somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... টুকিটাকি-১ ব্লগিং
অনেকদিন ধরেই ব্লগে অনিয়মিত হয়ে পড়েছি। নতুনদের ভিড়ে পুরোন নামগুলোও আজকাল চোখে পড়ে না। ড্রাফটে অবহেলায় পড়ে আছে বেশ কিছু খসড়া লেখা। মাঝ মাঝে মনে হয় একটানে শুরু করে দেই। কিন্তু........
তারপরও যখন ব্লগের পাতায় চোখ বুলিয়ে যাই; তখন মনে হয় টুকুটাকি কিছু ছাইপাশ লিখে গেলেও মন্দ হতো না। তবে, একটা ব্যাপার খুব ভালো বুঝে গেছি, সৌখিন লেখিয়েদের দৌড় খুব বেশী নয়। <img src=" style="border:0;" />

পড়াপড়ি
ফেসবুকে এক বন্ধুর দেয়া তথ্যের সুত্র ধরে প্রথম চেতন ভগতের নাম শুনি। তার লেখা 'ফাইভ পয়েন্ট সামওয়ান' বইটা থেকেই নাকি 'থ্রি ইডিয়টস' ছবিটা করে হয়েছে। যদিও ছবিটা নিয়ে প্রচুর সমালোচনা হয়েছে ব্লগে; কিন্তু ছবিটি আমাকে সবসময়ই বুয়েট লাইফ আর স্থাপত্য পড়ার টানাপোড়েনের কথা মনে করিয়ে দেয়। 'ফাইভ পয়েন্ট সামওয়ান' নেট থেকে ডাউনলোড করেছি ঠিকই, কিন্তু মনিটরে পড়তে ইচ্ছা করে না। সাগর পাবলিশার্সে খুঁজে টুজে চেতনেরই আরেকটি বই 'ওয়ান নাইট @কল সেন্টার' বইটা পেয়ে গেলাম। সুপাঠ্য নিঃসন্দেহে। সেখানেই আরেকটি বই পেয়ে গেলাম, নরেন্দ্রনাথ মিত্রের গল্পমালা ৬, ৭। সেই ১৯৯৫ এর দিকে আগের খন্ডগুলি সংগ্রহ করেছিলাম। ছোট গল্পের গর্ব বলা হয় নরেন্দ্রনাথ মিত্র কে। শেষভাগে এসে প্রতিটা গল্প যেভাবে মোড় নিত, খুব কম লেখকের লেখাতেই সেটা দেখা গেছে। ছোটগল্পে আগ্রহী পাঠকের অবশ্যই এই লেখকের লেখা পড়া উচিত।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29277974 http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29277974 2010-11-25 23:27:38
নাস্তিক (কল্প গল্প) প্রভূ নেফটারের লিপি থেকে প্রাপ্ত
সিদ্ধান্ত নেয়াটা আমার জন্য মোটেও সহজ ছিলনা। এমন একটা অবস্থানে থেকে অবশ্য কারো পক্ষেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া কখনোই সহজ হয়না। আমাদের সভ্যতার ইতিহাসে এর আগে এই মাপের সিদ্ধান্ত কেউ কখনো নেয়নি, আর ভবিষ্যতে নেয়ার সুযোগটাও নষ্ট হয়ে গেলো বৈকি! (অবশ্য ভবিষ্যত বলে যদি কিছু থাকতো তাহলেই)।
পেছন ফিরে তাকালে আজকাল আর খুব বেশী কিছু মনে করতে পারিনা। ঈশ্বরবিশ্বাসীদের সাথে দীর্ঘ ক্লান্তিকর যুদ্ধ আমার অতীত স্মৃতির সবটুকু ছিনিয়ে নিয়েছে। পুরো পৃথিবীতে আমার অনুসারীদের কর্তৃত্ব স্থাপনের তাও প্রায় ২০০ বছর পার হয়ে গেলো।
তারপরও, অবাক লাগে যখন দেখি পৃথিবীর আনাচে কানাচে এখনো ঈশ্বর বিশ্বাসীদের অস্তিত্ত্ব অটুট থেকে গেছে।
বিস্ময় কেটে ক্রোধে পরিনত হতে সময় লাগে না!
আমার হাতে সময়ও খুব বেশী একটা আর নেই। আর বড়জোর দু চার বছর!
তারপর অসীম শূন্যতায় বিলীন হয়ে যাবো আমিও।
ভাবনাটা আজকাল অস্থির করে তুলতে চায় আমাকে।
তার আগেই প্রমাণ পাওয়াটা আমার দরকার!
আমার অনুসারীরাও এই শংকা থেকে মুক্ত হতে পারছে না, যে আমি না থাকলে কী ঘটবে!?
এখন আর সেই ভয়টা থাকলো না; সব কিছুই শেষ হয়ে যাবে; কেবল অল্প কিছু সময়ের ভেতরেই। নিজেকে তৈরী করে নিয়েছি মানসিকভাবে।
এটোমিক চেইন রিঅ্যাকশন শুরু হবার মাত্র দুঘন্টার ভেতরেই পুরো পৃথিবীতে তা ছড়িয়ে পড়বে। শক্তিনির্ভর সব প্রাণের অস্তিত্ত্ব বিলীন হয়ে যাবে মাত্র একশো বিশ মিনিটের ভেতরেই!
মনে মনে তৃপ্তির হাসি হাসছিলাম আমি।
এবার?! তোমাদের ঈশ্বর কী করবে? এই সভ্যতাকে বাঁচাতে কি অবগুন্ঠনের আড়াল থেকে বের হয়ে আসবেন?
আস্তিক নাস্তিকের দ্বন্দ সেই সৃষ্টির শুরু থেকেই। চুড়ান্ত মুক্তির পথ কখনোই একা পাওয়া সম্ভব নয়। যুগে যুগে ধর্ম প্রচারকরা সবসময় জেনেশুনে এই ভুল করে এসেছে। তারা প্রত্যেকের আলাদা আলাদা পরজীবনের লোভ দেখিয়ে আমাদেরকে বঞ্চিত করেছে প্রকৃত সত্য থেকে; সৃষ্টিকর্তাহীন মহাজগতে এনেছে ঈশ্বর নামের সবচেয়ে ভয়াবহ মহামারিকে।
যুগে যুগে নেতৃত্বরা কেবল পরজনমের লোভ দেখিয়ে আমাদেরকে ধর্মের দিকে ঠেলে দিয়েছে। অথচ এই জীবনের চাওয়া পাওয়া টুকুকেই তারা অবহেলা করে গেছেন চিরকাল!
আমি কেবল আমাতেই বিশ্বাস করি। আমি যখন নেই; তখন কোন কিছুই, সব অস্তিত্তই অর্থহীন আমার কাছে।
প্রতিটি অস্তিত্তের জন্যই তাই।
কিন্তু হায়! ঈশ্বর বিশ্বাসীরা অন্ধকারকেই বেছে নিতে চায়।
এই কারণেই আমাকে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হলো। আমাদের জাতির সমাপ্তি টানার সময় এসে গেছে। যদি ঈশ্বরের কাছে শেষ বিচার ই আমাদের নিয়তি হয়ে থাকে, তবে আমাদের দ্বারাই সেটা হোক না কেন? যে পরিণতি একসময় ভোগ করতেই হবে; সেটা এখনি হোক না কেন?! কেন আমরা তাকে এখনই পেতে চাইবো না?
এই সভ্যতাকে উন্নতির অর্থহীন শিখরে টেনে নিয়ে গিয়ে কীই বা লাভ হবে তবে?
যদি পরজীবন থেকেই থাকে আর চির অনন্ত আমরা পাবোই তবে তা এখনই নয় কেন?
ঈশ্বর মহা বিশ্ব করেছেন এইঅগ্নি সৃষ্ট জাতির জন্য?!
তাহলে এই জাতিই যদি না থাকে; যদি ধ্বংস হয়ে যায়, তবে কি ঈশ্বর মহাপ্রলয়ের সূচনা করে দেবেন?
এই প্রশ্নের উত্তর জানা আমার জন্য অবশ্যম্ভাবী হয়ে দাড়িয়েছে। আমি যে খুব বেশী সময় পাবো তা নয়। চেইন রিঅ্যাকশন শুরু হবার পর প্রতিরোধ ব্যবস্থা আমাকে বড়জোর ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত রক্ষা করবে।
আমি এই ২৪ ঘন্টার প্রতিটি মূহুর্ত উপভোগ করতে চাই ঈশ্বর হীনতার জয়গান গেয়ে।
...................................
সমাপ্তি ঘনিয়ে এসেছে। ঈশ্বর এখনো আসেননি। আমার হাতে অল্প কিছু সময় ছিল। এর ভেতরে আমি এই লিপিগুলি সংরক্ষন করে যাচ্ছি।

লেখকের কথা
লেখাটা এখানেই শেষ। গেল বছর এক কারখানা মালিক, যিনি আমার ক্লায়েন্ট, তার জন্য একটা পাওয়ার প্ল্যান্ট ইমপোর্ট করতে হয়েছিল। সেটা ইনসপেকশন করতে আমাকে দক্ষিণ আমেরিকার পেরুতে যেতে হয়। কাজ শেষ করে অবসরের সুযোগে কিছু পুরোনো অ্যানটিক সামগ্রীর দোকানে ঢু মেরেছিলাম। সেখানেই একটি শিরি লিপিতে লেখা তাম্র পান্ডুলিপি পেয়ে যাই।(শখের বসে আমি ইন্টারনেট ঘেটে 'শিরি লিপি'টা শিখে নিয়েছিলাম একসময়। দক্ষিণ আমেরিকার উপকথায় শোনা যায় শিরি লিপির জন্ম নাকি এই পৃথিবীতে নয়।) দেশে ফিরে অনেক সময় নিয়ে সেটার পাঠোদ্ধার করেছিলাম। পুরো পান্ডুলিপি হয়তো সেখানে ছিল না, কিংবা হয়তো এটা এভাবেই সম্পূর্ণ ছিল। এটা কি গল্প না কোন উপকথা কিংবা সত্য ঘটনা, সেটা বিচার করার ক্ষমতা আমার নেই; পাঠকের উপর ছেড়ে দিলাম। তবে এই লিপির কোথাও মানব সভ্যতার কথা পাইনি। অগ্নি সৃষ্ট এক জাতির কথা এসেছে একটি জায়গায়। তবে কি এরাই গ্রীক উপকথার দেবতা কিংবা নানা ধর্ম গ্রন্হে বলা সেই ভিন্ন জাতি? বিচারের ভার পাঠকের উপর।তবে প্রতিক্রিয়া পেলে ভালো লাগবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29264787 http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29264787 2010-11-01 00:23:54
এ বছরের ঈদের চাঁদ আকাশে যদিও ঈদের এমন মোটাতাজা চাঁদ খুব কমই চোখে পড়ে। আজকে সন্ধ্যা মিলিয়ে যাবার অনেক পরও চাঁদটা আকাশে জ্বলজ্বল করছিল। ছবিটা সেসময়ই তোলা।
দুষ্টু লোকেরা কানাকানি করছিল ঈদ নাকি কালকেই হয়ে গেছে <img src=" style="border:0;" />
যাই হোক আনন্দে ভরে উঠুক ঈদের প্রতিটি মূহুর্ত।
নতুন অতিথিকে সাথে নিয়ে আমাদের ঈদটিও চমৎকার কাটবে আশাকরি।
সবার জন্য শুভকামনা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29238127 http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29238127 2010-09-10 19:24:17
কল্প গল্প: আইএএলটিএস মজনু ভেবেছিল একগাদা ক্রেডিট খরচ করে এলিয়েন কাউন্সিলের IALTS প্রিপারেশন কোর্স করার চাইতে, অল্প পয়সায় কিছু ডাটাবেজ কিনে নিয়ে আপলোড করে নেয়াই ভালো। সেভাবেই এগিয়েছিল সে। আপলোডের পর সেলফ টেস্টে 'সুপ্রীম' ব্যান্ডমার্কও করে ফেলে। কিন্তু পয়সা বাঁচাতে গিয়ে 'থট রিডিং মডিউলের পরীক্ষাগুলি আর দেয়নি।
গ্যাঁড়াকল লাগলো সেখানেই।
মূল ঘটনায় যাবার আগে IALTS পরীক্ষার ব্যাপারটা একটু ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন আছে। (আজকাল অনেক পৃথিবীবাসী গল্পপাঠকই সাধারণ জ্ঞান ডাটাবেজ লোড না করেই পাঠ শুরু করেন, এই প্যারাটা তাদের জন্য। এলিয়েন পাঠকদের এই অংশটুকু ক্লান্তিকর লাগতে পারে; আগে ভাগে ক্ষমা চেয়ে নিলাম।)
২৫৬৮ সনের বর্তমান পৃথিবীতে সুযোগ সুবিধা একেবারেই কমে এসেছে। অন্যান্য গ্রহগুলোর তুলনায় জীবনযাত্রার মান নিম্নগামী। মানুষ এখন মহাকাশ মাইগ্রেশনের দিকে ঝুঁকে পড়েছে অনেকখানি। কিন্তু ইউনাইডের এলিয়েন নেশন (UAN) এটা খুব একটা উৎসাহিত করতে চায়নি। তাই, আন্তগ্রহ মাইগ্রেশনের হার আর মান নিয়ন্ত্রণ করার জন্যই IALTS অর্থ্যাৎ Intergalatic Alien Language Test Standards পরীক্ষা শুরু হয়েছে। বলা বাহুল্য ইংরেজী পৃথিবীবাসির মাতৃভাষা হলেও অন্যসব গ্রহে তা এখন প্রায়বিলুপ্ত। আন্তর্মহাজাগতিক ভাষা হলো 'অ্যালিঙ্গুয়েজ' । তাই চাকরী, পড়াশোনা, নাগরিকত্ব সবকিছুর মাপকাঠি হিসাবে এই IALTS পরীক্ষা। ন্যুনতম ব্যান্ডমার্ক অর্জন করতে না পারলে কোন পৃথিবীবাসীই চাকরী বাকরী তো দূরের কথা, এমনকি মহাকাশ ভ্রমণের সুযোগই পায় না।
যেহেতু গ্যালাক্সির আধুনিক প্রচলিত যোগাযোগ রীতি মৌখিক ভাষা নির্ভর নয়, তাই IALTS ও সেভাবেই সেট করা হয়েছে। ছয় টা ভাগে পরীক্ষাটা নেয়া হয়।
স্বাদ, স্পর্শ, ঘ্রাণ, শ্রুতি, দর্শন আর টেলিপ্যাথি। ন্যুনতম পারদর্শিতা দেখাতে পারলেই কেবল মিলবে ছাড়পত্র।
তা যা বলছিলাম।
মজনুর শুরুটাও ভালোই হচ্ছিল।
প্রায় গোটা বিশেক বিকট স্বাদের টেস্ট ম্যাটেরিয়াল রাখা ছিল। সে ১৬টা ঊদ্ধার করতে পারলো।
'ক্রি ক্রি ক্রি মাআআআআলা' গ্রহের 'তুরবিন' প্রাণীর ( পৃথিবীর হিসাবে মাকড়সা জাতীয় প্রাণী; যাদের কিনা সে গ্রহের আশরাফুল মাখলুকাত বলা জেতে পারে) যুদ্ধপ্রস্তুতির লালার স্বাদটা তাকে বিভ্রান্ত করে না দিলে সে হয়ত বাকি কটাও বের করে ফেলতে পারত! সে প্রথমে এটাকে 'ঝুলঝুলা' গ্যালাক্সির যাযাবর সরীসৃপদের বন্ধুত্বের উপহারের প্রতীক ' নাল্লাফ বিয়ার' হিসাবে ভেবেছিল। আসলে দুটোর স্বাদ ই কাছাকাছি ( অনেকটা পৃথিবীর বিলুপ্ত পশু গরুর বর্জ্যের মতো)
এরপর গেলো সে পরীক্ষা কক্ষ দুই এ।
ঢোকার সাথে সাথে মোটা মতো এক ছায়া তাকে জাপটে ধরে ফেললো। আগে থেকে প্রস্তুতি থাকার পরও মজনু আর্তচিৎকারটা প্রায় দিয়েই ফেলেছিল। কোনমতে আতংক কাটিয়ে উঠে, দ্রুত কুসুম কুসুম কোমল স্পর্শের মেন্টাল ডাটাবেজ ঘাটতে শুরু করলো। তথ্য পাবার সাথে সাথে সে বলতে শুরু করলো-
"জেন্ডারঃ নারী; গ্যালাক্সীঃ দিমিত্রি, বয়সঃ আর্থ ৩৯, সৌন্দর্য্য মাত্রাঃ ৭৩%"
একটা ক্লিক শব্দ হয়ে মুহুর্তে মুক্তি পেলো সে নাগপাশ থেকে। কিন্তু স্বস্তির শ্বাস ফেলার কোন সুযোগ ছিলনা। একটার পর একটা আলিঙ্গনে পরীক্ষা চালু থাকলো। দশটার কোটা পেরুতে তার খুব একটা বেগ পেতে হলনা। তবে 'স্বর্গিন' গ্রহের সবচেয়ে রহস্যময় প্রজাতি মেনকা রম্ভার আলিঙ্গন থেকে কেন যেন তার, বের হতে মোটেও ইচ্ছে করছিল না । ডিসকোয়ালিফাইড হবার ভয় না থাকলে সে নিঃসন্দেহে আরো কিছুক্ষন জাপ্টে ধরে থাকতো।
এরপর ঘ্রাণের মডিউল।
এটা পার হওয়া অবশ্য পৃথিবীর মানুষদের জন্য খুব সহজ। পুরা গ্যালাক্সিতে সারমেয়র পর মানুষের ঘ্রাণকেই সবচেয়ে তীক্ষ্ণ মানা হয়! সবকটা স্যাম্পলের ঠিকঠাক ডাটাবেজ লিংক করে, সে চলে আসলো শ্রুতি মডিউলে।
সাত/আটটা সাউন্ড স্যাম্পল ডাটা লিংক করতে করতে তার কান ঝিমঝিম শুরু হয়ে গেলো। নবমবারে যখন 'প্রুলাকাঙ্কান' গ্রহের 'চিচিহুয়া' জাতের জাতীয় সংগীতের তীব্র আর্তনাদ শুনতে পেল, তখনই সে লিংক বন্ধ করে দিল। যথেস্ট নাম্বার তোলা হয়েছে এই মডিউলে; দুটো বাদ পড়লে ক্ষতি নেই, আগে জান বাচানো দরকার!
দৃষ্টিনির্ভর পরীক্ষাটা হলো খুব দ্রুত।
একটার পর একটা ছবি, হলোগ্রাফ, শ্যাডোগ্রাফ এর উপর মন্তব্য লিপিবদ্ধ করে যেতে হলো তাকে।
ছোটবেলা থেকেই সে এসব ডাটা জেনে আসছে নানাভাবে। অনায়সেই উতড়ে গেলো এই অংশটুকুও। বলা চলে তার আত্মবিশ্বাস কিছুটা বেড়েই গেলো বরং। কিন্তু তখনো ঘুর্ণাক্ষরেও অনুমান করতে পারেনি সর্বনাশটা যে এভাবে হয়ে যাবে!
থটরিডিংটা হলো সবচেয়ে আনপ্রেডিকটেবল মডিউল।
এখানে যে কোন টাস্ক করতে দেবে, কীভাবে করতে দেবে, তা অনুমান করা একেবারেই মুশকিল। পরীক্ষার্থীকে একটা আলোচনার প্রেক্ষাপটে নিয়ে যাওয়া হয়; যেখানে দুজন এলিয়েন তাদের পদ্ধতিতে বার্তা বিনিময় করতে থাকে। তাকে থটরিডিং পদ্ধতির মাধ্যমে পরীক্ষক রোবটের কাছে এই ডাটা প্রেরণ করতে হয়। গবেষণা করে দেখা গেছে পৃথিবীবাসীদের এই মডিউলে খারাপ করার মূল কারণ হচ্ছে তাদের অতি ইমোশনাল কনটেন্ট বা ইকিউ জনিত দূর্বলতা!
মজনু সেই কথা মাথায় রেখেই যতোটা সম্ভব নিরাসক্ত অনুভুতি নিয়ে পরীক্ষা কক্ষে ঢুকে গেল।
তাকে জানিয়ে দেয়া হলো ভিনগ্রহী এক জুটি তাদের ভালবাসার অনুভুটিকে প্রকাশ করছে; সেটাই তাকে থটরিড করতে হবে। মজনু দ্রুত তার আপলোডেড ডাটা লিংক চেক করে নিল। একজন মেয়ে আর অন্যটি ছেলে। মেয়েটি আবার "ইয়ে এ, এ, এ, লেভু" (ঊচ্চারণটা বিরতী দিয়ে না করলে অশুদ্ধ ধরা হয়) গ্রহের বিউটি কন্টেস্ট বিজয়ী। মজনু মনে মনে প্রমাদ গুনলো; এই গ্রহটির কুখ্যাত হয়ে আছে বিপরীত মানসিকতার জন্য। ওখানটায় সব কিছুই পৃথিবীর ঠিক উলটো। তাই মিস 'ইয়ে.. লেভু'র দশাসই বীভৎস কায়া দেখে অবাক হলোনা মোটেও।
সে মনসংযোগ করার চেষ্টা করলো তাদের ভাবনায়।
তারা দুজনে জুটি বাঁধা অনুষ্ঠানের পরিকল্পনায় মেতে ছিল। সেই ভাবনাজালের ডাটা গোছাতে গোছাতে অদ্ভুত এক বিষন্নতায় ডুবে যেতে থাকে মজনু। তার থটরিডিং এর জাল ভেদ করে জেগে ওঠতে চায় অন্য এক মুখচ্ছবি।
কতোদিন দেখা হয়না লাইলীর সাথে! মাইগ্রেশন যদি হয়ে যায়; আর দুজনের দেখা হবে কিনা কে জানে!
মজনুর মনসংযোগ বার বার ছুটে যেতে থাকে ভিনগ্রহী দুজনের অনুভুতির ডাটা চলাচলের সংযোগ থেকে। এলিয়েনজুটির আবেগের জালে সে নিজেকে কোনভাবেই সেট করতে পারেনা। কাঁচের রুমের বাইরে বসা পরীক্ষক রোবটটির দিকে সে তাকিয়ে থাকে অসহায় ভাবে। অবাক বিস্ময়ে আবিষ্কার করে রোবট টির পেছনে লাইলীর অবয়ব ভেসে উঠেছে। নির্ভরতার মৃদু হাসি দিয়ে সে যেন হাতছানি দিয়ে পিছু ডেকে চলছে মজনুকে!
রোবটটি ছোট একটা দীর্ঘশ্বাস গোপন করলো। ডাটা শীটে ক্রস চিহ্ন দিতে দিতে যান্ত্রিক ভাবনায় ডুবে গেলো সে- আবারো তবে আরো একজন হতভাগা আদমসন্তান ইভের মায়ার জাল ছিড়তে ব্যর্থ হলো!
এই ভাবনাটি থটরিড করতে অবশ্য মজনুর কোন সমস্যা হল না।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29233170 http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29233170 2010-08-31 22:19:46
ছবি ব্লগ: আগুনের রঙ
জলরঙ


