কুটিকালে বৃস্টি দেখলেই হিস্যু আসতো এখন আসে কান্দন অথবা খাতা ভইরা কবিতা লিখন! কুটিকালে বড়ই সহজ সরল আছিলাম, বড় হইয়া বিশাল ভাবুক হইয়া গেলাম এই মিস কমিউনিকেশন কেমনে হইলো বুঝবার পারলাম না।
আমার কাকা তাবলীগ করে, তারে জিগাইতেই বুঝবার পারলাম, এই জিগানীর জন্য কচু গাছে গলায় দড়ি দেওন উচিত। সে পারলে আমারে তিনদিনের চিল্লার সাথে চল্লিশ দিনের চল্লিশা খাওয়ায় আনে।আমি ছাইড়া দে মা কাইন্দা বাচি স্টাইলে কইলাম, "চাচা, পেটে বড়ই বেদনা, ওজু ধইরা রাখতে পারি না!"
তবুও মনে জাননের আশ মেটে না। আমার এক বাজখাই মামু আছিলো, বদ আছিলো না কড়া আছিলো এখনও জানি না। আমারে দেখলেই কইতো," টইন্যা কাটিস, আমার টয়লেটে ধরছে, আমার পক্ষ থিকা তুই টয়লেট কইরা আয়।"
আমি হেরে ডাইনোসরের মতো ডরাইতাম। আর কি করা, যখনই কইতো তখনই আমি ফিলিস্তিন জনতার মতো মাথা নত কইরা আম্মারে ডাক দিয়া কইতাম," আমার প্যান্ট টা খুইলা দাও, আমি মামুজানের পক্ষ দিয়া টয়লেট কইরা আসি!"
তখন সবাই ব্যাপক হাসতো কি না জানি না, তয় বড় হইয়া উল্টা এলাকার পুলাপানের লুঙ্গি খুলাইয়া ছাড়তাম। আমারে মাইর দেওনের লিগা পুলাপানের মনে ব্যাপক চাহিদা থাকলেও আমার বদ ছোট কাকার আশীর্বাদে গায়ে বাতাস লাগাইয়া ঘুরতাম আর পুলাপানের লুঙ্গী নিয়া ওড়না ওড়না খেলতাম!
ক্লাশ ফাইভে বাপে একবার একটা বাইসাইকেল কিন্যা দিছিলাম যেইটারে হোন্ডা মনে কইরা চালাইতাম আর প্রতিদিন একটা না একটা এক্সিডেন্ট করতাম। একবার মনে পড়ে একটা রিক্সারে ওভারটেক করতে গিয়া বাম সাইডে দিলাম ঢুকাইয়া। আমার বেলের ক্রিং ক্রিং শব্দ শুইনা রিক্সা আলা চামে চামে বায়ে মোচড় দিলো। আর যাই কই, বাম পাশের চাক্কার লগে বাইজ্জা রিক্সার লগে চলা শুরু করলাম। দূর থিকা আসতাছিলো এক বুড়া চাচা। সে দেখে রিক্সার লগে আমি বাইজ্জা তার দিকেই বিনা দাওয়াতে আসতাছি। হাতে ছিলো বদনা, সে না ফালাইতে পারে বদনা না পারে ডাইনে দৌড়। আর কি করা, আমার সাইকেলের সামনের চাক্কা চাচার দুই ঠেং এর মাঝখানে সজোরে হেই ও!
চাচা নাকি দুই দিন সমানে বিছানায় কোকাইছিলো আর চাচীজান নাকি আমারে পটানোর লিগা বাড়ীত সকাল সন্ধ্যা গমন করতো। অবশ্য তার পিটানি লাগে নাই, আমার আম্মাজান সমান তালে যেমনে মারছে সেই মাইর গুলান এখনও আমার মনের ইতিহাসে প্লাটিনামের অক্ষরে লেখা আছে।
যাই হোক, দুনিয়ায় মেলা আকাম কুকাম কইরা আমার ইদানিংকার ভাব দেইখা আমার এক ফটকা কাজিন কয়," মানুষ বিলাই মাইরা হজ্বে যায়, আর আপনি হজ্বে গিয়াও বিলাই মারতাছেন। সূর্য্য দক্ষিণ দিকে উঠবার পারে, মাগার আপনে শুধরাইবেন এইডা আমার মনে হয় না!"
আমি তখন তারে কই," সূর্য্য দক্ষিন দিকে উঠলে তো টয়লেটে সমস্যা হইবো। পজিশনিং করতে গিয়া মসল্লা পাতী ফুটায় যাইবো না!"
কাজিন শুইনা কয়," আমি মাফ চাইছি, আপনের সামনে আমি আর কোনো প্রবাদ কমু না!"
এইডাত গেলো কাজিন, অহন সেই মামুর কথা কই, যে ছোটকালে আমারে মেলা জালাইছিলো এই টয়লেট নিয়া।
আমি হের বাসায় গেলে, ঘরের দরজা আটকাইয়া মামাতোরে দিয়া কইয়া পাঠায়," আব্বা কইছে সে নাকি গুলশান গেছে, রাইতে আইতে কইছে।"
যদি বইসা থাকি তাইলে আবার মামতো আইসা কয়," কি কইবেন খাতায় লেখেন, আব্বাজান লেইখা জবাব দিবো!"
আমি হাসি। খালি ঈদের দিন আমার সাথে তার দেখা হয়। সালামীর টাকা এখনও উইথাউট সালামে পাই, কারন কোনো এক ঈদে বান্দরকালে হের লুঙ্গী নাকি এক টানে......
থাক আর কইলাম না। মেলা কিছু বইলা ফেলাইছি এখন ফুটি!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


