somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... ফাগুনের দিনে বাগুন ভাজা! মুক্তি দিয়া কাম নাই মনে কইরা একবার ভার্সিটি লাইফে উদ্যোগী হইলাম ক্লাস শেষ কইরা শহর থিকা ঘুইরা আসি। তখন আমি চুয়েটের লাস্ট বেন্ঞ্চের মেধাবী ছাত্র যে সারা বছর টো টো কইরা পরীক্ষা আইলে ফাটায়া পইড়া পরীক্ষা দেয়, আর রেজাল্টে সবার লাস্টে নাম দেইখা কয়, একদিন পইড়াই এই অবস্হা, বাকীটা আর কইলাম না!পরের সেমিস্টারে দেখায় দিমু আমি কেডা!

যাই হোউক ক্লাস শেষ কইরাই চুয়েটের বাস ধইরা রওনা দিলাম সেইবার। মদুনাঘাট ব্রীজে আইসা দেখি বাস খানা যান্ত্রিক ধর্মঘটে গেলো। তখন মদুনা ঘাটের ব্রীজ আছিলো ভাঙ্গা। বাংলাদেশের কৃতী ইন্জ্ঞীনিয়াররা ব্রীজ বানাইতে না পারলে কি হইছে ভাঙ্গা ব্রীজে গেটিস মাইরা চালাইতে পারে ভালাই।
তো আল্লার অশেষ রহমত সেইবার লাঠির ভিতর শরবতের সাথে ব্রীজে উঠনের আগেই গাড়ির পেট খারাপ শুরু হইছে, নাইলে যদি ব্রীজের মাঝখানে খারাপ হইতো তাইলে জন গন এই ভাঙ্গা গাড়ী না ঠেইলা সোজা নদীর বুকে উচকাই ফেলাই দিতো!

কি আর করা! মনের দুঃখে ফিরতি বাসে ক্যাম্পাসে চইলা আসলাম। ক্যাফেটেরিয়া থিকা বিকালের নাস্তা হিসাবে মোটে দুইটা আন্ডা পুচ সাথে দেড়বাটি হালিম আর এক বাটি ছোলা একটা থালে নিয়া বিখ্যাত বেলাল স্মৃতি চত্বরে (আসলে বেলাল হইলো আমাগো ব্যাচের সিভিলের এক গোবেচারা যার মাথা ফাটানো হইছিলো রাস্তার মাঝখানে, তাও ফাটাইছিলো আমাগো ক্লাসের মুনমুন ওরফে মামুন, তার হবু বৌ রে নিয়া মস্করা করনের কারনে, যদিও ব্যাটা পাশ করনের পর বিয়া করছে আরেকটারে) একলা বইসা খাইতে থাকলাম। সিভিলের পুলাপান আজকা কেউ এখানে নাই, কারন ব্যাটারা তাগো প্রথম বর্ষের পাপ সার্ভের সেশনালের লিগা মাঠ মাপতাছে আর দৌড়াইতেছে।

এমুন সময় রিপন এক হাতে সিগারেট নিয়া আর ম্যাকার গান্জ্ঞা জাহিদ এক হাতে চা নিয়া আমার দুই পাশে বসলো। রিপন পয়লা শুরু করলো:
: কিরে সকালে থিকা না খাওয়া নাকি সবার লিগা এক লগে আনছোস? তো চামুচ একটা ক্যান, আমাগো চামুচ কই?
আমি দুইটার দিকে তাকাইলাম, চামুচ খান চ্যাঙ্গা মাইরা ফেলাই দিলাম পিছে,"আব্বে! সকালেও খাইছি দুপুরেও খাইছি, ব্যাপক ক্ষুধা লাগছে। যাইতেছিলাম শহরে, মাগার বাসের পেটখারাপ হইয়া বইসা পড়ছে মদুনাঘাটের ব্রীজে। মেজাজ বিলা, তাই খাইয়া ঠান্ডা করতাছি! আর খবরদার, এই খাওন আমার বিকালের নাস্তা, আমি হাত দিয়া খামু!" বইলাই হাত দিয়া ডিম পুচ খানের ইজ্জত হরন করা শুরু করলাম!
দুইটা তাকায় আছে।
গান্জ্ঞা জাহিদ মরা মাইনষের মতো বইলা বসলো,"তোর তো বাড়ন্ত শরীর! তো শহরে অন্যবাসে গেলি না কেন?"
: গিয়া কি হইতো, একলা গিয়া মজা নাই, আর বাস ভরা জুনিয়র পুলাপান। জুনিয়র কুনো মাইয়াও নাই! কই যাইয়া হুদাই একলা খাড়াই থাকুম, তাই ভাবলাম ক্যাম্পাসে বইসা বইসা খাই আর লেডিস হলের গেটের দিকে তাকায় থাকি! তা তোগো ক্লাসের মাইয়া গুলান কই? সার্ভে করতাছে নাকি মাঠ ভইরা?

রিপন কইলো,"ক্যান তুই জানস না? সব তো দেড়টার বাস ধইরা পতেঙ্গা চইলা গেছে। ক্লাসের মাইয়া গুলান কিছু গেছে জিইসি আর কিছু ওগো লগে!"

আমার খাওয়া বন্ধ হইয়া গেলো। যদিও আন্ডা দুইখান শেষ। কি জন্য যে গ্লাসে পানি আনি নাই, বুঝলাম না। খাওন আর গলা দিয়া নামে না!তাও প্লেট খান নিজের হাতের নিয়ন্ত্রনে রাখছি!

আমার খাওয়া বন্ধ দেইখা রিপন গান ধরলো,
" আমার নতুন গাছে লাউ ধইরাছে,
লাউ টা বড় সোহাগী,
ঐ আমার লাউয়ের পিছে লাগছে টিকটিকি!"

মনে ব্যাপক বেদনা নিয়া রুমে আসলাম। আমার দুই রুম মেট নাই, খাটের উপর ব্যাটাগো লুঙ্গী ঝুলতে দেইখা বুঝলাম কি জন্য ১:৩০টার পর এগুলারে ক্লাসে দেখি নাই!বেকুব আমি হইছিলাম, সারা বছর পড়া লেখা করি না, ঘুমানোর লিগা আমার ক্লাসের টেবিল বেন্ঞ্চীই ভালা লাগে, অখন বুঝো মজা!

মেজাজ বিলা কইরা রুমের ভিতর ফুল সাউন্ডে আর্টসেল বাজায় দিয়া ঘুম দিলাম!

আগে কি সুন্দর পয়লা ফাল্গুন কাটাইতাম, অখনকার দিনে তখনকার মতো মজা আর মনে হয় হইবো না, তাই না?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29540403 http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29540403 2012-02-13 15:40:43
কিছু হিসাব মেলে না!
তো বয়স হইলো মোটে ১৩ বিলিয়ন বছরের মতো! খুব বেশী একটা না!


এখন ধরেন আপনে একখান প্রোটন নিলেন। প্রোটন জানেন তো কি?

এই প্রোটনেরও কিন্তু ক্ষয় হয়। তো আপনে যদি একখান প্রোটন হাতে নেন আর তার বয়স মাপতে যান তাইলে এর বয়স পাইবেন হইলো ২১ এর পর ২৮ টা শূন্য লাগান। এই কয়টা বছর হবে। আমার কাছে কাগজ নাই, কেউ কি কাগজ দিয়া হিসাব কইরা কইবেন এইটা কয় কোটি কয় লক্ষ হইবো?


তাইলে কথা হইলো আন্ডা হওনের আগেও কি প্রোটন আছিলো? ইদানিং একেক প্রোটনের ক্ষয় হইয়া একেক রকম রূপ নিতাছে , তো বিগ ব্যাং আন্ডার আগেও কি প্রোটন আছিলো?

একটু ভাবেন, ফুড ফর থট!

আবার এই প্রোটনের ভিতর যেই টপ কোয়ার্ক আছে সেই টপ কোয়ার্কের ওজন নাকি একটা সিলভার অনুর সমান! অনেক বার মাপছে বিজ্ঞানীরা। মাগার কাহিনী বুঝতেছে না। কেমতে কি? পরমানু দিয়া অনু তৈরী হইছে। মাগার পরমানুর ভিতরে থাকা নিউক্লিয়াসের মধ্যে যেই প্রোটন সেইটা সেইটা দিয়া তৈয়ার হইছে সেইটার ওজন এতো বেশী হইলে এমনে সময় এই ওজন কই যায়?

মুশকিল! যদিও হিগস বাবাজী আসতেছেন এইটার উত্তর দেবার জন্য!


দুনিয়াতে সিজিয়াম হইলো এমুন একটা মৌল যেইটা অনেক দুর্লভ। দুর্লভের চার্টে এইটা ৪৫ নম্বরে। এইটা ধাতু হইলেও রুম তাপমাত্রায় এইটা নাকি তরল রূপ নেয়!

কথা এইটা না, কথা হইলো সিজিয়াম ১৩৫ নিয়া। এইটা নাকি ল্যাবে তৈয়ার করা মুশকিল, এইটা নাকি এটম বোমা ফাটাইলে তৈয়ার হয়। তো ১৯৪০ সালের আগে যতরকম মদ, আর্টিফ্যাক্টস আছে সব নাকি এই সিজিয়াম টেস্টে নিয়া আসে! তখনই বুঝন যায় আসলেই কাহিনী কি!

১৯৪০ সালের পর মেলা বোমা ফাটানো হইছে মেলা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট জ্বলছে নিভছে চলতাছে। তাই এর পর যতকিছু আছে এমনকি আপনে যে জাপানী চাউল দিয়া ভাত খাইছেন এইটার ভিতরেও সিজিয়াম আছে!

কেমতে কি?

আসলে কাম পাইতেছি না, তাই এই ব্লগ খান লেখলাম!

মাইক্রোন্ট্রোলারের সিডিসির লুফা কোড লেখা হইয়া গেছে মাগার সমস্যা হইলো বাগ আছে। আরেকটা সমস্যা হইলো ভার্শন কনফ্লিকট!

বড়ই মুসিবতে আছি এই এটমেগা ৩২ইউ৪ নিয়া!

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29537498 http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29537498 2012-02-08 23:50:36
শিট, ম্যান!
আমরা মুক্তি চাই। মুক্তি চাই এ অসহ্য গরম থেকে অথবা একটানা ৭ দিন বৃষ্টি থেকে। কখনো ভাবিনা ঐ ছেলেটির কথা যার ঘুম ভাঙ্গে সূর্য্য জাগার আগে, দাড়িয়ে থাকে সিটি করপোরেশনের গাড়িটার জন্য। গতকালকে সে পুরো ময়লার ভাগাড় খুজে বেড়িয়েছে কাগজ, খাবারম টিনের কৌটার জন্য। আজকে আসবে গাড়ি নতুন ময়লা নিয়ে, সেখানে হয়তো পাবে কিছু খাবার, মানুষের উচ্ছিষ্ট খাবার, তেমন একটা পচেনি হয়তো, সাথে পেয়ে যাবে ভুল করে ফেলে দেয়া কোনো মূল্যবান জিনিস। ওকে আগে যেতেই হবে, না হলে ওর আগে আরও কেউ এসে পড়বে। দিন দিন ওর এই কাজে অনেকেই জুটছে!

সে ছুটে যায় ভোর না হতেই, পথে দেখে লাল টকটকে এলাপাথাড়ী শাড়ী পড়া কালো একটা মেয়ে, ফুটপাথে বসে কাদছে। চুলগুলো এলোমেলো। ও এই মেয়েটিকে চেনে। ওর অনেক নাম। মর্জিনা সখিনা, মৌসুমি, পলি হরেক রকম। রাতের বেলা যখন দেখা হয় তখন এই মেয়েটি ওকে একটা পাউরুটির টুকরো ধরিয়ে দেয়। ও এখন সারাদিন ময়লা কুড়িয়ে ভাঙ্গা টিন হাবিজাবি বেচে যাই পায়, সেটা দিয়ে একটা বড় রুটি কিনবে। দুপুর বেলা এই পার্কে এসে ওর পাশে রেখে যাবে। ও কেন করে জানে না। বয়স মাত্র ৮। কোনো জৈবিক চাহিদা নেই, জ্ঞান হবার পর বাবা মা বলে কাউকে খুজে পায়নি। বোন হিসেবেও কোনো দিন ডাকেনি, দেখা হলেই শয়তানী। সারা পৃথিবীতে আর কে আছে ওর? মানুষের লাথী গুতো আদর মমতা, ছুড়ে দেয়া খাবার খেয়েই মানুষ। কতদিন কেদেছে মনে নেই, কিভাবে বড় হলো সে ভাবতে পারে না। শুধু ভাবে ওকে বড় হতে হবে আর তার জন্য ওর অনেক কিছু দরকার, কি দরকার সেটাও ও জানে না!

