somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটু ব্রেন স্টর্ম করা যাক, দেখি সমাজটাকে কিভাবে বদলানো যায়! সমাজ বদলানো কি এতই কঠিন কাজ? পর্ব ১

২১ শে এপ্রিল, ২০১১ ভোর ৪:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রতিদিন ভাবি আজকে একটু ঘামবো, কপাল বেয়ে অথবা পিঠের সাথে লেপটে থাকা টি শার্ট টা একটু ভিজুক! হয়তো আমাকে ক্লান্ত দেখাবে, হয়তো নিজেকে মনে হবে আমি একটু পরিশ্রান্ত, বিশ্রাম চাইবার অজুহাত আর কি!

সেই ঘামাটা হয় না আর, কেউ এসে বলে না একটু বিশ্রাম নিলে কিইবা এসে যায়! ভাবছি দুয়েক মাস পর দেশে যাবো, দেখে আসবো বোশেখের রোদে কতটা পুড়ে কালো হলো আমার ঢাকা শহর! অথবা জ্যামের ভিতর অপেক্ষা করতে করতে ক্রোধের ব্যারোমিটারের কি অবস্হা সবার!

সেদিন শুনলাম বিশ্বকাপ খেলার জন্য নাকি ঢাকা বদলে গেছে; এটা আমি বোকার মতো বিশ্বাস করেছিলাম বলেই প্রতিদিন পত্রিকার ওয়েবপেজ খুলে ছবি দেখতাম, ব্লগে বসে সবার অনুভূতি পড়তাম, কিন্তু কিছু অনুভূতি নিজের মনে কেমন যেনো খোচা দিতো!

আজকে আমি কিছু ব্যাপার নিয়ে চিন্তা করবো, ভাবছি যখন আমি ব্লগ করবো তখন আমি সমাজের এসব সমস্যা নিয়ে কিছুক্ষন ভাববো, পরিত্রানের রাস্তা খুজবো। সাথে খুজবো এখানে আমি ব্যাক্তিগতভাবে কতটুকু কাজ করতে পারি!

যাই হোক, প্রথম ব্যাপার:

কিছু কিছু ব্যাপারে আমি তেমন আশা দেখি না। আমরা এক বৃত্তে আটকা পড়েছি, যেটা থেকে আমরা বের হতে চাই, কিন্তু সময়মতো আমরা সেটার জন্য গুরুত্ব দিয়ে কাজ করি না! আলসেমীই কি এর কারন?

আমাদের ক্ষমতার পালাবদলে আমরা প্রতিবারই কিছু ভূল লোককে বসাই আমাদের ভাগ্যবিধাতা হিসেবে। এসব লোক যে এলাকা থেকে নির্বাচিত হন সে এলাকায় তার পক্ষে বিপক্ষে দু ধরনের লোকই পাওয়া যায়। কিন্তু তিনি তাদের ভোটের দ্বারা নির্বাচিত হন না, নির্বাচিত হন সাধারন মানুষ যারা তার পক্ষ বিপক্ষ দূরে থাক তাকে খুব ভালোভাবে চিনতোই না! সে লোকটি সংসদে যান, আবেগ ভরা গলায় বক্তৃতা দিয়ে মন্ত্রনালয় থেকে কোটি টাকার কাজ বাগান, তারপর সে সেটা নিজেই খেয়ে ফেলেন! এদিকে প্রতি বর্ষায় ঐতিহ্যবাদী বাধ ভেঙ্গে গ্রামের পর গ্রাম ভেসে যায়। কি কারনে বাধ ভাংলো তা কেউ খোজে না, কিন্তু সেই বাধ ঠিক করার জন্য আসে কোটি কোটি টাকা। যেটা আবার পরের বছর ভেঙ্গে যাবে। ঢাকায় গুলশান ধানমন্ডির কিছু কিছু ফ্লাটও তখন বেশ ভালো দামে বিকোয় শুনেছি!

তাহলে দোষটা কার?

সাধারন মানুষের?

ধরে নিলাম সাধারন মানুষের দোষ। নাহলে তারাইতো এই শয়তান লোকটাকে নির্বাচিত করেছে, কি ঠিক বলিনি? তাহলে সাধারন মানুষদের কি শাস্তি দেয়া উচিত? আমার মনে হয় এটাও কোনো সলুশন না।

তাহলে সলুশনটা কি?


দ্বিতীয় ব্যাপার:

ওপরের যে সমস্যাটা এটা হলো আমাদের সামগ্রিক সমস্যা। এই সমস্যার সমাধানের জন্য আমাদের দীর্ঘ সময় এবং শ্রমের দরকার! তার আগে আমি চোখের সামনে এমন সব সমস্যা দেখি যেগুলো নিয়ে আমাদের ভাবতে হয় প্রতিটা দিন। নিজেকে অপরাধী মনে হয়!

একসময় জানতাম দেশে কোনো মানুষ ক্ষুধার তাড়নায় আত্মহত্যা করে না। এটা আমি এখনও গর্ব ভরে বলতে পারি। অন্ততঃ পার্শ্ববর্তী দেশের মতো খারাপ অবস্হাটা আমাদের নয় এটা ভেবে যখন রাতে ঘুমাতে যাই তখন কিন্তু আমার বেশ ভালো ঘুম হয়। কিন্তু স্বপ্নে আমি কিছু জিনিস দেখি!

