ( যে কোন মতের বা পথের ) তাদের জন্যে কম্বোডিয়া আর বাংলাদেশের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার একটা পরিষ্কার ম্যাসেজ পাঠাবে - পৃথিবীতে চরমপন্থীদের কোন জায়গা নেই - তাদের অপকর্মের কোন ক্ষমা নেই - বিচারের কাঠগড়ার তাদের এক সময় না এক সময় দাড়াতেই হবে।


খবরের জন্যে দেখুন - http://www.bbc.co.uk/news/world-asia-16866885
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29534742 http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29534742 2012-02-04 08:15:31
এরাই আমাদের নেতা - যারা জাতিকে নেতৃত্ব দেয়...
কিন্তু একজন নেতা যদি কথার মধ্যে যুক্তি ঠিক রাখতে না পারেন - যদি কথা বলার সময় নিজেই নিশ্চিত না হন যে উনি কি বলছেন - তাহলে যারা উনার কথা শুনছেন - বা গুরুত্ব দেওয়া চেষ্টা করবেন - তাদের অবস্থা কি হবে।

যেমন আজ টিভিতে দেখাচ্ছিলো দুই বারের প্রধানমন্ত্রী ( মতান্তরে তিন বার) বর্তমান বিরোধী দলের নেতা - যার কাজ সরকারকে ভুলত্রুটির সমালোচনার মাধ্যমে দায়বন্ধ করে রাখা - উনি টিভির ক্যামেরা সামনে কথা বলছিলেন। বিষয় সাম্প্রতিক মিছিলে পুলিশের গুলিতে ৫ জন কর্মী নিহত হওয়া। খুব খেয়াল করে উনার বক্তব্য শুনে যা বুঝলাম -

১) উনি ৫ জন নিহত হওয়ার জন্যে সরকারকে দায়ী করছেন - মুলত সরকারের পরিচালনায় যারা আছে - সেই সকল নীতি নির্ধারকদের দায়ী করে তার বিচার জনগনের উপর ছেড়ে দিয়েছেন। ভবিষ্যতে জনগন এর উপযুক্ত জবাব দেবে এই বিশ্বাস উনি পোষন করেন - যা মুলত রাজনৈতিক ভাবে সুবিধা নেওয়ার বক্তব্য।

২) কিছুক্ষন পরই উনি ঘটনার জন্যে দায়ী পুলিশের শাস্তি দাবী করলেন।

লক্ষ্যনীয় পুলিশ হলো হুকুমের দাস - খালেদা জিয়া যখন সরকারের নীতিনির্ধারকদের দায়ী করে বক্তব্য দেন - তখন বুঝা যায় উনি দায়িত্ব নিয়েই ঘটনা দায় চাপাচ্ছেন নীতিনির্ধারকদের কাঁধে - আর উপর থেকে যা আদেশ এসেছে তা পালন করতে পুলিশ বাধ্য - যেমন বাধ্য হয়েছিলো সার নিতে আসা কৃষকদের উপর উনার শাসনামলে গুলি চালাতে - সে ২৫ জন কৃষক হত্যার জন্যে কোন পুলিশের শাস্তি কি হয়েছে?

তাহলে উনি আসলে কাকে দায়ী করছেন - পুলিশ নিয়মনীতি ভেংগে মিছিলে গুলি চালালে তার দায় অবশ্যই পুলিশকে নীতি হবে আর যদি সরকারে আদেশে পুলিশ গুলি চালায় তার দায় কি পুলিশে?

অবাক হয়ে ভাবছিলাম - উনিই গনঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশের শাসক হবেন - যিনি নিজেই বুঝেন না কি বলছেন - নিজের দলের কর্মীদের আত্নহুতিও উনাকে সচেতন করতে পারেনি যুক্তিবুদ্ধি বিষয়ে।

যারা এই সকল নেতাদের পিছনে জিন্দাবাদ দিয়ে নিজেদের দেশপ্রমিক হিসাবে প্রমান করতে চান - তাদের বলি - নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করুন - যুক্তি দিয়ে ভাবুন - এরা কি পারবে বিবাদমান রাজনৈতিক খেলার বাইরে এসে দেশকে আধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ রাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে নিতে? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29534290 http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29534290 2012-02-03 07:29:31
গনতন্ত্রের সহজ পাঠ
অনেকের কাছে গনতন্ত্র হলো মায়াবী মনোরম কোন একটা ব্যবস্থা - যেখানে যে যা ইচ্ছা করতে পারবে - শুধু মাত্র সংঘবন্ধতা দরকার। যেমন ধরা যাক - জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল ছাত্র মনে করলো তারা রাজনীতি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়ে কেরানী হবার যোগ্যতা অর্জন করবে এবং বিনামূল্য সেই পড়াশুনার খরচ রাষ্ট্রের কাছ থেকে আদায় করা তার অধিকার - আর সেই অধিকার আদায়ের জন্যে রাস্তায় মিছিল করে বাসে ঢিল ছোড়া আর পুলিশের সাথে রায়ট করা তাদের গনতান্ত্রিক অধিকার। কাজটা তারা করলো প্রেসক্লাবের কাছাকাছি - সাংবাদিকদের স্টোরি করার জন্যে কষ্ট করতে হলো না। পরদিন মধ্যবিত্তের মুখপাত্র সুশীল সমাজ নেমে পড়লো তাদের গনতান্ত্রিক অধিকারে বয়ান দিতে। সরকারও বিব্রতকর অবস্থা এড়ানোর জন্যে দাবী মেনে নিলো।

এখানে গনতন্ত্রের মুল বিষষ স্বচ্ছতা কোথাও রইল না - সরকার কোন খাত থেকে এই অর্থ বরাদ্ধ দেবে তার কোন ব্যাখ্যা জনগনকে দিতে হলো না। আর যে লোকজন বাসে চড়ে যাচ্ছিলেন - তাদের উপর যে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হলো তার দায় কেহই নিলো না। বরঞ্চ দাবী আদায়ের মাধ্যমে সরকার এই ধরনের সন্ত্রাসকে উৎসাহিত করলো। কিন্তু যে মানুষটি বাসে চড়ে যাচ্ছিলেন বা যে বাচ্চাটা মায়ের সাথে স্কুল থেকে ফিরছিলো - তার নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার পুরষ্কার পেলো একদল সন্ত্রাসী । এখানে দেখা যাচ্ছে সুস্পষ্ট ভাবে একদল সংঘবদ্ধ হয়ে অসংগঠিত জনগনের উপর বল প্রয়োগ করে তাদের দাবী আদায় করে নিলো - এইটা কি গনতান্ত্রিক অধিকার? মোটেও না। এইটা সংঘবদ্ধ পেশীতন্ত্র।

গনতন্ত্রে প্রতিটি নাগরিকে অধিকার সংরক্ষনের ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে গনআন্ত্রিক অধিকারের নামে একদল সংঘবন্ধ হয়ে সাধারন মানুষের নিরাপত্তাকে জিম্মি করে তাদের পক্ষে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে যায়।

ফলাফল দেখি অসংঘবদ্ধ তিস্তা প্রজেক্টের কৃষকরা পানির অভাবে বোরো চাষ করতে পারছে না - এরা নিশ্চিত ভাবে দারিদ্রতার দিকে চলে যাচ্ছে - কিন্তু সুবিধাভোগী মধ্যবিত্তের প্রতিনিধি সুশীলরা এবং তাদের নিয়ণ্ত্রাধীন মিডিয়া বায়বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনায় মানুষকে ব্যস্থ করে রেখেছে। যে আলোচনা রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মাঝে করে সমাধান করতে পারে ( ভিন্নদলের নেতারা নিজেদের ছেলে মেয়ে বিয়ে দেবার সময় এরা নিম্চয় ধর্মঘট ঢেকে দাবী আদায় করে না নিশ্চয়ই) - তা না করে সাধারন মানুষকে জিম্মি করে তারা গনতান্ত্রিক অধিকার চর্চা করে।

এবার আসা যাক একটা উদাহরনে। তার আগে একটু বলে নেওয়া দরকার - গনতন্ত্র কোন ব্যবস্থা না - যা আসমান থেকে নাজিল হয়েছে বা ইউনিভার্সাল কোন একটা গ্রহনযোগ্য রূপ আছে। গনতন্ত্র হলো একটা প্রক্রিয়া - যার চর্চার মাধ্যমে কোন সমাজ বা রাষ্ট্র একটা কল্যানময় ব্যবস্থাপনায় উন্নীত হয়। বাংলাদেশই একটা প্রথম দেশ না যে - গনতন্ত্রের চর্চা শুরু করেছে। বিশ্বের অনেক দেশ গনতান্ত্রিক চর্চায় অনেকদুর এগিয়ে গেছে। তারমধ্যে একটা দেম হলো কানাডা। কানাডায় প্রতিটি নাগরিক কিভাবে গনতান্ত্রিক অধিকার ভোগ করে তার একটা উদাহরন দেওয়া যাক।

একটা এলাকায় অনেকগুলো হাইরাইজ বিল্ডিং আছে - তাদের মধ্যে অনেকটুকু ফাঁকা জায়গা - যার মালিক একটা রিয়েল এস্টেট কোম্পানী। সেই কোম্পানী একসময় সিদ্ধান্ত নিলো ফাঁকা জায়গায় দুইট হাইরাইজ বানাবে। নিয়মানুসারে এরা দরখান্ত দিলো সিটিতে। সিটি তার সকল ডিপার্টমেন্টকে এসেসমেন্ট করতে বললো - যেমন পানি, বিদ্যুৎ আর পরিবহনের জন্যে বাস আর রাস্তার উপর কি প্রভাব পড়বে তার উপরে এরা কাজ শুরু করলো। ইতোমধ্যে এলাকার সিটি কাউন্সিলর একটা টাউনহল মিটিং ডাকলো এলাকার মানুষের মতামত জানার জন্যে - বাড়ী বাড়ী নোটিস এলো - মিটিং এ এলাকাবাসী(সবাই ভাড়াটিয়া) নতুন বিল্ডিং হলে পরিবেশের উপর প্রভাব পড়বে এবং লোকাল স্কুলের উপর চাপ পড়বে ইত্যাদি বিষয় উত্থাপন করে বিপক্ষে মত দিলো। ভোটাভুটিতে ৭০% বিপক্ষে ভোট গেলে সিটি পরিকল্পনা বাতিল করে দিলো।

একই সময় বাংলাদেশে একটা ঘটনা ঘটছিলো - এয়ারপোর্টের মোড়ে লালনের মূর্তি বানানো শুরু করলে লোকাল মোল্লারা বিরোধীতা করলো - দেশের সুশীল সমাজ মোল্লাদের মুন্ডুপাত করলো - সরকার অর্ধসমাপ্ত কাজ বাতিল করলো। মজা বিষয় হলো পক্ষে বিপক্ষের কেউ কারো সাথে কথা বলার সুযোগ পেলো না - কেউ কাউকে তাদতের যুক্তিগুলো বলার সুযোগ পেলো না - আর যারা এই নির্মান কাজ করছিলো - তারাও দুই পক্ষের কারো সাথে কথা বলেনি - দুই পক্ষই স্বদ্যোগে পরষ্পরের মুন্ডুপাত করেছে। প্রশ্ন করা যেতো - কে এই পরিকল্পনা করেছে - টাকা আসছে কোথা থেকে - এর কোন পক্ষে কোন সম্ভাব্যতা (এসেসমেন্ট) করা হয়েছিলো কিনা? কারা নিজ দায়িত্বে একটা রাষ্ট্রের অর্থ ব্যয় করে জনগনকে বিভক্ত করে একদল কে আরেকদলে পিছনে লেলিয়ে দিচ্ছে? কোন একজনকেও এই প্রশ্ন করতে দেখলাম না। এখানে জনগনের মতামত বা পার্টিসিপেশন কোথায়? কোথায় স্বচ্চতা আর কোথাই বা জবাবদীহিতা?

আবারো বলি - গনতন্ত্র কোন আসমানী বিধান না - সোনার পাথরবাটিও না - ভিন্নমতে পথের মানুষের পরষ্পরের প্রতি সন্মান আর পরষ্পরের অধিকারে প্রতি সচেতন হয়ে বিতর্ক আর যুক্তির ভিত্তিতে একটা সকলের জন্যে কল্যানময় সমাজ প্রতিষ্ঠা করার প্রক্রিয়াই গনতন্ত্র। গনতন্ত্রের মুল ভিত্তি হলো মুক্ত আলোচনা - সচ্ছতা আর জবাবহিদীতা। সেগুলো শুরু হয় ব্যক্তিগত কর্মকান্ড থেকে - আর দলের মধ্যে গনতন্ত্রের চর্চা যে কতটা জরুরী তা নিম্চয় বাংলাদেশের মানুষরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন।

তার যারা নিজেদের কর্মকান্ডকে গনতান্ত্রিক অধিকার হিসাবে চিৎকার করে সংঘবদ্ধতার জোরে প্রতিষ্ঠা করতে চান - তাদের প্রতি অনুরোধ বিপরীত অবস্থানে নিজেকে নিয়ে একবার দেখুন - বাসে চড়ে যে বৃদ্ধ হাসপাতালে বা ডাক্তারের কাছে যাচ্ছে - বাসে ঢিল বারার আগে একবার ভাবুন - লোকটা আপনার বাবা হতে পারতেন - অথবা যে বাচ্চাটা স্কুল শেষ করে চোখেমুখে আনন্দ নিয়ে রিক্সায় চড়ে বাসায় যাচ্ছে - আপনার লাঠির আঘাত সেই রিক্সায় বসানোর আগে ভাবুন - মেয়েটা আপনার আপনজন কেউ হতে পারতো। একজন মানুষের রাস্তা নিরাপদে চলাচলও একটা অধিকার - তা সংঘবদ্ধতার জোরে বাতিল করে দিয়ে যদি আমরা মুখে গনতন্ত্রের কথা বলি - তা হবে খুবই ভয়াবহ।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29533089 http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29533089 2012-02-01 06:34:07
রাজনৈতিক দলগুলো কি গনতান্ত্রিক অধিকারের সোল এজেন্সি নিয়েছে?
আসলে কি তা ঠিক?

আমার একটা গনতান্ত্রিক দেশে বসবাসের সুবাদে যা দেখছি - তাতে এইটুকু বলতে পারি - বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচীর নামে যা করে - তা পাবলিক নুইসেন্স এবং কোনকোনটা রীতিমতো ক্রাইম।

যেমন ধরা যাক - কোন দল যদি সমাবেশ করতে চায় - তাকে এখানে পুলিশের এবং সিটির অনুমোদন নিতে হবে। পুলিশ যদি তাদের নিয়মনীতির মধ্যে থাকে তবে ফ্রী পুলিশ দিয়ে নিরাপত্তা দেবে - নতুবা একটা বিল ধরিয়ে দেবে - কতজন পুলিশ কতঘন্টা তাদের নিরাপত্তার জন্যে কাজ করবে তার বিস্তারিত ব্যয় দেখিয়ে বিল পরিশোধ করলে তারপর পরমিশন। এখানে বুঝার বিষয় হলো পুলিশের ব্যয় বহন করে সরকার আর সরকারকে জনগনের ট্যাক্স থেকে তা খরচ করতে হয় বলে প্রতিটি পেনির সঠিক হিসাব রাখতে হয়। আর সিটি একটা নির্দিষ্ট পরিমান জামানত রাখবে যাতে মিটিং এরপর মিটিং এর স্থান পরিষ্কার করে দেওয়া হয়। নতুবা জামানত থেকে টাকা কেঁটে রেখে দেওয়া হবে।

আর রাস্তা বন্ধ করে কোন অনুষ্ঠানের অনুমোদন পাওয়া খুবই কঠিন।

গতকাল ঢাকায় দেখলাম দুই দল মিটিং মিছিল করলো - তারা রাস্তা বন্ধ করে যান চলাচল বন্ধ করে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড ব্যহত করলো - রাস্তা নোংরা করলো - আর হাজার দশেক পুলিশ তাদের নিরাপত্তা দিলো।

একটা গরীব দেশের জন্যে এই বিরাট অংকের ব্যয় ভার বহন না করে - রেডিও টিভিতে জাতির উদ্দেশ্যে দুই দল প্রচার চালাতে পারতো। তাতে টিভিগুলো কি আয় করতো। অন্যদিকে নিরাপত্তার জন্যে ব্যয়, রাস্তা পরিচ্ছন্নতার জন্য ব্যয় আর যানচলাচলের বাঁধার জন্যে যে ক্ষতি হলো তার সকল দায় ভার জনগনের উপরে চাপলো। কিন্তু সাধারন জনগন ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি সংসদে পাঠিয়েছে - যাতে সেখানে তারা সকল বিষয়ে আলোচনা করে।

রাজনৈতিক দলগুলো এই বিপুল ব্যয় রাষ্ট্র কেন বহন করবে?

এখানেই প্রশ্ন আসে এইটা কোন ধরনের গনতান্ত্রিক অধিকার - জনগনের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যহত করার দায়ভার জনগনের উপরেই চাপনোর যে কর্মকান্ড কোন ভাবেই সমর্থন যোগ্য নয়।

গনতান্ত্রিক অধিকার প্রতিটি নাগরিকের - প্রতিটি নাগরিকের অধিকার হলো নির্বিঘ্নে নিরাপদে রাস্তায় চলাচল করা - আর তার চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করে যারা তাদের অন্যায় কাজকে জনগনের ট্যাক্সের পয়সায় ব্যয়ভার বহন করা অন্যায়।

সকল রাজনৈতিক কর্মকান্ডের মুল হলো সংসদ আর দলগুলোর জন্যে নিজস্ব ফোরাম। নিজেদের কাজ মূল্যায়নের জন্যে এরা অডিটরিয়াম ভাড়া করে যত ইচ্ছা বত্তৃতা করুক - তার জন্যে জনগনের সমস্যা হয় না। আর জনগনকে তাদের বক্তব্য জানানোর জন্যে আছে মিডিয়া - যেখানে বিজ্ঞাপন দিয়ে - সংবাদ সন্মেলন করে যত ইচ্ছা যুক্তিতর্ক তুলে ধরতে পারেন। কিন্তু জনগন ভোট দিয়ে একটা দলকে নির্বাচিত করে সরকার গঠন করতে দিয়েছে বলে মিছিল মিটিং আর জ্বালাও পোড়াও করে জনগনকে শাস্তি দেওয়া কোন ভাবেই গনতান্ত্রিক অধিকার হতে পারে না। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29532424 http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29532424 2012-01-31 09:19:20
সাপের ল্যাজ দিয়ে কান চুলকাচ্ছেন খালেদা জিয়া ..

বর্তমানে চলছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবীতে আন্দোলন – একই আন্দোলন দেখেছি ৯৪-৯৬ সালে। সরকারের ছিলো বিএনপি – কোনভাবেই বিরোধীদলের কথা শুনেনি – মাগুরার উপনির্বাচনে ভোট ডাকাতির প্রেক্ষাপট আর আজকের কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের চিত্র ভিন্ন। নির্বাচনের দুই বছর বাকী আছে – বিএনপি বলেই দিয়েছে তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া নির্বাচন করবে না – তাইলে সরকার কি একা নির্বাচন করবে? মনে হয় না। বিএনপির আরও অপেক্ষা করা উচিত আর সংসদে গিয়ে একটা মধ্যবর্তী সরকারে রূপরেখা দেওয়া উচিত - কিন্তু তা করছে না – কারণ সরকার যা করবে তারই বিরোধী করার একটা সুযোগ রাখতে চাচ্ছে। তাতে বুঝা যাচ্ছে – তত্ত্বাবধায়ক নয় – সরকারের উপর চাপ সৃষ্টির জন্যেই এই আন্দোলন।

এই বিষয়টা সবাই বুঝে যে - কোনভাবেই আগের ফরম্যাটে তত্ত্বাবধায়ক বহাল করা যাবে – নতুন ফরম্যাটে আসতে পারে – সেই জন্যে চাই সমজটা। আর সমজোতার জায়গা হলো সংসদ। বিরোধী দল সংসদে যাবে তাদের সদস্যপদ বহাল রাখতে – আর রাস্তায় আন্দোলন করে সরকার পতন ঘটাবে। কিন্তু গত তিনটা সংসদের ইতিহাস বলে আন্দোলন করে সংসদের পতন হয়নি। তবে কেন বিএনপি জামায়াত জোটের এই আন্দোলনের চেষ্টা।

বিষয়টা পরিষ্কার করে বলা যায় – টাইম ইজ রঙিন আউট ফাস্ট ফর খালেদা জিয়া। ২১ এ আগস্টের বোমা হামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা, কিবরিয়া হত্যা মামলা ইত্যাদি খালেদা জিয়ার স্বপ্নের উপর বড় একটা আঘাত হানতে যাচ্ছে। আর বছর খানেকের মধ্যেই তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রায় হয়ে যাবে – ফলে বিএনপির নেতা হিসাবে তারেকে বসানোর স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে।

আর খালেদার চেয়ে তাড়াহুড়া জামায়াতের বেশী। অবশেষে ওরা বুঝতে পেরেছে যে – সত্যই গোলাম আযম গ্রেফতার হয়েছে – জামায়াতের শীর্ষ নেতারা আগামী নির্বাচনে আসতে পারবে না। এমনকি জামায়াতের মধ্যম সারির নেতারও নির্বাচনে অযোগ্য হয়ে যাবে বিভিন্ন মামলায়। তাই বিচার বন্ধ করার জন্যে দ্রুত সরকার পতন ছাড়া আর কোন পথ নেই।

সাম্প্রতিক বিরোধী দলের কর্মসূচীগুলো ছিলো শান্তিপূর্ণ – কিন্তু গত ১৮ই ডিসেম্বরের ঘটনা থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার হয়েছে – জামায়াতের বদৌলতে বিষয়গুলো আর শান্তিপূর্ণ থাকছে না। অবশ্য জামায়াত এককভাবে ঢাকায় একটা ধ্বংসের মহড়া দিয়েছে। এরপর সিলেটের জনসভায় খালেদা জিয়ার প্রকাশ্যে যুদ্ধাপরাধীর প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়ে জামায়াতকে একটা লাইসেন্স দিয়েছে – যার কিছু নমুনা দেখলাম গতকাল দেশের বিভিন্ন জায়গায়। যদিও দেখানো হচ্ছে মিছিলগুলো বিএনপির – কিন্তু তাতের হাতে লাঠি থাকার কথা নয়। লাঠি বহন করার পরিকল্পনা নিশ্চয়ই বিএনপির পক্ষ থেকে আসেনি।

