: কিরে কি করস?
: তারা গুনি!
: ঐ বেটা অখনতো তগোগো ঐখানে দিন তারা গুনস কেমনে? কুনোদিন সোজা উত্তর দিলি না। একখান জরুরী কথা আছে, তুই কি বিজি না ফ্রি আছোস অখন?
: আমি অলটাইম ফ্রী, পড়ালেখা করি ফ্রি, থাকি ফ্রি খাই ফ্রি সবই ফ্রি! তয় অখনো বাস ভাড়া ফ্রি হয় নাই!
: ফেদলা রাখ, কামের কথা শোন, ইংল্যান্ডে আর পুষায়, সামনে ভবিষ্যত আন্ধার। কি করন যায় বলতো?
: টর্চ লাইট কেন, রিবক না কি বক জানি আছে ভালা কোম্পানী, জুতার লগে টর্চ লাইট ফ্রি, ওরকম একখান কিন। দেখবি ভবিষ্যতে যেইখানে পাও ফেলবি সেইখানে রোশনাই!
: ধুর, এইখানে অখন ফিউচার নাই। ব্যাটারা নতুন আইন করতাছে, বাইরের কাউরে নিতে গেলে সরকাররে লেটার দিয়া কইতো হইবো যে এই দেশে এইটার উপর কোনো এক্সপার্ট নাই। পুরা বাশ দিয়া দিছে!
: সমস্যা কি? হাতে কাম তো আছে, ঐ টাকা দিয়া দেশে চইলা যা। তারপর বিয়া কর, তারপর শ্বশুড়ের মাথায় কাঠাল ভাং। শালী থাকলে আমার লিগা ফিট কর, পরে আমি দেশে আইসা তোর শ্বশুড়ের মাথায় জামাতের স হিত কাঠাল ভাঙ্গুম!
: বুদ্ধি ভালা কইছোস! কিন্তু বয়স যেমনে বাড়তাছে কবে দেশে যামু কবে বিয়া করমু! নিজেরো তো একটা চাহিদা আছে!
: সমস্যা কি, নেটতো আছেই। সব ফ্রী, কুন সাইটে কি দেখতে চাস বল!
: ধুর শালা, স্পেনের কাহিনী ক!
: ও আচ্ছা, স্পেনে পরিচিত কেউ থাকলে একখান নাম্বর ট্যাক্স অফিসে নিয়া রাখ। ঐ পরিচিত তোরে খালি একখান পারমানেন্ট ঠিকানা দিবো। ২ বছর পর দেখবি ওয়ার্ক পারমিট পাবি দুই বছরের। তুই ইউরোপের যেইখানে থাকস খালি জায়গা মতো ট্যাক্স দিবি। তার আরও দুই বছর পর রেসেডেন্সি।
: হুমমম...এর চেয়ে সোজা কোনো ওয়ে নাই?
: আছে, ডেনমার্ক। কাম মাইয়া দুইটাই পাবি। তয় আগে পাশ করতে হইবো!
: বুদ্ধিটা খারাপ দেস নাই।
: কিন্তু একখান জিনিস বুঝলাম না, মাইয়ার লিগা ডেনমার্ক কিল্লা, ইচ্ছা করলে ঐখান থিকাও তো দেশী পাইতে পারোস!
: আরে সমস্যা, এই কেসে পুরা ৫ বছর। ৫বছর একটার লগে থাকা মানে পুরা লাইফ শেষ, তুই কখনো চিন্তা করতে পারছোস একটার লগে থাকনের?
: খাইছে মামো, তুমি দেখি প্লেয়ার হইয়া গেছো। তা খাইলা কয়টা!
: অখনো খাই নাই, ইমোশনাল স্টেজ পার করতে পারি নাই। ঐ স্টেজ পার করলে দেখবি পুরা ইউরোপে নাম ছড়ায় যাইবো!
: হ, সেই দিনের অপেক্ষায় আছি, তয় ততদিনে আমার মাইয়া বড় হইয়া গেলে তার লগে আবার টাংকি মারিস না!
: তোর তো ভালা অবস্হা, ভালো সাবজেক্ট, ভালো ভার্সিটি, আর লাগে কি? আর কোনোখানে না হইলেও মিডল ঈস্টে তো রমরমা!
: হ তরে কইছে! রিসেশন অখন ঐখানে বেশী। যেগুলান আছে ঐগুলানের কাম নাই, চাকরি যখন তখন যায়যায়, দেখা গেলো চাকরি আছে মাগার কোম্পানী দেউলিয়া। বড় বড় দালান কোঠা মাগার ট্যুরিস্ট নাই, তাই সব ডাউন, কুনো চাকরী নাই!
: আরে ধুর, ২০১১ তে দেখবি সব ঠিক!
: হ শালার ২০০৯ সালে কইছিলো ২০১০ এর শেষের দিক, অহন আবার গ্রীসরে দেইখা কয় ২০১১, তখন দেখা যাইবো সুইডেন বা পোল্যান্ডরে দেইখা কইবো ২০১২। জানোতো অখন সিরিয়ালে সুইডেন আর পোল্যান্ড আছে ব্যাংক রাপ্টির দিক দিয়া!
: সমস্যা, কি করন যায়?
