somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উদাসী স্বপ্নরে নিয়া মুখোরোচক গল্প!

০৫ ই এপ্রিল, ২০১০ ভোর ৪:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আসলে মুখোরোচক জিনিসটা কি, সেইটা নিয়া কথা বলি আগে।

রাস্তা দইয়া বৈকাল বেলা হাটতে হাটতে হঠাৎ উদ্দীস হইলো হিস্যু ধরছে। তখনই মনে আনমনে বইলা বসলাম,'শিট ম্যান, বাসা থিকা কেনো করলাম না!' যাই হোউক দেশ আমার ব্যাপক স্বাধীন, ইহা এতই স্বাধীন যে চোর চোট্টারা পর্যন্ত ক্ষমতায় গিয়ে চুরি করে, আর আমি তো এক নাদান। তাই রাস্তায় খাড়াইয়া ওয়ালের সামনে ওয়াসার লাইনের মতো কাজ সারলাম। কাজ শেষ, মনে ব্যাপক শান্তি, পকেটে কয়টা কয়েন আছে। চানাচুর আলাকে পাইয়া ২ টাকার চানাচুর নিলাম যদিও চানাচুর আলা ৫ টাকা চাইয়া বেশ কিছুক্ষন কাউ কাউ করলো। কিন্তু লাভ নাই। খালেদা জিয়া আগামী ৫ বছর টানা কাউ কাউ কইরা যেইখানে কিছু করতে পারবো না সেইখানে তো এই চানাচুর আলা! তবে মুখোরোচক খাবারের সংজ্ঞা কিন্তু পাইয়া গেছি!

এখন আসি গল্পে। আসলে ঐ দিন ঐ হিস্যু ঘটিত কাহিনী টা ছিলো সংসদ ভবনে এক আড্ডা দিতে গেছিলাম আর কি। ঐ দিন ঐ আড্ডায় যোগ দিছিলো আমাগো হিমিটি, মোল্লা আর মন্ডল (ইন্দ্রজিৎ মন্ডল)।
ইহারা বেশ বড় বড় ইন্জ্ঞিনিয়ার হইলেও কথা বা চাপাবাজীর দিক দিয়া আমি অবশ্য আগাইয়া থাকতাম। এখন তো হাতে নাতে পাইলেন মুখোরোচক গল্পের সংজ্ঞা!

ইন্দ্র: ও রনি, বিয়া শাদী করবা না?
আমি: কেডা কয় করুম না? পুরুষ হইয়া পয়দা হইছি বিয়া তো একখান করতে হইবোই, তয় সব প্যাচ লাগাইছে ঐ ব্যাটা জ্যোতিষ!
ইন্দ্র: কেন? জ্যোতিষ ব্যাটা কি করলো?
আমি: ব্যাটা আমার হাত দেইখা বলে আমার নাকি প্রথম সন্তান ছেলে হবে। আমি তো তখন ধইরাই নিছিলাম ওরা লেখা পড়া না করাইয়া এলাকার জীমে ব্যায়াম করাইয়া এলাকার বিল্ডার বানামু। মাগার তারপর সেই জ্যোতিষী একখান ভ্যাটকি দিয়া কইলো আমার হাতে নাকি বিবাহের দাগ নাই। এইটা শুইনা টাস্কি খাইলাম। কইলো ডাম্বেল কম মারতে, যদি হাতে দাগ গুলান ফিরা আসে!
ইন্দ্র: তাইলে এইটা তো বড় সমস্যার কথা!
হিমিটি: মন্ডল, তুমার সমস্যা কি? তুমি করতেছো না কেনো?
ইন্দ্র: আমি কি আর সাধে করি না? উপযুক্ত শালীকা নির্বাচনে সমস্যা হইতেছে!
হিমিটি: বুঝলাম না।
ইন্দ্র: বুঝলানা? তুমরা বিবাহ করলে সুন্দর একখান শালীকা থাকবে, যার সাথে আমার একটু লাইন ঘাট হয়, কিন্তু আজ পর্যন্ত যে কয়জন বিবাহ করলো সবারই দেখলাম আন্ডার ফাইভ (ক্লাস ফাইভ)।
হিমিটি আর আমি হাসতে হাসতে গড়া গড়ি খাই!

আসলেই আমাকে নিয়া গল্পের অন্ত নাই। একদইন সকাল বেলা হঠাৎ একজন ফোন করে বলে,' এই তুমি নাকি বিয়ে করছো? মেয়ে নাকি বুয়েটের?'
: কও কি? মাইয়াটার নাম জানো?
: শয়তানি করো না! তুমার বন্ধু এই মাত্র আমাকে জানালো। মিরপুর ১১ নম্বর কমিউনিটি সেন্টারে নাকি অনুষ্ঠান করছো?
: লে হালুয়া! নিজের বিয়ার দাওয়াত নিজেই পাইলাম না, বুয়েটের কুন মাইয়াটার লগে বিয়া হইলো সেইটাও জানলাম না! কপাল ভালো কও নাই, আমার বিবাহের আগেই বাচ্চা কাচ্চা হইয়া গেছে!
: কথা ঘুরাইও না, তোমাকে দিয়া সবই সম্ভব............ব্লা ব্লা ব্লা!