জামায়াত শেষ সুযোগ হিসাবে বিএনপির আন্দোলনের সুযোগে সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক শক্তি প্রয়োগ করছে। আর বিএনপি আপাতত জামায়াতের ধ্বংসাত্মক শক্তিকে ব্যবহার করে সরকারকে অগণতান্ত্রিক পথে হাঁটতে বাধ্য করছে – কিন্তু অগণতান্ত্রিক ধ্বংসাত্মক কাজকর্মগুলির দায়ও কিন্তু বিএনপি এড়াতে পারবে না।
দুই ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত খালেদা জিয়া জামায়াত শিবির ধ্বংসাত্মক কাজগুলো আর লাশের ছবি দেখে সাময়িক বিজয়ানন্দ পেতে পারেন – তা হবে সাপের ল্যাজ দিয়ে কান চুলকানোর আনন্দের মতো। জামায়াত শিবিরে মতো কাল সাপ কখনই কোন গণতান্ত্রিক দলের বন্ধু হতে পারে না। জামায়াতের মতো সাপের ল্যাজ দিয়ে কান চুলকানোর মতো বিপজ্জনক কাজ করার আগে খালেদা জিয়াকে শতবার ভেবে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি।

(একই সাথ সদালাপ ও ফেসবুকে প্রকাশিত) ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29531844 http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29531844 2012-01-30 08:09:21
একটা সাহায্যের আবেদন।
যদি কেউ ঐ এলাকার থাকেন - তাইলে একটু সাহায্য করতে পারেন। কারন এই পাসপোর্টে আর কোন কিছু করা যাবে না। এইটা বায়োমেটিক পাসপোর্ট - আর তার কোন ভাবেই অন্যে ব্যবহার করতে পারবে না। তাই যদি পরিত্যাক্ত অবস্থায় কেউ কালো রংগের পাসপোর্টটা দেখেন - দয়া করে রেল পুলিশ বা অন্য কোন পুলিশকে দিতে পারেন। অথবা এখানে জানাতে পারেন।

যদি কেউ চাটমোহর থানার ফোন নাম্বারটা দিতে পারেন খুবই উপকৃত হবো।

অগ্রীম ধন্যবাদ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29525541 http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29525541 2012-01-20 07:41:57
ফিরে দেখা ২০১১ - বর্ষসেরা চরিত্র
তারপর দৃশ্যপটে এলেন দুই আবুল - একজন নায়ক আরেকজন ভিলেন। নায়ক আবুল গলায় চাদর পেঁচিয়ে ঈদ করলেন শহীদ মিনারে আর ভিলেন আবুল ঈদের ছুটিতে ছুটলেন সুটেট-বুটেট হয় রাস্তা পরিদর্শনে। তারপর একসময় সবই সুশাসন।

আসলে গোড়ায়ই যেখানে গলদ - কারন এখানে "আবুল"রাই প্রধান চরিত্র। রাস্তা থাকলে গাড়ী চলবে আর গাড়ী চললে একসিডেন্ট হবে। মানুষ মরনকে নিয়তি হিসাবে গলায় বেঁধে নিয়ে জন্মায় - সুতরাং মৃত্যু ও স্বাভাবিক। কিন্তু রোড একসিডেন্ট যেহেতু একটা নিয়ন্ত্রন করার মতো ঘটনা - সুতরাং নিরাপত্তার মানকে উ্ন্নত করা আর তা যথাযথভাবে মেনে চলা এবং তার জন্যে পর্যবেক্ষন ও প্রয়োগের সঠিক ব্যবস্থা রোড একসিডেন্টের সংখ্যা এবং হতাহতের সংখ্যা কমানো সম্ভব। আর সেই জন্যে দরকার পূর্বপ্রস্তুতি। যেমন রাস্তা নির্মানের সময় ডিজাইন সঠিক রাখা, নির্মানে সঠিক মান ও ডিজাইন অনুসন করা। যথাযথ এবং সঠিক সময় রাস্তা সংস্কার ও রক্ষনাবেক্ষন করা। চালকদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জানা এবং তা মানতে বাধ্য থাকা। তা ছাড়া যান্ত্রিকযানের কারিগরী ক্রুটি মুক্ত থাকাও গুরুত্বপূর্ন। সবশেষে রাস্তা ব্যবহারকারী সবাইকে দূর্ঘটনার ঝুঁকি সম্পর্কে যথাযথ ভাবে সচেতন থাকাও জরুরী।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে একটা রোড একসিডেন্টের জন্যে উপরে অনেকগুলো ফ্যাক্টের যে কোন একটাই যথেষ্ঠ। আর মানুষ ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহন করে। বিশেষ করে যখন কোন মারাত্বক দূর্ঘটনা ঘটে- তখন বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়ে তদন্ত করে তার কারন নির্নয়ের চেষ্টা করে যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতির সাম্ভবনা কমানো যায়। তাই স্বাভাবিক ভাবেই মানুষ একটা দূর্ঘটনার পর তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যারা জ্ঞান রাখেন তাদের মতামতের জন্যে ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করে।


কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সব কিছুই সুশীলদের অধিকারে চলে গেছে। দূর্ঘটনার পরপরই টকশো গুলোতে সুশীলরা এসে বাসের ড্রাইভারকে দায়ী করে আবেগময় ভাষন দিতে শুরু করলেন। ঠিক সেই সময় ময়মনসিংহের সড়কগুলোর বেহাল অবস্থার কারনে পরিবহন ধর্মঘট চলছিলো। একজন সুশীল এই একসিডেন্টের সাথে সড়কের মেরামতের বিষয়টি এক করে মন্ত্রী আবুলকে দায়ী করলেন। সুবিধাভোগী সুশীলদের আর পায় কে - সরকার বিরোধী যে কোন বক্তব্যই বাংলাদেশে বিপ্লবী হবার অনুপ্রেরনা তৈরী করে। সাথে সাথে আরেক "আবুল" মাঠে নেমে গেলেন আন্না হাজারে হয়ে আমরন অনশনের ঘোষনা দিয়েও ঈদ করলেন শহীদ মিনারে।

এদিকে বুয়েটের একসিডেন্ট রিসার্স সেন্টার থেকে ড. হাসিব মিহিমিহি সুরে একসিডেন্টের কারন হিসাবে সড়কের নির্মানত্রুটি, আর রক্ষনাবেক্ষন - বিশেষ করে বৃষ্টির কারনে দৃষ্টিসীমা সীমিত হওয়া আর গাছপালার বাঁধা ইত্যাদি বলছিলেন। কিন্তু কে শুনবে কার কথা। একজন বিশেষজ্ঞের কথা হয়তো সুশীলদের কোটরী স্বার্থের বিপক্ষে চলে যাবে - কারন নিজেদের এবং নিজেদের গাড়ী ড্রাইভারদের লাইসেন্স প্রাপ্তির গল্পটা তাদের চেয়ে ভাল কে জানবে। এছাড়া সড়ক পরিবহনের জন্যে দায়িত্বপ্রাপ্তদের অনেকেই এখন সুশীল সেজে বসে আছেন - উনারা চাইবেন না কেউ যেন উনাদের অতীত নিয়ে কথা বলে। দেখলাম গল্পকারগন নেমে গেলেন আবুল নিয়ে রম্যরচনা লেখতে - কার্টুনিষ্টরা আবুলের কার্টুন বানালো - কবিরা কবিতা লিখলো আর বিরোধীদল সরকারের ব্যর্থতার গদবাঁধা গীত গাইলো। দেখলাম উঠতি সুশীলরা ব্লগে ব্লগে আহ্বান রাখলো ঈদ হবে শহীদ মিনারে - যেতে হবে সবাইকে। একটা উৎসব উৎসব ভাব নিয়ে সবাই কোরাস করা শুরু করলো। ফলাফল রাস্তা নির্মানের ক্ষেত্রে চুরি করে ঢাকার এপার্টমেন্টের দাম আকাশে উঠানো প্রকৌশলীরা পর্দার আড়ালে থেকে গেলো। মানুষ জানলো না মাইক্রবাসের ড্রাইভার কি যথাযথ নিয়মে লাইসেন্স পেয়েছিলো কিনা। অথবা রাস্তা রক্ষনাবেক্ষন বা রুটিন নিয়মে রাস্তার উপরে চলে আসা গাছের ঢালগুলো কাঁটার দায়িত্বে থাকা লোকগুলো কেন তাদের কাজের অবহেলা করেছে!

সবশেষে একটা স্ন্তনা পাওয়া যেতো যদি এতকিছুর পরও যদি সড়ক পরিবহন ক্ষেত্রে অনিয়মগুলো নিয়ে কার্যকর কিছু হতো - তা হলেও আফসোস থাকতো না। কিন্তু সুশীলদের ক্রমাগত বিষয় পরিবর্তনের ফলে মিডিয়ার ফোকাস এখন অন্যকোন একটা বিষয়ে চলে গেছে। সুশীলরা এখন ভিন্ন বিষয়ে টকশোতে বলছেন আর পত্রিকার পাতায় লিখে যাচ্ছেন। আর যথারীতি দেশের মানুষ দূর্ঘটনায় মরছে অথবা পঙ্গুত্ব বরন করছে।

সর্বশেষ খবর হলো নিখিল ভদ্র নামক একজন সাংবাদিক রাস্তা অতিক্রম করার সময় দূর্ঘটনা পড়ে পা হারিয়েছেন। যথারীতি বাস ড্রাইভার গ্রেফতার হয়েছে। আর মিডিয়া সরকারের উপর চাপ দিচ্ছে তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্যে পাঠাতে। প্রশ্ন হলো বাকী যে ৪৯৯৯ জন পঙ্গুত্ব বরন করছে প্রতি বছর - তাদের চিকিৎসার জন্যে সরকার কেন বিদেশে পাঠাচ্ছে না। যারা নিহত হচ্ছে তাদের পরিবারের জন্যে সরকার কেন সাহায্য করছে না। কারন কি - সরকার আসলে দেশের সকল নাগরিকের জন্যে না - যারা মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রন করে তাদের সন্তুষ্ট রাখাই সরকারের লক্ষ্য। গনতন্ত্র কি এই যে মিডিয়ার লোকজন গোষ্ঠীবন্ধ হয়ে নিজেদের সুবিধাগুলো আদায়ে সরকারকে ব্লকমেইল করবে আর সাধারন মানুষ তাদের দূর্ঘটনায় মৃত্যু বা বিকলাঙ্গতাকে নিয়তি হিসাবে মেনে নেবে।

আবুলদের এই খেলা থেকে যতদিন বাংলাদেশ বেড়িয়ে আসতে না পারছে - যতদিন প্রতিটি নাগরিক রাষ্ট্রের দৃষ্টিতে সমান অধিকার না পাবে - ততদিন "আবুল"রাই হবে বাংলাদেশের বর্ষসেরা চরিত্র।

(সদালাপ ডট অর্গ এ প্রকাশিত) ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29513986 http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29513986 2012-01-01 10:21:12
ব্লগিং নিয়ন্ত্রনের আইন-কানুন সংক্রান্ত বিষয়ক একটি নোট
সোজা কথা হলো - ব্লগের জন্যে কোন আইনের দরকার নাই। বিশেষ করে সরকারের পক্ষ থেকে তো নাই ই। প্রত্যেকটা ব্লগ তাদের নিজস্ব নীতিমালার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে -স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বশীলতার সাথে। একদল মানুষ যখন কোন বিশেষ এজেন্ডা নিয়ে কাজ করে - মিথ্যা আর প্রতারনার আশ্রয় নেয় - সেখানেই সমস্যা। শুরুর দিকে কয়েকটা ব্লগ নিজেদের প্রসারের জন্যে অসততার আশ্রয় নিয়ে এক দিকে ভালই করেছে - ফলে জন্ম নিয়েছে ডজনখানের চেয়ে বেশী ব্লগ। এখন ব্লগারদের সামনে রয়েছে নিজস্ব পছন্দ খুঁজে নেওয়ার সুযোগ


এখন ব্লগারা বেছে নিতে পারবে পছন্দের ব্লগ সাইট - তীব্র ধর্মবিদ্বেষী মুক্তমনা ব্লগে লিখবে নাকি রাজাকারতন্ত্ররে ধারক সোনাব্লগে লিখবে নাকি ক্রেডেনশিয়াল জমা দিয়ে সচলায়তনে লিখবে নাকি মুক্তকন্ঠে গালাগালির আনন্দ পেতে আমারব্লগে লিখবে নাকি নিজেই একটা ব্লগষ্পট খুলে লিখবে - এইটা ব্লগারের নিজের পছন্দের বিষয়। এই বিষয়ে সরকারকে দিয়ে আইন করিয়ে নিজেদের দায়িত্ব অন্যর উপর চাপানোর চেষ্টা না করে - নিজেরা দায়িত্বশীলতার সাথে নীতিমালা তৈরী করুন আর সততার সাথে তা অনুসরন করুন।

ব্লগের ব্যবস্থাপনার উচিত গুটিকয়েক যশলোভী ব্লগারের বুদ্ধিবিবেচনার উপর নির্ভর না করে মুক্তমনে ব্লগ পরিচালনা করুন। ব্লগারদের পোষালে লিখবে - না হলে চ্যানেল বদলাবে - এইটাই স্বাভাবিক।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29513188 http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29513188 2011-12-31 03:44:10
বিজয়ের শুভেচ্ছা আর কিছু আক্ষেপ

মহাকালের কাছে ৪০ বছর কিছুই না - কিন্তু একজন মানুষের জীবনের জন্যে ৪০ বছর অনেক। যারা মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ করেছে - তাদের জন্যে ৪০ বছর বিরাট ঘটনাবহুল সময়। ৪০ বছরে মানুষ অনেক কিছুই ভুলে যায় - কিন্তু যুদ্ধের মতো স্মৃতি ভুলে যাওয়া কি সম্ভব। যে কিশোর বাবার লাশ সনাক্ত করার জন্যে নদীতে ভেসে যাওয়া গুলিবিদ্ধ হাত বাঁধা মরে ফুলে যাওয়া লাশগুলো নিবির ভাবে পর্যবেক্ষন করেছিলো - তার জন্যে মৃত্যু পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জ্বলজ্বল করে ভেসে থাকবে স্মৃতিতে - এইটাইতো স্বাভাবিক।


হাতের আংগুলে গুনলে হয়তো অনেক সময় - কিন্তু স্মৃতি বলে - ঐতো সেইদিন। ডিসেম্বরের ১৪ তারিখ। ১৩ তারিখ রাতে কেউ একজন এসে সাবধান করার পর ছোটদের সাথে চলে গেলাম নানা বাড়ির সবচেয়ে সুরক্ষিত ঘরটিতে। তারপর সারারাত গোলাগুলির শব্দ আর বড়দের নানান আন্দাজের কথা শুনতে শুনতে ভয়ার্ত মনে লেপের নীচে আধাঘুম আধা জাগরনে রাত পার। বড়র বলছিলো - শব্দে মনে হচ্ছে গুলি হচ্ছে এক তরফা - কেউ বলছিলো মিলিটারীরা পালিয়েছে হয়তো। আবার কেউ বলছিলো - মুক্তিবাহিনীরা হয়তো অপেক্ষা করছে - গুলি হয়তো করছে পাকিরা। রাত ভোর হতেই একটা হৈ চৈ - চিৎকারে শব্দ। পালাইছে ...পালাইছে। সবাই তীরের বেগে আশ্রয় থেকে বেড়িয়ে শহরের দিকে দৌড়। হরগংগা কলেজ ছিলো পাকি আর্মিদের ঘাঁটি - সেইটা এখন মুক্তি বাহিনীর দখলে। রাতের আধারে পাকবাহিনীর বীর পংগুবরা পালিয়ে গেলেও মুক্তিবাহিনী সারারাত কলেজের দিকে ফায়ার করেছে - বিষয়টা নিম্চিত হওয়ার জন্যে ভোরে আলোর অপেক্ষায় ছিলো বীর সন্তানেরা।

(২)

পুরো ৯ মাস বাংলাদেশের মানুষ মৃত্যুকে নিয়ে বসবাস করেছে - সবার সাথে তার মৃত্যুর ১টা বুলেটের ব্যবধান ছিলো মাত্র। বিজয়ের ভিতর দিয়ে আবার নির্ভার জীবনে ফিরে গিয়েছিলো সবাই। এই স্মৃতি কি কখনও ফিকে হবে।

(৩)

৪০ বছরে অনেক অর্জন হয়েছে দেশের। বিশেষ করে কৃষি আর রপ্তানী খাতে বিরাট অর্জন। দারিদ্রতা হার ৭০ এ ছিলো ৭৩ ভাগ - এখন ২৩ ভাগ। শিক্ষা খাতেও অনেক উন্নতি হয়েছে। সবচেয়ে বড় যা হয়েছে - বাঙালী ইতিহাসের প্রথম নিজের ঠিকানা পেয়েছে - পেয়েছে গর্ব করার মতো একটা পরিচয়। আজ দেশের বাইরে প্রায় এক কোটি বাংলাদেশী গর্বের সাথে লাল-সবুজ পতাকার পরিচয় নিয়ে বিচরন করছে। তারপর্ আফসোস থেকেই যায়।

স্বাধীনতার পরপরই বিজয়ী মুক্তিযোদ্ধারা বিভক্ত হয়ে পড়ে নানান ভাগে। জাসদ তৈরী হয় - খুন হয়ে যায় মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে। উপলক্ষ সমাজতন্ত্র - আড়ালে বসে হাসে আলবদর রাজাকার আলশামসরা। অপেক্ষা করতে থাকে সুযোগের। খুন হয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু আর মুক্তিযুদ্ধের চার কান্ডারী তাজউদ্দিন, মনসুর আলী, কামরুজ্জামান, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে। কে খুন করলো? একদল মুক্তিযোদ্ধা। কে লাভবান হলো - স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকারচক্র। নিহত হলো খালেদ মোশাররফসহ আরো অনেক মুক্তিযোদ্ধা। ধীরে ধীরে রাজাকারচক্র ফিরে আসছিলো। ক্ষমতাশীন হলেন জিয়াউর রহমান। একজন বীর উত্তম জিয়া ক্ষমতাশীন হওয়ার পরও মুক্তিযোদ্ধাদের নির্মূল প্রক্রিয়া বন্ধতো হলোই না - বরঞ্চ আরো বেগবান হলো - তাহেরকে ফাঁসী দেওয়া ছাড়াও হত্যা করা হলো অনেক মুক্তিযোদ্ধা। অবশেষে নিজেও নিহত হলেন আরেকদল মুক্তিযোদ্ধার হাতে। প্রহসনের বিচারে ফাঁসী হলো আরো ১১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার। ততদিনে জেনারেল জিয়ার কাঁধে ভর করে মঞ্চে পুনরাগামন হলো কুখ্যাত গোলাম আজমের।

তারপর আরেক জেনারেল ক্ষমতায় এসে অবাধ বিচরন ভূমিতে পরিনত করলেন রাজাকারদের জন্যে। একসময় মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দলটিও রাজাকারতন্ত্রের সাথে হাত মিলিয়েছে শুধুমাত্র ক্ষমতার সমীকরনে। তারপরের ইতিহাস সবার জানা - কুখ্যাত আলবদরের নেতা নিজামী আর মুজাহিদের মন্ত্রীত্বপ্রাপ্তি আর তাদের মুক্তিযুদ্ধের বিষয় ভুলে যাওয়ার নসিহত তো সেদিনের কথা।

(৪)

১৯৭৫ থেকে আজ অবধি শহীদ পরিবার - নিহত আহত আর নিখোঁজদের স্বজনরা বিচারের জন্যে আহাজারি করছে। কিন্তু রাজনীতির কুটচালে তাদেরকে বিচার পরিবর্তে অপমান সহ্য করতে হয়েছে। যে দেশের মাটি ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে ভেজা - সেই দেশে পরাজিত ঘাতকরা মন্ত্রী হয়ে লাল-সবুজ পতাকা টাংগিয়ে গাড়ি চালিয়েছে। এর চেয়ে বড় অপমান কি হতে পারে। বিচারের পক্ষে বিপক্ষে অনেকে বিতর্ক করেছে - কিন্তু একটা কথা সবাই ভুলে গেছে - কার বিচার হবে আর কে ক্ষমা পাবে তা বলার অধিকার একমাত্র বিচার প্রার্থী - কোন রাজনৈতিক নেতা বা বুদ্ধিজীবির এই বিষয়ে কথা বলা অনধিকার চর্চা।

দীর্ঘদিন পর বিচার শুরু হয়েছে। কিন্তু বিষয়টা এতো সহজে এগোবে বলে মনে করিনা। বিশেষ করে যখন দেখি ইলেকট্রনিক মিডিয়াসহ অন্যান্য মিডিয়া যখন খুবই সহজে নিজেকে বিক্রি করে দিতে সামান্য কুন্ঠিত হয়না। একজন চিহ্নিত ঘাতক গোরাম আজমকে আত্নপক্ষ সমর্থনমুলক জামায়াতের স্পন্সর করা ইন্টারভিউর নামে যে বিজ্ঞাপন বাংলাদেশের বিভিন্ন টিভিগুলো প্রচার করলো - তা শুধু দুঃখজনকই নয় - রীতিমতো ভয়াবহ। সামান্য কয়টা টাকার কাছে সাংবাদিকতার এথিকস বিক্রি করে যে লোক ঘাতকের সাক্ষাতকার নিলো - তাতে পরিষ্কার দেখা গেলো গোরাম আজমকে গল্পের সুত্রটাই ধরিয়ে দিয়েছেন। ১৯৭৮ সাল থেকে নিজের ক্যাডার বাহিনীর সুরক্ষায় বসবাস করা এই ঘাতক আগে কোনদিন মিডিয়ার সামনে আসেনি - হঠাৎ করে যখন গ্রেফতারের বিষয়টি এগিয়ে এলো তখন সিলেকটেড কিছু টিভিতে আত্নপক্ষ সমর্থন করা এই বিজ্ঞাপন প্রচার কেন হয়েছে - বোধসম্পন্ন যে কোন মানুষের কাছে বিষয়টা অত্যান্ত পরিষ্কার। ইন্টারভিউ নামে আমলে গাইড করা হয়েছে যা ছিলো সুষ্পষ্ট পাতানো একটা ইভেন্ট। আর আগাগোড়া মিথ্যাচার আ ধর্মীয় ভন্ডামীতে ভরপুর গোলাম আজমের জবানবন্ধী প্রচার করে টিভি গুলে বিচারপ্রার্থীদের জন্যে একটা চ্যালেঞ্জ আর রাজাকারতন্ত্রকে একটা মোরাল বুষ্ট দিয়েছে। পৃথিবীর কোথাও এই রকম নজির পাওয়া যাবে চিহ্নিত একজন যুদ্ধাপরাধীর জবানবন্ধী এতো যত্ন সহকারে প্রচার করে?

