আমি আগেই কইয়া নিতাছি আমি কোনো সাংবাদিক না, তবে পড়নের চেস্টা করি, যেখানে যা পাই। বলতে পারেন খবর খেকো টাইপ পোলাপান আমি।
শেষ জমানায় কিছু প্রতারক সৃষ্টি হবে। তারা ধর্মের নামে দুনিয়া শিকার করবে। তারা মানুষের নিকট নিজেদের সাধুতা প্রকাশ ও মানুষকে প্রভাবিত করার জন্য ভেড়ার চামড়ার পোষাক পড়বে (মানুষের কল্যাণকারী সাজবে)। তাদের রসনা হবে চিনির চেয়ে মিষ্টি। কিন্তু তাদের হৃদয় হবে নেকড়ের হৃদয়ের মতো হিংস্র। (তিরমিজী)
যখন চট্টগ্রামে থাকতাম ২০০৩ সালে, যখন আমরা ৩য় বর্ষে তখন একদিন জিইসির মোড়ে গ্যাজাইতেছিলাম একচুয়ালী সঙ্গের কেউ ডাইল, কেউ মডের বোতল, কেউ বিড়ি, কেউ চটি আর আমি রাস্তার মাইয়া দেখতেছিলাম আর অপেক্ষা করছিলাম কখন আমাগো ভার্সিটির গাড়ি আসে। তখন আমার সাথে মনে হয় আমার রুম মেট ছিলো। একটা সুন্দর কইরা পোলা আইলো, ক্লিন শেভ, জিগাইলো," ভাইয়া একটু কথা বলতে পারি?"
: কথা কইতে ফ্রী, অনুমতির কি দরকার?
: জ্বী আপনি নিশ্চয়ই স্টুডেন্ট?
: হ...কি কইবেন তাড়াতারি কন, আমার পর্যবেক্ষনে ডিস্টার্ব হইতাছে!
: (একটু হেসে) থাক আপনের আর সময় নস্ট করবো না, অক্সিজেন মোড়ে শনিবার বিকাল ৫ টায় আমাদের একটা আলোচনা সভা আছে, ইসলাম যে একটা আধুনিক ধর্ম আর এখানে জঙ্গীবাদের কুনো অবস্হান নাই সেটাই বলার উদ্দেশ্য!
: কুন পার্টি? শিবির নাকি?
: না, ওখানে আসলেই বুঝতে পারবেন, শুধু এটুকু জানেন হিযবুত তাহরীর!
: মুখে দাড়ী কৈ...অথবা চাল চলনে সুন্নতী কোনো চিহ্ন তো নজরে আসেনা!
: ভাইয়া আমি যাই!
এই কইয়া চইলা গেলো। আমার রুম মেট আমারে কইলো," এতো গ্যাজাও কেন, চট্টগ্রামের এইসব পুলাপান চেনো? দেখতে ভালো, একলা পাইলে কুন জায়গায় শোয়ায় ফেলবে কিছু কওনেরও নাই তখন, এই মাসল দিয়া কিছু হইবো না!"
তার কিছু দিন পর পেপারে দেখলাম ময়মনসিংহে হিযবুত তাহরীর নিয়া গন্ডগোল। আমি একটূ ডীপে গিয়া দেখলাম সভায় নাকি এরকম মজমা শুরু হইছে, সেই বক্তব্য শুইনা দুইজন প্রতিবাদ করছে তারপর কাইজ্জা তারপর হাতুড়ী পেটা! তখন যশোরে একবার প্রতিবেদক এইটাও লেখছে ইসলামী জলাসায় লাঠি সোটা মজুদ রাখা হইছে কেন?
মনে মনে চিন্তাইলাম হাতুড়ি আইলো কই থিকা! পরে জানলাম এরা নাকি হাতুড়ী রাখে পিঠে। যাই হোউক, তারপর চট্টগ্রামেও গন্ডগোল, কিছুদিন পর সুলতান পন্নী নামক একজনের নাম ফলাও কইরা ছাপাইলো যে ব্যাটা এইটার ইমপ্লিমেন্ট করনের ট্রাই লইছে যদিও সে এই নাম ফ্রন্টে ইউজ করে না। অনেক নাকি আইবিএ ডিইউ বুয়েটের পুলাপান স্যার সহ জয়েন করতাছে।
২০০৫ সাল পর্যন্ত এই হাতুড়ী নিয়া কাহিনী মাঝে মধ্যে পাইলেও বাংলা ভাই নিয়া ব্যাপক গোলোযোগে তখন কিছু দিনের জন্য এরা ঠান্ডা থাকে। তখন হাতুড়ী কালচারও বাদ যায়। এরপর তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যখন এরা চালু করে তখন হাতুড়ি আর দেখি নাই। তবে এইটা ঠিক এগুলান দেশ জুইড়া ছড়াইতাছে কারন লুকাল বাসে উঠলেই দেখা যায় কিছু বেকার যুবক যাগো দেখলেই মনে হয় এরা খুব অর্থসংকটে আছে তারা বিক্রি করতাছে দজ্জালের বয়স নাকি ৩১৫ বছর! কেউ কেউ কিনে, কেউ কেউ কিনে না, তবে পুলাগুলারে যে এক্সপ্লয়েট করতাছে এইটাই তার প্রমান!