ও মেয়েটিকে দেখে দিনভর পার্কে ঘুমায়। রাত হলে পুটরী থেকে লালশাড়ী ব্লাউজ বের করে আধারে সাজতে থাকে, প্রস্তুত হয় কারো গাড়ীতে চড়বার জন্য, কখনো হোটেলে রাত কাটাবার জন্য। রাতে ওর অনেক ঠিকানা, অনেক খুশী, দিনের বেলা ও যেন কেউ না। পার্কের কুকুরের সাথে ওর কোনো তফাৎ নেই! ছেলেটি মুখ ঘুরিয়ে দৌড়াতে থাকে। আজকে বড্ড দেরী হয়ে গেলো। সূর্য্য্ উঠে গেছে। সকালের ট্রেন এসে পড়েছে। এই তো কমলাপুর রেলষ্টেশন। আরো জোরে দৌড়াতে শুরু করলো, কে জানে ওখানে আরও কত ছেলে মেয়ে দাড়িয়ে আছে, সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি এসে চলেই গেছে। বড্ড দেরী হয়ে গেলো।

রাস্তাটা দৌড়ে পার হবার সময় হঠাৎ একটা বিশাল গাড়ীর আলো ওর চোখের সামনে এসে পড়লো...ছুটে আসছে ওর দিকে...ওর মনে হচ্ছে ও পারবে রাস্তাটা পারবে, অবশ্যই পারবে!
শিট ম্যান!

আমরা রাস্তায় এদেরকেই গালি দেই, এদেরকে সাহায্য করি অপরাধী হিসেবে বড় করতে! আমরাই আমাদের ধ্বংস করছি, আমরাই প্রলাপ করি দিনের শেষে!

আমরা কতটাই পতিত এখন, তাই না?

একটা সুন্দর দেশ গড়তে পারলাম না!

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29531530 http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29531530 2012-01-29 19:08:36
নেটবীনস আইডিই এর জাভা ডেভেলপমেন্ট কীট দিয়া সফটু বানাইতে হবে। সাহায্য চাই! আমি কেলায়িত হাসি দিয়া কইলাম,"রাস্তার ঐপারে নয়া রাস্তা ভাইঙ্গা পুরান ঢালাই দিতাছে, ঐখানে পাইতে পারেন!" বয়ান শেষ করবার পারলাম না, চেয়ার থিকা থাল লইয়া সুমন ভাই হাওয়া। কিছুক্ষন পর উদয় হইলো হাতে একখান হাতুড়ি লইয়া!
: কই পাইলেন হাতুড়া?
: পাশের রুমের ক্রিস্টির কাছ থিকা!
: সুন্দরী হাতুড়া দিয়া করে কি? ওরে কি থালের কুড়মুড়া হাড্ডি দেখাইয়া কিছু কইলেন নাকি?

কথার উত্তর না দিয়া কুড়মুড়া হাড় বাড়ি দিয়া গুড়া কইরা চাবাইতে লাগলো। ভেড়ার মাংস খাসী কইয়া চালাইতাছি তার উপর হাতুড়া দিয়া বেচারা ভেড়ার হাড্ডি গুড়াকরন দেইখা কেমুন জানি অস্বস্তিতে পড়লাম!

খাওয়া পর্ব ক্লোজ কইরা জানালা দিয়া বরাফের স্নোফোল দেইখা চিন্তা করতাছি, বাইরামু না ঘরেই সাটাই থাকমু?চোখ ভইরা কই থিকা যে ঘুম গুলান গুটুর গুটুর কইরা আসতছে তার কারন খুজতে গিয়া আবিস্কার করলাম তিন থালা ভাত এক বসায় খাওয়া। বিছানার দিকে যামু বইলা ভাবতে ভাবতে কেমনে জানি রুমের বাইরে হাটা শুরু করলাম। ইদানিং কাহিনি বুঝি না, মন চায় এক হয় আরেক!

মার্কেটের দিকে গেলাম। এইখানে এক আজব দেশ, গ্রীষ্ম কালে ৩০০০ টাকার গেন্জ্ঞী হইয়া যায় ১০০০ টাকা আর ক্রিসমাসের সময় সেই গেন্জ্ঞীর দাম হইয়া যায় ১০০০ টাকায় ২ টা নাইলে ৩টা! মার্কেটে ঢুকা মানে সুন্দরী দেখা আর চাইয়া চাইয়া লালনীল বাত্তী দেখা। মোবাইলের দুকানে ঢুকতেই নোকিয়ার নয়া সেট চোখে পড়লো। মেলা দিনের শখ আছিলো নোকিয়া এন ৮ কিনুম। ১২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। টাকা জমাইতে জমাইতে আইফোন কিন্যা ফেলাইলাম। কিনার পর যখন বেচতে গেলাম তখন দেখলাম ৬ মাস পার, ফেরত নেওন নাই! অখন আমার সামনে নোকিয়া এন৯ । ক্যামেরার পিক্সেল একটু কম মোটে ৮ মেগা। দাম বেশী না, নোকিয়া এন ৮ এর দাম ৩৫০০০ টাকা আর এন ৯ এর দাম ১ লাখ, রাউন্ড ফিগার! বড় এক খান দীর্ঘশ্বাস ছাইড়া বাসায় আইলাম।

নয়া প্রজেক্ট পাইছি, নেওনের আগে মনে হইছিলো দুই খান মাইক্রোকন্ট্রোলার দিয়া কাজ করতে হইবো, ভালা জিনিস শিখা যাইবো। একখান এভিআর ১৬ আই ইউসি আরেকখান আই২সি। সমস্যা হইলো জাভা দিয়া সফটু লিখতে হইবো! নেটবীন নামাইছি। কাজ করতে হইবো জাভা প্লাটফর্মে। বাটন বানাইতে হবে যেইটা দিয়া কানেক্ট করতে হবে নির্দিষ্ট বদরেটে। কারন এভিআর মাইক্রোকন্ট্রোলার কম পো্র্ট হিসাবে পিসিতে দেখাবে।

সমস্যা হইলো আমার দৌড় ছিলো সি প্রোগ্রামিং পর্যন্ত। আমার ব্যাকগ্রাউন্ড সবেধন ইলেক্ট্রিক্যাল আর ইলেক্ট্রনিক্স ইন্জ্ঞি...অখন জাভা কেমনে জানি?

ভাইয়েরা আমার নেটবীনস এর জাভা ভার্চুয়াল মেশিন নামাইছি এখন জেডিকে তে কাজ করতে হবে। উইন্ডো বানাইতে হবে সেইখানে কারেন্ট ভোল্টেজের গ্রাফ থাকবে। কুন সাইট বা বইতে এইটার উপর ধারনা পামু? কোড দেইখা তো কেমুন জানি ঠেকতাছে!

হেল্পান, জাভার একেবারে ডীপ জিনিস নিয়া ক্যাচালে আছি!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29530098 http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29530098 2012-01-27 04:20:33
আমার স্বপ্নের ২০১১: আমার সুখ আর স্বপ্ন পূরন!

সবাই এম১৬ তাক করে আছে উত্তাল সমুদ্রের দিকে। শুধু অর্ডারের অপেক্ষা। সামনে কমান্ডার বলছেন, "আর এক পা এগোবেন না, প্লিজ আমরা গুলি করতে বাধ্য হবো!"
এমন সময় একজন সৈনিক তার তাক করা বন্দুকটা ফেলে সামনে এগিয়ে যায়, জনসমুদ্রের সামনে এসে দাড়া্য়। সামনের সারিতে বুক চেতিয়ে দাড়িয়ে থাকা একজন সামনে এসে বলে,"থ্যাংকস ব্রো!"
তাকে দেখে আরো কয়েকজন সৈনিক এগিয়ে ওর পাশে দাড়ালো। কমান্ডার বলে উঠলো,"হোয়াট দ্যা হেল আর ইউ ডুইং, সোলজার!"

প্রথম সৈনিকটি মুখ ফুটে বলে উঠলো," স্যার, এই মিছিলের সামনে যেই বোরখা পড়া বৃদ্ধা মহিলা দাড়িয়ে আছেন তিনি আমার মা। আমি নিজের হাতে আমার মাকে গুলি করতে পারবো না! সো শ্যুট মি ফাস্ট!"
পাশের সৈনিকটি হাত উচিয়ে বললো,"আমার গার্ল ফ্রেন্ড এস এম এস করছে, সে বলছে যদি একটি গুলি ছুড়ি তাহলে সে আমাকে ছেড়ে চলে যাবে! স্যার আপনে কি সিরিয়াস?"

সেদিন একটি গুলি ছুড়া হয়নি, জনসাধারন সবাই মিশে যায় সেনাবাহিনীর সাথে, উত্তাল হয় তাহরির স্কয়ার, দুর্নীতির পতন হয়। তিউনিসিয়ার এক সব্জী ব্যবসায়ীর উপর বন্ঞ্চনার শোধ এভাবেই পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে যায়, মিশর আরেকবার স্বাধীন! পুরো বিশ্বকে জানিয়ে দেয় কিভাবে দুর্নীতিকে ছুড়ে ফেলতে হয়! মা তার সৈনিক ছেলেকে আনন্দে চুমু দেয়।

যে যুদ্ধের জন্য বাবা তার সন্তানের কফিনের ভার সইতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে যায়, যে শিশুটি জন্মের পর তার বাবা বিকৃত লাশটাও দেখতে পারলো না, সে যুদ্ধের অবসান ঘটলো, আর ঘরের ছেলে মায়ের বুকে ফিরে এলো।

এই সবগুলোই হলো এ বছরে!

এই বছরটি আমার জীবনের জন্য সেরা বছর। না, আমার ভালো কোনো চাকরী হয়নি, আমি আমার কোর্স এখনও শেষ করতে পারিনি, ভালো টাকাও কামাতে পারেনি। এমন নয় যে আমার দেশ খুব এগিয়ে গেছে, দেশের খবর শুনে আমি মোটেও খুশি নই!
দেশ থেকে ভালো ব্যাপার উঠে যাচ্ছে। আগে শুনতাম গোপনে নাকি দেশ বিক্রি হচ্ছে, এখন দেখি জনসম্মুখে দেশ বিক্রি হয়ে গেছে। সেজন্য ব্লগে একের পর এক পোস্ট স্টিকি হয়, কিন্তু কেউ রাজপথে নামে না। অন্য দেশের বিদ্যূৎ উৎপাদনের জন্য নদীগুলোকে মেরে ফেললো গলা টিপি দিয়ে, দেশবাসী বাদ সে এলাকার লোকজন কোনো প্রতিবাদ করলো না। আমরা তিউনিসিয়ার মানুষদের মতো সৎ নই, আমরা সুস্হ ভাবে বাচতে চাই না। আমরা হানাহানী চাই, শয়তানের শাসন চাই!

তবু আমি খুশি। কারন আমার সামনে এমন কনাকে খুজে বেড়াচ্ছে সবাই যে কনার নাম আমাদের এক বাঙ্গালী লেকচারারের নামের সাথে যুক্ত। কে ছিল সেই লেকচারার? তকে এতটাই ইগনোর করা হয়েছিলো তখন যে তার জার্নাল কেউ ছাপায়নি। আইনস্টাইন ঈষৎ পরিবর্তন করে নিজের নামের সাথে যোগ করে দেয় তার নাম!

আমি তবু খুশী, কারন এখনও দেখি কব্জীবিহীন একটি মেয়ে এসএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস পায়, মুদীর দোকানের চা ফেরী করে বেচা দিনাজপুরের এক গরীব ছেলে এসএসসি ও এইচএস সি দুটোতেই এ প্লাস পায়। শুভর মতো নির্ভীতচারী কিডনীরোগীদের জন্য কৃত্রিম কিডনি বানিয়ে মানবজাতীর জন্য কাজ করে যায়। এখনও দেখি শত দারিদ্র্য এই গরীব মানুষগুলোর বেচে থাকার ইচ্ছেটাকে হত্যা করতে পারে না!

আমি বিপ্লব করতে চাই কিন্তু আমি নিজে ছিলাম ছন্নছাড়া। কিছু কিছু ঘটনা আমাকে বদলে দেয়, একসময় প্যাথেড্রিনের খোজে রাস্তায় বেরোতাম, হাতে ভরে কোথাও শুয়ে থাকতাম একটু শান্তির ঘুম দিবো বলে। ঘুম হতো কিন্তু শান্তি ছিলো না। তাই বাবা মায়ের শান্তি তছনছ করে আমি দেশ ছেড়ে পালা্ই, পালিয়ে বুঝতে পারি আমি কিভাবে ধ্বংস করছি। সাগরে কোনো কিছু তলিয়ে গেলে সেটাকে আর খুজে পায় না কেউ যদি না সেখানে কোনো মূল্যবান কিছু থাকে। আমি কখনোই তেমন মূল্যবান ছিলাম না, নিজেকে আস্তাকুড়ে ফেলে দেয়ার চূড়ান্ত ব্যাবস্হাই করছিলাম বৈকি!

