কুটিকালে আমিও ফরিদপুর গার্লস স্কুলের সামনে খাড়াইতাম, রিক্সা দিয়া যাওনের সময় রিক্সা আলারে জেনারেল হাসপাতালের সামনে খাড়া করাইয়া ছুটির সময় দাড়াই থাকতাম। রিক্সাওয়ালা কিছু কইতো না, ফ্রিতে সুন্দরী দেখনের সুযোগ কেডাইবা মিছ করবার চায়, আর তখন যদি দুইটাকার মুড়িমাখা কিন্যা খাওন শুরু করতাম দুইজনে!
যাই হোউক, দিন যায় আমাগো জিলা স্কুলের হেড মাস্টার পাল্টায়, তাহার দুইটা সুন্দরী মাইয়া স্কুলে যায়। তখন গার্লস স্কুলে স্টপেজ লওয়া কমায় দিলাম, জিলা স্কুলের গেটের সামনে হা্ন্নান মিয়ার চটপটির দুকানের সামনে খাড়াইতাম। কি তমসা, হান্নান মিয়ার চটপটি কিনলে হেয়ও খুশি আমিও খুশি!
কয়েকবছর পর যখন আমার বোইনে গার্লস স্কুলে ভর্তি হইলো তখন মনে হইলো রিটায়ার্ড লওনের টাইম হইছে!সমস্যা হয় নাই ততদিনে ম্যাট্রিক দিয়া ঢাকার বিখ্যাত কলেজ মার মার কাট কাট তেজগাও কলেজে ভর্তি হইলাম। ঐখানে দেখি সবাই সমানে সমান। আমাগো ভার্সিটি পড়ুয়া দুস্ত শাকিলের ডায়লগ অনুসারে,"তোগো কলেজে ফর্ম কিন্তে গেছিলাম, অমুন সময় গিয়া দেখি এক পোলা দুই মাইয়ার ঘাড়ে হাত রাইখা ঘুরতাছে্, ডাইন হাতটা পুরা বুকের কাছে!"বর্ননা অনুসারে ঐ পোলা আছিলো ততকালীন বিএনপি নেতা, পাতী নেতা।
আমি যখন ঐখানে ভর্তি হইলাম তখন আমার বড় খালু সবচেয়ে বেশী মনে ব্যাথা পাইছিলো কারন তার ভাষায় ঐ কলেজে নাকি সামনে স্যার পড়ায় পিছনে পুলাপান তাস পিটায়। আশ্চর্য্য জনক ব্যাপার হইলো আমাগো সেকশনের সেতুরাও তাও করছে। তয় কিছু ভালো বন্ধু পাইছি, অসাধারন প্রানের সম্ভার ছিলো, তয় তারা এখন দুনিয়ার আনাচে কানাচে হারাই গেছে যদিও এইটা পোস্টের বিষয় নয়!
তো তেজগাও কলেজে নানারকমের ইভটিজিং আছিলো, মাইয়ারা আছিলো একটার পর একটা সুন্দর, যেমুন সুন্দর তেমুন ফিগার পুরাই মডেল। মাগার ডরাইতাম কাছে যাইতে। ভালো ছাত্র থুক্কু তুলনামূলক ভালো রেজাল্টের সুবাদে তেজগাও কলেজের সংসদে যাওয়া আসা চলতো তখন দেখতাম সকল সুন্দরীর পিছনে বড় বড় নেতার ব্যাকআপ। মনে যে দুই একটা ধরে নাই এমুন না, একবার একটার পিছু নিলাম। পিছু নিতে নিতে উপরের দুই তলা থিকা যখন নীচে গেটে নামলাম তখন হঠাৎ দেখি আমার সামনে খাড়াই থাকা শাহীনের মুখে থুথু পড়লো। উপরে চাইয়া দেখি ঐ মাইয়া, আমি আর শাহীন হাতে দুইটা রড নিয়া উপরে দৌড়াইয়া গেলাম, ইচ্ছা আছিলো রড দিয়া মাথা ফাটাই মাগার পাই নাই। যদিও ঐ দিন কলেজে কেউ আছিলো না কারন আমাগো ইন্টারের প্রাকটিক্যাল চলতাছিলো।
তয় মাইয়াগো বাহবা দেওন দরকার, কারন ঐ সময় আমরা আছিলাম বখাটে, আর ঐ মাইয়াগুলান আমাগো সাপেক্ষে ভুক্তভোগী। কেউ হয়তো কইতে পারেন ঐ মাইয়াগুলান তো ছাত্র সংসদে নিয়মিত সিটিং দেয়। কথা সত্য, সিদ্ধার্থর নাম অনেক শুইনা থাকবেন যে ১৯৯৯ অথবা ২০০০ এর এক শুটআউটে জান দেয়। ওর ঘনিষ্ট এক পোলা নাম পান্না, বাপে তৎকালীন পুলিশ মহাপরিদর্শক আছিলো, ও কইতো, একবার যারা এই পথে পা বাড়ায় আর ফিরতে পারে না। আমি কইছিলাম পা বাড়ায় কেন, তখন কইতো ঐ যে টোপ নাইলে সমস্যায় পড়লে একবার ফান্দে পা দেয়া!
