somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উদাসীর ভালো লাগে না! মারলাম একখান ১০০, হুজুরের হাতে বাক্স! টুপির নীচে শয়তানি, আজাইড়া বইসা চুলকানি!

২৪ শে অক্টোবর, ২০০৭ বিকাল ৩:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

+18sL

একটা সময় মনে হয়েছিলো উদাসীনতা আর নিঃসঙ্গতা আমার সাথে একেবারে ফেভিকল গ্লুর মতো সেটে গেছে।কিন্তু মানুষ বুঝতে পারতো না, যে সারাদিন ভীড়ে মধ্যে থেকে এর ওর মাথায় চাটি মারাকে শিল্পে পরিণত করে ফেলেছে, অথবা কেউ চুপ করে বসে থাকলে তার লুঙ্গী টানাটাকে এ সময়ের নতুন ট্রেন্ড হিসেবে পরিচয় করিয়েছে, সে কেনো এরকম নিঃসঙ্গ?

আসলেই চিন্তার বিষয়। সেদিন ফোন করলো "কুদ্দুস" শামীম। তাকে আমরা ক্লাস সিক্স পর্যন্ত কবি বলেই জানতাম, মাগার তখনও তার কবিতা চোখে দেখি নাই।কেননা ও নিজের আনমনে লেখতো কবিতা আর কেউ আসলেই খাতা লুকাতো। একবার দেওয়ান স্যারের ক্লাসে ও কবিতা লিখছিলো আর স্যার মুখখান পুস্কুনির মতো আকার করে ঘুমুচ্ছিলো। হঠাত এক বেতাল মাছি বা কিছু একটা পড়লো তার মুখে। আমরা তখন ক্লাসের সবাই খাতায় জুটি বেধে কলম-কলম, গোল্লাগুল্লি, কাটাকুটি খেলছিলাম, মাগার তার গগনবিদারী চিতকারে আমরা হঠাত চমকে গেলাম। সে গলা কেশে হঠাত তাকালো আমাদের কুদ্দুসের দিকে। সে তখনও কবিতা লেখা চালিয়ে যাচ্ছে। সে গলা কাশতে কাশতে তার কাছে বললো," এই.. দাড়া!বল কে আমার মুখে চক মারছে?"
আমরা তার কথা শুনে আকাশ থেকে পড়লাম, ভাবলাম কে চক মারলো আবার?
"কুদ্দুছ" শামীম তুতলাতে তুতলাতে বললো,"স্যার আমি মারি নাই, দেখিও নাই!"
-দেখিস নাই ক্যান? কি করতাছস আমার ক্লাসে?
হঠাত দেওয়ান স্যার তার খাতা টান দিয়ে দেখতে লাগলো সে কি করছে!
-ও কবিতা লেখতাছো! তা ভালো, তা নামটা এমুন ক্যান?
একটু পর সে নিজেই অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে নিজেই বললো," কবিতার নাম "মুক্তবাজার অর্থনীতির পাললিক প্রেম!" আমি বাপের জন্মেও এমুন নাম শুনি নাই!"
যদিও কবিতাটা ভুলে গেছি, মাগার এখন খুব জানতে ইচ্ছে হয় আসলে তার ঐ অদ্ভূত কাব্যের বর্ণনায় কি ছিলো?

যাক এবিষয়, আমার চিন্তা ভাবনায় বর্তমানে অনেক ফাক আবিস্কার করেছি। মনে হয় আমি যা বলি মুখে তা করি না, আবার যা করি তা মুখে বলি না। যেমন গুলশানে যখন রিক্সায় উঠি তখন আমার চোখ কোনো সুন্দরীর দিকে যায় না, যায় সুন্দর সুন্দর আলিশান বাড়ীর উপর। আবার কোনো কুটি পুলাপান দেখলেই বলি,"নামাজ পড়ো, ভালোমত পড়াশুনা করো, রেগুলার স্কুলে যাইবা।" ভুলে একবার আমি আমার চাচতোরে এইটা বইলা ফেলাইছিলাম, তা লগে লগে আমারে কাউন্টারে প্যাট্রিয়ট মিসাইল মাইরা দিলো ইসরাইলের মতো," তুমি তো দেহি জুম্মার আজানের টাইমে এমটিভি দেহো, আর নামাজের টাইমে ঘুম দেও। শুনছিলাম কুটিকালে নাকি স্কুল পালানোতে উস্তাদ আছিলা। আর একবার বিনা টিকিটে দুই ফিল্ম দেখতে যাইয়া তুমরা টিটির হাতে দাবড় খাইছিলা!" আমি ঢোক গিল্লা কইলাম," এই ঘটনা তরে কে কইলো?"
-আমার বাপে, হুনলাম হেয়ই নাকি তুমাগো নিয়া গেছিলো!

