হে হে হে হে হে হে
কি আনন্দ ঘরে ঘরে!
উদাসীর জীবনে প্রেম আসিয়াছিলো, একখান না একাধিক। অনেকরে গুনতে কইলে শুরু করে আঙ্গুল গুনা মাগার উদাসী গুনে গাছের পাতা। তার মাইনে তার জীবনে অগনিত প্রেমের ঘনঘটা। মাগার হাতে গুননেওয়ালাদের সাথে পার্থক্য একটাই, তাহা হইলো তাগোটা সাফল্যের মুখ দেখছে আর উদাসী বক্স অফিসে ফ্লপ মারছে! ফ্লপ মারারও অনশ্য একটা মাত্রা থাকে!
যাই হোক, উদাসি যখন সপ্তম শ্রেনীতে বিফলতার সহিত উত্তির্ণ হইলো তাহার পিতামাতা চিন্তিত হইয়া পড়িলো পোলা যেমনে উদাস বদনে ব্যার্থতার পিলার গাড়ে পথে ঘাটে সময় অসময়ে কারো না জানাইয়া, এমনে চলিতে থাকলে এর ভবিষ্যত সুনামীতে ভরিয়া যাইবে। তাই তাহারা বিশেষ ক্ষমতা বলে তাহাকে পাঠাইয়া দিলো এলাকার বিখ্যাত পাগলা স্যারের কোচিং-এ । উদাসী ঝিমাইতে ঝিমাইতে আসে বড্ড সকালে, স্হান পাইলো এক অর্বাচিন ব্যাচে। মাগার গিয়া দেখে ঐ ব্যাচে মাত্র ২ জন পোলা (উদাসী লইয়া) আর ৯ জন এলাকার মাইয়া। উদাসীর চোখ চড়ক নামক অদেখা গাছে চড়িয়া গনেশ হইয়া গেলো। উদাসীর একখান বদঅভ্যাস ছিলো, পড়িতে বসিলেই সে মশার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করিতো আর সমানে হাত চালাইতো। মশা মারায় সে ম্যাট্রিক পাশ করার আগেই অনার্স লইয়া ফেলাইছিলো বিশেষ যোগ্যতা বলে। "মশার যমদূত" বান্দর উদাসী ইনটেনশনালী সর্বদা দেরী করিয়া আসিয়া মেয়েদের পাশের সিট খানিতে চাপাচাপি করিয়া বসিতো। আহ কি শান্তি! ঐ কোচিং এ একজন ললনা আছিলো মোটামুটি সুন্দরী যে কপাল জোড়ে সর্বদাই উদাসীর সাথে করিত সিট ভাগাভাগি , উদাসীর সাথে হইলো বিশেষ খাতির, জাগিলো মনের মাঝে প্রথম ভালোবাসার তীর।
তো একদিন সেই কপাল পোড়া মহেন্দ্রক্ষন আসিলো,তাহার দুইগালে দুইটা বিশাল সাইজের মশা বসিয়াছে উদাসী দেখিলো। অমনি উদাসীর হাত করিলো নিশপিশ,নামাইবে সকল মশাকের বিষ, ইহা তাহার ঈমানী দায়িত্ব। আহা কি নিদারুন মশা, বসিয়া বসিয়া, করিয়া রক্ত সেবন, যাইবে কোথা পালিয়া? ব্যাস, উদাসী তাহার দুই হাত সমানে চালাইলো তাহার দুই গালে, অমনি উক্ত ললনার চোখ উঠিলো মাথায়, শিক্ষক সাহেব হতভম্ব,"কি হইলো?"
-স্যার, মশা!
-কোথায়?
উদাসী তাহার দুই গাল হইতে হাত সরাইয়া দেখিলো যেইখানে মশা ভাবিয়া ভ্রম করিয়াছিলো সেইখানে মাথার দুইপাশে গড়াইয়া পড়িয়াছিলো স্টাইলের চুল-আহ আইজকা এত সুন্দর দিনে করিলো সে ভুল! অমনি নিউটনের প্রতিক্রিয়াস্বরুপ উদাসীর গালে পড়িলো একখান.... থাক আর বলিলাম না। শেষ হইলো তাহার প্রথম প্রেম যৌবনের-যেন অবসর লইলো আগে শুরু ক্যারিয়ারের!