: দেশে ফিরা চল। তুই একখান মালদার দেইখা বিয়া কর, আমি তোর শালীর পিছে আছি। তারপর তোর শ্বশুড়ের মাথা কাঠাল ভাঙ্গি! প্রজেক্ট এর নাম হইবো কাঠাল ভাঙ্গো কর্মযূচী!
: হ, আছো তো মৌজে, তালি দিলেই বাজে! নতুন কোনো নিউজ থাকলে জানাবি কিন্তু!
: হ, আমি তো তোমার নিউজ প্রেজেন্টার কাজী মহুয়ার চাকরী লইছি!
: দুস্ত, মাইয়াটা কিন্তু খারাপ না!
: হে হে হে, তুমার তো মামা রক্ত মাথায় উঠছে, লাস্ট পার্টিত দিছিলা কবে?
: গতকাইল।
: কও কি? বোতল কি অখনো শেষ হয় নাই?
: না অখনো চাইর পাচটা ভোদকা আর হুইস্কী রুমে আছে!
: নাউজুবিল্লাহ!তুমারে জমজমের পানিত গোসল করানো উচিত!
: ভালো কথা মনে করছোস রে, বাপেরে ফোন দিতে হইবো, ওমরা করবো নাকি সামনে, তখন সে ইংল্যান্ড ঘুইরা যাইতে চায়!
: ভালো খবর তো, আন্কেলরে কইস প্লেন থিকা যাতে দুইটা খেজুর ফিক্কা মারে, অনেকদিন খোরমা খেজুর খাই না।
: ধুর ব্যাটা, হেয় যাতে না আহে সেই ধান্ধা করতাছি। আমার খালাতো তো বার বার ঠেলে তেনারে ঠেকা, কখন কুন অবস্হায় দেখে সর্বনাশ হইয়া যাইবো!
: সত্যি কইরা কও তো, তুমরা দুই খালতো তে করতাছো কি?
: কেন ফেস বুকে দেখো না?
: আমার ফেসবুক এ্যাকাউন্ট নাই, কি আছে ঐখানে?
: মামা, তুমি আইসা পড়ো, একবার দেখলে সারাজীবন মিস করবা!
: দুস্ত কাইল আমার পরীক্ষা, আমারে ক্ষমা দাও!
: ওক্কে!
আসলে বাইরে আর সুখ নাই। সুখ বলতে আগের মতো আর রমরমা নাই। নরওয়ে, বেলজিয়াম, ইটালি, ফ্রান্স কোনো জায়গাতেই লাক নাই। অনেকে আসছে যারা ফ্রান্সে 'পাসপোর্ট বাড়ি' দিছে। এখানে এ্যাসাইলামের ফলস কেস করাকে 'পাসপোর্ট বাড়ি' দেয়াই বলে। ৩ বছর সময় নেয় ফ্রান্স ডিসিশন জানাতে। এই তিনবছরে কেউ ওয়ার্ক পারমিট পায় কেউ পায় না, তবে মাসে মাসে ৩০০ ইউরো মনে হয়, পাওয়া যায়। তখন মানুষ ভাষা না জানার কারনে ছোটখাটো জব করে। ডেনমার্কে কিছু জব আছে। সুইডেনের স্টক হোমে কিছু জবের অপশন তাহাকা সত্বেও এখন এত লোক সুইডেনে আসছে যে জব নাই হয়ে গেছে। সেখানে শুভ্রর মতো ছেলে কিন্তু ব্যাতিক্রম। ডেনমার্কে অবশ্য কিছু জব আছে। তবে এসব কিছু নিজে দেখেছি, কিছু শুনেছি। কতটা সত্য তেমন জানি না। শুধু এটা জানি পাশ করতে হবে, পাশ করবার পর কি হবে সেটা জানি না। অবশ্য আমি এটাও জানতাম না নিজের কাছ এত টাকা হবে যে ইউরোপে আসতে পারবো, আবার এটাও জানতাম না যে যেদিন টাকা গুলো শেষ হয়ে গেলো সেদিনের পর আমি কিভাবে থাকবো, খাবো!
সময় চলে যায়, আমিও বেচে আছি, সবাই বেচে আছে। কেউ দেশে লাখ লাখ টাকা পাঠায় প্রতিমাসে কেউ দেশ থেকে গাট্টি ভরে টাকা আনে। কেউ লেকের পাড়ে বসে আরামে বীয়ারের ক্যান শেষ করে, আবার কেউ সেই বীয়ারের ক্যান কুড়িয়ে লাইফ লিড করে। তবে বেচে আছে সবাই, কেউ মারা যায় নাই। সফলতার হার কেমন খুজে পাই নি এখনো, তবুও এখনো মনে হয় আল্লাহ যখন এই পর্যন্ত আছে, সামনে নিশ্চয়ই ভালো কিছু থাকবে, কারন এখানে একটা সিস্টেম আছে যা সবার জন্য সমান। কিন্তু আমাদের দেশে সিস্টেম নাই, তাই কোনো স্বপ্ন নাই। খালি সুন্দর একটা দেশ দিন দিন তার সৌন্দর্য্য হারাচ্ছে কুৎসিত মানুষের হাতে!
আমরা কেউ ঠেকাতেও পারি না, পারি শুধু আজাইরা তর্ক করতে আর বোলগাইতে!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