দেখি গুলশানে সিটি কর্পোরেশনের বিশাল লোহার ডাস্টবিনের আশেপাশে অনেকগুলো কাকের সারি আর কুকুরের ভীড় দেখা যায়। আর তার সাথে কিছু মানুষ্য শিশু, দেখতে কন্কালসাড় তারাও তাদের সাথে ভাগাভাগি করে! আমি খুব কম খেয়াল করি, কারন তাদেরকে কেন জানি এসব কাক বা কুকুর প্রজাতির মতো মনে হয়। ব্যাপারটা অস্বাভাবিক। গাড়িতে চড়ে যাবার সময় আমি পারি না ওসব শিশুদের ডেকে ওখান থেকে নিয়ে আসতে, আবার ওদেরকে ইগনোর করলে ওরা রাতে স্বপ্নে এসে তাকিয়ে থাকে আমার দিকে!

কি করা যায়? এর জন্য দায়ী কে?

উপরের প্রশ্ন দুটি বিতর্কিত ভাবে গুরুত্বপূর্ন। কারন সমাজের কিছু ভালো মানুষ প্রথম বিষয়টি নিয়ে কাজ করেন তাদের কাছে দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর খোজাটা অর্থহীন। কারন এতে করে দোষী খুজবার পিছনে সময় নষ্ট করলে না খেয়ে মরবে অথবা ডাস্টবিনের উচ্ছিষ্টাংশ খেয়ে পীড়া নিয়ে পচে যাবে। আমরা মনে হয় এরা ঠিক কাজটাই করছে!

আবার যারা দ্বিতীয় প্রশ্নটা নিয়ে কাজ করেন তারা আবার প্রথম প্রশ্নের উত্তর খুজতেও ঘৃনিত বোধ করেন। কারন দেশে কতগুলো শিশু এই মুহুর্তে না খেয়ে আছে সে হিসাব কি কারো কাছে আছে? কত হবে? ৯০ লাখ, এক কোটি বা তারও বেশী। তাহলে সামান্য ১০০০কে পেট পুড়ে খাওয়ানোটা কি অর্থ হয়? বাকিগুলো কি দোষ করলো? তার চেয়ে বরং সমস্যাটার গোড়ার পিছনেই কাজ শুরু করা যাক, নাকি?

আমার মনে হয় এই যুক্তিটাও ঠিক আছে। খুবই পৌরুষত্ব পূর্ন যুক্তি। কিন্তু এই সমস্যাটা অনেকটা প্রথম প্রশ্নের সাথে সম্পর্কযুক্ত, কিন্তু কোনো পক্ষই বসে নেই।

তাহলে দেখা যায় দু পক্ষই কাজ করছে, তবু ঢাকা শহরে ডাস্টবিনের আশেপাশে শিশুদের সংখ্যা কেন কমছে না? পার্কে প্রতিদিন একটা করে ক্ষ্যাতা জড়িয়ে শুয়ে থেকে সামান্য কিছু অর্থের জন্য নিজের শরীরটাকে বিকানোটা কমছে না?

নিশ্চই এখানে কিছু মিসিং, হয় দু পক্ষই ভুল পথে এগুচ্ছেন নাহলে আমরা যেটা দেখছি সেটা ভুল?

তাহলে সলুশনটা কি?


আপাতত এই দুটো বেসিক সমস্যা নিয়েই আজকে কথা বললাম। এর পরের পর্বে আমি এর সমাধান নিয়ে কিছু ব্রেন স্টর্ম করবো! কেন করছি যদি প্রশ্ন করা হয় তাহলে বলবো কিছু একটা করতে হবে এবং সেটা এখনই। কিন্তু কিভাবে?

সবারই সীমবদ্ধতা আছে আমাদের, এসব সীমাবদ্ধতা মাথায় নিয়ে এই কিছু একটা করতে হবে কিন্তু তার আগে আমাদের নিজেদের ব্রেন স্টর্ম করতে হবে। নিজের সুবিধা মতো একটা পন্হা বের করে যদি কালকে থেকে নেমে যাই তাহলে এসব সমস্যা নিয়ে এতদিন করে আসা কাজের লুপ হোলস গুলো দূর করা যাবে, আর হয়তো সমাধান আমরা খুব স হজেই পাবো!

যদি কেউ বলেন কবে পাবো এর সুফল, তাহলে বলবো আগে সমাধান গুলো বের করি, তারপর সেগুলোর কাজের উপর হিসাব করা যাবে কবে নাগাদ আমরা সুফল পাবো। আমি ভাই হিসাব জিনিসটা একটু ভালো বুঝি, শুধু আমি না, আমরা অনেকেই ভালো বুঝি!


আমার মনে হয় আমাদের সমাজে সবচেয়ে বড় সমস্যা ঈশ্বর অথবা ইসলাম বা তা প্রতিষ্ঠিত করন অথবা এর অস্তিত্বের কারন প্রধান সমস্যা নয়! প্রধান সমস্যা কারো পর্ন গ্রাফিক কোনো ভিডিও নয়। পেটে খাবার নেই, ঔষুধ কেনবার টাকা নাই, এটাই এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা। আমরা এগুলো নিয়ে একটু ভাবতে চেষ্টা করি।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুলাই, ২০১৬ ভোর ৪:৪৭
২১টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×