: বস, কি হইছে? এত বিষন্ন কেন? ভাবীর কথা মনে পড়ছে?
: কে কইলো মন খারাপ? খু-উ-ব ভালো আছি।
: বস, আজকে খুব বাবার কথা মনে পড়ছে। ১ মাস ধরে ফোন দেই না বাসায়। ঈদের দিন কথা বলার পর মাথাটা আউট!
: মিয়া, আপনে আসলেই একটা পাবলিক, বাপের লগে কেউ এমন করে? এইসব বাদ দেন, নাইলে পরে আমার মতো পস্তাইবেন।
এই বলে মুখটা আরেকদিকে ঘুরিয়ে নিলো। গতকাল থেকেই উনাকে বেশ আনমনা লাগছে। আমি এখানে কাজ শুরু করেছি কিছু দিন হলো, কিন্তু মানুষগুলোর সাথে একটা মায়ায় আটকে গেছি!
: বস, বাপের কথা মনে পড়ছে?
: কইতে পারি না ভাই, মাথাটা আউলায়া আছে। ছোটকালের কথা মনে পড়তাছে। বাপের লগে কথা বলা ছাড়ছিলাম যহন আরেকটা বিয়া করল। আমার মা আমার ছোট বোইনেরে জন্ম দেওনের সময়ই মারা যায়। কি করবো তখন? তাই একটা বিয়া কইরা আনে। বাপে কুনোদিন আমারে কোনো কিছুর অভাব বুঝতে দেয় নাই, যখন টাকার দরকার হইতো তখন কারো কাছে কিছু চাইতে হয় নাই। কিন্তু........
: কি করবেন বস, কিছুই করনের নাই। যে যায় সে তখন দুনিয়ার হিসাব সব ক্লোজ কইরা যায়, আর দুনিয়ার লোক তখন তার সাথে এক নতুন সম্পর্ক গড়ে।
: আমার বাপে যেইদিন স্ট্রোক করলো, সেইদিনই তারে ইন্ডিয়া নিয়া গেলাম, এইটা ৯৬ এর কথা! নিয়া গেলাম কোলকাতায়, ডা্ক্তার চেক কইরা কইলো ওপেন হার্ট সার্জারী করাইতে হইবো। বাপে রাজী হয় না। কইলো দেশ থিকা ঘুইরা আইবো ২ দিনের লিগা, ডাক্তারের কাছ থিকা ছুটি নিতে। ডাক্তাররে কইতেই রাজী হইয়া গেলো।
: কি কন, সেই বাপরে নিয়া সত্যি দেশে গেলেন?
: কি করুম, বাপে তো অপারেশন থিয়েটারে যাইতে চায় না। আমি দেশে ফোন দিয়া সবাইরে জানাইলাম, মুরুব্বীরা আর সৎ মা কইলো নিয়া আসতে। নিয়া আসলাম, কিন্তু আইসা দেখি আরেক ভ্যাজাল।
: কি, আর যাইতে চায় না?
: হ, দুইদিন পর একদিন সকাল বেলা আমারে ডাইকা পায়ে হাত দিয়া কয়,' আমারে বৌ না দেখাইয়া বিদায় দিস না।' আমার মাথাটা কেমুন ঝিম ধইরা রইলো।
: তো, বিয়ে কি সেই রাতেই করলেন?
: আর কি করুম, বিয়ার আগে আপনের ভাবীরে এক পলকও দেখি নাই। সন্ধায় ঐ দিকের কয়েকজন আসলো, তারা শুধু কইলো আমার কোনো কথা আছে কিনা। আমি খালি কইলাম,' আমার বাবা খুশি হইলেই খুশি। যদি কাজটা দ্রুত হয় তাইলে কালকা সকালেই ইন্ডিয়ায় রওনা হই!'
: আপনার সেই পারুল, যাকে ছোটবেলায় ভালোবাসতেন সে কিছু বলেনি?
: না, তার সাথে আর দেখা হয়নি। জানেন যেদিন পারুলের বিয়া হয় সেদিন বাবা আমার হাত ধইরা কয়,' যদি তুই কিছু করস, তাইলে আমি বিষ খামু।' আমি সেইদিন জীবনে প্রথম মদ খাই সারা রাত!
: এই ভ্যাজালে জড়াইলেন কেমনে?
