somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উদাসীর খন্ডেক খন্ডেক রোজনামচা থুক্কি নেটনামচা! আবার আসিবো ফিরে লুঙ্গির দুকানে, হয়তো চান্দাবাজ নাইলে হবু জামাইয়ের বেশে! তখন দেখুম মাগনা লুঙ্গি কেমনে না দেও!

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একদা হাটিতে ছিলাম মেঠো পথ দিয়া, এলাকার নাম মাথাভাঙ্গা। পরনে ছিলো ট্রাউজার গায়ে আর একখান গেন্জ্ঞি তাও কুচকির নীচে ছিড়া। কি করুম? সকাল বেলা দুধ খাইতে খাইতে আমার জামা কাপড়ের ড্রয়ার খুলি। হঠাত দেখি আমার বাম হাতে এক খান পিপড়া। ডান হাত দিয়া দিলাম একটা ঠুয়া, মাগার খেয়াল আছিলো না ডাইন হাতে দুধের গ্লাস,ব্যাস জামা কাপড় হইলো গার্মেন্টেসের ঝুটের কাপড়। বকাবাজী খাওনের আগেই বাইর হইয়া গেলাম।
অবশ্য সক্কাল বেলা হঠাত মুবাইলটা হাউকাউ করতাছিলো। আমি দুইবার না দেইখাই কাইটা দিছি। তৃতীয় বার সহ্য না হইয়া উঠাইয়া দিলাম ঝাড়ি,"কেডারে?"
- (গম্ভীর গলায় বস) কি ঘুম ভাঙ্গে নাই?
গলা শুইনা জিহবায় কামুড়, "বস এইতো ভাঙছিলো কেবল মানে একটু টয়লেটে!"
-আমারে কি মেইলটা করছিলা?
-ওহো ভুল হইয়া গেছিলো এখনই করতাছি, বস।
রাগে দুঃখে নিজের পায়ে একটা কামড় দিলাম, পরে বুঝলাম রাইতের বেলায় জীমে স্যান্ডেল চুরি হওনে খালি পায়ে বাসায় আসিয়াছিলাম, তহন আর পা ধোয়া হয় নাই!

দিন একখান আমার লারেলাপ্পা!
বাপে কইলো মাথাভাঙ্গা যাইতে কারন এক আত্নিয় যারে কোনোদিন দেখছি বইলা মনে পড়ে না, তার জানাজা এটেন্ড করতে। আমি কইলাম,"আইচ্ছা।"
চক্ষু বুইঝা গেলাম গুলিস্তান। উঠলাম বাসে। মেজাজ আমার সপ্তমে। গাড়ি ছাইড়া ছাগল ড্রাইভার বুড়িগঙ্গা ব্রীজের উপর খাড়াইয়া যাত্রি ডাকতাছে।

শুরু করলো পাবলিক খিস্তি খেউর:
-কিরে খাড়ায়া খাড়ায়া কি দেখস? নদীর পানি দেখস না নৌকার তলানী দেখস?
-ঐ বেটা, বাড়ীর থিকা যাত্রি ডাকবার গেছস নিকি?দাওয়াত দিয়া লই আয়!
-ঐ যাত্রি উঠানের লিগা কতক্ষন খাড়ায়া থাকবি?
-ঐ ছাগলডার কানসা বেড়ায়া লাগান তো সবাই, কিছু না কইতে চর্বি বাইড়া গেছে।
-ঐ গাড়ি ছাড়বি না উস্ঠা খাবি?

অবশ্য আমি অনেক সেন্সর করলাম কথাবার্তা গুলান!
এমন সময় কন্ডাক্টর বাসে দুইটা বাড়ি দিলো, গাড়ী চলা শুরু করলো। আমি কইলাম," কিরে প্যাসেন্জ্ঞারের বাড়ী গেছিলি নিকি?"
তার কোনো ভাবলেশ নাই। সে ড্রাইভাররে দুইটা বেনসনের শলাকা দিলো!

