মিলি বলল আবার
শামস- এই শেষ মিলি , আর খাব না ।
শামস আর মিলির সম্পর্ক আজ ৫ বছর ।
এই ৫ বছরের মধ্যে সে যতবার মিলির সামনে সিগারেট ধরিয়েছে সে তত বার ঐই একই কথা বলে আসছে ।
লাভ কিছুই হয়নি ।
মিলি জানে বলে কিছুই হবে না ।
মিলিও বারন করে না । ছেলেটা খুব আগ্রহ করে সিগারেট খায় । গোল গোল করে ঠোট চোখা করে ধোয়া ছাড়ে । মিলির দেখতে খুব ভালো লাগে ।
মিলি অভিমান করে বলল থাক তুমি তোমার ধোয় নিয়ে আমি চললাম
শামস তার সিগারেটে শেষ লম্বাটান দিয়ে ফেলে মিলিকে টেনে বসাল ।
সর , গন্ধ লাগে ।
যাও আর খাব না ।
তাহলেই হয়েছে ।
এই শোন চল উঠি
এখনই
মাত্রই তো আসলে ।
না আজ তাড়াতাড়ি যেতে হবে ।
কেন ?
ক্লাশ আছে ।
বস না একটু
মিলি হাল ছেড়ে বসল ।
এ্যাই বিয়ে করবে কবে বল ।
এখনই, পড়াটা আগে শেষ হোক,চাকরি বাকরি কিছু পাই তারপর
চাকরি পেতে হবে না , এখনই কর ।
হা হা হা
হাস কেন
চাকরি নে পেলে খাওয়াবো কি ?
খাওয়াতে হবে না
হা হা হা
এ্যাই শোন আমি না ছেলে মেয়ের নাম ঠিক করেছি
তাই নাকি?
হ্যা
ছেলে হলে নাম রাখব প্রান্ত
আর মেয়ে হলে নাম রাখব প্রথমা
বাব বা বা এত কিছু ভেবে রেখেছ
হ্যা
চল উঠি তোমাকে হোস্টেলে নামিয়ে দিয়ে আমি টিউশানি তে যাব ।
শামস মিলিকে মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেলে নামিয়ে গেল টিউশানি তে
.........................................
কিছুক্ষন বেল বাজানোর পর দরজা খুলল সুমি
স্যার আসেন
সুমি এবার এইচ এস সি দিবে
খুবই ভালো ছাত্রী
পড়ানোর সময় সুমির মা এসে বলল স্যারের কি আজ একটু সময় হবে ।
কেন বলুন তো
না সুমির কিছু বই কিনতে হবে
আমি যেতে পারছি না ।
আচ্ছা আপা আমি নিয়ে যাব
পড়ানো শেষে শামস বের হলো সুমিকে নিয়ে নিউ মার্কেটে বই কিনতে ।
বই কেনা শেষে সন্ধ্যেবেলা শামস ফোন দিল মিলিকে
হ্যালো মিলি
ফোন দিয়েছ কেন?
আরে কি বলছ , ফোন দিছি কেন মানে ?
যার সাথে ঘুরছিলে তাকে ফোন দাও
ভাল তো কম বয়েসী সুনদর একটাকে জুটিয়েছ
মিলি! কি বলছ এসব ?
চুপ কর ভন্ড, তোমরা ছেলেরা এরকমই ।
আর কখনও ফোন দিবা না আমাকে ।
মিলি লাইন কেটে দিল ।
........................................
শামস ঢাকা ভার্সিটির কেমিষ্ট্রিতে পড়ে ।
হলে থাকে
পাশাপাশি এই টিউশানিটা করে
এদের বাসার লোকজন শামস কে অনেক আদর আর বিশ্বাসও করে
তাই তার সাথে সুমি কে বাইরে পাঠিয়েছিল বই কিনতে
আর মিলি কি না কি ভাবল
কিন্তু সুমি তো জানত , যে সে একটা মেয়েকে পড়ায় ।
পরের দিন বিকেলে আবার ফোন দিল শামস সুমিকে
কোন ভাবেই বোঝানো গেলল না সুমিকে
তার পরে আরও একবার
তার পর কয়েক শত বার...................................................
শামসের দিন আর কাটে না
তার নিশ্বাস ভারী হয়ে উঠে
সে আবার ফোন দয়ে মিলিকে
হ্যালো মিলি আমার সাথে কি একবার দেখা করবে ?
প্রশ্নই উঠে না
পিল্জ একবার
না
ভেউ ভেউ করে কেদে উঠে শামস
মিলি তাতেও নরম হয় না
শামসের বুক নিগ্রানো জলধারা মিলির হৃদয়ের কাঠিন্যকে সিক্ত করতে পারে না
শামস চিৎকার করে বলে আমি তোমাকে আসলেই ভালোবাসতাম
আমার মধ্যে কোন ভুল নেই
আমি বেইমানীও করিনি
মিলি আমি দুনিয়াতে থাকা অবস্থায় আমি আমার ভালোবাসার প্রমান দিয়ে যাব ।
.........................................
এরপর শামস থেমে থাকলেও থেমে থাকে নি মিলি
সে খুব দ্রুত তার ঠিকানা খুজে নিয়েছে
পারে নি শামস
পারে নি নতুন করে কারও হাত ধরতে
খুজে পায় নি কোন ডালপালা ।
বিশাল পৃখিবীর মাঝে সে একলা
বড়ই একলা
...........................................
৮ বছরের পরের ঘটনা
গৌরীপুর জংশনে ছোট্র একটা মেয়ে একেলা চিপসের প্যাকেট হাতে দাড়িয়ে আছে
আশেপাশে কেউ নেই
মিলি মেয়েটিকে লক্ষ্য করল
খুব মিষ্ট একটা মেয়ে
মিলি মেয়েটির কাছে যেয়ে তাকে একটু আদর করে দিল
তখনই মেয়েটির মা এসে দাড়াল পাশে
আপনার মেয়ে?
হ্যা
খুবই মিষ্টি মেয়ে
থ্যাকংস
মিলি জিঞ্জাস করল কি নাম তোমার আম্মু
প্রথমা
!
শামস তখন এসে দাড়াল ।
শামস বলল- কি ব্যাপার
এই তো উনার সাথে কথা বলছিলাম
আচ্ছা তুমি প্রথমাকে নিয়ে এগোয় আমি আসছি
শামস মিলিন দিকে তাকিয়ে বলল হয়ত অবাক হয়েছ এতদিন পর দেখে
আমি কিন্তু মিলি একটুও অবাক হয়নি
আমি জানতাম দেখা তোমার সাথে আমার হবেই
আমি বলেছিলাম আমি পৃথিবীতে থাকাকালে প্রমান দিয়ে যাব আমি তোমাকে ভালোবাসি
আশা করি প্রমান ইতমধ্যে পেয়ে গেছ
শামস কথাগুলো বলে কাল বিলম্ব না করে হনহন করে সামনে এগিয়ে গেল
মিলি চুপ করে কথাগুলো শুনছিল
মিলি বুঝতেও পারেনি চোখ গড়িয়ে গালে পৌছেছে তার চোখের জল ।


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