কৃত্রিম


ভিনগ্রহ


আগুনজ্বলা মেঘ


আলোর কায়া


আলো-১


আলো-২


কম্পোজিশন ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29209762 http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29209762 2010-07-28 21:55:39
নস্টালজিয়া ছুটে ছুটে ছুটে......
ঘাসফড়িং এর পাখা;
রোদে কাটা ঘুড়ি দল
আর
দেহঘাম জুড়ে থাকা সোঁদা ঘ্রাণ মাঠ।।
বুঝলেই আঁখি পাতা
দেখি দেখি দেখি.....
ঝলমলে নাগরিক খোলসের শব;
ভিড়দলে একা কোন
পায়েদলা ছায়া
আর
না ছোঁয়া স্বপ্নের শিশিরের কণা।
চাইলেই মুছে ফেলি,
ঘষে ঘষে ঘষে....
কবিতার খাতা থেকে জোছনার লাজ;
চোখের মমতা ঢাকা
মোহের চাদর
আর
হাতের কাঁপুনি থেকে অচ্ছ্যুত ছোঁয়া।।

তবু.......,
পিছে রয়ে যাওয়া আমি,
আমাকেই টানি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29186827 http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29186827 2010-06-28 08:45:06
ভ্রমণব্লগ- ভারতের ছবি (শেষ পর্ব ) সবুজ ঝান্ডা ও কমলা ঝান্ডার গল্প
ব্যাপারটার দিকে নজর পড়লো মাইশোরে গিয়ে। আমাদের গাড়ির চালক বেশ বন্ধুভাবাপন্ন। হয়তো মুসলিম বলেই সে বেশ খোলামেলা ভাবেই তার ভাবনাগুলি আমার সাথে শেয়ার করছিল। সে বিভিন্ন মহল্লা দেখাচ্ছিল; আর বলছিলো কোনটা মুসলিম প্রধান এলাকা। তার কাছ থেকেই জানলাম মুসলিম প্রধান এলাকায় তারা চাঁদ তারা খচিত সবুজ ঝান্ডা বা পতাকা উড়ায়। আর হিন্দুরা রাখে কমলা ঝান্ডা! সে খুব অবাক হলো আমরা ঝান্ডা উড়াই না শুনে। অবশ্য এটা মেনে নিল , যেহেতু আমাদের মুসলিম প্রধান দেশ আর তাছাড়া আমাদের এখানে খুব বেশী একটা ধর্মীয়ভাবে এলাকাভিত্তিক বসবাস হয়না।ওখানে দাঙ্গার সময় সবাই ঝান্ডা দেখে আশ্রয় নেবার চেষ্টা করে।
পরবর্তিতে অন্য সব শহরেও তাই দেখলাম। তবে নাগপুরে আমাদের সংস্থার ভারতীয় পরিচালক জানালেন, এই শহরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অভূতপূর্ব। সবাই একত্রে কমিটি করে উৎসব পালন করে।

মুম্বাই হামলার স্মৃতি
অনেকেরই গত বছরের বুম্বাই এ সন্ত্রাসী হামলার সেই দৃশ্যগুলি মনে আছে নিশ্চই। আমিও সুযোগ পেতেই হাজির হয়ে গেলাম সেই জায়গা গুলিতে।

তাজ হোটেল
দেখে বোঝার উপায় নেই এখানে একসময় দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছিল।


এটা গেটওয়ে অব ইন্ডিয়া। তাজ হোটেলের সামনেই। এই গেটের ঘাট দিয়েই সন্ত্রাসীরা এসেছিল।








এটা বিখ্যাত লিওপোল্ড ক্যাফে। এখানেও হামলা হয়েছিল।


ক্যাফের ভেতরে ওয়াল পেইন্ট। সম্ভবত শত বছরের পুরনো।


বম্বের মেরিন ড্রাইভ। শহরটা এই তীর ঘেষেই


বোম্বের চমৎকার দুটি ভবন




বিখ্যাত একটি স্হাপত্য। কাঞ্চনজঙ্ঘা এপার্টমেন্ট। ৯৬ এ যখন বুয়েট থেকে আমরা যাই, তখনও এর ছবি তুলেছিলাম।


নাগপুর- কমলার শহর
নাগপুর হলো মহারাষ্ট্রে; তবে ভারতের এটি ঠিক কেন্দ্রে অবস্থিত। মজার ব্যাপার হলো এই সেন্টার পয়েন্ট টি মার্ক করা আছে নীচের এই ভাস্কর্য্য দিয়ে।

নাগপুরকে বলা হয় কমলা নগরী। ভারতের সবচেয়ে বেশীপরিমাণে ও ভাল মানের কমলা এখানে উৎপাদিত হয়। শহরটি খুব ছিমছাম , মাঝে মাঝে পাহাড়ী উঁচু নীচু পথ। শান্তি প্রিয় লোকজন।

এখানেই ভারতের গল্প শেষ হলো এবারকার মতো ।
ছবি বড় করে দেখার জন্য নীচের প্রিভিউগুলিতে ক্লিক করুন।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29152145 http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29152145 2010-05-10 00:05:34
ভ্রমণব্লগ- ভারতের ছবি (পর্ব তিন) গুজরাতি বিয়ে
বোম্বেতে এক বেলার জন্য একটা গাড়ি ঠিক করে ফেললাম। রোববার বলে রাস্তা ঘাটে ভিড় নেই মোটেও। হাতে সময় ছিল সকাল ১০ টা থেকে রাত পর্যন্ত, ভাবলাম এক দৌড়ের উপর যতটুকু দেখা যায়, বার বার টেক্সি খোঁজার ঝামেলা নেই।
এই ঘোরাঘুরির ভেতরেই হঠাৎই চোখে পড়লো বরযাত্রির এই ছোট দলটিকে। ড্রাইভার সাহেব জানালেন, এরা গুজরাতি। খেয়াল করে দেকখলাম রাস্তার উপরেই কাছাকাছি দুটি বাড়ি বেশ সাজানো। পায়ে হেটেই চলছিল সবাই। বরের জন্য স্পেশাল ঘোড়ার গাড়ি।

নীচের ছবিতে ঘাড়ের উপর কলসি নিয়ে যে লোকটি দাড়িয়ে, সে একটু পর পর ঘড়া থেকে পানি জাতীয় তরল ঘোড়ার চলার পথের উপর ঢালছিল,

পাশ ফিরে তাকিয়ে থাকা যুবকটি ই মনে হলো পাত্রমশায়!

এগিয়ে চলছে বরযাত্রী, গন্তব্য অল্প সামনেই


হাজী আলির মাজার
দুপুরের দিকে দেখতে গেলাম হাজী আলির মাজার। অনেক জনপ্রিয় হিন্দি গানে এই মাজারটির উল্লেখ আছে। প্রচুর ভীড়। সব ধর্মের লোকই আছে, তবে মুসলিমদের সংখ্যাই বেশী। মাজারটি তীর থেকে সাগরের একটু ভেতরে। মনে হলো মাজার টা করার জন্যই পাথড় ফেলে এমনটা করা হয়েছে। সবাই পথের দুপাশের দোকান থেকে ফুলের মালা কিনে নিয়ে যাচ্ছে, আর সেটাই কবরের পাশে সাজিয়ে রাখছে। প্রচুর ভিড়ের কারণে আর জুতা খুলতে হবে বলে মূল কক্ষের ভেতরে যাওয়া হয়নি।
গেটের কাছে কাবাবের দোকানেও বেশ ভিড় ছিল!




একেবারে মূল গেটের কাছে একটা juice corner ছিল। সেখানে ফ্রুট কাস্টার্ডও ছিল; চেখে দেখার লোভ সামলানো গেলো না <img src=" style="border:0;" />
স্বাদ মন্দ নয়।


তারকাদের ঘরবাড়ি
বোম্বে শহরের দর্শনীয় স্থানের ভেতর এটাও নাকি একটা।
শাহরুখ খানের বাংলো। সামনে দোতলা , পেছনে চার বা পাঁচ তলা বাড়ি।
প্রচুর গাছ গাছালি ঘেরা। স্থাপত্যের দিক থেকে তেমন আকর্ষনীয় কিছু নয়।


সালমান খানের বাসা এই বিল্ডিং এর দোতলায়; একেবারেই সাদামাটা।


অমিতাভের বাড়ি বাইরে থেকে তেমন একটা কিছু দেখার নেই। তবে দাড়োয়ান ব্যাটার হাবেভাবে মনে হচ্ছিল সে ই বিরাট সেলিব্রেটি! <img src=" style="border:0;" />

(চলবে)
ছবি বড় করে দেখতে চাইলে নীচের প্রিভিউগুলিতে ক্লিক করুন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29150079 http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29150079 2010-05-06 23:00:15
ভ্রমণ ব্লগ- ভারতের ছবি (পর্ব দুই) smell of India
বেশ কিছুদিন ধরেই "থালি" খাবার জন্য মনটা উদাস উদাস লাগছিল! কয়েকটা রেস্টুরেন্টে ঢু মেরেও দেখলাম; কিন্তু ঢাকা শহরে ইন্ডিয়ান ফুডের যতো রেস্টুরেন্ট আছে, কোথাও থালি পাওয়া যাবে বলে মনে হলো না। 'খানা খাজানা' বেশ প্রখ্যাত। তাদের কাছে যখন থালির কথা জানতে চাইলাম, তারা মনে হলো খুব অপমানিত বোধ করলো। জানাল, এমন গরিবী খাবারের ব্যবস্থা তাদের নেই! তারা কেবল সন্জীব কাপুরীয় স্পেশাল শাহী খানাই পরিবেশন করে। যাই হোক; আমরা দুজনও বেশ শাহী ভাব নিয়ে দুই চারটা আইটেম খাবার চেষ্টা করে গেলাম। (বোধহয় আমিরী রুচি না থাকার কারণে খাবার ততোটা সুবিধার লাগেনি)
ইন্ডিয়া অফিস থেকে যখন জানালো হলো প্রজেক্টের ফাইনাল মিটিং এ উপস্হিত থাকতেই হবে আজকালের ভেতর; মন বললো, এবার বুঝি থালি খাবার শখ মিটলো! দেরী না করে ভিসার জন্য টোকেন নিয়ে নিলাম। যারা ইদানীং ভারত ভ্রমণের জন্য ভিসার চেষ্টা করছেন, তারা নির্ঘাত টের পেয়েছেন সিস্টেমটা কতোটা বিচ্ছিরি হয়ে গেছে আজকাল। টোকেনের ডেট পেতেই ১২/১৫ দিন পেরিয়ে যায়। সব কাগজ পত্রের ঝুট ঝামেলা সেরে যাবার দিন ঠিক হলো ২৪ শে মার্চ দুপুর নাগাদ।
এয়ার পোর্টে চেক ইন এর সময় জেট এয়ারের টিকেট বুকিং ডেটের ঝামেলার কারণে কিছুক্ষন অপেক্ষা করতে হয়েছিল। হাফপ্যান্ট পড়া বেশ বলশালী এক তরুন তার পরিবারকে নিয়ে আসলো চেক ইন করতে। পোশাখ আচড়ণে মালুম হলো দক্ষিণী মনে হয়। লাগেজ নাড়াচাড়ার সময় ঠাস করে লক খুলে একগাদা কাপড় ছিটকে পড়লো মেঝেতে। ভুরভুরে একটা গন্ধ ভরে উঠলো চারপাশ। শাফিন বললো, "নাও, তোমার শখ মিটাও, এই খাইসটা গন্ধটাই হলো আসল ভারতীয় এসেন্স"। আসলে মশলা আর পুরানো কাপড়ে ঘামের মিশেল ঝাঝালো গন্ধটা মোটেই সুরভিত ছিলনা! কোন এক মশলার তীব্র একটা ঝাঝালো গন্ধ। এই গন্ধটাই সারা ভারতে পেয়েছি। বিশেষ করে ব্যাঙ্গালোর আর মাইশোরে। সবচেয়ে বিপদে পড়েছিলাম মাইশোরে। সেখানে গিয়েছিলাম ট্রেনে করে, ব্যাঙ্গালোর থেকে। যদিও এসি কোচ, লোকজনও তেমন ছিলনা। কিন্তু এই ঘ্রাণের অস্বস্তির কারণেই ফেরার পথে ভাবলাম এসি বাসে আরাম করে যাই।
কিন্তু বাসে ওঠামাত্রই মোচড় দিয়ে উঠলো পেটের ভেতরটা। তীব্র ঝাঝালো গন্ধ! নাক চেপে ধরে নেমে আসতে হলো। পরে জীপে করে খোলা জানালার পাশে বসে হাওয়া খেতে খেতে ১৫০ কিমি রাস্তা পার হয়ে আসলাম অর্ধেক খরচে আর প্রায় বিনা গন্ধে <img src=" style="border:0;" />
থালি খাবার শখ যে মিটেছিল সেটা আগের পর্বের ছবি দেখেই বুঝে নিয়েছেন আশা করি। এবার দিলাম গুজরাটি থালির ছবি। এটা নাগপুরের বিখ্যাত একটা রেস্তোরা। সবই নিরামিষ। এখানে অবশ্য দক্ষিণের সেই গান্ধিক উৎপাত ছিলনা!

আর একটা কথা; ফেরার পথে ঢাকা এয়ারপোর্টে নেমেই কিন্তু একটা গন্ধ খেয়াল করেছি। সেটা অবশ্য খুব পরিচিত- আমাদের বাংলাদেশের সৌরভ <img src=" style="border:0;" />

বই বই আর বই
বিদেশে কোথাও গেলে আমার দ্রষ্টব্য জায়গাগুলির একটি হচ্ছে নতুন পুরানো বই এর দোকান। ব্যক্তিগত কেনাকাটার লিস্টে বই সবার উপরেই থাকে। আর এইসব ওজনদার বই এর লাগেজের কারণে প্রতিবারই কাহিল অবস্থা হয় এয়ারপোর্টে। তবে এইবার জরিমানাও দিতে হলো অতিরিক্ত ২ কেজির জন্য (সব লাগেজ মিলিয়ে ২৩ কেজি হয়েছিল) ফেরার পথে বাকি দুটা এয়ারলাইন্স এটাকে আমল না নিলেও নাগপুর থেকে ইন্ডিগো বেঁকে বসলো। ২০০ রুপি দন্ড দিতে হলো। বেচারারা এমনিতেই সবচেয়ে সস্তায় টিকেট ছাড়ে; তাই টাকা আদায়ের কোন সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না বোধ হয় <img src=" style="border:0;" /> এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি, খাওয়া দাওয়া আর সার্ভিসের ব্যাপারে উদার হলো কিংফিশার, এদের প্লেন গুলিও আধুনিক। ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সও মন্দ নয়; খাওয়াটা ভালোই। তবে ইন্ডিগোতে না চাইলে পানি পর্যন্ত পাওয়া যায় না <img src=" style="border:0;" />
যাইহোক, যা বলছিলাম; ব্যাঙ্গালোরের এমজি রোডে নতুন পুরানো বই বেশ কটা বই এর দোকান চোখে পড়েছিল। কয়েকটাতে ঢু মেরে যা কেনা হলো তা মোটামুটি এমন-
আইজাক আসিমভের
The Complete Robots
Complete Short Stories-2nd part
Gold- collection of unpublished short stories & Eassays
Science Fiction Treasury (SciFi stories- edited by Asimov)
Dune সিরিজের ৩টা বই (আগেরগুলি সব রানার কালেকশনে ছিল। এটা Frank Herbart এর অসাধারণ একটা সাইফাই সিরিজ; মাইলস্টোন বলা যেতে পারে। ইচ্ছা আছে এর অনুবাদের কাজ করার)
MS Project 2007 in the Trenches
Autocad Revit Architecture 2010
Vashtushastro ( একদম অকাজের বই)
Modern Ceiling (Interior)
সেই সাথে কমপিউটার আর গেজেট বিষয়ক কিছু ম্যাগাজিন।
আরো বেশ কিছু পুরনো বই কেনার ইচ্ছে হচ্ছিল; কিন্তু লাগেজের ওজন বৃদ্ধি আর পকেটের ওজন হ্রাসের ভয়ে কেনা হয়ে উঠলো না <img src=" style="border:0;" />

টিপু সুলতানের মাজার
বিটিভিতে একসময় 'সোর্ড অব টিপু সুলতান' খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। আমরা টিপু সুলতানের সৌর্য্য বীর্যের অনেক গল্পই জানতে পেরেছি সেই সিরয়াল থেকে। কিন্তু মাইশোরে কানাড়া রাজাদের প্রভাব প্রতিপত্তির চিন্হই সব দিকে চোখে পড়ে। গত পর্বে তাদের প্রাসাদের ছবি দেয়া হয়েছিল। জৌলুশ পূ্র্ণ জীবন যাপনের জন্য তারা ইংরেজদের তাবেদারী করতো শুনেছি। তবে এই সব বক্তব্য হলো মাইশোরে আমার গাড়িচালক আহমাদের। তার সাথে কথা বলে বুঝতে পারলাম ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রকাশ্যে যতোই থাকুক না কেন, এখনো অনেক রেষারেষি থেকে গেছে দুই সম্প্রদায়ের মাঝে। সে তার মাথায় একটা কাটা দাগও আমাকে দেখালো- দাঙ্গার চিন্হ। টিপু সুলতানের মসজিদ, মাজার কিংবা সামার প্যালেসের জৌলুশও তেমন নেই, ট্যুরিস্ট উপস্থিতিও কম। আর একটা জিনিষ দেখে কষ্ট লাগলো, ইংরেজদের বিরুদ্ধে টিপু সুলতানের সাফল্যগাঁথা কোথাও নেই। তার দূর্গেরও ভগ্নদশা; প্রত্নতাত্বিক কোন রক্ষণাবেক্ষন নেই। সরকারের পক্ষ থেকে উদাসীনতা প্রচ্ছন্ন।
টিপু সুলতানের মাজারটা সবসময় সরগরম থাকে। আমি যেদিন গেলাম তার পরদিন থেকে ওরস। প্রায় লক্ষাধিক লোক নাকি জমা হয় ওরসের রাতে। নীচের ছবিটা মাজারের।


এটা টিপু সুলতানের দূর্গ শহরে ঢোকার পথ। সব কিছুই প্রায় ধ্বংসস্তুপ।


এটা টিপু সুলতান মসজিদের মিনার। কথিত আছে এই মসজিদের ইমামতি করতেন স্বয়ং টিপু সুলতান।


মসজিদের ভেতরের কারুকাজ। আঙুর লতা ডিজাইন।


(চলবে)
ছবি বড় করে দেখতে চাইলে নীচের প্রিভিউগুলিতে ক্লিক করুন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29149321 http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29149321 2010-05-05 21:01:26
ভ্রমণ ব্লগ - ভারতের ছবি (প্রথম পর্ব) ব্যাঙ্গালোরে রাস্তার পাশের মন্দির
এমন মন্দির হরহামেশাই চোখে পড়েছিল। ভারতে সব সম্প্রদায়ের লোকেরাই বেশ ধর্মানুরাগী।

জুম করে তোলা

ব্যাঙ্গালোর শহরের সুদৃশ্য বিপণিবিতান
খুব তাড়াতাড়িই বদলে যাচ্ছে শহরটা। মেট্রোর কাজও খুব দ্রুত চলছে। বড় বড় সব সুপারস্টোর গড়ে উঠছে।




বিখ্যাত এম জি রোড শপিং স্ট্রিট
সবসময় ট্যুরিস্ট দিয়ে ভরা থাকে এই সড়কটি। প্রখ্যাত এমন কোন ব্র্যান্ড নেই যার শোরুম এখানে খুঁজে পাওয়া যাবেনা।

এম জি রোডের জনপ্রিয় অ্যামবেসেডর হোটেলের থালি
এখানকার নিরামিষ থালিটা অবশ্য বেশী বিখ্যাত।

মাইশোর বিখ্যাত টিপু সুলতানের জন্য। ব্যাঙ্গালোর থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে। শান্ত, চুপচাপ শহর। তবে সাম্প্রদায়িক হাঙ্গামার জন্য দূর্নাম আছে মনে হয়।
মাইশোরে হিন্দু রাজাদের প্যালেস
এখানে নাচ, গান উপভোগ করার জন্য গ্যালারির ব্যবস্থা ছিল

এটা মূল প্রাসাদ

মাইশোরে - স্বনাম ধন্য একটি চার্চ

চার্চের ভেতরে ছবি তোলা নিষেধ ছিল, নয়তো রঙিন কাঁচের এই অপূর্ব ইফেক্ট আরো অনেক ভালোভাবে ধরা যেত
টিপু সুলতানের মসজিদের মিনারে কবুতর থাকার জন্য ব্যবস্থা

মসজিদের মিনি মিউজিয়ামে রক্ষিত সেকালের কুরআন শরিফের একটি পাতা; ওরা এটা আগ্রহ করে দেখায়, মোজেজা হিসাবে; কারণ উইপোকা পাতা কেটে ফেললেও শব্দগুলি পাঠযোগ্য। আরো কিছু পর্যবেক্ষণের কারণে ভারতের সাধারণ মুসলমানদের আমার বেশ গোড়া মনে হয়েছে।

টিপু সুলতানের সামার প্যালেস- এটাও মাইশোরে; তবে হিন্দু রাজাদের জৌলুশের তুলনায় অনেক সাধারণ মানের

