একদা হাটিতে ছিলাম মেঠো পথ দিয়া, এলাকার নাম মাথাভাঙ্গা। পরনে ছিলো ট্রাউজার গায়ে আর একখান গেন্জ্ঞি তাও কুচকির নীচে ছিড়া। কি করুম? সকাল বেলা দুধ খাইতে খাইতে আমার জামা কাপড়ের ড্রয়ার খুলি। হঠাত দেখি আমার বাম হাতে এক খান পিপড়া। ডান হাত দিয়া দিলাম একটা ঠুয়া, মাগার খেয়াল আছিলো না ডাইন হাতে দুধের গ্লাস,ব্যাস জামা কাপড় হইলো গার্মেন্টেসের ঝুটের কাপড়। বকাবাজী খাওনের আগেই বাইর হইয়া গেলাম।
অবশ্য সক্কাল বেলা হঠাত মুবাইলটা হাউকাউ করতাছিলো। আমি দুইবার না দেইখাই কাইটা দিছি। তৃতীয় বার সহ্য না হইয়া উঠাইয়া দিলাম ঝাড়ি,"কেডারে?"
- (গম্ভীর গলায় বস) কি ঘুম ভাঙ্গে নাই?
গলা শুইনা জিহবায় কামুড়, "বস এইতো ভাঙছিলো কেবল মানে একটু টয়লেটে!"
-আমারে কি মেইলটা করছিলা?
-ওহো ভুল হইয়া গেছিলো এখনই করতাছি, বস।
রাগে দুঃখে নিজের পায়ে একটা কামড় দিলাম, পরে বুঝলাম রাইতের বেলায় জীমে স্যান্ডেল চুরি হওনে খালি পায়ে বাসায় আসিয়াছিলাম, তহন আর পা ধোয়া হয় নাই!
দিন একখান আমার লারেলাপ্পা!
বাপে কইলো মাথাভাঙ্গা যাইতে কারন এক আত্নিয় যারে কোনোদিন দেখছি বইলা মনে পড়ে না, তার জানাজা এটেন্ড করতে। আমি কইলাম,"আইচ্ছা।"
চক্ষু বুইঝা গেলাম গুলিস্তান। উঠলাম বাসে। মেজাজ আমার সপ্তমে। গাড়ি ছাইড়া ছাগল ড্রাইভার বুড়িগঙ্গা ব্রীজের উপর খাড়াইয়া যাত্রি ডাকতাছে।
শুরু করলো পাবলিক খিস্তি খেউর:
-কিরে খাড়ায়া খাড়ায়া কি দেখস? নদীর পানি দেখস না নৌকার তলানী দেখস?
-ঐ বেটা, বাড়ীর থিকা যাত্রি ডাকবার গেছস নিকি?দাওয়াত দিয়া লই আয়!
-ঐ যাত্রি উঠানের লিগা কতক্ষন খাড়ায়া থাকবি?
-ঐ ছাগলডার কানসা বেড়ায়া লাগান তো সবাই, কিছু না কইতে চর্বি বাইড়া গেছে।
-ঐ গাড়ি ছাড়বি না উস্ঠা খাবি?
অবশ্য আমি অনেক সেন্সর করলাম কথাবার্তা গুলান!
এমন সময় কন্ডাক্টর বাসে দুইটা বাড়ি দিলো, গাড়ী চলা শুরু করলো। আমি কইলাম," কিরে প্যাসেন্জ্ঞারের বাড়ী গেছিলি নিকি?"
তার কোনো ভাবলেশ নাই। সে ড্রাইভাররে দুইটা বেনসনের শলাকা দিলো!
পরে শুনি গাবতলী দিয়া নাকি চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা যাওয়া যায়!