: আমার বাপের অপারেশন শেষে চইলা আসি। এলাকার প্রভাব প্রতিপত্তিু থাকার কারনে আর পলিটিক্সের সাথে জড়িত থাকার কারনে অনেক লোকের সাথেই মিলামিশা থাকতো। একবার খালি আব্বা কইছিলো,' এইসব ছাড়, বিএনপিতে যোগ দে।' তখন বিএনপি ক্ষমতায়। তার কথা শুনিনি। বন্ধুর সাথে সব কিছুই করতাম, যেকোনো প্রবলেমে সাথে থাকতাম।একদিন ওরা ঠিক করলো এলাকার একটাকে সাইজ করতে। ঘটনার দিন শুনি যারে সাইজ করবো তারে গুলি করতে গিয়া এলাকার এমপিরে শেষ কইরা দিলো। যে মামলার বাদী সে ৩০ জনরে আসামী করলো। তার মধ্যে আমার নামও ঢুকায় দিলো। শেখ হাসিনারে গ্রেনেড মারছে, সারা বাংলাদেশ জ্বলে নাই, কিবরিয়ারে খুন করছে তখন খালি সিলেট ছাড়া আর কোথাও কিছু হয় নাই, কিন্তু আমাগো এই ঘটনার লিগা সারা বাংলাদেশের প্রতিটা থানায় আগুন জ্বলছে। আমি তখন জানটা হাতে নিয়া ভারতে পলাই টানা দুবছর।
: ইউরোপে কেমনে জুটলেন?
: উচ্চ আদালত নিম্ন আদালতে দুটাতেই যখন ফাসির রায় হয় তখন আমি দিনাজপুরে এক বন্ধুর বাসায় তাস খেলতেছিলাম। প্রথমে জানাইলো আমার চাচা শ্বশুড়। আমি হু হা কইরা ফোনটা রাইখা দিলাম। কিসের এতো টেনশন! তাস খেলার মধ্যে ডিস্টার্ব। ফোন বন্ধ করতে যামু যখন তখন বাপে ফোন দিলো। খালি কইলো," এইটা কি হইলো? এমনতো হওনের কথা আছিলো না। এখন কি করমু তোরে নিয়া, তোরে কই লুকামু? বুকের মধ্যেও তোরে লুকাইতে পারুম না" এইটা বইলা কাইন্দা দিলো।
তখন আর নিজের কান্না আটকাইতে পারি নাই, তাস গুলা ফেলাইয়া সোজা ছাদে গিয়া অনেকক্ষন কানলাম।
: তারপর?
: তার বছর খানি পর তখন আমি আবার বাংলাদেশে, ফলস পাসপোর্ট উঠাইয়া ইটালি আসনের চেস্টা করতাছিলাম। আমি তখন লীগের এক এমপির মৌচাকের বাসায় গা ঢাকা দিছিলাম। বাবার সাথে রাত ১০ টার দিকে প্রায় এক ঘন্টা কথা বললাম। কেমনে যামু, কি করমু এই সব আরকি। একটু ঘুম দিছি রাট দুটার দিকে বৌ এর ফোন। 'বাবা কেমন যেনো করছে, কিছু বলতে পারছে না মুখ দিয়ে, শুধু বুকে হাত দিয়ে শুয়ে আছে।' আমি তখন ওদেরকে বারডেমে নিয়ে যেতে বললাম। ফোন দিয়েই ওখানে সীট বুকিং দিয়ে ফেললাম। বাবা মারা যায় ভোর সাতটায়। ৬টার দিকে শেষবার বাবা দেখতে চেয়েছিলো। আমি শিশুপার্কে গেটের সামনে গাড়িতে। বাবার আশে পাশে নাকি ডিবির লোক ভরে গেছে। ঠিক করলাম বাবার লাশটা যখন বেরিয়ে যাবে তখন আইইবির সামনে একটু থামবে। কিন্তু যখন গাড়িটা আইইবির সামনেও থামলো না, আমি খালি আমার গাড়ির ডোরটা খুলে দৌড়াতে শুরু করলাম। আমার ভাইগ্না শুধু আমাকে ধরে রাস্তায় বসে থাকে। রনি ভাই, আমি কইতে পারুম না তখন মনে হইলো আমার বুকটা ফাইটা যাইতাছে!