একদিন কেউ আমাকে জানায় কেউ আমাকে নিয়ে ডায়েরীর পাতাগুলো ভরে ফেলেছে। একটা পৃষ্ঠা পড়ে ভয় পাই, আবারও সেই সম্পর্কের অবগাহন, যা আমাকে একবার ডুবিয়েছিলো, যার আঘাত বয়ে চলেছি বছরের পর বছর। কথা হয়, স্বপ্ন দেখায়। আমি স্বপ্ন দেখতে ভয় পেতাম, সহিংস বিপ্লবের স্বপ্নটাই যেনো আমার একান্ত ইচ্ছা!

সুনামীরে তোড়ে ভাসিয়ে নিয়ে যাবো পুরো জনপদ, যা বেচে রইবে তাই পরিশুদ্ধ, আর যা হারাবে তা ছিলো কলংক। অথবা একটা বড় ব্লাস্ট, নিউক ব্লাস্ট। একটা ধ্বংসপ্রায় জনপদ খোড়াতে খোড়াতে আবারও জেগে উঠবে, তখনি সে তার সব খারাপগুলোকে বিদায় জানাতে পারবে! বিশ্বাস নামের জিনিসটা ছিলো শূন্যের কোঠায়! অলৌকিকতায় আমি বিশ্বাস করি না, তাই যদি ঈশ্বর বলে কিছু থাকে তাহলে আমার এই পোড় খাওয়া জীবনটা একদিন শুধরাবে, আর যদি সে না থাকে তাহলে কোনো অলৌকিকতা অপেক্ষা করছে না আমার জন্য!

অলৌকিকতা আসে, সে একজন আমাকে বাচতে শেখায়, মনের মধ্যে থেকে আত্মবিধ্বংসী জিনিসগুলো উপড়ে ফেলায়, বাচতে শেখায়। তখনও যখন মনে হয়েছিলো প্যাথেড্রিন কয়েক পুল নিলে কেমন হয়, সে এসে হাত বুলিয়ে রাতের আধারে, বলে ,"এই তো আমি, আমি আছি!"

ফাট্টু আমার লাইফ বদলে দেয়, সেই আমার মিরাকল, ২০১১ সালটার শেষ দিনে একটা জিনিস জানতে পারলাম, আমার স্বপ্ন পূরন হয়েছে, ঈশ্বর সত্যি আছেন, আমার জন্য সত্যি একটা অলৌকিক কিছু অপেক্ষা করে আছে!

আমি তাই দেশ নিয়েও হতাশ নই, বিপ্লব একদিন হবে। সারা বিশ্বে যেই আরব বসন্তের ঝড় বইছে, আমি জানি আমাদের দেশেও একদিন হবে, আমরা আমাদের সোনালী বাংলাদেশ দেখবোই। আমরা আবারো নতুন আলোয় বাচতে শিখবোই। যত বড় সুনামী আসুক, যত বড় ঝড় আসুক, আমি আমার স্বপ্ন পূরন করবোই!

শুভ নববর্ষ!

আর সামনের বছরের যেকোনো সময় আমরা বিয়ে করবো যদি ফাট্টু রাজী থাকে। কেউ কি আছেন তাকে বোঝাতে আমি ছেলে দেখতে বদসুরত আর পচা হলেও ওকে সুখি করতে পারবো? দোয়া করবেন সবাই!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29513779 http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29513779 2012-01-01 00:17:37
পুচকিশদের জন্য কোয়ান্টাম ফিজিক্স! না বুঝলে কান্না কাটি কইরো না, আমার কাছে টিস্যু নাই! ৭ম পর্ব ! প্রথম পর্ব
দ্বিতীয় পর্ব
তৃতীয় পর্ব
চতুর্থ পর্ব
পন্ঞ্চম পর্ব
ষষ্ঠ পর্ব
সহযোগী লেখা: পার্টিক্যাল ফিজিক্স এপেন্ডিক্স!



অনেক দিন পর লেখা খানা শুরু করলাম। তার আগে একখান গপ কই। একবার গাও গেরামের লোক ঢাকা আইলো চানখারপুলে তার ভাইয়ের লগে দেখা করতে। তো গাবতলী নাইমা বিদিক হইয়া তাল হারাইয়া এক লোকরে জিগায়,"ভাইজান, চান খার পুল যামু, কুন দিকে?" লোকের গাড়ি ছুইটা যাইতেছে, তাই কুনমতে আঙ্গুল দেখাইলো সোজা ট্যাম্পু স্ট্যান্ড। তো গেয়ো লোকটা ঠাহর করতে না পাইরা সামনে যাইতেই দেখে একখান ট্যাম্পু দিলো ছাইড়া। দৌড়ায় যাইয়া ঐটায় উইঠা ভিতরে বসে। নামায় দেয় মহাখালী। মহাখালী আইসা কুনো বিদিক করতে না পাইরা আবারও একজনরে ধরে। সে দেখায় দেয় ৬ নম্বর বাস। তো চাচা রাস্তা ক্রশ না কইরাই উইঠা গেলো ৬ নম্বর বাসে। বিদিক ঘুরনি দিয়া নামাই দিলো গুলশান ২। সুন্দর সুন্দর মাইয়া থিকা নজর ঘুরাইয়া যখন সন্ধ্যা হইয়া গেলো তখন বনানী ব্রীজে খাড়াইয়া কয়,"চানখার পুল আইতে গিয়া কুন পুলে আইলাম? দুই দুই খান পুল দেখা যায় কিন্তু কারো নাম তো চান খা না! এই চান খা আছিলো কেডা?"

শুরু করি বয়ান!

আমাগো দেশে যখন কুশিক্ষা ভর করছিলো মানে ব্রিটিশ আমলে তখন হঠাৎ কইরাই কিছু লোক বিজ্ঞান শিক্ষার উপর জোর দিলো। তখন দেখা গেলো সবদিকে বিজ্ঞান শিক্ষা ছাড়া সকল শিক্ষাতেই জোয়ার আসলো। দেশ দুইবার স্বাধীন হইলো, দেশের মাথারা বুঝলো এইবার বিজ্ঞান শিক্ষায় জোয়ার আনবো। সমস্যা হইলো নদীর পানি শুকায় গেছে জোয়ার আইবো কেমনে? তাই অখন যেখানেই বিজ্ঞান শিক্ষা সেখানেই একখান ডেস্কটপ পিসিতে লুডু র গেম আর জিপির ইন্টারনেট মডেম ধরায় দিয়া লাগায় দেও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি!
তয় এইখান থিকা মানুষ একখান জিনিস শিখছে। ধরেন বাজারে মাছ উঠছে। তো বাজার আছে মাছ উঠনোর লিগা, বাঘ মহিষ তো উঠাইবো না। তো একজন কইলো বাজারে খালি মাছ ই উঠছে! অখন আপনে কি করবেন? তারে বিশ্বাস করবেন না নিজে গিয়া দেখবেন? আপনে নিশ্চয়ই নিজে যাইবেন, দুই তিনমিনিট টান্কি মাইরা চাচা মিয়ার দুকানে বাকির খাতা খুলতে কইরা ৩০ টাকার নাস্তা কইরা ৫ টাকা ধরায় দিয়া কইবেন বাকির খাতা ব্যালেন্স করতে। তার পর যাইবেন মাছপট্টিতে আসলেই মাছ উঠে নাকি বাঘ মহিষে লুডু খেলে! আজব একখান দেশ, সবাই বৈজ্ঞানিক হইয়া গেছে!

কথা হইলো থিওরী যখন দিলো তখনই ঐটা নিয়া টেস্ট করতে হইবো! এইটাই মিলাই দেখবো যে টেস্ট রেজাল্ট মিলে কিনা থিওরীর সাথে! এইটারেই বলে মেথডোলজিক্যাল বিজ্ঞান। /মেথডলজিক্যালের বাংলা মানে জানি না। বাচ্চা লোগ ক্যাচাল কইরো না!) তো পদার্থবিজ্ঞানের সব থিওরীর পিছনে এমুন কিছু কথা থাকে যেইটা আমরা গনিতের ভাষায় বাইর করি। ডেরাইভেশনের চীপায় চীপায় নানা ভ্যারিয়েবল নানা রকম আকাম করে। সেই আকামে থাকে নানা রকমের কাহিনী। আর ফলাফল যা আসে সেই কাহিনী সেইখান থিকাই মোড় নেয়। আর এইভাবেই পয়দা হয় থিওরী। অখন থিওরী দিলেই হয় না, সেইটার প্রমান দরকার, অমুন মাছপট্টির কাহিনীর মতোন!

তো পার্টিক্যাল ফিজিক্স নিয়া কাজ করতে হয় তখন লোকজন আসলে কিছু ডাটার দিকে তাকায় থাকে যেগুলা মূলত কতগুলো নম্বরের গুচ্ছ, সোজা বাংলায় সেন্সর রিডিং। এই যেমন তার টেম্পারেচার কত, তার গতি কত, তার এনার্জী কত, ক্ষয়ের রেট কেমুন, কৌনিক দূরত্ব হাবিজাবি। সেগুলা নির্দিষ্ট থিওরীর ফর্মূলায় বসানো হয়। যদি মিলে তাইলেই কওন যায় কিছু পাওয়া গেছে!
তত্বগত আবজাব আর ল্যাব এক্সপেরিমেন্টের পর্যবেক্ষনের মধ্যে দিয়ে উচ্চ শক্তির পদার্থবিদ্যা দাড়িয়ে আছে একখান সেতু বানাইয়া! তো সেই সেতু নিয়া যতসব কাহিনী বা জার্নাল পেপার লেখা হয় তা মূলত চার শ্রেনীর।

এক্সপেরিমেন্ট
কম্পু সিমুলেশন যেমন ম্যাটল্যাব, ফিজিক্স কমসোল, এইচডিটেক্ট ইত্যাদি
ফেনোমেনোলজি এইটা হইলো কোনো ঘটনা ঘটলে তা বাজারে থাকা থিওরীগুলার সাথে মিলাই দেখা যে কাহিনী সত্য কি না!
তত্ব!


সব শক্তির জোড় দেয়া: জোড়া তালির বিজ্ঞান

বিজ্ঞান মানেই হইলো সবগুলানের সাথে জোড় দেয়া আর এইটা করে একটা সামন্জ্ঞস্যপূর্ন ফ্রেমওয়ার্কে রাইখা সবগুলার সাথে মিলন ঘটায় দেয়া। যেমন কেমিস্ট্রি জৈবিক শাখার সাথে বায়োলজীর একখান ইঙ্গ-মার্কিন গুপন আতাত দেখা যায় আবার এর মধ্যে যারা জেনেটিক্সের পাগল আর নিও ডারউইনিজম নিয়া স্বপ্ন দেখে তারাও লাইন দেয়।
এমন কইরা বলা যায় বায়োলজী সকল সিস্টেমই হইলো কেমিক্যাল সিস্টেম। আর সকল কেমিক্যাল সিস্টেমই হইলো মেন্ডেলিফ কাকার পর্যায় স্মারনী। আর সবগুলা মৌলিক কনাই ঐ সাব এটমিক পার্টিক্যাল যেগুলান ভাংলে শক্তির তরঙ্গ পাইবেন E=mc^2 অনুসারে !