পরে শুনি গাবতলী দিয়া নাকি চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা যাওয়া যায়!
_____________________________

পৌছাইলাম একদা মাওয়া ঘাটে। নানা বিদিক: ঠ্যাংএর তল দিয়া পিচকি দৌড়ায় মাথার উপর দিয়া গাড়ি যায়। যৌবন হাতে নিয়া মাওয়া ঘাটে চলিতে শুরু করিলাম।হঠাত দেখিলাম মসজিদ, ভাবিলাম একে তো নদি পাড়, তার উপর জানি না সাতার। নামাজ পড়িতে মসজিদে প্রবেশ করিলাম, তার উপর জুম্মাবার। ওযু করতে যেই না কলপাড়ে যাবো এক চাচা জিগাইলো," আইচ্ছা, টাট্টিডা কৈ?"
-(আমি মাথা চুলকাইতে চুলকাইতে)আমি তাস খেলি না।
-ধুরু হালার লালপুয়া।
এইডা কইতে কইতে চাচা চলিয়া গেলো। পরে অবশ্য জানতে পারলাম টাট্টিখানা মানে হইলো টয়লেট। আর আমি ভাবছিলাম চাচা আমারে কার্ড খেলার লিগা বুলাইতাছে। যাউকগ্যা লালপুয়ার অর্থ জিগাইলাম না!

কোনো মতে শরীয়ত পুর মিশন শেষ করলাম!
_______________________________
আরেক দিন দুনিয়ার বুকে কোনো একদিন:

সুগভীর আরামে বিছানায় দুই বালিশ মাথার তলে, আরেক বালিশ ঠ্যাংয়ের চিপায় রাখিয়া উদাস বদনে (গায়ে ত্যানা প্যাচানোর মতো একখান গিট্টমারা লুঙ্গি)ঘুমাইতে লাগিলাম। যদিও আমার জন্য একটা ডাবল খাট বরাদ্দ হইয়াছে, কিন্তু কথিত আছে আমার সাথে যেই ঘুমায়, রাইতে নাকি তাহার ঘুম হয় না, কারন ঘুমার মধ্যে আমার চরিত্র নাকি ইসরাইলের মতো হইয়া যায় , কারনে ব্যাকরনে ঠ্যাং নাকি উঠিয়া যায়, আর সে শান্তি প্রিয় দেশ ভুটানের মতো তার টিম্বাকটু বাচাইতে ব্যাস্ত হইয়া পড়ে।যাইহোক ঘুমা খানা এতো মজার হইলো, যে আমি ঘুমের মধ্যে দেখিলাম টালি খাতা লইয়া বসিয়াছি ঘুম বিষয়ে থিসিস লিখতে।


ঘুম কয়েক প্রকারের:
১) টোটকা ঘুম: ধরেন বইতে বইতে হঠাত চক্ষু বুজিলাম আবার হঠাত জাগিলাম। অতঃপর সময় দেখিলাম, দেখি ঘড়ির কাটা জায়গা মতো, কিন্তু মনে হইলো এই পুটি সাইজ ঘুম তাকে বোয়াল মাছের সতেজতা আইনা দিছে।
২) ডাকাতিয়া ঘুম:আমি এখন যেই ঘুম ঘুমাইতেছি, সেইটা হইলো ডাকাতিয়া ঘুম।মনে হইলো আমারে চটপটি দেখাইয়া পাড়ার মফিজ আমারে লইয়া গেলো বঙ্গপোসাগরের কুটি ভার্সন তুরাগের তীরে, আর আমিও লুলাইতে লুলাইতে যাইতাছি আমাগো মিরপুরের তুরাগ সাগরের পাড়ে। হঠাত দেখি পাকনা সালেক দাড়াইয়া(সত্যিকার ব্যাপার হইলো সালেক গো ঐ খানেই দিয়াবাড়ীতে)।যাই হোক পাকনার কথা ইগনোর কইরা মফিজের পিছপিছ আগাইয়া গেলাম আর যেই না পাড়ে গেলাম অমনি পাকনা সালেক আমারে মারিলো লাথি।ব্যাস আমি ঝপাং কইরা তুরাগ নদীর ঘুমের সাগরে পরিয়া গেলাম। আহ ঘুমের তলে কত রকমের স্বপ্নের মাছ!
৩) যেই না লিখিতে যাইবো মোবাইল এ্যালার্ম বাজিয়া উঠিলো। নিতান্ত অনিচ্ছা সত্বেও জাইগা দেখি এখনও মাঝরাত অর্থাত ৬:১৫টা। অফিস যাওনের টাইম হইছে।বুক্কে পাথর বাইন্ধা কাজের মেয়েটাকে উঠাইলাম, আর গেলাম টয়লেটে। হিসাব খাতা সারিয়া বাইর হইতেই কাজের মেয়েটা বলিলো,"ডাকছেন কেন?"
-অফিস যামু সব রেডী কর!
-অফিস যাইবেন মানে-কালকা না কইলেন আজকা হিন্দুগো ঈদ(জন্মাস্টমী), আজকা বন্ধ সব!
কিছুক্ষন মাথা ঝিমঝিম করলো তারপর কইলাম খালি, ও!