তৃষ্ণার্ত ইগল


চলবে
ছবি বড় করে দেখতে চাইলে নীচের প্রিভিউগুলিতে ক্লিক করুন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29148729 http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29148729 2010-05-05 00:07:01
বর্জ্য- ছোট গল্প গ্রামের অনেক মেয়েই ঢাকা শহরে থেকে গার্মেন্টসে চাকরী করে। ঈদে পার্বণে তাদের সবাই গ্রামে ফেরে। নানান রঙ সৌরভের বেশ বাস আর তাদের কাছ থেকে শোনা চাকচিক্যের গল্প, তার মনের ভেতরে শহর ঢাকার এক ঝলমলে স্বপ্ন এঁকে রেখেছিল।
তার বাবা দিনু মিয়া ঢাকা থাকলেও মেয়েকে গার্মেন্টসে চাকরীর জন্য পাঠানোর ঘোর বিরোধী। সে কিসের যেন ব্যবসা করে ঢাকায়, আয় ইনকাম ও মন্দ নয়। তাতেই মিনু আর তার মায়ের বেশ চলে যায়। হপ্তায় হপ্তায় বাড়ি ফেরার সময় চুড়ি, শাড়ি, মনোহারী অনেক কিছুই আনেন তিনি মিনুর জন্যে। কিন্তু সে যেন গ্রামের এই চৌহদ্দির ভেতরে থাকতে থাকতে অস্থির হয়ে পড়ছিল। তাই পারিবারিকভাবে যখন তার বিয়ে ঠিক করা হলো, সেটায় সে বিন্দুমাত্র আপত্তি করলো না। ছেলে গন্জের এক দর্জি দোকানে কাজ করে। বেশ চৌকশ; আশা আছে খুব তাড়াতাড়ি নিজের দোকান খুলবে।
দিনু মিয়া মোটামুটি খরচা করেই মেয়ে বিয়ে দিয়েছিল বলতে হবে। ছেলের হাতে নগদ বেশ কিছু টাকাও দিল।
বিয়ের দুদিন পরেই মিনু বুঝতে পেরেছিল, তার বরটা বেশ সৌখিন।
"বউ, চলো তোমারে একটু ঢাকা শহর দেখায়া নিয়া আসি"
সেলিমের কন্ঠে বেশ ফুর্তি ফুর্তি ভাব। হবেই বা না কেন, বউটা তার বেশ ফুটফুটে, আহ্লাদী টাইপ হয়েছে। একমাত্র মেয়ে বলে শ্বশুরের যা কিছু সেটাও তার জন্যই তোলা আছে। নতুন বউ নিয়ে একটু দেশ বিদেশ না ঘুরলে ঠিক জমছে না। খরচের ব্যাপারে সে অবশ্য বেশ সাবধানী। লঞ্চের সারেং দোস্তের খাতিরের কারণে আসা যাওয়ার ভাড়াটা লাগবে না। দিনে গিয়ে দিনে ফিরে আসলেই হলো। একটু শিশু পার্কে ঘুরাঘুরি আর বিকালের শোতে সিনেমা দেখে পুরানো ঢাকার বিরাণী খেয়ে রাতের লঞ্চ ধরলেই হলো।
যেই ভাবা সেই কাজ।
ঢাকার ঝলমলে আলো আর নানান রঙ বেরঙের মানুষ দেখে দেখে মিনুর যেন স্বাদ মিটতে চায় না। সারাটা দিনই তারা দুজনে ঘোরাঘুরি করলো রিকশায়। সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল; কিন্তু বিপত্তি বাঁধলো সিনেমা দেখে ফিরে যাওয়ার পথে।
দুজনে রিকশায় করে যাচ্ছিল প্রেস ক্লাবের দিক থেকে গুলিস্থানের উদ্দেশ্যে। সন্ধ্যা নামি নামি করছে। হলুদ সোডিয়াম বাতিগুলি সবে লাল থেকে হলদে হলো। কাপড়ের রঙও সেইসাথে বিবর্ণ হতে শুরু করেছে; বোধকরি তার সাথে শ্রান্ত, ক্লান্ত ঘরে ফেরা মানুষগুলিও।
রিকশা ট্রাফিক সিগন্যালের লাল বাতিতে থামতেই হুট করে কোত্থেকে এক পাগল উদয় হলো তাদের রিকশার পাশে। প্রায় বস্ত্রবিহীন বলা চলে, কোমড়ে একটা ছালা মতো কাপড় পেঁচিয়ে পড়া; গা থেকে বিকট বোটকা গন্ধ।
মিনু প্রথমে বুঝতে পারেনি গন্ধটা কিসের! পরক্ষনেই লোকটার হাতের দিকে তাকিয়ে সে বুঝে গেলো কিসের গন্ধ পাচ্ছে!
"ওমা!! একি!? বেডার হাতে এইগুলাইন তো দেখি......"
মুখের কথা শেষ করার আগেই লোকটা হাতটা টান টান করে প্রায় তাদের দুজনের গায়ের উপরে এনে তুললো!
"দে, দে , একশো টাকা দে!! নয়তো দিলাম মাখায়া.........."
"হায়!হায়! করেন কী! করেন কী?!"
সেলিমও প্রায় আঁতকে উঠলো। মানুষের বর্জ্যের গন্ধ সে পেয়েছে অনেক আগেই। রিকশা ওয়ালার সাহায্যের জন্য ডাকতে গিয়ে দেখলো সে বদমাইশও দূরে গিয়ে দাঁত কেলিয়ে হাসছে। নিশ্চই এসব সে আগেও দেখেছে। নতুন বউ এর সামনে সেও খুব অসহায় বোধ করতে থাকে।
তীব্র বোটকা গন্ধে মিনুর বমি চেঁপে রাখতে কষ্ট হচ্ছিল। সে একটু খোলা হাওয়ায় দম নেয়ার জন্য এক ঝটকায় রিকশার হুডটা ফেলে দিল। এতে হিতে বিপরীতই হলো। লোকটা আরো কাছে সরে এলো তাদের দুজনের। তার বর্জ্যে মাখামাখি হাত প্রায় মিনুর শাড়ি ছুঁই ছুঁই।
মিনু আঁতকে উঠে অসহায়ের মতো অনুনয় নিয়ে তাকালো লোকটার দিকে। ঠিক তখনি বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ীর তীব্র হেডলাইটে উদ্ভাসিত হয়ে উঠলো পাগলটার চেহারা, সেই সাথে রিকশা আরোহীদেরও।
লোকটার মুখের কথা হঠাৎ করেই যেন আটকে গেল.............।
সোডিয়ামের হলুদ আলোতেও সেলিমের চিনতে ভুল হয়না। সারা গায়ে হাতে মানুষের বর্জ্য মেখে চিত্রাপিতের মতো দাড়িয়ে থাকা মানুষটি আর কেউ নয়, তার শ্বশুর দিনু মিয়া।

ছবি সুত্রঃ http://www.woostercollective.com/art/]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29144481 http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29144481 2010-04-29 01:36:53
মাই পেট অ্যানিম্যাল- কল্প গল্প কী আর করা?!
সারাজীবন তো এই, ছাত্র-ছাত্রী আর পড়ালেখা নিয়েই কাটিয়ে দিলাম। বাকি দিনগুলিতে নতুন ভাবে, আর কী ই বা করতে পারবো। ছেলেমেয়ে দুটি বিয়ে থা করে নিজেদের মতো ভালোই আছে। তাদের মা টাও তো হুট করে চলে গেলো; তাও বছর দশেক হয়ে গেছে। আর দুবছর পরে আমাকেও বিদায় নিতে হবে, স্কুলের এই চাকরী থেকে। অনেক তো হলো। বাকি দিন গুলি নিজের মতো করে, একটু জমি জিরেত দেখাশোনা নিয়ে কাটাতে চাই। তা যা বলছিলাম, এবছরটাও তাই ব্যস্ত হয়ে পড়লাম এস এস সির খাতা দেখা নিয়ে।
আমার বিষয় ইংরেজী। একসময় ইংরেজী সাহিত্যের ছাত্র ছিলাম বলে, এই বিষয়টা পড়াতে ও খাতা দেখাতে বেশ তৃপ্তি পাই। তবে এটা ঠিক, দ্বিতীয় পত্রের খাতায় সৃজনশীলতা খুঁজে পাওয়া যায় কেবল রচনামূলক লেখাতেই। প্রতিবারই চমৎকার কিছু মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশাপাশি খুব হাস্যকর কিছু লেখাও আবিষ্কার হয়। গ্রামের দিকটায় ইংরেজী শেখার যে কি বেহাল অবস্থা সেটা বুঝতে মোটেও বেগ পেতে হয়না। হাজারো ভুল বানানে ভরা লেখাগুলির খুব কম অংশই পাঠযোগ্য থাকে। হাস্যকর সব লেখা পড়তে গিয়ে মাঝে মাঝে যে মেজাজ খারাপ হয়না, তা নয়; কিন্তু একঘেয়েমির মাঝে কিছুটা বৈচিত্র পাওয়া যায় বৈকি।
এই লেখাটাও প্রথমে সেরকমটাই মনে হয়েছিল। অপটু হাতের আঁকা বাঁকা লেখা। কিন্তু কিছুদুর পড়ে বুঝতে পারছিলাম কোথাও একটা খটকা আছে। একটাও ভুল বানান নেই!
দ্রুত পড়ে যেতে লাগলাম। লেখাটা শেষ করে কতোক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসে থাকলাম। কে লিখছে এমন লেখা?!
রচনার বিষয়বস্তু ছিল পেট অ্যানিম্যাল, মানে পোষা প্রাণী। কিন্তু এই প্রাণী নিয়ে নিঃসন্দেহে আর কেউ কখনো রচনা লিখেনি, সম্ভবত লিখবেও না!
রচনাটা বাংলায় অনুবাদ করলে অনেকটা এমনটাই দাড়ায়-
মাই পেট অ্যানিম্যাল
আমার পোষা প্রাণিটার বুদ্ধিমত্তা খুব একটা উঁচু স্তরের নয়। তবে তার পরিবেশে, এর চাইতে বেশী বুদ্ধিমত্তা আর কোন প্রাণির ভেতর দেখতে পাওয়া যায় না। শারীরিক ও মানসিক কিছু অনুভুতির কারণে তার প্রজাতিটি অনান্য সব পশুর উপর প্রাধান্য বিস্তার করতে পেরেছে। মুলত এইজন্যই আমি তাকে পোষ্য নিয়েছি। আমার পোষা প্রাণিটি তার জগতে 'মানুষ' নামে পরিচিত। তবে প্রচলিত নিয়মানুযায়ি সবাই তাকে 'জীবনলাল' নামে চিনে।..........তার আছে খুব প্রাথমিক ও নীচু স্তরের আবেগ অনুভূতি; যা, খুব সহজেই শারীরিক পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়ে যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সে তার পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের মূখাপেক্ষী বলে তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই সহজ। তার প্রজাতির অনান্য সদস্যের সাথে তার যোগাযোগ ক্ষমতা খুবই অল্প সংখ্যক মাধ্যমের ভেতর সীমিত। আমি তাই কোন জটিলতা ছাড়াই তার গতিবিধি ও যুথবদ্ধ আচরণের উপর নজর রাখতে পারি।.........প্রজননের ক্ষেত্রে প্রাণিটি স্বাবলম্বি নয়। বিপরীত শারীরিক গঠনের স্বজাতির সাথে আদিম প্রক্রিয়াতেই কেবল তারা বংশ বৃদ্ধিতে সক্ষম। কিন্তু নিরাপত্তা জনিত কারণে আমার পোষ্যটিকে এই সুবিধা দেয়া সম্ভব হয়নি। ..............এখানকার নিয়মানুযায়ী পোষ্যটি সবসময় আমার সর্বোচ্চ যত্ন নেয়ার চেস্টা করে। তাই আমিও আমার পোষা প্রাণিটির অনুভূতির প্রতি সবসময় সমান আচরণের চেষ্টা করি..........।
(স্মৃতি থেকে লিখতে হলো দেখে লেখাটার কিছু কিছু অংশ বাদ পড়ে গেছে।)
খাতাটা আবার পুরোটুকু উল্টে পাল্টে দেখলাম বার কয়েক। এমন কোন বিশেষত্ত নেই। সাধারণ মাঝারী মেধার উত্তর। দুলাল দাস নামে এক ছাত্রের খাতা, ময়মনসিংহের এক অখ্যাত উপজেলা স্কুলের।
যদিও এর আগেও হাস্যকর ও দুষ্টামিভরা কিছু রচনা মাঝে মাঝেই পেয়েছি, কিন্তু এটাকে কেন যেন সেরকম ভাবে উড়িয়ে দিতে পারছিলাম না।
খাতাটা তখনকার মতো সরিয়ে রাখলেও মনের ভেতর থেকে খুঁতখুঁতে একটা অনুভুতি কিছুতেই দূর করতে পারছিলাম না পরের কদিন। পরে আরো কয়েকবার খাতাটা ঘাটাঘাটি করলাম। নাহ, আমাকে এই প্রশ্নের উত্তর জানতেই হবে! এমনভাবে আজব একটা রচনা লেখা অনুপ্রেরণা (কিংবা দুঃসাহস) ছেলেটা কোথায় পেলো?!
বেলাবেলিই ময়মনসিংহ পৌঁছে গেলাম। পুঁটিরচালা উপজেলা স্কুল খুঁজে পেতেও খুব একটা ঝামেলা হলো না। সরাসরি চলে গেলাম প্রধান শিক্ষকের রুমে। কথা বিশেষ না বাড়িয়ে নিজের পরিচয় দিয়ে জানতে চাইলাম দুলাল দাস নামের ছাত্রটির কথা। রচনার কথাটা অবশ্য কিছু বললাম না।
"আচ্ছা, ব্যাপারটা কি বলেন তো?! " হেডমাস্টার সাহেবের কন্ঠে বিস্মিত হবার সূর। "তিন/চারদিন আগে বোর্ডের বাংলা পরীক্ষক এসে দুলালের খোঁজ করলেন; তার পরদিন আসলেন গণিতের শিক্ষক। ঘটনা কী হয়েছে? সে কি খুব ভালো কোন রেজাল্ট করে ফেলেছে?! উনারা তো কিছুই বললেন না ভালোমন্দ।"
মনে হলো তিনি বেশ মনক্ষুন্ন হয়েছেন। কিন্তু আমার মাথায় তখন অন্য চিন্তা! তার মানে দুলাল তার অন্য সব উত্তর পত্রেও কিছু না কিছু অস্বাভাবিকতা রেখে গেছে।
"দুলালকে কি একটু খবর দিয়ে ডেকে আনা যাবে?" প্রসঙ্গ ঘুরানোর চেষ্টা করলাম।
"আরে সে থাকলে তো!" হেডমাস্টার সাহেবকে যথেস্ট বিরক্ত মনে হলো।" পরীক্ষার পরপরই তার বাবা জীবনলাল ডোম মারা গেলো এক রাতের জ্বরে। এরপর মুখাগ্নির সময় তাকে শেষবারের মতো এই এলাকায় দেখা গেছে। সংসারে তো আপন বলে তার আর কেউ ছিলনা। তাই কেউ তার খবরও জানেনা।"
বুঝলাম, তার কাছ থেকে আর বেশী কিছু জানবার নেই। ফেরার পথে দুলালের কয়েকজন সহপাঠির সাথে দেখা হয়ে গেলো। তারাই বাকি খবরটুকু দিল। দুলাল আসলে অকৃতদার জীবনলাল ডোমের পালিত ছেলে। তাকে নাকি ডাস্টবিনে খুঁজে পেয়েছিল সে। তবে ছেলের জন্য তার মমতার কোন ঘাটতি ছিল না!
মুহুর্তে আবার আমার মনে পড়ে গেলো রচনার শিরোনামের কথা!
'মাই পেট অ্যানিম্যাল!'
বাড়ি ফিরেও মনের ভেতরকার অস্বস্তিটা কিছুতেই দূর হচ্ছিল না। কোথাও কিছু একটা দৃষ্টির আড়ালে থেকে গেছে যেন। পরীক্ষার খাতাটা বোর্ডে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম আগেই। কিন্তু কী ভেবে যেন একটা ফটো কপি করিয়ে রেখেছিলাম। সেটা বের করে চোখের সামনে ধরতেই থমকে গেলাম!
একটা শব্দও পরিচিত নয়! এমন কি আমার এ দীর্ঘ জীবনে এ ধরনের কোন অক্ষর বা ভাষা আমি দেখিনি! অথচ দিব্যি দিয়ে বলতে পারি, এটা ইংরেজীতেই লেখা ছিল। ফটোকপিটা কিভাবে এমন সব দূর্বোধ্য চিন্হে পরিনত হয়ে গেলো, তার কোন ব্যাখ্যাই দাড় করাতে পারছি না।
যাদের মনে কিছুটা অবিশ্বাস জন্মেছে এই ঘটনার সত্যতা নিয়ে; চাইলে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। ফটোকপিটা আমার কাছে এখনো আছে।
আমার ঠিকানা?! সেটাও দিয়ে দিলাম নীচে!
איר וועט קיינמאָל געפֿינען מיר