এই সব দেখেশুনে হতাশা আর ক্ষোভ বাড়ছে। স্বাধীনতার ৪০ বছর পরও ঘাতকরা এসিরুমে বসে টিভিতে হুমকী ধামকি দিচ্ছে আর বেঁচে থাকা মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষমতার রাজনীতিতে দোল খাওয়াচ্ছে দেশবাসীকে। মুক্তিযোদ্ধারা হয়তো আর ঐক্যবদ্ধ তে পারবে না। একজন সাদেক হোসেন খোকা আর একজন মোফাজ্জল হোসেন মায়া ৭১ এ ঢাকায় জীবন বাজী রেখে পাকবাহিনীকে ভয়ার্ত করেছিলো। কিন্তু ক্ষমতার রাজনীতিতে একজন আলবদরের পাশে বসে মুচকি হাসে। এইটাই বাস্তবতা। তবে হতাশা কেঁটে যায় -যখন দেখি বাংলাদেশের তরুন সমাজ রাজনৈতিক বিভেদভুলে যুদ্ধাপরাধীর বিচারের আন্দোলনে এক হয়ে যায়। সকল তরুন গলা মিলিয়ে এক সুরে বলে - রাজাকারদের বিচরন স্বাধীন বাংলায় চলবে না। বিচার হবেই।

(৫)

আজ সকালে টিভিতে দেশের গান শুনছিলাম। কিন্তু ঠিকমতো মনোযোগ দিতে পারলাম না। বারবার মনে হচ্ছিলো - এখনও কি সেই সময় এসেছে যে আমরা পরিপূর্নভাবে আমাদের স্বাধীনতার গানগুলো উপভোগ করতে পারবো। আমি মনে করি না - সময় এখনও আসেনি। একটা প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ করে - জীবন দিয়ে - সম্ভম দিয়ে দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। আরেকটা প্রজন্ম তাকে কিছুটা হারিয়েছে। কিন্তু যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি - কারন রাজাকারতন্ত্র সামরিক শাসকদের আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে তাদের বীজ অনেদুর পর্যন্ত বোপন করেছে। এরা বারবার ফিরে আসবে - ছোবল দেবে স্বাধীনতায়। তাই তরুন প্রজন্মের জন্যে কঠিন দায়িত্ব অর্পন করেছে ইতিহাস - স্বাধীনতাকে ধরে রাখতে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে। সর্বক্ষেত্রে - সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে যেন রাজাকার তন্ত্র কোন ভাবেই বিজয়ী না হয়ে যায়। যতদিন বাংলাদেশ থেকে রাজাকারতন্ত্র পরিপূর্ন নির্মূল না হচ্ছে ততদিন স্বাধীনতার স্বাদ পরিপূর্ন উপভোগ করা যাবে না - ততদিন বিজয়ের আনন্দে নিজেকে পরিপূর্ন বিলিয়ে দিলে ভুল করা হবে - কোন ভাবেই যেন বিজয়ে আনন্দ উচ্ছাস আমাদের স্বাধীনতার শত্রুতে থেকে দৃষ্টি সরিয়ে না নেয় - কোনভাবেই যেন আমরা মুক্তির সংগ্রামকে অবজ্ঞা না করি। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29503823 http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29503823 2011-12-16 07:39:25
গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করি জাতির শ্রেষ্ট সন্তানদের আর দাবী করছি ঘাতকদের বিচারের

আজ ১৪ই ডিসেম্বর ২০১১। আজ থেকে ৪০ বছর আগে এমনই দিনে জাতি তার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হারায় পাকিস্তানী হায়না আর তার দেশীয় দোসর আল বদরদের হাতে। বিজয়ে দ্বার প্রান্তে এসে জাতির এই সর্বনাশ যারা করেছে তাদের অনেকেই বেঁচে আছে উদ্ধত্যের সাথে নিজের কৃতকর্মকে জায়েজ করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

জাতি একটা বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ স্তানদের ঘাতকদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অত্যান্ত বেদনার সাথে দেখি - একদল মানুষ সেই বিচার প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। খুবই লজ্জার কথা যে - সামরিক শাসকদের আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে গড়ে উঠা স্বাধীনতা বিরোধীদের সংগঠন জামাত-শিবির সরাসরি হুমকী হয়ে উঠেছে দেশের অস্তিত্বের। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের ঘাতকদের বিরুদ্ধে অবিরাম যুদ্ধের বিকল্প নাই। শিক্ষা ক্ষেত্রে - অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এমনকি রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও এরা হুমকীর কারন হয়ে দাড়িয়েছে। দেশকে জংগীমুক্ত করার জন্যে -দেশকে অনর্থক হানাহানি থেকে মুক্ত রাখার জন্যে দেশকে রাজাকারিতা থেকে মুক্তি প্রয়োন।

(২)
কারা বুদ্ধিজীবি হত্যার সাথে জড়িত ছিলো তা এখন সবার কাছে পরিষ্কার। জামায়াতের মুখপাত্র ১৯৭১ সালের দৈনিক সংগ্রামে
পাতাগুলো সকল বিষয়ের স্বাক্ষী হয়ে আছে। তেমনি একটা খবর দেখুন যেখানে - গোলাম আজম কিভাবে বিরুদ্ধপক্ষকে নির্মূল করার কথা বলছে। বুদ্ধিজীবি হত্যার বিচারের দাবী উঠেছিলো ১৯৭১ সালের ১৮ই ডিসেম্বর। শত্রু মুক্ত বাংলাদেশের মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠকেই বুদ্ধিজীবি হত্যার বিচারের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। বুদ্ধিজীবি হত্যার বিষয়টি তদন্ত করার জন্যে শহীদ জহির রায়হানকে প্রধান করে একটা তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটি কাজ শুরু করতেই জহির রায়হানকে নিঁখোজ হন। জহির রায়হানের নিখোঁজের বিষয়টি তদন্ত করে তিনদিনের মধ্যে রিপোর্ট প্রদানের জন্যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান নির্দেশ দিলেও দুঃখজনক ভাবে সেই রিপোর্ট কখনও প্রকাশিত হয়নি।

সেই সময় ডঃ আজাদকে হত্যার অভিযোগে দুইজনের বিরুদ্ধে চার্জশীট দেওয়া হয়। কিন্তু সেই মামলার পরিনতি সম্পর্কে পরে কিছু জানা যায়নি।

ড. আলীম চৌধুরীকে হত্যার অভিযোগে আল-বদর আব্দুল মান্নান ( মাওলানা ও ইনকিলাবের মালিক) কে গ্রেফতার করা হলেও রহস্যজনক কারনে সে ছাড়া পেয়ে যায়।

শহীদুল্লাহ কায়সারের হত্যাকারী হিসাবে পরিচিত খালেক মজুমদারকে ট্রাইবুন্যাল জজ সাত বছরের কারাদন্ড দিলেও হাইকোর্ট সেই রায় বাতিল করে। বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী ও সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরী তাঁদের রায়ে বলেন -

"In the circumstances, therefore, the opinion is that doubt has crept into the prosecution case and this doubt goes in favour of the accused and we accordingly give benifit of doubt.."

লক্ষ্যনীয় - বেনিফিট অব ডাউট গেল যুদ্ধাপরাধীর পক্ষে। (সাম্প্রতিক জেল হত্যার মামলার রায়ে বিচারক হত্যাকারীরা জেলের ভিজিটর বুকে সই করেনি সেই অজুহাতে তাদের শাস্তি মওকুফ করেছেন)

বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী একটা আর্গুমেন্ট ছিলো - "Circumstances showing that Abdul Khaleque was a member of Jamat-e-Islami dominated the mind and Judgement of the prosecution withnesses because impresssion was created that Jamat-e-islami was against the movement of the Liberation. Be that as it may, this impression was resposible for influencing the inductive reasonings of withness."

লক্ষ্য করুন - বিচারক বলছেন - "impresssion was created that Jamat-e-islami was against the movement of the Liberation." - পুরো যুদ্ধে জামাত ঘোষনা দিয়ে বাংলাদেশ বিরোধী কর্মকান্ডে সক্রিয় ছিলো আর বিচারক বাদীকে দায়ী করছেন জামাতের বিরুদ্ধের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ভাবমূর্তি তৈরী জন্যে। কথা শুনলে মনে হবে মুক্তিযুদ্ধের সময় এই বিচারক মঙ্গলগ্রহে ছুটি কাটাচ্ছিলেন।

এই বিচারকই অবসর নেবার পর প্রেসিডেন্ট হবার জন্যে যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের কাছে সমর্থনের জন্যে গিয়েছিলেন।

পরবর্তীতে দেখা যাবে এই একই ধরনের আর্গুমেন্টে গোলাম আজমকে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে।

(৩)

তারপরও আশার আলো দেখছি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নানান ঝামেলার পরও আশা করি বিচার হবেই - এ্ ই নরঘাতকদের বাস কোন স্বাধীন দেশে হতেই পারে না।

স্বাধীনতার প্রায় চারদশক পরও দেশের শ্রেষ্ট সন্তানদের হত্যার বিচার পায়নি তাদের স্বজনেরা। আমরা সভ্যতার কথা বলি - কিন্তু নিহতদের স্বজনের দ্বীর্ঘশ্বাসের ভারাক্রান্ত বাতাস নিয়ে - ঘাতক আলবদরকে মন্ত্রী বানিয়ে - রাজাকারদের রাজনীতির সঙ্গী করে কি আসলে আমরা একটা সভ্য সমাজের স্বপ্ন দেখতে পারি?

আজ এই শোকবাহ দিনে আবারো দাবী জানাই - একই দাবী জানিয়েছে গত চারদশক ধরে - জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যাকারী রাজাকার আলবদরদের বিচার চাই। বাংলাদেশ নামক রাস্ট্রের কাছে দাবী করছি - বুদ্ধিজীবি হত্যার বিচারের জন্যে বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হউক। অবিলম্বে ঘাতকদের বিচারের সন্মুখিন করা হউক। এই কাজটাকে আরো সহজ করার জন্যে একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন গনতদন্ত কমিশন করা যেতে পারে - যেখানে শহীদের স্বজন আর স্বাক্ষীরা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারে। তদন্ত কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে মামলা করা যেতে পারে বিশেষ ট্রাইবুন্যালে - যাতে পুরো বিষয়টিতে স্বচ্ছতা থাকে।

(একই সাথে সদালাপে প্রকাশিত) ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29502478 http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29502478 2011-12-14 04:58:19
বাংলাদেশের ক্রিকেট আর আমরা প্রবাসীরা
আগে পাকিস্তানীরা ছিলো অগ্রগামী বিশেষ করে যখন বাংলাদেশের টিম হারতো - পাকিস্তানী সহকর্মীরা এক একজন স্যার ব্রডম্যান হয়ে বাংলাদেশরে ক্রিকেটের জন্যে উপদেশ দিতো। আমরা যদি বলতাম তোমাদের হারিয়েইতো আমরা টেস্ট স্টেটাস পেলাম! উত্তর পেতাম এমন যে ঐ ম্যাচটাতো ছিলো ভাই ভাই ম্যাচ। ভাব এমন ছিলো যে - ওরা ম্যাচটা ইচ্ছা করেই ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশকে বিরাট একটা দান করেছে।

তবে সাম্প্রতিক কালে পাকিস্তানীরা একটু চুপচাপ থাকে। আমাদের সাথে কোন বিষয়ে আগ বাড়িয়ে জ্ঞান-গর্ভ আলোচনায় আসে না। ওরা বাংলাদেশের টাকা আর পাকিস্তানী রুপীর মান নিয়ে খুবই বিব্রত। আর আমরাও বেঁচে গেছি ফালতু উপদেশ থেকে।

এখন ঝামেলা করছে ভারতীয়রা। কথা কথায় বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে জ্ঞান দিতে ওদের উৎসাহের অভাব নেই। ওদের ফালতু জ্ঞানে দান ঠেকাতে কিছু পরিসংখ্যান যোগাড় করেছি - যা বলা মাত্রই ওরা চুপ মেরে যায়।

হয়তো কারো দরকার হতে পারে - তাই পরিসংখ্যানগুলো নীচে দিয়ে দিলাম<img src=" style="border:0;" />br />
১) ১৯৭২ সালে ভারতে ক্রিকেট খেলা শুরু হয়।
২) ১৯৩২ সালে প্রথম ভারতীয় টিম (কলকাতা ক্রিকেট ক্লাব - যাতে বেশীর ভাগ খেলোয়ার ছিলো ইংরেজ) টেস্ট খেলে।
৩) ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হলে নিজেদের টিম হয়।
৪) ১৯৫২ সালে ভারতের মাটিতে ভারত প্রথম টেস্ট ম্যাচ জিতে।
৫) ১৯৬২ সালে দেশের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জিতে।
৬) ১৯৬৭ সালে দেশের বাইরে প্রথম টেস্ট জয়ী হয় নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে।
৭) ভারত হচ্ছে ৪র্থ টেস্ট খেলার দেশ - যদিও এখনও ভারত হেট-টু-হেডে এগিয়ে আছে নিউজিল্যান্ড, শ্রীলংকা, জিম্বাবুয়ে আর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। আর বাকী দেশগুলো জয়ের পাল্লা ভারতে চেয়ে এগিয়ে।

দেখা যাচ্ছে ভারতের স্বাধীনতার পর খেলা শুরু ধরলে প্রথম নিজের মাটিতে টেস্ট জিততে লেগেছে ১৫ বছর আর বিদেশের মাটিতে জিততে লেগেছে ২০ বছর।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ১১ বছর টেস্ট খেললেও ইতোমধ্যে টেস্ট জিতে রেখেছে দেশের মাটিতে। (জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে)

তারপরের প্রশ্ন ভারত ১১ বছরে বাংলাদেশকে কেন একবারও ভারতের মাটিতে খেলতে আমন্ত্রন জানায়নি?

এই প্রশ্নের পর ভারতীয়রা চুপ মেরে যায়।

(২)

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্ট শুরু হচ্ছে কিছুক্ষনের মধ্যেই। এই সময়ে মুলতান টেস্টের কথা মনে পড়ছে - রফিক,রাজিন সালেহ আর পাইলটের দুর্দান্ত পারফর্মমেন্স আর আম্পায়ার অশোকা ডি সিলভার কারনে একটা ইতিহাস হতে গিয়েও হয়নি।

এবার কি পারবে বাংলাদেশ টিম একটা ইতিহাস গড়তে। খুব একটা আশাবাদী না আমি। কারন আশরাফুলের টিমে ডেকে নেওয়া মানে হলো বাংলাদেশ টিম এখণও তৈলাক্ত বাঁশে বানরের উপরে উঠর মতো এগুচ্ছে। যদি সত্যই টিম আগাতো - তবে আশরাফুলের দরকার হতো না।


তারপরও আছি - দেশের টিমের সাথে। আশায় বুক বাঁধি বারবার। হেরে গেলে আগে কষ্ট পেতাম - এখন আর পাই না। অপেক্ষা করি পরের খেলার। একদিন না একদিনতো আমাদের দিন হবেই। ইনশাল্লাহ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29499277 http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29499277 2011-12-09 09:43:18
সৈয়দ আশরাফের ব্লগ মডারেশনের পরামর্শ বনাম মুখোশধারী সুশীলদের আর্তনাদ বিডিনিউজ২৪ ডট কমের খবরে দেখলাম স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ব্লগ মডারশনের জন্যে পরামর্শ দিয়েছেন। এই কথায় ফেসবুক আর ব্লগলোকতে একদল সুশীল ভন্ড হৈচৈ শুরু করে দিয়েছে। খুবই স্বাভাবিক - একদল সুশীলকে জ্ঞানী হওয়ার যে সুযোগ ব্লগগুলো দিয়েছে - তারা মডারেশনকে ভয় পাবেই। কে ভয় পাবে সেই কথায় আসার আগে বিডিনিউজে প্রকাশিত সৈয়দ আশরাফের বক্তব্য নিয়ে কিছু কতা বলা যাক।

সৈয়দ আশরাফ বলেছেন -

"গণমাধ্যমে অনলাইনে ব্লগ প্রচলনের প্রশংসা করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তবে তাতে ব্যক্তির বিরুদ্ধে অশালীন ও অসঙ্গতিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া হয় মন্তব্য করে সেগুলো মডারেশন না করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।"

সৈয়দ আশরাফ বলেন, “শেখ হাসিনা (প্রধানমন্ত্রী), খালেদা জিয়া (বিরোধীদলীয় নেত্রী), আমি (আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক), মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব)সহ অনককে নিয়ে ব্লগে অশালীন ও কুৎসিত কমেন্ট করা হয়। যার সঙ্গে বক্তব্যের কোনো সম্পর্ক নেই। দুয়েকটা পত্রিকা নীতিগত ও সম্পাদকীয় নীতি অনুযায়ী অশালীন মন্তব্য ছাপে না। সবাইকে ব্লগ মডারেট করতে হবে।”

ব্লগ এখন অনেকটা পর্নোগ্রাফিতে পরিণত হয়েছে, মন্তব্য করেন তিনি।

আশরাফ বলেন, “নিজেদের ক্রেডিবিলিটি ধরে রাখতে ব্লগগুলো মনিটর করুন।”

এ বিষয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর একজন মুখপাত্র বলেন, “আমাদের ব্লগ ও মতামত বিভাগের মন্তব্যে মডারেশন ছাড়া একটি শব্দও প্রকাশ করা হয় না।”

তিনি বলেন, “জনপ্রিয়তা পেতে বিভিন্ন ব্লগের মধ্যে একটি অশুভ প্রতিযোগিতা চলে। এ কারণেই প্রায় সব ব্লগে অশালীন ও মানহানিকর মন্তব্য প্রকাশ হতে দেখা যায়।”


- উপরের বক্তব্যের মাধ্যমে একটা বিষয় প্রকাশ হয়েছে যে, বাংলাদেশের মেধাহীন রাজনীতিকদের মধ্যে কেউ কেউ তথ্য প্রযুক্তির নতুন এই মাধ্যমের বিষয়ে সজাগ রয়েছেন। এইটা সত্যই ইতিবাচক।

এবার দেখি সৈয়দ আশরাফ যে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছেন -
১) অশালীন ও অসঙ্গতিপূর্ণ বক্তব্য
২) ব্লগ পর্নগ্রাফিতে পরিনত হয়েছে
৩) জাতীয় নেতৃবৃন্দের নামে কুৎসা
৪) জনপ্রিয়তা পেতে বিভিন্ন ব্লগের মধ্যে একটি অশুভ প্রতিযোগিতা


উপরের অভিযোগগুলো যে শতভাগ সত্য তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সৈয়দ আশরাফ কথাগুলো বলেছেন মুলত "গণমাধ্যমে অনলাইনে ব্লগ" অর্থাৎ সাম্প্রতিক কালে চালু হওয়া বাংলা পত্রিকাগুলোর অনলাইন ভার্সানের যে কমেন্ট অপশনগুলো চালু করা হয়েছে তাকেই হয়তো বুঝিয়েছেন। শুরুর দিকে পত্রিকাগুলোর আনমডারেটের মন্তব্যগুলো পড়ল হতাশায় আচ্ছন্ন হত এহতো - এখন বিডিনিউজ২৪, প্রথম আলোসহ অনেকই মডারেশন চালুর পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

কিন্তু ফেসবুকে আর ব্লগে কতিপয় সুশীল ব্লগার সৈয়দ আশরাফের কথাগুলোকে কমিউনিটি ব্লগের উপর টেনে এনেছেন। টানারই কথা। কারন প্রচলিত প্রবাদ "ঠাকুর ঘরে কে রে,আমি কলা খাই না" তো মিথ্যা হতে পারে না। চার বছরের কমিউনিটি ব্লগে ব্লগিএর অভিজ্ঞতা থেকে সৈয়দ আশরাফের কথাগুলোর প্রতি পূর্ন সমর্থন দিতে চাই। কারন কমিউনিটি ব্লগের সুশীল ব্লগারদের সাথে ব্লগিং থেকে দেখেছি - অশ্লীলতা আর গালাগালিকে এরা বাকস্বাধীনতা হিসাবে বিবেচনা করে। আসলে একটা ইউজার আইডি দিয়ে ভাল ভাল কথা লিখে - ডজনখানেক আইডি দিয়ে গালিগালাজ করে তা প্রতিষ্ঠা করার প্রবনতা অনেক নামিদামী "পুরষ্কারপ্রাপ্ত" ব্লগারদের স্বাভাবিক স্বভাব। এখানে মডারেশন হলে তাদের মুখোশ খুলে যাবে -সেই ভয়েই তাদের আর্তনাদ।

এই প্রসংগে কিছু কথা বলা দরকার। বাংলা সোসাল ব্লগিং এর পাইওনিয়ার সামহোয়ার ইন শুরুর দিকে মডাররেশন ইস্যুতে প্রচুর চড়াই-উৎড়াই পারি দিতে হয়েছে। সেই প্রক্রিয়ার সময় একদল ব্লগার বাকস্বাধীনতার দোহাই দিয়ে ভিন্ন ব্লগ তৈরী করে - যা রবি ঠাকুরের অচলায়তন একটা বাস্তবরূপ হয়েছে - যেখানে সদস্য হতে হলে রীতিমতো ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করা হয়। সেখানে বিশেষ বিষয়ে কথা বলা রীতিমতো অপরাধ। এরপর অনেক ব্লগ তৈরী হয়েছে - হয়েছে বাংলা ভাষায় মডারেশন ছাড়া যে ব্লগ দাবী করে - সেইটা হতে পারে সবচেয়ে বড় কৌতুক। কতগুলো লোক নামধাম লুকিয়ে নিজেদের আদিম রিপুর চর্চার জায়গা হলো সেই ব্লগ। সেখানে মডারেশন হয় নিজেদের পছন্দের বাইরে কোন কথা হলেই।

