শীতের মাঝামাঝি এই সময়টা ছিল পড়ন্ত দুপুরবেলা। ধূলিমাখা সবুজের ফাঁকফোকড় দিয়ে, টুকরো টুকরো সোনালী আলোর ধারা; আর্দ্র মাটির মায়া মেখে নিচ্ছিল । রেললাইন এর পাশ ঘেষেই- শুকনো পাতার চাদরমুড়ি দিয়ে মেঠো পথটি এঁকে বেঁকে, তার সঙ্গী হয়েই মিশে গেছে যেন দিগন্তে।
শীতল ইস্পাতের চকচকে শরীর দৃষ্টি আকড়ে ধরে রাখতে চায়, কুয়াশায় হারিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত।দুপাশ থেকে মাথাচাড়া দিয়ে দাড়িয়ে থাকা গাছেরা ঝুকে ঝুকে ক্রমশ যেন নিজেদের ভেতরেই আহ্বান করে। জড়ো হয়ে থাকা ধূসর নুড়ির প্রবাহ থেকে- মাঝে মাঝে ছিটকে সরে আছে, নিয়ম না মানা কিছু চকমকি পাথর।
আনমনা পথিক ভাবে- কোথায় গেলে যাত্রার শেষ? দৃষ্টির বাইরে গিয়েও কেন মিলন হয়না, পাশাপাশি চলতে থাকা এই দুটি ধারার?
কেউ কেউ , দু এক কদম এগিয়েও যায় আড়াআড়ি পড়ে থাকা কাঠের টুকরো ধরে।
কিন্তু গন্তব্য শুধুই পিছু হটে।
একেবারে যারা সংসারী মানুষ; ওরা কেবলই পেছন থেকে তাড়া দিতে থাকে। ইস্পাতের যুগলদ্বয়ের একাকীত্ব, একদমই কাছে টানেনা তাদের।
গুমটিঘরের এই ছোট আকাশ টুকু, ক্ষনিক অতিথীদের দীর্ঘশ্বাসের বাতাসে ভারী হয়ে থাকে সবসময়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