আমি চিন্তা করলাম আমার ছোট কাকা এমতে যদি আমাগো ভান্ডা ফাটায়, তাইলে আমার বিবাহের টাইম তত্বাবধায়ক সরকারের নির্বাচনের মতো পিছাইতেই থাকবো। তার তো বিয়া হইয়া সব শেষ তার আর কি চিন্তা, মাগার এই চাচতোর মুখ আমাগো হাসিনা আপার চেয়ে কম না!!

সকাল বেলা গোসল করা মহা ঝামেলার কাজ, তবে দুদিন ধরে গোসল করতে গেলে মনে হয় শরীরে কে যেনো বরফপানি ঢাইলা আমারে ফ্রিজ কইরা দিলো। বহুত বিলার মধ্যে আছি!

ভার্সিটি থাকার টাইমে, একবার স্টাফ কোয়ার্টারে গেলাম এক বড় ভাই কাম স্যার এর সাথে দেখা করলাম। গিয়া দেখি এক নতুন চেংড়া স্যার এক গাছির লগে গন্ডগোল। আমরা গন্ডগোল দেইখা মহা উতসাহে গেলাম সেইখানে অবশ্য তখনও বুঝতে ছিলাম ঐখানে গিয়া কার দলে যামু। যাই হোক, তাগো ডায়লগ শুনেন:
স্যার বলতাছে: না আমি ৩০ টাকার বেশী দিমু না। আমি ৩ মটকার দাম দিমু। দাম যে দিতাছি এইটাই অনেক!
-এইটা কি কন? রসের হাড়ি নিলেন ৬টা, দুইটা না হয় একটু নস্ট আছে, চাইরটার দামতো দিবেন!
-কি একটু নস্ট মানে? দুই হাড়ী ভরা মুতের পানি, আরেকটার হাড়ীটা একটু গন্ধ। আমি যে তিনটার দাম দিতাছি সেইটাই তো অনেক!
- আমি তো ঐ দুইটার দাম চাইনাই, মাগার ঐ গন্ধ আলা হাড়িটাতো খাইয়া ঐটার মধ্যে তো দেখি আপনেরা পান্তা ভাতও গুলাইছেন, তা আপনের কথা আমি বিশ্বাস করি ক্যামনে?আর আপনেগো পুলাপানের জ্বালায় তো রসের ব্যবসা না কইরা মুত বেচনের ধান্ধা করতে হবো!

স্যার দেখি আমাগো দেইখা চুপ মাইরা গেলো। তাড়াতাড়ি আর ৫ টাকা ধরাইয়া বিদায় করলো, আর আমাগো সাথে মুলাকাত করেলো। অবশ্য আমরাও হাসতে লাগলাম, কারন দুই রাইত আগে আমরাই ক্যাম্পাসে "অপারেশন খেজুরের রস" চালাইছিলাম!

যাই হোক আমার যৌবনের ভালগার কাহিনী আর কি লিখবো, তবে মাঝে মধ্যে যখন বন্ধু বান্ধব ফোন দেয় তখন মনে হয় সেই দিনগুলার কথা। তখন আসলে আমার খুব উদাস লাগে আর মনে হয় শেয়ার করি। আসলে এই ব্লগটা আমার এক বন্ধুর মতো হয়ে গেছে। তাই আমার সবকিছু এখানেই উগলে দেই, আর উগলাতে উগলাতে আজকে ১০০ পূরন করলাম।

জীবনে ভাবি নাই আমি কোনো কিছুতে ১০০ পূরন করুম! তাও কইরা ফেলাইলাম। আশা করি আমার আজাইরা ছাই ভস্ম পড়ানোর জন্য আমি সবসময় কেমুন জানি ইয়ে মনে হয়!
এখন আবার "ইয়ে"টা কি সেইটা জিগায়েন না!
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১০:৪৮
২০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×