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29135700 http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29135700 2010-04-15 23:57:14
মুখোশ- ছোট গল্প চকবাজারের এদিকটায় এলে, আমি বরাবরই সাদা পান্জাবী পায়জামাই পরি। পুরানো ঢাকার মহাজনরা এখনো সাদা প্রীতি ছাড়তে পারেনি। চালের আড়তদাররাতো অবশ্যই পরবেন।
গত তিন চারদিন ধরে লক্ষ্য রাখছিলাম এই আড়তটা। ছোটখাট গড়নের পৌঢ় মহাজন, জোহরের ঠিক আগে আগে নামাজে যায়, ছোট ছেলেকে ক্যাশে বসিয়ে। ফিরে এসেই ব্যাংকে টাকা পাঠিয়ে দেয় ম্যানেজারকে দিয়ে। মাঝখানে কাটে প্রায় আধা ঘন্টা!
অনেকখানি সময়!
আজকেও সেটাই হলো; আজানের পর পর মহাজন বের হয়ে আসলো।
হায় হায়! ব্যাটা দেখি আজকে সাদা লুঙ্গি পরেছে।
যাকগে, এখন আর কাপড় বদলের সময়-সুযোগ নেই। লোকটা মসজিদের গলির মুখে- আড়ালে চলে যেতেই, আমি বদলে গেলাম। কানা গলির কোনাটা নির্জন; তাই কারো চোখে পড়ার সম্ভাবনাটাও ছিল ক্ষীণ। কিন্তু সাবধানের মার নেই। কিছুটা ছায়ায় ছায়ায় থেকে, বেরিয়ে আসলাম চারদিক দেখেই।
ছেলেটা বাপকে এতো তাড়াতাড়ি ফিরতে দেখে বেশ উদ্বিগ্ম সূরেই জানতে চাইলো-
"ফিরা আইলেন যে?!"
কিছুটা বিকৃত মুখ করে একটু কাশতে কাশতে জবাব দিলাম;
"ট্যাকা লওন লাগবো কিছু।"
সে ক্যাশ ছেড়ে সরে দাড়ালো। আমি ক্যাশে আলগোছে যা পেলাম রুমালে প্যাঁচিয়ে নিলাম। ভাবনার সময় কম। দ্রুত সটকে পড়তে হবে।
কালক্ষেপণ না করে বেড়িয়ে পরার সময়, চোখের কোনায় লক্ষ্য করলাম ছেলেটা আমার পাজামার দিকে তাকিয়ে কি যেন জিজ্ঞাসা করতে গিয়েও থমকে গেলো।
এক নিশ্বাসে গলির মোড়টা পেরুতেই অপর পাশ থেকে দ্রুত ছুটে আসা লোকটার সাথে মুখোমুখি ধাক্কা লেগেই গেলো।
" আবে হালায় আন্ধা নি!! চোক্‌খে দেহেন না...." ব্যাথা পেয়ে গর্জে উঠে লোকটা।
কিন্তু কথা শেষ করতে পারলো না, তার আগেই আমার দিকে তাকিয়ে তার চোয়াল ঝুলে পড়লো বিস্ময়ে !
আর ঝুলবেই বা না কেন বলেন? কটা মানুষ ভর দুপুরে, পূর্ণ জাগ্রত অবস্থায় নিজের মুখোমুখি হয়? মহাজন যখন চোখ কচলে আবার আমার দিকে পূর্ণ দৃষ্টি নিয়ে তাকানোর চেষ্টা করছিলো, আমি ততোক্ষণে মাটি থেকে উঠে জামা কাপড় ঝেড়ে ঝুড়ে পগাড় পার। খুব বাঁচা বেঁচে গেছি। ধরা খেলে হাড্ডি একটাও আস্ত থাকতো না।
ধ্যাৎ, শালার জীবন। আর ভালো লাগে না এভাবে ধাওয়া খেয়ে বেড়ানো।
আপনারা মনে হয় একটু বিভ্রান্তিতে আছেন? বুঝতে পারেন নি পুরো ব্যাপারটা? আচ্ছা খোলাসা করেই বলছি।
আমি গিট্টু বহুরূপী।
গিট্টু মানে তো জানেনই? নাকি?
আমার হাইট ঠিক বামনাকার নয় তবে, ব্যাটাছেলের উচ্চতা ৫ ফিটও যদি না ছোঁয়; তাহলে কি আর লোকে ছেড়ে কথা বলে? আমার নামের সাথেও তাই গিট্টু শব্দটা জুড়ে গিয়েছিল, আর পরে পাকাপাকি ভাবে বাপ দাদার দেয়া নাম বাদ পড়ে গিয়ে গিট্টুটাই পার্মানেন্ট হয়ে গেলো!
ছোটবেলা থেকেই আমি সার্কাসে বহুরূপীর কাজ করতাম। মেকাপ নিয়ে, নকল দাড়ি গোঁফ লাগিয়ে ভোল পাল্টে, দিব্যি হয়ে যেতে পারতাম অন্য কেউ! তবে সেবার যখন বিশ্রী টাইফয়েডটা জেঁকে বসলো; দিন পনের পরে সার্কাসের সবাই আমাকে গন্জের এক নটির জিম্মায় ফেলে রেখে চলে গেলো অন্য শহরে। সেরে উঠে টের পেলাম, আমার ভেতরে নতুন একটা ক্ষমতা জন্ম নিয়েছে!
আমি এখন চাইলেই বদলে ফেলতে পারি চেহারা। কোনরকম মেকাপ ছাড়াই আমার নাক মুখ চোখ পাল্টে নিয়ে যে কারো রূপ হুবহু নিতে পারি।
ভাবছেন আমাকে আর পায় কে, তাই না?
নাহ, ভাগ্যের কিছুই বদলাতে পারলাম না। আমার উচ্চতার কথা ভুলে যান নি নিশ্চই? পাত্তিওয়ালা কয়টা লোক গিট্টু সাইজের, বলতে পারেন? ভোল পাল্টে ব্যাংক, দোকানে ঢু মেরে টাকা বাগানো তো দূরে থাক, হোটেলে গিয়ে দুবেলা মুফতে খাওয়ার সুযোগটাও নিয়মিত পেতাম না।
হায়রে শালার গিট্টু কপাল! তাই দেখেশুনে টুকটাক এদিক সেদিক করে, কোনমতে চলছিলো জীবনটা।
চকবাজারের আড়তের পয়সায় দিন কতক ভালোই গেলো।
তারপর আবারও সেই ঘুরাঘুরি নতুন শিকারের সন্ধানে।
সেদিন রেকি করছিলাম গুলশানের ডিসিসি মার্কেটের হীরার দোকানের আশে পাশে। একটা মক্কেলকে টার্গেট করেছি গত দুই সপ্তাহ ধরে। সে হীরার দুই নম্বুরি কারবার করে। সপ্তাহের একদিন সব দোকান থেকে পাওনা টাকা তুলে নেয়। আমিও মওকার অপেক্ষায় আছি। মোটা দাও মারার সুযোগ আছে। পার্কিং লটে দাঁড়িয়ে ধুঁয়া ছাড়ছিলাম আর লোকটার সব চালচলন মনে মনে গেঁথে নেয়ার চেষ্টা চলছিল।
মক্কেল দেনা পাওনা মিটিয়ে তার গাড়িতে উঠে পড়তেই আমিও ঘুরে দাড়ালাম ডেরায় ফেরার জন্যে।
ঘুরতেই লোকটার সাথে প্রায় ধাক্কা খাবার উপক্রম হলো। তাল সামলিয়ে খিস্তি করতে যাবো; চোখের সামনে মোবাইল ফোনের স্ক্রিনটা ঝুলতে দেখে থমকে গেলাম।
আমার ছবি!! চকবাজারের সেই আড়তদারের ক্যাশ বাক্সের সামনে!
ছবি বদলে গেল নিমেষেই; এবার আড়তদারের সাথে মুখোমুখি ধাক্কা খাবার মুহুর্তের ছবি। তারপর চেহারা বদলে ফেলার ছবি।
ছবি বেশ দ্রুত পালটে যাচ্ছিল; কিন্তু আমি আতংকের জন্য আর বুঝতে পারছিলাম না কিছু।
চোখ তুলে লোকটার চেহারার দিকে তাকালাম। দীর্ঘদেহী, মিশমিশে কালো, পাথর চেহারার এক লোক!
কে এই লোক?!
একে তো জীবনে কখনো দেখেছি বলে মনে পড়লো না!
কোন প্রশ্ন করার সুযোগ পেলাম না। আমাকে ইঁদুরের মতো ঘাড় ধরে টেনে তুলে প্রায় ছুঁড়ে নিয়ে ফেললো একটা কালো কাঁচ লাগানো মাইক্রোবাসের ভেতরে, টু শব্দটি করার সুযোগ পেলাম না।
ভাগ্যিস তখন হাউকাউ করিনি; করলে হয়তো আজকে আপনাদেরকে আয়েস করে শুয়ে বসে এই গল্প কখনোই করা হতো না। বদরুল ভাই, অর্থাৎ মুর্তিমান আতংক চেহারার সেই লোকটা খুব অল্প কথায় সব খুলে বল্লো।
সে, আমাকে অনেক দিন ধরেই ফলো করছে; আমার নাড়ী নক্ষত্র সব তার জানা। সে আমার জন্য একটা প্রস্তাব নিয়ে এসেছে, যেটা আমার ভাগ্য খুলে দেবে। আপনাদের মধ্যে যারা, আমার মতো ভাগ্যের তালা খোলার চেষ্টা করছেন; তারা নিশ্চই বুঝতে পারছেন, এ কথাটা কতোটা উৎসাহ বয়ে আনতে পারে একজন হতভাগার জীবনে! আমি আরেকটু স্বস্তি নিয়ে নড়েচড়ে বসলাম।
আমাকে একজনের জায়গা নিতে হবে, কিছুদিনের জন্য। বিনিময়ে বাকী জীবন আমাকে আর কিছু করে খেতে হবে না; সব দায় দায়িত্ব তাদের। প্রথমটায় আজগুবি গুল মনে হলেও সেই একজনের ছবি দেখে নিমেষেই বুঝে গেলাম মোটেও চাপা মারছে না লোকটা! কোন রকম দ্বিধা ছাড়াই রাজী হয়ে গেলাম।
কার নির্দেশে সে এসব করছে, আমার এ প্রশ্নটা অবশ্য সে, না শোনার ভান করেই এড়িয়ে গেল। তবে যা আঁচ করলাম, একদম সর্বোচ্চ রাঘব বোয়াল ছাড়া আর কারো পক্ষে এমনটা ভাবা সম্ভব নয়!
পরের ঘটনাগুলির দীর্ঘ বর্ণনা দিয়ে আপনাদের ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটাবো না আর। সংক্ষেপেই বলি।
আমি এখন খুব ভালো আছি।
বদরুল ভাই এর কথা মতো সেই লোকের চেহারা নিয়ে দিব্যি দুবেলা অফিস করে যাচ্ছি। ভাবছেন, আমার মতো বকলম কী করে অফিস করছে, কিংবা এমন ধোকা চালিয়ে যাচ্ছে?!
আচ্ছা তাহলে খুলেই বলি।
একটু ভেবে দেখুন তো, ওয়ান ইলেভেনে ক্ষমতায় আসার পর পর দেশ প্রধান কতটুকু তেজী ছিলেন?
একে মারেন, তো ওকে ধরেন। চারদিকে জিহাদ জিহাদ রব! দেশ থেকে দূর্নীতি-ফিতি রাতারাতি উঠে যায় যায় অবস্থা!
মনে পড়ছে?
আর তার মাস তিনেক পরেই হঠাৎ কেমন যেন মিইয়ে গেলেন ?
সব আবার আগের মতো! যেইকার সেই! তাই না?
এখনো বুঝতে পারেনি নি?!!
দুর, দূর!!
আরে আমি গিট্টু মিয়াই তো এখন দেশপ্রধানের সীটে বসা!
আসল লোককে তো কবেই বদরুল ভাই এর দলবল খাল্লাস করে দিয়েছে!!
ও হ্যাঁ, আরো একটা কথা বলে রাখা ভালো; সাবধানের মার নেই।
নেতাদের মতিগতি তো বোঝা ভার। তাই সময় সুযোগ তৈরী হতেই আর দেরী করিনি।
গতকাল সেভেন মার্ডারের অভিযোগে কানা বদরুল নামের যে সন্ত্রাসীর ফাঁসি হল, তার মার্সি পিটিশন নাকচ হয়েছে আমার হাত দিয়েই। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29114547 http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29114547 2010-03-11 23:32:06
নরক - কল্প গল্প প্রফেসর কাওসেইন প্রায় ১৮৭ বছর জীবিত ছিলেন। বলতে গেলে জীবনের শেষের শতাব্দীটা তার কেটেছে কেবল খালি বিদায় অভিনন্দন গ্রহন করতে করতে। আত্মহননকারীদের অনেকেরই একটা কমন প্রশ্ন ছিল, উনি কেন এখনও এ জীবনে থেকে গেছেন।
ব্যাপারটা যে, এ মহিয়সী নারীকেও ভাবায় নি কখনো; সেটা বলাটা অবশ্য ঠিক হবে না। তিনি ভেবে দেখেছেন, আসলে অমরত্ব লাভের প্রলোভনটা তাকে কখনো কাছে টানেনি। মাঝে মাঝে তার মনে হয়, মানব সভ্যতার সর্বকালীন, সর্বোচ্চ সত্য উম্মোচন, তার পক্ষে সম্ভব হয়েছিল কেবল মাত্র এই একটাই কারণে যে, তিনি কখনো কোন কামনা বাসনা বা রিপু তাড়িত ছিলেন না। এই জন্যই হয়তো চিরন্তন সত্যটা জানার পর তিনি খুব ঠান্ডা মাথায় ভেবে চিন্তে, দীর্ঘ সময় নিয়ে তা সবার সামনে তুলে ধরেছেন, সেই সাথে, হাতে কলমে অকাট্য প্রমাণও।
৩৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে, মহান শী'আর এর অন্তর্ধানের ঠিক হাজার বছর পরে; মানব জাতির সামনে উম্মোচিত হলো চিরন্তন সত্যের দ্বার-
'পর জীবন অনন্ত'।
এটা ঠিক যে, শুধু যে শী'আর ই যে মানুষকে, পরকালের অনন্ত জীবনের কথা বলে গেছেন তা নয়; তার আগেকার সব ধর্মেই অর্থাৎ জিউনিজম, খ্রিস্চিয়ান, ইসলাম ও অনান্য ধর্মেও বার বার বলা হয়েছে পরকালের কথা। প্রফেসর কাওসেইন সেই পরকালের অস্তিত্ব কেবল প্রমাণই করলেন না, তাদের সাথে যোগাযোগ ও ঘটিয়ে দিলেন।
মানুষ জেনে গেল, মৃত্যু নিছকই একটা সাময়িক কায়াবদল মাত্র। মনকে শরীর থেকে মুক্ত হবার জন্যই, সকল জীবনকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হয়। তিনি আরো প্রমাণ করে দিলেন যে, মৃত্যু পরবর্তী জীবনে যখন সময় থমকে যায়; মানুষ সম্রাজ্য গড়ে তোলে তার আত্মার চেতনায়। পারস্পরিক যোগাযোগের ভেতর দিয়ে শুরু হয় দীর্ঘ পরিক্রমার এক চক্র।
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেদিনটির কথা ভুলতে পারেননি প্রফেসর। মানব অধ্যুষিত ২৪৭ টি গ্রহ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষনাটি সরাসরি দেখতে পাচ্ছিল অভিবাসিত মানুষেরা। প্রফেসর নিয়াকার এক এক করে সব তথ্য প্রমাণ হাজির করছিলেন।
"জীবনের প্রয়োজন কেবল মৃত্যুকে উপস্থাপনের জন্য। শরীরি জগতকে আত্মা থেকে আলাদা করতে হয় বলেই মৃত্যু আসে। বস্তুজগতে প্রবেশের সাথে সাথে আত্মা আটকে পড়ে সময়ের পরিক্রমায়। বস্তু চক্রের সূচনা আছে বলেই ধ্বংস অনিবার্য হয়ে পড়ে। মৃত্যু হলো এই চক্রকে অতিক্রম করার একমাত্র মাধ্যম।"
১৫০ বিলিয়নেরও বেশী সংখ্যক মানুষ বিস্মিত হয়ে শুনছিল তার কথা। প্রফেসর নিয়াকার প্রমাণও হাজির করলেন সামনে। অগনিত অশরীরি অস্তিত্বের অবস্থান গ্যালাক্সির সব কটি অতিক্রমন্য দুরত্বে একসাথে ধ্বনিত হলো।
"আমরা আছি। আমরা যেমন ছিলাম একসময় এই বস্তুজগতে; আমরা এখন আছি সেই অনন্তে।"
তাদের কন্ঠ কোথাও ধ্বনিত হয়নি, অথচ সবাই শুনতে পেলো!
তাদের প্রশান্তি চাক্ষুস হয়নি কারো কাছে, কিন্তু সবাই দেখল!
তারা কোন আহ্বান জানায়নি কাউকে; অথচ সবাই উম্মাদনায় অস্থির হয়ে উঠলো!
পরের সাতদিনের ভেতর মানবজাতির জনসংখ্যা কমে এসে দাড়ালো ২৩ বিলিয়নে! ১৯৩ টি গ্রহের সব অভিবাসী একসাথে আত্মহত্যা করবে এটা অনুমান করা সম্ভব ছিলনা। তা নিয়ে অবশ্য মোটেই চিন্তিত ছিলনা কেউ। নানান উৎসবে মুখর তখন অনান্য সব গ্রহও, তারাও গন আত্মহননের কিংবা চিরমুক্তির পথে!।
এভাবেই কেটে গেল আরেকটি শতাব্দী। ১৮৭ বছর বয়সে যখন প্রফেসর কাওসেইন বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান, মহাবিশ্বে তখন মানুষ কেবল, পৃথিবীতেই আছে। মাত্র এক বিলিয়ন মানুষ। এদের বেশীর ভাগই গবেষক, বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক। পার্থিবতাকে ভালবেসে তারা থেকে গেছে এপাড়ের জীবনে। কেউ কেউ যে একেবারেই ব্যাতিক্রম ছিলনা তা নয়।
মাআন্দ্রি-আলা হচ্ছে তেমনই একজন।
ইন্দ্রিয় আসক্ত, রিপু তাড়িত এই ধর্মযাজককে জ্ঞান পাপী বলা যায় অনায়সেই। প্রফেসর কাওসেইনের সহকারী হিসেবে কাটিয়েছে বেশ কিছুকাল। সব সত্য জেনে শুনেও, সে ঘোর বিরোধিতা করে চলছে তার। যদিও খুব একটা অনুসারী মাআন্দ্রি-আলার নেই। কিন্তু গত অর্ধ শতাব্দি ধরে সে একদিনের জন্যও হাল ছাড়েনি। সে জানে তার জিঘাংসার খুব কাছাকাছি চলে এসেছে সে।
প্রফেসর কাওসেইনের সত্য উম্মোচনের পর শী'আরের অনুসারীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। একদল, যারা মেনে নিয়েছিল; তাদের অধিকাংশই আত্মহত্যা করে। অপরদল- ক্ষুদ্র একটা গোষ্ঠী; তারা প্রতিশোধের নেশায় মেতে উঠেছিল!
মাআন্দ্রি-আলা তাদের সবাইকে সংঘটিত করেছে। তার সার্বক্ষনিক চিন্তা হয়ে উঠেছে, কিভাবে প্রতিশোধ নেয়া যায় এই অধর্ম, স্রষ্টাবিরোধী আচরণের।

কাছের লোকেরা গত কদিন ধরেই লক্ষ্য করছে, মাআন্দ্রি-আলা খুব নীরব। আসলে নীরব বললে বোধহয় ভুল হবে; তাকে বিগত যেকোন সময়ের তুলনায় খুব শান্ত , সমাহিত দেখাচ্ছিল। তবে অনুসারীরা কেউ প্রশ্ন করার ধৃষ্টতা দেখায়নি; তাদের আনুগত্য সবসময় প্রশ্নাতীত।
মাআন্দ্রি-আলা প্রশান্তি বোধ করছে; কারণ সে জানে, সে ঈশ্বরের নির্দেশনা পেয়ে গেছে। পাপীদের শাস্তি প্রদানে তার সংকল্পের চুড়ান্ত সফলতা এখন শুধুমাত্র অল্প সময়ের অপেক্ষা। পাঁচ দশকের আক্ষেপের পর আজ সেও তার বিশ্বাসের ফল পেতে যাচ্ছে। সে জেনে গেছে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে মুক্ত আত্মাদের উপর। তাদের জন্য সে তৈরী করে নিয়েছে চরম শাস্তির স্থান। এখন নিজেকে মুক্ত করতে হবে বস্তু জগত থেকে।
সৃষ্টিকর্তা তাকে নিদর্শন দেখিয়ে দিয়েছেন।
মাআন্দ্রি-আলা ও তার অনুসারীরা আত্মহত্যা নয়, একে অপরকে হত্যা করলো!

শুরুটা হলো এভাবে...।
যারা পরজীবনের দেবত্ব লাভ করেছে; তাদের ভেতরে একটা অংশ হঠাৎই বিভ্রান্তির ভেতরে পড়ে গেল।
প্রতিশ্রুত চিরপ্রশান্তির আবরণ ক্ষয়ে যেতে লাগলো খুব দ্রুত।
আক্ষেপ, ক্ষোভ, হতাশা, ইর্ষা আর লালসার রিপুরা ছেয়ে ফেলছে যেন তাদের সব প্রাপ্তিকে।
সব আলোকিত স্নিগ্ধতাকে হারিয়ে ফেলে তারা মুখমুখি হলো মাআন্দ্রি-আলা'র ।
"আমরা কোথায়?"- কোন একক প্রশ্ন নয়, সমবেত।
"নরকে", শব্দে পরিবর্তিত করলে জবাবটা মাআন্দ্রি-আলার তৃপ্ত স্বরকেই নির্দেশ করতো।
" তোমরা সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধে দাড়িয়েছিলে, তাই আমি এই নরকে তোমাদের নিয়ে এসেছি; তোমাদের শরীর ত্যাগকারী আত্মা এখন এই নরকের বাসিন্দা!"
"তুমি কে?" সমবেত যন্ত্রণার আর্তনাদ যেন শব্দে রূপ নিতে চাইছিল।
"আমি মাআন্দ্রি-আলা; শী'আর এর উত্তরসুরী, ঈশ্বরের সেবক।"
"মিথ্যে কথা! আমি মাআন্দ্রি-আলা; আমরা মাআন্দ্রি-আলা।"!
চারদিক থেকে সমবেত উত্তর ছুটে এলো তার কাছে।
মাআন্দ্রি-আলা বিভ্রান্ত হয়ে পড়লো; কিছু একটা মিলছে না।
কিন্তু খুব বেশী সময় সে ভাবতে পারলো না। তার আগেই নরক যন্ত্রনার তীব্রতায় তার আত্মা আর্তনাদ করে উঠলো। তার সব নিয়ন্ত্রণের আগল ছিড়ে সত্তারা সব তার একত্বে রূপান্তরিত হয়ে গেছে। যাদের সে শাস্তি দিতে চেয়েছিল, নরকে নিক্ষেপ করতে চেয়েছিল; সেখানে সে এখন একক, সে ই বিলীন হয়ে গেছে সবার ভেতরে। তার জিঘাংসা তাকে পরাস্ত করে ফেলেছে।
অনন্ত জীবনের চক্রে প্রবেশের মুহুর্ত ক্ষণে সে কেবল জানতে চাইলো, কেন? কেন হে ঈশ্বর? কেন এমনটা হলো?"
জবাবটা সে পেয়েছিল কিনা, সেটা পৃথিবীর কেউ বলতে পারবে না।
কিন্তু পার্থিব জীবনে আসক্ত মানুষগুলো এখন জানে, চিরশান্তির জগতে একক কিছুর অস্তিত্ব থাকেনা, থাকতে নেই। চাওয়া থেকেই জন্ম নেয়, চিরসুখের সমবেত পরজীবন।
আর নরক?
সেটাও মানুষ নিজেরাই বেছে নিতে পারে; তবে সে পতনের ক্ষমতা তার নিজ সৃষ্ট; ঈশ্বর তাকে সে ক্ষমতা দিয়ে রেখেছেন।
(সমাপ্ত)
[After the truth was reaveled that after death, time was streched to allow thousands of years of God like living in the mind world, most people committed suicide, finally some people learned to take the control of others dying mind and one lunatic created hell for all of them.
An story Idea of Enamul Azim Rana]
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29113981 http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29113981 2010-03-11 00:36:43
ম্যালা বই এর বইমেলা ২০১০ -শেষ পর্ব গল্পগ্রন্থ
গদ্যসমগ্র-১,২ নির্মলেন্দু গুণ
বাংলাপ্রকাশ মূল্য-@৪৫০ টাকা
ত্রৈলোক্যনাথ রচনা সংগ্রহ
সাহিত্য প্রকাশ, মূল্য-৪৫০ টাকা
খুব বিরল একটি বই; বাংলা সাহিত্যের প্রথম দিককার অথচ আধুনিক- রম্য লেখক বলা চলে ওনাকে।
ঘরভরতি মানুষ অথবা নৈ:শব্দ্য- আহমাদ মোস্তফা কামাল
পাঠসুত্র- মূল্য ১৩০ টাকা
বিশে বিষ- গোলাম কিবরিয়া
পাঠসুত্র মূল্য- ১২০ টাকা
কিবরিয়া সাহেবকে ব্লগের কেউ চিনতে পারার কথা নয়। তবে ব্লগার ভূতের আড্ডাকে সবাই চিনেন। চমৎকার ২০ টি গল্পের সংকলন।
অফলাইন- ব্লগারদের গল্প সংকলন
জাগৃতি প্রকাশনী মূল্য ১৬০ টাকা
চোখ বুলিয়ে মনে হলো বেশ কিছু ভালো অপঠিত গল্প পাওয়া যাবে।
সায়েন্সটুন- আহসান হাবীব
সৃজনী- মূল্য ১০০ টাকা
দায়সারা গোছের রম্য লেখা। রেটিং ৬/১০
ম্যানেজার চাচার গুলগল্প - সাজ্জাদ কবীর
প্রগতি পাবলিশার্স মূল্য ৮০ টাকা
কিশোর সাহিত্য- গল্পগুলি উপভোগ্য।
ছাপাখানার ভূত- কাইজার চৌধুরী
ঐতিহ্য- মূল্য ১৩০ টাকা
ইনি আমার প্রিয় একজন লেখক সেই ছোটবেলা থেকেই। নারায়ন গঙ্গোপাধ্যায়ের কিছুটা প্রভাব থাকলেও কিশোর সাহিত্যে অনন্য।
উপন্যাস
অন্ধ জাদুকর-আহমাদ মোস্তফা কামাল
পাঠচক্র মূল্য ২০০ টাকা
রাশা- মুহম্মদ জাফর ইকবাল
তাম্রলিপি- মূল্য ২৭০ টাকা
অপঠিত।
মাতাল হাওয়া- হুমায়ুন আহমেদ
অন্য প্রকাশ - মূল্য ৩৫০ টাকা
সুপাঠ্য। ওনার উচিত স্মৃতিকথা টাইপ গদ্য লেখা। ৬৯ এর ঘটনা নিয়ে রচিত; অনেক কিছু সত্য না হলেও সম্ভবত সত্যের কাছাকাছি ছিল। রেটিং ৮/১০
রূপা- হুমায়ুন আহমেদ
অন্বেষা প্রকাশন- মূল্য ২০০ টাকা
ফরমায়েসী লেখা। ক্রেতাকে বিভ্রান্ত করতে বই এর এই নাম দেয়া হয়েছে। রেটিং ৪/১০
অনান্য
নির্বাসিতের আপনজন- জাহিদ হোসেন
পলল প্রকাশনী মূল্য ২২০ টাকা
উপভোগ্য একটি বই নিঃসন্দেহে।
অপ্রকাশিত চিঠি- সুলতানা শিরীন সাজি
জাগৃতি প্রকাশনী মূল্য ১২৫ টাকা
ব্লগারদের লেখার মান যে কতোটা উন্নত সেটা বই মেলায় প্রকাশিত নানা নতুন লেখকের বই ঘাটলে বোঝা যায়। তাই সংগ্রহশালায় এই বইটিও ঠাঁই করে নিলো।
একবিংশের বানান- হাসান রাউফুন
জ্যোতিপ্রকাশ মূল্য- ৬০ টাকা
খুবই প্রয়োজনীয় একটি সংগ্রহ। যারা বানান নিয়ে বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত হতে চান তাদের জন্য অবশ্য পাঠ্য। রেটিং ১০/১০
সবাই নিশ্চই মেলার বাহিরে সড়কের উপরে বিক্রতাদের বই ফেরি করতে দেখেছেন। তাদের কাছ থেকে নীচের বই গুলি কেনা, মুলত সংগ্রহকে সমৃদ্ধ করার জন্যই। সবগুলিই আগে পঠিত।
গল্প ১০১- সত্যজিৎ রায়
মূল্য ২০০ টাকা(কমিশন সহ)
ফেলুদা সমগ্র - ১,২ - সত্যজিত রায়
মূল্য ২০০ টাকা প্রতিটি।
শঙ্কু সমগ্র- সত্যজিৎ রায়
মূল্য ১৫০ টাকা
ছোটদের হাসি সমগ্র- সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
মূল্য- ২৫০ টাকা
কিশোর উপন্যাস সমগ্র- শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
মূল্য ২০০ টাকা
এসব ছাড়াও আরো কয়েকটি বই কেনা হয়েছে; কখনো সুযোগ হলে পরে বিস্তারিত জানানো যাবে নাহয়।
সবাইকে ধন্যবাদ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29106876 http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29106876 2010-02-27 22:27:01
ম্যালা বই এর বইমেলা ২০১০ - প্রথম পর্ব এবারে বইমেলা থেকে বেশ কিছু বই কেনা হয়েছে। প্রথম পর্বে বিষয় ভিত্তিক কিছু বই এর খোঁজ খবর দিলাম।
আত্মজীবনী
ওড়াওড়ির দিন- আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
সময়- মূল্য ২২৫ টাকা
লেখকের নামটিই বলে দেয় সব। নিছক ভ্রমণ কাহিনী নয়; মানুষের গল্প। রেটিং ১০/১০
আমার বোকা শৈশব- আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
সময়- মূল্য ১৫০ টাকা
বলা হয়েছে কিশোর সংস্করণ। আরেকটি অমূল্য সংগ্রহ। রেটিং ১০/১০
আমার ছেলেবেলা- মুনতাসীর মামুন
সুবর্ণ- মূল্য ৮০ টাকা
আরেকটি সেকালের গল্প। রেটিং- ১০/১০
আ লিটল ফাইটার স্লিপিং উইথ আর্মস- মনজুরুল হক
ঐতিহ্য- মূল্য ১৮০ টাকা
বইটা এখনো পড়া শেষ করিনি কেবলমাত্র একটা কারণে! প্রতিটা পরিচ্ছেদ শেষ করি আর আফসোস করি, " আহা, আরেকটা চ্যাপ্টার শেষ হয়ে গেলো! বইটাতো শেষ হয়ে যাচ্ছে!' অসাধারণ প্রাঞ্জল একটি মানবতার, অমানবতার গল্প। রেটিং- ১০/১০
৩৯ পূর্ব হোয়াং হুথং- কবির হুমায়ূন
ভাষাচিত্র- মূল্য ২০০ টাকা
ব্যক্তিগত ভ্রমণ কিংবা প্রবাস জীবনের গল্প। চীনা জীবন যাত্রার প্রতি আগ্রহ থাকার কারণে বইটি পড়তে ভালোই লাগছে। রেটিং ৭/১০
অনুবাদ গ্রন্থ
ট্রেজার- ক্লাইভ কাসলার/মখদুম আহমেদ
রোদেলা প্রকাশনী- মূল্য -৩৫০ টাকা
'রিভার গড' পড়ার পর থেকে মখদুম সাহেবের অনুবাদের প্রতি নজর পড়ে। চমৎকার ভাষাশৈলী, দক্ষ নিয়ন্ত্রনের কারণে তার অনুবাদ সুপাঠ্য। অপঠিত রেটিং ৮/১০
সাহারা- ক্লাইভ কাসলার/মখদুম আহমেদ
নির্বাচিতা প্রকাশন- মূল্য -৩২০ টাকা; অপঠিত রেটিং ৮/১০
দ্য সেভেন্থ স্ক্রৌল- উইলবার স্মিথ/মখদুম আহমেদ
রোদেলা প্রকাশনী- মূল্য -৩৫০ টাকা; অপঠিত রেটিং ৮/১০
এ টাইম টু ডাই- উইলবার স্মিথ/মখদুম আহমেদ
ঝিনুক প্রকাশনী- মূল্য ৩২০ টাকা
টানটান উত্তেজনা নিয়ে কাহিনীর সূচনা। শেষটাও ভালো হবে মনে হচ্ছে। রেটিং ৮/১০
দি স্পার্ক অব লাইফ- এরিখ মারিয়া রেমার্ক/জুলফিকার নিউটন
ঝিনুক প্রকাশনী- মূল্য ৩০০ টাকা
রেমার্ক আমার প্রিয় লেখকদের একজন। পাতা উল্টে মনে হলো অনুবাদ মন্দ হয়নি। অপঠিত রেটিং ৮/১০
কল্পবিজ্ঞানের ১৫ গল্প- হাসান খুরশীদ রুমি
বাংলাপ্রকাশ মূল্য-২৫০ টাকা
এই বইটি কিছুদুর পড়ে মনে হলো, এর পর থেকে সাইন্স ফিকশনের মূল ইংরেজী বই ছাড়া পড়বো না। লেখনী টানলো না কেন যেন। রেটিং- ৬/১০
ভ্রমণ কাহিনী
জিনজিরা থেকে সেন্টমার্টিন- এডভোকেড জয়নুল আবেদীন
রোদেলা প্রকাশনী- মূল্য ১৩০ টাকা
শুরুতে কিছুটা ইন্টারেস্টিং লেগেছিলো; শেষ দিকে এসে নিছকই পারিবারিক প্রেক্ষাপটে এসে কিছুটা একঘেয়ে হয়ে পরেছে। ছবি আধিক্যের জন্য প্লাস পয়েন্ট দেয়া যায়। রেটিং ৫/১০
আমেরিকা- কাছের মানুষ দূরের মানুষ- শাকুর মজিদ
উৎস প্রকাশন -মূল্য ১২০ টাকা
শাকুর ভাই এর কাছ থেকে আরো ভালো কিছু আশা করেছিলাম। একটাও ছবি নেই। বর্ণনা গুণে কিছুটা উৎরে যেতে পারে হয়তো। রেটিং ৭/১০
আমিরাতে তেরো রাত- শাকুর মজিদ
উৎস প্রকাশন - মূল্য ৬০ টাকা
অপঠিত- ছবির অনুপস্থিতি রেটিং কমিয়ে দিবে।
হো চি মিনের দেশে- শাকুর মজিদ
উৎস প্রকাশন- ১০০ টাকা
প্রচুর ছবি; সাথে চমৎকার বর্ণনার দেখা মেললো। এখনো পুরোটুকু পড়া হয়নি যদিও।
তবে রেটিং ৯/১০
মুসাফির মন- ফরিদী নুমান
জ্ঞান বিতরণী- মূল্য ১২৫ টাকা
এখনো অপঠিত; তবে ছবি প্রচুর, যদিও লেখনী ততোটা আকর্ষনীয় বলে মনে হয়নি। সব ছবিতে লেখকের উপস্থিতিটা কিছুটা পীড়াদায়ক। রেটিং ৭/১০
সবুজ পাসপোর্ট- আবুল হাসনাত মিল্টন
অন্বেষা প্রকাশন- ১২০ টাকা
ছবি নেই। লেখনী গুণে কিছুটা সুপাঠ্য। ভ্রমণ কাহিনী না বলে গল্প কথন বলা যায়। রেটিং ৬/১০
সাইন্স ফিকশন
রবো নিশি- মুহম্মদ জাফর ইকবাল
শিখা প্রকাশনী- মুল্য ১৭৫ টাকা
এই বই নিয়ে ব্লগে আগেও লেখালেখি হয়েছে। ফরমায়েশি লেখা। বৈচিত্র আনার জন্য প্রধান চরিত্রকে নিয়ে চমকের চেষ্টা করা হয়েছে। গতানুগতিক। রেটিং ৭/১০
গ্রহচারী- মুহম্মদ জায়েদুল আলম সিজার
প্রতিভা প্রকাশ- মূল্য ৮০ টাকা
সিজারের লেখা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। তবে, বই মেলা থেকে সংগ্রহ করা সব সাই ফাই এর ভেতর, লেখনী গুণে এটাকেই আমি সব চেয়ে বেশী এগিয়ে রাখতে চাই। রেটিং ৮/১০
মার্কারিম্যান ও অন্যান্য গল্প- ফরিদুর রেজা সাগর
তাম্রলিপি- মূল্য-১৬০ টাকা
সত্যজিৎ রায়ের প্রফেসর শঙ্কুর দূর্বল অনুকরণ। বলা হয়েছে শিশু কিশোর দের জন্য লেখা। তবে আমার মতে যারা শঙ্কু পড়েছে- অনায়সে এই বই এড়িয়ে যেতে পারে। রেটিং ৪/১০
ফিফটি ওয়ান- শাহরীয়ার শরীফ
বর্ষাদুপুর- মূল্য-১০০ টাকা
প্রথম গল্পের পটভূমিটা পড়তে ভালো লাগছিলো; কিন্তু গাঁথুনী তেমন যুতসই না। অন্যান্য গল্প ঘেটে মনে হলো বিদেশী কাহিনীর কড়া ছায়া দেখতে পাচ্ছি! যদিও বইএর কোথাও এর কোন ইঙ্গিত নেই! রেটিং ৬/১০
হাফ ব্লু হাফ রেড- শামীম হাসনাইন
প্রতিভা প্রকাশ- মূল্য- ৬০ টাকা
লেখার ঢংটা বোর করে তুলবে পাঠককে। গল্প গুলিতে ভালো লাগার মতো কোন উপাদান নেই! রেটিং ৩/১০
লীন হয়ে যায় প্রিয় নগর- শরীফ উদ্দিন সবুজ
ওয়ার্ল্ড নিউজ এজেন্সি -মূল্য ৮০ টাকা
ভূমিকম্পে ধ্বংস হয়ে যাওয়া ঢাকা নগরীকে নিয়ে গল্প। প্রথম কয়েকটি পাতা পড়ে লেখার ধাঁচকে পরিণত মনে হলো। ঠিক সাইন্স ফিকশনে ফেলা উচিত কিনা বুঝতে পারছি না। রেটিং ৭/১০
অ্যাপার্ট সিটি- সাজ্জাদ কবীর
পাঠসুত্র -মূল্য ৮০ টাকা
এটাও পড়া হয়নি এখনো। তবে চোখ বুলানোর পর যথেস্ট ম্যাচিউর লেখা মনে হয়েছে। অপঠিত রেটিং- ৮/১০
(চলবে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29105990 http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29105990 2010-02-26 17:06:46
ভালোবাসা কিংবা ভালো না বাসার গল্প- বইমেলা ২০১০ বইটি প্রকাশ করেছে "প্রতিভা প্রকাশ"- যাদের স্টল নাম্বার ৪৫০ মূল বইমেলার বাহিরে সড়কের ধারে।
এই বইটি প্রকাশের পেছনের পুরো কৃতিত্বটুকুই দিতে হয় ব্লগার মোজাম্মেল প্রধানকে। লেখার কাজটুকু বাদে, কম্পোজ, প্রচ্ছদ সব সহ বই প্রকাশের বাকি সব কাজই সে নিজের ঘাড়ে নিয়ে, সফলভাবে সমাপ্ত করেছে। অসংখ্য ধন্যবাদ তাকে। আর সবসময় তথ্য দিয়ে, খোঁজ নিয়ে পাশে পাশে থেকেছে সিজার। তার সাহায্য ছাড়া এই বই প্রকাশ করা হয়তো সম্ভব হতোনা।
বইটির প্রচ্ছদে লাল রঙটি ব্যবহার করা হয়েছে রানার প্রিয় ফিকশন সিরিজ 'DUNE' এর কথা মাথায় রেখে, লেখকের নাম, পেছনের পাতায় পেপার ব্যাকের কিছুটা আদল রাখার চেষ্টাও করা হয়েছে সেজন্যে।
ব্লগে লেখালেখি শুরু করার পেছনের একটা কারণ ছিল এই বই এর প্রকাশ টাও। রানার বন্ধু, শুভাকাঙ্খিদের হাতে তার লেখাগুলি পৌঁছে দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। সামহ্যয়ার ইন এর সব ব্লগারদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা; তাদের উৎসাহ ও সমর্থন না পেলে এই লেখাগুলি হয়তো রানার খসড়া খাতাতেই পড়ে থাকতো।
সবাইকে ধন্যবাদ আবারও।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29101450 http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29101450 2010-02-20 09:33:52
ছবিব্লগ- সূর্য গ্রহণ ছবিগুলি ধারাবাহিক ভাবে দিলাম।













