এখন রাত ১:৩০ মিনিট। চারিদিকে তুমুল ঝড়। সমুদ্র উপকূলে তুমুল আক্রমন প্রকৃতির। বাতাসের হু হু ধ্বনিটা মনে করিয়ে দেয় একটা পাগলা ঘোড়া গভীর আর্তনাদে ছুটে বেড়ায় তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে।
মনে পড়ে যায় ছোট বেলার কথা। আমাদের বাসার আঙ্গিনায় একটা বড় কাঠাল গাছ ছিলো। যতদূর জানি এই কাঠাল গাছটা বুনেছিলো আমার দাদি। অবশ্য উনি এর কাঠাল খেয়ে যেতে পারেন নি, কারন গাছটা লাগানোর ৪ বছর পর বাবার গায়ে হলুদের অনুস্ঠানের কিছু আগে হার্ট এ্যাটাকে মারা যান।
মনে পড়ে একদিন রাতে প্রচন্ড কালবৈশাখী ঝড় বইলো। বিদ্যুত নেই। চারিদিকে বাতাসের মুখ চাপা হাহাকার ধ্বনি। ঘরের চালে আছড়ে পড়ছিলো গাছের ডাল পালাগুলো। আমি শুয়ে শুয়ে কান পেতে শুনছিলাম বৃস্টির ফোটার শব্দ টিনের চালে।
সমুদ্র নাকি উত্তাল। ঘূর্নিঝড় বইছে। বাতাসে নিম্নচাপের কারনে সমুদ্রে তীব্র ঘূর্নিঝড়ের সৃস্টি হয়েছে। বাতাসের মোড়ের পরিবর্তনের কারনে স্ক্র এর মতো ঘুড়িয়ে প্যাচিয়ে এগিয়ে চলছে স্হলভাগের দিকে।
একটা প্রচন্ড ফোর্স কাজ করছে।
আমার অনেক ইচ্ছা ছিলো টাইম মেশিন বানানোর। পড়ালেখা করার এক পর্যায়ে বুঝতে পারলাম আইনস্টাইনের ল দিয়ে এগিয়ে গেলে এটা অসম্ভব। আসলেই আলোর চেয়ে গতিসম্পন্ন কোনো কিছুর অস্তিত্ব নাকি প্রকৃতিতে সম্ভব না।কাল্পনিক ফিজিক্সে একটা অপ্রকাশিত বা অপ্রমানিত থিওরি আছে সেটা হলো কিছু মেটার এর সাথে সমপরিমান এ্যান্টি ম্যাটারের সাথে সংঘর্ষ হলে প্রচুর শক্তির সৃস্টির মাধ্যমে নিজেদের ধ্বংশ ডাকা আনে।যদিও শক্তির ধ্বংশ নেই, তাই ওখানে নাকি ওয়ার্মহোলের সৃস্টি হয়।ওয়ার্মহোল হল একটা টাইম গেট! আসলেই হবে কিনা তা নিয়ে অনেক থিওরেটিক্যাল গ্যান্জ্ঞাম বিদ্যমান। বাস্তবতার নীরিখে অনেক থিওরী আছে যেটাকে কোনো ভাবে ফেলে দেয়া যায় না। যেমন ম্যাটার এ্যান্টিম্যাটার তত্বের উপর ডিপেন্ড করে সমান্তরাল মহাবিশ্বের কনসেপ্ট গ্রো করেছে।প্যারালাল ইউনিভার্স অনুসারে বলা যায় যে ঠিক আমার মতো একজন কেউ এরকম পৃথিবী বা সৌরজগতের মতো কোথাও অবস্হান করছে। হয়তো সে ইন্জিনীয়ার না হয়ে অন্য কিছু হবে। এটাকে জাস্ট শক্তির ব্যালেন্সিং হিসেবে চিন্তা করা যায়।
যাই হোক আমার মাঝে মাঝে মনে হয় একদিন হয়তো অনেক কিছু আমাদের সামনে ক্লিয়ার হবে কিন্তু আমরা দেখার জন্য কেউ বেচে থাকবো না। কারন মৃত্যু একটা চরম সত্য যেটা আমরা সবার আগে ভুলি। মৃত্যুর পর কি আছে কেউ সচক্ষে দেখিনি কিন্তু অনেকে অনেক কিছু বিশ্বাস করি। তবে প্রকৃতি আসলেই শূন্যতা পছন্দ করে না, আমি গেলে আমার জায়গায় আরো হয়তো কেউ আসবে, সভ্যতাকে উপভোগ করবে, হয়তো কিছু কন্ট্রবিউট করবে। কিন্তু আমরা হারিয়ে যবো। অবশ্য আমাদের মধ্যে কাউকে মনে রাখা হবে বছরের বিশেষ কোনো দিনে, এটাই! চিন্তা করলে অনেক কিছু চিন্তা না করলে কিছুই না!
কানি না কিজন্য লিখলাম, কি লিখলাম! তবে মাঝে মাঝেই একথা গুলো মনে হয়, তাই আজ উগড়ে দিলাম!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

