সম্প্রতি অপবাক একটি পোস্ট দিয়েছেন।
পোস্টটি পড়ে মনে হয়েছে , উঁনি যা বোঝাতে চেয়েছেন তা হল:
১. নবী স. এর নবুয়াত প্রাপ্তির ঘটনাটি খাদিজা ও নওফেলের পূর্বপরিকল্পনার বাস্তবায়ন মাত্র।
২. সেই কারণে নওফেল এতকিছু বলার পরেও নিজে মুসলমান হননি।
আর যেহেতু নবুয়াতের ব্লু প্রিন্টটি নওফেলের মস্তিষ্কপ্রসূত তাই উনি মারা যাওয়ার সাথে সাথেই অহী নাযিল হওয়া বন্ধ হয়ে গেল , যতদূর সম্ভব এই পোস্টের সারমর্ম তাই। কিন্তু এটা আমার মাথায় আসছে না নওফেল মারা যাবার পরপরেই অহী অবতীর্ণ হওয়া বন্ধ হয়েছিল এই আজগুবি তথ্য উঁনি কই পেলেন!
আর নওফেলের মত একজন একশ্বরবাদী খৃষ্টান পাদ্রীর জন্য নবীর অপেক্ষায় থাকাটা উঁনার কাছে অস্বাভাবিক লাগছে কেন তা বোধগম্য নয়। রোম , গ্রিস ও ইউরোপের ইতিহাসে এমন অনেক খৃষ্টান গোত্রের উল্লেখ পাওয়া যায় যারা যিশুকে ঈশ্বর পুত্র ভাবতো না ও ট্রিনিটি ধারণায় অবিশ্বাসী ছিল। নওফেল তেমন-ই একজন খৃষ্টান ছিলেন । এমন একজন খৃষ্টান, ইসলাম ধর্মের প্রবর্তনের আগে পর্যন্ত, একজন বিশ্বাসীই ছিলেন , কারণ খৃষ্টান ধর্মই ছিল সমসাময়ীকতায় সর্বশেষ ধর্ম । আরেকটি ব্যাপার খেয়াল রাখতে হবে যে, কোন লোক এক ঈশ্বরে বিশ্বাস করলেই তাঁকে মুসলিম গণ্য করা হয় না। মুসলিম হতে হলে মুহাম্মদকেও নবী হিসেবে মানতে হয়। একশ্বরবাদী হওয়া তৎসঙ্গে শেষ নবী হিসেবে মুহাম্মদ কে মেনে নিলে তবেই একজনকে মুসলিম হিসেবে বিবেচনা করা হবে । মসজিদে মাইক লাগিয়ে সে যদি তা প্রচার নাও করে তাহলেও সে মুসলিম। এই পোস্টে অপবাক নিজেই উল্লেখ করেছেন “এমন কি মুহাম্মদের নবুয়তপ্রাপ্তি এবং নবী হয়ে উঠবার বিষয়েও তার কোনো সংশয় ছিলো না...” । একজন একশ্বরবাদী যদি মুহাম্মদকে স. নবী হিসেবে মেনে নেয়, সেই ক্ষেত্রে জনসমক্ষে তাঁকে তা ঘোষণা করতে হবে এমন কোন ধরাবাধা নিয়ম ইসলামে নেই। একজন গোড়া একশ্বরবাদী খৃষ্টান পাদ্রী নওফেল , যিনি কখনো মূর্তি পূজা করেন নি, পৌত্তলিকতার সাথে যার ন্যূনতম সম্পর্ক ছিল না , তিঁনি যদি মুহাম্মদকে মনে প্রাণে নবী হিসেবে মেনে নিয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই তিঁনি মুসলিম হয়েছিলেন ইসলামি বিশ্বাসানুযায়ীই। তাই নিশ্চিন্তে বলা যায় , নওফেল ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। একশ্বরবাদী হওয়ার পাশাপাশি মুহাম্মদকে নবী হিসেবে বিশ্বাস করে তিনি মুসলমান হওয়ার সমস্ত শর্তই পূরণ করেছিলেন। খৃষ্টান ধর্মের মত ধর্মান্তরিত হওয়ার আগে চার্চে গিয়ে ঢোক ঢাল পিটিয়ে ব্যপটিজম অনুষ্ঠান করে নিজের ধর্মান্তরিত হওয়ার কাহিনী সবার মধ্যে প্রচার করতে হবে এমন কোন শর্ত ইসলামে নেই। সোজা কথায় একজন একশ্বরবাদী ও মুসলিমের মধ্যে পার্থক্য হোল মুহাম্মদকে নবী হিসেবে মেনে না নেওয়া ও নেওয়ার মধ্যে , সে ক্ষেত্রে নওফেল মুসলিম হয়েছিলেন এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ করার অবকাশ নেই।
