somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুশীল সমাজের বাস্টার্ড মাই এ্যাস- এটাই হলো আধুনিক পুজিবাদের লোক দেখানো ভালো লাগা আর বলা আমার চোখে জল তোমারি জন্য!

১৪ ই জুন, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মন চায় গালাগালি পাড়ি, ইদানিং এটাও শুরু করেছি। বাসার ভিতরে হয়তো একটু বইক্ষসা দেয়া হয়, কিন্তু রিক্সাওয়ালা, রাস্তার ফটকা যারে গাল দিয়ে সুখ পাওয়া যায়। সেদিন এক আর্মি ক্যান্টনম্যান্টে রাত 9:30 টায় সুধাই রিক্সাটাকে আধা ঘন্টা দাড় করিয়ে রাখলো। সমানে গালাগালি করলাম। খেয়াল করলাম দেখি কোনো ভাব লেশ নাই। পিছনের রিক্সার কিছু যুবক পুলাপান গান গাওয়া শুরু করলো এ্যাডাল্ট গান। তাতেও ভাবলেশ নেই। বাস্টার্ড দুনিয়ার সাকড আপ রুলস।

ইদানিং অনেক কিছু দেখা যায়। মনে হয় পুরা নগরী পুজিবাদী সার্কাসে পরিণত হয়েছে। সুশীল সমাজের তলপেটে আর গালে প্রচুর চর্বি জমেছে। জীমে যেতে পারেনা কারন তাতে বাস্টার্ডদের কৌলিন্য নস্ট হয় অথবা সহ্য করতে পারেনা তাদের দিন শেষ হয়ে গেছে। অনেক যুবক-যুবতী সুশীল সমাজও বিদ্যমান। দেখি মানব বন্ধন করে বৃস্টি ভেজা দিনে, এরকম দিনে রক্তে প্যাথেড্রিন নিয়ে রিক্সায় ভিজতে অনেক ভালো লাগে। কারন এতে সেন্সগুলো মরে যায়। ফলে ইচ্ছে হলেই রাস্তায় যেকোনো জায়গায় বসে থাকা যায়। এক পিচ্চি টোকাইয়ের ছবি দিলাম যে ডাস্টবিন থেকে খাবার কুড়িয়ে খায়।
-পরাটা খাবি?
কেমন যেনো সন্দেহের দৃস্টিতে তাকালো। আমাকে শিওর পিচকি পিকে মনে করছে। আমার হাতে থাকা সিগারেট ফেলে দিয়ে কয়েকটা আনারসের টুকরা কিনলাম আর হাতে গুজে দিয়ে বললাম," আমার সাথে যদি থাকটে পারিস, তাহলে এই 500 টাকা তোর। এ্যডভান্স 100 টাকা। পকেট কই?"
-নাই।
-ল হাউয়ার পো, আগে একটা প্যান্ট কিনি!
ফুটপাতে থেকে একটা ওভার সাইজ প্যান্ট আর একটা বেল্ট কিনলাম। পিচকার মুখে হাসি। নিয়ে গেলাম প্রেস ক্লাব। গিয়া দেখি একটা মানব বন্ধন চলতাছে। কোন পোলার নাকি মরনের টাইম হইছে, কোন বালের প্রাইভেট না পাবলিক থিকা গোল্ড মেডেল পাইছে হের লিগা কতগুলান মাইয়া পোলা দামড়া দামড়ি খাড়াইয়া আছে। দেইখা আমার মাথা ঘুইড়া গেলো। আমি আর টোকাইডারে নিয়া গেলাম ঐখানে। এক কোনায় দাড়াইয়া বাকী 400 টাকা দিয়া কইলাম," আমি মানুষটা খুব খারাপ। পারলে মাফ কইরা দিস।"
গলায় ঢোক গিললো। আমি ঐ মানববন্ধনের সামনে নিয়া দিলাম পাছায় গদাম লাথী। লাথীটা দিলাম একটা সাদা সালোয়াড় পড়া মাইয়ার সামনে। ভাবলাম এই মাইয়াটা আগাইলে অন্য পুলাপান আগাইবো। লাথী খাইয়া টোকাইখান পইড়া গেলো। অবশ্য লাথী খান আস্তেই মারছিলাম লাথীটা ছিলো ধাক্কা টাইপ। আমি গটগট কইরা আস্তে আস্তে আরেকটু দূরে যাইয়া খাড়াইলাম। দেখি কি হয়। পোলাটা কিছুক্ষন পইড়া পায়ের ময়লা ফেলাইয়া আমার দিকে চাইয়া গাইল দিলো। পরে দেখি আমার খোজ না কইরা ঐ মাইয়াটার কাছে গিয়া দুইটা টাকা চাইলো। আরে কি আচায্য মাইয়াটা দেখি মুখে ওড়না দিয়া ঢাইকা বললো, "সর সর"। পাশের ছেলে গুলান বললো," ভাগ ভাগ!" এমন সময় ঐ লাইনের এক বুড়ো এসে পকেট থেকে বাহারী চালে মানিব্যাগ টা বের করে 10টা টাকা ধরিয়ে দিলো। পুচকেটা ওটা নিয়ে সিগারেটের দোকানে গিয়ে একটা বিড়ি কিনলো।