]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29079056 http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29079056 2010-01-15 19:04:12
বিজয় দিনের স্বপ্ন এক এক করে তিন;
ঘৃণ্‌ দালালের পদছোঁয়ায়- ক্লিষ্ট স্বদেশ,
আজও একা অশ্রু ফেলে;
শোধ হলোনা ঋণ।
দেশ জননীর পতাকার লাল,
রাঙালো দিয়ে প্রাণ;
নিজ ভূবনে অমর তারা-মূক নির্বাক,
ক্ষুব্ধ অপার- চেয়ে দেখা ;
ধূলোয় লুটায় মান।
ভোল পাল্টে হায়েনারা,
এখন সাজে মুক্তি!
শকুনী আর শিয়ালেরও -এক রা শুনি
ক্ষমতার এই লোলুপ নেশায়,
অসাড় বিবেক, যুক্তি।
অক্ষমতার তীব্র ক্রোধে,
তরুণ হারায় দিশা;
কুচক্রি আর জাল বেছানো- পথ মাড়িয়ে
পারবেকি সে- করতে লড়াই?
ঘুচবে অমানিশা?
তবুও বিজয় দিনের ভোরে,
আশায় বাঁধি বুক;
হয়তো কোন যুবা, কিশোর- নিচ্ছে শপথ
দৃপ্ত; আবার আনবে স্বাধীন
মুক্ত হাওয়ার সুখ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29059860 http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29059860 2009-12-16 11:21:19
শর্ত- কল্প গল্প প্রমিথিউস কথাটা ভাবলো এই কারণে, যে- খবরের ফিডে চোখ বুলাতে গিয়ে নীচের বিজ্ঞাপনটা তার চোখে পড়লো-

মাত্র এক বছরের জন্য বিশেষ ডিসকাউন্টে পৃথিবীতে এপার্টমেন্ট -----------------------------বিশেষ আকর্ষণ সমূহ----------------------
অ্যাডাম বিল্ডার্স করপোরেটঃ একমাত্র আমরাই পৃথিবীর একমাত্র আইনত স্বত্তাধিকারী ডেভেলপার!!!
গ্রহের যেকোন পছন্দসই জায়গায়;
-৫৭ ডিগ্রী শীতলতা থেকে শুরু করে ৫০ ডিগ্রী সেলসিয়াস উষ্ণতার পরিবেশে;
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বাইশ হাজার ফিট উচ্চতায় কিংবা সমুদ্রের নয় কিলোমিটার তলদেশে;
আমাজনের প্রাকৃতিক জঙ্গল কিংবা সাহারার উষর প্রান্তরে;
৪০ স্কোয়্যার ফিট আয়তন থেকে শুরু করে ১০ লক্ষ বর্গফিট আয়তনের;
এককালীন মূল্য পরিশোধ কিংবা ২০০ বছরের কিস্তিতে;
ফ্রি বাইব্যাক পলিসি;
প্রতিটি এপার্টমেন্ট স্বয়ংক্রিয়, স্বশাষক ও পূর্ণ স্বাধীন প্রাঙ্গণ;
৫ আলোকবর্ষ দূরত্বের ভিতর, যে কোন গ্রহ থেকে নিয়মিত বিরতিতে শাটল স্পেসক্রাফ্‌ট;

......এরকম আরো চমৎকার সব প্রতিশ্রুতি দিয়া ভরা পুরো ফিড্‌টা।
প্রমিথিউস দ্রুত একবার চোখ বুলিোয়ে গেল।
আজকাল এমনটা দেখাই যায়না!
সব গ্রহে ডেভেলপাররা কেবল দখল আর মারামারিতে ব্যস্ত; একক কর্তৃত্বের গ্রহ আজকাল নেই বললেই চলে। ডেভেলপারদের মদদপুস্ট সরকার গুলি সবসময় যুদ্ধে লিপ্ত থাকে বলে, কোন গ্রহেই আজকাল আর শান্ত পরিবেশে থাকার জো নেই।
এরা যখন বলছে একক ডেভেলপার, তাহলে তো বলতে হবে খুব চমৎকার একটা সুযোগ!
প্রমিথিউস সেন্ট্রাল ডাটাবেজ থেকে সব ইনফরমেশনগুলির ফিড ঘেটে ঘেটে দেখলো। ইউনাইটেড নেশনস এর সার্টিফিকেটগুলিও যাচাই বাছাই করলো।
নাহ, সব ঠিকই আছে। এজেন্টরাও তাকে নিশ্চিত করলো বিজ্ঞাপনের সত্যতা সম্পর্কে। সে মোটামুটি মনস্থির করে ফেললো এদের অফার গ্রহন করার জন্য। অফিস থেকেও অনাপত্তি ছাড়পত্র দিবে জানিয়ে দিল। সে হিসেব করে দেখেছে, পৃথিবীতে শিফ্‌ট করলে ভার্চুয়াল অফিসে ঢুকতে এখনকার চাইতে মাত্র ৪ সেকেন্ড বেশী লাগতে পারে। তার লেভেলের অফিসারের জন্য এটা মোটামুটি গ্রহনযোগ্য।
এপয়েন্টমেন্ট করা নির্দিস্ট দিনেই সে হাজির হলো ডিলার অফিসের বিশাল ভবনে। সুবেশী নারী এক্সিকিউটিভ তাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে গেলো নির্দিস্ট বুথের দিকে।
কাঁচ ঘরে কক্ষের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলো সে।
ভার্চুয়াল ত্রিমাত্রিক লোকের অবয়ব সহাস্যে তাকে অভ্যর্থনা জানালো।
"আসুন আসুন, মহান ক্রেতা.............!"
সম্ভাষনটা হঠাতই মাঝপথে থমকে গেলো যেন।
"আহ!" বিরক্তসূচক একটা শব্দ করলো অবয়বটা। চোখে মুখে তার বিরক্তির ছায়া স্পষ্ট।
"মানুষগুলি কেন যে না জেনে শুনে পঙ্গপালের মতো ছুটে আসছে!" কন্ঠেও যেন একরাশ বিরক্তি। প্রমিথিউস একটু বিব্রত হয়ে পড়লো। সে কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলো না তার কি করা উচিত। ঠিক তখনই তাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে আসা মেয়েটি আবার ঘরে ঢুকলো। মেয়েটি হাতে বিজ্ঞাপনের ফিডটি। সেটি তার দিকে এগিয়ে দিলো সে।
আঙুল দিয়ে বিজ্ঞাপনের একদম নীচে খুব ছোট একটা লাল দাগ মতো দেখালো মেয়েটি। প্রমিথিউস ফ্লিক করতেই দাগটা থেকে একটা লেখা বের হয়ে আসলো স্ক্রীণ জুড়ে।
ক্রেতাসত্ত্ব কেবলমাত্র সাইবর্গ, রোবট ও এলিয়েনদের জন্য সংরক্ষিত ( মানুষদের ক্ষেত্রে এই অফার প্রজোয্য নয়)
জীবনে অসংখ্যবারের মতো আবারো, প্রমিথিউসের তার মানব জন্মের উপর গ্লানিবোধ হলো। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29054643 http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29054643 2009-12-06 23:07:00
সবুজ-সাদা-নীল- ছবি ব্লগ
কাশের আকাশ; বান্দরবান।





