ইদানিং অবসরে কেমন যেনো অস্হির লাগে। চারিদিকের মিশ্র অনুভূতি মাথায় খুব সজোরে আঘাত করে। বসে থাকাটা খুব দায় হয়ে দাড়ায়।
বারে বারে ফিরে যাই স্মৃতি গুলোর কাছে যেখানে গচ্ছিত আমার ফেলে আসা অতীত। মনে পরে একটা অতি পরিচিত অনুভূতির কথা। যুদ্ধের দাবানল থেকে দেশকে বাচাবার জন্য এক যুবক চলে গিয়েছিলো যুদ্ধে, সাথে ছিলো কিছু চেনা-জানা মুখ। দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চলে। যুদ্ধ চলাকালে জানতে পারে তাদের গ্রামে মিলিটারীরা আক্রমন করেছে, সারা গ্রাম জুড়ে বইয়ে দিয়েছিলো আগুনের বন্যা। অনেকের সাথে তার আপন কাউকে ধরে নিয়ে গিয়েছিলো ক্যাম্পে। তারপর আর কোনো খবর নেই। সে চেয়েছিলো তখনই গ্রামে ফিরে আসতে কিন্তু পারেনি, কারন তাদেরকেও ঘিরে ফেলা হয়েছিলো মৃত্যুর আস্তাকুড়ে ফেলে দেবার জন্য। আস্তে আস্তে যুদ্ধ শেষ হয়ে যায়, তার সাথে থাকা পরিচিত মুখ গুলো হারিয়ে যায়, কেউ হয়তো তার কোলেই শেষ নিঃশ্বাস ফেলে। একেবারে নিঃস্ব হাতে গ্রামে ফিরে সে, কার জন্য সেটা সে জানে না। তার প্রেয়সীর খবরও কেউ বলতে পারে না। মাঝ রাতে তার খুব ঘোর লাগে, চারিদিকে যুদ্ধের দামামা, সেখানে কেউ চিৎকার করে কাদছে প্রচন্ড অসহায়।
সে নদীর পাড় ঘেষে হাটা শুরু করে, নিজের অশ্রুকে গুলো পায়ের নীচে ফেলে, নিজেকে কবর দেয় হাজার বার, কখনোবা পানিতে ছুড়ে ফেলে নিতান্ত অবহেলায়। মনে হয় নিজের বুকে থাকা একটা ভারী পাথর সব পিষে ফেলছে নির্দ্বিধায়, শুধু মৃত্যুই পারে এরকম যন্ত্রনা থেকে মুক্তি দিতে। আকাশ পানে চেয়ে থেকে শুধু বলে," কেউ যদি থাকতো এমন কেউ, যার ছোয়ায় সব যন্ত্রনাগুলো হারিয়ে যেতো, যার জন্য কাধে নেয়া যেতো সকল কাজের বোঝা কাটানো যেতো দিন গুলো হাসি আনন্দে। যদি কেউবা নাই থাকে তাহলে মিছেই কেনো মৃত্যু প্রতিদিন প্রতিক্ষন?"
সে জবাব পায় না, জেনেও বারেবার নিজেকে সপে দেয় মুক্ত নদীর পাড়ে!
শূন্য শব্দের আড়ালে একটা মানুষ প্রতিদিন খুজে ফেরে একটা উত্তর কিন্তু সে কি জানে যে প্রশ্নটা সে করেছে সেটা কি পরিমান ভয়াবহ। মানুষ অসম্ভবের পিছনে ভ্রমরের মত ছুটে ফেরে, কিন্তু সে কখনোই বুঝতে পারে না প্রার্থনায় হাটু গেড়ে কখনো ঈশ্বরের সমান হওয়া যায় না। তবু আমি সব চাই যেনো আগামীকালের সূর্য্যের আলো আমার ঘরে হাসবে, অথবা তোমার মায়াবী স্পর্শগুলো আমাকে শিহরিত করবে প্রতিবার। আমার অতীত গুলোকে নিংড়ে উপভোগ করবো এর স্বাদ যদিবা আমার ভবিষ্যত গড়তে চেয়েছি নিজের হাতে!শত সহস্র আলোকবর্ষ দূর থেকে কেউ দেখছে ক্ষুদ্র জীবেদের ক্ষুদ্র অনুভূতি। সে মহান কিন্তু এসব ক্ষুদ্র জীবেদের ক্ষুদ্র অনুভূতিগুলো যে বিশাল বড় তাদের কাছে এটা কি কেউ তাকে বলেছে? হয়তো সে জানে অথবা জানে না। মানুষের অনুভূতি জানার জন্য মানুষ হবার কি খুব প্রয়োজন, এত জটিল তত্ব আমি কখনোই বুঝি না!
ভালোবাসার অনুভূতি লিখে হয়তো বোঝানো সম্ভব না, বোঝানো সম্ভব না কোনো অভেদ বা বিক্রিয়ার সমীকরন দিয়ে। আর সম্ভবত এই অসাম্ভব্যতার কারনেই মানুষ বারে বারে ভালোবাসার ফাদেই পড়ে। যুক্তিপিয়াসী একটি প্রজাতীর কতনা যুক্তিহীন আবেদন, হয়তোবা এই প্রজাতীর প্রজনন খুব প্রয়োজন!
**ছবিটা যেমন ইকোর তোলা, ইদানিং মোবাইল ফটোগ্রাফীতে ওর হাত খুলছে!
আলোচিত ব্লগ
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের গ্রামের গল্প!

আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।