আসলে মডারেশন কেন? একটু লক্ষ্য করলে দেখবো ব্যক্তিগত জীবনে আমরা সবাই আমাদের কথাগুলো মডারেশনের মধ্য দিয়েই প্রকাশ করি। একজন বন্ধুর সাথে যে ভাষায় কথা বলি - সেই ভাষায় বসে সামনে বলি না। ঠিক তেমনি বিশ্বের এক নাম্বার সোসাল ব্লগ ফেসবুক মডারেশনে সবচেয়ে বড় উদাহরন - মডারেটর থাকার পরও সেখানে ইউজারকে মডারেশনে ক্ষমতা দেওয়া আছে। ওয়াশিংটন পোস্ট মডারেশন ছাড়া ব্লগ চালু চালাতে পারেনি। কানাডার সিবিসি নিজের ব্লগের মডারেশনের জন্যে থার্ট পার্টিকে দায়িত্ব দিয়েছে। কারন - মানুষের মতামতগুলো পাওয়া এবং প্রকাশ করা যেমন জরুরী - সেই সাইডের ক্রেডিবিলিটিও তেমনি গুরুত্বপূর্ন।

সবাই জানি - নানান মতের পথের মানুষ নিয়েই সমাজ। সবার মত প্রকাশের অধিকার আছে - আর তা হতে হবে তথ্যপূর্ন ও যৌক্তিক। শুধু মাত্র গালাগালি আরঘৃনা প্রকাশ কোন সুস্থ সমাজের জন্যে উপকারী হতে পারে না। চাই মেধা আর যুক্তির ব্যবহার - বিতর্কের মাধ্যমে নিজেদের মতাদর্শকে যাচাই করা যায় যদি তা হয় মননশীল ভাষায় আর তথ্য আর যুক্তির ভিত্তিতে।

সৈয়দ আশরাফকে ধন্যবাদ যে বাংলা ব্লগিং এর আসল রোগটা ধরতে পেরেছেন । মজার বিষয় হলো উনি প্রতিকার হিসাবে যা বলেছেন তাকে এড়িয়ে একদল ভন্ড সুশীল ব্লগে ব্লগে ব্লগের উপর সরকারের নিয়ণ্ত্রন আসছে বলে প্রপাগান্ডা করছে। এই সকল জ্ঞানপাপীরা মানুষকে যাতে বিভ্রান্ত না করতে পারে - এই বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

সৈয়দ আশরাফ ব্লগের নোংরা প্রতিযোগীতা আর দৈনদশার প্রতিকার হিসাবে বললেন - “নিজেদের ক্রেডিবিলিটি ধরে রাখতে ব্লগগুলো মনিটর করুন।”

এর চেয়ে ভাল সমাধান আর কি হতে পারে।

(একই সাথে সদালাপে প্রকাশিত) ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29496711 http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29496711 2011-12-05 11:01:34
বিএনপির যুদ্ধাপরাধী বিচারের বিরোধীতা ও মওদুদ আহমেদের ভুমিকা আজ সকালে টিভি খুলেই খবরে দেখলাম - বিএনপি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালাতের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে আদালতের কার্যক্রম বন্ধে দাবী জানিয়েছে। বিষয়টা যদিও নতুন না - তারপরও অবশেষে বিএনপি ঘোমটা খুলে নাচতে নেমেছে দেখে ভালই লাগলো। আরেকটা বিষয় দেখে মজা পেলাম তা হলো ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের দখলে মাইক্রোফোন। বিএনপির বিজয়নগর অফিসে মওদুদকে কদাচিত দেখা যায় - সেখানে সকল ঘোষনা দেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্যা ফকরুল। কিন্তু গতকাল মওদুদ নিজেই এই বিষয়ে ঘোষনা দিলেন। মওদুদ যখন আন্তর্জাতিক আদালতকে মানি না বলছিলো - তখন মনে পড়ে গেলো জজমিয়া নাটকের কথা - এই মওদুদই আইনমন্ত্রী থাকা অবস্থায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে ভায়বহ অপরাধের বিচারের নামে কি প্রহসনই না করেছেন উনি। কদিন আগে যখন বলেছিলাম বিএনপির নীতির্নধারকরা (তিন আইনজীবি) কোর্টে গেছে সাইদীর পক্ষে উকালতি করতে - একজন বিএনপির সমর্থক মন্তব্য করেছিলেন - ওরা আইনজীবি হিসাবে গেছে। এখন নিশ্চয়ই বিএনপির সমর্থকরা বলবেন না যে - এই উকিলরা বিএনপির নীতিনির্ধারন করে না!

মওদুদ আহমেদের পাকিস্তানী এবং রাজাকারদের পক্ষে দালালীর ঘটনা কি নতুন ঘটনা? উত্তর হলো "না"। দীর্ঘদিন ধরে উনি দালালী করছেন - হয় সামরিক শাসকের বা রাজাকার এবং পাকিস্তানীদের ।

মওদুদের রাজাকার এবং পাকিস্তানীদের পক্ষে দালালীর ইতিহাসে যাওয়ার আগে একটু পরিচয়ের ভুমিকা দরকার।

ছাত্রজীবনে আইউব খানের এনএসএফ এর সাথে জড়িত ১৯৬৯ সালে ব্যারিষ্টারী পাশ করে দেশে ফেরার পর কবি জসীমউদ্দিন (যিনি উনার শশুড়)সহ বঙ্গবন্ধু সাথে দেখা করলে তাকে ব্যারিষ্টার আমিরুল ইসলামের সাথে কাজ করার সুযোগ করে দেন। সেই সুবাদে স্বাধীনবাংলা বেতারে কাজ করেন মওদুদ। দেশ স্বাধীন হলে বঙ্গবন্ধু তাকে পোস্টমাস্টার জেনারেল পদে বসায়। সেখানে বসে বিরাট দূর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়ে মওদুদ - জার্মান থেকে ডাকটিকিট এবং খাম ছাপানোর মান এতো খারাপ হয়েছিলো যে - মানুষ বঙ্গবন্ধুর ছবিসহ ডাকটিকিটের উপর থু থু দেওয়ার মতো কৌতুক করা শুরু করে। ফলে তার পদ চলে যায় এবং মামলাও হয়। এদিকে তার গোপনে পাকিস্তানীদের সাথে যোগাযোগের বিষয়টা অনেকে জানার ফলে ১৯৭৩ সালে এমপি নমিনেশন পেতে ব্যর্থ হয়ে বাকী জীবনের জন্যে আওয়ামীলীগের সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করে। জেনারেল জিয়ার মন্ত্রী সভায় জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী হিসাবে দূর্নীতির দায়ে আরেকবার পদ হারান। এরশাদ ক্ষমতা এলে দূর্নীতির অভিযোগে জেলে গেলেও উনার স্ত্রীর এরশাদের সাথে লন্ডন সফলের সময় মুক্তি পায় মওদুদ। পরে জেনারেল এরশাদের মন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী পরে উপ-রাস্ট্রপতি পদ পর্যণ্ত চলে যায়। যেদিন এরশাদের পতনে সারাদেশ উন্মুখ ছিলো - সেদিন মওদুদ টিভিতে এরশাদের পদত্যাগ কেন অসাংবিধানিক হবে তা ব্যাখ্যা করছিলো বিটিভিতে। পরে নিজের এলাকা থেকে নির্বাচিত না হতে পেরে এরশাদের ছেড়ে দেওয়া আসনে উপনির্বাচনে এমপি হয় । অবশেষে বিএনপিতে যোগ দিয়েও সে তার অগ্রগতি ধরে রাখে - স্থায়ী কমিটির সদস্য হয়ে দলে নীতিনির্ধারন করছে এই ধূর্ত আইনজীবি।

মওদুদ আহমেদ স্বাধীনতার পরপরই পাকিস্তানীদের সাথে যোগাযোগ করে এবং তাদের পক্ষে কাজ করতে থাকে। মওদুদ আহমেদের বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীতার সম্পর্কে একটা সুষ্পষ্ঠ অভিযোগ পাওয়া যায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সিরাজুদ্দিন হোসেনের ছেলে সেলিম আর নুরের কাছ থেকে (মুক্তধারা ডট কম)

(২)

মুক্তিযুদ্ধের পরপর দালাল এবং রাজাকারদের একটা অংশ পাকিস্থানে অবস্থান নেয়। তাদের সম্পদ এবং বাড়ীঘরকে সরকার শত্রু সম্পত্তি ঘোষনা করে এবং মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে বন্ধোবস্ত দেয়। এমনই একটা বাড়ীর মালিক ছিলেন আইয়ুব খানের সময়কার মহিলা সংসদ সদস্য ডলি আজাদ - যিনি গোলাম আজম এবং অন্যান্যদের সাথে নাগরিত্ব হারান। ইস্কাটনের ১৯ নং বাড়ীটি শত্রুসম্পত্তি হিসাবে রাজাকারদের হাতে ১৯৭১ সালের ১০ই ডিসেম্বরে শহীদ সিরাজুদ্দিন হোসেন এবং ১৯৭১ সালের ১৪ ই ডিসেম্বর রাজাকারদের হাতে শহীদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গনিতের শিক্ষক ড. আবুল কালাম আজাদের পরিবারবর্গকে সরকারী ভাবে বন্দোবস্ত দেওয়া হয় ১৯৭২ সালে।

জেনারেল জিয়ার শাসনামলে মওদুদ আহমদ বেশ কয়েকবার পাকিস্থান সফর করেন এবং পাকিস্থানে নির্বাসিত নাগরিকত্ব হারানো দালালদের সাথে তাদের দেশে বসবাসকারী পরিবারবর্গের যোগাযোগ এবং ভুয়া দলিলপত্র আদানপ্রদানের মাধ্যমে শত্রুসম্পত্তি হিসাবে ঘোষিত সম্পদসমূহ ফেরত প্রদানের পক্ষে কাজ শুরু করেন। উনি তাদের বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ফিরে পেতেও আইনী পরামর্শ দেন। ম্ওদুদের প্রচেষ্টার ফলে বাংলাদেশ সরকার ইস্কাটনের ১৯ নং বাড়িটি নিয়ে একটা বেকায়দায় অবস্থায় পড়ে যায়। কারন ভুয়া দলিলের মাধ্যমে দালালদের বাংলাদেশে বসবাসরত স্বজনকে মালিক হিসাবে দেখিয়ে কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়। অন্যদিকে সরকারপক্ষের ইচ্ছাকৃত উদাসীনতাসৃষ্টি করে মামলাগুলোতে সরকারী পক্ষকে হারানো হয়। এই প্রক্রিয়া শুরু হয় জিয়ার শাসনামলে এবং এরশাদের সময়ে চলতে থাকে। মওদুদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় অনেক বাড়ী এবং সম্পত্তি সরকার ভুয়া মালিকদের ফেরত দিয়ে দিলে তারা তা বিক্রয় করে পাকিস্থানে অর্থ পাচার করে।

বিশেষ করে ডলি আজাদের সম্পত্তির বিষয়ে জিয়া/ সাত্তারের শাসনামলে ড. আজাদ এবং সিরাজুদ্দিনের পরিবারকে নোটিশ দিলে ড. কামাল হোসেন এগিয়ে আসেন আইনী সহায়তা দিতে। কিন্তু সেই পর্যায়ে আসে এরশাদের সামরিক শাসন।

সামরিক শাসনের অধীনে কোর্টের কার্যক্রম বন্ধ থাকার সময় সরকারের প্রশাসন যন্ত্র দুইঘন্টার নোটিশে দুই প্লাটুন পুলিশের সহায়তায় বাংলাদেশের জন্যে শহীদ দুই পরিবারের ৮ জন সদস্যকে বাড়ী থেকে বের করে দেয়। এই বিষয়ে উপর সাপ্তাহিক বিচিত্রা’য় মওদুদ আহমদ এবং পাকিস্থান পলাতক দালালদের সংশ্লিষ্টতার মাধ্যমে শহীদ পরিবারকে গৃহছাড়া করা সম্পর্কে একটা প্রতিবেদনে মওদুদের যোগসাজশের তথ্য প্রকাশিত হয়।

(৩)

দুর্ভাগ্য বাংলাদেশের - দুর্ভাগ্য জাতীয়তাবাদী রাজনীতির - দুর্ভাগ্য আমাদের যুব সমাজের - মওদুদ আহমেদ ব্যক্তিগত এজেন্ডাকে দলের রাজনীতির মুল ধারায় এনে তা চাপিয়ে দিলেও জাতীয়তাবাদী তরুনরা তাকে সহ্য করে যাচ্ছে। তাকেই অনুসরন করে গড়ে উঠছে একদল রাজনৈতিক কর্মী বাহিনী যারা শুধু অন্ধের মতো কারো বিরোধীতেই রাজনীতির মুল মন্ত্র মনে করে। এরা বুঝতেও পারছে না যে - মওদুদের মতো একজন পাকিস্তানে দালাল এবং ধূর্ত আইনজীবির হাতে স্টিয়ারিং দিয়ে দিলে তাদের রাজনীতি কোথায় চলে যাবে। এই মওদুদ কারো বন্ধু না - সে নিজের এজেন্ডাকে বাস্তবায়নের জন্যে কোন না কোন রাজনৈতিক দলের উপর ভর করে থাকে। মওদুদের ইংরেজী লেখা বইগুলোতে যে ভাবে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রশংসা করেছে - তাতে একদিন হয়তো তাকে আওয়ামী মঞ্চে দেখা গেলেও অবাক হবার কিছু থাকবে না।

নষ্ট রাজনীতির নেতৃত্বের দেউলিয়াত্বের সুযোগে ধূর্ত, ষড়যন্ত্রকারী একজন নীতিহীন মওদুদ বাংলাদেশের বড় একটা রাজনৈতিক শক্তির নিয়ন্ত্রন করে - কথাটা ভাবতেও লজ্জা হয়।

(একই সাথে সদালাপে প্রকাশিত) ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29495878 http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29495878 2011-12-04 05:22:57
বিজয়ের মাসের আহ্বান - শত্রুদের উপর থেকে দৃষ্টি সরানোর বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরী
বাংলাদেশের জন্মের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো মধ্যে প্রধান ছিলো মুলত মুসলিম লীগ (একাধিক উপদল), কেএসপি, পিডিপি, নেজামে ইসলাম আর জামায়াতে ইসলাম। জামায়াত ছাড়া বাকী সবগুলো দলই বাংলাদেশের বিজয় তথা নিজেদের পরাজয় মেনে নিয়ে বিভিন্ন ধারার রাজনীতিতে নিজেদের সম্পৃক্ত করে - আর দলগুলো বিলুপ্ত হয়ে যায়। সুতরাং জামায়াত ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে তেমন আলোচনা হয় না।

কিন্তু জামায়াত আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের অস্তিত্বকে মেনে নেয়নি যদিও জামায়াতের নবীন সদস্য - শিবিরেরকর্মীদের একটা ধারনা দেওয়া হয় যে এরা বাংলাদেশেক মেনে নিয়েছে - কিন্তু শিবিরে দলীয় পতাকায় চাঁদ-তারার প্রতীক কিন্তু তা বলে না।

জামায়াতকে কেন বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্যে হুমকী মনে করা হয় - তা বুঝার জন্যে আমারদের পিছনের ইতিহাসের দিকে একটু নজর দিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধে পরাজয় নিশ্চিত জেনে জামায়াতের নেতাদের একটা বিরাট অংশ পাকিস্তানে পালিয়ে যায় - যাদের মধ্যে প্রধান ছিলো গোলাম আজম। আরেকটা অংশ দেশে থেকে যায় - যারা ধীরে ধীরে দেশের ভিতরে সংগঠিত হতে থাকে। এদের নেতৃত্বে ছিলো মাওলানা আব্দুর রহীম। মাওলানা রহীমের গ্রুপ বাংলাদেশের অস্তিত্বকে মেনে নিয়ে জিয়াউর রহমানের ধর্মীয় রাজনীতির সুযোগে "ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ" নামে একটা দল তৈরী করে - যারা ১৯৭৯ এর ২য় সংসদ নির্বাচনে ২০টি আসনও পায়। এরা মুক্তিযুদ্ধের কুখ্যাত জামায়াতের ছাত্র উইং "ইসলামী ছাত্রসংঘ" যা ১৯৭১ সালে পাকবাহিনীর দোসর বাহিনী আল-বদর হিসাবে কাজ করেছে এবং বুদ্ধিজীবি হত্যা মিশনের সাথে জড়িত ছিলো - তাকে ইসলামী ছাত্র শিবির নামে নতুন ভাবে সংগঠিত করে। এদিকে গোলাম আজম আর তার অংশ সৌদি আরব আর লন্ডনে বসে বাংলাদেশ বিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত। এরা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কমিউনিজমের ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দিতে উদ্ভুদ্ধ করন সহ বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক তৈরীতেও বাঁধা সৃষ্টি করে।

১৯৭৯ সালে জামায়াতের উপর নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে গোলাম আজম পাকিস্তানী হিসাবে টুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে আসে মায়ের অসুস্থতার অজুহাতে। তৎকালীন সরকারে প্রত্যক্ষ সহযোগীয়তায় জামায়াতকে পুনরায় সংগঠিত করে। এই প্রক্রিয়া মাওলানা রহীমের গ্রুপের সাথে তাদের মতপার্থক্য হয় এবং মাওলানা রহীম গ্রুপ জামায়াতে যোগ দিতে অস্বীকার করেন এবং জামায়াতের পেট্রোডলারের কাছে তাদের রাজনীতির সমাপ্তি ঘটে।


জামায়ত শুরুতে আব্বাস আলী খানকে ভারপ্রাপ্ত আমীর বানিয়ে গোলাম আজমের নাগরিকত্বের জন্যে অপেক্ষা করতে থাকে। এক সময় তা পেয়েও যায়। এবং জামায়াতের আমীর হিসাবে কাজ শুরু করে।

এখানে যে বিষয়গুলো লক্ষ্যনীয় - জামায়াত দীর্ঘ ৩০ বছর বাংলাদেশে রাজনীতি করলেও - ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশনের চাপে তাদের গঠনতন্ত্রে মুক্তিযুদ্ধ কথাটি সংযোজন করে। আর মুক্তিযুদ্ধে ওদের ভুমিকা নিয়ে ক্ষমা চাওয়াতো দুরের কথা - সামান্য আলোচনাও করতে রাজী না। ওরা চাচ্ছিলো যে - বিকৃত ইতিহাস চর্চার আড়ালে ওদের কুকর্মগুলো মানুষ ভুলে যাবে। অনেকের হয়তো জানা নেই যে - ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত বাংলাদেশের একমাত্র টিভি চ্যানেল বিটিভি এবং রেডিওতে "পাকিস্তানী সেনা" "রাজাকার", "আলবদর" ইত্যাদি শব্দের উপর অলিখিত নিষেধাজ্ঞা আরোপিত ছিলো। হুমায়ুন আহমেদ একটা নাটকে "তুই রাজাকার" কথাটা দিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে শব্দটা পরিচিত করেন।

অন্যদিকে সামরিক বাহিনীর মধ্যে থাকা পাকিস্তানপন্থী আর সিভিল প্রশাসনে থাকা আমলারা জামায়াতের পূর্নবাসনে সহযোগীতা করেছে। আর বিভক্ত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি পরষ্পরের বিরুদ্ধে লড়াই করে এক সময় শক্তিহীন হয়ে সমযোতার নীতিতে চলে গেছে। যার ফলে আমরা দেখেছি আওয়ামীলিগ একসময় জামায়াতকে মিত্র হিসাবে বিবেচনা করেছে।

প্রবল অর্থবিত্তের মালিক এই দলটির ধূর্ত নেতারা দ্রুত এদের রং বদলিয়ে যে কোন দলের মিত্র হয়ে যেতে পারে। এরা কোন ভাবেই বাংলাদেশের মিত্র না - এদের চিনে রাখা জরুরী।

(২)

এখনও কি জামায়াত বাংলাদেশের জন্ম মেনে নিয়েছে? উত্তর হলো না। বাংলাদেশের রাষ্ট্রের মুলনীতি বা সংবিধান ওদের কাছে অর্থহীন। ওরা গনআন্ত্রিক ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে নিজেদের সংগঠিত করে এক সময় গনতন্ত্রকে হত্যা করবে।

আর জামায়াত রাজনীতি করে গোপনে - মজলিশে সুরা নামক উচ্চ পর্যায়ে যে সিদ্ধান্ত হয় - তা সবাইকে মেনে নিতে হয়। সেই সিদ্ধান্ত নেবার প্রক্রিয়া কোনভাবেই স্বচ্ছ না - যা গনতান্ত্রিক রাজনীতির পরিপন্থী। গোপন রাজনীতি কোন স্বাধীন দেশে চলতে পারে না।

অন্যদিকে ছাত্র শিবিরের বিষয়েও বলা যায় - প্রবল ঘৃনার আবাদ হয় ওদের রাজনীতিতে। কাকে কিভাবে ঘুনা করতে হবে তারই চর্চা করে এরা প্রচন্ড একমুখী চিন্তার একটা সহযোগী সংগঠন তৈরী করেছে - যারা মুলত জামায়াতের যুদ্ধাপরাধী নেতাদের রক্ষা করাকেই ইসলাম রক্ষা হিসাবে দেখে।

ইসলামকে সামনে রেখে এই দলের নেতারা নিজেদের সম্পদ বাড়ানো ছাড়া তেমন কিছু করেনি। বিলাস বহুল জীবন যাপনকারী জামায়াতের নেতাদের ছেলেমেয়েরা বিদেশে পড়াশুনা করলেও - এরা মাদ্রাসায় পড়া কোমলমতি ছেলেদের ইসলামের নামে শহীদ হতে উদ্ভুদ্ব করছে। শিবিরের তাদের শহীদের তালিকায় কোন জামায়াত নেতা বা তাদের ছেলেমেয়ে নেই - যা আছে তা হলো দরিদ্র মেধাবী ছেলেগুলা - যারা জামায়াতের অর্থে পড়াশুনা করে জামায়াতের বৃত্তেবন্দী হয়ে আছে। এদের নিজের স্বাধীন চিন্তার সুযোগও নেই।
(৩)