টোপ আর ফাদ কি?
টোপ হইলো পড়াশুনা করতে করতে পোলার লগে খাতির হইলো, ভালো ভালো জায়গায় ঘুরলো, পোলায় ক্লাস করে না, যখন ডাকে তখনই পাওন যায়। সাথে সিকিউরিটি ফিল হয়। একদিন এক জায়গায় গুপন সিটিং, তারপর থিকা বান্ধা। এদিকে পোলায় যে ক্লাস না কইরাও কলেজে এত দাপটে থাকে সেইটার পয়লা কারন ছাত্র সংসদ। আর চান্দাবাজীর হিস্যা তো আছেই। কিছুদিন পর দেখা গেলো হোন্ডা কিনলো, টাকা দেখাইলো, মাইয়াও পাও দিলো বেডে আরও ডীপে।
ফাদ জিনিসটাও একই তয় ডিফারেন্স হইলো একটা উটকো পোলা সমস্যা করলো সেইটা থিকা বাচতে আরেক উটকোর হাতে পড়লো। আর গরীব মাইয়া তো থাকেই!
এই চালচিত্র ঢাকার। ঢাকার বাইরে পরিস্হিতি আসলেই খারাপ। কতটা খারাপ বুঝানোর উপায় নাই!
কি করন যায়?
১) এলাকায় এলাকায় লেডিস জীম গইড়া তুলন যায়:
অখন দেখি আনাচে কানাচে জীম। জিপিতে থাকতে লাস্ট ট্রিপ দিছিলাম দিনাজপুর, অসাধারন শহর, মনে হইলো শেষ জীবনটা এমন একখান শহরে কাটাইতে পারলে খারাপ হয় না। ঐ মফস্বল শহরেও দেখলাম একখান বড় জীম, ফরিদপুরে মাল্টিজীম। তাই মাইয়াগো জীম খারাপ বুদ্ধি না, অন্তত শরীরে স্ট্যামিনা হইবো। জীমের সাথে কারাতে যোগ হইলে তো কথাই নাই। পুরা কারাতে কইরা শক্তি দিয়া ডাইল খোর পোলার নলি ছুটাই দিবো।
সমস্যা একখান আছে, যখন পোলা এসডি নিয়া ঘুরবো ১০-১২ জন বেড়ায় ধইরা তখন আর কিছু হইবো না। বড় বড় আর্মী এই হাইজ্যাকারের সামনে জান দেয় আর এইটাতো ৬ মাসের কারাতে কোর্স শিখা বাংলার অবলা নারী!
বাঙ্গালী শক্তের ভক্ত নরমের জম: আসলে এই কথাটা হইলো একটা ভোকাস কথা। যারা গান্জ্ঞা খোর ডাইলখোর পোলাপানের সাথে ঘুরছে তারা জানে এরা হইলো সেই হায়েনা যাগো আপনে একটা দলের একটা ঘাড় মটকাইয়া ছন্নছাড়া করতে পারলেও তারা লাস্ট এন্ড পর্যন্ত ধাওয়া করবো সবচেয়ে ভয়ন্কর অস্ত্রটা নিয়ে। তাই যেটা করা উচিত ঐ হায়েনার মধ্য থিকা মাথা স হ ডান বামের দুয়েকটারে পুরা মাইরা ফেলানো কোনো সেকেন্ড থট ছাড়াই। কিন্তু এটাও কি ভালো? কারন যারা এসব করে তারা ক্ষমতার ছত্রচায়া্য থাকে, হলুদ সাংবাদিকতা, কুৎসা আর কান কথা (এই কান কথাটা মেয়ারাই করে কারন মেয়েদের এই পথে শত্রু কিন্তু তারাই এটাই কালচার) লাইফ হেল করে দেবে! টাঙ্গাইলের পদক্ষেপ জানি না কতটা কাজে দেবে!পুরো বাংলাদেশ এখনও অরক্ষিত কারন যখন ঐ জেলা প্রশাসকের পোলা ঐ আকাম করবো তখন ঐ জেলা প্রশাসকের বুলিটাও হইবো দেখার মতোন চেন্জ্ঞ!
