somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটা সামাজিক ক্যাম্পেইন শুরু করতে চাই, সেটা সকল বাংলা ব্লগ থেকেই! সাথে কেউ না থাকলে আমি একাই এগোবো

১১ ই মার্চ, ২০১১ রাত ৩:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের দেশে অনেক সমস্যা! গুনে শেষ করতে পারবেন?

আমার সব লেখাতেই আমি আমার বন্ধু, ক্লাস মেটদের টেনে আনি! কেন জানি মনে হয় আমি জীবনে কিছু অত্যন্ত মেধাবী অথচ বেখেয়ালী মানুষদের সখ্যতা গড়ে তুলেছি। রাসেল তাদেরও একজন, ও আমাকে বলে,"দেশ আগাইছে ভূয়া কথা! ৭১ এর পর স্বাধীন দেশের যাত্রা শুরু হইলো জনসংখ্যা সমস্যা নামক প্রধান সমস্যা নিয়া! আজকা ৪০ বছর পর এইটা এখনও সমস্যার টপলিস্টে!"

ছোট বেলা বায়তুল মোকাদ্দমে যখন প্রথ বেন্ঞ্চের ছাত্র হিসাবে ভর্তি হলাম তখন দেখতাম পিছনের বেন্ঞ্চে একজন ছেলে নাম আকন্দ। প্রতিদিন মার খেতো পড়া না পারার কারনে! খুব দয়া হতো আবার হাসিও পেতো যখন ওর পিঠে লম্বা লম্বা বেতের বাড়ি পড়তো আর যন্ত্রনায় ছটফট করে লাফাতো! আমরা বলতাম ব্রেকড্যান্স!

বেশ কয়েক বছর পর তখন মনে হয় আমি জিলা স্কুলে ক্লাস সেভেনে। একদিন গেলাম ওদের বাসায়। দেখি একটা খুব সুন্দর মেয়ে থালা বাসন পরিষ্কার করছে! আমি রাসেলের খোজ করতেই ওর বোন ঝাড়ি দিয়ে বলে,"ওকে কি জন্য দরকার?"
আমি তখন একটু থতমত খেয়ে বললাম,"বায়তুল মোকাদ্দমে আমরা এক সাথে পড়তাম। জিলা স্কুলে চলে আসায় ওর সাথে যোগাযোগ নেই!"
ওর বোনটা মুখভঙ্গি একটু নরম করে ঘরে নিয়ে গেলো। একটা ঘরে দুটো বেড, সবকিছু অগোছানো! ওর বোনটি বলা শুরু করলো," দেখো রনি, আমরা দুবোন এক ভাই। আমাদের ভাইটি সবার ছোট! ওর জন্মের কয়েক মাস আমাদের মা মারা যায়! বাবা আমাদের বড় করবার জন্য আরেকজনকে বিয়ে করে ঘরে তুলে আনেন। আমরা মা হিসেবে মেনে নিলেও হয়তো তার মেনে নিতে কষ্ট হয়! আমার ভাইটা পড়ালেখায় খুবই ভালো কিন্তু কেনজানি এরকম হয়ে গেলো। এখন দেখা যায় এলাকার সব নেশাখোরদের সাথে ঘুরে বেড়ায়!" এই বলে মেয়েটা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে! উল্লেখ্য এলাকায় আমি খুবই পরিচিত ছিলাম তখন, সবাই নাম জানতো আমার! তাই হয়তো এ কারনেই আমাকে কথা গুলো বলেছিলো, অনুরোধ করেছিলো ছেলেটাকে যদি ফিরাতে পারি!

আমি চেষ্টা করিনি, শুধু শুনেছিলাম ওদের পরিবারে বড় একটা বিপর্যয় ঘটে, ওদেরকে ভাঙ্গার দিকে চলে যেতে হয়। ওকে মাঝে মাঝে রিক্সা ভ্যানও চালাতে হয়!

এভাবে দেখা যায় আমাদের প্রতিটি প্রজন্ম থেকে কিছু অসাধারন জীবন হারিয়ে যায়, আমরা কিছুই করতে পারি না!

অথচ এই জাতী উপ হার দিয়েছে কিছু অসাধারন মানুষ, সত্যেন বোস, জগদীশ আরো কত!