এই কথাগুলো যখন সে বলছইলো তখন তার চোখ দিয়ে পানি ঝরছিলো। হাত দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে বললো,' আজকে আমার বাবা মৃত্যুবার্ষিকী।'
তার কাধে হাত রাখি। নিজের কথা ভাবতে থাকি। না তার চেয়ে আমি অনেক সুখি। অন্তত আমার ফাসির অর্ডার হয় নাই দেশে। চাকরি বাকরি ভালোই করছিলাম, টাকা পয়সাও বেশ কিছু জমেছিলো।কেনো যেনো বাসায় সবার সাথে আমার যোগাযোগটা কমছিলো দিন দিন। কারন আমার মন আমার মাঝে ছিলো না। মুক্তি চাইছিলাম সবার এতো ভালোবাসা এত মায়া মমতা থেকে। এত ভালোবাসা পাবার যোগ্য আমি নই।
স্বপ্নের ঘর বানাতে চেয়েছিলাম, যখন পারলাম না তখন মনে হলো পালিয়ে বেড়াই, পালাতে চাই এই চেনা জগৎ থেকে! কিন্তু পালাবো কোথায়? চারিদিকে এত ভালোবাসা মায়া হয়ে আমাকে আষ্টেপৃষ্টে ধরতে চাইতো প্রতিটা ক্ষন!
তাই একদিন বাবাকে জানালাম, একটা অফার আছে হাইয়ার এডুকেশনের, যেতে চাচ্ছি। বাবা হাসিমুখে বললো শুধু,' ওখানে কিভাবে চলবা, কি করবা এসব কিছু ঠিক করছো?' আমি বললাম,'ভেবো না, আমি গুছিয়ে নিতে পারবো।'
একটু পর যখন বাবা মাকে রুমে গিয়ে বললো, তখন মার কান্নার রোল শুনতে পেলাম।আজো মনে পড়ে মা সেদিন রাতে শুধু কেদেই কাটিয়েছে! সবকিছু যখন গুছিয়ে নিচ্ছিলাম, তখন নানু আমাকে একদিন ডেকে বুকের মধ্যে টেনে নিলেন। বললেন,' কেনরে তুই যাবি? মা বাবার একমাত্র পোলা তুই, কই একটা বিয়া শাদি করবি তানা, বিদেশ যাবি! তোর বিদেশ যাওনের দরকার নাই। তোর কি দুঃখ আমারে খুইলা বল!'
না, বলিনি কিছুই। শুধু হেসে বলেছিলাম,'নানু, আমি দ্রুত ফিরে আসবো, খালি আমার মা বাবা আর বোনটাকে দেখে রেখো। আর নিজের খেয়াল রেখো কারন আমার বিয়েতে তোমাকে গান গাইতে হবে।' কেন জানি না, এটা বলে আমি নিজেই কেদে ফেললাম নানুর সাথে! ও গড!
যেদিন ফ্লাইট সেদিন কিভাবে জেনে জানতে পেরেছিলো বাবা যে আমি মাত্র ১৩০০ ডলার নিয়ে দেশ ছাড়ছি। কারন আমার ব্যাংকের এ্যাকাউন্ট, ডেবিট কার্ডস, ক্রেডিট কার্ডস, প্লাস শেয়ারের সব হিসাব তিনি রাখতেন। কত টাকা কোথায় লাগিয়েছি সেসবও জানতেন। কাউকে বলিনি, কিন্তু যখন বাসায় আসি জিপি থেকে রিলিজ লেটার নিয়ে আর অল্প কিছু ডলার নিয়ে, তখন বোনটা আমাকে টাকার কতগুলো বান্ডিল দিয়ে বলে,' বাবা তোমাকে এটা নিতে বলেছে।' আমি যখন ওগুলো নিয়ে বাবার রুমের দিকে যাচ্ছিলাম তখন মামা আটকে বললো,' তোর বাবা তোর মায়ের গহনা বন্ধক দিয়ে এই টাকাগুলো আনছে, তুই কি নিবি না?'
