somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উদাসীর পিচকিকালের উস্তাদ গুজরান খা-১! গাছের পাতা নড়চড়ে, গুরু তুমার দাড়ি মনে পড়ে!

১৪ ই নভেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

PG13 v

কুটিকাল আমার বড় অদ্ভুত কাটছে। শুনছি আমি নাকি বেশ গুটলু গাটলু ছিলাম। সবাই নাকি আমার গাল খালি টিপতো। আর আমি উদাস হইয়া তাগো চেহারার দিকে তাকাইয়া ভাবতাম,"এ দাত মাজে নাই কেন?"
কিন্তু আমি দুনিয়া দেইখা এতই অবাক ছিলাম যে প্রথম দুই বছর অবাকের ঠেলায় কথাই কইতে পারি নাই।যাই হোক, সেইটা নিয়া চিন্তায় ছিলাম না, আমি চিন্তায় থাকতাম কখন আমার ফিডার খান আমার কাছে দুলতে দুলতে আইবো আর তারে খাইয়া আমি নিদ যামু।আমার আম্মাজানের ভাষ্যমতে আমার ঘুমের মধ্যেও নাকি একটা আর্ট ছিলো। আর্ট টা কি, আমার বাম ঠ্যাং থাকতো পশ্চিম দিকে একটা বালিশের উপর আর ডাইন থাকতো পূর্ব দিকে আরেক বালিশের উপর।আরামের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ! পরে যখন আরেকটু বড় হইছিলাম তখন বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারছিলাম কোন জায়গার কোন নবাব ঈশা খাও নাকি এইভাবে শুইতেন, তার সাথে আমার আরেকখান মিল আছিলো: উনি নাকি খাটের এক কোনা থিকা ঘুম শুরু করতেন শেষ করতেন আরেক আরেক জায়গায় গিয়া অবশ্য সেই ঘুম নাকি হইতো হেরেম শরীফে আরো দুই চাইরজনের লগে। সে এক বড় এ্যাডভেন্ঞ্চারাস গভীর ঘুম ছিলো।
যাই হোক এইভাবে নাকি আমার নাদান কাল কাটছে বইলা আমার পাড়া প্রতিবেশী মুরুব্বি যারা তারা জানায়। আরো যেইটা জানতে পারি আমার সাইজ ভাত রান্ধনের ভুটকা পাতিলের সাইজের সাথে তেমন পার্থক্য ছিলো না। খাইতাম আর ঘুমাইতাম আর জাপানী সুমো হওনের তালে নাকি ছিলাম। অবশ্য আমার খাওনের একটা ব্যাপার ছিলো, আমারে একটা ঢাউস সাইজের দুইটা দুধের ফিডার ধরাইয়া আম্মা জান তার কাজে চইলা যাইতো, আর আমি লাটসাবের নাতীর মতো মাথার পিছনে দুইটা বালিশ দুই ঠ্যাং এর নীচে দুইটা বালিশ আর সাথে টিভি। খাওন হইলে ফিডার দুই খান এক চ্যাঙ্গা মারতাম বারান্দার খাড়াইয়া থাকা বিলাইটার দিকে। যদিও বিলাইটা পর্যন্ত ফিডার দুইখান না গিয়া সেও লাটসাবের মতো কাছাকাছি জায়াগায় পইড়া ভচকাইতো আর আমার মায় সেই শব্দ শুইনা পিটাইতে আইসা দেখতো আমি অলরেডী ভুড়ি দুলাইয়া ঘুম। যাই হোক প্রত্যেকদিন নয়া বোতল একটু ঝামেলার বিষয় আর তাই দাদাজান নিজেই দায়িত্ব নিলেন আমারে গইড়া তুলানের। মাগার কে দেখে কার দেখা! যখন হাটা শিখলাম তখন আমি মাঝে মাঝেই চইলা যাইতাম বাড়ীর সাথে থাকা তালতলার মাঠে সরিষা ক্ষেত দেখতে। যেহেতু আমি সাইজে ছিলাম ছোট, সেহেতু চকটারে মনে হইতো বিশাল তেপান্তর, মনে হইতো কোনো এক রাজকুমার ঘোড়ায় চইড়া যাইবো এই মাঠ দিয়া রাক্ষস খোক্ষসের দেশে কোনো মায়াময়ী রাজকুমারীকে উদ্ধার করতে।
আমি উদাস হইয়া বইসা থাকতাম আর চিন্তা করতাম জসীম উদ্দিনের রুপকথার গল্প আর চাইয়া থাকতাম সাদা সাদা মেঘে ঢাকা আকাশের দিকে, কখনোবা হলুদ সরিষার ক্ষেতে। আমার এরম উদাস হইয়া চাইয়া দেখতে দেইখা আশেপাশের পুলাপান আইসা জুটতো। তারা আইসা জিগাইতো,"কি দেখো?"
- আকাশ দেখি। কি সুন্দর দুধের রং হইছে! আবার দেখতে ফুলকপির মতো।
-আসলেই। আমাগো ক্ষুধা লাইগা গেলো। যাই খাইয়া আসি।