এই হলো বালের সুশীল সমাজ। গোল্ড মেডেলের আবালের অনেক দাম মাগার ঐ জারজ টোকাইয়ের দাম নাই। আজকে দেখন যায় দেশের তেরটা কারা বাজায়....এইসব সুশীল গুলান নেতাদের কোম্পানীর কনসাল্ট্যান্ট হইয়া লাইন দেখায় আর দেশটার বাশ দেওনের রাস্তা হয়। আমি খালি চাইয়া দেখুম যেদিন আমি এমুন অসুস্হ হমু। হয়তো 60-70 লাখ টাকা লাগবো লিভার সরাইতে। আমার বাপ-চাচারা এই টাকা দিবার চাইলেও নিমুনা। আরে আমিতো খবীশ পোলা, আমি বাচলে কার কি হইবো, আমি মরলে দুই একটা মানুষ একটু কান্নাকাটি করবো। তাগো কান্নার দাম এতো বেশী কিনা জানি না, কিন্তু আমি যদি এই রাস্তায় পইড়া থাকা টোকাইগো বা গরীবের পুতেগো চিন্তা করি, তাইলে হয়তো এতো কান্না এক জায়গায় জমা হইলে সাগর হইয়া যাইবো।

আমি কয়েকদিন ধইরা অনেক প্রতিস্ঠানে ফুনাইতাছি, খুজতাছি এমুন কোনো ডিসেন্ট প্রতিষ্ঠান আছে কিনা যারা এগো সাহায্য করে। কয়েকটা পাইছি, এর মধ্যে দুই একটা গেছিলাম। একটা আছিলো সাভারে। তাগো লগে আমার মনের কথা কওনের সময় দেখি দামই দেয় না। আমি কইলাম," ব্যাপার কি? কান দিয়া বাতাস যায় না নাকি?"
-কিছু মনে কইরেন না, আপনের মতো অনেক দেশী বিদেশী চিজ আসে আমাগো কাছে, তাই অহন দেহি পোশাক আশাক দেইখা দাম দিমু।
-তাইলে তো আপনেগো মেলা টাকা, কিন্তু খাওনের মেন্যু এতো বেহাল কেন?
-এইখানেই তো দেখছেন আমাগো ফুটানি। আপনের মতো মেলা পুলাপান আসে, ঘুইড়া যায়, অনেকে বিদেশ থিকা আসে কয়েকদিন থাইকাও যায়।কিছুদিন পর গেলে বুঝন কার মনে কয় মন মানবতা। কয়েকদিন পর সব উধাও। ফোন করলে উঠায় না, মেইল করলে জবাব দেয় না।
-সমস্যা থাকতেই পারে। দেশের পাবলিকের তো টাকা উথলাইয়া পড়ে না!
-দারুন কইছেন, কিছু পাবলিক আছে বিদেশে থাকে মেলা সভা সেমিনার করে। কিছু টাকাও দেয়। মাগার পরে এইসব আরো বেশী শয়তান হয়। যখন উদ্দেশ্য হাসিল হয়, তখন সব পাল্টাই যায়। এইডারে কি কইবেন? আপনেরে কইতেছি কারন আপনে আমার পরিচিত মহলের লোক। মেলা কস্টে থাকি যখন দেখি এই বাচ্চা গুলানের এক বেলা খাওনের জন্য বেচনের কিছু বাসায় থাকে না। তা আপনি কি নিয়া আসছেন?
-আমি কিছুই নিয়া আসি নাই, আমি খালি দেখি, রিসেন্টলি আমিও একটা ধরা খাইছি। তয় আমি বাস্টার্ড না এইসব স্বদেশী ভিনদেশীদের মতন। আমার কার্ড চেন্জ্ঞ হইলেও ইমেইল ঠিক থাকবো। একটা কাম করেন, আপনেরা নিজেরাই স্বনির্ভর হইয়া যান। কয়জনের কাছে হাত পাতবেন। এই নেন রাইট পারসনের কার্ড, কিছু কস্ট কইরা কামান।
-চলে না এইডাও ঠিক না। কোরান শরীফে পড়ছিলাম ইহুদী-নাছাড়া নাকি সবচেয়ে বড় শত্রু আমাগো। এখন দেখি অগো টাকাতেই আমাগো চলে। তয় ওগো কাজ দেখাইতে হয়, তাইলেই কাজ হয়। হয়তোবা কোরান শরীফে ঠিকই কইছে, মুখে ইসলাম নিয়া যারা দিল থিকা ইহুদী নাছাড়া তারাই মনে হয় সবচেয়ে বড় শত্রু, আর কেউ না।

কথাটা মনে ধরলো, আসলেই সুশীল খ্যাত সমাজরা কি তাহলে তাদেরই অংশ?
অবশ্য আমি ফাক পাইলে বইলা বসি না আমাগো দেশের মানুষই খারাপ। বাহরাইনের কুন একখান দেশ আমাগো লোক না নিলে আমরা নাই খাইয়া মরুম সেই দুঃখেও কমুনা যে আমাগো দেশের জনগন খারাপ। গরীব হইছি বইলা শালার মাান সম্মান সুশীল সমাজের কাছে ধার দিয়া বইছি এইডা কুন হালায় কইছে!

শালার বাস্টার্ড সুশীল!
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×