এবার দেখা যাক যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়টি। জামায়াতের হিসাবে ছিলো না যে এভাবে বিচার শুরু হবে। কারন জামায়াত বিগত তিন দশকে প্রচুর অর্থের মালিক হয়েছে - নেতারা সমাজের উচুস্থরে নিজেদের স্থান করে নিয়েছে। তাই দেখি কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী চট্রগ্রামের কসাই আলবদর নেতা মীর কাসেম আলির টিভির জন্মদিনের কেক কাটেন বর্তমান সরকারের মন্ত্রী। সুতরাং বুঝাই যাচ্ছে বিচার বিষয়টা খুব সহজ হবে না। সরকারের সকল জায়গায় জামায়াত লোক রেখেছে - আর বিশেষ করে বিরোধী দলের ভিতরের ওদের পেইড এজেন্ট যে কাজ করছে তা বলাই বাহুল্য।

আর আওয়ামীলীগ দল হিসাবে যে যুদ্ধাপরাধীর বিচারের বিষয়ে খুব একটা আগ্রহী নয় - তা বিগত আমলেই বুঝা গেছে। গনআদালতের নেতারা শ্রদ্ধেয়া জাহানারা ইমামের অবর্তমানে নিজেদের এজেন্ডা নিয়ে ব্যস্ত ছিলো। এমন কি নাস্তিকতা প্রসারের জন্যে ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির ব্যনারে জাহানারা ইমামের নামে পুরষ্কার দেওয়ার মতোও অদ্ভুদ ঘটনা দেখেছি। ফলাফল আওয়ামী সরকার বিষয়টা এড়িয়ে গেছে।

কিন্তু এবার যতটুকু বিচারে কাজ এগিয়েছে - তার জন্যে যতটুকু কৃতিত্ব আওয়ামীলীগ পাবে তার চাইতে অনেক বেশী পাবে নতুন প্রজন্মের ভোটাররা। এরা পরিষ্কার ভাষায় যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়ে মতামত দিয়েছে।

এখন কথা হলো - বিশ্বের ইতিহাসে - এমন কি বাংলাদেশেও দেখা গেছে প্রবল গনআন্দোলনের ফসল ছিনতাই হয়ে যায়। ৯০এর কুখ্যাত স্বৈরাচারী রাষ্ট্রপতি এরশাদ এখন আওয়ামী সরকারের মিত্র আর উপ-রাষ্ট্রপতি মওদুদ বিএনপির নীতিনির্ধারক - আর ডা: মিলনের মা ছেলে হত্যার বিচারের জন্যে এখনও কাঁদছেন। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদেরও করনীয় ঠিক করতে হবে।


যুদ্ধারাধী বিচারের শেষ দেখার জন্যে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সবাইকে ঐক্যবন্ধ থাকা জরুরী। কোন রকম রাজনীতির খেলায় নিজেদের মত্ত না করে - দাঁবার গুটি না হয়ে - দৃঢ় কন্ঠে উচ্চারন করতে হবে - যুদ্ধাপরাধীর বিচার চাই । হতেই হবে। মিশরের তাহরির স্কোয়ারের যোদ্ধাদের মতো লক্ষ্য পুরন না করে ঘরে ফেরা মানেই সুবিধাবাদীদের জন্যে পথ ছেড়ে দেওয়া। জামায়াতের অর্থ - বিত্তের কাছে যেন যুদ্ধাপরাধের প্রক্রিয়া বিক্রি হয়ে না যায় - সেই দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

বিজয়ের মাসে আমাদের বিজয়ের আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে যেন আমাদের শত্রুদের উপর থেকে চোখ না সরাই - ৩০ লক্ষ শহীদ আর ২ লক্ষ মা বোনের সন্মানকে যে আমরা কখনও আর অবজ্ঞাকারীদের হাতে ছেড়ে না দেই। ঐক্যবদ্ধ ভাবে দেশে শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াইএ ইম্পাত দৃঢ় অবস্থান নিতে কুন্ঠিত না হই। রাজনীতির কুটচাল যে আমাদের নতুন প্রজন্মকে আবারো দেশের ইতিহাস থেকে দুরে না রাখে - যেন নতুন প্রজন্ম জাতির শহীদরে সর্বোচ্চ সন্মান আর বীরদের নিয়ে গর্ব করাকে নিজেদের পরিচয় হিসাবে প্রকাশ করে।

বিজয়ের মাসে এইটুকুই আমার আশা। সবাইকে বিজয়ের মাসের শুভেচ্ছা। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29495286 http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29495286 2011-12-03 07:49:23
ঢাকা ভাগ, সরকারের দায়িত্বহীনতা, বিএনপির বাম তরিকা আর সুশীলদের আর্তনাদ বাংলাদেশে গনতন্ত্র এসেছে ৯০ সালে - কিন্তু ধীরে ধীরে তা নির্বাচিত এক নায়কতন্ত্রে মোড় নিয়েছে। গনতান্ত্রিক শাসনের মুল যে যুক্তি আর তথ্য নির্ভর - যা সংসদে হওয়ার কথা তা মোটেও হচ্ছে না। এখন মনে বাংলাদেশের বিরোধীদল সব সময় ওয়াক আউটের মাধ্যমে চিরস্থায়ী ওয়াকওভার দিয়ে দিচ্ছে সরকারী দলকে। তাই চাইলেও সরকারী দল বিতর্ক এগিয়ে নিতো পারে না।

যেমনটা দেখলাম - ঢাকা শহর আসলে বেড়েছে দ্রুত গতিতে। আশির দশকে যেখানে খাল-বিল ছিলো - সেখানে এখন উচুদালান। কে সেখানে সেবা দেয় - জানি না। সিটি কর্পোরেশন মুলত রাস্তা মেরামত - ড্রেনগুলো পরিষ্কার করা আর ময়লা সরানোর কাজ করে। রাস্তার লাইটগুলো জ্বালানো তাদের কাজ। এ ছাড়া ঢাকা শহরে আরো ১৭টা প্রতিষ্টান আছে - যেমন ডেসা, ওয়াসা, তিতাস ইত্যাদি। সবগুলো সরাসরি বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের অধীনে কাজ করে। বিশাল জনগোষ্ঠীর শহরে কেউই তাদের ভাগের পিঠা ছাড়তে নারাজ। সবাই চায় ঢাকার ভাগ।

এই ধরনের বহুমুখী খবরদারীর শহর কোন উন্নত দেশে নাই। সেখানে একটা সিটি গভর্নমেন্টের অধীনে সবাই কাজ করে - ফলে নিরন্তর খোঁড়াখুড়ির মতো অসহনীয় যন্ত্রনা তাদের পোহাতে হয় না। এছাড়া আমলাতান্ত্রিক খবরদারী কম থাকা জটিলতা আর দূর্নীতির সুযোগ কমে যায় - ফলে কাজ দ্রুত হয়।

যখন সরকার ঢাকাকে দুইভাগ করবে শুনলাম - ভালভাবে বুঝার চেষ্টা করলাম এর পিছনে যুক্তিগুলো কি দেখাচ্ছে সরকার। তেমন কোন যৌক্তিক করান সরকার দেখাতে পারছেন না। সরকারের মতে মোট্টো-পুলিশকে যদি চারভাগে ভাগ করা যায় - তাহলে সিটিক কর্পোরেশনকে চারভাগে ভাগ করা যাবে না কেন? সত্যইতো - সিটি কর্পোরেশন পুলিশ বিভাগের চেয়েও সেবাদানের ক্ষেত্রে কম কাজ করে। এই ভাগাভাগি থেকে দুইজন মেয়র নির্বাচনের সুযোগ ছাড়া আর তেমন কোন পরিবর্তন হবে মনে হচ্ছে না। তবে ভবিষ্যতে একটা সিটি সরকার তৈরীর পথটা আরো কঠিন হয়ে যাবে। তখন দুইটা সিটি সরকার তৈরী করার জন্যে ১৭টা সেবা প্রতিষ্ঠানকে ভাগ করা কঠিন হবে। সুতরাং ভাগাভাগিটা শুধুমাত্র রাজনীতির সুবিধা ছাড়া তেমন কোন সুবিধা দেবে না। অবশ্য মনোনয়ন বানিজ্যের জন্যে আরো একটা সুযোগ তৈরী হলো - বলতেই হয়।

এখন আসি বিরোধী দলের কথায়। সরকার অনেকদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে - কিন্তু বিরোধী দল মনে হয় অপেক্ষায় ছিলো বিল পাশের জন্যে। এখন আন্দোলন করে বিল বাতিল করালেও রাজনৈতিক বিজয় হিসাবে দেখানো যাবে - আর বাতিল না হলে দুইজন মেয়রপ্রার্থী দিয়ে দুইজনকে খুশী করা যাবে - হয়তো একটা মেয়র পদ উচ্চমূল্যে বিক্রয় করা যাবে।

কিন্তু গনতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় বিরোধীতার কিছু সভ্য পথ আছে - বিরোধী দল সংসদে গিয়ে বিলের বিরুদ্ধে আপত্তি তুলে তা কমিটিতে পাঠাতো পারতো। সেই কমিটিতে বিরোধী সদস্য তাদের আপত্তির পক্ষে যুক্তিগুলো বিলে লিপিবদ্ধ করতে পারতেন ( নোট অব ডিসেন্ট) যা বিলের অংশ হয়ে থাকতো এবং ভবিষ্যতে এই নোট অব ডিসেন্টের উপর ভড় করে বিল বাতিল করতে পারতো।

বিরোধী দল সংসদে গিয়ে আলোচনা করলে সবচেয়ে লাভবান হতো সাধারন মানুষ। মুলত বিরোধী দলের কাজই হলো সরকারকে জনগনের কাছে জবাবদিহী করা এবং সেইটা টকশো বা রাস্তায় নয় - সংসদে বির্তকের মাধ্যমে যা দলিল আকারে সংরক্ষিত থাকবে।

সুষ্পষ্ঠভাবে সরকার এবং বিরোধীদল জনগনকে উপেক্ষা করে একদল বিল পাশ করে আরেকদল হরতাল চাপিয়ে দিয়ে অগনতান্ত্রিক পথেই হাঁটলো।

এখন দেখছি বিরোধী দলের নেতারা টকশো আর সেমিনারে বসে নানান ধরনের থিয়োরী দিচ্ছে - যা কন্সিরেসি থিয়োরীর মতো শুনাচ্ছে। এরা বলছে - এই ভাগাভাগি দুরভিসন্ধি মূলক(!) - এর মানে কি, আমরা জানি না।

(২)

দিনে দিনে বিএনপির অবস্থায় হয়ে যাচ্ছে বামদের মতো। বামদলগুলো জনবিচ্ছিন্নতা কাটানোর জন্যে যেখানে দশজন লোক দাঁড়ানো দেখে সেখানেই ব্যানার নিয়ে হাজির হয় - শ্লোগান শুরু করে। এর মধ্যে বিপ্লবের গন্ধ খুজঁতে থাকে। বিএনপি প্রধান এই সরকারের শুরুতেই সংসদে বসা নিয়ে সংসদ বর্জন করে সরকারের পতনের আন্দোলনের চেষ্টা করছেন। নানান ভাবে সরকারের বিরোধী ইস্যুগুলোতে আন্দোলন জমানো প্রচেষ্টা চলছে - কিন্তু সবগুলোই ফিকে হয়ে যাচ্ছে নানান ভাবে। ইদানিং রোডমার্চ করে কিছুটা জমানো চেষ্টাও তেমন জমছে না। একটা বিরাট দল হিসাবে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ভাগাভাগির বিষয়ে বিএনপি কোন সঠিক অবস্থান জনগনকে জানায়নি। যখন বিল পাশ হলো - তখন বাজার দেখে রাতের গভীরে মিটিং ঢেকে একটা হরতাল ঘোষনা করা হলো। বিএনপি দেখলো যখন জনমত সিটি ভাগের বিরুদ্ধে যাচ্ছে - তখন বামদের মতো দ্রুত আন্দোলনের কর্মসূচী দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান ঘোষনা দিলো।
এখন সরকার পতনের আন্দোলন থেকে ঢাকা ভাগ বন্ধের আন্দোলন - নাকি টিপাইমুখ বিরোধী আন্দোলনে মনোনিবেশ করবে কর্মীরা - তা তাদের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। একটা বড়দলের জন্যে দ্রুত কর্মসূচী আর লক্ষ্যবদল কো ভাবেই মংগলজনক নয়।

(৩)

সব শেষে যাদের কথা বলা দরকার তারা হলো সুশীল সমাজ। গত কয়েকদিন যাবত বাংলা টিভি আর পত্রিকাগুলোতে নজর রেখে যা বুঝলাম সুশীলদের একদল ঢাকা সিটিকে ভাগ করার বিপক্ষে। এরা রীতিমত আর্তনাদ করছে - কিন্তু কেন এই আর্তনাদ - তা বুঝতে অপরাগ হলাম। এই আর্তনাদতকারী সুশীলদের মধ্যে তিনজনের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করার মতো - প্রথম জন হলেন আসিফ নজরুল। উনি ইদানিং সবকিছুতে ষড়যন্ত্রের গন্ধ খুঁজে পানে। নিজামী ভাল মানুষ - তাকে কেন জেলে রাখা হবে সেই সমালোচনা থেকে ঢাকা ভাগ করাকেও উনি ষড়যন্ত্র হিসাবে দেখছেন। কিন্তু তার পিছনে তথ্য বা যুক্তি কি - তা বলার প্রয়োজন মনে করেন না। কারন সুশীলরা মনে করে জনগন উনাদের সকল ভাবনার দায়িত্ব দিয়ে দিয়েছে - সুতরাং জনগন কি বললো তাতে কিছু এসে যায় না। ঢাকার বাসিন্দারা কি এই ভাগাভাগিকে ইতিবাচক ভাবে দেখছে - নাকি নেতিবাচক হিসাবে দেখছেন - নাকি তারা অর্থহীন মনে করছেন - এই বিষয়ে একটা জরিপ করার মতো কোন সুশীল গোষ্ঠী নেই দেশে। সুশীলরা কেবল ক্যামেরার পাগল হয়ে দিনানিপাত করে - যে কোন বিষয়ে উনার মুখ মনে হয় চুলবুল করে - কখন ক্যামেরা অন হবে এই অপেক্ষা করেন - মাইক্রোফোনের চালু হলেই যেন কথা বাঁধ ভেংগে যায়।

আরেকজন হলেন - ড. মোজাফ্ফর আহমেদ। একজন ১/১১ এর নেপথ্যের খেলোয়াড়। যারা ১/১১ এর সুযোগে দেশকে বিরাজনীতিকরন করার পক্ষে কাজ করেছে - উনি তার একজন। কেন রাজনৈতিক নেতারা ক্ষমতা ছাড়ে না তা নিয়ে উনাকে অনেক আক্ষেপ করতে শুনা গেছে - কিন্তু টিআইবি'র চেয়ারম্যানের পদে না থেকে সব সময় মাইকক্রোফেনের কাছে থাকেন এবং সব বিষয়ে কথা বলেন। এখনকার চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল - কথাটা হয়তো মিডিয়ার লোকজনের মনে থাকে না - কারন মোজাফ্ফর সাহেব সব সময় দৃশ্যমান থাকেন। উনি অত্যান্ত আবেগের সাথে ঢাকা ভাগের বিরোধীতা করলেন - কিন্তু তার পিছনে যুক্তি বা তথ্যগত কোন যোগাযোগ নেই। ভাবে সাবে মনে হচ্ছে উনি একজন বিরাট কিছু - যার কথা শুনতে সবাই বাধ্য।


তৃতীয় জন হলো সৈয়দ আবুল মাকুসদ। এমন কোন বিষয় নেই যার উপরে উনার মতামত নেই। রোড একসিডেন্ট নিয়ে শহীদ মিনারে ঈদ করার পর এখন ঢাকা ভাগের প্রতিবাদে শহীদ মিনারে মোমবাতি জ্বালানোর কর্মসূচীতে উনি আছেন। লর্ড ভানু বন্দোপাধ্যায়ের সর্ববিষয়ে জ্ঞানদানের ক্ষমতার পর জবাব মাকসুদ এই একই ক্ষমতা পেয়েছেন। খুবই বিদগ্ধ ব্যক্তি - কিন্তু গনতান্ত্রিক রীতিনীতির বিষয়ে উনাদের কোন আগ্রহ নেই। উনার যদি জাতীয় পর্যায়ে সুশীল না হয়ে স্থানীয় পর্যায়ে একজন এমপিকে দিয়ে সংসদে নিজেদের কথাগুলো বলানো চেষ্টা করতে তা হতো অধিক গনতান্ত্রিক। সোজা হিসাব - একটা ইস্যুতে এমপিকে গিয়ে বলতে হবে আপনার এলাকার জনগন ঢাকা ভাগের বিপক্ষে - আপনি সংসদে এইভাবে যুক্তি দেবেন যেন ঢাকা ভাগ না হয় - বিফলে আগামী নির্বাচনে আমরা আপনার বিরুদ্ধে কাজ করবো - যদি আপনি প্রমান করতে পারেন সেই এলাকার অধিকাংশ মানুষ আপনার পক্ষে - দেখুন কিভাবে এমপিরা কথা বলে। কিন্তু উনারা গনতন্ত্রের কথা বলেন - কিন্তু সরকার আর বিরোধীদলের কোন্দলের সুবাদে নিজেরা জাতির বিবেক সেজে বসেন। কণও কোন সুশীল বিরোধী দলের সংসদে যাওয়া নিয়ে কথা বলেন না - বা সরকারকে সংসদ কার্যকর করার জন্যে চাপ দেন না - বরঞ্চ উনারা সমানতালে জ্ঞান বিতরন করেন আর রাজনীতি খারাপ আর রাজনীতিবিদরা নষ্ট থিয়োরী প্রচার করে জনগনের দৃষ্টি নিজেদের দিকে আবন্ধ রাখার প্রচেষ্টায় লিপ্ত থাকেন।

মুল কথা হলো - বাংলাদেশে যে কিসিমের গনতন্ত্র চর্চা হচ্ছে তার একটা নমুনা হলো ঢাকা ভাগের পুরো ঘটনা। সরকার নিজেরাই জনগনের হর্তাকর্তা সেজে একক ভাবে বিল পাশ করালো - সেখানে ঢাক নগরীর এমপিদের জনমন যাচাইয়ের জন্যে কোন গনসংযোগ ( যা কানাডায় টাউনহল মিটিং বলা হয়) করার কোন খবর দেখা গেলো না। দেখেশুনে মনে হচ্ছে সংসদে হলো গাছের উঁচু ডালের মতো - নির্বাচনের মাধ্যমে সেখানে একবার উঠে গেলে আর নীচে নামা সম্ভব হয় না তাই বিরোধীদল আন্দোলনের নামে গাছ ঝাঁকায় - যদি টুপ করে ওরা পড়ে যায় - তাইলে কেল্লাফতে। আর বিরোধী দল ধরেই নিয়েছে - যেহেতু ওরা ক্ষমতায় যেতে পারেনি - তাদের আন্দোলন বা নির্বাচন করে ক্ষমতায় যাওয়া ছাড়া কোন কাজ নেই। সবকিছুতে না বলাই হয়তো বিরোধীদলের একমাত্র কর্মসূচীও বটে। এরাও যে জনমত যাচাই করে তার অনুসারে পদক্ষেপ নিতো পারতো বা কমপক্ষে সংসদে গিয়ে গনতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুসারে বিরোধীতা করতে পারতো - তাও করেনি। ঘরে বসে গভীর রাতে মিটিং করে হরতাল চাপিয়ে দিয়ে বরঞ্চ এরাও জনগনের জন্যে সমস্যাই তৈরী করলো।

সবশেষে সুশীল নামক তৃতীয়ধারার চর্চাকারীরা আবার একটা সংগঠন করেছে - এরা নিজেরা নিজেদের জনগনের বিবেক হিসাবে ঘোষনা দিয়ে মুলত জনগনের মেধা আর প্রজ্ঞাকে অবজ্ঞা করে মিডিয়ার ব্যবসার সুবাদে নিজেদের মতামত জনগনের উপর চাপিয়ে দেবার চেষ্টা রাত জেগে টিভি ক্যামেরার সামনে কথাবলে। বিবাদমান দুইটি রাজনৈতিক ধারার সহহশীলতার সুযোগে এরা সাময়িক সাফল্য পেলেও - মুলত এই পরজীবি শ্রেনী যে জনগন এবং গনতন্ত্রের শত্রু - এই বিষয়টা বাংলাদেশের সাধারন মানুষ বুঝে - আর বুঝে বলেই দুই বছর চেষ্টা করেও সুশীল মেজর জেনারেল ইব্রাহিম রাজনৈতিক দল করে তার নিজেও জামানতও হারিয়েছে।

দেশের হাজারো সমস্যার সমাধানে একটা সুষ্ঠ গনতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিকল্প নেই। আর তার জন্যে দরকার সংসদীয় রীতিনীতির আলোকে রাজনীতিকে নতুন ভাবে চিন্তা করা। রাস্তায় মিছিল মিটিং আর আন্দোলন করে গনতন্ত্র শক্তিশালী হয় না - মধ্যের থেকে দুধ মাখা ভাতে কাকের নজর পড়ে। সরকারী দল আর বিরোধীদল যতদ্রুত বঝতে পারবে যে - গনতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুসরনই স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত এবং যা উন্নয়নের মুলভিত্তি - ততই ভাল। এতে ক্ষমতালোভী তৃতীয়শক্তি আর উত্তরপাড়ার খবরদারী থেকে দেশে মুক্তও হবে।

(একই সাথে সদালপে প্রকাশিত) ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29493966 http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29493966 2011-12-01 08:21:11
মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের সাধারন ক্ষমা নিয়ে একজন আইনজীবির মিথ্যাচার এবং প্রকৃত ঘটনা
বাংলাভিশনের এক টক শোতে সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি বলছেন – শেখ মুজিব যুদ্ধপরাধীদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। যারা বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কে সামান্য জানেন তারা কথাটা যে কত বড় মিথ্যাচার তা স্বীকার করবেন। জামায়াতের নেতাদের রক্ষার জন্যে খন্দকার মাহবুব হোসেনের কেন এই মিথ্যাচার?

আসল ঘটনা কি ঘটেছিলো বঙ্গবন্ধুর “সাধারন ক্ষমা”য়?