নীলগিরিতে











শৈল প্রপাত-১

ছেড়া দ্বীপ

প্রহরী

ছেড়া দ্বীপের উঁকিঝুঁকি

দ্বীপের পথে অভিযাত্রী

নাফ নদী- যেতে হবে বহুদূর

স্বর্ণালী নাফ নদী

জোছনা

ঘরে ফেরা
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29053065 http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29053065 2009-12-03 21:03:55
ফ্রাইডে দ্য থার্টিন্থ- ছোট গল্প (প্রথম পর্ব) আর মাত্র কয়েকটি ঘন্টা; এর পরই সেই কাঙ্খিত রাত!
১৩-১১-০৯ !
ফ্রাইডে দ্য থার্টিন্থ।
কতো বছর ধরেই না এই রাতটির অপেক্ষায় ছিল তারা।
ধৈর্য্যের বাঁধকে শত সহস্র আঘাতের মুখে ভেঙে পড়তে দেয়নি। থেকে থেকে নিঃশেষ হয়ে গেছে তাদের এক একজন সাথীরা। কখনো নীরবে, কখনো অসহনীয় যন্ত্রণার তীব্রতায় কাতর গোঙানীতে ঢলে পড়েছে মৃত্যুর করাল থাবায়। চলে যেতে হয়েছে এক একজন যোদ্ধাকে।
তবুও তারা অপেক্ষায় আছে।
১৩-১১-০৯ এর অপেক্ষায়; তাদের বিজয়ের সূর্য্য আনবে বলে।
সময় খুব বেশী হাতে নেই। যার আত্মাকে দখল করে প্রভু লুসিফার ফিরে আসবেন এই মর্ত্যে, সেই মেয়েটিকে প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। খুনের রক্তে তার হাত রঞ্জিত হবার পরপরই লুসিফার পূণর্জন্ম নিতে পারবে তার ভক্তদের মাঝে।
২।
এই সমাধিটা যে কার, চার্চের কেউই সেটা বলতে পারে না। পাথুরে দেয়ালে কোন পরিচয় তো দূরে থাক, এমনকি কোন অক্ষর পর্যন্ত খোদাই করা নেই। আর্চ আকৃতির একটা প্রবেশ দ্বার, তার ভেতরেই ছোট রুম মতো জায়গায় সমাধিটা। ভেঙ্গে পড়া দেয়ালের উপর হয়তো কোন এককালে ভল্ট ছাদ ছিল; এখন তার কোন চিন্হ অবশিষ্ট নেই।
চার্চের এই অংশটা ব্যবহারের অনুপযোগী বলে এদিকটায় কেউ আসেনা। সমাধির গায়ে ধুলোর আস্তর পড়তে পড়তে প্রায় ঢিবির আকার নিয়েছে।
কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপার হলো কোথাও একবিন্দু সবুজের ছোঁয়া নেই। রুমের বাকি জায়গাটুকু আগাছায় ছাওয়া হলেও সমাধিটা পুরোপুরি রুক্ষতার আধার যেন! রাতভর এখানে তীব্র গোঙানী আর কান্নার করুণ ফিসফিসে স্বর ভেসে বেড়ায়। কিন্তু আশে পাশে লোকালয় না থাকায়, শোনার কেউই নেই।
রেনেসার সময়ে একবার এই জায়গাটা ভেঙে রেনোভেশনের চিন্তা ভাবনা চলছিলো। কিন্তু অজানা সমাধির গায়ে ছেনী আঘাত করার পর পর যেই দুর্যোগ শুরু হলো; কুসংস্কারের খোলস ভেঙে সেটাকে নিছক কাকতালীয় ভেবে নেয়াটা তখনকার কোন পাদ্রীর পক্ষে সাহস হয়নি। কাজ বন্ধ হয়ে গেলো। এই ঘটনার ঠিক পরপরই আবার যখন পোপ প্লেগে মারা গেলেন; অনেকেই এই দুই ঘটনার ভেতর মিল খোঁজার চেষ্টাও যে করেনি, সেটাও বলা যাবে না।
কারণ যেটাই হোক। এর পর থেকে জায়গাটা পরিত্যক্তই থাকলো।
আপাত দৃষ্টিতে।
আজ বৃহস্পতিবার।
বছরের এই সময়টায় চারটা বাজতে না বাজতেই চারদিক আঁধার হয়ে আসতে শুরু করে ঠিকই,কিন্তু সমাধির চারপাশটায় আবছা আলোটুকুও যেন কেউ হঠাৎ করে শুষে নিয়েছে। আর্চটা পার হয়ে ঢোকামাত্রই নিকষ কালো অন্ধকার যেন টেনে নিতে চায়। হয়তো সেকারণেই সমাধির পায়ের কাছটুকু থেকে কুন্ডলী পাকিয়ে জেগে উঠা ধোঁয়াটাকে মানবীয় অবয়বে রূপ নিতে কেউই দেখতে পেতো না; কিন্তু রাস্তার স্বল্প আলোতেও অপরূপা এই মানবীর দিকে দ্বিতীয়বারের মতো না তাকিয়ে, কোন পথচারীই যেতে পারছিলো না।
একজন ছাড়া!
মেয়েটি কাউকেই ভ্রুক্ষেপ করছিলো না। দু একজন শিষ দিয়ে উঠলো। ভবঘুরে টাইপ একজন আঙুলে বাজে ইঙ্গিত করলো। সে পাশ কেটে যাবার সময় কি যেন এক নোংরা খিস্তিও করে উঠলো লোকটা।
মেয়েটা চোখের আড়াল হতেই ভবঘুরেটা কোত্থেকে ছুটে আসা মোটর সাইকেলের ধাক্কায় ছিটকে পড়লো রাস্তার পাশে। ককিয়ে উঠলো যন্ত্রণায়। হাতটা বোধ হয় ভেঙ্গেই গেছে।
মেয়েটা অন্য গলিতে মৃদু হাসলো, যদিও ঘটনাটা তার দেখা সম্ভব ছিলনা।
৩।
প্রথম দেখায় মতি মিয়াকে যে কেউ, অশিক্ষিত, নিম্ন মধ্যবিত্ত আরো একজন ইমিগ্র্যান্ট হিসাবেই দেখবে। লন্ডনের রাস্তায় হাটতে থাকা এমন শত লোক আজকাল চোখে পড়ে। তাই তার দিকে কেউ আলাদা করে তাকাচ্ছিল না। সেও তার নিজ ধ্যানেই পথ চলছিলো।
পথচারীদের মধ্যে একমাত্র সে ই মেয়েটির দিকে চোখ ফিরে তাকায় নি।
তবু সে তার নজরে পড়ে গেল।
মেয়েটি মনস্থির করতে মোটেই সময় নিলনা। নীরবে অনুসরণ করে চললো তাকে। বিড় বিড় করে কি যেন পাঠ করে চলছে। সংবাদ চলে গেছে তার সাথীদের কাছে।
শিকার পাওয়া গেছে!
মেয়েটির রক্তে তীব্র কোন নেশার নাচন শুরু হয়ে গেলো যেন। ইপ্সিত লক্ষ্যে পৌঁছে যাবার তাড়নায় তার সব কোষে কোষে যেন জেগে উঠতে শুরু করেছে লুসিফারের আহ্বান।
৪।
কতোই বা বয়স হবে মতি মিয়ার।? তেইশ নয়তো চব্বিশ। একেবারেই নিরীহ গোছের ছেলে। চাচার সুবাদে লন্ডনে এসেছে মাসখানেকও হয়নি। একেতো মফস্বলের, তার উপর পীর বংশের ছেলে। পশ্চিমের আধুনিকতার সাথে সে একেবারেই মানিয়ে উঠতে পারছে না।
তবে তার এখানে আসার কারণটা অন্য।
লন্ডনে আসার ইচ্ছেটা হঠাৎ করেই জেগে উঠেছিল মাস তিনেক আগে থেকে। তার প্রবল ইনটুইশন তাকে বার বার লন্ডনের দিকে টানছিলো। সে টের পাচ্ছিলো তার অদৃষ্ট তাকে এখানে আসতে বলছে। গত একটা মাস সে একেবারেই বিভ্রমে থেকে গেছে। তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় যেন হঠাৎ করেই নষ্ট হয়ে গেছে।
আজকে সকাল থেকেই তার খুব অস্থির অস্থির লাগছিলো। চাচার রেস্টুরেন্টে পার্ট টাইম যে কাজটুকু করে তাতে শুক্র থেকে রবি এই তিনদিন ছুটি পায়। জমে থাকা নিজের সাপ্তাহিক কাজগুলি কোনমতে শেষ করেই দুপুরের পর বেরিয়ে পরেছে রাস্তায়। কোথায় যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে বলতে পারবেনা। কিন্তু যে কেউ হিসেব মেলালেই বুঝতে পারবে, সে ধীরে ধীরে এগুচ্ছে সেই চার্চটির দিকে; যেখান থেকে মেয়েটি বের হয়ে এসেছে।
মতি মিয়া বলতেই পারবেনা, মেয়েটি কখন থেকে তাকে অনুসরন করছে। কিন্তু বাচ্চাটিকে সে রাস্তার অপর পাশে দেখার সাথে সাথেই থমকে দাড়ালো।
বড়জোর বছর আটেক হবে। ফুটফুটে একটি মেয়ে শিশু। দেবদূতের পবিত্রতায় ঝলমল করছে তার নিস্পাপ মুখটি।
একলা দাড়িয়ে ছিল, ল্যাম্প পোস্ট টির ঠিক নীচে। তারপরেও যেন কুয়াশা আঁধার তার চারপাশটি ঘিরে। মতি মিয়ার দিকেই সরাসরি তাকিয়ে ছিলো মেয়েটি, চেনা পরিচিতের দৃস্টি দিয়ে। সে মন্ত্রমুগ্ধের মতো এগিয়ে গেলো মেয়েটির দিকে।
আশপাশের দিকে তাকালে যে কেউ বুঝতে পারতো এখানে একটা অস্বাভাবিক কিছু ঘটতে চলছে কিংবা ঘটছে। একটা লোককেও দেখা যাচ্ছে না দৃষ্টির সীমানায়। অথচ অনেক কটা অন্ধকার অবয়ব লুটিয়ে পড়ে আছে যেন রাস্তার উপরে। তারা দ্রুত স্থান বদল করছে।
বৃত্তাকারে দলবেঁধে ঘিরে রেখেছে মতি মিয়া ও সেই বাচ্চা মেয়েটিকে।
সে মতি মিয়ার দিকে হাত বাড়ালো।
"ফলো মি।"
না! বাচ্চাটির মুখ থেকে নয়। খসখসে গলায়, রক্ত হীম করা কথাগুলি ভেসে এলো যেন তার পেছন থেকে। মতি মিয়ার এক মুহুর্তের জন্য মনে হলো আতংকের হিমেল পুকুরে তাকে ফেলে দেয়া হয়েছে। দম ব্ন্ধ হয়ে আসার আগের মুহুর্তে বাচ্চাটির হাত তাকে ছুঁলো।
কোত্থেকে সাহস ফিরে আসলো তার ভেতর, সে বলতে পারবে না। কিন্তু মোহগ্রস্থের মতো তাকে অনুসরণ করার সময় মতি মিয়া আর এক মুহুর্তের জন্যও ভীত হলো না।
(চলবে.........)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29042562 http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29042562 2009-11-12 23:30:51
সীমান্ত- ছোটগল্প বুবুনের কথা
স্কুলে থাকতে প্রায়ই মনে হতো, আচ্ছা, আমি কেন এমন হলাম?!
কেন আমি রাতুল, মিঠু কিংবা সজলের মতো হলাম না। রাতুল সব পরীক্ষায় বরাবর প্রথম হতো; ডিবেটে মিঠুকে হারায়, এমন কেউ- অন্য কোন স্কুলে কেন, কলেজগুলিতেও ছিল না! সজল কতোবার স্কুল গেইমসে চ্যাম্পিয়ন হলো।
আচ্ছা, এতো চটপটে নাহয় নাইবা হলাম; কিন্তু তাই বলে এতো বোকা হলাম কেন? ইতু আপা আমাকে সবসময় বুবনা গাধাটা বলেই ডাকে। এমনকি, এই যে এখন ভার্সিটিতে পড়ছি, তাতেও তার কোন বিকার নেই। ইতু'পাটা এত্তো ঠোঁটকাটা!
একসময় খুব ফ্রাস্টেটেড হয়ে পড়েছিলাম। প্রায়ই কলেজে যেতেই ইচ্ছে করতো না। যেদিন ইতু'পার ক্লাশ থাকতো না, সেসব দিনে তো যেতামই না। বাসায় বসে বই পড়ে , নয়তো নোট্‌স ঘেটেই সময় কাটিয়ে দিতাম। সেকেন্ড ইয়ারে যখন অ্যাটেনডেন্সের ঝামেলাটার কথা ইতু'পার কানে গেলো; কি যে রাগ!! তবে এতে একটা লাভ হয়েছিলো; ক্লাশ থাক না থাক লাইব্রেরী ওয়ার্ক এর জন্য হলেও সে কলেজে যেতো, পেছন পেছন আমি!
তবে বোকাসোকা আর সাধারন মানের স্টুডেন্ট হয়েও যে ভার্সিটিতে চান্স পেয়েছি, তার পুরো কৃতিত্বটাই ইতু'পার।
ও না থাকলে, আমাকে ঠেলে ধাক্কা দিয়ে ভার্সিটিতে পড়ানোর- আর কারো দায় পড়েনি । বাসা থেকেও ধরে নিয়েছিলো, বোধহয় কলেজেই কোন একটা সাবজেক্টে, অনার্সে ঢুকে যাবো। ছোটাপ্পি তো ভার্সিটির রেজাল্ট শীটে আমার নাম দেখতে পেয়ে প্রায় ভিমড়ি খেয়ে গেছিল!
সে তো ঘোষনা দিয়েই দিলো- " বুবুন যদি সিজিপিএ ৩ এর উপরে রাখতে পারে তাহলে ওকে বিদেশে মাস্টার্স করার খরচ আমি দিবো।"
ভাবখানা এমন যেন কাড়ি কাড়ি টাকা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে !
অবশ্য দুঃখের ব্যাপার হলো; আমি পাশ করতে করতে যে- সে, অনেক টাকা পয়সা কামাবে- তাতে কোন সন্দেহ নেই। থার্ড ইয়ারে উঠেই পড়াশোনার বাইরে কিসের কিসের সব কন্সাল্টেন্সি করে ইদানীং বেশ ভালোই টাকা পয়সা কামাচ্ছে দেখি!
আচ্ছা! দেখা যাবে সময় হলে! চোখ উল্টাতে কিন্তু খুব ওস্তাদ ছোটাপ্পিটা!
ইতু'পাটা নিজে কিন্তু এতো ভালো রেজাল্ট নিয়েও ভার্সিটিতে ঢুকলো না। একদিক দিয়ে ভালোই হয়েছে। নয়তো কলেজে কি আর ওর দেখা পেতাম? আমি ভার্সিটিতে ঢুকার পরপরই ইতু আপার সাথে দেখা হওয়াটা কমে যাচ্ছিল। ক্লাশ, টিউটোরিয়াল এর ফাঁকে মাঝে মাঝেই ইতু'পার সাথে দেখা করতে মনটা এমন করতো! ছুটির দিন গুলিতে থাকতাম খুব মজায়। সারাদিন ইতু'পাদের বাসায়। আমি, ইতু'পা আর আংকেল মিলে খুব মজা করি। কখনো মুভি দেখা; কখনো ব্রিজ খেলা কখনো ক্যারাম। আংকেল তো আমাকে খুবই পছন্দ করেন।ঔনি খুব মজার মানুষ। কখন কি করেন, কোন ঠিক নেই। এতো সুন্দর করে ছবি আঁকতে পারেন। শুনেছি আনটির সাথে নাকি অনেকদিন ধরে বনিবানা হচ্ছেনা। আন্টি অবশ্য পি এইচডি করতে বেশ কিছু সময় ধরেই স্টেটস এ আছেন। ক্যারামে হেরে গিয়ে আংকেল মাঝে মাঝে আমাকে অনেক খোঁচায়-
আংকেল বলে, " কিরে তুই কি আমার মেয়ের জামাই হবি নাকি?! আমার কিন্তু অমত নেই ।"
শুনে আমি যে কই লুকাবো বুঝে উঠতে পারিনা। কিন্তু শুনতে ভালও লাগে!
আর ইতু'পা বলে, "বাবা তুমি যে কী!! খালি খালি ছেলেটাকে বিব্রত করো কেন?!"
একদিন আমি বলে ফেলেছি- " হ্যাঁ, হবো!"
শুনে ওরা দুজন কি যে হাসি!!
আমি পুরো একটা সপ্তাহ আর ঐ মুখো হয়নি। শেষে ইতু'পা বাসায় এসে আমার হাত ধরে স্যরি ট্যরি বলে গেলো। আরে, আমি কি রাগ করেছি নাকি?! ইতুপাটাও এতো সিধা টাইপ না!
বুবুনের শুনতে ভালোই লাগে।
ইশতিয়াক ভাইয়াকে আমি আগে থেকেই চিনতাম। ইতু'পার কাজিন। ছোটবেলা থেকেই দেখছি। বেশ আমুদে লোক, আমারও খুব ভালো লাগতো ভাইয়াকে। তাই যেদিন শুনলাম ইশতিয়াক ভাইয়ার সাথে নাকিই ইতু'পার বিয়ে হতে যাচ্ছে, খুব একটা অবাক হইনি, কিন্তু যতোটা খুশী হবার কথা ছিল; সেই উচ্ছাসটুকু কেন যেন মনের ভেতর থেকে আসছিলো না।
এরপর যেদিন বিয়ের ডেট ফিক্স হয়ে গেলো, কেমন যেন অচেনা একটা কষ্ট আমাকে ঘিরে ধরতে শুরু করলো।
মনে পড়ে খবরটা শোনার পর তিন দিন আমি আর ইতু'পার মুখমুখি হতে পারিনি। শুধু মনে হচ্ছিল ও যদি কিছু টের পেয়ে যায়!
ঠিক এই সময়ে অঘটনটা ঘটলো।
আন্টি ইউএস এ থেকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দিলেন। ইতু'পা ব্যাপারটা কিভাবে নিতো বলতে পারবো না। কিন্তু ইশতিয়াক ভাই এর ফ্যামিলি বিয়েটা ভেঙ্গে দিলো। কারণ তারা ছিল ইতুর বাবার সুত্রের আত্মীয়। তারা এখন আর অগ্রসর হবেনা জানিয়ে দিলো স্পস্ট।
ইশতিয়াক ভাইয়াকে আমি নিজে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তার কথাগুলি এখনও আমার কানে বাজে।
" বুবুন, তুমি বুঝবে না; আমি আমার পরিবারের মতের বাইরে কিছু করতে পারবো না। তুমি পারলে ইতুকে একটু বোঝাও। ও তোমার কথা অনেক শোনে, তোমাকে অনেক পছন্দ করে, তুমি বললে হয়তো ও কিছুটা সামলে উঠতে পারবে"।
সেই মুহুর্তে আমি কিছু বলতে পারছিলাম না তাকে। তবে রাগের তীব্রতায় আমার মাথা ঝনঝন করছিলো! এমন মেরুদন্ডহীন লোককে ইতু'পা ভালো বাসতে পারলো কিভাবে?
রাগটা সামলানো গেলোনা।
অঘটনটা ঘটানোর পর কেউই ভাবতে পারেনি কাজটা আমি বা আমাদের গ্রুপের কেউ করেছে। কিন্তু পরদিন সকালে ইতু'পা ঠিকই চলে আসলো আমাদের বাসায়। আমাকে ছাদে ডেকে নিয়ে গেলো।
কথা নেই বার্তা নেই ঠাশ করে একটা চড় বসিয়ে দিলো আমার গালে।
" ভেবেছিস কী? খুব মাস্তান হয়ে গেছিস? কেউ টের পাবেনা, কারা ইশতিয়াককে পিটিয়েছে?! খুব বাহাদুরের মতো কাজ করেছিস, নিরীহ একটা লোকের গায়ে হাত তুলে?"
আরেকটা চড় তুললো ইতু`পা।
আমি ঠেকানোর কোন চেষ্টা করলাম না। শুধু তাকিয়ে ছিলাম তার চোখের দিকে। আমার দৃষ্টির ভেতর জানিনা কি ছিল।
ইতু`পার জন্য কষ্ট, নাকি ইশতয়াক ভাইয়ের জন্য ঘৃণা!?
জানিনা।
কিন্তু বিয়ে ভেঙ্গে যাবার পর এই প্রথম ইতু`পাকে কাঁদতে দেখলাম। অনেকক্ষণ আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদলো।
পুরো সময়টায় আমি একটা কথাও বলিনি। বলতে ইচ্ছে হয়নি।
শুধু মনে হয়েছিলো, অনন্তকাল যদি এভাবে থাকা যেতো!
আমাদের আড্ডাটা ভেঙ্গে গেলো। ইতু`পাদের বাসায় আর যাওয়া হলোনা আমার। মাঝে মাঝে ইতু`পা আমাকে ডাক দিয়ে বাসা থেকে বের করে নিয়ে যেতো।
বোটানিক্যাল গার্ডেনের পাশ দিয়ে নদী পার ঘেষে অনেকদূর হেটে যেতাম আমরা। ইতু`পা আমার হাতটা ধরে রাখতো।
কোন কথা বলার প্রয়োজন পড়তোনা কেন যেন। বোকাসোকা আমার ছোট্ট পৃথিবীর সবটুকু চাওয়া দিয়ে ঐ সময়টুকুকে ধরে রাখতে চেয়েছিলাম অনন্তকাল।
কিন্তু...................।