মাথায় রক্তটা চড়ে গেলো। বললাম আমার সাথে যেনো আমার বাবা যেনো না যায় এয়ারপোর্টে। মা আমার জন্য আমার প্রিয় বৌউয়া, মুরগীর ভূনা ঝোল, ইলিশ মাছের পাতুড়ি রেধে ছিলো। আমি কিছুই খাই নি। বাসা থেকে যখন বের হই তখন বাবা অন্যদিকে তাকিয়ে বলতে শুনলাম,' আমার ছেলে বড় হয়ে গেছে। ভালো মন্দ বুঝতে শিখছে। যাও যাইতাছে যখন, কখনোই তোমারে কোনো ব্যাপারে আটকাবো না বইলাই ভাবছিলাম। খালি তোমার মার কথা খেয়াল রাইখা একটু ফোন টোন দিও, আর যদি কখনো মনে হয় বাসা থেকে টাকা নিতে তোমার কোনো সমস্যা না হয়, খালি জানাইয়ো!'
কথাটা শুনে আমি বলেছিলাম,' আমি কখনোই বলিনি যে তোমার টাকা নেবো না, কিন্তু যুদ্ধটা আমার একার, তুমি কেনো মার গহনা বন্ধক রাখবে?'
: তুমি তো জানো আমার হাতে কোনো ক্যাশ টাকা থাকে না, আর তুমি যে এত অল্প টাকা নিয়া যাইতাছো এটাও তো জানাও নাই। তোমারে কে বলছিলো এসব লোন ফোন শোধ দেওনের? পাগলের মতো খালি হাতি যাওয়ার দরকারটা কি? আর এইবার ঈদের জন্য নতুন মাল উঠাইয়া আর অন্য কোনো দিক দিয়া একদিনে এত টাকা জোগাড়ও করতে পারি নাই!
বাবাকে কখনো এভাবে 'পারি নাই' শব্দটা বলতে শুনিনি। আমি নিশ্চুপ থাকলাম, এমন সময় মা বললো,' একটা কিছু তো মুখে দিয়ে যাবি?'
মার কাছে গিয়ে পা ছুয়ে সালাম করে বললাম,' সবাইকে দেখে রেখো।' দাড়াতেই মা জড়িয়ে দিয়ে কেদে বললেন,'বাবা, আমাকে মাফ করে দিস, তোর কথা শুনিনি আমি, আমাকে মাফ করে দিস।' মা তখন অজ্ঞান হয়ে গেলেন। বাবা, আমার মাকে ধরে খাটে শুয়ে দিলেন।
আমার মামা আমাকে হেচকা টানে বের করে আনলেন বাসা থেকে, গাড়িতে উঠিয়ে সোজা নিয়ে গেলেন এয়ারপোর্টে সাথে বোন আমার কাদছিলো সারাটা রাস্তা জুড়ে। মামাতো ভাই পরিস্হিতি ঠিক করার জন্য অনেক কিছুই বলছিলো আর আমি গাড়ির জানাল দিয়ে শেষবারের মতো ঢাকা দেখছিলাম!
মনে পড়ে এখানে আসার ৩ মাসের মাথায় সব ডলার শষ হয়ে গিয়েছিলো। বাবাকে তখনও জানাইনি যে আমার হাত শূন্য। তবু একবার এক অচেনা হা্ই সাহেব নামের এক ভদ্রলোক দেখা করতে চাইলেন। যেদিন দেখা হলো সেদিন সে বললো, উনি নাকি আমার দাদাকে চেনেন। তারপর তার ফোনটা বাড়িয়ে বললেন কথা বলতে, সেদিন প্রথম বাবার সাথে কথা হয়। কথা হয় মার সাথে। বাবা বললো, মা নাকি রাতে ঘুমায় না। সুগার অনেক নীচে গিয়েছিলো খাওয়া দাওয়া ঠিক মতো না করার কারনে। মাঝে দিতে হয় স্যালাইন। বাবা একটা ঠিকানা দিয়ে বললো কাজের ব্যাপারে কথা বলতে। আমি তখনও হতচ্ছাড়া। কারন এ যুদ্ধ আমার একার, আমাকেই লড়তে হবে!
পথে পথে ঘুরতে ঘুরতে একদিন সত্যি নাম মাত্র বেতনে কাজ পেয়ে যাই যদিও অন্য একটা শহরে। কতদিন যে না খেয়ে ছিলাম সেটা নিয়ে আমার কোনো দুঃখ নাই, তবু মাঝে মাঝে খুব জানতে ইচ্ছে করে আমি কি আসলেই স্বার্থপর? তাহলে এ আমি কেমন স্বার্থ দেখলাম যেখানে মৃত্যুকে কাছে পাবার আশায় পথে পথে ঘুরি ফিরি! লাভের খাতা তো এখনও শূন্য শুধু বিয়োগ আর বিয়োগ!