২) মা বাবা সহ জনসচেতনা গইড়া তোলা!
আমাগো দেশনেত্রী নৌকার মাঝিনী বঙ্গবল্টুর নাটুকন্যা হাসিনা যখন ৯৬ এ ক্ষমতায় আসে তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রফিকুল ইসলাম ভালোই ট্যাকেল দিছিলো। তখন এক খান ট্রিকস চালু আছিলো। কুমিল্লার বর্ডার থিকা একখান মাল ১০ হাজার টাকায় কিনলে ঢাকা আসতে না আসতে ধরা খাইবেন। কারন যেই ব্যাটা ঐ মাল সেল করতো সে আসলে সোর্স হিসাবে কাম করতো। ছাড়া পাওয়া খুব মুশকিল, তখন ছাড়া পাইতে হইতো মেজিস্ট্রেটের সামনে ঘুষ দিয়া, রেট মনে ৫০ হাজার টাকা। ট্রিকসটা কাজে দিছিলো, আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনেই আছিলো। কারন সবাই এমুন কম দামে চোরাই মাল পাইয়া কিন্যা গন হারে ধরা পইড়া ঠান্ডা থাকতো। নাসিম আইসা পরে বাগড়া বাজায়, বলা হয় তোফায়েল নাসিমের ডায়লগ বাজী আর আকামবাজীতে ২০০২ এ বিএনপির জিতনে অনেক কামে দেয়। আসল কথায় আসি, তখন হাসিনা একখান ডায়লগ দিতো যেই ডায়লগ বাংলাদেশে আগে কেউ দেয় নাই, এরশাদ ৮৮ এর দিকে একবার মনে হয় দিছিলো কিন্তু সেইটার বন্যার পানিতে ভাইসা যাওনে কারো কানে যায় নাই, ডায়লগটা হইলো,"এখন আমাদের জন সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে!"
তখন থিকা এই ডায়লগ বাজার পাইছে, আইজও বাজারে এইটার অল্টারনেটিভ কোনো ডায়লগ বাইর হয় নাই!
আপনি যদি একখান মাইয়া হোন আপনারে একখান টেস্ট করবার কই তয় তার আগে পয়লা শর্ত হইবো আপনেরে একটু হট আর সেক্সি সাজ দিতে হইবো। যাই হোউক, আপনে যেই এলাকায় থাকেন সেই এলাকায় মোটামোটি একটা হট সাজ দেন, সেক্সি সাজনের দরকার নাই। দেখেন যেই কয়টা কমেন্ট আইবো তার মধ্যে এই কমেন্ট প্রদান কারী কারা?
১০ জনের মধ্যে ২ টা রিক্ষাওয়ালা টাইপ, ৫ এলাকার নতুন বখাইটা যারা থাকে আশে পাশের বস্তিতে, বাকি ৩ টা হইলো এলাকার নতুন কিছু পোলা যারা সারা দিন বেকার কাম কাজ নাই পড়া লেখা নাই এলাকায় নতুন আইসা আড্ডা দেওনের মোল সাথী পাইছে তারা। তয় দুঃখজনক হইলে দেখেবন ১টা ২ টা টুপি পড়া প্রৌড় লোকও সেই লাইনে থাকে!
এইখানে যদি আমরা জনসচেতনা নিয়া কথা কই তাইলে দেখবেন রিক্সাওয়ালার ব্যাপার নিয়া আসি। এরা কেনো এই ডায়লগ দিবো? দেখা গেলো এলাকার একখান পুচকা পোলা রিক্সাওয়ালার ডাক দিবো,"ঐ , ১ নম্বর ল!" ভাড়া হইলো ১২ টাকা, ১০ টাকা দিয়া হাটা শুরু করলাম। রিক্সা আলা পিছন থিকা ডাক দিলে দিলাম কইসা থাপ্পড় (এইটা আমি আমার কাহিনীই বলি, আমি দেশে থাকতে এমুন করতাম) সাথে তাহার শ্রদ্ধেয় মারে তুইলা দুইটা গাইল (গালাগালি আমি করতাম না অবশ্য)। আবার ঐ ভাড়া নিয়া দেরী করাতে পিছন থিকা পুলিশ বা ট্রাফিক বা কমুনিটি পুলিশ আইসা দিলো টায়ার ফুটা কইরা আর তারাও গাইল দেওন শুরু করলো। যাই হোউক, রিক্সাওয়ালা কারোই কিছু কইতে পারে না, সারা দিন ভইরা না খাইয়া রিক্সা টানতে টানতে যখন দেখে একখান মাইয়া তখনই তার মনে সেমুন কিছু জাগে, দেয় একখান ডায়লগ ছাইরা! অবাক করনের বিষয় হইলো আমার মতোন পোলা তখন রিক্সাওয়ালারে দুইটা মাইর দেই না, অথবা ঐ ট্রাফিকও কিছু কয় না!