জঙ্গী নিয়া কিছু কথা:
টুইন টাওয়ারে যারা প্লেন এ্যাটাক করছে তাদের মধ্যে একজন জার্মান থিকা এ্যারোডাইনামিক্সে পড়াশুনা কইরা প্লেন চালানো শিখছে। আরো কয়েকজন সবই উচ্চশিক্ষিত। কোনো ক্রমিনাল রেকর্ড তো দূরের কথা, যেই এলাকায় থাকতো সেই এলাকা ভইরা তাগো নাম, ভালো পুলার মধ্যে আমেরিকান আইডল!
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নাসিরের নাম সবাই চেনে কিন্তু আমার এক বন্ধুর দেখা এক হত্যাকান্ডের কথা বলি....সকালে এক ছাত্রলীগ নেতা মনে হয় যারা তখন টপে ছিলো হয়তো চা খাইতে মুদির দোকানে যাচ্ছিলো। হঠাৎ ৪-৫ জন ছেলে আসলো উনার সাথে ভালোই কথা চালায় গেলো। হঠাৎ চারজন জোর করে চার হাত পা ধরলো- ছেলেটা কিছুই করতে পারছিলো না শুধু চিল্লাচিল্লি। পাশে দুয়েকজন স্যার মর্নিং ওয়াক করতে থামতেই বলা হলো," স্যার, এসব না দেখাটাই ভালো!"
ভয়ে সবাই চলে গেলো। তারপর বিসমিল্লাহ বলে গলায় ছুড়ি, তারপর পা আর হাতের মোটা রগগুলো কাটলো। কিছুক্ষন পর কাপতে কাপতে ছেলেটা মারা গেলো গোঙ্গানী দি্যে; ফিনকি দিয়ে রক্ত পড়লো। মরন কনফার্ম হওনের পর যে জবাই দিলো সে ওখানে জায়নামাজ বিছিয়ে ইমামতি করলো, ২ রাকাত নফল আদায় করলো!
বন্ধু যতটুকু বললো ওদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি, শুধু তার ৩-৪ দিন পর ছাত্রলীগ কতগুলার হাত পা ভেঙ্গে দিছে যার মধ্যে এক শিবির কর্মী মারা গেছে (ইন্নালিল্লাহ)। ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কেস হয়েছে যেগুলো পরে আর টেকেনি।
আমাদের ফরিদপুরে শিবিরের পোলাপান খুবই ভালো, এলাকার সব উচ্চশিক্ষিত পুলাপানদের মধ্যে বেশ কয়েকজন....কিন্তু আমি জানি এদের আসল লোকগুলোর খবর এরা কখনই জানে না, কেউ সাক্ষী দিবে কি, তারা যে কোনো এলাকার লোক কেউ চেনে না।
ইসলামী জঙ্গী আর নরমাল সন্ত্রাসীদের মধ্যে একটাই পার্থক্য: একদল আপনাকে ভাই বলে হাসিমুখে খুন করবে, আরেকজন যে আপনাকে খুব করবে সেটা আপনি আগেই জানবেন এবং এটাও জানবেন আপনি তাগো সাথে নিশ্চয়ই কোনো গন্ডগোল করছেন!
এখন কি খেয়াল করছেন, শিবিরে কোনো ক্যাডার নাই?
হিজবুতেরও নাই, খালি অন্য জঙ্গীদলের কিছু জঙ্গী মাদ্রাসার পোলাপন যারা অন্য এলাকায় মিছিল সমাবেশ করে!
রেফারেন্স দিতে পারলাম না, আমার স্মৃতি শক্তিটাই রেফারেন্স সো কেউ যদি প্রমান চান তাহলে আমি দিতেও পারবো না। কিন্তু যেহেতু আমি এগুলো জানি, সেহেতু মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আল্লাহর কাছে এক দোয়াই করবো এদের ধ্বংস হোক, কারন এরা হায়েনার চেয়েও খারাপ! এদের ব্যাপারে কোরআন শরীফে একটা আয়াতো আছে!
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৮:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