এই দেশে আইসা সবচেয়ে বেশী সমস্যায় পড়ছি মুজার গন্ধ নিয়া। আমার মুজার গন্ধ নাকি আশে পাশে দুইরুমেও নাকি ছড়ায়! অখন জুতা আমার দুই জোড়া, অ্লটার কইরা পইড়াও কুলায় উঠতে পারি না। তাই অখন আমি কি করলাম কি পড়লাম সেইটার দিকে খেয়াল করি না, কারন খেয়াল করলেই ধরা। ধরা খামু না কেন, সেইদিন ট্রেনে একখান জানালার সামনে সীট নিয়া বসলাম। হঠাৎ সামনে আইসা মুখোমুখি বসলো একখান সুন্দরী, হাতে ফিজিক্সের একটা বই!
: এই বইটা কি টেক্সট নাকি জানার জন্য পড়া হচ্ছে?
: টেক্সট বই, আজকে একটা টিউটোরিয়াল আছে!
: কিসের উপর?
: থার্মোডিনামিক্স!
: ভালোই তো!'
: একটা কথা বলবো মাইন্ড করবেন না তো?
: নো, ক্যারি অন!
: আপনার জীপারটা খোলা

বলেই মুখের সামনে বইটা ধরে বসলো। আমি জানালার দিকে তাকয়ে নিজের উপর মেজাজ বিগড়াতে বিগড়াতে চেন লাগালাম। প্যান্টের জীপার, মুজার গন্ধ, এক শার্ট ৩ সপ্তাহ, এক প্যান্ট তিন মাস এতো কিছু চিন্তা করতে গেলে পড়ুম কখন? এখন আমার পড়ালেখাটাই সিরিয়ার প্রায়োরিটি, তারপর কাজ।

তাহলে ব্লগিং এর কি হবে? হুমমমমম...ব্লগিংটা কখনোই সিরিয়াসলি নেই নাই, এইটা অবসর কাটানোর জন্যই। মাসের পর মাস ব্লগ করিনি, তাতে কি হইছে, কিছুই হয়নি! এখানে আমি স্টার না, কোনো কেস্টুবিস্টুও না, আসি একটা অন্যরকম আড্ডা দিতে। আড্ডা বাজী যেমন আমি সিরিয়াসলি নেই নি, ব্লগেও না!

তয় ভাই, জীবনে আমি খুব বেশী ভালো কাজ করিনি, যেমন ধরেন সিএসবি নামের একটা নিউজ চ্যানেলে যখন চাকরি পাইলাম তখন জানতাম না আসলে এইটার মালিক কে! তখন তো খালি এক ধান্ধা, সোন্দর সোন্দর মাইয়াগো লগে ফিটিং দেওন যাইবো, মিডিয়া জগৎে ইন্টু করন যাইবো। যখন দেখি এই কোম্পানীর মালিক সাকা চৌ তখন মনে হইলো, মান সম্মান সব বুড়িগঙ্গার জলে ধুইয়া গেলো।

ব্লগে কে জানি বললো, আমি নাকি কার ভয়ে দেশ ছাড়ছি, শুইনা হাসতে হাসতে নাই!

অনেকবার বলছি আবারও কই আমি কি জন্য দেশ ছাড়ছি?

১) আকাশ ছুইতে হবে, কেমনে জানি না, তয় ছুইতে হবে!
২) টাইম মেশিন বানাইতে হবে, অতীতে গিয়া একজনের চোখের উপর চোখ রাইখা তারে কিছু বলতে হবে আর খুজতে হবে আমার গুরু গুজরান খা!
৩) আমার দেশটা ভয়ন্কর সুন্দর, এরকম সুন্দর একটা দেশে এক ভয়ন্কর সুন্দর একজনকে বেশ কস্ট দিয়েছি, কস্টও পেয়েছি। সব মিলিয়ে পুরোটাই অভিশাপের মতো লাগছিলো। প্রতিটা অলিগলি যেনো আমার ভুলের কারনে বারংবার অভিসম্পাৎ জানাতো। সে এক অসহ্য এক যন্ত্রনা। এর থেকে মুক্তি!

তবে কারো ভয়ে দেশ ছাড়িনি, কারন ভয় কাকে পাবো? পাড়ার নেতারা: প্রশ্নই আসে না, কারন তাদের অনেকেরই সাথে আমার পরিচিত লোকজনের উঠা বসা। অন্য পাড়ার কেস্টুবিস্টুরাও হাত দেবে না, কারন ৩-৪ বছরের চাকুরী জীবনে আর কিছু পারি না পারি, পলিটিক্যাল কিছু কানেকশন তো আছেই, আর একটা লেভেল থেকে পড়া লেখা করার সুবাদে দেখা যায় আর্মি র‌্যাব, পুলিশ সবখানেই আর সবার মতো পরিচিত আছেই। তাহলে কার ভয়ে দেশ ছাড়বো সেটাই বুঝলাম না!

এটা ঠিক, আমি কোনো কিছুই সিরিয়াসলি নেইনি, কেন নেই নি শুধু একটা কারন। কারনটা হলো আমি আমার অধিকার নিজ হাতে আদায় করতে পছন্দ করি, এই হাত দুটোর উপর আমার অনেক আস্হা!
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই এপ্রিল, ২০১০ ভোর ৪:০৫
২৪টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×