পরিশিষ্ট
শ্বশুর বাড়ির আত্মীয়দের কাছ থেকে নীলা কখনো খুব বেশী কিছু আশা রাখতো না। জাহেদের সাথে তার বনিবনা না হওয়ার অনেক কারণের মধ্যে সেটাও একটা। ডিভোর্সের পরে তাই ইশতিয়াকের সঙ্গে যখন ইতুর বিয়েটা ভেঙ্গে গেলো, সে মোটেই অবাক হয়নি। কিন্তু মেয়েটার কথা ভেবে তার খুব কষ্ট হচ্ছিলো। মা, মেয়ের দুজনেরই হয়তো জাহেদের উপর ক্ষোভ ছিল। নীলা মেয়েকে ইউ এস এ তে নিজের কাছে আনার ব্যবস্থা করলো।
ইতু জানেনা সে বুবুনকে ভালোবাসে কিনা। কিন্তু ইশতিয়াকের জন্য তার কষ্ট হচ্ছিলো সেটা ঠিক; আর বুবুন সাথে থাকলে সেই কষ্টের কথাও ভুলে থাকা যায় সেটাও ঠিক।
কিন্তু, এ হয়না।
সে কাছে থাকলে বুবুন আরো কষ্ট পাবে।
সবার কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়াটাই হয়তো ঠিক হবে।
ঢাকা এয়ারপোর্টে কেবল বুবুন আর জাহেদ এসেছিলো। চেকইনের আগে বিদায় নেবার পালা।
ইতুর চোখটা ছলছল করে উঠলো ।
"তোকে কাছে টেনে ধরে রাখার ক্ষমতা যে আমার নেইরে বুবনা! তাই দূরে সরে যাওয়াই ভালো। জানি, কষ্ট পাবি; অনেক কষ্ট হবে তোর। আমি যে যন্ত্রণার ভেতর দিয়ে গেছি, তার চাইতে অনেক বেশী কষ্ট হয়তো তুই পাবি। তুই যে অনেক সহজ সরল রে। মনে কর, ভালোবাসার এই কষ্ট টুকু আমি তোকে দিয়ে গেলাম। আমার সাধ্যের সীমান্তের ভেতরে এর চাইতে আপন কিছু যে আর দেবার ক্ষমতা নেই............"
স্পীকারের তীক্ষ্ণ কর্কশ শব্দে তার শেষ কয়টা কথা অস্পষ্ট মতো শোনালো। কিন্তু বুবুন জানে কান্না চেপে কথা বলতে গেলে, ইতুর কথা বরাবর এমন নিশ্চুপ হয়ে আসতে থাকে। বোর্ডিং এর জন্য শেষবারের মতো অ্যানাউন্স করা হলো।
বুবুনের ধরে রাখা হাতটা আলতো ভাবে ছেড়ে দিলো সে। তার বাবার দিকে একবারও আর তাকালো না। ইমিগ্রেশন পার না হওয়া পর্যন্ত ওকে দেখা যাচ্ছিল। ফিরে তাকায়নি সে।
পিতার উপর অভিমানটা কাটবে না সহজে, সেটা জানে বুবুন।
কিন্তু তাকে ফিরে কেন দেখলো না?!
অকারন অভিমানে তার চোখে বাস্প জমে উঠে। জাহেদ ও সে হেটে যেতে থাকে কার পার্কিং এর দিকে।
ভিন্ন রকম ভালবাসার সীমান্তে আটকে পড়া দুইজন, কোথায় যেন একটা অদৃশ্য সম্পর্কের সুতোয় বাঁধা পড়ে গেছে অজান্তেই।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29040164 http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29040164 2009-11-08 23:57:55
ব্যাচেলরের ভালো বাসা ভালো বাসার খোঁজে - উপক্রমনিকা
দ্বিতীয় পর্ব
ভালো বাসার ঠিকুজী
স্টুডিও এপার্টমেন্টের এর চাইতে ভালো বাংলা আর করা গেলো না- "ব্যাচেলরের বাসা"! এই পর্বে এটা নিয়েও কিছু বলা উচিত মনে হলো। কারণ আজকাল ঢাকা শহরে 'স্টুডিও এপার্টমেন্টের চাহিদা বাড়ছে। বিশেষ করে তরুন এক্সিকউটিভদের কাছে।
'স্টুডিও এপার্টমেন্ট বলতে বোঝায় ৪০০ থেকে ৫০০ এস এফটির বাসা; যেখানে একটি বেড রুম, এটাচ টয়লেট, একটি লিভিং বা ড্রইং রুম, ডাইনিং এবং কিচেন স্পেস থাকে। শহরের ব্যস্ত এক্সিকিউটিভ বা সদ্য দাম্পত্যে প্রবেশ করা জুটির জন্য বেশ উপযোগী। এর লোকেশন ও মূল্য দুই ই তাদের হাতের বেশ নাগালেই থাকে। সংসারে যাদের এক বা দুই সন্তান; তারা অনায়সেই বছর দশেক সেখানে দিব্যি কাটিয়ে দিতে পারবেন। এরপর ক্রয়ক্ষমতাও বাড়ে, সংসারও বড় হয়। তখন এটা বিক্রি বা ভাড়া দিয়ে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার মতো সামর্থ্যও অর্জিত হয়ে যায়। তাই আজকাল অনেকেই এই "স্টুডিও এপার্টমেন্ট কে তাদের পছন্দের ভেতরেই রাখছে। আপনিও রাখতে পারেন।
স্টুডিও এপার্টমেন্ট বাছাই করতে গেলে যা যা লক্ষ্য রাখবেন-
১। সাইটের অবস্থান কোথায়? সি এন জি পাওয়া যাবে তো? গাড়ী রাখার গ্যারেজ কি আছে? বাজার, খুচরা তৈজসের দোকান কতদূরে? বাচ্চার স্কুল কি কাছেই? আপনার নিকট অভিভাবকদের কেউ কি কাছে পিঠে থাকেন?
২। বিল্ডিং এ কয়টা পরিবার আসবে? পর্যাপ্ত লিফ্‌ট আছে কি? নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কি?
৩। কমন বিল কতো আসতে পারে। আপনার আয়ত্তের মধ্যে তো?
৪। এপার্টমেন্টে আলো বাতাস পর্যাপ্ত পাওয়া যাবে তো?
৫। ওপেন কিচেন হলে, বায়ু চলাচল ব্যবস্থা ভালো আছে কিনা খেয়াল রাখবেন।
৬। সম্ভব হলে কয়েকজন বন্ধু বান্ধব মিলে একসাথে পাশাপাশি কিনুন।
৭। ফ্লাট কবে হ্যান্ডওভার করা হবে সেটাও বিবেচনায় রাখবেন।
আজকে এটুকুই।
ধন্যবাদ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29040030 http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29040030 2009-11-08 20:04:06
ভালো বাসার ঠিকুজী ভালো বাসার খোঁজে - উপক্রমনিকা
ভালো বাসার ব্রোশিওর
ধরে নিলাম লোকেশন পছন্দ করে, ডেভেলপারও বাছাই করা শেষ; নিজেদের প্রয়োজন বুঝে কয় বেডরুমের বাসা হবে; কতো স্কোয়্যার ফিটের ভেতর; সেটাও ঠিক করে নিয়েছেন।
এখন প্রজেক্টের খুঁটিনাটি দেখার পালা।
সেলস এক্সিকিউটিভ সবার আগে আপনার হাতে ধরিয়ে দিবে ঝাঁ চকচকে একটা ব্রোশিওর। নানা বিদেশী ছবি আর বিশাল বিশাল রুমের ছবি সব পেজে পেজে! আর গ্যারেজে তো কোটি টাকার নীচের কোন গাড়ির ছবি নেই! পটে যাবেন না দয়া করে!
আপনার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বাড়ির প্ল্যানটা সঠিকভাবে পড়তে পারা। প্ল্যান বলতে বোঝায় আকাশ থেকে ছাদ খুলে নেয়া বাড়ির ভেতরটায় তাকালে আমরা যা যা দেখতে পাবো- অনেকটাই এমন একটা চিত্র। আমি একটা মাঝারি আকারের বাসার (ডেভেলপারের হিসাবে ১৪০০ থেকে ১৫০০ এসএফটি) সম্ভাব্য মাপগুলি তুলে দিচ্ছি।
সবগুলি মাপই কিন্তু দেয়াল থেকে দেয়াল পর্যন্ত অর্থাৎ কার্পেট এরিয়া।
মাস্টার বেডরুমের মাপ হওয়া উচিত ১৫০ এস এফটির কমবেশী।
১২' বাই ১২' হতে পারে; কিংবা ১০' বাই ১৫', সবচেয়ে ভালো হয় ১২' বাই ১৪' হলে। সাথে বারান্দা থাকা উচিত- ১৫ এফ এফটি মাপের।
দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বেডরুমের মাপ খুব বেশী আশা না করাটাই ভালো। ১২' বাই ১২' থেকে ১১' বাই ১০' হলেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। গোসলখানা বা টয়লেট এর আদর্শ মাপ ৪' বাই ৭'৩" নুন্যতম। ভালো হয় ৫' বাই ৭' হলে। আজকাল কেউই মাস্টার টয়লেটে বাথটাব রাখেন না। না রাখাটাই ভালো। ১৪০০/১৫০০ মাপের এপার্টমেন্টে মোট তিনটি বাথরুম থাকা উচিত। সাথে একটি সার্ভেন্ট টয়লেট হলে ভালো হয়- (৪'৬"বাই ৩'৬" মাপের)। প্রায়সই দেখা যায় রান্নাঘরের মাপটাকে সংকুচিত করে আনার একটা প্রবণতা। কিন্তু আমাদের গৃহিনীদের দিনের বড় একটা সময় কাটে সেখানে। ৭' বাই ৯' নীচে হওয়াটা উচিত না; অর্থাৎ কমবেশী ৬৫ এস এফটি। কিচেন বারান্দাও যেন ৩' বাই ৪' নীচে না হয়। এবার আসি ডাইনিং রুমের কথায়। ডাইনিং দেখা যায় সাধারণত সব রুমের মাঝখানটায় থাকে। তাই হাটাচলার জায়গা রাখতে গিয়ে বেশ কিছুটা জায়গা ধরে খালি রাখতে হয়। ১২' বাই ১২' মাপটা মন্দের ভালো; যদি একপাশে হয়। ১১' বাই ১৪' ও চলে। মোদ্দা কথা এটাও ১৫০ এস এফটি উপরে রাখতে পারলে ভালো। লিভিং রুম বা ড্রইং রুম যদি ডাইনিং এর সাথে এক লাইনে হয় ভালো। বড় কোন অনুষ্ঠানে পুরো জায়গাটা এক সাথে ব্যবহার করা যায়। এটাও ১২০ এস এফ টি থেকে ১৮০ এস এফটির মধ্যে হতে পারে।
এই হলো একটা ছোট থেকে মাঝারি মাপের বাসার মাপের খুঁটিনাটি।
স্বপ্নের বাসা
ডেভেলপারদের বাসা কি আপনার স্বপ্নের মতোন করে হতে পারে? আপনি কি চাইলেই নিজের মতো করে গুছিয়ে নিতে পারেন বাড়ির ভেতরটা?
পারেন, নির্দিস্ট কিছু বিধি নিষেধ বাদে।
সাধারণত বাথরুম বা টয়লেটের অবস্থান পরিবর্তনযোগ্য নয়। বাহিরের দিকের জানালা বদলানো যাবেনা; বারান্দার পরিবর্তন করাও সম্ভব হয়না সবসময়। এছাড়া আর সবকিছু উল্টে পাল্টে নিজের মতো করে গুছিয়ে নিতে পারেন। তবে প্রায় সব ডেভেলপাররাই ক্রেতাদের কাউকে সরাসরি আর্কিটেক্ট বা ডিজাইনারের সাথে যোগাযোগ করতে উৎসাহিত করেন না। কিন্তু এটা করা গেলে আপনার কাজ অনেক সহজ হয়ে যাবে।
যে সব ফিনিশিং আইটেম বাছাই করার অধিকার আপনি আদায় করে নিবেন বা চুক্তির আগেই জেনে নিবেন তা হলো-
১। ফ্লোর টাইলস
২। টয়লেট টাইলস ও ফিটিংস
৩। ইলেক্ট্রিক্যাল ফিটিংস
৪। দরজা ও বিল্ট ইন কেবিনেট (যদি থাকে)
৫। কিচেন কেবিনেট ও ফিটিংস
৬। ইমার্জেন্সি জেনারেটর সাপোর্ট (কয়টা বাতি, ফ্যান ইত্যাদি)
৭। লিফট বৃত্তান্ত।
আমরা যে মূল্যের এপার্টমেন্টের কথা ভাবছি, সেখানে এসব কিছুই দেশীয় ব্র্যান্ডেরই হবার কথা।
(পরের পর্বে থাকবে বাড়ি নির্মান হবার সময়কার করনীয়)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29037685 http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29037685 2009-11-04 18:25:41
ভালোবাসার খোঁজে- ছোটগল্প "পাশের বাসার ইদ্রিস ভাবীরাও কালকে বুকিং দিয়ে আসলো। এই বিল্ডিং এ এখন আমরা ছাড়া আর আর সবারই নিজের জমি হয়ে গেলো। দুদিন পর বাড়িও হয়ে যাবে।আচ্ছা, তুমি কী চাও বলতো? তোমার কি সত্যি সত্যি ইচ্ছা আছে নিজের বাড়িতে উঠার? নাকি সারাজীবন এই বাড়িওয়ালার ধাঁতানী খেয়েই চালিয়ে দিবে?"
দেখো দেখি! কি কথা!
জমির বুকিং দেয়ার সাথে বাড়ি হয়ে যাবার সম্পর্কটা কোথায়?!
হাসান সাহেব নির্বিরোধ মানুষ, একটা বেসরকারী ব্যাংকে মোটামুটি ভালো পোস্টে চাকুরী করছেন। বাবা ছিলেন সরকারি চাকুরে; সারাজীবন হয় সরকারের কলোনী, না হয় কোয়াটারে থেকেছেন। অবসরের পর, তার বাবা মা দুজনেই দেশ গ্রামে ফিরে গেছিলেন। শেষ জীবনটা সেখানেই ছিলেন বুড়োবুড়িতে মিলে; এবং হাসান সাহেবের ধারণা বেশ ভালোই ছিলেন। মুক্ত বায়ু, খাঁটি খাবার আর জটিলতা ছাড়া জীবনটা- শেষ বিন্দু পর্যন্ত টেনশন ছাড়াই কাটিয়ে গিয়েছেন তারা।
হাল জমানার হালচাল দেখে, তিনি অবশ্য বুঝে গেছেন এই তরিকায় এখন চলবে না। এখন শহুরে যুগ! শেষ দম ছাড়ার আগেও, তার বৌ টিভিতে উঁকি মেরে দেখে যেতে চাবেন, বেচারী সাদাসিধে বৌটা দজ্জাল 'শাস্‌' এর হাত থেকে রেহাই পেলো কি পেলোনা!
ভুলটা অবশ্য তিনিই করেছেন। যারা এই ব্যাংকের চাকুরীর ১৫ বছর পার করেছেন, তাদের যে কিছু বাড়তি সুবিধা দেয়া হচ্ছে, এই খবরটা তো তিনিই আগ বাড়িয়ে বৌকে দিয়েছিলেন। নামমাত্র সুদে যে লোনটুকু পাওয়া যাচ্ছে, আর সেটা দিয়ে যে ঢাকার কাছাকাছি জমি কেনার স্বপ্ন দেখা যায়- এটুক হিসেব নিকেশ শেষ করা মাত্রই, নীলিমা বিজ্ঞাপন ঘাটতে বসে গেছে। এর উপরে যোগ হয়েছে, প্রতিবেশীদের জমি কেনার নানান ইর্ষনীয় মুখরোচক গল্প। বাচ্চারাও আজকাল বাসায় বসে বসে বিরক্ত হয়ে গেছে। জমি কেনা হলে অন্তত সপ্তাহে সপ্তাহে পিকনিক করার মতো একটা স্পট হবে, এটা ভেবেই তাদের খুব ফু্র্তি!
গোদের উপর বিযফোড়ার মতো বাড়ীওয়ালাও আজকাল নানা তাল বাহানা শুরু করেছে। শান্তিনগরের এদিকটায় এখন নানা অফিস গড়ে উঠছে। হাসান সাহেবরা চুক্তি ভেঙে বাসাটা ছেড়ে দিলে তিনি মোটা টাকায় অফিসকে ভাড়া দিতে পারেন। এই কারণে নানা খুঁটি নাটি সমস্যা তৈরী করছেন আজকাল।
ছুটির দিনের ভোরবেলাতেই আবার সেই একই প্রসঙ্গ কানে ঢুকাতে, তিনি খুব একটা প্রসন্ন বোধ করলেন না।
বিরক্তি আটকে জবাব দিলেন-
" দেখো, তোমাকে তো বলেছি সময় করে যাবো ড্রিমল্যান্ড ডেভেলপমেন্টের অফিসে। ওদের অ্যাডের পেপার কাটিং ও তো রেখে দিয়েছি। মানিব্যাগেই আছে।"
নীলিমা আজকে নাছোর বান্দা! আলসে লোকটাকে চেপে না ধরলে কখনোই হবে না কিছু!
"মানিব্যাগে না, পেপার কাটিং আমার হাতেই আছে! এই যে দেখো!"
সে স্বামীর দিকে এগিয়ে ধরলো টুকরো কাগজটা।
"ওদের শুক্রবারেও অফিস খোলা থাকে। এখনি চলো। সকাল সকাল গিয়ে বুকিং দিয়ে আসি।"
প্ল্যানটা আসলে কদিন ধরেই করেছে নীলিমা। হিসেব করে বুকিং এর টাকাটাও তুলে রেখেছে ব্যাংক থেকে। এতো কথা অবশ্য জানায়নি হাসান সাহেব কে। আবার দেখা যাবে, তিনি অন্য কোন অযুহাত খাড়া করে ফেলেছেন। স্বামীটাকে তার হাড়ে হাড়ে চেনা হয়ে গেছে এই আঠারো বছরে!
ড্রাইভার আসবেনা বলে একবার ক্ষীণ আপত্তি জানাতে চেয়েছিলেন হাসান সাহেব; দেখা গেলো সেও হাজির! বেগম সাহেবা নাকি দুদিন আগেই জানিয়ে রেখেছিল।
যাবার পথে পুরো রাস্তাই, ব্যাংকার সাহেব তার হিসেব নিকেশের জট খুলতে খুলতেই গেলেন। কতো টাকা মাসিক কিস্তি, আর খরচ কোথায় কোথায় কতো কমাতে হবে; এটার হিসেব শেষ হবার আগেই তারা পোঁছে গেলেন বারিধারার রিয়েল এস্টেটের আলীশান অফিসে।
ড্রিম ল্যান্ডের অফিসটা যেন স্বপ্নপুরীর মতোই। ঝা চকচকে মার্বেল বিছানো রিসেপশন; ডেস্কের পেছনের মডেল মার্কা মেয়েটার পলিশড হাসি! ( এটা যে অবশ্য নীলিমার তেমন একটা পছন্দ যে হয়নি তা তার বাঁকা নজর দেখেই তিনি টের পেয়েছেন) তুলতুলে গদির মখমলের আবরণের সোফায় বসা থেকে উঠে দাড়ানোতেও কসরত করতে হয়। ওয়েটিং রুমে এসির হিমেল পরশে দশ মিনিট বসে, কফি কাপে চুমুক দেয়ার পাশাপাশি নজর বুলিয়ে গেলেন দেয়ালে ঝোলানো ভবিষ্যতের শহরের নানা চিত্রের উপর। একেবারে কল্পলোকের কোন সাইন্স্ ফিকশনের শহর যেন! ৮০/১০০ তলার নীচে কোন বিল্ডিংই নেই।
হাসান সাহেব মনে মনে ভাবলেন, ঠাঁটবাটেই না জানি কতো পয়সা খরচ করছে এরা!
বেশী ক্ষণ অপেক্ষা করতে হলোনা। সুট টাই পরা ফিটফাট এক এক্সিকিউটিভ এসে নিয়ে গেলো মিনি মিটিং রুমে। এরই মধ্যে তাদের মতোন বেশ কজন সম্ভাব্য ক্রেতাকেও আসতে যেতে দেখা যাচ্ছিল।

ঘন্টা দুয়েক পর মিটিং রুম থেকে নীলিমা বেশ প্রসন্ন মুখেই বের হয়ে আসলো। সাথে কিছুটা বিভ্রান্ত বদনে তার সাহেব! তিনি যে বুকিংটা দিয়ে দিলেন সেটা কি জমি পছন্দের কারণে না চতুর সেলসম্যানের মোলায়েম ট্যাকনিকের কারণে সেটা ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলেন না।
তবে একটা কাজ তিনি করে এসেছেন। আজকে বিকালেই তাদের জমি দেখাতে নিয়ে যাবে ডেভেলপারের পক্ষ থেকে। তারা ছাড়াও আরো কজন ক্রেতাও নাকি যাবেন। ভালোই হয়েছে।
হাসান সাহেব একটু আস্বস্ত বোধ করলেন। জোরাজুরি করে অ্যাডভান্স প্যামেন্ট টা তিনি চেকেই করেছেন। জমি দেখে পছন্দ না হলে কোন একটা অযুহাত দেখিয়ে বুকিং বাতিল করে দিলেই হবে।
সারা রাস্তায় বাড়ীর স্বপ্ন বুনতে বুনতেই ঘরে ফিরলো নীলিমা। বিকেলে জমি দেখতে যাবার তর সইছে না যেন তার।
কিন্তু বিধি বাম! দুপুরের পরেই কেঁপে জ্বর আসলো নীলিমার। এই অবস্থায় বাইরে বের হবার প্রশ্নই ওঠে না। হাসান সাহেব ও যেতে নীমরাজি ছিলেন; কিন্তু সিদ্ধান্ত এখনই না নিলে রোববারে চেকটা ঠিকই ক্যাশ করে ফেলবে রিয়েল এস্টেটওয়ালারা। কিছুটা বিমর্ষ বদনেই তিনি বেরিয়ে গেলেন আবার বারিধারার দিকে। ওখান থেকে তাদের নিয়ে যাওয়া হবে সাইটে।
ঠিক সময়েই তার মতো আরো জনা পনের উৎসাহী ক্রেতাকে নিয়ে রওনা দিলো কোম্পানীর মাইক্রোবাস।
ঢাকার এতো কাছে যে, এরকম খালি জলা আছে সেটা আগে কখনো কল্পনাও করতে পারেননি তিনি। মাত্র ঘন্টা খানেকের রাস্তা। কোম্পানী থেকে দুজন লোক এসেছিলো। মূল রাস্তা থেকে মিনিট পনেরো হেটে তারা নীচু ধানী জমির এলাকায় আসলেন। অল্প একটু অংশ জুড়ে সদ্য বালু ফেলা হয়েছে। জায়গাটা বেশ পছন্দ হলো হাসান সাহেবের। ঘুরে ফিরে দেখতে লাগলেন তিনি। রিয়েল এস্টেটের প্রতিনিধি দুজনকে একটু বিভ্রান্ত দেখাচ্ছিল। বারবার মোবাইলে কাদের যেন ফোন করার চেষ্টা করছিলো। কিন্তু এখানে যে নেটওয়ার্ক পাওয়া যাচ্ছেনা সেটা তিনি আগেই খেয়াল করেছিলেন। কেন যেন তার মনে হলো কোথাও একটা বড় ঝামেলা হয়েছে।
তিনি এক্সিকিউটিভ দুজনকে কিছু জিজ্ঞেস করতে যাবার আগেই দূর থেকে অনেক লোকের হৈচৈ ভেসে আসতে শুনলেন। খেয়াল করে দেখলেন, পাশের গাছপালা ঘেরা জায়গা থেকে হঠাৎ করেই ৪০/৫০ জনের একটা গ্রুপ বের হয়ে বেশ দ্রুতই তাদের দিকেই আসছে। লোকগুলোর সবারই হাতে লাঠিসোটা! কারো কারো হাতে বর্শা মতোনও মনে হলো।
হাসান সাহেবের শীরদাড়া বেয়ে আতংকের একটা ঢেউ বয়ে যেতে লাগলো।

সন্ধ্যা পেরিয়ে রাতের নিস্তব্ধতা বেড়েই চলছিল। তবু হাসান সাহেবের ফেরার কোন নাম নেই। মোবাইল ও বন্ধ! রিয়েল এস্টেটের অফিসের বাইরে অপেক্ষারত ড্রাইভারও কোন খবর বলতে পারলো না! উদ্বিগ্ন নীলিমা নিজের জ্বরের কথা ভুলে বার বার মোবাইলে চেষ্টা করতে লাগলো।এর ভেতরে ড্রাইভার আবার ফোন দিল-
"আফা, এইখানে অফিসে জানি কি হইছে। এরা তরিঘরি কইরা সব বন্ধ কইরা বাত্তি বুত্তি নিভায়া গ্যাছেগা।হ্যাগো এক ডেরাইভরের কাছে হুনলাম, সাইটে নাকি জমি দখল লইয়া বহুত গ্যান্জাম হইছে। গোলাগুলিও নাকি হইছে! আফা আমি অখন কি করুম?"
নীলিমার অবশ হাত থেকে মোবাইল ফোনটা আলগোছে খসে পড়লো।

অবশেষে হাসান সাহেবদের খবর পাওয়া গেলো রাত ১২টার পর।
স্থানীয় একটা ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন আছেন।
রিয়েল এস্টেট কোম্পানীর অবৈধ দখলের বিরোধীতাকারী একদল ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর রোষের শিকার হয়েছিলেন তারা। তার উপর কোম্পানীর স্বার্থ দেখা কিছু মাস্তানরাও এই কোন্দলে যোগ দেয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণের বাইরেই চলে গিয়েছিল।
কমবেশী সবাই আহত হয়েছেন; তবে গুরুতর কিছু নয় এই রক্ষে।
হাসান সাহেবের কেবিনে যখন নীলিমা পৌঁছালো, কেঁদে কেঁদে ততোক্ষণে তার চোখ লাল হয়ে উঠেছে।
ডান হাতে ব্যান্ডেজ নিয়ে বিছানায় শুয়ে থাকা হাসান সাহেব অভয়ের হাসি হেসে তাকে শান্তনা দেয়ার চেষ্টা করলেন।
"ভয় পেয়োনা, আঘাত তেমন কিছুই না। ডাক্তার বলেছে কালকেই ছেড়ে দিবে।"
বুকের উপর আছড়ে পড়লো নীলিমা।
"আমি আর কখনো জমি, বাড়ি কিচ্ছু চাবোনা। প্লিজ তুমি খালি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠো। আমার আর কিচ্ছু চাইনা"- ফোঁপাতে ফোঁপাতে বললো সে।
হাসতে গিয়ে ঠোঁটে ব্যাথা লাগলো হাসান সাহেবের।
যাক, ভালো বাসা নাইবা জুটলো; ভালোবাসা যে আছে- এই ঢের।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29037224 http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29037224 2009-11-03 22:08:48
ভালো বাসার খোঁজে - উপক্রমনিকা স্বপ্ন দেখার সাধ ও সাধ্যের সমন্বয়
কারা দেখতে পারবেন একটি নিজের আবাসের স্বপ্ন?
প্রথমেই, জমি কিনে বাড়ি করার সামর্থ যাদের আছে, তাদের এই তালিকা থেকে বাদ দিতে চাই। তারা স্বপ্ন দেখেন না- কিনেন <img src=" style="border:0;" />
চাকুরীতে ঢুকেছেন বছর কয়েক হলো; প্রজেক্টের কাজ করে হাতে এককালীন কিছু টাকা এসেছে এমন কেউ; বিদেশ থেকে বড় ভাই কিছু টাকা পাঠিয়েছেন এপার্টমেন্ট কেনার জন্য - এমন অনেকেই আছেন এই ঢাকা শহরে।
আজকাল ব্যাংকও ৯% সুদে হাউজিং ঋণ দিচ্ছে।
আমি একটা গড় হিসাব করে বলছি-
যারা এককালীন লাখ দশেক টাকা ম্যানেজ করতে পারবেন; আর মাসকাবারী ব্যাংকে ন্যুনতম হাজার বিশেক টাকা জমা দিতে পারবেন, তারা অনায়সেই স্বপ্ন দেখতে পারেন-খুব বেশী বড় নয়; দুই বা তিন বেডরুমের, হাজার থেকে তেরশ বা এমন সাইজের বাসা।
বাসায় যদি উপার্জনকারী একাধিক হয়; তাহলে হয়তো এটা খুব বেশী কষ্টকর হবেনা। তাছাড়া, যারা ব্যাংকে কাজ করেন, তারা খুব অল্প সুদে লোন পেয়ে থাকেন। তাদের পক্ষেও এটা সম্ভব। এসব ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য আমার কাছে খুব একটা নেই, তবে কেউ জানতে চাইলে তার জবাব আশাকরি খুঁজে দিতে পারবো।
কে দেখাবে স্বপ্ন?
এককথায় উত্তর ডেভেলপারওয়ালারা!
ঢাকায় জমির দাম এখন আকাশ ছোঁয়া। তাছাড়া আপনি যে জায়গার আশেপাশে থাকতে চাচ্ছেন সেখানে বিক্রয়যোগ্য জমি থাকতে হবে তো? সুতরাং ডেভেলপারের কাছে যেতেই হবে। ঢাকায় ( আসলে সারা দেশেই) এখন এই ব্যাবসাটাই রমরমা। হাতে কিছু নগদ টাকা থাকলেই লোকজন নেমে পড়ছে এই ব্যবসায়। কর্পোরেট কালচারও ডেভেলাপ করে ফেলেছে অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠানই।
এদের যে কারো কাছেই যাওয়া যেতে পারে।
সমস্যাটা হলো- পণ্যের গুণগত মান ও কমিটমেন্ট রক্ষা করার ব্যাপারে এ পর্যন্ত কেউই তাদের সুনাম ধরে রাখতে পারেনি। না বড়, না ছোট। বরং ছোট ছোট ডেভেলপারদেরকেই ক্লায়েন্টের স্বার্থ রক্ষার ব্যাপারে বেশী সচেতন থাকতে দেখা গেছে। বড় কোম্পানীর এমডি আর চেয়ারম্যান স্যারের এপয়েন্টমেন্ট তো মিলেই না! <img src=" style="border:0;" />
সে সব প্রসঙ্গও এখানে আপাততো আনছি না।
তবে ডেভেলপার বাছাই এর টিপস দিয়ে দিলাম কিছু এখানে।
১। আপনার পরিচিতদের কাছ থেকে খবর নিন। অর্থাত যারা ইতিমধ্যে ফ্লাট কিনেছে, বসবাস করছে, তাদের ডেভেলপাররা কেমন? নতুন কী প্রজেক্ট তারা অফার করছে। তাদের কমিটমেন্ট ঠিক ছিল কিনা।
২। আপনার পছন্দসই এলাকায় যারা ডেভেলপ করছেন, বা আপনার বর্তমান বাসা আশেপাশে যাদের সাইট, তাদের সাথে কথা বলুন, তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করুন।
৩। সরাসরি মুল মালিক বা এমডি র সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করুন। দেখুন তারা আপনাকে সহজে যোগাযোগ করিয়ে দিচ্ছে কিনা।
৪। যারা বলে, "সব ফ্লাট বেচা শেষ; আর মাত্র পেছনের দিকের তিনটা খালি আছে; তাও দেখতে হবে দেয়া যাবে কিনা...।" চোখ বুঝে এভয়েড করুন এদের।
৫। পছন্দসই জমির মালিকের সাথে কথা বলুন, তার মাধ্যমে নেগোশিয়েটও করতে পারেন। তাছাড়া, সব সময় মনে রাখবেন জমির মুল মালিক লোকটা কেমন, সেটা একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। কারণ দীর্ঘ মেয়াদে তিনিই হতে যাচ্ছেন আপনার প্রতিবেশী। ( মুরগী মিলনের জমি বা ঝাপটা হাসানের জায়গাতে ডেভেলপ হওয়া বিল্ডিং এর দিকে না যাওয়াই ভালো <img src=" style="border:0;" /> )
স্কোয়্যার ফিটের মারপ্যাঁচ
ডেভেলপার পছন্দ হলো, এখন প্লট বাছাই করে, ফ্লাট পছন্দের পালা।
প্রায় সবাইকেই অভিযোগ করতে দেখেছি-
"ভাই, ছিল ১৮০০ এসএফটি, মেপে পেলাম ১৩০০!!"
"ব্রোশিয়রে রুম বড় বড় লাগতো। উঠে দেখি খাট ছাড়া কিছু রাখা যায় না!"
এই হিসেবগুলিতে কিছু শুভংকরের ফাঁকি থাকে, কিছু আপনাদের ক্রেতার অজ্ঞানতা থাকে।
একটা ১৮০০ বা ১২০০ এস এফটি ফ্লাটে; যে মাপেরই বলিনা কেন কয়েক ধরনের স্পেসের হিসাব থাকে।
১। কার্পেট এরিয়া- অর্থাত রুমের ভেতরকার মাপ; এক দেয়াল থেকে অন্য দেয়াল পর্যন্ত।
২। ওয়াল এরিয়া- যে ৫ ইঞ্চি বা ১০ ইঞ্চি দেয়াল দিয়ে আপনার ফ্লাট টা তৈরী হয়েছে তাদের দখল করা জায়গা।
৩। আপনার ফ্লোরের সিড়ি, লিফট ও এন্ট্রি লবির জায়গাটুকু- যেটা সমানুপাতে বন্টিত হবে ঐ ফ্লোরের সব এপার্টমেন্টের মধ্যে।
৪। নীচ তলায় অফিসরুম/ইউটিলিটি রুম/ ওয়েটিং রুম/ইলেক্ট্রিক রুম/গার্ডরুম/টয়লেট- ছাদের উপর কমিউনিটি রুম; লিফট রুম- এসবের আনুপাতিক অংশ।
একটা গড় হিসাব নীচে দেয়া গেলো।
১৯০০ এস এফটির একটা ফ্লাটে আমরা এভাবে পেয়েছি-
১। কার্পেট এরিয়া-১৩৩০ এস এফটি
২। দেয়াল- ২১০ এস এফটি
৩। লিফট, সিড়ি- ১৯০ এস এফটি
৪। বাকি থাকলো ১৭০ এস এফটি;
১,২ ও ৩ আপনি সহজেই হিসেব করে নিতে পারবেন।
শুভংকরের ফাঁকিটা হয় ৪ নং হিসেব নিয়ে <img src=" style="border:0;" />
এখানে সব ডেভলপাররাই কিছুটা হাইকোর্ট দেখানোর চেষ্টা করবে!
আমার পরামর্শ হচ্ছে, একবার পুরো মাপের উপর রেট ফায়সালা করার পর, আপনি ১,২ বাদ দিয়ে বাকি দুটার কথা ভুলে যান। ধরে নিবেন এটুকুই আপনার প্রকৃত প্রাপ্তি।