_____________________________
পৌছাইলাম একদা মাওয়া ঘাটে। নানা বিদিক: ঠ্যাংএর তল দিয়া পিচকি দৌড়ায় মাথার উপর দিয়া গাড়ি যায়। যৌবন হাতে নিয়া মাওয়া ঘাটে চলিতে শুরু করিলাম।হঠাত দেখিলাম মসজিদ, ভাবিলাম একে তো নদি পাড়, তার উপর জানি না সাতার। নামাজ পড়িতে মসজিদে প্রবেশ করিলাম, তার উপর জুম্মাবার। ওযু করতে যেই না কলপাড়ে যাবো এক চাচা জিগাইলো," আইচ্ছা, টাট্টিডা কৈ?"
-(আমি মাথা চুলকাইতে চুলকাইতে)আমি তাস খেলি না।
-ধুরু হালার লালপুয়া।
এইডা কইতে কইতে চাচা চলিয়া গেলো। পরে অবশ্য জানতে পারলাম টাট্টিখানা মানে হইলো টয়লেট। আর আমি ভাবছিলাম চাচা আমারে কার্ড খেলার লিগা বুলাইতাছে। যাউকগ্যা লালপুয়ার অর্থ জিগাইলাম না!
কোনো মতে শরীয়ত পুর মিশন শেষ করলাম!
_______________________________
আরেক দিন দুনিয়ার বুকে কোনো একদিন:
সুগভীর আরামে বিছানায় দুই বালিশ মাথার তলে, আরেক বালিশ ঠ্যাংয়ের চিপায় রাখিয়া উদাস বদনে (গায়ে ত্যানা প্যাচানোর মতো একখান গিট্টমারা লুঙ্গি)ঘুমাইতে লাগিলাম। যদিও আমার জন্য একটা ডাবল খাট বরাদ্দ হইয়াছে, কিন্তু কথিত আছে আমার সাথে যেই ঘুমায়, রাইতে নাকি তাহার ঘুম হয় না, কারন ঘুমার মধ্যে আমার চরিত্র নাকি ইসরাইলের মতো হইয়া যায় , কারনে ব্যাকরনে ঠ্যাং নাকি উঠিয়া যায়, আর সে শান্তি প্রিয় দেশ ভুটানের মতো তার টিম্বাকটু বাচাইতে ব্যাস্ত হইয়া পড়ে।যাইহোক ঘুমা খানা এতো মজার হইলো, যে আমি ঘুমের মধ্যে দেখিলাম টালি খাতা লইয়া বসিয়াছি ঘুম বিষয়ে থিসিস লিখতে।
ঘুম কয়েক প্রকারের:
১) টোটকা ঘুম: ধরেন বইতে বইতে হঠাত চক্ষু বুজিলাম আবার হঠাত জাগিলাম। অতঃপর সময় দেখিলাম, দেখি ঘড়ির কাটা জায়গা মতো, কিন্তু মনে হইলো এই পুটি সাইজ ঘুম তাকে বোয়াল মাছের সতেজতা আইনা দিছে।
২) ডাকাতিয়া ঘুম:আমি এখন যেই ঘুম ঘুমাইতেছি, সেইটা হইলো ডাকাতিয়া ঘুম।মনে হইলো আমারে চটপটি দেখাইয়া পাড়ার মফিজ আমারে লইয়া গেলো বঙ্গপোসাগরের কুটি ভার্সন তুরাগের তীরে, আর আমিও লুলাইতে লুলাইতে যাইতাছি আমাগো মিরপুরের তুরাগ সাগরের পাড়ে। হঠাত দেখি পাকনা সালেক দাড়াইয়া(সত্যিকার ব্যাপার হইলো সালেক গো ঐ খানেই দিয়াবাড়ীতে)।যাই হোক পাকনার কথা ইগনোর কইরা মফিজের পিছপিছ আগাইয়া গেলাম আর যেই না পাড়ে গেলাম অমনি পাকনা সালেক আমারে মারিলো লাথি।ব্যাস আমি ঝপাং কইরা তুরাগ নদীর ঘুমের সাগরে পরিয়া গেলাম। আহ ঘুমের তলে কত রকমের স্বপ্নের মাছ!