উদাসী যখন নবম শ্রেনীতে মোটামোটি ব্যার্থতার পিলার গাড়ার রেকর্ড লইয়া উত্তির্ণ হইলো, তখন সে তাহার স্কুলের হেডমাস্টারের দ্বিতীয় কন্যার প্রেমে পড়িলো, আল্লায় দিলে তাও আবার এক তরফা! অবশ্য উদাসির উক্ত স্কুলের হেডমাস্টার বড়ই বেরসিক, খালি পাড়ে পশ্চাদ্দেশে বেতাইতে, আর আলগা ঝাড়ি মারতে। আর সরকারি স্কুল হওনে সেইখানে শুধু ছেলেরাই পড়িতো, তাই তাহার ঐ কন্যা তাহার বিদ্যাপিঠে গমন করিতো কোমড় দুলাইয়া তাহাদের সবার সামনে দিয়া হাটিয়া হাটিয়া।
উদাসীর আর সহ্য হয় না, তাই একদিন চলিয়া গেলো তাহার স্কুলে, গিয়া ডাকিলো তাহারে। কত কথাই না হইতো, রিক্সা ভাড়া খরচ করিয়া অম্লান বদনে চটপটি খাইতো আর বাড়ি ফেরার টাকা না খরচ করিয়া বাড়ী যাইতো ৬ মাইল হাটিয়া। যাহা হোউক, একবার স্কুলে বোম বাস্টিং খেলিতেছিলো টেপবল লইয়া। তা উদাসীর পিঠ আর পশ্চাদ্দেশ সরাকরি ঘোষনা করিয়া সবাই বল খানা বোমের মতই ফাটাইতে লাগিলো আর উদাসি রাগে দুঃখে খুজিতে লাগিলো সুযোগখানা কখন বল হাতে পাইবে আর কখন ইরাকের মতো প্রতিশোধ লইবে! হঠাত একবার বহুকস্টে বল পাইয়া গেলো উদাসি, বুকে তার ভিসুভিয়াসের টগবগে আগ্নেয়গীরি, অপমানের জ্বালা মিটাইবার এই তো সময়।
মাথা ফাটাইয়া হইবে বীর,
সমানে মারিয়া ধরাইবে চিড়!
চক্ষু বন্ধ করিয়া মারিলো মাথায় দুম্বা পলাশের। আহ কি শান্তি!মাগার চক্ষু খুলিয়া দেখে, মাঠে পড়িয়া রহিয়াছে ঐ কন্যা আর সম্পূর্ণ ফাকা মাঠখানা । তারপরের খবর জানা যায় নাই, কারন পরের চার দিন স্কুলে যায়নাই বলিয়া নানা ধানাই পানাই।
কোন মতে ম্যাট্রিক নামক মিচকা বাধা পার করিবার পর ঢাকায় আসিলো গুনগুনাইতে, মনে চিন্তা,"করিবো প্রেম তালে তালে।" মাগার যত আশা নিয়া আসিলো উদাসী দিনে দিনে ততই হতাশ। কারন তেজগাও কলেজের সুন্দরীরা যাহারাই আসে তাহারাই উতসর্গীকৃত নেতাদের তরে। আর নেতাদের সাথে বসিয়া চা খাওনের অভ্যাস থাকিলেও টক্কর দেওনের ক্ষমতা উদাসীকে আল্লাহপাক দয়া করিয়াও দেন নাই! কিন্তু কেমনে জানি চামে চামে পরিচয় হইলো একদিন এক সুন্দরী ললনার সাথে। আহ কি সুন্দর!হালকা কথা থিকা পাতলা হাসি অতঃপর উদাসীর পকেট হইলো খাসী, চটপটি আর মালাইকারী,সাথে ফ্রীতে নোট বিনিময়। একদিন পকেটের দুর্দশা সইতে না পারিয়া ইনাইয়া বিনাইয়া জিগাইলো উদাসি, সে হাসিলো মুচকি হাসি। উদাসি জিগাইছিলো,"পছন্দের কি কেউ আছে?"
সে কিছুই না বলিয়া জানাইলো সময় হইলে জানিতে পারবে। উদাসী তো পুরা পাংখা। রাইতে আর ঘুম আসেনা, ছাদের দিকে তাকাইয়া আকাশের তারা গুনা, অন্ক বইয়ে সনাতনী পেরেমের কোবতে লেখা, বাল্টির পানিতে তাহার ছবি দেখ। রাইতের ঘুম সহ্য করতে না পারিয়া লেখিলো তাহার ঐতিহাসিক পত্র যাহার নাম "তুমার নামে দুনিয়া নিলাম!"
কোবতে খানা বুক পকেটে জড়াইয়া রওনা দিলো সাতসকালে কলেজ পানে,মাগার বাসের ভাড়া দিতে গিয়া দেখে পকেট ফাকা, ভুলিয়া গেছে আনিতে টাকা। যাই হোক শুভ দিনে এইসব ছোটখাটো মুসিবত ব্যাপার না(যদিও কন্টাক্টরের সাথে হইলো বিলা)। কলেজে নামিয়া খুজিতে লাগিলো তারে, মাগার পায়না তারে দু'চক্ষু মেলিয়া। ক্লাশ করিলো সে ভগ্ন মনোরথে। ক্লাশ শেষ করিয়া দেখে সে গেটে খাড়াইয়া আছে। উদাসী দেখিয়াই শুধাইলাম:
-কোথায় ছিলা? তুমারে খুইজা হয়রান!
