*তবে এই পোস্ট সম্পূর্ণ মেয়েদের শরীরের জন্য জেনে রাখা দরকার!কাঠমোল্লাদের প্রবেশ নিষেধ, কারন এরা আলগা বিভ্রান্তি ছড়ায় না জাইনা!
গতকাল এই ব্লগে এমুন একজনের সাথে ব্লগ চ্যাট হইলো যার সাথে কোনোদিনও আমার বনতো না সে হলো রা.ই(ঐশ্বরীয়া না কিন্তু)। বিভিন্ন প্রয়োজনীয় বোরিং বিষয়ে আলাপ করে হঠাত আমার মনে হলো একটা বিষয় ব্লগের মেয়েদের সাথে শেয়ার করি।
অস্টেরিওপোসিস: এই শব্দটি নিয়া আমি আধুনিক যুগের বেশ কিছু মেয়েদের মধ্যে সার্ভে করছিলাম, হাতে গোনা ১০ জন এবং তারা অনার্স লেভেলের ছিলো। কিন্তু আশ্চর্য জনক হইলেও সত্য মাত্র ২ জন এর সদুত্ত্তর দিতে পারেছে, আর কেউ কিছুই বলতে পারেনাই।
আসেন খোলাসা করি(যদিও আমি ইন্জ্ঞিনিয়ার তাও আবার ক্লাসের শেষের বেন্ঞ্চের)মেয়েদের শরীরের এমন একটা হরমোন আছে যা ছেলেদের নাই, খুব সম্ভবত ইস্ট্রোজেন (বানান ভুল হইতে পারে)। মেয়েদের যখন বয়স ৩০ এর উপর যাওয়া শুরু করে তখন এই হরমোনটা ক্যলাসিয়াম হান্গ্রি হইয়া পড়ে ।মেয়েদের শরীরে আরেকটা হরমোন আছে যা আবার হরমোন নিঃস্বরন করে, কিন্তু ৩০-৩৫ বছর পর এর কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়। আর যদি সেই মেয়ে সন্তান প্রসব করে ফেলে তখন অবস্হা আরো বেগতিক হইয়া যায়। ফলে দিন যায় রক্তের পর হাড়ের ক্যালসিয়ামের পরিমান কমতে থাকে, এবং ৩৭ বছর পার হবার পর দেখা যায় শরীরের ওজন বাড়ার সাথে সাথে তারা তেমন একটা চলাফেরা করতে পারেনা এবং একটু হাটলেই মনে হচ্ছে তাগো হাড়গোড় ভেঙ্গে যাচ্ছে।৪০ বছর পর হঠাত কোনো এক দিন দেখা যাবে হাটতে গিয়ে হটাত পড়ে গেল সবার সামনে। এক্সরে করলে দেখা যাবে কোমড়ের ছোট ছোট হাড্ডি গুলোতে বড় বড় গর্তের সৃস্টি হওয়ায় ওগুলো কোনো ওয়ার্নিং ছাড়াই ভেইঙ্গা যাচ্ছে। তখন হয়তো দেখা যাবে আপনার দুরন্ত হাটার দিন গুলো শেষ খুবই তাড়াতাড়ি। এটা কিন্তু কোনো রোগ নয়, এটা আপনার হরমোনের ডিজঅর্ডার বা জেনেটিক ম্যালফাংশন।আপনারা আপনাদের মা-দাদিদের দিকে খেয়াল করেন, জিজ্ঞেস করলে তারা বলছে আর্থ্রাইটিস আসলে এটা তখন তাদের উপসর্গ মাত্র।
তবে এটা কিন্তু আপনারা একটু চেষ্টা করলে এড়িয়ে যেতে পারেন। সেটা কিভাবে?