জীবনের ভুলগুলো যখন চোখের সামনে ভেসে আসে তখন মনে হয় কেনো আমি ঐ সময় এই ভুলগুলো করলাম সেটা জানতে মনটা ব্যাকুল হয়ে যায়। এটা ঠিক ঐ সময়কার কঠিন কিছু যুক্তির কাচে আমি নিজেই পরাভূত থাকি, কিন্তু যখন নেশাটা কেটে যায় তখন বুঝতে পারি আমি আসলে কি হারিয়েছি।
আমি কি হারিয়েছি এক জীবনে?
১) ভালোবাসার মানুষের মন
২) বাবার সেই পবিত্র শাসন যার মাঝে খুজে পেতাম বুকে আগলে রাখার এক অনদ্য আকুতি
৩) মার সেই ছেলেমানুষি ভালোবাসা আর যেকোনো বিপদে অসুস্হতায় মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়া
৪) ছোট বোনের সেই আদরগুলো আর আহ্লাদগুলো
৫) কিুছু বন্ধুর জান দিয়ে দেবার ক্ষমতা!
রাতে যখন অন্ধকারে চেয়ে থাকি তখন ভাবি দেশে গিয়ে বাবাকে বলবো,' তুমি কিভাবে ভাবলে আমি পারবো না? তুমি কি এখনো ভাবো আমি মানুষের মতো মানুষ হতে পেরেছি কিনা? তুমি কি কখনো ক্ষমা করবে তোমার কতাহ না শুনার জন্য? তুমি কি আমাকে ছোটবেলার মতো পিঠে একটা জোরে চড় বসাতে পারবে?'
মাকে বলবো,' ছোটবেলায় একবার কোদাল দিয়ে মাটি নাড়তে গিয়ে ডান পায়ের কেনি আঙ্গুলটায় কোব বসিয়ে দিয়েছিলাম।ছোট্ট আঙ্গুলটা দিয়ে রক্ত ঝরছিলো প্রচুর। তখন তুমি আমাকে কোলে নিয়ে পাগলের মতো রাস্তায় চলে গিয়েছিলে। রিক্সা যতক্ষন খুজে পাওনো ততক্ষন দৌড়েছিলে। তারপর যখন ডাক্তার খানা থেকে নিয়ে আসলে তখন আমার গায়ে জ্বর। তুমি সারা রাত মাথায় হাত হাত রেখে বুলিয়ে দিয়েছে, চুলের ভাজে বেনী করে নেড়ে ছিলো। আমি একটু ঘুমাবো, মাথায় কি সেরকম আদর করে দেবে?'
আর বোনটিকে বলবো,'কানটা ভালো করে মলে দে, তোর যেভাবে খুশি আমার মুখে আকিবুকি কর।' ওর হাতে দিতাম এক বাক্স রঙ্গের পেন্সিল।
ভয় হয়, যখন দেশে ফিরবো, তখন কি দেখবো? বাবার মাথার চুল সব পড়ে গিয়েছে, বয়স হয়েছে। মার ডায়াবেটিস প্রচুর পরিমানে, নানু তো কিছুদিন আগে ৮০ ছুয়েছে। বাউন্ডুলে জীবন কখনোই ভালো নয়, মানুষ কখনোই বন্ধনহীন হতে পারে না। আমার বন্ধন গুলো খুবই স্পর্শকাতর। তবুও আমি আমার বাউন্ডুলেপনা নিয়ে খেলেছি বাজী, অভিশপ্ত শহর থেকে পালাতে গিয়ে হয়তো হয়ে গেছি অভিশপ্ত। কাউকে হারানোর বেদনা যে কতটা কস্টের, সেটা অল্প হলেও বুঝি, কিন্তু যখন আমি বাবা মা এর কথা ভাবি তখন মাথাটা আর ঠিক থাকে না। আমার দুনিয়াটায় তোলপাড় ঘটে যায়। আমি ঠেকাতে পারি না কিছুই, শুধু দেখবো নিজের ধ্বংস!
তাই আমি খুজে ফিরি সব ভালোবাসার ক্রায়োলাইটস!
বাবাকে খুব মনে পড়ছে!
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুলাই, ২০১৮ ভোর ৪:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