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ যখন পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মরনপণ সংগ্রামে লিপ্ত – তখন “ জামায়াত এবং তার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘ” একটা সংগঠন হিসাবে নীতিগত কারনে সেই মুক্তির সংগ্রামের শুধু রাজনৈতিক ভাবে বিরোধীতিই করেনি – রাজাকার, আল-বদর, আলশাসম বাহিনী তৈরী করে সক্রিয় ভাবে পাকহানাদারদের হত্যা, ধর্ষন, লটপাট এবং অগ্নিসংযোগে সহায়তা করেছে। দেশের মানুষ যখন মুক্তি আশায় অসহনীয় কঠিন সময় পাড়ি দিচ্ছিল – তখন জামাত একটা সংগঠন হিসাবে তাবেদার মন্ত্রী সভায় গিয়েছে, পাতানো নির্বাচনের অংশগ্রহন করেছে। এর সবই প্রমান মিলে তাদের পত্রিকা “দৈনিক সংগ্রাম”এর ১৯৭১ সালের সংখ্যাগুলোতে।

এরই প্রেক্ষিতে স্বাধীনতার পর জামাতসহ স্বাধীনতা বিরোধী দলগুলোর রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। স্বাধীনতার পরপরই জামাতের অনেক নেতাকর্মী জেলে যায়, অনেকে পালিয়ে বিদেশে অবস্থান নেয়। বিদেশে থাকা জামাত নেতারা সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। যতদিন না দেশে তাদের জন্যে অনুকূল পরিবেশ তৈরী হয় – ততদিন তারা বিদেশে বসে বাংলাদেশ বিরোধী কার্যক্রম চালাতে থাকে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ ১৯৭৫ সালের হত্যাকান্ড পর্যন্ত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া থেকে বিরত থাকে।

তারপর সামরিক শাসক মে: জে: জিয়াউর রহমানের সাথে আঁতাত করে এরা দেশে ফিরে আসে। তখন থেকেই প্রচার শুরু হয় বঙ্গবন্ধু এদের ক্ষমা করে দিয়েছে। এটা একটা বিরাট ভুল ও প্রপাগান্ডা। সাধারন ক্ষমার আওতায় মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী সাধারন কর্মীদের ক্ষমা করা হয় – যাতে এরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। কিন্তু সাধারন ক্ষমার আওতায় সেই ৩৪ হাজার ৬০০ রাজাকার, মুসলিমলীগ কর্মী, জামাত কর্মীদের ক্ষমা করা হলেও তাদের পুরানো বিশ্বাসের রাজনীতি করা অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি। তাদের সেই অধিকার ফিরে পাবার জন্যে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে।

অনেকের কাছে প্রশ্ন যে স্বাধীনতার পরপরই কেন বিচার করা হলো না। এই প্রশ্ন আসার কারন হলো দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক শাসকরা আমাদের ইতিহাস বিকৃতি করেছে এবং অনেক কিছু গোপন করে রেখেছিলো। ফলে একটা প্রজন্মের কাছে অনেক কথাই অষ্পষ্ট থেকেছে। এখানে ষ্পষ্ট করা দরকার যে - স্বাধীনতার পরপরই Bangladesh Collaborators (Special Tribunals) Order, 1972 (P.O. No. 8 of 1972), এর আওতায় বিচার কাজ শুরু হয় - সেই বিচারের পরিসংখ্যান হলো -

১৯৭২-১৯৭৫ সাল পর্যন্ত আটক হয় - ৩৭ হাজার ৪ শত ৯১ জন

ট্রাইবুনাল গঠিত হয়- ৭৩ টি ( সারা বাংলাদেশে )

১৯৭৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত উক্ত ট্রাইবুনাল গুলোতে দায়ের করা মামলার মধ্যে নিষ্পত্তি হয় মোট ২ হাজার ৮ শত ৪৮ টি মামলা ।

দোষী প্রমাণিত হয় - মোট ৭৫২ জন

মামলায় খালাশ পায় - ২ হাজার ৯৬ জন ।

আইনগত ব্যাবস্থায় দ্রুততা আনার জন্য সে সময় ৭৩ টি ট্রাইবুনালের ব্যাবস্থা করা হলেও প্রতিদিন ৩-৪ টির বেশী মামলা নিষ্পত্তি সম্ভব হয়নি এবং মাসে যার পরিমাণ ছিলো ১৩০ টির মত মামলা ।

পরে জেনারেল জিয়া ক্ষমতায় এসে সামরিক ফরমানে আইনটি বাতিল করেন - যা ৫ম সংশোধনীর সুবাদে সংবিধানের অংশ হয়ে যায়।

Click This Link

এখানে উল্লেখ্য যে, সাধারন ক্ষমা ঘোষনায় সুস্পষ্ঠ ভাবে উল্লেখ ছিল যে,

“এই আদেশ বলে দন্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা), ৩০৪ ধারা (হত্যার চেষ্টা), ৩৭৬ ধারা (ধর্ষন), ৪৩৫ ধারা (অগ্নিসংযোগ অথবা বিস্ফোরক দ্বারা ক্ষতি সাধন) ৪৩৬ ধারা (বাড়িঘর ধ্বংসের অভিপ্রায়ে অগ্নিসংযোগ বা বিস্ফোরক দ্রব্য দ্বারা অপকর্মের চেষ্টা) মোতাবেক অভিযুক্ত বা দন্ডিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ১নং অনুচ্ছেদ মোতাবেক ক্ষমা প্রদর্শন প্রযোজ্য হইবে না”

এখানে যেমন ঢালাও ভাবে ক্ষমা করা হযনি – তেমনি বঙ্গবন্ধুর নিহত হবার সময়েও অনেক অপরাধীর বিচার চলছিলো। ১৯৭৫ সালের ডিসেম্বর মাসে সামরিক আদেশে সেই বিচার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান নির্বাহী আদেশ দন্ডপ্রাপ্তদের জেল থেকে মুক্তি দেন।

এরপর পঞ্চম সংশোধনীর সুবাদে জামায়াতসহ মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হয়। আজ দেখি বিএনপির নীতিনির্ধারকগন জামায়াতের পক্ষে উকালতি করতে কোর্টে যাচ্ছেন। বিএনপির প্রধান আদালতের রায়ের আগেই জামায়াতের নেতাদের নিষ্পাপ হিসাবে ঘোষনা দিচ্ছেন।

খুবই দুঃখজনক এবং লজ্জার কথা যে স্বাধীন দেশের টিভিতে বসে পরাজিত শক্তির পক্ষে দেশের সর্বোচ্চ আইনজীবি ফোরামের নেতা অবলীলায় মিথ্যাচার করছেন ইতিহাস নিয়ে – যে ইতিহাসের সাথে ৩০ লক্ষ মানব সন্তানের মৃত্যু আর ৩ লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রম জড়িত।

(সদালাপ ডট অর্গ এ প্রকাশিত)

এই পোস্টের সম্পুরক তথ্যাবলীর জন্যে দেখুন - (নিঝুম মজুমদারের পোস্ট) Click This Link ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29488034 http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29488034 2011-11-22 10:47:53
জামাত-শিবিরের কর্মীদের স্বাধীন বাংলাদেশে বেঁচে থাকা নিরর্থক.... কথাটা আমার না। কথাটা জামাতের গুরু কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী গোলাম আজমের করা একটা উক্তি। কথাটা বলা হচ্ছে সেই সকল জামাত শিবিরের কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে - যারা নানান ভাবে যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিপক্ষে প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে। যারা জামাত-শিবিরের কর্মী সমর্থক - এরা কিসের জন্যে তাদের নেতাদের সমর্থন করে দিনরাত তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করছেন?

জামাত-শিবির আসলে কোন আদর্শের রাজনীতি করে। এরা মুখে ইসলামের কথা বললেও যখন কার্যক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশাবলীর খুব কমই গুরুত্ব দেয়। উদাহরন হিসাবে ১৯৭১ সালে মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যণ্ত পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী যখন নিরস্ত্র মানুষের উপর ঝাপিয়ে পড়লো - যখন নির্বিচারে মানুষ মারলো - মা বোনকে ধর্ষন করলো - বাড়ী ঘরে আগুন দিয়ে অনাসৃষ্টি করলো - তখন মজলুম কারা ছিলো? বাংলাদেশের সাধারন মানুষ তখন মজলুম ছিলো। ইসলামের বিধান হলো মজলুমের পক্ষে থাকা। জামায়ত-আর তার সহযোগী ছাত্র সংঘ (যা পরে শিবির নামে জন্ম নিয়েছে) জালেমের পক্ষ নিলো - যা সরাসরি ইসলামের শিক্ষা অবস্থান। তখন তাদের কাছে একট ভুখন্ড আর ক্ষমতা আল্লাহর বিধানের চেয়ে বেশী লোভনীয় হয়ে গিয়েছিলো। জামায়াত আর ছাত্র সংঘের নেতারা প্রকাশ্যে গনহত্যার সমর্থন করেছে - নিজেদের কর্মীদের দিয়ে রাজাকার আলবদর বাহিনী বানিয়ে গনহত্যা আর ধর্ষনে সহায়তা করেছে। তারপর ৪০ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে - কিন্তু এরা ওদের এই জঘন্য কাজের জন্যে সামান্যতম লজ্জিতও হয়নি - ক্ষমা চাওয়াতো দুরের কথা। এরা সুযোগ মতো আবারো বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর স্বপ্নে বিভোর।

এখন সময় এসেছে - তাদের হিসাব মেলানো।

ইতিহাস বলে - ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্মের পর জামায়াত/ছাত্র সংঘের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু যুদ্ধাপরাধীরা আবার সংঘঠিত হয়েছে সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের ক্ষমতার লোভী রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সুবাদে। এরপর সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়ার বদৌলতে এরা স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার স্বাদও পেয়েছে। তখনও কি এরা ইসলামের কোন বিধান নিয়ে ভেবেছে। ১৯৭১ সালের ছাত্র সংঘের নেতা মুজাহিদ (আলবদর বাহিনীরও নেতা) সমাজকল্যান মন্ত্রী হলেও তার মন্ত্রনালয়ের অধীনে যৌনপল্লীর ব্যবসা চলেছে যথারীতি বৈধ ভাবে - না যৌনপল্লীগুলো পূর্নবাসনের চেস্টা করেছে - না তা বন্ধ করার চেষ্ঠা করেছে। কিন্তু নিজের জন্যে উত্তরায় জমি বরান্ধ নিতে ভুল করেনি।

আজ যারা এই নরপিচাশদের বাঁচানোর জন্যে মায়াকান্না করছেন তাদের জন্যে বলি -

১৯৭১ সালে গোলাম আজম ঘোষনা করেছিলো -



"পাকিস্তান যদি না থাকে জামায়াত কর্মীরা পৃথিবীতে বেঁচে থাকার স্বার্থকতা মনে করে না" (২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ - দৈনিক সংগ্রাম)


আর নিজামী আরো এক ধাপ এগিয়ে বলেছিলো - "পাকিস্তান আল্লাহর ঘর" (১৭ নভেম্বর ১৯৭১ দৈনিক সংগ্রাম)


এখন আপনারই নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন - পাকিস্থানপ্রেমী এই গুটিকয়েক ব্যক্তিকে বাঁচানোর জন্যে যারা এখনও স্বাধীন বাংলাদেশে বাস করছেন - জীবন যাপন করছেন - তারা আসলে কি নিজের সাথে প্রতারনা করছেন না? যারা এখন জামায়াতে নেতাদের বাঁচানোর জন্যে আহাজারি করছেন - তারা কি এবারও জিজ্ঞাসা করেছেন যে - জামায়াতের নেতারা ১৯৭১ সালে যে আদর্শের জন্যে বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে পাকহানাদার বাহিনীর দোসর হয়েছিলো - তা থেকে তারা কি সরে এসেছে? তারা কি তাদের ১৯৭১ এর ভুমিকার জন্যে লজ্জিত?

এরা মোটেও লজ্জিত বা দু:খিত না। বরঞ্চ এরা এখনও তাদের কর্মকে রাজনৈতিক অবস্থান হিসাবে বুঝানো চেষ্টা করছে। আর কর্মীদের বিভ্রান্ত করার জন্যে নানান ইস্যুতে বিতর্ক তৈরী করে। কিন্তু ১৯৭১ বাংলাদেশের অস্থিত্বের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭১ বিষয়ে সবার সুষ্পষ্ঠ অবস্থান থাকতে হবে। কেউ যদি চেষ্টা করে ১৯৭১ এর ইতিহাসকে এড়িয়ে - ইসলামের কথা বলে বাংলাদেশে টিকে থাকবে - ক্ষমতা গিয়ে নিজেদেরকে মহান বানাবে - তা হবে ভুল - কারন ইতিহাস লুকানোর যুগ শেষ - এখনকার তরুন প্রজন্ম সত্যটি জানতে চায় - এবং জামাত শিবিরের কর্মীদেকেও সত্যিটা জানতে হবে। মিথ্যার বেড়াজালে নিজেদের লুকিয়ে রেখে স্বাধীন বাংলাদেশে বসবাস করা মুলত নিজের সাথে প্রতারনাই করা হবে। হয় তাদের স্বাধীন বাংলাদেশকে মানতে হবে সঠিক ইতিহাস সহ - মুক্তিযোদ্ধাদের সন্মানিত স্থানে বসাতে হবে - রাজাকার-আলবদরদের নর্দমায় ফেলে দিতে হবে - নতুবা যেই দেশের জন্যে তাদের অগ্রজরা জালেমের পক্ষে ছিলো - সেই পাকিস্তানে চলে গেলে ভাল হবে।


(সূত্র - মুক্তিযুদ্ধে দৈনিক সংগ্রামের ভুমিকা - আলী আকবর টাবী - প্রকাশ ফেব্রুয়ারী ১৯৯২) ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29484915 http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29484915 2011-11-17 09:32:21
কি হয়েছিলো ২৮ শে অক্টোবর?
প্রায় একই রকম একটা দৃশ্য দেখেছিলাম কয়েক বছর আগে। যেই দৃশ্যের বর্ণনা আছে মনিকা আলীর “ব্রীকলেইন” নামক উপন্যাসে। সেখানে পাঁচজন ছিনতাইকারীকে তিনটা মোটর সাইকেল সহ মতিঝিলি ধরে ফেলা হয়। পরে ওদের পিটিয়ে মেরে মোটর সাইকেল সহ আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। দৃশ্যটা উপভোগ করে হাজার হাজার মানুষ। অন্যদিকে প্রতিদিন RAB নাম একটা ঘাতক বাহিনী বিনাবিচারে মানুষহত্যার একটা গল্পের পুনরাবৃত্তিসহ খবর মানুষ বেশ আনন্দের সাথে পড়ে। সেখানে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে পিটিয়ে মারাটা কি বিশেষ কোন সামাজিক বিকৃতির নিদর্শন কিনা সেটা সমাজবিজ্ঞানীরাই ভাল বলতে পারবেন।

তবে একজন সাধারন মানুষ হিসাবে কিছু প্রশ্নের উত্তর পাবার আশায় অপেক্ষায় আছি। ২৬ তারিখে যখন জলিল-ভুইয়া সংলাপ ব্যর্থ হয় তখন ১৪ দল বিক্ষোভ কর্মসূচী ঘোষনা করে। পাল্টা কর্মসূচী হিসাবে সমাবেশের ঘোষনা দেয় সেদিনের সরকারী জোট। কিন্তু পরের দিনের দৃশ্যে কিছু অসংগতি লক্ষ্য করা যায় -

১) জামাত-বিএনপি জোটের বড় শরীক বিএনপিকে কার্যত মাঠে দেখা যায়নি। শুধু মাত্র জামাত তাদের সর্বশক্তি নিয়োগকরে বাইতুল মোকাররম এবং পল্টন এলাকা দখল রাখতে। সেখানে জামাতের নেতাদের কর্মীদের শহীদ অথবা গাজী হবার আহ্বান জানানোর মতো দৃশ্য দেখা যায়। ২) ১৪ দলের কর্মসূচির মূল কেন্ত্র বংগবন্ধু এভিনিউ এবং মুক্তাংগন আর পল্টনের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টিকারী ডিভিইডারগুলি কে সরিয়ে নিলো। হঠাৎ করে পুলিশইবা উধাও হলো কেন? ৩) দীর্ঘ চার ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলাকালে মানুষের জীবন থেকে পল্টনের দখল রক্ষাই পুলিশের মুল কাজ হলো কিভাবে? ৪) ফখরুদ্দিন সরকারের উপদেষ্টা ও তৎকালীন ডিআইজি আনোয়ারুল ইকবাল যখন পুলিশের মানুষের জীবন রক্ষায় বর্থ্যতার কারনে যখন সংশ্লিষ্টদের শোকজ করেন তখন কেন তাকে ডিআইজি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো?আরো দশটা রাজনৈতিক হত্যাকান্ডে মতো হয়তো এই হত্যাকান্ডগুলোও বিনা বিচারে হারিয়ে যাবে। কিন্তু “লগিবৈঠার” এই তান্ডব আর যেই ভুলুক না কেন, জামাত-শিবির দুস্বপ্নের মতো দীর্ঘদিন মনে রাখবে। একদিকে নেতাদের শহীদ বা গাজী হওয়ার আহ্বান - অন্যদিকে বিরোধী কর্মীদের লগি-বৈঠা। তারমধ্যে অনেকে শহীদ হয়ে বেহেস্ত নিশ্চিত করতে পেরেছেন কিনা বলা যাচ্ছে না কিন্তু বিএনপি-জামাতের রাজনৈতিক কৌশলকে একটা বুষ্ট দিতে স্বক্ষম হয়েছে বটে। যার ফলে দূর্নীতির বিষয়টাকে বেশ কিছুদিন লগিবৈঠা দিয়ে মানুষের চোখের আড়ালে পাঠাতে স্বক্ষম হয়েছিলেন - যদিও শেষ রক্ষা হলো না।

দু:খজনক হলো - এখনও দেখছি কিছু মানুষ সুযোগ পেলেই সেই বিষয়টাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন - এটা ঠিক না।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29473602 http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29473602 2011-10-28 08:25:03
জামাতের শক্তি এবং প্রাসংগিক কিছু কথা

অধ্যাপক আবুল বারাকাতের গবেষনাপত্রের থেকে বিশেষ কয়েকটি বিষয় তুলে ধরা হলো:-


১) মৌলবাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হলো “একটা অর্থনীতির ভিতরে আরেকটা অর্থনীতি”।"

২) এই অর্থনীতির মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রচলিত অর্থণীতিকে প্রতিস্থাপন করে মৌলবাদী মতাদর্শের আলোকে একটা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু করা।

৩) মৌলবাদের অর্থনীতি এনজিও থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা পর্যন্ত চালু করেছে।

৪) এই অর্থনীতির মোট পরিমান প্রায় ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

৫) এই ২০০ মিলিয়ন ডলারে থেকে যা লাভ হয় তার ১০% ব্যয় করা হয় রাজনৈতিক কর্মকান্ডে। যা বর্তমান অবস্থায় ৫ লক্ষ রাজনৈতিক কর্মীর বেতন ভাতার জন্যে যথেষ্ঠ।

৬) এরা সরকার এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন পদগুলিতে তাদের অনুসারীদের বসিয়ে তাদের মতো করে সরকারের সিদ্ধান্তগুলো তৈরী করে।

৭) মৌলবাদীদের নিয়ন্ত্রনে আছে উন্নয়ন বাজেটের ৬% এবং রপ্তানী আয়ের ৪% ।

৮) দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি যেখানে ছিল ৪%-৫% সেখানে মৌলবাদের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৭.৫%-৯%।



- এখন অধ্যাপক আবুল বারাকাত সরকারের লোক - একটা ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং সরকারের নীতিনিধারনের সাথে জড়িত। আমরা জানি রাজনীতির মুল নিয়ামক হচ্ছে অর্থনীতি। মৌলবাদীরা একটা সমান্তরাল অর্থনীতি তৈরী করে দেশে নিজেদের অবস্থান সংহত করেছে। কিন্তু এই মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে মৌলবাদের অর্থনীতিকে ডিসমেন্টাল করার কোন পদক্ষেপ দৃশ্যত গ্রহন করেছে কি?

