সম্প্রতি জাকের নায়েকের একটি বই এর উপর ব্লগে প্রচণ্ড সমালোচনা দেখলাম। তিনি হিন্দু ও ইসলাম ধর্মের মধ্যে সাদৃশ্যতার উপর একটি বই লিখেছেন যার নাম "Similarities between Islam and Hinduism "। অনেকের ধারণা বেদে মুহাম্মদের ﷺ ব্যাপারে যে ভবিষ্যৎবাণী করা হয়েছে তা ভূয়া ও কাল্পনিক। মুসলমানরা টেঁনে হিঁচরে বেদের মধ্যে মুহাম্মদ ﷺ কে নিয়ে এসেছে অভ্যাসবশত। ব্লগার বিপ্লক কান্তি একটি পোস্ট দিয়েছেন সম্প্রতি "মুহাম্মদ কি সনাতন ধর্মগ্রন্হ বেদের সন্তান ? আপনি কি বলেন ? বেদ সনাতন ধর্মের প্রধান ধর্মগ্রন্হ ।"
বিপ্লব কান্তি তার পোস্টটিতে একটি বড় ধরনের ভুল করেছেন। সেই ভুলের অপনোদনেই এ পোস্টটি লিখার প্রয়োজন বোধ করলাম। নয়ত বিপ্লব কান্তিসহ সাধারণ ব্লগারদের বেদ গ্রন্থে মুহাম্মদ ﷺ এর উল্লেখ নিয়ে ভুল ধারণার জন্ম নিতে পারে। পোস্টদাতা যে ভুলটি করেছেন তা হল, তিনি জাকির নায়েককে বেদে মুহাম্মদ ﷺ এর আবিষ্কারক হিসেবে ধরে নিয়েছেন। কিন্তু আসল ঘটনা হল, এ ব্যাপারে প্রথম গবেষণা করেন বেদ ও সংস্কৃতের হিন্দু পণ্ডিতেরাই।
১৯৯৭ সালে হিন্দু পণ্ডিত ডক্টর বেদ প্রকাশ উপাধ্যায় হিন্দি ভাষায় अंतिम इश्वेर दूत( অন্তিম ঈশ্বর দূত) নামে একটি বই লিখেন। কল্কি অবতারের সাথে মুহাম্মদ স. এর সাযুজ্যতা সর্বপ্রথম তাত্ত্বিকভাবে প্রমাণ করা হয় এ বইটিতেই । বেদ প্রকাশ উপাধ্যায় নামটি শুনেই বোঝা যাচ্ছে তিনি কোন সাধারণ হিন্দু নয়। তিনি সংস্কৃত ভাষায় একজন প্রথিতযশা পণ্ডিত ও ভারতের প্রায়াগ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতের শিক্ষক। তাঁর বইটির বাংলা অনুবাদও করেন একজন হিন্দু পণ্ডিত যার নাম ডক্টর অশিত কুমার বন্দোপাধ্যায়। ড. উপাধ্যায় সাহেবের অন্যান্য প্রবন্ধ রয়েছে বিষয়টি নিয়ে। যেমন: Kalki Avatar and Muhammad.
পরবর্তীকালে আরেকজন হিন্দু পণ্ডিত ডক্টর কমলাকান্তি তিওয়ারী একটি বই লিখেন যার নাম कलि युग के अंतिम ऋषि ( কালি যুগের অন্তিম রিষি) । সেখানেও এ প্রসঙ্গেই আলোকপাত করা হয়েছে। বলা বাহুল্য, কমলা কান্তিও একজন শাস্ত্রীয় বিশারদ ও পণ্ডিত।
যারা হিন্দু গ্রন্থ বেদের উপর গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেন, পারদর্শিতা অনুযায়ী তাদের বিভিন্ন উপাধি দেয়া হয়। যেমন: দ্বিবেদী, ত্রিবেদী, আচার্য ইত্যাদি। বেদের তেমনি একজন পণ্ডিত আচার্য সন্জয় দ্বিবেদ্বী। তিঁনি একজন ব্রাহ্মণ শাস্ত্র বিশারদ। তাঁর নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে , বেদের উপর তাঁর পাণ্ডিত্য সর্বজন স্বীকৃত। ভারতের নামকরা সম্ভ্রান্ত ও ধর্নাঢ্য ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম । তাঁর অন্য একটি পরিচয় তিঁনি সর্ব ভারতীয় ব্রাহ্মণ পর্ষদ (All India Brahmin Association) এর প্রেসিডেন্ট ছিলেন। পরবর্তীকালে তিঁনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।
আচার্য সন্জয় দ্বিবেদ্বী
যাই হোক, প্রসঙ্গে ফিরে আসি। জাকের নায়েক এসব তথ্যের উদঘাটক, এ ধারণাটি ভুল। ব্যাপারটি হিন্দু পণ্ডিতরাই সর্বপ্রথম ভারতীদের সামনে তুলে ধরেন। তাই এ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া অজ্ঞতাব্যঞ্জক যে, মুসলিমরা তাদের অভ্যাসবশত ইসলাম প্রীতিতে মুহাম্মদ স. কে বেদ গ্রন্থে জোর করে টেনে এনেছেন। ড. বেদ প্রকাশ উপাধ্যায়, কমলাকন্তী তিওয়ারী ও আচার্য সন্জয় দ্বিবেদী প্রমূখ সংস্কৃত ও বেদ পণ্ডিতদের হিন্দু ধর্মের বোধগোম্যতা অন্তত বিপ্লব কান্তি অথবা আমার চেয়ে ভাল তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।
তথ্যসূত্র:
अंतिम इश्वेर दूत( অন্তিম ঈশ্বর দূত)- ড. বেদ প্রকাশ উপাধ্যায়
कलि युग के अंतिम ऋषि ( কালি যুগের অন্তিম রিষি)-কমলাকান্তি তিওয়ারী
Kalki Avatar and Muhammad- ড. বেদ প্রকাশ উপাধ্যায়
Mohammad Hindu Kitabon Men-Ibn Akbar Azmi
[http://en.wikipedia.org/wiki/Kalki]
[http://sites.google.com/site/amininbox/drvedprakashupadhyaya]
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