দেখি এখন আমার ডাকাতীয়া ঘুম উধাও।আর ঘুম আহে না! কি আর করা, যৌবন কালেই বৃদ্ধদের মতো জগিং এ বাহির হইলাম। হাউজিং এর দারোয়ান আমারে দৌড়াইতে দেইখা টাস্কি খাইলো। আমি থোড়াই কেয়ার কইরা সোজা গেলাম মীরপুরের বুদ্ধিজীবি শহীদ মিনারে। গিয়া খেয়াল করলাম আমি লুঙ্গি আর স্যান্টো গেন্জি পইড়াই বাইর হইছি। কপাল ভাল বাইরে এরম পাগলা হাওয়া থাকনে বেশি ঘামি নাই, ঘামলে লুঙ্গি ভিজা গেলে তখন আবার সব এক্সরে হইয়া যদিও আমি পোলা মানুষ আর দেখতে মহা বান্দরের মতো, সমস্যা নাই। আমি বুদ্ধিজীবিগো মহান বেদীতে বইসা চারিদিকের নজারা দেখতাছি। দেখি দুইটা আমার বয়সী মাইয়া হাটাহাটি করতাছে মাগার সাইজের দিক দিয়া সুমো ফেল। কিছু বুইড়া, তার মধ্যে একটা বুইড়া লুঙ্গি পইড়াই ঝাপাঝাপি শুরু কইরা দিছে, হঠাত বাতাস একটু জোরে হওয়াটে তার লুঙ্গিখান মাথার উপর! আমি দেইখা হা!
আমার পাশে বসা বস্তির পোলা হিটকাইয়া বইলা উঠলো: হায় হায়, লুঙ্গির তলে তো দেহি ঘন সুন্দরবন আর তার মধ্যে হারাইয়া গেছে একখান ডিঙ্গি নৌকা!
আমি ওর দিকে তাকাইয়া কইলাম, কিরে তুই কি মাঝি নাকি?
আমার হাসিটা একটু অন্যরকম আর কথার ইশারা বুইঝা পুচকা ঐ খান থিকা ফুটলো। আর এদিকে ঐ লোকটাকে দেখি লুঙ্গি ঠিক ঠিক করতে ঘাম ছুটাই ফালাইলো। পরে দেখি কিছুক্ষন পর উনি এক্সিট মারলেন। এদিকে ঐ ভুটকি দুইটারে দেখি এক জায়গায় বইসা খিল খিল কইরা হাসতেছে এবং এইবারের দৃস্টি আমার উপর। তখন আমার খেয়াল হইলো আমিও লুঙ্গি পড়া আর গায়ে স্যান্ডো গেন্জি। আমি আর কিছুক্ষন ওয়েট না কইরা ফুটিলাম।

_____________________________

বর্তমানে কাজের ডলায় আমার আলু ভর্তা খাইবার যোগাড়! বড়ই নির্যাতিত সময়!
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১০:৩৩
২৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×