এ ছাড়াও দেখি মৌলবাদী বিশেষ করে স্বাধীনতা বিরোধী জামাতের মিডিয়া একটা সংহত অবস্থানে আছে। যদিও এরা বানিজ্যিক কারনে এখন তাদের নিজেদের এজেন্ডা থেকে সরিয়ে রেখেছে - কিন্তু প্রতিকুল পরিবেশে এই মিডিয়াগুলোই বিষাক্ত ছোবল দেবে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে। দু;খজনক হলেও সত্য - মুক্তবুদ্ধির লোকজনই জামাতি মিডিয়াকে শক্তিশালী ও গ্রহনযোগ্য করে তুলছে তাতে নিয়মিত অংশগ্রহনের মাধ্যমে - এমনকি মন্ত্রীকেও দেখা যাচ্ছে - জামাতি টিভির জন্মদিনের কেক কাটতে।

উপরে বিষয়গুলো বলার কারন হলো - জামাতে শক্তি কতটুকু তার বলার পটভূমিকা তৈরী করা। দীর্ঘ চল্লিশ বছরে জামাতে ধীরে ধীরে তাদের অবস্থ্ন তৈরী করেছে। এরা সবচেয়ে বেশী যে স্কীলটা অর্জন করতে পেরেছে তা হলো - কিভাবে টিকে থাকতে হবে।

এই সরকার আসার পর পর এরা একটা শক্তির মহড়া দিয়েছিলো রাজশাহীতে এবং তা পুরো ব্যর্থ হয়েছে। এখন এরা টিকে থাকার জন্যে ডিফেন্সিভ মুডে আছে। কিন্তু জামাতের রাজনৈতিক উইং ছাড়া বাকীগুল সবই সক্রিয়। এরা তাদের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশ-বিদেশ থেকে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করে ফুল টাইম রাজনৈতিক কর্মী পুষছে। তাদের বেতন ভাতা দিয়ে রেখেছে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্টানে ছাত্রলীগের সাথে সহবস্থানের নীতিতে এরা কাজ করছে।


এইটা পরিষ্কার যে - জামাত গত চল্লিশ বছর যে পরিমান ইনভেস্ট করেছে - রিটার্ন তার তুলনায় তুচ্ছ - কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশের সকল মূল্যবোধকে চ্যালেঞ্জ করে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার মতো শক্তি এরা অর্জন করতে পেরেছে - এইটাই ওদের সাফল্য। এই সাফল্যের পিছেন জেনারেল জিয়া এবং জেনারেল এরশাদের অবদান অনেক। এই দুই জেনারেল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লুকিয়ে এবং বিকৃত করে ওদের জন্যে জমি তৈরী করেছে এবং ফসলটা উঠিয়েছে জামাত। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্টানগুলোতে দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রদের টার্গেট করে বিকৃত ইতিহাসের পাঠ দিয়ে এরা দল ভারী করেছে। যার ফলে আগামী একটা প্রজন্ম ওদের টিকে থাকা সহজ হয়েছে।

প্রশ্ন হলো জামাত কি এতোটা শক্তি রাখে যা দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি বদলে দিতে পারবে? এরা কি কখনও একক ভাবে ক্ষমতায় গিয়ে দেশে তাদের মতার্দশ চালু করতে পারবে।

উত্তরটা আপাতত হবে - না। কারন নির্বাচনে জয়ী হয়ে এদের পক্ষে আপাতত ক্ষমতায় যাওয়া হবে না। কিন্তু এদের যে সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক আছে তা যে কোন সময় বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

এই প্রসংগে একটা উদাহরন দেওয়া যেতে পারে। হরকতুল জেহাদ নামের যে সংগঠন বাংলাদেশে একসময় ভয়ংকর হয়ে উঠেছিলো - তার জন্ম বংগবন্ধুর বাড়ীর কাছেই গহরডাংগা মাদ্রাসায়। সেখানকার মুসলমানরা সংখ্যা লঘু এবং কখনই নির্বাচনে তাদের মনে মতো লোককে বিতিয়ে আনতে পারে না। গোপালগঞ্জের সেই অংশ একদল মানুষ প্রচন্ডভাবে আওয়ামীবিদ্বেষী - এক সময় এরা মুসলিমলীগ করতো। পরে কেউ বিএনপি বা জাতীয়পার্টি করে। তাদের মধ্যে একদল পারিবারিক ভাবে মুক্তিযুদ্ধে রাজাকার হয়ে একটা মিলিট্যন্ট দল গঠন করে। এই হরকতুল জেহাদ হয়তো গোপালগঞ্জেই সীমাবন্ধ থাকতো যদিনা জোট সরকারের সময় রাস্ট্রীয় ভাবে এদের প‌্যাট্রনাইজড করা হতো। তৎকালীন সরকারের উপরের মহলে প্রত্যক্ষ সহায়তায় এরা ২১ আগষ্টের মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটনাতে পেরেছে।

সেই বিবেচনায় জামাতও হয়ে উঠতে পারে ভয়াবহ একটা শক্তি। আর তা হওয়ার জন্যে প্রয়োজনীয় ইন্ধন আসতে পারে উত্তরপাড়ার কোন অংশ থেকে - কোন একটা রাজনৈতিক শক্তি থেকে বা সিভিল সোসাইটি থেকে। জামাতে হরকতুর জেহাদের চেয়ে শতগুন বেশী শক্তি রাখে - আর এরা যদি হরকতুল জেহাদের পথে যায় - তার পরিনাম হবে ভায়বহ - পকিস্তানের দিকে তাকালে যার কিছুটা অনুমান করা যেতে পারে। বাইরে শক্তির ইন্ধন ছাড়াও একটা মৌলবাদী দলের সতস্যদের হতাশার কারনেও এরা জংগী হয়ে উঠতে পারে - যার উদাহরন হলো বাংলা ভাইগোষ্ঠী। বাংলাভাইএর জেএমবি মুলত জামাতের থেকে বেড়িয়ে আসা একটা অংশ - যারা জামাতের ফ্লিপ-ফ্লপ নীতিকে পছন্দ করেনি।

এখন তাহলে করনীয় কি?

এখন মুলত বাংলাদেশের রাজনীতিকে দিনের সাথে তুলনা করলে - এরা অপেক্ষা করছে রাতের আধাঁরের - রাতের আঁধারে কাল-সাপ বেড়িয়ে আসবে তার অপেক্ষা না করে - যেহেতু সাপের গর্তগুলো পরিচিত - দিনেই এদের বের করে আনা দরকার - মেরে না ফেললেও এদের বিষদাঁত ভেংগে ফেলা জরুরী। তাই -

১) জামাতের অর্থনৈতিক মেরুদন্ডটাকে ভেংগে দেওয়া হলো জরুরী। ইসলামী ব্যাংকের নামে ধাপ্পাবাজি বন্ধ করে - ইসলাম নিয়ে ব্যাংকে নাম বাতিল করা।

২) জামাতের প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা পদ্ধতি ও নিয়োগ পদ্ধতি রিভিউও করে তা সাধারনের জন্য উন্মুক্ত করা।

৩) শিবিরে কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ করে দেওয়া।

৪) শহরে শিবিরের যে সকল মেস আছে তা তদারকীতে আনা।

৪) জামাতের মিডিয়া - বিশেষ করে দিগন্ত টিভি জনগনের কাছে গ্রহনযোগ্যতা কমানোর জন্যে মিডিয়া কর্মী, অভিনেতা - অভিনেত্রী এবং বুদ্ধিজীবিদের সেই প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্টতা ছিন্ন করা। বিজ্ঞাপন দাতাদেরও এই মিডিয়াতে বিজ্ঞাপন বন্ধ করা। দর্শকদেরও দিগন্ত টিভি বর্জন করা।

৫) সামান্য পয়সার জন্যে নয়া দিগন্তের মতো পত্রিকায় লেখার লোভ সামলানো জরুরী।

তা ছাড়া মুক্তিযুদ্ধে জামাতের ভুমিকা এবং তাদের সৃষ্ট আলবদর, রাজাকার, আল শামসের ভুমিকা জনগনের কাছে সুষ্পষ্ট ভাবে তুলে ধরা। এবং জনমনে জামাতকে তাদের ৭১ এ হিংস্র চেহারটা দেখানো।

বাংলাদেশে আজকে যারা মহাজোট সরকারে কারনে একটা সাময়িক স্থিতি অবস্থা দেখে জামাতকে ভুলে থাকার চেষ্টা করছেন - তাদের জেগেউঠা জরুরী। সময়ের এক ফোঁড় হয়তো অসময়ে হাজার ফোড়েঁও কাজ করবে না। কখনই ভুলে যাওয়া যাবে না যে জামাত-শিবির বাংলাদেশের জন্মের শত্রু এবং ৭১ এর কর্মকান্ডের জন্যে সামান্যও দু:খিত হয়নি আর জামাতের মিত্ররা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের রাজনীতির আড়ালে বাংলাদেশে মুসলিমলীগের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে এখন তৎপর।

( পোস্টট লেখা হয়েছে একজন লন্ডন থেকে সক্রিয় জামাত কর্মীর জিজ্ঞাসার জবাবে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29442348 http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29442348 2011-09-03 07:16:50
ঘুম থেকে জেগেই শুনি সাকা গ্রেফতার - আর একটা রাজনৈতিক দলের দেউলীয়াত্ব..
যেমন সাপ মারার জন্যে লাঠি দরকার - কুকুরের সাইজ অনুসারে মুগুর দরকার - সাকাদের জন্যে ঠিক তেমনি দরকার একটা কঠিন পদক্ষেপ। সরকারকে ধন্যবাদ - সাকার মতো একটা পশুকে বিচারের কাঠগড়ার উঠানোর ব্যবস্থা করার জন্যে।

এখানে একটা কথা ভুলে গেলে চলবে না - আমরা বিচার চাইছি - কিন্তু সাকারা খুন করেছে - বিনা বিচারে - শুধু মাত্র মতাদর্শগত বিভেদের জন্যে - বিশ্বাসের পার্থক্যকে এরা জিঘাংসায় পরিনত করে নরহত্যা করেছে।

নরহত্যাকারী আর বিপর্যয় সৃষ্টিকারী এই নরপশুদের বিচার চাইছি আমরা।

(২)

বিগত নির্বাচনে নতুন ভোটরাদের একটা বড় অংশ যুদ্ধাপরাধী বিচারকে যথেষ্ঠ গুরুত্ব দিয়েছে। কিন্তু বিএনপি তরুন ভোটারদের মতামতকে উপেক্ষা করে সাকার মতো একটা চিহ্নিত রাজাকাকে প্রমোশন দিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য বানিয়েছে। উল্লেখ্য যে সাকাদের মতো রাজাকারদের স্থান বিএনপিতে নির্বিঘ্ন করার জন্যে গত কাউন্সিলে যুদ্ধাপরাধীদের দলে না রাখার বিষয়টি বাতিল করেছে ( যা জিয়াউর রহমান কর্তৃক প্রনীত গঠনতন্ত্রে ছিলো। সে সময় ঘোষনা করা হয়েছে যে দেশে যুদ্ধাপরাধী নেই। যা ছিলো শহীদ পরিবারের প্রতি একটা চরম অপমান। এরা এরা সাকার পক্ষে হরতাল - আন্দোলন করছে। বিএনপির মতো একটা দল না বুঝে এই কাজ করছে তা বলার মতো বোধ হয় একটা বোকা মানুষও বাংলাদেশে পাওয়া যাবে না। জেন শুনে এরা যুদ্ধাপরাধীর পক্ষে এদের অবস্থান নিয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে নতুন প্রজন্ম নিশ্চয় আবারো ভাববে - পরবর্তী নির্বাচনে বিএনপির এই অবস্থানে মূল্যায়নের প্রতিফলন হয়তো আবারো দেখবো।

(৩)

বিএনপি যদিও মুক্তিযুদ্ধা জিয়াউর রহমানের দল হিসাবে নিজেদের উপর একটা ভেড়ার চামড়া চাপিয়ে রেখেছিলো - কিন্তু জন্মল্ন থেকে শাহ আজিজুর রহমান, আব্দুল আলীম বা মাওলানা মান্নানের মতো প্রচুর রাজাকার আর যুদ্ধাপরাধীদের দলে স্থান দিয়েছে - দালাল আইন বাতিল করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার থেকে রক্ষা করেছে - যখন ১১ হাজার যুদ্ধাপরাধীর বিচার চলছিলো - সেই সময় অবৈধ সামরিক শাসক জিয়া সামরিক ফরমানের বলে বিচার কাজই বন্ধ করেনি - রাজনৈতিক বিবেচনার নামে দন্ডপ্রাপ্ত অপরাধীদের জেল থেকে মুক্ত করেছে। গোলাম আজমসহ পলাতক অনেক নরপশুকে দেশে এনে রাজনীতিকে পুর্নবাসনের সুযোগ দিয়েছে।

জিয়ার স্ত্রীও সেই ধারাবাহিতায় সাকাকে দলে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকের পদে বসিয়ে এখন দলকে বিচারপ্রার্থীদের মুখোমুখী করেছেন।

(৪)

বিএনপির রাজাকার রক্ষার বিশনটি একটি মৌলিক বিষয়। মুসলিম লীগের অধুনিক ভার্সান বিএনপি যদিও ভেড়ার চামড়া গায়ে দিয়ে নিজেদের পাকি চেহারা লুকানোর চেষ্টা করছে - কিন্তু অবাধ তথ্যপ্রবাহের যুগে এক টিভি আর এক রেডিওতে প্রপাগান্ডা করে যা সাধারনের উপর চাপিয়ে দেওয়া গেছে - সেই পথ এখন অচল। বিশেষ করে তরুন সমাজের চোখকান এখন খোলা। তাই বিএনপি পাকিপন্থী রাজনীতি এখন একটা কঠিন সময়ের ভিতর দিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি মৌলিক - একটা প্রশ্নটা পরিষ্কার - একটা যুদ্ধাপরাধীকে রক্ষার অস্স্থান গ্রহন করে বিএনপি বাংলাদেশের স্বাধীনতা আর মুক্তিযুদ্ধে অর্জনের মুখে একটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। এই চ্যালেঞ্জের বিএনপি বিজয় মানেই আবার পাকিস্থানের পথ অনুসরন করে মুক্তিযুদ্ধকে গৃহযুদ্ধ হিসাবে বিবেচনা করা। বিচারপ্রার্থীদের মুখে অপমানের সাথে বিচার প্রত্যাখান করা। আর রাজাকার আল-বদরদের রাজত্ব প্রবেশ।

(৫)

বাংলাদেশের মানুষ অতীতেও এই ধরনের মৌলিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। ৭০ দশকে মুসলিমলীগ ইসলাম রক্ষার দোহাই দিয়ে স্বাধিকারে বিপক্ষে দাড়িয়েছিলো। মানুষ মুসলিম লীগকে প্রত্যাখ্যান করেছে - তা মুসলিমলীগ এখন অতীত। তেমনি স্বাধীনতার পর জাসদ বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের নামে একটা অরাজকতার প্রতিষ্টা করতে চেয়েছিলো - জনগন তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

তাই বিএনপির উচিত জনতার মতামতকে মূল্যায়ন করে - দলকে নীতি আদর্শের দেউলীযাত্ব থেকে বের করে আনার জন্যে দলকে রাজাকার মুক্ত করা যাতে নতুন প্রজন্ম সেই দলে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করতে পারে - রাজাকারতন্ত্রকে বর্জন করা - পাকিস্তানের পথ থেকে সরে এসে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের রাঙ্গানো মুক্তিযুদ্ধের পথ অনুসরন করা। শুধুমাত্র আওয়ামী ভুত আর ভারতীয় জুজুর ভয় দেখিয়ে অতীতের মতো নুতন প্রজন্মকে বিএনপির প্রতি অনুগত করার সময় বোধ হয় পেড়িয়ে গেছে। অগ্রসরমান নতুন প্রজন্মকে সত্যে ভিত্তিতেই আকৃষ্ট করা যাবে। আর বিএনপি যদি ৬০ দশকের মুসলীমলীগের পথ অনুসরন করে শুধু আওয়ামীভুত আর ভারতভীতি সাথে ইসলাম গেলো ফর্মূলায় চলে তবে হয়তো বিএনপির অস্থিত্ব হয়তো মুসলিম লীগের মতোই হবে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29292611 http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29292611 2010-12-19 21:33:55
প্রিয় বন্ধৃরা, এখন আর ব্লগিং করি না - নাক তেল দিয়ে ঘুমাই...
যারা সময় নিয়ে পোস্ট পড়ে কমেন্ট করেছেন সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাই। বিশেষ করে পুরোনো ব্লগারদের মদ্যে যারা আমার কথা স্মরন রেখেছেন সবাইকে আবারো শুভেচ্ছা।

একসময় দিবানিশি ব্লগে পড়ে থাকতাম। বিপুল উদ্যোমে ব্লগিঙ করতাম। যারা মনযোগ দিয়ে আমার ব্লগ পড়েছেন - লক্ষকরে থাকবেন - বিশেষ বিশেষ কিছু বিষয়ের উপরই ব্লগিং সীমাবন্ধ থাকতো। বিশেষ করে <img src=" style="border:0;" />br />
১) যুদ্ধাপরাধীর বিচার
২) বাংলাদেশে রাজনৈতিক কারনে ইতিহাস বিকৃতি
৩) বাংলাদেশের মানুষের জীবন আর উন্নয়ন।

এখন আর ব্লগিং করি না - বা করতে উৎসাহ পাই না। সামহোয়ারের ব্লগিং থেকে বিরতি নেবার পরও আমার ব্লগে নিয়মিত ছিলাম। কিন্তু সেখানেও এখন আর্ ব্লগিং করছি না - কারন হলো -

১) বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীর বিচার শুরু হয়েছে। কতদিন লাগবে আল্লাহি আলম। তারপরও ধৈর্য্য ধরতে রাজি আছি। কারন বিচারে তাড়াহুরা করলে হয়তো হিতে বিপরীত হতে পারে। আইনের ফাঁকফোকর গলে হয়তো বেড়িয়ে যাবে রুই কাতলাগুলো। একটা স্বচ্চ বিচারের জন্যে যতদিন দরকার ততদিন অপেক্ষা করতে রাজি। যেখানে একনও ২য় বিশ্বযুদ্ধের অপরাধীদের বিচার হচ্ছে - সেখানে বাংলাদেশে বিচারতো মাত্র শুরু। আর এই পর্যায়ে "যুদ্ধাপরাধীর বিচার চাই" বলে ব্লগিং করাটা যুক্তিসংগত মনে হচ্ছে না।

২) নিয়মতি যুদ্ধাপরাধীদের চিহ্নিত করে লেখতাম - এখন দেখছি বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলো নিয়মিত প্রতিবেদনে রাজাকারদের চিহ্নিত করছে।

৩) রাজনীতিতে যে বিষয়টা খুবই পীড়া দিতো - তা হলো ৭৫ এর পর অবৈধ ক্ষমতাদখল কারী জেনারেল জিয়াকে মহামানব বানানোর জন্যে মিথ্যাচার। এক সময় জিয়াকে চিৎকার করে অবৈধ শাসক হিসাবে বলতাম - এখন আর আমার বলার দরকার নেই - বাংলাদের সর্বোচ্চ আদালত বিষয়টি মিমাংসা করে দিয়েছে। ৭৫ এর পর থেকে অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী সব শাসক অবৈধ আর তাদের শাসন অবৈধ - সুতরাং বিষয়টি মিমাংসিত।

৪) বাকী থাকে বাংলাদেশের উন্নয়ন আর মানুষের জীবন যাপন। সরকার একদিকে বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ করছে - আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে বাংলাদেশে উন্নয়নে জোয়ার বইয়ে যাচ্ছে। সরকারের কথা কে সত্যায়িত করার দায় যাদের উপর বর্তায় সেই বিরোধী দলের কর্মকান্ড দেখে মনে চ্ছে দেশ ভালই চলছে। এরা পুরোদলের শক্তি ব্যয় করছে খালেদা জিয়ার বাড়ীর মালামাল সরানোর কাজে - অন্তত টিভির কয়েকদিনের খবরের হেড লাইন দেখে তাই মনে হয়েছে - খালেদার বাড়ীর মালামাল স্থানান্তর ছাড়া তেমন কোন গুরুত্বপূর্ন কাজ বিরোধী দলের সামনে নেই। আশা করা যায় এই সমস্যারও সমাধান হয়ে যাবে।

অন্যদিকে দেশের মানুষ কতটা ভাল আছে তা আন্দাজ করা যায় শাহরুখ খানে কুর্দনানুষ্ঠানে ৫০০০ থেকে ২৫০০০ টাকার টিকেট কিনে যেভাবে দর্শক স্টেডিয়াম ভরেছে তাতে কোন সাহসে বলি বাংলাদেশের মানুষ খারাপ আছে। আগে দেখতাম টরন্টোতে আসতো ভারতের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা - তার টিকিটের দাম হতো ৫০ থেকে ১০০ ডলার ( ৩৫০০ থেকে ৭০০০ টাকা)। একজন পোশাক শ্রমিকের কয়েক মাসের বেতনের সমপরিমান অর্থ দিয়ে বিজাতীয় গানের সাথে নর্তককুর্দন দেখার মতো বিলাসিতা করার অবস্থা যাদের আছে তাদের কিভাবে বলি তারা ভাল নেই!

সব কিছু দেখে শুনে এখন আর ব্লগিং করার মতো উৎসাহ পাই না - ফলে সেই সময়টা ঘুমিয়ে কাটাই।


পড়ার জন্যে ধন্যবাদ। সবাই ভাল থাকবেন। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29287431 http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29287431 2010-12-11 07:46:04
আজ এটিমের জন্মদিন - শুভ জন্মদিন এটিম।
এটিমের ব্লগে কর্মপদ্ধতির বিষয়ে খানিকটা বিতর্ক থাকলেও মুক্তিযুদ্ধ আর রাজাকারী প্রপাগান্ডার বিষয়ে তাদের অনোমনীয় মনোভাব নিশ্চয় সকলের সমর্থন লাভ করতে সক্ষম হয়েছে।দুই বছর আগে যখন ব্লগে আসি - তখন মাঝে মধ্যে নিজের গায়ে চিমটি কেটে দেখতে হতো আমি কি বেঁচে আছি না মরে গেছি। এখন লক্ষ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য আর প্রত্যক্ষদর্শী বেঁচে আছে - এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে জামাত/শিবিরে ব্লগাররা যেভাবে আমাদের মহান অর্জনকে হেয় করতো - বিকৃত করতো - অবাক হয়ে যাওয়া মতো ছিলো বিষয়গলো। ব্লগে বিতর্ক হতে পারে - তাই ছিলো কাম্য - কিন্তু ইতিহাসের বিকৃতি নিয়ে বিতর্ক করার মতো বোকামী আর হয়না। ব্লগে ক্রমাগত শহীদের সংখ্যা, মুক্তিযুদ্ধে চেতনা আর মহানায়কদের বিতর্কিত করে পোস্ট দেওয়া হতো। প্রথম প্রথম আমিও চেষ্টা করেছি বিতর্ক করতে - তথ্য উপস্থাপন করতে - কিন্তু যারা ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে তাদের পূর্বপুরুষের অপকর্ম আর কূর্কীতিকে আড়াল করার মিশনে নেমেছে - তারা কেন যুক্তি শুনবে!