এখন আসি বস্তির পোলা নিয়া যারা নতুন ঢাকায় আসে। স্বপ্ন তো কিছু থাকেই আবার কুটিকাল থিকা টাকা, খাওন আর ইজ্জত এই তিনটার টানাটানি। মনে হয় নতুন কইরা বলার কিছু নাই। যখন উপরের দুয়েকটা হায়েনা তাগো কাছে কাছে টানতে চায় তখন নিজেরে সবাই ইমরান হাশিমিই মনে করে। পুলিশ গো যদিও নিজের হাতের মুঠোয় মনে করে কিন্তু মারা কি চীজ সেইটা তারা ভালোই জানে, কারন মামাগো লগে উপরওয়ালারও সেটিং দেয়া আছে।
তার মানে বিগত ১ দশক ধইরা জন সচেতনতা নিয়া যখন উপরের মাথাগুলো বা মুরুব্বীরা কথা কয় তখন মনে হয় এই শব্দটা আসলেই তারা বোঝে কিনা?
৩) পুলিশ ব্যাবস্হা, প্রশাসন ঢেলে সাজাতে হবে
মন চায় এই কথাটা যে কয় তার গালে দুইটা থাপ্পড় দেই। কারন যদি জিগায় তাইলে আমি কমু ভোট দেওনের সময় কারে দিছো। অনেকে আবার নতুন স্টাইল লয়, কয় তারা নাকি "না" ভোট দিছে। ব্যাটা, যদি না ভোট দিলি তাইলে তুই দাড়ালি না কেন? হারনের ভয়ে? সমাজ পাল্টাইতে যারা যায় তারা কখনো হারনের ভয় পায় না!
অখন আপনেরা অবশ্য কইতে পারেন লেখক কেন এই কথা কয় তখন আমি উত্তরে কমু আমিও ভোটে দাড়ামু, একটু সময় দেন তয় আমি যদি ভোটে দাড়াই তখন দেখতে চাই দেশটারে কি অবস্হা সেইটা কেমনে দেখান যায়? কারন কি জানেন এই যে এতো চোর বাটপার রাজাকার এগো আমরা কারা মাথায় উঠাইছি? আমরা। তাই যদি শাস্তি দিতে হয় তাইলে আমাগোই দিতে হইবো। কিন্তু সমস্যা হইলো আমাগো শিক্ষা হয় না!
আর কোনো বুদ্ধি আছে? আমার মনে হয় নাই!
আমার বুদ্ধি শুনবেন এইটা কেমনে রোধ করার লিগা?
অনেকেরই ভালো লাগবে না, কারন আমি একটু পাগলা কিসিমের, একটু ডেসপারেটও। ধরেন আপনি, ইয়াপ আপনিতো ব্লগ পড়ছেন তাই না! আপনি, আপনার এলাকায় আপনার মতো কয় জন চিন্তা করে? বেশী না মনে হয় ১৫ জন! ১৫ জন হবে তো?
কালকে থেকে মোড়ে অবস্হান নেন, দেখেন কে কয়টা টিজ মারে, যে টিজ মারবো, তারে জায়গায় কোমড় ভাইঙ্গা দেন চীপায় নিয়া। চিন্তা কইরেন না একটা বড় মারামারি লাগবো। মাইরও খাইবেন, ১৫ টা ছেলে প্রতিবাদ করতে গিয়া মাইর খাইছে এমুন কি জেলেও গেছে, এরকম বড় বড় হেডিং এ নিউজ আইবো। কয়েকটা সাংবাদিক দরকার যারা প্রত্যেকটা পত্রিকায় এরকম হেডিং দিবো। আর পরের ৭ টা দিন শুধু এই ঘটনার চর্চা হইবো!
দেখেন কাজ হয় কি না!
সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে আঙ্গুল বাকা করতে হয়। আমরা বিপ্লবের স্বপ্ন দেখি আর এখনই সেই সময়, আর বারুদ যদি থাকে এভাবেই ছড়াইতে হইবো। যদিও আমি এইটায় পার্টিসিপেট করতাছি না, কারন এই ঘটনা কোথাও হবে না!
ভালো থাকেন আর ধন্য করলেন আমার পোস্ট পইড়া, মাইনাস দেওনের লিগা বাটন খোলা আছে!
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুলাই, ২০১৬ ভোর ৪:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


