somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছোট ভালোবাসার গল্প - অনুভূতি

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১০ সকাল ৭:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শামস ফস করে সিগারেট ধরাল
মিলি বলল আবার
শামস- এই শেষ মিলি , আর খাব না ।
শামস আর মিলির সম্পর্ক আজ ৫ বছর ।
এই ৫ বছরের মধ্যে সে যতবার মিলির সামনে সিগারেট ধরিয়েছে সে তত বার ঐই একই কথা বলে আসছে ।
লাভ কিছুই হয়নি ।
মিলি জানে বলে কিছুই হবে না ।
মিলিও বারন করে না । ছেলেটা খুব আগ্রহ করে সিগারেট খায় । গোল গোল করে ঠোট চোখা করে ধোয়া ছাড়ে । মিলির দেখতে খুব ভালো লাগে ।
মিলি অভিমান করে বলল থাক তুমি তোমার ধোয় নিয়ে আমি চললাম
শামস তার সিগারেটে শেষ লম্বাটান দিয়ে ফেলে মিলিকে টেনে বসাল ।
সর , গন্ধ লাগে ।
যাও আর খাব না ।
তাহলেই হয়েছে ।
এই শোন চল উঠি
এখনই
মাত্রই তো আসলে ।
না আজ তাড়াতাড়ি যেতে হবে ।
কেন ?
ক্লাশ আছে ।
বস না একটু
মিলি হাল ছেড়ে বসল ।
এ্যাই বিয়ে করবে কবে বল ।
এখনই, পড়াটা আগে শেষ হোক,চাকরি বাকরি কিছু পাই তারপর
চাকরি পেতে হবে না , এখনই কর ।
হা হা হা
হাস কেন
চাকরি নে পেলে খাওয়াবো কি ?
খাওয়াতে হবে না
হা হা হা
এ্যাই শোন আমি না ছেলে মেয়ের নাম ঠিক করেছি
তাই নাকি?
হ্যা
ছেলে হলে নাম রাখব প্রান্ত
আর মেয়ে হলে নাম রাখব প্রথমা
বাব বা বা এত কিছু ভেবে রেখেছ
হ্যা
চল উঠি তোমাকে হোস্টেলে নামিয়ে দিয়ে আমি টিউশানি তে যাব ।

শামস মিলিকে মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেলে নামিয়ে গেল টিউশানি তে
.........................................



কিছুক্ষন বেল বাজানোর পর দরজা খুলল সুমি
স্যার আসেন
সুমি এবার এইচ এস সি দিবে
খুবই ভালো ছাত্রী
পড়ানোর সময় সুমির মা এসে বলল স্যারের কি আজ একটু সময় হবে ।
কেন বলুন তো
না সুমির কিছু বই কিনতে হবে
আমি যেতে পারছি না ।
আচ্ছা আপা আমি নিয়ে যাব
পড়ানো শেষে শামস বের হলো সুমিকে নিয়ে নিউ মার্কেটে বই কিনতে ।
বই কেনা শেষে সন্ধ্যেবেলা শামস ফোন দিল মিলিকে
হ্যালো মিলি
ফোন দিয়েছ কেন?
আরে কি বলছ , ফোন দিছি কেন মানে ?
যার সাথে ঘুরছিলে তাকে ফোন দাও
ভাল তো কম বয়েসী সুনদর একটাকে জুটিয়েছ
মিলি! কি বলছ এসব ?
চুপ কর ভন্ড, তোমরা ছেলেরা এরকমই ।
আর কখনও ফোন দিবা না আমাকে ।
মিলি লাইন কেটে দিল ।
........................................
শামস ঢাকা ভার্সিটির কেমিষ্ট্রিতে পড়ে ।
হলে থাকে
পাশাপাশি এই টিউশানিটা করে
এদের বাসার লোকজন শামস কে অনেক আদর আর বিশ্বাসও করে
তাই তার সাথে সুমি কে বাইরে পাঠিয়েছিল বই কিনতে
আর মিলি কি না কি ভাবল
কিন্তু সুমি তো জানত , যে সে একটা মেয়েকে পড়ায় ।
পরের দিন বিকেলে আবার ফোন দিল শামস সুমিকে
কোন ভাবেই বোঝানো গেলল না সুমিকে
তার পরে আরও একবার
তার পর কয়েক শত বার...................................................
শামসের দিন আর কাটে না
তার নিশ্বাস ভারী হয়ে উঠে
সে আবার ফোন দয়ে মিলিকে
হ্যালো মিলি আমার সাথে কি একবার দেখা করবে ?
প্রশ্নই উঠে না
পিল্জ একবার
না
ভেউ ভেউ করে কেদে উঠে শামস
মিলি তাতেও নরম হয় না
শামসের বুক নিগ্রানো জলধারা মিলির হৃদয়ের কাঠিন্যকে সিক্ত করতে পারে না
শামস চিৎকার করে বলে আমি তোমাকে আসলেই ভালোবাসতাম
আমার মধ্যে কোন ভুল নেই
আমি বেইমানীও করিনি
মিলি আমি দুনিয়াতে থাকা অবস্থায় আমি আমার ভালোবাসার প্রমান দিয়ে যাব ।
.........................................
এরপর শামস থেমে থাকলেও থেমে থাকে নি মিলি
সে খুব দ্রুত তার ঠিকানা খুজে নিয়েছে
পারে নি শামস
পারে নি নতুন করে কারও হাত ধরতে
খুজে পায় নি কোন ডালপালা ।
বিশাল পৃখিবীর মাঝে সে একলা
বড়ই একলা
...........................................
৮ বছরের পরের ঘটনা
গৌরীপুর জংশনে ছোট্র একটা মেয়ে একেলা চিপসের প্যাকেট হাতে দাড়িয়ে আছে
আশেপাশে কেউ নেই
মিলি মেয়েটিকে লক্ষ্য করল
খুব মিষ্ট একটা মেয়ে
মিলি মেয়েটির কাছে যেয়ে তাকে একটু আদর করে দিল
তখনই মেয়েটির মা এসে দাড়াল পাশে
আপনার মেয়ে?
হ্যা
খুবই মিষ্টি মেয়ে
থ্যাকংস

মিলি জিঞ্জাস করল কি নাম তোমার আম্মু
প্রথমা
!
শামস তখন এসে দাড়াল ।
শামস বলল- কি ব্যাপার
এই তো উনার সাথে কথা বলছিলাম
আচ্ছা তুমি প্রথমাকে নিয়ে এগোয় আমি আসছি

শামস মিলিন দিকে তাকিয়ে বলল হয়ত অবাক হয়েছ এতদিন পর দেখে
আমি কিন্তু মিলি একটুও অবাক হয়নি
আমি জানতাম দেখা তোমার সাথে আমার হবেই
আমি বলেছিলাম আমি পৃথিবীতে থাকাকালে প্রমান দিয়ে যাব আমি তোমাকে ভালোবাসি
আশা করি প্রমান ইতমধ্যে পেয়ে গেছ
শামস কথাগুলো বলে কাল বিলম্ব না করে হনহন করে সামনে এগিয়ে গেল
মিলি চুপ করে কথাগুলো শুনছিল
মিলি বুঝতেও পারেনি চোখ গড়িয়ে গালে পৌছেছে তার চোখের জল ।



৮টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×