৩) যেই না লিখিতে যাইবো মোবাইল এ্যালার্ম বাজিয়া উঠিলো। নিতান্ত অনিচ্ছা সত্বেও জাইগা দেখি এখনও মাঝরাত অর্থাত ৬:১৫টা। অফিস যাওনের টাইম হইছে।বুক্কে পাথর বাইন্ধা কাজের মেয়েটাকে উঠাইলাম, আর গেলাম টয়লেটে। হিসাব খাতা সারিয়া বাইর হইতেই কাজের মেয়েটা বলিলো,"ডাকছেন কেন?"
-অফিস যামু সব রেডী কর!
-অফিস যাইবেন মানে-কালকা না কইলেন আজকা হিন্দুগো ঈদ(জন্মাস্টমী), আজকা বন্ধ সব!
কিছুক্ষন মাথা ঝিমঝিম করলো তারপর কইলাম খালি, ও!
দেখি এখন আমার ডাকাতীয়া ঘুম উধাও।আর ঘুম আহে না! কি আর করা, যৌবন কালেই বৃদ্ধদের মতো জগিং এ বাহির হইলাম। হাউজিং এর দারোয়ান আমারে দৌড়াইতে দেইখা টাস্কি খাইলো। আমি থোড়াই কেয়ার কইরা সোজা গেলাম মীরপুরের বুদ্ধিজীবি শহীদ মিনারে। গিয়া খেয়াল করলাম আমি লুঙ্গি আর স্যান্টো গেন্জি পইড়াই বাইর হইছি। কপাল ভাল বাইরে এরম পাগলা হাওয়া থাকনে বেশি ঘামি নাই, ঘামলে লুঙ্গি ভিজা গেলে তখন আবার সব এক্সরে হইয়া যদিও আমি পোলা মানুষ আর দেখতে মহা বান্দরের মতো, সমস্যা নাই। আমি বুদ্ধিজীবিগো মহান বেদীতে বইসা চারিদিকের নজারা দেখতাছি। দেখি দুইটা আমার বয়সী মাইয়া হাটাহাটি করতাছে মাগার সাইজের দিক দিয়া সুমো ফেল। কিছু বুইড়া, তার মধ্যে একটা বুইড়া লুঙ্গি পইড়াই ঝাপাঝাপি শুরু কইরা দিছে, হঠাত বাতাস একটু জোরে হওয়াটে তার লুঙ্গিখান মাথার উপর! আমি দেইখা হা!
আমার পাশে বসা বস্তির পোলা হিটকাইয়া বইলা উঠলো: হায় হায়, লুঙ্গির তলে তো দেহি ঘন সুন্দরবন আর তার মধ্যে হারাইয়া গেছে একখান ডিঙ্গি নৌকা!
আমি ওর দিকে তাকাইয়া কইলাম, কিরে তুই কি মাঝি নাকি?
আমার হাসিটা একটু অন্যরকম আর কথার ইশারা বুইঝা পুচকা ঐ খান থিকা ফুটলো। আর এদিকে ঐ লোকটাকে দেখি লুঙ্গি ঠিক ঠিক করতে ঘাম ছুটাই ফালাইলো। পরে দেখি কিছুক্ষন পর উনি এক্সিট মারলেন। এদিকে ঐ ভুটকি দুইটারে দেখি এক জায়গায় বইসা খিল খিল কইরা হাসতেছে এবং এইবারের দৃস্টি আমার উপর। তখন আমার খেয়াল হইলো আমিও লুঙ্গি পড়া আর গায়ে স্যান্ডো গেন্জি। আমি আর কিছুক্ষন ওয়েট না কইরা ফুটিলাম।
_____________________________
বর্তমানে কাজের ডলায় আমার আলু ভর্তা খাইবার যোগাড়! বড়ই নির্যাতিত সময়!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

