somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উদাসী ভাবনা: আজকাই দরকার নারী স্বাধীনতা!

২০ শে মে, ২০০৯ রাত ১০:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাথা চুলকাইতেছিলাম। অনেক ক্ষণ ধইরাই চুলকাইতে চুলকাইতে বুঝতে পারলাম আসলে যেই জায়গায় চুলকাইতাছি সেইটা আসলে আমার মাথা না বাসের সীটে পাশে বইসা থাকা এক বুড়ালোকের টাক মাথা। সেও ঝিমাইতেছিলো। আমার চুলকানী চরমে পৌছাইতেই দিলো মাথায় থাপ্পর। আমি হাত নামাই ফেলাইলাম আলোর গতিতে। সেই বুড়া লোক ডাইনে বায়ে তাকাইয়া দেখে বাস ভর্তি খাড়ানো মানুষ:" মাথায় কেডা হাত দিলো?" কারো কোনো জবাব নাই, আমি তো তখন ঘুমানোর এ্যাকটিং। আসলে মাথা চুলকানির কারন ছিলো। স্পস্ট মনে আছে পকেটে আমি আমার মোবাইল ঢুকাইছিলাম। কিন্তু বাসে উইঠা দেখি এইডা আমার মোবাইল না, আমাগো বাসার কাজের মেয়েটার মোবাইল। অনেকক্ষণ ধইরা মাথা চুলকাইয়া আমার ঠাহর হইলো না কাজের মেয়েটার হাতেও মোবাইল থাকে কেমনে?

অফিসে গিয়া দেখি সবাই গুমোট দৃস্টিতে কাজ করতেছে আমার কেমন জানি ডর লাগতে লাগলো। সবাই কি সুন্দর ফিটফাট কেতদুরস্ত স্যুট টাই, আর আমি হালার স্নিকার আর একটা টীশার্ট আর ঠ্যাং এর লগে বাজাইনা একটা ছিড়া ফেড জিন্স লটকাইয়া অফিসে আইছি। সীটে বইতে না বইতেই দেখি বস পিছনে দাড়াইয়া!

: রনি, আজকে তুমি আমাকে না বলে যাবা না। তোমাকে নিয়ে একটা জায়গায় যাবো। এই লেখাটা একটু পড়ো।

ভাবলাম দুই তিন পৃষ্ঠার লেখা, কিন্তু আদতে সেটা ছিলো ৩৮০ পৃষ্ঠার একটা টেকী ডকুমেন্ট। নতুন টেকনোলজীর ইমপ্লিমেন্টেশন। চিন্তা কইরা দেখলাম যখন আমি ছাত্র ছিলাম তখন এরকম মোটা বই পুরা কখনোই পড়ি নাই। ক্লাশে বইসা ঘুমাইতাম, পিএল আসলে ক্লাশ নোট দেখলেই সাবজেক্টের গোড়ালি বুঝতাম ডিএলে ক্লাশ নোট আলা টপিক্সগুলা পইড়া পরীক্ষা দিতাম। সর্বসাকূল্যে টানা ৮ সেমিস্টারে আমি মনে হয় ১৫০ পৃষ্ঠাও মুখস্হ করি নাই। তবে এইটা ঠিক আমার টেবিলে আমার সাবজেক্টের বই পাওন যাইতো না, সব সময় এমন কিছু টেকি থাকতো যেটা কারো মাথায় আসতো না, সিলেবাসেও নাই, বাংলাদেশেও নাই। এই ডকুমেন্ট টাও তাই। তবে স্টুডেন্ট লাইফের ফাকিবাজীর খেসারত এখন মনে হয় দিতে হচ্ছে আর বসের অগাধ ভরসা আমি মনে হয় নিডো খাই বইলা আমারে দিয়াই হবে।
যাই হোউক, আমি আমার আশে পাশে থাকা সুন্দরীগো কথা আর এমটিভির টপ চার্ট দেইখা গান নামাইতে নামাইতে হঠাৎ একটা জিনিস মাথায় আসলো। মাথায় আসার একটা কারন ছিলো, আমাদের এক ফিমেল কলিগ দুটা ছেলের চুল টানছে আর একটু পর পর হুদাই চাটি মারছে।

আইডিয়াটা হইলো নারী পুরুষ বিভেদ!