এই বইলা পুলাপান সব চইলা যাইতো আর আমি উদাস হইয়া বইসা থাকতাম।আমার উদাস ভাব কাটতো অবশ্য হাফপ্যান্টের চিপা দিয়া ঢুকা লাল পিপড়ার কামড়ে। ঐ সরিষার ক্ষেতে রেগুলার লাল পিপড়ার কামড় খাইতে যাওয়া আসা আমার আম্মাজান মোটেই পছন্দ করেননাই। তাই ভাবলো আমারে যেমন কইরাই হোউক পড়ালেখা শিখাইয়া বিদ্যার টাইটানিক বানাইবো। মাগার তার এই ভয়ও আছিলো আমার বিদ্যার টাইটানিক তলানী জানি উইদাউট সিগন্যালে না ফাটে। তাই সে কোমড় বাইন্ধা লাগলো বিদ্যার জাহাজ বানানের প্রজেক্টে কথা শিখনের আগেই স্বরে-অ,স্বরে-আ শিখাইতে। আমি ভাবলাম আমার শের শাহী দিন শেষ।

তবুও মাঝে মাঝে আমি ক্ষেতের ধারে যাইতাম আর উডাস হইয়া বসতাম লাল পিপড়ার বাসার উপর। ঐ ক্ষেতে আমার রোজ একজনের সাথে দেখা হইতো, নাম গুজরান খা। সে ক্ষেত দেখতো আর গরু ছাগল তাড়াইতো। কথা বলতো বাহারী চালে। একবার গরু ছাগল তাড়াইতে গিয়া লাঠি দিয়া আমার পশ্চাদ্দেশে এমুন বাড়ী মারছিলো যে সেই ব্যাথায় আমি কাইন্দা বাসায় আইছিলাম, মাগার আম্মাজানরে দেইখা টিউব লাইটের মতে ফিউজ হইয়া যাই। আমি অবশ্য পুরা ব্যাপারি বংশে তখনও একমাত্র চেরাগ ছিলাম বইলা আমার দুই কাকা আর ফুফুরা অনেক আদর করতো। ছোট কাকারে আমি বেশ ফলো করতাম। তার অনেক বদ অভ্যাসের সঙ্গীও ছিলাম। যেমন তার পুচকি আর অতি বুইড়া লোকের লুঙ্গি টাননের অভ্যাস ছিলো। এলাকায় অবশ্য সে ঘুরতো দল বাইন্ধা। মাঝে মাঝেই বুড়ারা আসতো দাদার কাছে বিচার চাইতে। তাগো সেম ডায়লগ- গোসল করতে গেছে লুঙ্গী পাল্টাইতে গিয়া দেখে লুঙ্গি নাই। আবার কেউ হয়তো বইসা রইছে, হঠাত দৌড়াইয়া আইসা এক টানে লুঙ্গি খুইলা ফেলাইলো। মাঝে মাঝেই দাদাজান দিতো পিটানি। উল্লেখ্য কাকাজান আমার চেয়ে ৬ বছরের বড়। মাগার হের লগে খুব জমতো। কারন তার আকামের কিছু অংশ আমিও শেয়ার করতাম, আমি টানতাম কুটি পুলাপানের লুঙ্গি।সে এক দিন ছিলো।

যাই হোউক আইজ এ পর্যন্তই!
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১০:৫৪
৫৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×