(আপাততো এখানে বিরতি। আপনাদের উপকারে আসলে এটা নিয়ে এগিয়ে যাবার ইচ্ছে থাকলো। এখানে আরেকটি কথা বলে নেয়া ভালো , ব্লগের অনেকেই ডেভেলপার ফার্ম বা ব্যাবসার সাথে জড়িত থাকতে পারেন; তাদের যেকোন মতামত খুব প্রয়োজনীয় বলেই গণ্য হবে)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29035387 http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29035387 2009-10-31 19:20:24
কবিতা: দীর্ঘশ্বাস (উৎসর্গ: অকালপ্রয়াত সহব্লগার, সাংবাদিক মাহবুব মাতিন)
তারপর;
একদিন আমরাও কারো দীর্ঘশ্বাসের স্মৃতি হবো......

ছবিই ছিলে তুমি;
প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর জীবন্ত।
ছুটে ছুটে চলা সংবাদের পিছু...........।
চেনা জানা নও- তবু;
কতবার শুনেছি সেই কন্ঠ, কতো চিরচেনা ভঙ্গীতে!
দৃষ্টিকে অভ্যেসের খাঁচায় ফেলে,
নিত্য সংবাদ দেখা;
তবুও স্মৃতি চিনে নিতে সময় নেইনি কখনোও;
"মাহবুব মাতিন; চ্যানেল আই!"
সমাপ্তি রেখা টেনে দিলে তার!
বলেছিলে," চশমা ছাড়া মাতিনকে মানায় না";
আসলেই মানায় নি।
আরো বেমানান ছিল নিথর শুয়ে থাকা হীম শীতল,
নেই হয়ে যাওয়া মানুষটি।
বড় অসময়ে চলে গেলে,
সংবাদের শিরোনাম হয়ে।
তারপর,
আমাদের দীর্ঘশ্বাস। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29025872 http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29025872 2009-10-14 22:02:37
প্রেস নোট "চল, শালা ! তোর সময় ফুরাইছে......."
লাথি খেয়ে তন্দ্রাচ্যুত হয়- কেইস নাম্বার ২০৪।
ইঁদুর দৌড়ে হেরে হেরে আজ- আত্মসমর্পন করেছে চেতনা;
যতটুকু তার অবশিষ্ট ছিল।
নির্লিপ্ত প্রত্যাশা হীন চোখের কোণে-
জমে ছিল না কোন ঘৃণার পিঁচুটি!
স্বপ্ন?!
তা বোধকরি থেকে যায় নিথর হয়ে যাবার পরও;
বিন্দু বিন্দু।

মাঝ আকাশে চাঁদ যখন আলোর গভীরতা
মেপে রাতের গহীনে প্রবেশ করছিলো;
নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে বুটের হাতুড়ি গুলি,
নির্জনতাকে আতংকিত করে বধ্যভূমির দিকে মার্চ করে যায়।

কান্ডারী হতে চাওয়া
দিক হারানো এক বিক্ষুব্ধ অস্থিরতা;
চিরতরে শান্ত হতে, মাত্র দুটি বুলেট লেগেছিল।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29025355 http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29025355 2009-10-13 22:26:09
ফিউচার অব ফিকশন অনুবাদ কল্প গল্প তাই ইতিহাসের সত্যকথন, আমার কাছ থেকে আশা করাটা ঠিক হবে না; এমন কি, নিজের সাথেও শঠতায়ও আমার দ্বিধা নেই।। অন্য সব পেশার মানুষদের মতো, আমার পেটও চালাতে হয়; আর সেটা লেখালেখির মাধ্যমে উপার্জিত আয় থেকে। পূর্বসূরীদের অনেকের মতো, আমি হাওয়ায় ভেসে বেড়াই না।
আমার এক নির্বোধ প্রতিদ্বন্দী ডি ব্রুক; যে কিনা ওয়ার্ল্ড গভর্মেন্টের ভাতাপ্রাপ্ত লেখিয়ে; তার ২ মেগাবাইট বই জুড়ে সাফাই গেয়েছিল; কেন সে এইসব ছাইপাশ লিখছে। বলতে দ্বিধা নেই আমিও এমন অখাদ্য লিখে চলছি মাত্র ২০০০ আর্থো'র জন্যে। যা দিয়ে আমি, তিন বার হাতবদল হওয়া একটা সোলার কার কিনতে পারি। অনেক দিন ধরেই নজরে রাখছিলাম ওটাকে। অবশ্য যদি 'স্নিজি বুল' টাকা সময় মতো না পায়! আমাকে আগেই আমাদের বিপ্লবী পুরোহিতের কাছ থেকে টাকাটা হাপিস করতে হবে।( লোকটা যেন টাকাটা সময়মতো যাতে আমাকে দিতে পারে!! এ সময়ের ভেতর 'স্নিজি বুলে'র হাতে টাকা গেলে সে ই কিনে নেবে! আবার অন্য কোন বিপ্লবী পুরোহিত তাকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসলে তো সবই গেল! )
বিদ্রোহীদের যে ধারাটা ওয়ার্ল্ডগভকে নড়বড়ে করে তুলছিলো (এ ধরণের কথা আমি কত সহস্রবার যে বিদ্রোহীদের নানা পুস্তিকায় পড়েছি! এক লাইন ও বিশ্বাস করিনি!) তার ব্যপ্তি আসলেই ছিল দানবীয়! নয়তো সভ্যতার পাঁচ হাজার বছর পেরিয়ে গেলেও ( সভ্যতা না বলে যুদ্ধবাজী বলাই যথাযথ!) কিছু মানুষের এখনও সরকারবিরোধী আন্দোলনে উৎসাহের কমতি নেই! যদিও প্রতিবারই দেখা যায় তিন মাসের মাথায় সব সরকারই স্বৈরাচারে পরিণত হয়; হতে বাধ্য।
আমার কাছে যেটা অবাক লাগে, তা হলো মানুষেরআচরণ! সুযোগ পেলেই তারা এক ঘটনার পূনরাবৃত্তি করতেই থাকে, করতেই থাকে। এরা যে আবার উল্টে যাবে, চেহারা বদলাবে- এদের বিরুদ্ধেও যে তাদের আবার আন্দোলন করতে হবে-এ সব কিছু জেনে বুঝেই!
আমার কাছে ব্যাপারটা মনে হয় যেন রাত্রিনিদ্রার মতো। আমরা প্রতি রাতে ঘুমোতে যাই; জানি যে- আগামীকাল রাতেও তাই ই করবো; আর এই দুই সময়ের ভেতর তেমন কিছু বদলে যাবার কোন সম্ভাবনা নেই। মজার বিষয় মনে হচ্ছে? মোটেই নয়।
আসলে আমার মনে হয়, এ ছাড়া আমাদের আর কিছু করার নেই।
পৃথিবীটা এতোই সাধারণ আর করার মতো কাজ আছে খুব কমই। তাই বাধ্য হয়েই আমরা দীর্ঘ সময় ধরে একই রকম ভাবে বেঁচে থাকছি। যতদিন না পর্যন্ত কোন ভিনগ্রহী এসে হাজির হয় আর আমাদেরকে উপলব্ধি করায় , তারাও এভাবে দিনের পর দিন ধরে চক্র চালিয়ে ছিল। হয়তো বিবর্তনের ধারার আদি থেকে দেবত্ব লাভ করা পর্যন্ত!
আচ্ছা, এক ই কথা যে বার বার বলে যাচ্ছি; টাকা পয়সা পাবো তো?! যাই হোক, হাজার বছর ধরে যদি এভাবেই কাজ হয়; তাহলে এখনো হবে।
তবে এই ফাঁকে কিছু কথা মনে হয় বলে নেয়া উচিত; যাতে আপনারা পাঠকরা সন্দেহ করতে শুরু না করেন যে- আপনাদের এই অতি বিনয়ী লেখক, প্রদর্শক এবং দার্শনিক(!) এর আসলে মোটেই লেখনী ক্ষমতা নেই।
কিছু অর্থহীন প্রলাপ শোনার জন্য কে ই বা মূল্যবান সময় নষ্ট করে বই কিনবে বা ভাড়া নিবে? এর চেয়ে ভালো জিভে জল আনা কোন বড়সড় বার্গারে কামড় বসাতে মন্দ লাগবে না! বিশেষত তাতে যদি থাকে- মঙ্গলের কৃত্রিম স্যান্ড ডগ সালাদ আর বাড়তি মুচমুচে আফ্রিকান বিষাক্ত মাসরুম সালাদ। আমারও যে এটা খেতে মন চায়না তা বলবো না; সাথে যদি আসল বিটল ব্লাড ওয়াইন থাকে( সিন্‌থেটিকটা নয় কিন্তু); তাহলে তো পোয়াবারো!
তাহলে মহান নর্মালসদের সেই বিদ্রোহের গল্পই করি; যেটা সেই দুঃসহ দূর্ভিক্ষের সময়ে হয়েছিলো। আর চরম বিপর্যয় ডেকে এনেছিলো (এভাবেও বলা যায়- অনেক সরকারী কর্মচারীকে মরতে হয়েছিলো!) আর কারো কারো জন্য রাতারাতি ধনী হবার সুযোগ করে দিয়েছিল। (লুটতরাজটা বেশ ভালোই হয়েছিলো। আমিও একটা পুরানো মোবাইল ফোন বাগিয়েছিলাম, যেটার ডিস্‌প্লেটা আবার ছিল হলোম্যাটিক!) বিদ্রোহটা হয়েছিলো সারা পৃথিবী জুড়েই।( ইন্টারনেট কে ধন্যবাদ দিতেই হয়! মানুষের ভেতর এখন আর জাতবিশেষ নেই। একই অখাদ্য সংগীত, একই সস্তা বটতলার লেখা; আল্ট্রাভায়োলেট ত্রিমাত্রিক এনিমেশন সিনেমা, আর খাদ্য বলতে সেই এক বেলোনি নুডলস! ( বছর জুড়ে! সব স্বাদের!বিষমুক্ত!(TM)
দেখে শুনে মনে হয়, একটু দাপুটে মন আর গোপনীয়তা রক্ষা করতে পারে এমন একটা শক্তিশালী সার্ভার থাকা উচিত।( তা না হলে, সাইবার পুলিশ এসে এমন শক্‌ দিবে যে; আপনি বিনয়ের অবতার হয়ে পড়তে বাধ্য। তখন নতজানু হয়ে ওয়ার্ল্ডগভ বেঁচে থাক; জয়তু ওয়ার্ল্ডগভ বলে রাবিশ গুন গান গাইতে হবে।)
এবার কিছু ভয়েস-মেইল ছাড়ুন, সরকারী লাইন জ্যাম করে দিন। এরপর আপনি যা বলবেন, যা গাঁজাখুরী কিস্‌সা শোনাবেন, লোকজন সেটাই গিলবে! হ্যতো আপনি নিজেকে- " ন্যায়ের জন্য স্বাধীনতা গোষ্ঠীর' প্রধান হিসেবেঘোষণাও করে দিতে পারেন! কিংবা হয়ে যান জনগণের দরদী সেবক! (লোকজন এটা বেশী পছন্দ করে।)
কিছুদিন আগে আমি একটা কাগজে ছাপা বই পড়েছিলাম (জী, সেই আরাধ্য কাগজের বই! যার শক্তির উৎষ এখনো রহস্য হয়েই আছে। বছরকয়েক আগে কে যেন বলেছিলো, এটা শূন্যতার শক্তি দ্বারা চালিত হতে পারে। আহাম্মক আর কাকে বলে! পরবর্তীতে আমরা সবাই সিদ্ধান্ত দিলাম যে, একমাত্র ব্ল্যাক হোল এনার্জির পক্ষেইই বইকে চালিত করা সম্ভব। আজকাল দিনে অনেকেই যারা পড়তে পারে না, তারা খুব অবাক হয় এই ভেবে যে, কাগজের বইগুলি কেন নিজ থেকে শব্দ করতে পারে না! আমি একবার একজনকে বোঝাতে চেয়েছিলাম যে, আসলে এই বইগুলি দেখে দেখে পড়ার জন্য উদ্ভাবিত হয়েছিলো। সে সোজা বলে দিলো, আমার নাকি মাথা খারাপ হয়ে গেছে!
হয়তো সে ই সঠিক ছিল!
তো, সেই বইতে, কেউ একজন একটা বিপ্লবের কথা লিখেছিল; যখন সেই বিপ্লবের পর মানুষজন বেশ শান্তিতেই নাকি থাকতো! বেশ কিছু পরে আমি খোজ খবর করে জানতে পারলাম, ঐ বইটা আসলে মোটেই কোন কাজের কিছু ছিলনা, এবং বিপ্লবের কথাটাও ঠিক না! ওটা আসলে 'বাইগন' সময়কালিন লেখা কোন একটা কল্প গল্প! ব্যাপারটায় খুব বিব্রত হতে হয়েছিলো আমাকে। কারণ আমি ইতিমধ্যে বিষয়টাকে ঐতিহাসিক ধরে নিয়ে বেশ কিছু রেফারেন্স দিয়েছিলাম, আর লোকজনও এটাকে নায়কোচিত বিরাট গর্বের একটা কিছু ভাবতো। যেরকমটা কেবল 'স্বর্ণ যুগের' ( দূর অতীত) লোকেদের পক্ষেই সম্ভব ছিল। ওর অনুবাদটা সবাই সত্যি ধরে নিয়েছিল। আজকাল কাগজের বই এতোই কম যে, অল্প যে কয়জন লোক লেখা পড়তে পারে, তারা ছাপার অক্ষরে যা দেখে সেটাই বিশ্বাস করে; এতে অবশ্য আমি দোষের কিছু দেখিনা।
বইএর প্রসঙ্গে আমার ব্রুকের কথা মনে পড়ে গেল। সে যে নির্বোধ একটা লোক, এটা নিয়ে কখনোই আমার কিংবা আমাদের সহগোত্রিয় কারো ভেতরই কোন দ্বিধা ছিল না। আমার ধারণা সে নিজেও এ ব্যাপারটা নিয়ে নিশ্চিত ছিল! একটা কাপুরুষ, মেরুদন্ডহীন লোক; খালি আশার ফানুসে থাকে; কিন্তু কিছুই পায়নি জীবনে। বিলাপ করেই কাটিয়েছে বেশী সময়। আমরা তাকে সহ্য করে নিতাম যদিও। কেননা তাকে দেখে আমাদের মনে পড়তো, তার মতো হতভাগা লোকও দুনিয়ায় আছে; যে আমাদের চাইতেও ব্যর্থ! আমরা কখনো ভীত ছিলাম না যে, সে আমাদেরকে টেক্কা দিতে পারবে!
কিন্তু সে দিল!
........মরে গিয়ে!
আমরা উপলব্ধি করলাম, আমাদের জন্য একই নিয়তি অপেক্ষা করছে!
নপুংসকের মতো জীবন যাপন করে, আর মনে মনে আশা করা যে, একদিন হঠাৎ আমরাও বরপ্রাপ্ত রাজপুত্র হবো । তারপর একদিন তার মতো করেই বিদায় নেবার পালা!
মৃত্যই আমাদের মনে করিয়ে দিবে আমরা নিছকই কী ছিলাম, আর সেটাই চরম সত্য !
ধ্যাৎ!!
(সমাপ্ত)

(মূল গল্প: এনামুল আজিম রানা)
FUTURE OF FICTION
Let me start the story saying who am I .I am a paid writer of the rebels,so do not expect me to be truthful to the history ,nor truthful even to myself,for I had to earn my living like everyone else ,and like many before me I do not pretend to live only in air.As my stupid rival De Brook ,paid writer of WorldGov had said ,in his pretty little 2MB book why he is writing his crap, me too is saying that I am writing this crap for 2000 Ertho, which I am hoping will let me buy a pretty twice sold solar car that I have my eye for a long time ,and if sneezy Bull do not get the money before I manage to haggle that from my
Reverend rebel commander (May he give me the money in due time, that is before the car is sold to snezzy Bull, or another reverend commander overthrows him).
The rebelian that rocked the WorldGov (I myself had read this line thousands of time in thousands of Rebel Books, not believing a single time), was monstrous in the sense that even after 5 Thousands year
of civilization(read barbaric warfare) ,mankind got enough enthusism to overthrough the WorldGov to replace it with another WorldGov ,which in not more than three months became another tyranny ,as it must be.What astonishes me is that mankind ,if they get the chance,will repeat the same old thing again and knowing ,knowing fulll well that soon they will have to do this overdone thing again.
The methapore that comes to my mind is sleep, we sleep every night, knowing we will sleep the next night, and nothing will change much between the two sleeps. Funny ,isn't it?No ,it's not.
I think what we did was the only thing we could have done.This world is so simple and there are so few things to do that we are bound to repeat them again and again till some aliens come and show us that they were doing the same thing for a long time ,maybe from the time when they arose for the primordial muck to attain sainthood .Now I am wondering whether my repetitive words will get me any money, any way it had works for thousands of years, why not now?
Just let me add some mouthful words so that, you, dear reader do no start to harbour the suspcion that your humble writer, guide and philosopher (!) do not posses the ability to write some meaningless jumble of words that evokes sublime sense of helplessness, for why would otherwise you would buy or rent this book to whither away your worthless time? You would decide better to buy a big Burger with mouth watering artificial martian sand dog meat with extra crispy
Africal Poisonus Musroom salad. Not that I disliked that ddelicacy, specially if it can be have with a pint of original Bettle Blood Wine (No synthetics Please.) So let me say that the revolution of the great Normals in the tumultuous year of the famine ,that caused havoc ,(read killed many WorldGov employee) and paved the path for some man to become rich(The loot was great, I even got a old mobile phone with holomatic reading display ).The revolution was world wide (thanks to internet ,man had become almost same species ,enjoying same garbage music ,reading same garbase books ,seein same ultraviolet CGI movies and eating same food ,namely The Belony noodles(All season ,All flavor ,no poisoning !(TM)).
It seemed you need only strong mind and a strong server with extra spy evading capacity (otherwise the CyberCops would come to give you a nasty shock to make you humble and obedient to the great truth ,justice and crap(Long live the WorldGov ,hail worldGove !).
Now broadcast some v-mail, jam the Gov lines, and the people would truthfully oblige whatever crap you proclaim, maybe you may title yourself to be the Head of the Freedom From Injustice Society, or the obedient servent of the people ,(People like that!).
Several days ago I read a paper book(Yes ,those elusive paper books, on whose power source remains a mistery ,some years ago someone said it may be vaccuam energy that drives a paper book ,how reduculas ! And later we all voted that it must be black hole energy that drives a book .These days many people who could not read wonder why thses paper books do not read alowed their content ,I tried once to convince one of them that it was invented to be read, he simply said I was out of my head ,maybe he was right .) in it sombody wrote about some revolution about the past when after the revolution mankind lived happily ever after.I gathered the information much later that it was not a serious book about any real revolution at all, rather a science fiction of bygone era,and it embarrased me much for I started using the events to be histirical and much to my difbelief ,most meople thought that it was indeed heroism of highest order that only people of the Golden Era(read past) could perform.That translates to they believed it to be true.There are so few paper books these days that most people who could read literally believe whatever they said ,I see no harm in that.
Talking about books remind me of Brook,now he was a stupid one ,I never doubted that for a single moment ,not my fellow brothers ,and I think not even he. Brook was a coward,spineless man ,hoping much ,gaining nothing and whining most of the times ,we did tolerate him ,for he remaind us that there could could be man who were more unsuccessful than us ,and we never had to fear that he would redeculed us some day.He did ,by dying .And we realized that's also gonna happen to us ,living like vegetable ,hoping secretly that suddenly it will be proved that we were charming prince ,and we would just die like him ,knowing full well before our death that we were what we were and nothing else .Dah !
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29023180 http://www.somewhereinblog.net/blog/exceptions/29023180 2009-10-09 23:20:42