পরীক্ষায় দেখা যায় যারা ছোট বেলায় বেশ দৌড় যাপ, শারীরিক কসরত এবং সাথে নিজের বডি ওয়েট কন্ট্রোল করে তারা এ সমস্যায় পড়তে পারে ৪৫-৪৬ এর পর। আমরা ছেলেরা একটা মেয়েকে দেখলে তার বুকের আর নিতম্বের সাইজ দেখে জরীপ করি, কারন ঐ যে যৌনতা। কিন্তু মেয়েদের এই সৌন্দর্য একটা বড় শত্রু হয়ে যায়। কারন ছেলেদের ফ্যাট জমে কোমড়ের উপরের অংশে।তারা এটা ব্যালি ক্রান্ঞ্চিং, শেপার, দৌড়, সুইমিং ইত্যাদি করে কমিয়ে ফেলতে পারে।
ফ্যাট আবার দু্ই রকম থাকে, একটা আমরা বডি বিল্ডারদের ভাষায় বলি অসম্পৃক্ত, এটা খুব সহজে ঝেড়ে ফেলা যায়, আরেকটা হলো সম্পৃক্ত, এটা ঝাড়তে খবর থাকে এবং মাঝে মধ্যে অসম্ভবের পর্যায়ে চলে যায়।মেয়েদের ক্ষেত্রেও তাই, কিন্তু এদের এই ফ্যাটটা জমে কোমড়ের ঠিক নীচে। যারা ব্যায়াম করেন নিয়মিত তারা সবাই জানেন, এই ফ্যাট দুর করা কি কঠিন!হেভী ওয়েট সাইড ক্রান্ঞ্চ, লেগ রেইসার, সাইড টুইস্টিং:এসন কিছু ব্যায়াম! এটা তাদের অটোম্যাটিক্যালি জমে খুব সম্ভবত জীনের কারনে। বাট স্টিল সো টাফ!
তাহলে মেয়েরা কি ধরতে পেরেছেন আপনাদের জীনে বা হরমোনে কি প্রবলেম লুকিয়ে আছে।
তবে ভয় নেই, এটা প্রতিরোধ করা তেমন কঠিন কিছু না। খুব সহজে প্রতিরোধ করা, কিন্তু হইলে পরে ডাক্তারেরও তেমন কিছু করার নেই বাত চিকিতসা ছাড়া আর ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট দেওন ছাড়া। সেটা হলো, যারা এসব শারীরিক কসরত করেন তারা এটা কখনও ছাড়বেন না। মেয়েরা একটা জিনিস খুব ভয় পায় অতিরিক্ত মাসল। আসলে এতে ভয়ের কিছু নাই।কারন ছেলেদের ডাম্বেল মারলে মাসল বাড়ে আর মেয়েরা ডাম্বেল মারলে মাসল সুগঠিত হয়, কিন্তু বাড়ে না, কারন ঐ হরমোন! ফিটন্যাস ধরে রাখা জরুরি তবে এ্যাথলেটদের মতো হাই প্রোফাইল ফিটন্যাস না হলেও চলবে। একটা নির্দিস্ট বয়স পর ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খাবেন, আর এক্সারসাইজ বেশী বেশী করবেন। বেশী বেশী প্রেগন্যান্ট না হওয়াই ভালো, কারন তাতে ছেলেদের পকেট শূন্য হবে আর আপনার ক্যালসিয়াম।
অনেকে বলেন নামাজ ভালো ব্যায়াম, কিন্তু আমরা যারা ব্যায়াম করি তাদের কাছে নামাজটা হচ্ছে নিম্ন মাঝারী ব্যায়াম। কেননা ব্যায়াম করার নিয়ম একটু বেশী টাইম ধরে আর ব্লাড সার্কুলেশন, সিলেকশন বাই মাসলস, আর রিপিটেশন, টাইমিঙ যেগুলো নামাজের অঙ্গভঙ্গির বা কসরতের সাথে মিলে না আর নামাজ যদি কেউ ব্যায়ামের উদ্দেশ্যে পরে তার নামাজ ফতোয়া মতে হয় কিনা সন্দেহ। তাই এ ধারনা পরিত্যাগ করা উচিত, আর নামাজে খরচ হওয়া ক্যালরী খুব একটা বেশী কিছু না আর তাই বলেই হুজুর খেজুরদের পেট আগে যায়, আর রোগ হলে চুপচাপ থাকে জায়গায়। তবে হ্যা ৬৫-৭০ বছর বয়স এ নামাজ অবশ্যই একটা উন্নত মানের ব্যায়াম।
তাই মেয়ে ব্লগাররা বেশী সময় কম্পিউটারে না বসে একটু গতিশীলতা আনুন জীবনে।
** আমার উপরোক্ত টপিক আমার গবেষনার বা পড়ার বিষয় ছিলো না, তবে হ্যা ব্যায়ামের বই, বিভিন্ন ডাক্তারী বই পড়ার প্রাক্কালে এসব জেনেছি। এতে অনেক ভুল থাকতে পারে, তাই যারা পরবেন সবাইকে বলি একজন অভিজ্ঞ ফিজিশিয়ানের কাছে এ ব্যাপারে পরামর্শ নিতে আর ব্যায়ামের ব্যাপারে অভিজ্ঞ কোনো বিল্ডারের কাছে যেতে। আর তার জন্য যে জীমে যেতেই হবে এমন কোনো কথা নেই!
ভুল হইলে শোধরাইয়া দিবেন।
মাইয়াস্বার্থে থুক্কি জনস্বার্থে: উদাসী বান্দর!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