তার মানে দেখা যাইতেছে যদি কথা ঠিক থাকে স্ট্রিং থিওরী দিয়া দুনিয়ার সকল বল আর কার্যকারনের ব্যাখ্যা দেওন যাইবো! স্ট্রিং থিওরী সকল বলের মিলন ঘটাইতে পারবো।

নানা বিজ্ঞানী এইটা নিয়া কাম শুরু করলো, ম্যাক্সওয়েল আমরা যখন ইলেক্ট্রিক্যালে ৩য় সেমিস্টারে পড়তেছিলাম তখন দেখায় দিলো এই তড়িৎ বল আর চৌম্বকীয় বল কেমনে একে অপরের সাথে বিয়া কইরা এক হইয়া তড়ীৎ চৌম্বকীয় বল হইয়া যায় যেইটা দিয়া আপনে আমি জিপি পাগলা লিংক ব্যাব হার করি! পরে আইন্সটাইন মামা আরও কয়েকজনরে এক লগে কইরা তার পরানের স্হান আর কাল রে এক লগে কইরা একখান মাত্রা বানাইলো স্হাল কাল মাত্রা তার স্পেশাল রিলেটিভিটি তত্ব দিয়া পরে সেইটারে আরও দলাই মলাই কইরা এটম বোমা ফাটাইয়া দেখায় দিলো কনা আসলে কিছু ই না শক্তির লীলাখেলা তার বিখ্যাত সূত্র E=mc^2 অনুসারে। আরেকটু আগাইআ আমাগো দেখাইলেন গ্রাভিটেশনাল বল আর স্পেশাল রিলেটিভিটি কেমনে পরকীয়া করে।
কোয়ান্টাম ফিজিক্সে আসলে কনা আর তরঙ্গ আলাদা কোনো বিষয় না, বরংচ এগুলান মূলত একই ঘটনা খালি দেখার পারস্পেকটিভ ভিন্ন!আপনের কাছে আপনের বৌ সুন্দর না লাগলেও আমার কাছে সুন্দর লাগতে পারে অনেকটা এই কাহিনী।

এই একীভূত করনের কাহিনী আরও একচোট গেলো যখন গ্লাসগো মামা স্ট্যান্ডার্ড মডেলের চার্ট ধরায় দিলো সবাইরে! কইলো মোটোমোটি সব ব্যাখ্যা আছে। কিন্তু গ্রাভিটি নিয়া একখান ফ্যাকড়া! কারও লগেই ঘর করে না। তো তার জন্য একখান গ্রাভিট্রন দিলেও ক্যারফা কিন্তু আছেই!

আসেন সব ভাইঙ্গা ফেলাই, তাইলে কি হইবো? বিজ্ঞানের প্রতিসাম্য বা সিমেট্রি!

বাজার থিকা ২০ টাকার আনারস কিন্যা আনলেন। দেইখাই বুঝা যাইতেছে এই সুঢৌল আনারসে কি রস আছে! মুখ দিয়া লুলে পড়নের আগেই ওরে খাড়া করাইয়া মারেন একখান কোপানী! দুইভাগ হইয়া গেলো। অখন দেখেন ভিতরে কি? দুইটা আলাদা অংশ কিন্তু ঐযে দাগ গুলান বোটা বোটা সবই এক জায়গায় খালি ডাইন বাম তফাৎ! অনেকটা এমুন যে আপনে আয়না দেখতাছেন। আপনের ডু্প্লিকেট ভাই সমস্যা হইলো আপনের যেইখানে ডাইন হাত ওর সেইখানে বাম হাত! সব ঠিক খালি ডাইন বাম ফারাক, মাগার মাঝখানের জিনিসগুলান জায়গায়! এইটাই হইলো প্রতিসাম্য বা সিমেট্রি!
এইটা তখনই সম্ভব যখন আপনে জিনিস খান হাতে নিলেন, নির্দিষ্ট ধারায় ঐটার রূপান্তর ঘটাইলেন যাতে ওর সামগ্রিক দিক দিয়া কোনো ব্যাত্যয় না ঘটে! কিন্তু যখনই এরকম রূপান্তর কাহিনীর তারতম্য ঘটায় তখনই বলা হইতেছে ভাঙ্গা প্রতিসাম্য বা ব্রোকেন সিমেট্রি!

মানে আনারস খানরে মাঝখান না কোপাইয়া আন্দাজে কোপান। অথবা একখান ভোচকা আয়না আইনা তাকায় থাকেন, দেখবেন চেহারা রঙ্গীন রূপবান আর হাত দুইখান বুড়া সলেমান খান!

আরও স হজ কইরা বুঝাই। ফটুক দেখেন। বায়ে একখান গোল আছে।



কেন্দ্র বরাবর চাক্কু মারেন। চাক্কুর দুইপাশ একই তার মানে এইটা রৈখিক প্রতিসাম্য অথবা লিনিয়ার সিমেট্রি অথবা প্রতিবিম্ব প্রতিসাম্য বা রিফ্লেকশন সিমেট্রি। আবার আপনে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরনি দিলেও একই কাহিনী এইটা হইলো ঘূর্নন প্রতিসাম্য। তার বাম পাশে দেখেন একখান ভচকাইনা বাক্স কাটা ধরছেন। এইটার মধ্যে একই রকম কিছু নাই। এইটা পুরাটাই অপ্রতিসাম্য!

তয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন প্রতিসাম্য হইতাছে অনুদিত প্রতিসাম্য। মানে আপনে একথাল ভাত এই দুনিয়াতে খাইলেও হজম হইবো অমনি আপনেরে প্লুটো গ্রহে রাইখা সকল প্যারামিটার ঠিক থাকলে মানে আপনেরে দুনিয়ার মতোন বাচতে দিলে ঐখানেও হজম হইবো! মানে এই দুনিয়ায় ফিজিক্সের যত ল আছে এইটা মহাবিশ্বের সব জায়গায় চলবো!
এখন আপনে ধইরা বইসেন না যে আপনের ভাত হজম কইরা টয়লেট পর্যন্ত নিয়া যাওয়াই হইলো প্রতিসাম্য, এইটা তার চেয়েও বেশী!
মহাবিশ্বের এনার্জী পর্যবেক্ষন কইরা একটা ধারনা পাওয়া গেছে সেইটা হইলো যেকোনো দিক দিয়াই দেখেন না কেন এই যে আমাদের এই স্হান বা স্পেস এইটা সবদিক দিয়াই এক। এই মহাবিশ্ব প্রথম থিকাই এমন প্রতিসাম্য অবস্হায় বিরাজমান!

ভঙ্গুর প্রতিসাম্য যদি না থাকতো, মহাবিশ্বের সবকিছুই একই রকম থাকতো সবদিক থিকাই!কিন্তু আসল কথা হইলো আমাগো মধ্যে আসলেই এমুন কিছু আছে যেইটা দিয়া দেখা গেছে যে মাঝে মাঝে এই প্রতিসাম্য ভাইঙ্গা গেছে!

অনেকেই বিশ্বাস করে যে চারখান মৌলিক বলের মধ্যে একখান প্রতিসাম্যতা বিদ্যমান, আবার একখান প্রতিসাম্যতা ভাইঙ্গাও গেছে যার জন্য আমাগো মহাবিশ্ব আজ এমুন রূপ নিছে! আর এই ভঙ্গুর প্রতিসাম্যের সাথে অতিপ্রতিসাম্যের একখান গুপন আতাত আছে যেইটা দিয়া স্ট্রিং থিওরীকে ব্যাখ্যা করা যায়!

এখন আসেন দেখি স্ট্রিং থিওরী কেমনে আইলো ক্লাসিক্যাল ফিজিক্স থিকা!
পয়লা হুনি পদার্থবিদ্যার কাম কি? এইটার কাম হইলো বস্তু নিয়া পড়া লেখা করে আর এইটা কেমনে সবার সাথে কেমনে কাম করে সেইটা নিয়া চিন্তাভাবনা করা। স্ট্রিং থিওরী হইলো সবচেয়ে মৌলিক বিষয় নিয়া ঘাটাঘাটি কইরা এমুন একখান তত্ব দিয়া যেই তত্বের একখান ইকোয়েশন দিয়া সবকিছুর ব্যাখ্যা দেওন যায়।
এর আরেক খান কাম হইলো ধরেন আপনে বাড়িত বইসা একখান চটকানার হিসাব বাইর কইরা যেই ফল পাইবেন আমার বাড়িত বইসা সেই একই চটকানার হিসাবও সেম পাইবেন এই প্রতিসাম্য নিয়াও এর মাথা ব্যাথা আছে!
আসলে পদার্থবিজ্ঞান এইখানে নিজেরে অনেক উপরে নিয়া গেছে! এই যে আপনে খান ঘুমান বাচ্চা পয়দা করেন, আকাম করেন, দুর্নীতি করেন, সবই পদার্থবিজ্ঞান দিয়া ব্যাখ্যা করা যায় যেগুলান মূলত বিভিন্ন নিয়ম নীতি অনুসরন কইরা চলে।
আগেকার মানুষরা ভাবতো কুন জিনিসটার কারনে একেক জিনিস একেক রকম হয়। চাইনিজ বোচন আর গ্রীক উচাটন গো এইটা মাথা ব্যাথার অন্ত আছিলো না!তেনারা নানা তত্ব দিলো কইলো মাটি পানি বায়ু আগুন ধাতু দিয়া এই সবকিছু তৈরী।মাঝখানে কয়েকটা ধর্ম আর কিছু দর্শনো ঐগুলা থিকা মাইরা দিয়া নিজেগো তত্বের বিস্তার ঘটাইলো!
এরিস্টটল মিয়াও এইসব নিয়া লগে ইথার যোগ করলো। কইলো দুনিয়ার বাইরের মহাবিশ্বে এইটা আছে! রেনেসার সময়ে বিজ্ঞানীগো হুশ হইলো আসলেই এমুন কিছু তত্ব আছে যার উপর ভিত্তি কইরা দুনিয়া ঘোরে। নিউটন সাহেব আরেকটু খোলাসা করলো। একখান মানুষরে থাবড়া মারলে সে উইড়া যায় না কেন? নিশ্চয়ই ব্যাটার একখান ভর আছে! শুরু হইলো ভর নিয়া কাহিনী!
এর কিছু দিন পর বাজারে আসলে শক্তির নিত্যতা তত্ব, যার মানে শক্তির ধ্বংস নাই, তয় রূপান্তর আছে!
দুনিয়ার কোনো বস্তুই একা একা চলে না যতক্ষন না তার লগে কিছু এক্সট্রা বল যোগ না করেন! নাইলে সেই কুইড়ার মতো জায়গায় বইসাই থাকবো! সো হি নিডস এ ঠেলা! সেরকম এনার্জী সংরক্ষনের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা একটু ঝামেলার। থার্মোডিনামিক্সের ল গুলান দেইখা যদি মাথা চক্কর না দেয় তাইলে বুঝবেন যে এগুলা আসলে বস্তুর মতো এতটা কুইড়া না!
গতিশক্তি পাওয়া যায় যখন একখান বস্তু দৌড়ের উপর থাকে। বস্তুর মধ্যে স্হিতি শক্তি লুকায় থাকে যারে ঠেলা মারলে গতিশক্তিতে রূপ নেয়। তো বস্তুর মোট শক্তি পাওন যায় এই স্হিতি শক্তি যোগ গতিশক্তি যেইটা দিয়া বুঝবার পারি একটা বস্তুর ভিতরে কি পরিমান শক্তি আছে আর তার কি পরিমান শক্তি অন্য শক্তিতে রুপান্তর হইবো!
তো এইখানে স্ট্রিং থিওরী ভবিষ্যদ্বানী করে যে একখান বস্তু ছোট ছোট প্যাকেটে কইরা ছোট ছোট জায়গায় বিপুল পরিমান শক্তি জমায় রাখে। এখন তার এই ভবিষ্যদ্বানী পরীক্ষা করতে গিয়া যে পরিমান শক্তির প্রয়োজন এমন যন্ত্র তৈরী করন আপাতত সম্ভব না বইলা স্ট্রিং থিওরী বাইচা গেছে!

ঘুমাইতে আছে! বাকী কথা পরের পর্বে কমু নে! হেপী শুভ নতুন ইয়ার সবার লিগা!

আরেকখান কথা এইটা কিন্তু আমার সার্টিফিকেট বার্থ ডে। আসলটা না

চলবো!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29513247 http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29513247 2011-12-31 09:47:08
যুগের ডায়রিয়া লাগানো খবর: নতুন পার্টিক্যাল খুইজা পাওয়া গেছে ঘন্টা খানেক আগে এলএইচসির ডাটা থিকা, যদিও টাটকা খবর হইলেও কোনো... দাতে ব্যাথা, কপি পেস্ট মারলাম তার নাম : cb(3P)

নামের মাজেজা নিয়া কেউ জিগায়েন না, তয় এই পার্টিক্যাল খানের কাম কি সেইটা কই:

ফার্মিল্যাবের ডি জিরো নামের একটা এক্সপেরিম্যান্ট আছিলো টেভাট্রন কোলাইডরে যেইটা এখন পুরাই বন্ধ। ঐখানে একটা কোলাইডার সিন্কট্রোনে প্রোটন আর এন্টি প্রোটনরে গরম কইরা মাথা নষ্ট কইরা ছাইড়া দিতো গোলাকার সিলিন্ডারে। ঐখানে তারা ঘুরতে ঘুরতে মাথায় মাথায় ঠোয়া খাইতো।

তো এই প্রোটন আবার তৈরী তিনখান কোয়ার্ক নামের কনিকা দিয়া। দুইখান টপ আরেকখান বটম কোয়ার্ক। আসলে কোয়ার্কের মান আমরা তাগো ঘুরানী দেইখা পাই। যেইটা টপ সেইটা হইলো উপ্রে আর নীচে হইলো তার ঘুরনি। তো এগুলান আটকায় আছে গ্লুওন নামের বস্তার ভিতর। তো কথা হইলো এই কনিকা খান একখান উপরে আরেকখান নীচে ঘুরন্তি এইগুলান একটা সাথে একটা লাইগা আছে কেমনে?

