somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঈশ্বর হবার টাইম নাই-২!

১৫ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঈশ্বর হবার টাইম নাই!
_____________________________________________

: আপনাকে ঘন্টায় ৫ ইউরো করে দেয়া হবে, আর এখানে কাজ করতে হবে বৃহস্পতিবার থেকে সোম বার পর্যন্ত বিকাল ৪ টা থেকে রাত ৪ টা। আপনার কাজ হবে ওয়াশিং ক্লিনিং থেকে শুরু করে খাবার সার্ভ পর্যন্ত। কুকিং শিখে নিতে পারলে আপনার মাইনে বাড়িয়ে দেয়া হবে। যেহেতু আপনি ভাষা জানেন না সেহেতু জোয়েল অর্ডার নেবে আপনি শুধু টেবিল অনুযায়ী সার্ভ করবেন। রিসেন্টলি এক পাকিস্তানী আমাকে ফাদে ফেলেছে, আজকে তার জরিমানা দিতে হবে। যাই হোক, আপনি কি এই শর্তে রাজী আছেন?
: আমি অবশ্যই রাজী। আমি কবে থেকে কাজ শুরু করবো?
: আপনি কাল বিকাল থেকে কাজে লেগে যেতে পারেন। এখানে এসে জোয়েলের কাছ থেকে কাজ বুঝে নেবেন। আর ভালো কথা, আপনের একাউন্ট নাম্বারটা জানিয়ে দেবেন।
: ধন্যবাদ। আপনার যদি খুব তাড়া না তাহলে আমি কি আপনার ৫ টা মিনিট সময় নিতে পারি?
: (রিচার্ড বা হাত ঝাকিয়ে হাতঘড়িটা দেখে ভ্রু কুচকে বললো) আমার আসলেই খুব তাড়া আছে। তবু আমার কেন যেন মনে হয় আপনার ভিতরে একটা প্রচন্ড ঝড় বইছে। আমি এর গর্জন ইচ্ছুক!
: (এক নিঃশ্বাসে কাপা কাপা গলায়) আপনি আমাকে ফোন করেছেন ঠিক ১২: ৪৯ মিনিটে। তার কিছুক্ষণ আগে আমার ছোটবোন দেশ থেকে একটা এসএমএস করে। আমি তখন রাস্তা পার হবার জন্য ক্রসিং এ ওয়াক বাটনে চাপ দিয়েছি। রাস্তা পার হয়ে যখন বাসায় ফোন করি তখন বোন আমাকে একটা কথাই বললো," ভাইয়া, বাবা আজ সকালে বিষ খেয়ে বাথরুমে পড়েছিলো। অনেক দিন ধরে ধার দেনার চাপ সইতে পারছিলো না। ডাক্তার চাচু বললো অনেক দেরী হয়ে গেছে। ভাইয়া তুমি চলে আসো!" মূহুর্তে আমার মনে হলো সারা পৃথিবী যেন শব্দ শূন্য শুধু আমার ফুসফুসের ধ্বুক ধ্বুক আওয়াজ আমার কানে এসে লাগছে। মনে মনে ভাববার চিন্তা করলাম পায়ে শক্তি আছে কিনা এখনো, কারন আমাকে বাবার লাশটা বইতে হবে, কিন্তু.....(একটু সময় নিয়ে).. দেশে যাবার মতো আমার কাছে কোনো ইউরো নাই। মাথার ভিতর কিছু একটা তাল গোল পাকিয়ে আমার চিন্তাগুলো এক বিন্দুতে আটকে ছিলো। আর তখনই তুমি আমাকে দেখা করতে বললে আর এখন তুমি চাকরী দিতে চাইছো!

রিচার্ডের মোবাইলটা হঠাৎ বেজে উঠলো। "এক্সকিউজ মি" বলে পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে নামটা দেখে সাইলেন্ট করে রাখলো। তারপর চেয়ার থেকে উঠে শাকিলের সামনে এসে দাড়ালো, কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে ওর সামনে টেবিলের উপর বসলো," দেখো যুবক, যদি কিছু মনে না করো, তুমি এক গ্লাস ভোদকা নিতে পারো আর যদি চাও তো দেশে যাবার টিকেট কেটে দিতে পারি। বাকী সিদ্ধান্ত তোমার। তবে তোমাকে একটা কথা বলি, আমি যখন এখানে আসি তখন আমার হাতে কিছুই ছিলো না, যুদ্ধে আমার সব কিছু কেড়ে নিয়েছে। আমার স্ত্রী কিছুদিন পর একটা মৃতসন্তান প্রসব করে আর তার কিছুদিন পর সেও মারা যায়। আমি তখন কি করবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না, কিন্তু থেমে থাকিনি। তখন আমি তোমার মতোই যুবক ছিলাম। চিন্তা করো না, আমি জোয়েলকে সব বলে যাচ্ছি, তুমি ডিসিশন নাও, তোমার হাতে আশা করি সময় আছে এখন!"
এই বলে রিচার্ড দ্রুত উঠে দাড়ালো, জোয়েল গায়ে ওভারকোট পড়িয়ে দিলো। তারপর দুজন দ্রুত চলে গেলো বাইরে।

শাকিল বাইরে দিয়ে সদ্য শুরু হওয়া তুষারপাত দেখছে। আজ অনেক দিন পর লক্ষ্য করলো পাহাড়ের গায়ে বেড়ে ওঠা সবুজ বনটা আজ আর সবুজ নেই, সব যেনো কন্কাল হয়ে আছে, তার ডালপালায় জমেছে বরফ সাদা তুলোর মতো ঠিক যেনো ছোটবেলায় দেখা তুলো ভর্তি শিমুল গাছ।

মনে পড়ে একবার বাবা এক ল্যাপ মিস্ত্রীকে ডেকে আনে আর সাথে কিনে আনে এক বস্তা শিমুল তুলা। তখন ওর বাবা ওকে ডেকে বলেছিলো," আয়রে শাকিল সোনা, আমি ঘোড়া হই আর তুই হবি রাজা। আজকে রাতে আমার শাকিল সোনা ল্যাপ মুড়ি দিয়ে মজা করবে আর ঘুমাবে!"


আশ্চর্য্য শাকিলের চোখ দিয়ে এক ফোটা অশ্রু ঝরছে না, কিন্তু তার বুকের ভিতর হাজারো কান্না জমে আছে ওর বাবার জন্য!

কিন্তু কিছু সিদ্ধান্ত নেয়ার মতো ক্ষমতা আমাদের থাকে না। আল্লাহ আমাদের নিয়ে মনে হয় খেলতে ভালো বাসেন!
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪৫
৩৩টি মন্তব্য ৩৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×