এখনও রাস্তা দিয়ে হেটে যাই ঢাকা শহরে তখন দেখবো ডাস্টবিনের পাশে কিছু মেয়ে ময়লা কুড়োচ্ছে আর পাশে দাড়িয়ে কিছু শিশু ক্ষুধায় কাদছে! ডাস্টবিনে ভালো কিছু পেলে ওটা তুলেই মুখে দিবে তারা!

এসব শিশুর জীবন খুবই ভয়াব হ হয়, যখন এদের মুখ থেকে এদের জীবনের বর্ননা কেউ কখনো শুনে থাকি তখন দেখবো এরা মানুষের কাছে কি ব্যাবহার পায়! আমার মনেহয় এটা জানার জন্য তাদের কাছে এসব শুনতে চাওয়ারও দরকার নেই, কোনো লোকাল বাসে উঠে একজন কন্ট্রাক্টরকে সামান্য ১ টাকার জন্য কতটা গালাগাল শুনতে হয় সেটা চিন্তাও করা যায় না!

আমি দেখেছি গাবতলী টু মহাখালী ট্যাম্পু গুলোয় যখন কোনো নতুন ছেলে পিছনে দাড়িয়ে ভাড়া সংগ্রহ করে এবং সেটা সংগ্রহ করতে গিয়ে যখন জায়গায় লোক উঠায় অথবা মাঝখানে শ্যমলীতে লোক নামিয়ে ভাড়াটা নিতে যায় তখন দেখা যায় ১ অথবা দুটা টাকা কম দেবার জন্য তার মাকে বাজারে তুলে মৌখিক ধর্ষন করতেও মুখে বাজে না! ভাড়া যেদিন হঠাৎ বাড়ে সেদিন ১০ টাকার জায়গায় ১২ টাকা উঠাতে এদেরকে কি পরিমান গালাগালি শুনতে হয় কখনো ভেবে দেখেছেন ?

এই পরিমান গালি কেউ একজনমে আমরা খাইনি, কিন্তু আমরা তাকে অবলীলায় গালাগালি দিয়ে যাচ্ছি। ও কিন্তু ইচ্ছা করেই বাড়ায়নি, কেনো বেড়েছে সেটাও কিন্তু জানি, কে বাড়িয়েছে সেটাও জানি। আর গালাগালি দিচ্ছে কারা? আমার মতো একজন বিএস সি ইন্জ্ঞিনিয়ার অথবা বিবিএ এমবিএ অথবা সি এ শেষ করা একজন পেশাদার চাকুরীজীবি। একটু চোখটা বন্ধ করি, ঐ ছেলেটার জায়গায় যদি নিজের ছেলেটা অথবা ছোট ভাইটাকে বসিয়ে দেই তাহলে কি রকম লাগবে?

শুধু এটাই না! পুরান ঢাকার লোকজনের ঐতিহ্য অনেক আগে থেকেই। তারা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ওখানকার চালচড়িত রীতিনীতি গড়ে তুলেছেন। কিন্তু কিছু কিছু ব্যাপার খারাপ লাগে যার প্রথমটা হলো মাকে তুলে গালাগালি।

মাকে নিয়ে গালাগালি অনেক ছোটকাল থেকেই শুনেছি। সেগুলো কয়েকটা অক্ষরের বেশীরভাগ যার উপর রাগ হয় তার মার সাথে অবৈধ যৌনকর্ম করার কথাটাই বলে দেয়া।

কিছু কথা বিশ্লেষন করতে চাই! আমরা যখন টিভির সামনে বসে আমাদের নেতাদের গালাগালি করি তখন কি হয় এসব করে:

১) নেতা নেত্রী শুনছেন না, শুনলে তো আপনার খবর হয়ে যাবে তাই তার সামনে গালাগালি দিতে পারবেনও না!
২) আপনার পাশের রুমে আপনার বোন অথবা মা যখন শুনলো তখন হয়তো ভাববে আপনি নেতা নেত্রীদের গালি দিচ্ছেন, কিন্তু বোনটির বয়স যদি আরও কম হয় তখন সে মিলাতে চাইবে এসব গাল দেয়াটাই মনে হয় ভদ্রতা। ব্যাপারটা কি শিখছে? যখন রাস্তা দিয়ে এসব গালি কোনো এক শয়তানের মুখে শুনবে তাহলে সে কি ভাববে?

