ব্লগে অনেক পোস্ট আসছে বিজাতীয় বেহায়াপনা ও অপসংস্কৃতির ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে। অনেকের সচেতনতা সত্যি প্রশংসার দাবিদার। এ ব্যাপারে সামাজিক ও গণ সচেতনতা তৈরী করতে তাদের আন্তরিকতা ও উদ্বেগ- উৎকণ্ঠা যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। বাঁধ ভাঙা এ নৈতিক অবক্ষয় রোধে অনেকেই বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার কথা ভাবছেন। এ ব্যাপারে তাই দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। ক্রমবর্ধমান অশ্লীলতা ও বেলেল্লাপনার বিরুদ্ধে নৈতিক আন্দোলনে অংশ নিয়ে তাকে সফল করতে চাইলে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীর অবশ্যই কয়েকটি যোগ্যতা থাকতে হবে।
১. শালীনতা ও অশ্লীলতার আঞ্চলিক সংজ্ঞার প্রভাবমুক্ত থাকতে হবে অংশগ্রহণকারীকে । আরেকটু ভাঙিয়ে বললে, বাঙালী অথবা অন্য লোকায়ত সংস্কৃতির মাপকাঠি দিয়ে শালীনতা ও অশ্লীলতার পরিমাপ করলে চলবে না। শ্লীলতা-অশ্লীলতার একমাত্র মাপকাঠি ঐশী জ্ঞান। অর্থাৎ নবী রাসূলদের উপর অবতীর্ণ অহি বা ঐশীজ্ঞানের মাপকাঠি দিয়েই শ্লীলতা ও অশ্লীলতার সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে হবে। নয়ত কোনভাবেই অশ্লীলতা ও অনাচার রোধ করা সম্ভব হবে না।
সমাজতান্ত্রিক রাশিয়া ও চায়নাতে অশ্লীলতার বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন হয়েছিল। কিন্তু এ আন্দোলনের তাত্ত্বিক ভিত্তি ছিল আঞ্চলিক সংস্কৃতির বাতায়নে শ্লীলত ও অশ্লীলতা কী তার উপর। শ্লীলতা ও অশ্লীলতার সংজ্ঞা পাল্টেছে বার বার। শেষমেষ আন্দোলন হোচট খেতে খেতে ব্যর্থতার গর্তে যেয়ে তার পরিসমাপ্তিতে টেনেছে। চায়নাতে এখন প্রকাশ্যে অশ্লীলতা চলে। রাশিয়ার অবস্থা আর নাই বললাম। কয়েকদিন আগে চায়নার বেইজিং শহরে প্রকাশ্যে গে মেরিজ অনুষ্ঠিত হয়। এবং সেখানে সরকারিভাবে গড়ে ওঠেছে অসংখ্য আধুনিক পতিতা ও বেশ্যালয়।
২. অংশ্রগহণকারীকে ব্যক্তিগতভাবে অবশ্যই পরিচ্ছন্ন হতে হবে। শাহরুখ খানের কনসার্ট সবটুকু চোখভরে দেখার পর " ছি ছি , কী অশ্লীল ব্যাপার-সেপার" বলে সাময়িক প্রণোদনা সৃষ্টি করার চেষ্টা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে। দেশে কী হচ্ছে না হচ্ছে এর দোহাই দিয়ে শাহরুখের কনসার্ট অথবা প্রভা অপূর্ব মার্কা ভিডিও দেখা থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ বিরত রাখতে হবে। শাহরুখ আর প্রভা মার্কা লোকজন মানেই অশ্লীলতা এ কথাটি চিন্তা চেতনায় গভীরভাবে প্রোথিত করে দিতে হবে। ব্যস, এর বেশি কিছু দরকার নেই। বাকি খবর মুখে মুখে আপনার কাছে এমনিতেই পৌছুঁবে।
৩. নিজেদের ঘর থেকে আগে অশ্লীলতাকে বিদায় করতে হবে। সুশীল মুরুব্বিদের "শাহরুখ" অশ্লীল আর "দীলিপ কুমার" শালীন, " প্রভা খারাপ" কিন্তু "সূচিত্রা সেন" ভাল, এ ধরণের মনমানসিকতা দূর করতে হবে। আমরা যে ঐশী জ্ঞানের সন্ধান পেয়েছি তার দৃষ্টিতে শাহরুখ, দিলীপ কুমার, প্রভা, সুচিত্রা সবাই এক-ই কাতারের, কথাটি ভালভাবে মনে রাখতে হবে। বোতলের গায়ে মদ লেখা থাকলেই সেই বোতল বর্জন করার জন্য যথেষ্ট, বোতলের ভেতরে মদ আছে কি নেই অথবা সেটি খেলে মাতলামী আসে না আসে না তা পরখ করে দেখতে যাওয়ার কোন অবকাশ নেই। সেটি করতে গেলে আন্দোলন চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হবে।
৪. অশ্লীলতা ও নগ্নপনা সংস্কৃতির কোন একক অপসৃষ্টি না। এর অনেক শাখা প্রশাখা ডাল পালা রয়েছে। গানবাজনা, যৌন সুরসুরি দেয় এমন গদ্য, কাব্য-কবিতা-সাহিত্য ইত্যাদির সাথে অশ্লীলতা ও নগ্নতা অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। মোটকথা অবচেতনতায় অশ্লীলতার বীজ সৃষ্টি করতে পারে এমন যে কোন প্রণোদনা অথবা সংস্কৃতিকে লাথি মেরে মন থেকে তাড়িয়ে দিতে হবে।
৫. কোরআন ও হাদিসের মাপকাঠিতে অশ্লীলতা কী সে বিষয়ে গভীর তাত্ত্বিক জ্ঞান থাকতে হবে। ভাসা ভাসা জ্ঞান থাকলে চলবে না। টু দা পয়েন্ট ব্যুৎপত্তি অর্জন করতে হবে। কারণ এ আন্দোলন ঐশী জ্ঞানকে তাত্ত্বিক ভিত্তির জায়গায় দাঁড় করাতে না পারলে, তা পুরোপুরি ব্যর্থতায় পর্যবসিত তো হবেই উল্টো প্রচলিত অশ্লীলতা, সুশীল অশ্লীলতা রূপে আত্মপ্রকাশ করার সম্ভাবনা আছে।
এ ব্যাপারে সম্মানিত ব্লগারদের যদি আরো কোন পরামর্শ থাকে তাহলে অবশ্যই তা জানাবেন। এতে অশ্লীলতা বিরোধী আন্দোলন আরও বেগবান ও বলিষ্ঠ হবে ইনশাল্লাহ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

