অফিসে গিয়া দেখি সবাই গুমোট দৃস্টিতে কাজ করতেছে আমার কেমন জানি ডর লাগতে লাগলো। সবাই কি সুন্দর ফিটফাট কেতদুরস্ত স্যুট টাই, আর আমি হালার স্নিকার আর একটা টীশার্ট আর ঠ্যাং এর লগে বাজাইনা একটা ছিড়া ফেড জিন্স লটকাইয়া অফিসে আইছি। সীটে বইতে না বইতেই দেখি বস পিছনে দাড়াইয়া!
: রনি, আজকে তুমি আমাকে না বলে যাবা না। তোমাকে নিয়ে একটা জায়গায় যাবো। এই লেখাটা একটু পড়ো।
ভাবলাম দুই তিন পৃষ্ঠার লেখা, কিন্তু আদতে সেটা ছিলো ৩৮০ পৃষ্ঠার একটা টেকী ডকুমেন্ট। নতুন টেকনোলজীর ইমপ্লিমেন্টেশন। চিন্তা কইরা দেখলাম যখন আমি ছাত্র ছিলাম তখন এরকম মোটা বই পুরা কখনোই পড়ি নাই। ক্লাশে বইসা ঘুমাইতাম, পিএল আসলে ক্লাশ নোট দেখলেই সাবজেক্টের গোড়ালি বুঝতাম ডিএলে ক্লাশ নোট আলা টপিক্সগুলা পইড়া পরীক্ষা দিতাম। সর্বসাকূল্যে টানা ৮ সেমিস্টারে আমি মনে হয় ১৫০ পৃষ্ঠাও মুখস্হ করি নাই। তবে এইটা ঠিক আমার টেবিলে আমার সাবজেক্টের বই পাওন যাইতো না, সব সময় এমন কিছু টেকি থাকতো যেটা কারো মাথায় আসতো না, সিলেবাসেও নাই, বাংলাদেশেও নাই। এই ডকুমেন্ট টাও তাই। তবে স্টুডেন্ট লাইফের ফাকিবাজীর খেসারত এখন মনে হয় দিতে হচ্ছে আর বসের অগাধ ভরসা আমি মনে হয় নিডো খাই বইলা আমারে দিয়াই হবে।
যাই হোউক, আমি আমার আশে পাশে থাকা সুন্দরীগো কথা আর এমটিভির টপ চার্ট দেইখা গান নামাইতে নামাইতে হঠাৎ একটা জিনিস মাথায় আসলো। মাথায় আসার একটা কারন ছিলো, আমাদের এক ফিমেল কলিগ দুটা ছেলের চুল টানছে আর একটু পর পর হুদাই চাটি মারছে।
আইডিয়াটা হইলো নারী পুরুষ বিভেদ!
আমার কাছে মনে হলো আসলে এইটার সাথে একটা ক্রিমিনাল সাইকোলজীর ইনভোলভমেন্ট আছে।
যেমুন ধরা যাক অন্ধবিশ্বাস। এইটা এখন আর দেখা যায় না কারন এই সাইকোলজীটা মানুষের অশিক্ষার কারণে সে বিশ্বাস করা শুরু করে। কিন্তু যখন তার বিশ্বাস ভাঙ্গে তখন আর সে সেটা পালন করতে বাধ্য থাকে না। আর সেইজন্যই এখন কুসংস্কার পালন করা লোক খুব কম দেখা যায়। কিন্তু শয়তানী কইরা একটা জিনিস চাপায় দেয়াটা সব সময়ই বিদ্যমান। শয়তানী বা অবৈধ কাজের প্রতি মানুষের আকর্ষন প্রবল। এটাকে কখনোই দূর করা সম্ভব না তবে কমানো যায় মনের ভালো দিকের ক্রমবিকাশের মাধ্যমে!
একটা উদাহরন দেই, একুশে বাসে যখন প্রথম মেয়েদের জন্য প্রথম তিনটা সীট বরাদ্দ করলো, তখন প্রথম প্রথম এটা নিয়ে খব চিল্লাচিল্লি করতো। দেখা গেলো যারা দাড়িয়ে আছেন তারা মহা বিরক্ত হলেন, শুরু করলেন হল্লা হাটি: মেয়েরা তাহলে পুরুষদের সীটে বসে কেন। এই সুযোগে কিছু পূংটা লোক যাতা কমেন্ট করা শুরু করলো। দুএকদিন এভাবে চিল্লাচিল্লি করার পর এক সময় দেখা গেলো তাদের পাশে দাড়িয়ে থাকা লোক আর মহিলারাও এটার প্রতিবাদ করতে লাগলো। তখন এগিয়ে আসত কন্ডাক্টর। অবস্হার উন্নতি ধীরে ধীরে হতে লাগলো। একসময় দেখলাম যেসব লোক রেগুলার খিস্তি খেউড় করতো এই মহিলা সীট নিয়ে তারাই এটার রক্ষায় চিল্লা চিল্লি করতে লাগলো। এখন মহিলাদের সীট মহিলাদের দখলে। কেউ বসে থাকলে সটানে এসে দাড়িয়ে থাকা মেয়ে এসে বলে এটা মহিলাদের সীট উঠে যান। তখ সে উঠতে বাধ্য হন। কিন্তু ঐযে বললাম ক্রিমিনাল মাইন্ড: কিছু লোক এইখানেই সুযোগ পায়।
তার মানে বোঝা যাচ্ছে মানুষের মনে এসব অন্যটাইপের চিন্তা গুলোই আসলে মূল ধারক নারী পুরুষ বিভেদে। আর সেটা একমাত্র দূর করা সম্ভব সেরকম এ্যাটিচুড দিয়ে। বাঙ্গালী শক্তের ভক্ত নরমের জম। অবশ্য এটা যে খোদ আমাদের দেশে হচ্ছে এমন না এটা আমেরিকাতেও আছে।
অনেকে হয়তো বলতে পারেন বাবা মা অভিভাবকরাও এরকম করছেন সেখানে অবশ্য একটা যুক্তি আছে। তাদের মধ্যে এটা কুসংস্কার হিসেবে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে ওরকম কিছু ক্রিমিনাল মাইন্ডের মুরুব্বী বা হুজুর খেজুর। যার ফলে এক সময় সেই বাপ মা দেখা যায় মেয়েকে স্বাধীন করে দেয় নিজের ভুল বুঝতে পেরে। আসলে কুসংস্কার আমাদের ক্ষতি করে কিন্তু ক্ষতি হবার শিক্ষা পেলে সেটা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
কিন্তু ক্রিমিনাল মাইন্ড হতে যা বের হয় সেটাকে দমিয়ে রাখতে হয় নাহলে সেটা বার বার বাধার সৃস্টি করে নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য। তাই নারী পুরুষ ভেদাভেদ কোনোদিনও যাবে না, তবে কমানো যাবে একমাত্র মনের সাহস দিয়ে উপযুক্ত এ্যাটিচিউডের মাধ্যমে। মনটাকে শক্ত রাখা একান্ত দরকার। অধিকার কেউ বাড়ি আইসা দিয়া যায় না, আদায় কইরা নিতে হয়, বাংড়ু!
অনেক হাউকাউ চিন্তা করে যখন দেখলাম দুপুর গড়িয়ে বিকেল তখন মনে হলো ডকুমেন্ট টা পড়ি। কিন্তু পাতা উল্টিয়ে দেখলাম আরে এতো আমারি লেখা! আমার লেখা বস আমারে পড়তে দিলো কেন সেটা বুঝলাম মিটিং এ। কারন প্রোপজালটা পাশ হয়েছে! মুহা হা হা হা!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