এবার খৃষ্টান পাদ্রীদের একজন নবীর অপেক্ষায় থাকার কারণটা বলা দরকার। শুধু নওফেল না, সমস্ত খৃষ্ট জগৎ একজন নবীর অপেক্ষায় ছিলেন। কারণ ওল্ড ও নিউ টেস্টামেন্টে সেই ভাববাদী নবীর আগমনের ভবিষ্যৎ বাণী করা হয়েছে কয়েক জায়গায়।
সদাপ্রভূ ঈশ্বর মুসাকে বলছেন:
“ আমি তাদের ইস্রায়েলীয় ভাইদের মধ্য থেকে তাদের জন্য তোমার মত একজন নবী দাঁড় করাব। তার মুখ দিয়েই আমি আমার কথা বলব, আর আমি যা বলতে তাকে আদেশ দেব সে তা-ই তাদের বলবে” বাইবেল- দ্বিতীয় বিবরণ ১৮:১৮
“ একজনের কণ্ঠস্বর চিৎকার করে জানাচ্ছে,
‘তোমরা মরু এলাকায় সদাপ্রভূর পথ ঠিক কর;
মরুভূমিতে আমাদের ঈশ্বরের জন্য
একটা সোজা রাস্তা বের কর ‘ “ বাইবেল- যিশাইয় ৪০:৩
নিউটেস্টামেন্ট(ইন্জিল) এ যিশু বলছেন:
“......আমি পিতার কাছে চাইব , আর তিনি তোমাদের কাছে চিরকাল থাকবার জন্য একজন সাহায্যকারীকে পাঠিয়ে দেবেন। সেই সাহায্যকারীই সত্যের আত্মা। “
ইন্জিল , যোহন : ১৪:১৭
“ সেই সাহায্যকারী, অর্থাৎ পবিত্র আত্মা যাঁকে পিতা আমার নামে পাঠিয়ে দেবেন , তিনিই সব বিষয়ে তোমাদের শিক্ষা দেবেন, আর আমি তোমাদের যা কিছু বলেছি সেই সব তোমাদের মনে করিয়ে দেবেন”
ইন্জিল- যোহন-১৪:২৬
“ তবুও আমি তোমাদের সত্যি কথা বলছি যে , আমার যাওয়া তোমাদের পক্ষে ভাল, কারণ আমি না গেলে সেই সাহায্যকারী তোমাদের কাছে আসবে না। কিন্তু আমি যদি যাই তবে তাঁকে তোমাদের কাছে পাঠিয়ে দিব। তিনি এসে পাপ সম্বন্ধে ঈশ্বরের ইচ্ছামত চলা সম্বন্ধে এবং ঈশ্বরের বিচার সম্বন্ধে লোকজনদের চেতনা দিবেন। ”
ইন্জিল: যোহন ১৬:৭-৮.........
এরকম আরো অনেক ভবিষ্যৎ বাণী ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বাইবেলে । সেকারণে নওফেলের মত একজন খৃষ্টান পণ্ডিত বিশ্বাস করতেন মরুর বুকে এমন কেউ একজন আসবেন। নবীর জন্য অপেক্ষায় থাকার তাঁর এই অবস্থানকে বাঁকা চোখে দেখবার কোন কারণ আমি দেখছি না। তাঁর ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়ার ব্যাপারেও কোন সন্দেহের অবকাশ নেই।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুলাই, ২০০৯ সকাল ৮:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