টেভাট্রনের ডি জিরো এক্সপেরিমেন্টে যখন এই নীচার দিকে ঘুরা বিউটি বোটম কোয়ার্ক নিয়া গবেষনা চলতাছিলো তখন এক প্রফ কইছিলো এগো আটকানোর জন্য একখান কনা আছে, তয় এইটা সে দেখাইবার পারে নাই। বেচারা তখন এই মুখ ফইসকা থিওরী দেওনের লিগাই পিএইচডি বোগল দাবা করে আর আজকা কিছুক্ষন আগে হিসাব কইরা দেখায় যে এলএইচসির গত কলিশন এক্সপেরিম্যান্টে মিউন ডিটেক্টরে কিছু ধাক্কা ধাক্কির খুজ পাইছে। প্রথমে তো ভাবছিলো আমাগো বাংলাদেশের কুলি ছবির নায়িক পপি, পরে দেখলো না এইটা একটা পার্টিক্যাল। আর এইটাই তার হারাইয়া যাওয়া থিওরীর কাহিনী। ভরের রেন্জ্ঞ পাইছে ১০GeV তে!

বোলগার রিফাত হোসেন মন্তব্যে একখান বুদ্ধি দিছে, যেইটা আমি ফেলবার পারতাছি না। তাই ভাবলাম উনার রিকোয়েস্ট না ফেইলা পোস্টে সাটাই দেই!

তার আগে একখান ফটুক দেখেন:



তো এইটা হইলো একখান প্রোটন যারে ভাংলে এগুলান দেখা যাইবো। স হজ ভাবে কইতে গেলে ৯-১০ এ পড়ছিলেন কি অনু ভাংলে পরমানু আর পরমানু ভাংলে ইলেক্ট্রন আর নিউক্লিয়াস পাবেন?

তো আপনে নিউক্লিয়াস ভাংলেন, ভাংলে পড়ে কনিকা হিসাবে পাবেন নিউট্রন আর প্রোটন। তো আপনে প্রোটন ভাংলেন। প্রোটন ভাংলে পাবেন দু ধরনের তিনটি কোয়ার্ক কনিকা। টপ, টপ আর বটম কোয়ার্ক। দুটো টপ কোয়ার্ক গ্লুওন দিয়ে আর টপ বটম একে অপরের সাথে কোয়ার্ক এন্টি কোয়ার্ক জোড়া দিয়ে লাগানো। এই কনাটার কাজ হলো এই কোয়ার্ক আর তার এন্টি কোয়ার্ক জোড়া লাগানোর কাজ টা করে!
এই একখান আচায্য তথ্য দেই এই যে টপ কোয়ার্ক এইটার ভর কার সমান জানেন? পুরা একখান সিলভার অনুর সমান! তার মানের প্রোটনের থিকা অনেকগুন বেশী! কন তো কেমনে? জানবার চাইলে আমার এই ফটকাবাজী পোস্ট পড়াবার পারেন!

যাই হোউক বলা হয় এই বটম কোয়ার্ক আর তার এন্টি বটম কোয়ার্করে এক ছাদের নীচে সংসার করানোর পিছনে এর হাত আছে! আর কনিকাগুলান নিউক্লিয়াসের ভিতরের জেলে যেই শক্তিশালী মিথস্ক্রিয় শক্তির কারনে জেল খাটতাছে এই কনিকাও একই কাম করতাছে!

মিউন মিউন ডিটেক্টরে খোজ পাওয়া এই কনিকারে কেমনে পাইলো জানতে চাইলে এই পেপারে কিলকান! পেপার খান লিখতে চাইছিলাম মাগার ঘুমে ধরছে!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29508351 http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29508351 2011-12-23 07:23:00
হিগস আপডেট...হিগসী মামারে পাওয়া গেছে তয় আরও শিওর হওন বাকী! আসেন বোগল বাজাই! আমি তারে কইলাম,"ঐ বেটা, স্কাইপে কল দিছ, বিল উঠে কেমনে?" লগে লগে কল কাইটা দিলো!

বড়ই তিক্ত অভিজ্ঞতা এই হিগস নিয়া বাতচিত করা। তয় ব্লগে এইটা নিয়া কথা কইয়া মজা আছে। আমি খালি কইয়াই যাই মাইনসে কিছুই কয় না। মারেও না ধরেও না!

যাই হোউক আমার লেখা গুলার লিংকু দেই আগে:
আমরা ভর পেলাম কিভাবে?: হিগস বোসন- পর্ব ১
আমরা ভর পেলাম কিভাবে?: হিগস বোসনের ইতিবৃত্তান্ত এবং কিভাবে খোজ পেতে পারি-২
আমরা ভর পেলাম কিভাবে? হিগস বোসনের হিসাব নিকাশ-৩ (শেষ পর্ব)
যাই হোউক, যারা বুঝেন নাই, ঐ লিংকে যাওনের দরকার নাই। কারন ঐখানে অনেক ইকোয়েশন অনেক ফিগার অনেক টেক্সটবইয়ের কথা আছে!

আমি এই পোস্টে সোজা ভাবে কিছু বলি! খুবই সোজা জিনিস!

ভর কি? নিউটন মামার বেল তলায় বইসা বললো F=ma । নিউটনের ২য় সূত্র। ধরেন আপনে খাড়াই আছেন। আপনেরে দিলাম ঠেলা। আপনে দুই তিন স্টেপ আগায় গেলেন। তো আপনে আমারে চর থাপ্পড় মারবেন কিনা তার আগে নিউটন তার ল দিয়া গেছে। ভরযুক্ত আপনেরে শক্তি দিয়া ঠেলা দিলে আপনে ত্বরন প্রাপ্ত হইলে ঠেলার দিকে আগাই যাবেন! মাইরের হিসাব টা অবশ্য কয় নাই!

তারপর আইনস্টাইন আইসা আগে আনবিক বোমা ফাটাইলো তারপর E=mc^2 সম্বন্ধে জ্ঞান দিলো। এর মানে হইলো ভর ফাটাইলে যেই শক্তি পাওন যাইবো সেইটা দিয়া এটম বোমা বানান যাইবো। কি সর্বনাশা কথা!

তয় আমাগো উপরের দুই আতেল মামু থিকা এইটা শিওর বস্তুর ভর কিছুই না শক্তি থিকা আইছে! কিন্তু আপনে আমি সবাই জানি শক্তির কোনো ভর নাই। একখান থাবড়া খাইলে আপনে ভর অনুভব করেন না, তয় আপনের ৩২ দাত ভাইঙ্গা যাওনের আলামত অনুভব করেন। তাইলে ভর আইলো কই থিকা?

জটিল কুশ্চেন যেইটা নিয়া মানুষ কুটিকাল থিকা কাজ করতাছে আর খালি এইটার উপর কাজ কইরা ৩১ জন ধান্ধাবাজ বিজ্ঞানী নোবেল পুরস্কার লুট করছে! কি তমশা! ধান্ধাবাজী কত রকমের আর কি কি সেইটা এগো কাম দেখলেই বুঝন যায়!

যাই হোউক, এগো কাম কিছু না, রাস্তায় একখান ইট পাইলে আমরা যেমুন ভাঙ্গি, তেমনি তেনারা অনু পরমানু আজাইরা কামে ভাঙ্গন শুরু করলো। পাইলো ইলেক্ট্রন আর নিউক্লিয়াস। নিউক্লিয়াস ফাটাইলো পাইলো নিউট্রন আর প্রোটন। সবগুলার ভর মাপলো। তো বৈজ্ঞানিকরা নোবেল প্রাইজের লোভে এই প্রোটন আর নিউট্রনো ভাইঙ্গা ফেললো। পাইলো কিছু কোয়ার্ক আর গ্লুওন! তিন ধরনের কোয়ার্ক (আপ, আপ আর ডাউন মানে এগো ঘুরনের ডিরেকশন উপর দিকে দুইটা আর একটা নীচের দিকে) বাইন্ধা রাখা হইছে গ্লুওন নামের আইক্কা আঠা দিয়া! যাই হোউক, এতো ভাংচুর কইরাও এগো মন ভরে নাই। তারা আরো ভাংতে লাগলো। রাইত দিন ভইরা খালি ভাংতেই লাগলো! এত ভাঙ্গাভাঙ্গির পর তারা একখান চার্ট বানাইলো আর কইলো এইগুলান দিয়াই আমাগো মহাবিশ্ব তৈরী। এর পর আর কিছু নাই! আসেন আমরা সবাই মিলা ভাংচুর করনের পর মামারা কি পাইলো তার ফটুক দেখি, এর নাম স্ট্যান্ডার্ড মডেল।

সমস্যা হইলো এগো ভর মাপতে গিয়া। ভর মাপতে গিয়া দেখা গেলো টপ কোয়ার্ক নামের একখান কনিকার ভর হইয়া গেছে একখান সিলভার অনুর সমান যেইখানে ইলেক্ট্রনের ভর খুবই কম। ইলেক্ট্রন প্রোটন যদি এই কোয়ার্ক দিয়া বানানো হয় তাইলে এর ভর এগো চেয়ে বেশী হয় কেমনে? নীচের ফটুক খান দেখেন কি কাহিনী! কেমতে কি?



মনে পইরা গেলো সেই কাহিনী বিলাইয়ে দুই কেজী গোস্ত খাইছে, বিলাই মাইপা দেখে দুই কেজী, যদি গোস্তের ওজন দুই কেজী হয় তাইলে বিলাই গেলো কৈ? আর এইখানে তো কাহিনী আরও ভজঘট। বিজ্ঞানীরা নানা ভাবে ভর মাইপাও দেখে একই কাহিনী। একে তো এনার্জী থিকা ভর আহে কেমনে সেইটার কুনো খবর নাই তার উপর দুই কেজী গোস্ত খাওয়া বিলাইয়ের শরীরে গোস্ত আর বিলাইয়ের ওজন বিচড়ায় পাওন যাইতাছে না!

তখন ১৯৬৪ সালে এক বুড়া কইলো আসেন আমরা একখান ক্ষেত্রর কথা চিন্তা করি। যেই ক্ষেত্রটির নাম হিগস। এই ক্ষেত্রের লগে যেই কনিকা যতোবেশী ইটিস পিটিস করবো মানে পেয়ার করবো সেই কনিকার ওজন ততবেশী বাড়বো! মানে কাহিনী একটু ভালগার। স্বামী স্ত্রী বিয়া হওনের পর দুইজন থিকা তিনজন হওনের যেই কাহিনী আর কি! ডিটেলসে কইতে শরম লাগলেও উপায় নাই!

তো হিগস ক্ষেত্রের সাথে যেইসব কনিকা যত বেশি নষ্টি ফষ্টি করবো ততবেশী ভর বাড়বো আর যারা করবো না তাগো ভর কমবো বা থাকবো না। তো ভালা কথা। সবাই এইটা নিয়া আরো চিন্তাভাবনা করতে লাগলো!