এটা আসলে শুধু পুরান ঢাকা বা ফরিদপুর অথবা অল্প কয়েকটা জায়গায় সীমাবদ্ধ নয়। হলিউডের ইংলিশ ছবি দেখলে বোঝা যায় ওরাও এই কথাগুলো সুন্দর ভাবেই ব্যাব হার করে। জানি না আমেরিকায় আসলে সেরকম চালু আছে কি না। ইউরোপের কিছু কিছু দেশে এই প্রকোপ কিছুটা কম থাকলেও থেমে নেই।


সমস্যাটা আসলে, নারীকে একটা সামান্য আঘাত করলেই কাজ হয় আর যখন সেই নারীর সাথে কেউ সম্পর্কযুক্ত তাকে আঘাত করার জন্য এটা বেস্ট।

কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছি, আমি যাই করি না কেন আমার মাকে সেসব শুনতে হবে কেন?


আজকে থেকে এটা কি বলতে পারি না আমাকে যে এই কথাটা বা এরকম গালাগাল দেবে তার গালে হাতের পাচটা আঙ্গুল বসিয়ে দেয়া কি পৌরুষত্ব দেখাতে পারবো?

অথবা কাউকে যখন ঝাড়ি দেবো অন্তত তার মা বোনকে এই গালিগুলো দেবো না, এটা কি করা যায়?


আর যদি কখনো রাস্তায় দেখি এরকম কেউ করছে তাহলে আমি সেখানে যেই অবস্হাতেই থাকি না কেন তার প্রতিবাদ কি করতে পারি?

কি করতে পারি আমরা?

এখন হু হু করে বাড়ছে ব্লগ আর ব্লগারের সংখ্যা! দেশের বর্তমান সচেতন প্রজন্মের বেশ বড় একটা অংশ ব্লগিং এবং ফেসবুক ব্যাব হার করে! আমরা যদি ব্লগ এবং ফেসবুক থেকে এই ইনিশিয়েটিভ নেই তাহলে এটা দ্রুত ছড়াতে বাধ্য!

একসময় ছাত্র নাম শুনলেই মনে হতো সন্ত্রাসী অথবা আকাইম্মা! এখন ডিজুস জেনারেশন তোপের মুখে। আমরা যদি এই ইনিশিয়েটিভ নেই এবং নিজের অন্তরের অন্তরস্হল থেকে এই ইনিশিয়েটিভটা চালু করি তাহলে কি সমাজে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী কি পাল্টাবে না? যদি আমাদের মধ্য থেকে কাল একজনও সংসদে যায় তাহলে হয়তো সেও চেষ্টা করবে এমনভাবে দেশে কিছুটা জন্জ্ঞাল হলেও সরাতে!

আমি কিন্তু আশাবাদী, কিন্তু বসে থাকলেই হবে না। আমি এই পোস্ট বাংলা ভাষার প্রায় যে কটায় পারি সবকয়টায় পোস্ট করবো আজকে এবং এখন। ফেসবুকে আমার নিক ডিএক্টিভ একটা বিশেষ কারনে! যদি আপনারা কেউ দলবদ্দঃ হয়ে দয়া করে একটা গ্রুপ খুলে সবাই তার বন্ধু বান্ধবদের সেখানে অংশগ্রহন করতে বলেন তাহলে আমাদের সম্মিলিত যেই শক্তিটা হবে সেটা নিশ্চয়ই কম হবে না!

এখন ব্লগিং করলে সমাজ পরিবর্তন হয় না এটা পুরোনো কনসেপ্ট! ব্লগার ফেসবুক তথা অনলাইনে সচেতন ব্যাব হারকারীদের শক্তি সমাজে প্রতিষ্ঠিত একটা শক্তি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। আমরা যদি সেই সময়টায় এমন ইনিশিয়েটিভ নেই তাহলে হয়তো দেশকে আমূল পরিবর্তন করতে না পারলেও সমাজে কিছুটা হলেও পরিবর্তন আসবে!

ভালো থাকুন এবং হ্যাপি ব্লগিং!

তাহলে আজকে থেকে আমরা মা এবং নারী জাতি তথা যেকোনো কিছুতে খিস্তি খেউড় কে না বলবো! এতটুকু সৎ সাহস কি আছে?
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুলাই, ২০১৬ ভোর ৪:৪৭
৪০টি মন্তব্য ২৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×