-আমি কেবল আসলাম, একটু কাজ ছিলো। তোমার সাথে একজনের পরিচয় করিয়ে দেই।
এমন সময় দেখি পাশে এক সুদর্শনা পোলা। আমি কহিলাম:
- কে তোমার ভাই? কেমন আছেন?
সে কহিলো," আরে না, এ আমার Fiance, সামনের মাসে আমাদের বিয়ে, এই নাও দাওয়াতের কার্ড।"
মনে হইলো তাহার মতো এত ভালো,প্রতিশ্রুতিশীল, সুদর্শন পোলা থুইয়া এই @মনু কিসিন্জারের মতো হাফ লেডিস পোলার লগে বিয়া। লানত শালার দুনিয়ার যতো মাইয়া! বহুকস্টে হাসিয়া বিরহিক বিদায় লইলো উদাসী আর The Endমারিয়া সে হইবে সন্নাসী!
অতঃপর সন্নাসী না হইয়া উদাসী ইন্টার পাশ করিলো টাইনা টুইনা। ভর্তি হইলো Omeca কোচিং এ, শখ ইন্জিনীয়ার হইয়া টাইমমেশিন বানাইবে আর অতীতের ভুল শুধরাইবে! তো Omecaয়া গিয়া উদাসি তাহার বান্দরামীর ফর্ম বজায় রাখিলো এবং উপাধি পাইলো "গোলাপ ভাড়"। মাগার উদাসীর ইন্টারেস্ট হঠাত মোড় মারিলো আর্কিটেকচারের দিকে কারন ঐখানে আছে এক মাইয়া বড় আহ্লাদী । উদাসী বাছিয়া বাছিয়া উহার পিছনেই বসিতো হইতো কুটুর গুটুর আলাপ। ক্লাস হইতো ছাই,খালি ধানাই পানাই! যখনই মেধাবী ভাইয়েরা কিছু জিগাইতো উদাসি বলিতো,"বুঝি নাই।" এই ফাকে একদিন এক পুঙ্গব আনিলো ইত্তেফাকের পেপার কাটিং। উদাসী তাহার এক খবর লইয়া শুরু করিলো নানা মশকরা। সাথে সেও আইসা জুটিলো। তো কি মনে করিয়া উদাসী তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলো, "আইচ্ছা ইত্তেফাকের নামের ইত্তে বাদ দিলে কি হয়?"
অমনি দেখি মাইয়ার মুখ শ্যামলা থিকা কালা হইয়া গেলো, এবং কিছু না বলিয়া সোজা Omecaর মালিকরে জানাইলো এবং উদাসীর আরেক দফা কপাল পুড়িলো!
ভার্সিটিতে গিয়া শত চেস্টায়ও কিছু জুটিলো না। কারন ক্লাশে ৬৫ জন ছেলেমেয়ের মধ্যে মাইয়া মাত্র তিন জন এবং তাদের চেহারা পুরা জিন্জিরা!তাহাদের মধ্যে একজন হিন্দু, একজন বৌদ্ধ, আরেকজন মুসলিম। আর তাও তারে ক কইলে শোনে কাউয়া । আর জুনিয়র যে কয়টারে পাওয়া গেছে,সুন্দরী গুলান আগে থিকাই বিবাহ করিয়া আসিয়াছে। উদাসী মাগনা প্রেমই করিতে পারিলো না, তার উপর আবার পরকীয়া, সাহসে কুলাইল না।
তবুও উদাসী আশা ছাড়ে নাই, কারন হলিউডের নায়িকাদের এখনও সবার বিবাহ হয় নাই।
তাই উদাসী গায় গান:
দামা দাম মাসক্যালেন্ডার
মন খান উদাস আমার
লুঙ্গিতে আমার নানা কালার
চামে ইসক করবানি আবার?
* উল্লেখ্য উক্ত গল্প আসল ঘটনা নহে, উডাসী রাইত ভরিয়া চিন্তা করিয়া লিখিয়াছি। খোদার কছম এই গল্পের সাথে উদাসীর কোনো সম্পর্ক নাই।
** জুনাক আর মনু গতকাইল বিলগেটসের উইন্ডো আমার পিসিতে ক্রাশ করছে বলিয়া আর নেটে আসিতে পারি নাই!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