কোয়ান্টাম ফিল্ড থিওরী অনুযায়ী একজন বইলা উঠলো তাইলে হিগসের ক্ষেত্র যদি পানির মতো হয় তাইলে এর মধ্যে অবশ্য কনিকা থাকতে হইবো।

(নীচে ২৫ নম্বর কমেন্টারের অনুরোধে এই লাইনটা অবশ্য একটু ব্যাখ্যার দাবী রাখে! আমি চাইতাছি এইটা সহজ ভাবে বুঝাইতে। আপনেরে একটু কোয়ান্টাম ম্যাকানিক্সের লক্কর ঝক্কর ভাষা বুঝানোর আগে একটা স হজ উদাহরন দেই। ধরেন আপনের সামনে একটা সমুদ্র, এই সমুদ্রটা হইলো একটা হিগস ফিল্ড। তো আপনে এইখানে নামলে আপনের শরীর ভিজবো, সাতার কাটলে আপনের শরীর পানিতে চুপচুপা হইয়া যাইবো। তার মানে পানি আপনের শরীরে লাইগা রইছে। হিগসের কনসেপ্ট হইলো অনেকটা এমন। হিগসের ফিল্ডের সাথে যখন কোনো কনা সংস্পর্ষে আইসা এর সাথে পীড়িত করে তাইলে সে গর্ভবতী থুক্কু ওজনদার হইয়া যায়। যে যতো বেশি সম্পর্ক বানায় সে ততবেশী ওজনদার হয়। এখন কথা হলো পানি যেমন অনু দিয়া তৈরী তেমনি হিগস ফিল্ডও হিগস কনায় ভরা।
এইটা কোয়ান্টাম ফিল্ড থিওরী দিয়া ব্যাখ্যা করন যায়। কোয়ান্টাম ফিল্ড থিওরী যদি বুঝতে যান তাইলে দেখবেন ল্যাংগ্রান্জ্ঞ দিয়া পার্টিক্যালের বাপ ডাকায় দিছে। তো আমরা বাপ ডাকতে চাই না, আমরা সাধারন ভাষায় বুঝি। কোয়ান্টাম ফিল্ডে কখনও কনা কখনও শক্তি বা এনার্জীর তরঙ্গে পরিপূর্ন (শ্রোয়েডিঙ্গারের ইকোয়েশন)। এখন কনিকা ভাংলেই এনার্জী আবার এনার্জী থিকাই কনিকা এইটা আমরা জানি E = mc2 অনুসারে, তাই এখানে কোয়ান্টাম ম্যাকানিক্সের চেয়ে কোয়ান্টাম ফিল্ড থিওরী দিয়া বুঝন দরকার। তো এই ফিল্ড তৈরী করনের জন্য এই কখনও কনিকা কখনও এনার্জী তরঙ্গের বৈশিষ্ট্যে পরিপূর্ন হয়ে থাকে। এইটা হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা থিকাই ডিরাইভ কইরা আপনে তাগো ভর এবং চার্জ স্বতন্ত্রভাবে নির্ধারন করতে পারেন!

এই কনিকাগুলোকে ভার্চুয়াল কনিকা বলা হয়। হিগস ফিল্ডও তেমনি ভার্চুয়াল হিগস কনিকায় পরিপূর্ন যারা খুব অল্প সময় ক্ষনস্হায়ী! আমার এই ব্যাখ্যা বুঝতে সমস্যা হইলে গুপ্তঘাতক007 এর ২৭ নম্বর কমেন্টের শেষের অংশ দেখতে পারেন। উনি একেবারে বাবুতোষ ভাষায় উল্লেখ করছেন!)

হিগস চাচায় খপ কইরা কইলো এই কনিকার নাম হিগস বোসন কনিকা। পানি যেমন অনু দিয়া তৈরী তেমনি এইটারও সেই কাহিনী! তয় এগুলা খুবই ভার্চুয়াল কনিকা মানে এই আছে এই নাই। এই যখন হইলো তখন কারো লগে পেয়ার কইরা তার লগে জুইটা গেলো, এর স্হায়িত্ব হিসাব অনুযায়ী ১০^-২২ সেকেন্ড! খুব দ্রুত ক্ষয়িষ্ঞু ভাগা পার্টি। মাগার কথায়তো আর চিড়া ভিজে না, সবাই কয় আগে দেখাও তারপর কথা!

কত লোক খুজা শুরু করলো, মাগার পাইলো না। তাই তারা নানা স্ট্রাটেজীতে খুজতে লাগলো। যেহেতু হিগসী মামা ক্ষয় হইয়া যায় তখন তারা ভাবতে লাগলো কি কি পার্টিক্যালে ক্ষয় হয় আর কত ভরের রেন্জ্ঞে নিলে এ কোন কোন পার্টিক্যালের সাথে ভর যুক্ত করে। এইটাই হইলো কাহিনী আর ঠিক এইভাবেই এইটারে খুজা হইতাছে! আমার ঐ তিনটা পোস্টের পুরা কাহিনী এইভাবেই শর্টে কইয়া গেলাম!

এখন আসি ডিসেম্বরের ১৩ তারিখে বৈজ্ঞানিকরা কি কইছে! তার আগে ওগো এইলিংকটা দেখেন যেইখানে ওগো সব হিসাব নিকাশ পাইবেন শর্টে!। যারা ফিজিক্সের ছাত্র তারা এইটা বুঝবেন যে হিগস এরা বেশ কয়েকবার পাইছে কিন্তু কনফিডেন্স লেভেল বাড়াইতাছে!

কনফিডেন্স লেভেলের কথা এইজন্য আসতেছে যে এরা বিভিন্ন ভরের মধ্যে খুজা শুরু করছে যার ফলে দেখা যাইতেছে যে ঐ সব ভরের কারনে যেই নির্দিষ্ট পার্টিক্যেলের সাথে (টাউ, Z, W,বটম অথবা টপ কোয়ার্ক ইত্যাদি) লাইগা যায়। যেহেতু আমরা জানি না হিগসীর ভর কত হইবো তাই আমরা ১০০ Gev/c^2 থিকা শুরু করি তাইলে ৮১% সম্ভাবনা থাকে ইহা বটম কোয়ার্ক আর অল্প চান্স থাকে টাউ আর অন্যান্যতে ক্ষয় হওনের।এখন যদি আমরা ১৩০ Gev/c^2 ভরের রেন্জ্ঞে খুজা শুরু করি তাইলে W তে ক্ষয় হওনের চান্স ৩৩%, বটম কোয়ার্কে ৪৮% বাকী কিছু টাউ আর বাকী কিছু Wতে।

এখন মনে হয় বুঝা গেছে আমি কি কইবার চাই! এখন আসি ওগো হিসাবে কি আছে!
তার আগে একখান কথা কই এলএইচসি তে দুইটা ডিটেক্টর সাইজে ছোট বড় হইলেও এগো কাম একই একটা হইলো এটলাস আর একটা হইলো সিএমএস। বিজ্ঞানীরা যা করতাছেন দুইটা কলিশন এই দুই ডিটেক্টরের মধ্যে ঘটায় সেম প্রোটন বীমের শক্তি ঠিক রাইখা। পরে ডাটা যা পাওয়া যায় তা পরে মিলানো হয় এই জন্য যে ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজের কারনে ডাটা নিয়া যেনো কোনো সন্দেহ না থাকে অথবা কেউ যেনো প্রশ্ন না তুলে!

যাই হোউক কাজের কথায় আসি:

এটলাসের ঘটনা:

হিগসী মামা যখন গামা গামায় যায়: ১২৬ Gev তে যেই স্পাইকটা পাওয়া গেছে তার কনফিডেন্স লেভেল হইলো ২.৮ সিগমা!

হিগসী মামা যখন ZZ এ যায় : ১২৫ Gev এর কাছাকাছি ৩ টা ইভেন্ট হইছে যার মান ২.১ সিগমা

হিগসী মামা যখন WW তে গিয়া পরে ১ nu ১ nu তে ক্ষয় হয় : এইটার ডাটা এখনও পুরাপুরি দেইখা সারবার পারে নাই সবাই তয় ১২৬ Gev তে ১.৪ সিগমা

আর সবগুলার কম্বিনেশনে ক্ষয় হওনের কাহিনী: ১২৬ Gev তে ৩.৬ সিগমা!

সিএমএসের ঘটনা:

হিগসী থিকা গামা গামা: 123.5 GeV এ ২.৩৪ সিগমা

হিগসী থিকা ZZ : 126 GeV এর কাছে ২ টা ইভেন্ট যেখানে .৫ ব্যাকগ্রাউন্ডে পাওয়া গেছে!

সবগুলার কম্বিনেশনের ক্ষয়: 124 GeV তে ২.৪ সিগমা!


এই সিগমা মামার কাহিনী যদি জানতে চান তাইলে আপনেরা আমার ঐ কঠিন তিনখান পোস্ট পড়তে পারেন!

তার মানে বুঝা যাইতেছে হিগসের ভর হইলো ১২৬ Gev এর কাছাকাছি! তয় কেউ এখনও কইতাছে না যে পাওয়া গেছে। সবাই বলতেছে যে এইখানে তারা সিগনালের স্পাইক পাইতাছে ডিটেক্টরের ডাটা থিকা!

তয় এইখানে কথা আছে। সিএমএস এখনও কনফার্ম করে নাই। আর টেভাট্রনের এলইপি অনুসারে হিগসী মামার ভরের রেন্জ্ঞ এই ১২৬ এর মধ্যেই আছে। আর এই সব ডাটা কিছু নির্দিষ্ট চ্যানেল থিকাই আসতেছে যেইটা এটলাসের থিকা খুবই সুনির্দিষ্ট। চ্যানেল গুলান হইলো ডাই-ফোটন, ডাই Z বোসন, ডাই W বোসন আর সিএমএস যোগ করতাছে বি কোয়ার্ক (বটম কোয়ার্ক মানে নীচার দিকে ঘূরনী), টাউ লেপটনের জোড়াসহ আরও অন্যান্য চ্যানেল। সবগুলাই ঐ একটা রেন্জ্ঞের দিকেই তাকায় আছে!

নীচের চিত্র দুইটা থিকা বুঝবার পারবেন এগো কনফিডেন্স লেভেল কতখানি!



যেহেতু এখনও অনেক ডাটা পর্যবেক্ষন বাকী আর সিগমা লেভেলও অনেক কম (এরা আবার ৫ সিগমা না হইলে কোনো কিছু গোনায় ধরে না), সেহেতু আগামী মার্চে এরা আবারও একটা কলিশন ঘটাইবো যেইখান থিকা এরা ডাটা নিয়া বছরের লাস্টে সিগমা লেভেল বাড়াইয়া ঘোষনা দিবো!

এখন শুধু অপেক্ষা করাটাই আমাগো কাম! ভালো খবর আসলো বইলা!


অখন বাচ্চা লোগ, বাজাও তালি!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29503170 http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29503170 2011-12-15 04:54:21
আসেন ভাই দুইটা মিনিট মরনের চিন্তা করি, তয় ফিজিক্সের আলোকে না, বায়োলজির আলোকে!
ইদানিং আয়নায় তাকাইলে দেখি চোখে মুখে বয়সের ছাপ। যদিও এক্সারসাইজ আগের মতো করি না, কিন্তু সব কেমুন জানি ঝুলে লাল হইয়া গেছে! বয়স তো কম হইলো না, ৪০০ হইতে মনে হয় আর কয়েক বছর বাকী আমার! সেই যে ডাইনোসর আমলে পয়দা হইলাম, ডাইনোসর মইরা বইয়ের ফটুক হইয়া গেলো মাগার আমি অখনো বিয়াই করতে পারলাম না! আফসোস!

তয় আমার এতো বছর বাচনের কিছু রহস্য আছে! আসেন এই রহস্যগুলান পড়ি! টুটিটোপসিস ন্যুট্রিকুলা নামের একখান জেলীফিস মাছ আছে। আমি কোনো দিন ভাইজা খাই নাই। যাই হোউক খাইতে কেমুন জানি না। সমস্যা হইলো এই জিনিসটা নাকি মরে না। এই জেলিফিস যখন সেক্সয়াললী ম্যাচিউর হইয়া যায় বয়স বাড়নের সাথে সাথে, তখন নাকি এর বায়োলজিক্যাল গ্রোথ আবারও উল্টা দিকে চলতে থাকে।ডিম থাকে পেটে যখন এরা পুরুষ জেলিফিসের সংস্পর্শে আসে (আইসা কি করে এইটা আমি জানি না)। তার পর আন্ডা পারে। তারপর এই পুচকা হওনের প্রক্রিয়া শুরু হয় মানে এ যৌবন থিকা আবার পুচকা হইতে থাকে। পুচকা হওনের স্টেজের নাম পলিপ। পলিপে আসনের পর আবারও এর বয়স বাড়তে থাকে। যৌবনবতী হয়। এরকম ভাবে এই আকাম ঘটতেছে। মাগার মরনের নাম নাই!

এরে বলা হয় জৈবিক অমরত্ব! নিউজিল্যান্ডের দিকে এইটা পাওয়া যায় আর ডিটেলস পাইবেন উইকিতে!

কিন্তু সমস্যা এইখানে না। আমি কুটিকাল থিকাই একখান চিন্তা মাথায় নিয়া ঘুরি কিন্তু এনসার পাই নাই! ক্লাস এইটে যখন বার্ষিক পরীক্ষায় ব্যাকটেরিয়ার ফটুক আকতে দিলো তখন আমি মানুষের ক্রোমোজমের ফটুক আইকা দিলাম। যদিও আমি ১০০ তে ৬০ পাইছিলাম , কিন্তু মানুষের ক্রোমোজম আকতে গিয়া মাথায় একখান জিনিস খটকা খায়!