সেই প্রেক্ষাপটে ব্লগে জন্ম নেয় এটিম। যেখানে ইতিহাস বিকৃতি - যেখানে প্রগতি বিরোধী প্রপাগান্ডা - সেখাসেই এটিম। অনেক চড়াইউতড়াই এরপর মাধ্যমে ব্লগের নীতিয় পরিবর্তন এসেছে - দেশ আর ইতিহাস বিরোধী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহনের ধারা সংযুক্ত হয়েছে। ফলে রাজাকারের সন্তান পরিচয় দিয়ে ব্লগিং আর হাই প্রোফাইল শিবিরের ম্যানুয়াল কপি-পেস্ট ব্লগারদের তেমন সুবিধা করতে দেখা যায় না। ব্লগের একটা বিরাট অংশ এটিমের সমর্থক গোষ্ঠী রূপান্তরিত হয়েছে। কারন একটাই - এটিমের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অনঢ় অবস্থান।

পরিস্থিতির মূল্যায়নে এই বিষয়টা নিশ্চিত যে - এটিম এর চেতনা এখন অধিকাংশ ব্লগারের চেতনা। মুক্তিযুদ্ধে বিকৃত ইতিহাস আর লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত দেশের বিরুদ্ধে কুৎসা আর বিকৃতি প্রতিরোধের জন্যে আছে অগনিত ব্লগার। সেই কারনেই এটিমের কার্যক্রম দৃশ্যত বন্ধ। কিন্তু যদি আবারো প্রয়োজন হয় - এটিমের সাথে আছি - থাকবো। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোন আপোষ নেই -স্বাধীনতার প্রশ্নে কোন ছাড় নেই।

এটিমের সাথে জড়িত সকল কমরেডদের জানাই লাল সালাম। আজ বিশেষ করে হাসিবকে স্মরন করছি - যার উদারতার সুযোগে এক ঠক তার সাথে প্রতারনা করেছে। সেই ঠক এখন ব্লগের ভাঁড় - আর হাসিবকে অন্যায় ভাবে ব্লগিং সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ব্যান করে যে মুখ বন্ধ করা যায় না - এই উচ্চতার বোধ এখনও ব্লগের কর্তাদের অর্জন সম্ভব হয়নি - তাই হাসিবের আনব্যান দাবী করছি না। সময়ই বলে দেবে দালালরা কাকে কোন পথে নিয়ে যায়।

একজন সমর্থক হিসাবে এটিমকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাই। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/28952951 http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/28952951 2009-05-19 20:32:14
দিন বদল মনে হয় অনেক কঠিন কাজ....
সকল পত্রিকা সেইদিন প্রধান খবর করেছিলো - পানির অভাবে ঢাকা শহরে কলসী মিছিল। কিছুক্ষন পরই ফোন বেঁজে উঠলো - কর্তা উঠে দাড়ালেন। প্রধান মন্ত্রীর দফতরে যেতে হবে। গত সাতদিনের কাজের ফলাফলের ফাইলটা ড্রয়ার থেকে বের করে আবার চোখ বুলালেন। বেল বাজিয়ে ড্রাইভারকে গাড়ী তৈরী করতে বলে - কয়েকটা ফোন করে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে গমনকারী সংগী কর্তাদের উনার গাড়ীতে যেতে অনুরোধ করলেন। কারন সেই সময়ে উনাদের কিছুটা কথা বলে তৈরী করা যাবে।

(২)

প্রধানমন্ত্রীর দফতরে শুরু হলো মিটিং। আমাদের কোট-টাই পড়ার কর্তা কিছুক্ষন চুপচাপ বসে রইলেন যাতে প্রধানমন্ত্রীর উষ্মাটা বের হয়ে যায়। তারপর অন্যদের হতচকিত মূহুর্তে দাড়িয়ে টাকা পনের মিনিট কথ বললেন। যার মধ্যে ঢাকা শহরের আশু পানি সমস্যা সমাধানের একটা কম্প্রিহেনসিভ ক্রাশ প্রোগ্রামের বিবরন দিলেন। তাতে খরচ হবে ১২০ কোটি টাকা আর বসানো হবে ২৫টা গভীর নলকূপ। কিন্তু সময় স্বল্পতার কারনে প্রচলিত পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান না করে বাজারদরে চলতি ঠিকাদার কে দিয়ে কাজ করানো হবে। উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আর সচিবালয়ের আমলারা অভিভূত। মুহূর্তের মধ্যে প্রস্তাব অনুমোদনের জন্যে সিদ্ধান্ত গৃহিত হলো - কিন্তু সমস্যা হলো অর্থের সংস্থান নিয়ে। কোট-টাই পড়া কর্তা কিন্তু কাঁচা ঘাস খায় না - উনি পাঁকা খবর নিয়ে এসেছেন - কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত উন্নয়নের জন্যে বরাদ্ধকৃত ১০৩ কোটি টাকা বিভিন্ন জটিলতার কারনে কয়েক বছর ধরে অব্যবহূত আছে আর সংস্থার তহবিল থেকে অনায়েসে বাকী টাকা সংস্থান হবে। সবাই হাফ ছেড়ে বাঁচলেন - প্রধানমন্ত্রী অন দ্যা স্পট অনুমোদন দিলেন - শুরু হলো ঢাকা বুকবিদ্ধ করে আরো টিউবওয়েল বসানোর কাজ আর উক্ত কর্তা হলেন প্রজেক্ট ডাইরেক্টর।

(৩)

সেইদিনের প্রধানমন্ত্রীর দফতরের মিটিং এ বলা হয়নি। তা হলো -

১) ঢাকা শহরের পানি সরবারহ কোনদিনই চাহিদাকে অতিক্রম করতে পারেনি। জন্মলগ্ন থেকেই সরবরাহের দুই তৃতীয়াংশ সরবরাহ করা হচ্ছে। চাহিদার হিসাব করার সময় বস্তিবাসীদের কোনদিনই হিসাবে আনা হয়না - কারন বস্তিগুলো অবৈধভাবে পানি ব্যবহার করে। সেই হিসাবে সরবরাহ কোনদিনই চাহিদার অর্ধেকও অতিক্রম করেনি।

২) যে দিনটায় বাংলাদেশের প্রধান দৈনিকগুলোতে বিক্ষোভের খবর হেডলাইন হয় - সেদিন সেই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পানি সরবরাহ করা হয়েছে।

৩) পুরো ঢাকা শহর নয় - খিলগাও, আগারগাও, যাত্রাবাড়ী আর হাজারীবাগের চার যায়গায় কিছু মানুষ পানির দাবীতে খালি কলস নিয়ে মিছিল করেছে - সেখানে পত্রিকার ফটোগ্রাফারগন বিশেষ ব্যবস্থায় আগেই উপস্থিত ছিলেন।

৪) বলা হয়নি - যে চার স্পটে বিক্ষোভ হয়েছে সেখানকার সিটি কমিশনারগন নলকূপ বসানোর ঠিকাদারের সাব কন্ট্রাকট্রার হিসাবে কাজ করে।

৫) আরো বলা হয়নি - ১৯৮০ সালে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ঢাকা সিটি ল্যান্ড সাসিডেন্স নামে একটা স্টাডি হয়েছে - সেখানে ঢাকা শহরের ভূমিধ্বস আর ওয়াটার মাইনিং এড়ানোর জন্যে আর কোন নলকূপ না বসানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

৬) আরো কয়েকটা ঠিকাদারী প্রতিষ্টান অনেক কমমূল্যে কাজ করতে রাজী হলেও বিশেষ কারনে একটা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হচ্ছে।

৭) মুলত একটা দীর্ঘকাল থেকে লালিত সমস্যাকে সময় সময় কাজে লাগিয়ে কিছু কর্তাব্যক্তি, কয়েকটা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আর স্থানীয় মাস্তানরা সুবিধা নেওয়ার একটা সুপরিকল্পিত কাজে জনগনের নির্বাচিত সরকারকে জনগনের দূর্দশা লাঘবের কথা বলে ব্লাকমেইলিং করা হচ্ছে।

(৪)

মজার বিষয় হলো - সেই ২৫টা টিউব ওয়েল বসানোর পরের বছরই আবারও একই নাটক করে আরো ২৫টা টিউব ওয়েল বসানো হয়েছে। লাভবান হয়েছে কিছু মানুষ - ঢাকা শহরে বাড়ীর দাম বেড়েছে আর কিছু টাকা পাচার হয়েছে দেশের বাইরে। ১৯৮০ সালে যেখানে ১১০টা টিউবওয়েলের উপস্থিতিতে ঢাকা শহরকে একটা বিপজ্জনক শহর হিসাবে চিহ্নিত করেছে বিশেষজ্ঞরা - সেখানে আজ প্রায় ৪০০ টিউবওয়েল ওয়াটার মাইনিং করছে। কিন্তু শহরের পানির সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।

(৫)

পানির সমস্যার জন্যে সরকারকে বিদ্যুৎ সমস্যার কথা বলে জেনারেটর কিনে পরিবেশ ধ্বংশ করা আর সাদাহাতি পোষার মাধ্যমে নিজেদের আখের গুছানোর কাহিনীটাও বেশ মজার। সময় হলে সেই কাহিনীটাও বলা যাবে। তবে এইটুকু বলি - পানি উঠানোর জন্যে যদিও জেনারেটর ব্যবহার করা হয় - কিন্তু তাতে সবাই পানি পাবে সেই নিশ্চয়তা নেই। কারন প্রত্যেকটা বাড়ীর নিজস্ব রিজার্ভার থেকে পানি উঠাতে আবার বিদ্যুতে উপর নির্ভর করতেই হয়। এই একটা চত্রু। এর থেকে বের হওয়ার পথ বন্ধ করে রেখেছে আমলা আর প্রকৌশলী কর্তারা।

(৬)

দীর্ঘ ১২ বছর পর আবার দেখলাম প্রধানমন্ত্রীর দফতে জরুরী বৈঠক হয়েছে - পানি সরবরাহের জন্যে জরুরী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্যে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছে। এতো বড় সরকার থাকতে কেন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের জন্যে সবাই বসে থাকে - এই বিষয়টা লক্ষ্য করার মতো। সেই নির্দেশের সুবাদে আরো ২০০ জেনারেটর কেনা হবে - হয়তো আরো কয়েকজন ডজন টিউব ওয়েল বসানো হবে। দ্রুত ধনী হয়ে যাবে কিছু মানুষ। কিন্তু পানির সমস্যার উনিশ থেকে হয়তো বিশও হবে না।

একটা দেশের মানুষ যখন সব কিছুই শর্টকাটে শেষ করতে চায়। শর্টকার্টে পানি - বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান - সেখানে টোটকা চিকিৎসার জন্যে বসে আছে একদল চতুর লোক। এরা মানুষের দূর্দশাকে পুঁজি করে - সরকারকে বোকা বানায় আর নিজেরা আখের গুছায় । অন্যধিকে সাধারন মানুষও ভাবে না যে পানি আর বিদ্যুৎ তাদের বাসায় আসছে তার জন্যে কতটা মুল্য পরিশোধ করতে হয়। শহুরে মানুষগুলো সবকিছুর সমাধান চায় যত জোরে চিৎকার করে - বিল প্রদানের ক্ষেত্রে তাদের ততটা অনীহা দেখা যায়। এদের ভাবার সময় নেই - পঞ্চগড়ের কৃষক থেকে টেকনাফের জেলের চিকিৎসা - শিক্ষা - বাসস্থানের জন্যে বরাদ্ধ কমিয়ে শহরের মানুষ খুশী করার জন্যে জন্যে বছরের পর বছরে সরকাকে স্বল্পমেয়াদী সমাধানের দিকে টেনে নিচ্ছে কিছু জ্ঞানপাপী - এরা সুকৌশলে দীর্ঘ মেয়াদী সমাধানের দিকে যেতে দেয়না - কারন নগদ লাভের লোভ সামলানো কঠিন।

মনে হয় এরা সবাই ডেলকার্নেগীর শিষ্য - এরা সবাই আজকের জন্যেই বাঁচতে চায়।

আর সরকারের দিন বদলের শ্লোগানকে নিজেদের ভাগ্য বদলের সুযোগ বানানোর প্রক্রিয়াটা অবাক হইনি - শুধু ভাবছি - দিন বদল আসলেই একটা কঠিন কাজ। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/28943405 http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/28943405 2009-04-27 23:50:08
একাত্তরে হত্যার অভিযোগ মাওলানা আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মামলা মামলার আরজিতে বলা হয়, ১৯৭১ সালে সালথার খারদিয়া গ্রামের আ· সালাম মিয়ার ছেলে আবুল কালাম আজাদ আলবদর বাহিনীর ফরিদপুর জেলার প্রধান ছিলেন। তিনি ও তাঁর শ্যালক মোহাম্মদ কাজী জেলার বিভিন্ন থানায় শান্তি কমিটি গঠন করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহায়তা করেন। এ সময় তাঁরা এলাকায় মানুষের সহায়-সম্পদ লুট, খুন, বাড়িঘর পোড়ানো ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটান।
আরজিতে বাদী উল্লেখ করেন, ‘১৯৭১ সালের ১ জ্যৈষ্ঠ দুপুর আনুমানিক একটায় আসামিরা আরও ১০-১২ জনকে নিয়ে অস্ত্রসহ আমাদের বাড়িতে আসে। বাবা মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করায় আবুল কালাম আজাদ ক্ষিপ্ত স্বরে আমার বাবা মাধব চন্দ্র বিশ্বাসকে ডাকেন। বাবা ভয়ে পালানোর চেষ্টা করলে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় তিনি আমাদের বাড়িতে আসা অতিথি জ্ঞানান্দির বিশ্বাসকেও হত্যা করেন। এরপর আসামিরা ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেন।’
আরজিতে আরও বলা হয়, আসামিরা মুক্তিযুদ্ধের সময় নগরকান্দার কুমারকান্দা গ্রামের ওহাব সর্দার, টাকু মোল্লা, কাঞ্চু ফকির, আদম মোল্লা, আলমপুর গ্রামের হাসেন মিয়া, বড়ু খাতুন ও কেশবদিয়া গ্রামের ওমেদ মোল্লাকেও হত্যা করে। ওই সময় লাল মিয়া নামের একজনকে বাচ্চু মিয়া গুলি করেন। কিন্তু ঘটনাক্রমে তিনি বেঁচে যান। তিনি এখনো জীবিত রয়েছেন।
এলাকাবাসী জানায়, আবুল কালাম আজাদ স্থানীয়ভাবে ‘খারদিয়ার বাচ্চু’ হিসেবে পরিচিত। স্বাধীনতার পর তিনি কিছুদিন আত্মগোপন করেন। পঁচাত্তরের পর তিনি প্রকাশ্যে আসেন। পরে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।
সূত্র জানায়, নব্বই দশকের সূচনালগ্নে আবুল কালাম আজাদ বাংলাদেশ মসজিদ মিশন নামে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে তিনি এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলায় তিনি দীর্ঘদিন ইসলামবিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতেন। বর্তমানে এনটিভিতে ‘আপনার জিজ্ঞাসা’ নামে একই ধরনের একটি অনুষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ফরিদপুর জেলা শাখার আমির দেলোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘১৯৭১ সালে আজাদ জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তবে স্বাধীনতার পর তিনি জামায়াতে যোগ দেন। আশির দশকের শেষ দিকে তিনি জামায়াত ছেড়ে দিয়ে মসজিদ মিশন গঠন করেন।’
এ ব্যাপারে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এসব অভিযোগ সবৈব অসত্য। আমি ধর্মীয় কুসংস্কার দূর করা, বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সংহতি তৈরি করা, সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাণ্ডসহ অনেক সমাজসেবামূলক কাজ করি। এ মামলার ফলে সে সুনাম বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কে বা কারা এটা করছে বলতে পারব না।’ তিনি বলেন, ‘১৯৭০ সালের নির্বাচনে আমি নগরকান্দায় জামায়াতের প্রার্থী সাইয়েদ মোহাম্মদ আলীর পক্ষে কাজ করি। তখন তো একাত্তরের প্রশ্ন ছিল না। ওই সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন কে এম ওবায়দুর রহমান। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি আমাকে মামলায় জড়িয়ে ছিলেন। পরে সেগুলো থেকে আমি খালাস পেয়েছি।’
সালথা উপজেলার চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আবুল কালাম আজাদ চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী। তার যথাযথ বিচার হবে বলে আশা করি।’

(সুত্রঃ- প্রথম আলো, এপ্রিল ২০, ২০০৯)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/28940702 http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/28940702 2009-04-21 09:59:49
সরকার একটা কাজ ভাল করেছে।
টরন্টোর সবচেয়ে বড় ওয়ালমার্টের সুপার স্টোরে বাংলাদেশী কাপড়ে ভরে গেছে - কিন্তু কিনে পড়ার পরের দিনই সেলাই খুলে যায়। ফেরত দেইনি - পাছে দেশের বদনাম হয়।

দয়া করে নিজে পায়ে দাঁড়ান - মুফতের নেশার ছাড়েন। শ্রমিকদের ১৬০০ টাকা বেতন দিয়ে টরন্টোয় বাড়ী কেনার পর সরকারের মুফতের টাকার জন্যে চিল্লাচিল্লি করে লাভ নেই। কারন সরকারের এমপি মন্ত্রীরাও এইভাবে দেশের বাইরে সম্পদ গড়েছে। সুতরাং কৃষিখাত যে বিনিয়োগের জন্যে শ্রেষ্ঠ খাত এরাই ভাল জানেন।

সরকার একটা ভাল কাজ করেছে - ধন্যবাদ।

(ছবি সূত্র - ডেইলি স্টার) ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/28940341 http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/28940341 2009-04-20 10:23:17
রাস্তা বন্ধ করে সভা সমাবেশ মিছিল বা বিক্ষোভ কি কারো অধিকারের পর্যায়ে পড়ে?
তারপর সামরিক শাসন থেকে দেশ মুক্ত হলো - দেশে সংসদ হলো। হলো মিডিয়ার বিপ্লব। এখন সংসদ হয়েছে কথা বলার যায়গা। সেই কথা রেকর্ড হয়। সেই কথা মিডিয়াতে প্রচারিত হয়। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যণ্ত সবাই সেইকথা শুনতে পায়। আদিকালের চুংগা বা মাইক লাগিয়ে যে কথা শুনানো যেত কয়েক হাজার মানুষকে। এখন কোন অডিটরিয়ামে বা নিজের ড্রয়িং রুমে বসে কোন কথা বলার সাথে সাথে কয়েক কোটি মানুষ শুনতে পায় মিডিয়ার বদৌলতে। পরদিন পত্রিকায় বিস্তারিত পড়তে পারে। জানতে পারে পক্ষের আর বিপক্ষের মতামত।

এই অবস্থায় বিশ্বের সর্বোচ্চ ঘনবসতির শহরে যাবাহন চলাচল বন্ধ করে কয়েকশত লোকের সমাবেশ বা মিছিল করার মাধ্যমে সাধারন মানুষের জীবন অতিষ্ট করার পক্ষে কি আসলে কোন যুক্তি আছে।

সাধারন নাগরিকদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা কি কারো নাগরিক অধিকারের মধ্যে পড়ে?

অন্যের অধিকার হরনও কি নাগরিক অধিকারের মধ্যে পড়ে? নাকি এইটা মাস্তানীর পর্যায়ে পড়ে?

( সাংবাদিক মাহফুজ উল্লা'র টিভির টকশোতে মিছিল মিটিং বা সমাবেশকে নাগরিক অধিকার হিসাবে উল্লেখের পর প্রশ্নটা মাথায় ঘুরছে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/28937308 http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/28937308 2009-04-13 02:49:48
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তিতে ভিন্ন ফলাফল কি স্বাভাবিক? (২) বাবুর্চি, দারোয়ান আর ড্রাইভারের বেতন সরকার দেয়। তা ছাড়া মিন্টো রোডে উনার নামে একটা বাড়ী বরাদ্ধ আছে। উনার গুনধর পুত্ররা দেশের বাইরেও বাড়ী কিনে রেখেছে বলে জানা যায়। উনি যে বাস্তুহীন হচ্ছে না এই কথা ঠিক - তারপরও আমাদের এই মাতমের কারন কি? সরকার অন্যায় করলে কোর্ট তো খোলাই আছে - সেখানে যাওয়া কি উচিত নয়?

আসলে ঘটনাটা কি?

একজন রাজনীতিবিদ গত তিনদশক ধরে সেনানিবাসের সবচেয়ে বড় বাড়ীটিতে বসবাস করছেন। উনাকে সেই বাড়ীটি বরাদ্ধ দিয়েছেন আরেকজন অবৈধ ক্ষমতাদখলকারী সামরিক শাসক। কারন উনার স্বামী - প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় সামরিক বহিনীর অফিসারদের গুলিতে নিহত হয়ে শহীদ হয়েছে।

সেনা শাসক থেকে রাজনীতিবিদ কাম প্রেসিডেন্ট হওয়া জিয়াউর রহমানকে হত্যার দায়ে কোর্ট মার্শালে ১২ জন মুক্তিযুদ্ধাসহ পুলিশের ক্রশ ফায়ারে মেজর জেনারেল মঞ্জুর নিহত হয়েছিলেন।

নিহত প্রেসিডেন্টের হত্যায় শোকাহত জাতি কৃতজ্ঞ হয়ে মেনে নিয়েছিলো তার এতিম সন্তান আর বিধবা ষ্ত্রীকে দুইটা বাড়ী আর চাকর-বাকরসহ টেলিফোন ফ্রী দিয়ে সন্তানদের পড়াশুনার খরচ বহন করতে।

নিহত প্রেসিডেন্টের প্রাথমিক কবর চট্রগ্রাম থেকে ঢাকায় এনে গুরুত্বপূর্ন স্থানে কবর দিয়ে মাজার বানানো হয়।

কিন্তু একই ধরনের আরেকটা ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেছিলো -

১৯৭৫ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করে সেনাবাহিনীর অফিসাররা। তখন ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান উনা দুই কন্যা। যারা দেশে ফিরতে পারেনি ৬ বছর। তাদের পারিবারিক বাসস্থানটি সিল করে রাখা হয়েছিলো ৭ বছর।

একসময় সরকার তার এক মেয়েকে একটা বাড়ী বরাদ্ধ দিলেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি হয় সেই বরাদ্ধ। সেখানে থানা বানিয়ে তা উদ্ভোধন করেন দু্ই বাড়ী বরাদ্ধ পাওয়া প্রেসিডেন্টের বিধবা স্ত্রী।

আরো উল্লেখ্য যে - ঢাকায় নিহত প্রেসিডেন্টের মরদেহ তিনদিন পর গ্রামের বাড়ীতে লুকিয়ে কবর দেওয়া হয়।

এই প্রেসিডেন্টের হত্যাকারী সেনাকর্তাদের কোর্ট মার্শাল না করে প্রথ উল্লেখিত সেনাশাসক সেনাবাহিনীর প্রধান থাকার সময় খুনীদের দুতাবাসে চাকুরী দিয়ে পুরষ্কৃত করে।

সরকার নিহত প্রেসিডেন্টের বেঁচে যাওয়া সন্তানদের জন্যে কোন রকম সহায়তা দেয়নি।

একইভাবে সেনাবাহিনীর হাতে নিহত দুই প্রেসিডেন্ট - একজন চট্রগ্রামে মারা গিয়ে তিনদিন পর ঢাকায় কবর দিয়ে মাজার বানানো হয় - অন্যজন ঢাকায় নিহত হলেও টুংগীপাড়ায় কবর দেওয়া হয়। একজন হয় "শহীদ" আরকজন হন "মৃত"। একজনের বিধবা স্ত্রী পেয়ে যায় বিলাশবহুল বাড়ী আর একজন বিধবা হওয়ার সুযোগও পাননি - তাকেও হত্যা করা হয়। একজনের এতিম সন্তানদের জন্যে রাষ্ট্র সকলসুযোগ সুবিধা দিলেও - আরেকজনের এতিমরা পায় বোমার হুমকী।

এই ধরনের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ফলাফল আসলেই ভিন্ন হয়। আর আমরা সুশীল হয়ে বলি - তাইতো, এই নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থাকা উচিত না।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/28935889 http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/28935889 2009-04-09 19:54:10