হঠাৎ কারো ডাকে পিছে ফিরলাম। 'রনি ভাই, আপনার নাম রনি না?'
- তাই তো মনে হয়। নতুন আসছেন বোধ হয়?
- ভাই আমি এখানকার না, আমি সুমিত, আপনার কথা অনেক শুনেছি।
- আমি মনে হয় আপনাকে জীবনে প্রথম দেখলাম।
- (মিস্টি একটা হাসি দিয়ে) আপনার জন্য একটি প্যাকেট এনেছি।
- (অবাক হয়ে) আমার খোজ পেলেন কিভাবে?
- প্যাকেট দেখলেই বুঝতে পারবেন। আমি এখন যাই, একটু পর এয়ারপোর্ট যেতে হবে, দেশে ফিরছি!
বলেই ছেলেটা হাওয়া। এখানে বিস্ময় লাগার ঘোরটা কেটে যাচ্ছে। কোনোকিছুই প্লান মত হয় না। কেউ যদি বাশ খায় সে নিজেও জানবে না কখন কিভাবে বাশ খেল, কেউ যদি গাছে উঠে, সে কখনও বুঝবে না কখন কিভাবে গাছে উঠলো আর নামবার সিড়ি আদৌ নীচে আছে কি না!
ধরা যাক, পরীক্ষাটা খুব ভালো দিলাম, নিশ্চয়ই এই কোর্সটায় ৮০% আশা করতে পারি। কিন্তু দেখা গেলো ল্যাব মেট জানালো,' ভাই, একখান সর্বনাশ হইছে, পাইক্যা শালায় ল্যাবে ফেল করায় দিছে, অখন সামারে এক্সাম দিতে হবে। ব্যাটা কাল রাত দশটায় মেইলে করছে!'
অথবা দেখা গেলো সারা রাত বারে কাজ করে জানতে পারলাম যে কাজে ঢুকার লগ বুকটা পাওয়া যাচ্ছে না। রাতে কোনো এক মাতাল নাকি ওটা নিয়ে ভেগেছে। তাই ম্যানেজার রাতের টাকা দিতে পারবে না। বলবেও খুব হাসি মুখে হাতে এখটা সোডা আর ম্যাক বার্গার ধরিয়ে!
অথবা লাস্ট প্রেজেন্টেশনের সময় জাইলগ প্রসেসরটা ফেল করায় পুরো ড্রল কন্ট্রোলটা দেখাতে পারলাম না বলে পুরো প্যানেল শুধু একটা মেইল করলো,' তোমাকে আগামীবার আরেকটা নতুন প্রজেক্ট করে দেখাতে হবে। নতুন সময় নেক্সট ইয়ার জানানো হবে!' এখন ওরে কেমনে বুঝাই জাইলগ প্রসেসরটার ওয়ারেন্টি শেষ!
তাই মোবাইল টিপে শিউর হলাম এপ্রিল কবে শুরু হবে, যাই হোক, হাতে সময় আছে দেখে একটা ফাকা রুমের খোজে বেরুলাম। চারিদিকে বরফগুলো গলতে শুরু করছে। এই দৃশ্যটা মোটেও সুন্দর না, কারন সাদার মাঝে কালো মাটির দাগ অনেকটা কলন্কের মতো লাগছে। সব যেনো নোংরা নোংরা!
যাই হোক, প্যাকেট টা বেশ ভারী, তবুও খুলতে গিয়ে মনে হলো কোথা থেকে আসতে পারে, আর কিভাবেই বা পেলো আমার ঠিকানা এই ছেলেটা। প্যাকেট খুলতেই চোখটা ছানাবড়া, আমার হারিয়ে যাওয়া পাবলো নেরুদার বইটা। হারিয়েছিলাম বললে ভুল হবে, ট্রেন স্টেশনে দেখা হওয়া মিতা বইটি নিয়েছিলো একটু পড়বার জন্য। আমি তো ট্রেনে উঠেই ঘুম, কোথায় আমার পাশে বসা ওর সাথে কথা বলবো তা না, না ডেকে ঘুম। ঘুম থেলে উঠে দেখি আমি আমার শহরে। বইটায় আমার নাম আর ঠিকানা লেখা ছিলো। আমার আর আমার বোনের ছবিও ছিলো। ছবিটা ছিলো ১৭৪ নম্বর পৃষ্ঠায়, ওখানেই আছে। বইয়ের সাথে একটা চিরকুট যেখানে লেখা: 'এত সুন্দর কবিতার বই সাথে করে যে ঘুরে বেড়ায় তাকে কি এভাবে উদাসীন মানায়?'
ওর কোনো ঠিকানা নেই আমার কাছে, নেই ফোন নম্বর, যেই ছেলেটি প্যাকেট টি দিয়ে চলে গেলো সে এতক্ষনে শহর থেকে লাপাত্তা! ফেসবুক, নেটলোড, ওরকুট তন্ন তন্ন করে খুজলাম, হাওয়া!
ওলসিটির ফায়ার ফ্লাইস গান টা শুনে মনে হচ্ছে আসলেই কিছু একটা মিস করলাম, হতে পারতো সেটা জোনাকী পোকার গান, অথবা সাগরে ঢেউয়ের গভীর কলতান, অথবা আকাশ ছুবার সেই কাঙ্খিত অনুভূতি!
ড্যাম ইট!
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুলাই, ২০১৮ ভোর ৪:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