ধরেন আপনে বাজার থিকা ১ টাকার এটা ব্যাকটেরিয়া কিন্যা আনলেন। ব্যাকটেরিয়ার তো জীবন আছে, তাই না? ঐটারে খাওয়াইলেন পড়াইলেন। কয়েকদিন পর দেখলেন ব্যাকটেরিয়া ভাগ হইয়া দুইটা নতুন ব্যাকটেরিয়া হইছে। দুইদিন পর দেখলেন দুইটা থিকা মামারা ৪ টা তারপর আট টা। কথা হইলো আমি যেই ব্যাকটেরিয়া খান কিন্যা আনলাম ঐটা দেখি বাড়তাছে, আর কয়দিন পর আমার বাসায় খালি ব্যাকটেরিয়াতেই ভইরা গেলো। মাগার যেইটা আনলাম ঐটা কৈ গেলো? ঐটা বাদ দেন, এই যে এতগুলা এগুলা কি মরবো না? আমি বুঝলাম না, এইগুলান দেখি অমর হইয়া গেছে!

যদিও অনেকেই অনেক থিওরী দিছে কিন্তু কেউ প্রমান করবার পারে নাই। কেও কইছে ঐ ব্যাকটেরিয়ার আরএনএ র শক্তির উপর নির্ভর করতাছে ওর এমুন কাহিনী! আরো নানা মুনির নানা মত!

যাই হোউক, তয় আমি এইটা শিওর আমারও মরবার হইবো। আমি জেলিফিস বা ব্যাকটেরিয়া না। আমি মানুষ!

তয় একখান কোম্পানীর নাম শুনলাম সেইদিন! ক্রায়োরুশ! ওরা একখান আকাম করতাছে। ধরেন আমি থুড়থুড়া বুড়া হইয়া একেবারে মরনের সীমানায়। দুই একমিনিট পড়েই আমি মইরা যামু। ধরেন মইরাই গেলাম মানে আমার হার্ট বন্ধ হইয়া গেলো। মাগার আমার ব্রেন চালু আছে অথবা শরীরের সবকিছু ঠিক আছে। ডাক্তাররা শক দিয়া আমার হার্ট চালু করলো না। তখন ওরা করবো কি নাইট্রোজেনে বয়েলিং পয়েনটে (-১৯৬ ডিগ্রী) আমারে ফ্রিজ করবো তার আগে আমার শরীরে ক্রায়োপ্রটেক্ট্যান্ট সল্যুশন ঢুকাই দিবো যেইটা আমার টিস্যুর আভ্যন্তরীন ফিজিং ঠেকাইয়া শরীরের আন্তঃ কোষীয় প্রবাহতে বাধার সৃষ্টি করবো না। মনে করা হয় এরকম কইরা এক বা দুই দশক রাখন যাইবো একটা বডিরে।

মাগার ১ শতক বা দুই শতকে রাখন যাইবো কি না সন্দেহ! এইটা এইজন্য করে যে যখন চিকিৎসা বিজ্ঞান আরো উন্নত হইবো তখন এইসব বডিরে আবারও পুনরুজ্জীবিত কইরা হার্টের ঐ সমস্যাটা মিটায় ফেলবো বা আর এডভান্স ট্রান্সপ্লান্ট করতে সক্ষম হইবো! যদিও এইটা প্রমানিত না। তবে ২০১০ সালে সারা বিশ্বে এরকম প্রায় ২০০ লোকরে এমন কইরা রাখা হইছে! এর নাম ক্রায়োনিকস ডিটেলস উইকিতে! যদিও অনেক সমস্যা আছে অনেক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে!

যাই হোউক, মরন ছাড়া গতি নাই!

তাই ভাবতাছি যা করতাছি তা করি, সৎ পথে চলি নিজের সাথে সৎ থাকি আর অপরের সাথেও সৎ থাকি! শয়তানী আর বান্দরামী এই দুইটাও চালাই, আর ভালো মতো খাওয়া দাওয়া করি!

কারন এইটা শিওর মরনের পর কেউ একজন খাড়ায় কইবো," দুনিয়ায় থাইকা বহুৎ আকাম করছো। যা কইছি তা করো নাই, নামাজ তো দূর কি বাত, মসজিদে গিয়া টাকবাক্স লইয়া পল্টি দিছো! অখন আহো, তোমারে সন্দেশ খাওয়াই!"

দেখা গেলো সন্দেশ খাইতে গিয়া দেখলাম আমি নিজেই গরমে সন্দেশ হইয়া গেছি! কি দরকার এত ভেজালে যাওনের! আসেন ভাই আমরা একখান কইরা তসবীহ কিনি আর শোকরানা আদায় করি!


* ইহা একখানা আজাইরা পোস্ট কেউ সিরিয়াসলি নিয়েন না! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29502484 http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29502484 2011-12-14 05:21:34
ঝুলে লাল মাসক্যালেন্ডার, ধইরা টানো কান আমার
: দোস্ত, একটু শুনবি?
: (কাপের চায়ে এক চুমুক দিয়ে মুদির দোকানদার তমিজ আলির দিকে তাকিয়ে) মামা, আজকা কি কবরের ভিতর থিকা চাপাতা চুরি করছো? চায়ের স্বাদ এমুন ড্যাম ড্যাম লাগে কেন? আর কি সিগারেট দিলা? ২ বছর থিকা গোল্ড লিফ টানতাছি আর আজকা দিলা পলমল, চাচীর লগে কি হাতাহাতি করছো নাকি?
তমিজ আলির মুখে কোনো বিকার না দেখে তাহের শাহেদের দিকে মুখ ঘুরায়,"আরে আমার লাট সাবের নাতী, জীবনে কুনো দুঃখ নাই, এডভেন্ঞ্চার চাই। কই তর সমস্যা কি?"
: দোস্ত সমস্যাটা আসলে তুমি বুঝতাছো না। দেখো ছোটকাল থিকা দেখছি আমার বাবা মা পুরা পারফেক্ট, না আছে টাকা পয়সার প্রবলেম না আছে অন্য কিছু। মানুষরে কুড়ায় পায়, আমি তাও না, পুরাই জেনুইন পোলা। ছোটকালে আমি যা চাইছি তাই পাইছি, কেউ আমারে ভুলে চটকানাও মারে নাই যেইটা নিয়া মনে দুয়েকটা দুঃখ থাকতে পারে। বড় হইয়া মানুষ প্রেমে ছ্যাক খায়, আর আমার গার্ল ফ্রেন্ড এমুনি একটা যে যেইটা কই সেইটাই শুনে, ছ্যাক তো দূর কি বাত, অন্য কারো দিকে তাকানোর কথাই মনে থাকে না তার। এইটা কুনো লাইফ হইলো?
: ব্যাটা, কালকা তোর ম্যাট্রিকের রেজাল্ট দিছে? এইবারও ফেল মারছস ?
: হ দোস্ত, কিন্তু সমস্যা এইটা না!
: চুপ থাক। ছুটোকাল থিকা দেইখা আইছি ক্লাসে তুই কুনোদিন সেকেন্ড হস নাই, আর অখন শুনি তিনবার ম্যাট্রিক দিয়াও পাশ করবার পারস না। গরু ছাগল বকরী ভেড়া নকল ছাড়া অখন গোল্ডেন এ প্লাস হাতে নিয়া ঘুরে আর তুই পাশ করবার পারস না। তোরে আমার বন্ধু কইতেও লজ্জা লাগে!
: দোস্ত সমস্যা এইটা না। তোর ম্যাট্রিক পাশ না, তুই যদি চাস আমি সামনের বার গোল্ডেন এ প্লাস দিয়া দিমু। কিন্তু দোস্ত লাইফে কুনো মজা নাই!
: একখান কাম কর, আমি তোরে একখান বুদ্ধি দেই। দেখ কি হয়!

তাহের শাহেদের কানে ঘি ঢালতে লাগলো!

২)

শাহেদের বাবা পেপার পড়ছেন, দৈনিক শেষের আলু। পুরো শহরে এই পত্রিকা কেউ পড়ে কি না সন্দেহ, শাহেদের মনে সন্দেহ জাগে যদি এই পত্রিকাটি সার্কুলারের অভাবে কাল বন্ধ হয়ে যায় তাহলে শিওর তার বাবা এই পত্রিকা অফিস পুরোটা কিনে চালু রাখবেন!
: কি কিছু বলবে? দীর্ঘ ১০ বছর পর তোমাকে আমি এত সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেখলাম। সকাল ৮ টায় শেষবার যখন উঠেছিলো তখন তোমার দাতে নাকি পোকা ধরেছিলো। যাই হোক, শুনি কি বলবে এবার?
: বাবা, আমি অনেক চিন্তা করে দেখলাম, এই দেশে আর থাকবো না। আমার একটু চেন্জ্ঞ দরকার!
: (পত্রিকা দ্রুত বন্ধ করে চোখের চশমা খুলে একটু ভালো করে নজর দেয়া শুরু করলেন ছেলের দিকে) কোথায় যেতে চাও? পড়াশুনা করতে দেশের বাইরে যেতে চাও? ভালো তো। তা কোথায় যাবে বলো, অস্ট্রেলিয়া না আমেরিকা? তোমার বোনের কাছে যেতে পারো। কানাডায় ওদের বাড়িতে থাকতে্ পারো!
: না বাবা, আমি আসলে ভাবছিলাম ধারে কাছেই কোথাও যাই। যেমন ধরো কাশ্মীর, কাবুল!
: (থতমত খেয়ে) এত জায়গা থাকতে কাশ্মীর কেন বাবা? তুমি কি কোনো জঙ্গি সংগঠনের পাল্লায় পড়েছিস?
: আরে না বাবা, আসলে যুদ্ধের মধ্যে মানুষ ঘুমায় কিভাবে, কিভাবে তারা জীবনধারন করে সেটা একটু দেখতে চাচ্ছি। আমি সেরকম অনুভূতি নিয়ে কিছু কবিতা আর গান কম্পোজ করবো। দেখবো আসলে পারিপার্শ্বিক পরিবেশের সাথে এর কি প্রভাব?

শাহেদের বাবা ডানে বায়ে তাকিয়ে শার্টের বোতাম খুলতে থাকলেন আর কলারটা আরও বড় করতে করতে চিৎকার শুরু করলেন,"ও সামিহা, সামিহা, কোথায় গেলে? প্রেসার মাপার মেশিনটা একটু আনো তো! ঐ ডাক্তারটাকে একটু খবর দাও, আমার কেমন যেনো লাগছে! এ আমরা কাকে বড় করলাম!"

৩)

শাহেদ একটা তাল গাছের দিকে চেয়ে আছে। পাশে রিয়া বসে বসে ওকে পলক হীন চোখে দেখছে। শাহেদ মাঝে মাঝে ঘাড় চুলকাচ্ছে!
: এই তোমার কি খুজলি হয়েছে? তুমি কি আবার গোসল করা বন্ধ করে দিয়েছো?
: (মেজাজ খিচে মুখ ভেংচিয়ে) ঐ তাল গাছে উঠতে মন চাইছে। কিভাবে উঠবো বুঝতে পারছি না!
: ঐ তালগাছটা? দেখো কিভাবে উঠে? আমি এরকম গাছে ভালো উঠতে পারি!

শাহেদ অবাক হয়ে দেখলো রিয়া গলার ওড়না কোমড়ে বেধে তাল গাছের দিকে হেটে যাচ্ছে আর পিছন পিছন ওর দিকে তাকিয়ে হাসছে। কিছুক্ষন পর দেখলো একটা সুন্দর মেয়ে ওড়নাটা বেয়ে বেয়ে তালগাছে উঠে গেলো। শাহেদের মাথা ঘুরছে। ওর মাথায় কি যেনো খেলে গেলো!

ও হঠাৎ দৌড়ে গাড়ির কাছে চলে গেলো। রিয়ার ডাক অগ্রাহ্য করে ও গাড়িতে স্টার্ট দিলো!

৪)

: তোর কি হয়েছে শুনি? তুই তো এমন ছিলি না। বলি এসব কাজ করবার বুদ্ধি তোকে কে দেয়? আমি কিছুই বুঝতে পারছি না!