আমার কাছে মনে হলো আসলে এইটার সাথে একটা ক্রিমিনাল সাইকোলজীর ইনভোলভমেন্ট আছে।

যেমুন ধরা যাক অন্ধবিশ্বাস। এইটা এখন আর দেখা যায় না কারন এই সাইকোলজীটা মানুষের অশিক্ষার কারণে সে বিশ্বাস করা শুরু করে। কিন্তু যখন তার বিশ্বাস ভাঙ্গে তখন আর সে সেটা পালন করতে বাধ্য থাকে না। আর সেইজন্যই এখন কুসংস্কার পালন করা লোক খুব কম দেখা যায়। কিন্তু শয়তানী কইরা একটা জিনিস চাপায় দেয়াটা সব সময়ই বিদ্যমান। শয়তানী বা অবৈধ কাজের প্রতি মানুষের আকর্ষন প্রবল। এটাকে কখনোই দূর করা সম্ভব না তবে কমানো যায় মনের ভালো দিকের ক্রমবিকাশের মাধ্যমে!

একটা উদাহরন দেই, একুশে বাসে যখন প্রথম মেয়েদের জন্য প্রথম তিনটা সীট বরাদ্দ করলো, তখন প্রথম প্রথম এটা নিয়ে খব চিল্লাচিল্লি করতো। দেখা গেলো যারা দাড়িয়ে আছেন তারা মহা বিরক্ত হলেন, শুরু করলেন হল্লা হাটি: মেয়েরা তাহলে পুরুষদের সীটে বসে কেন। এই সুযোগে কিছু পূংটা লোক যাতা কমেন্ট করা শুরু করলো। দুএকদিন এভাবে চিল্লাচিল্লি করার পর এক সময় দেখা গেলো তাদের পাশে দাড়িয়ে থাকা লোক আর মহিলারাও এটার প্রতিবাদ করতে লাগলো। তখন এগিয়ে আসত কন্ডাক্টর। অবস্হার উন্নতি ধীরে ধীরে হতে লাগলো। একসময় দেখলাম যেসব লোক রেগুলার খিস্তি খেউড় করতো এই মহিলা সীট নিয়ে তারাই এটার রক্ষায় চিল্লা চিল্লি করতে লাগলো। এখন মহিলাদের সীট মহিলাদের দখলে। কেউ বসে থাকলে সটানে এসে দাড়িয়ে থাকা মেয়ে এসে বলে এটা মহিলাদের সীট উঠে যান। তখ সে উঠতে বাধ্য হন। কিন্তু ঐযে বললাম ক্রিমিনাল মাইন্ড: কিছু লোক এইখানেই সুযোগ পায়।

তার মানে বোঝা যাচ্ছে মানুষের মনে এসব অন্যটাইপের চিন্তা গুলোই আসলে মূল ধারক নারী পুরুষ বিভেদে। আর সেটা একমাত্র দূর করা সম্ভব সেরকম এ্যাটিচুড দিয়ে। বাঙ্গালী শক্তের ভক্ত নরমের জম। অবশ্য এটা যে খোদ আমাদের দেশে হচ্ছে এমন না এটা আমেরিকাতেও আছে।

অনেকে হয়তো বলতে পারেন বাবা মা অভিভাবকরাও এরকম করছেন সেখানে অবশ্য একটা যুক্তি আছে। তাদের মধ্যে এটা কুসংস্কার হিসেবে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে ওরকম কিছু ক্রিমিনাল মাইন্ডের মুরুব্বী বা হুজুর খেজুর। যার ফলে এক সময় সেই বাপ মা দেখা যায় মেয়েকে স্বাধীন করে দেয় নিজের ভুল বুঝতে পেরে। আসলে কুসংস্কার আমাদের ক্ষতি করে কিন্তু ক্ষতি হবার শিক্ষা পেলে সেটা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

কিন্তু ক্রিমিনাল মাইন্ড হতে যা বের হয় সেটাকে দমিয়ে রাখতে হয় নাহলে সেটা বার বার বাধার সৃস্টি করে নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য। তাই নারী পুরুষ ভেদাভেদ কোনোদিনও যাবে না, তবে কমানো যাবে একমাত্র মনের সাহস দিয়ে উপযুক্ত এ্যাটিচিউডের মাধ্যমে। মনটাকে শক্ত রাখা একান্ত দরকার। অধিকার কেউ বাড়ি আইসা দিয়া যায় না, আদায় কইরা নিতে হয়, বাংড়ু!:P

অনেক হাউকাউ চিন্তা করে যখন দেখলাম দুপুর গড়িয়ে বিকেল তখন মনে হলো ডকুমেন্ট টা পড়ি। কিন্তু পাতা উল্টিয়ে দেখলাম আরে এতো আমারি লেখা! আমার লেখা বস আমারে পড়তে দিলো কেন সেটা বুঝলাম মিটিং এ। কারন প্রোপজালটা পাশ হয়েছে! মুহা হা হা হা!
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মে, ২০০৯ রাত ১০:১৯
১০টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×