শাহেদের আর ওর মা বসে আছে মুখোমুখি, যেনো একটা চিল একটা ইদুরের সামনে এমন ভাবে দাড়িয়ে আছে যে এখনই ঠোকরটা বসাবে। শাহেদ শুধু শুনেই যাচ্ছে। কখনো ডানে কখনো বায়ে তাকাচ্ছে। এমন ভাব যে সে আসলে কিছুই জানে না!
: কালকে রিয়া ফোন করেছিলো। সে তোর জন্য কানছিলো। বলছিলো সে নাকি ভুল করেছে!
: তাই নাকি? ও কি তাহলে স্বীকার করছে? বাচা গেলো অবশেষে।
: হ্যা, ও এর জন্য খুব কেদেছে। আজকে সকালে এসে অনেক কাদলো। বললো ও তোকে ভয় দেখাতে চায়নি। ওর কারনে তুমি নাকি ইনসিকিউরড ফিল করেনি!
শাহেদের মুখ হা হয়ে গেলো। ওর মনে বিশাল ঝড় বইছে। এত কষ্ট করেও ও কোনো ছ্যাকা খেতে পারলো না।
: আমি আর তোর বাবা দুজনে মিলে ডিসিশন নিয়েছি সামনের মাসে তোদের বিয়ে। আর মাথার মধ্যে থেকে এসব কাশ্মীর কাবুল সরা, নাহলে তোকে শিকল দিয়ে বেধে রাখবো!

৫)

: দোস্ত, কি করো?
: (খাটে শুয়ে বিশাল একটা সুখটান দিয়ে) ভাবতাছি। ভাবতাছি কত মানুষ কষ্টে আছে আর তুই....
: এখন কি করবো?
: একটাই বুদ্ধি।
: কি বুদ্ধি?
: তুই বিয়ার অনুষ্ঠান থিকা পলা! সোজা চইলা যাবি কক্সবাজার। কোনো হোটেলে উঠবি না। আমি তোকে একটা ঠিকানা দিবো। টুটুলরে চিনস, বাইট্টা কইরা গোল গাপ্পা। ও ঐখানে জাহাজ ভাঙ্গার কাম নিছে। ওর ঐখানে উঠ!
: কি বলিস দোস্ত, আমি তো এরকম ঠিকানাই খুজছি!
: তবে এখন পলাবি না। বিয়ের সময় যখন কাজী সাহেব কবুল বলবে তার কিছু আগে পালাবি! এর মধ্যে একটা অন্তর্নিহিত ভাব আছে! ঠিক আছে?
: ঠিক থাকবো না মানে, আবার জিগস!
: সাবধান, তোর বাবা যেনো না জানে। তাহলে কিন্তু আমি শেষ!
: ওকে!

৬)

চারিদিকে ধুমধাম। জহির সাহেব একলা বসে আছেন। কিযেনো ভাবছেন চুপচাপ, রুমটা অন্ধকার। সামিহা সেজে গুজে হঠাৎ রুমের লাইট জ্বালিয়ে জ হির সাহেবকে দেখেই চমকে গেলো। আস্তে আস্তে এগিয়ে পিঠে হাত রাখতেই দেখলো জ হির সাহেব মাথা নীচু করে নিজের অশ্রু লুকোচ্ছেন!সামিহা পাশে বসলেন।
: মনে পরে আমাদের বিয়ের কথা। তুমি এক কাপড়ে চলে এসেছিলে। আমার কাছে রিক্সাভাড়া নেই। টিউশনি করে পেট চালাই। তুমি রিক্সাভারা দিলে, কাজী অফিসের খরচাটা তোমার কাছ থেকেই গেলো। সেদিন রাতে আমরা বাসর রাত করবার জন্য একটা রুম খুজে পাই নি। তুমি ভয় পাচ্ছিলে হোটেলে যদি কিছু হয়, এদিকে আমার মেসে এক রুমে সবাই গাদাগাদি করে থাকি!
: তোমার জন্য সব রুম মেট গুলো সেদিন রুমটা ফাকা করে দিলো। ওরা তারপরদিন অন্যকোথাও শিফট হলো। শুধু তোমার আমার সংসারটা যেনো নির্বিঘ্নে শুরু হয় সেটা এনশিওর করার জন্য। কিন্তু তুমি কাদছো কেন?
: এ কান্না সুখের কান্না, তুমি বুঝবে না।
: তোমার পাগল ছেলেটা সুখী হবে বলে দিলাম। ওকে ডাকো। সবাই নীচে রেডি।

শাহেদ একটা সাদা শেরওয়ানী পড়ে বসে আছে। ওর পাশে তাহের বসে।
: পুরা ব্যাগ রেডীতো?
: হ
: এখান থেকে বের হয়ে কোথায় যাবি মনে আছে তো?
: হ
: টুটুলের ঠিকানা কি লেইখা রাখছোস নাকি মোবাইলে সেভ?
: পাগল হইছোস, মোবাইল আমার এখনই বন্ধ। মোবাইল সাথে নিবো না!
: পারফেক্ট। আমি যাই গাড়ির ওখানে ওয়েট করছি!
: থ্যাংক্স দোস্ত!

তাহের উঠে গেলো। এমন সময় পাশে রিয়া বসলো। সামনে কাজী সাহেব। কাজী সাহেব কিছু বলবার আগে রিয়া হঠাৎ শাহেদের হাতটা ধরলো। শাহেদ দেখলো ওর বাবার চোখ মুছছেন। ওর মাও কাদছে, তবে মুখে হাসি! জ হির সাহেব হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে শুরু করলেন,"আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ আমার ছেলের বিয়েতে আসবার জন্য। আমি আজকে একটু আবেগী। মনে পড়ে আজ হতে ২০ বছর আগে যখন আমাদের বিয়ে হয় আমার কাছে টাকা ছিলো রিক্সাভাড়াটা দেবার। টিউশনি করে পেট চালাতাম। তবু সামিহা আমার উপর বিশ্বাস রেখেছিলো। বিশ্বাস রেখেছিলো এমন একটি ছেলের উপর যার চিন্তাভাবনা শুধু মাস শেষে কিভাবে বাসা ভাড়া দিবে আর কিভাবে ঘরে টাকা পাঠাবে। যার চিন্তায় থাকতো আরও দুয়েকটা টিউশনি করলে হয়তো আরো ভালো হতো! আজকে আমরা সুখেই আছি। আমার সন্তান সেই বৃত্তটি পূরন করছে। আমার বিশ্বাস রিয়ার হাত ধরে আমার আমার সন্তান তার কর্তব্যগুলো পূরন করবে, তারা সুখী হবে!"

শাহেদ তাকিয়ে দেখে রিয়া কাদছে।
: কাদছো কেন?
: তুমি পালাবে তাই না?
: (শাহেদ ডানে বায়ে তাকিয়ে থতমত খেয়ে গেলো) মানে?
: তুমি পায়ে কেডস পড়ে আছে। শেরওয়ানীর নীচে শার্ট। পালাতে চাও? পালাও। আমি তবু অপেক্ষা করবো! যদি কখনো ফেরার কথা মনে পড়ে, তখন এখানেই আমাকে খুজে পাবে! আমি আমৃত্যু তোমার জন্য অপেক্ষা করবো! যাও যেখানে যেতে চাও!

এই বলে রিয়া শাহেদের হাতটা ছেড়ে দেয়। শাহেদের হাত পা জমে গেছে। মনে হলো ওকে কেউ যেনো একটা বড্ড চপেটাঘাত করলো! কাজী সাহেব তার সামনে বসে আছে। কি যেনো বলছে, শাহেদ মাথা নেড়ে যাচ্ছে। ও কিছু সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে। ওর হারিয়ে যাওয়াটা কেনো জানি স্হগিত করে দিলো। রিয়া কাদছে, ওর বাবা মা সবাই হাত তালি দিচ্ছে।

বাংলাদেশে এই এক সমস্যা, সকল কাজী গুলা বোকা। নাহলে আজ পর্যন্ত কোনো বিয়েতে কোনো পাত্র পাত্রী নিজের মুখে কবুল বলে নি, তবু তারা কবুল বলা হয়েছে এটা শুনে বিয়ে পড়িয়ে দেয়! এসব কাজীদের লাইসেন্স কেড়ে নেয়া উচিত কি বলেন?

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29497335 http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29497335 2011-12-06 07:16:55
কি মচেৎকার দেখা গেলো একটা টিকটিকি, তার নাচন দেইখা আমি হৈলাম বৈরাগী!
যাই হোউক আমি মদন সেই একখান প্রাগৈতিহাসিক লেদার জ্যাকেট নিয়া চলতে আছি। বরাফ পড়ছে গত পরশু আর আজকা ট্যাম্পারেচার হইলো প্লাস ৫। বরফের নাম গন্ধ নাই রাস্তা্য। গাছের পাতা একদিনে যেমুন পইড়া গেছিলো মনে হয় সেই গাছ গুলান এখন চিন্তা করতাছে সবুজ পাতা কি অখনোই গজায় দিবো কিনা!

রাইতের বেলা কাজ থিকা বাইর হইয়া দেখি রুম মেট ৬টা চীপায় খাড়াইয়া গুদুম গাদুম করতাছে!
: আলি ভাই, যান কই?
: সার্কাস দেখতে। খাইয়া লইয়া কাম নাই, আমি অখন সার্কাসে যাই!
: মিয়া হুনেন, একখান ভেজাল হইছে। রুমের চাবী আমাগো কারো কাছে নাই। উৎসবের কাছে যেই চাবী থাকনের কথা সেইটা ও রুমে রাইখা আইছে আর আমারটাও!
: তাইলে রুম লক হইছে কেমনে?
: হেইডা তো কইতে পারতাছি না। তয় আমি নিজ হাতে রুম লক করছি।
: আর চাবী ছাড়া রুম লক করলেন কেমনে?
: আমিও তো তাই কই, পকেটে আমার চাবী কই?
: তাইলে এই ঠান্ডার মধ্যে কই থাকুম?
: আরে চিন্তা কইরেন না। আজকা আরবীর মাইয়ার জন্মদিন, বিরানীর দাওয়াত দিছে। লন যাই আগে বিরানী খাইয়া আসি!

আরবীর মাইয়া শুইনাই আমার মাথা বিগড়াই গেলো। এই মাইয়ারে যেইদিন দেখছিলাম আমার মাথা খারাপ হইয়া গেছিলো। পুরাই হট, মনে হয় গরম তাওয়ার উপর ওমলেট পোচ। যদিও ইদানিং ফুলতে ফুলতে হাতি হইয়া গেছে কিন্তু কেন জানি চেহারার রোশনাই দিনে দিনে বাড়তাছে। আমি সবার আগে গিয়া আরবীর দোকানে একখান চেয়ার দখল করলাম। আমরা আসনের আগেই তারা চেয়ার সাজাই রাখছে, আরবী মাইয়াটা নিজে খাওন সার্ভ করতাছে!

ডিনার করছি একটু আগে, আগে জানলে পুরা সকাল থিকা রোজা রাখতাম! ঘ্রানের চোটে মনে হইতাছে আগে থাল খাই পরে বিরানী! সবাই খাওনের পর হঠাৎ হিল্টু ভাই বইলা বসলো,"দেখছেন, আলী ভাই তিন প্লেট কেমনে মারলো? রেস্টুরেন্টে খাইছে একবার আর এইখানে আরও তিন প্লেট!"

অমুন সময় আরবী মাইয়া লোকাল ভাষায় কি জানি কইলো। আরবী মাইয়ার এই এক সমস্যা, আরবী আর লোকাল ভাষা ছাড়া ইতা্য কিছু পারে না। আমি আবার লোকাল ভাষায় টাইটানিক ডুবাই দিছি, তাই তার সাথে আমার ভাব বিনিময় চোখে চোখে হয়, মুখে মুখে কিছুই হয় না। কিন্তু তাগো কথা বার্তা শুইনা মনে হইলো আমারে নিয়াই বাতচিত! পরে বুঝলাম রেস্টুরেন্টে ১ প্লেট আর এই খানে তিন প্লেট খাওনের পরও আমার খাওন যায় কই সেইটা নিয়া তাগো গবেষনা চলতাছে। এইখানে আর কইলাম না কি গবেষনা চালাইছে, এমনেই মান ইজ্জত সব বাটখারা হইয়া উড়াল দিছে, তার উপর এইসব ভালগার কথা কইলে আমার ইন্টারনাল এফেয়ারে একটু জটিলতা দেখা দিবে! যাই হোউক আমরা সবাই রুমের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।

বিল্ডিং এর সামনে আইসা দেখলাম মেইন দরজা লক হইয়া গেছে। রাইত নয়টার পর এই দেশের সব বিল্ডিং এর এন্ট্রি গেট বন্ধ হইয়া যায়। পড়লাম নতন সমস্যায়। কি করন যায়। অমুন সময় হিল্টুরে কইলাম বাড়িওয়ালারে ফোন দিতে। হেয় দিবার চায় না। কয় কিছুদিন আগে নাকি তার ১০০ তম বার্থডে নাইচা নাইচা পালন করছে। আমি শুইনা কইলাম, ব্যাটা কি মরে নাই? হিল্টু কয় এত রাইতে ফোন দিলো মনে হয় এই কামটাও কইরা ফেলাইবো!
যাই হোউক, হিল্টু মিয়া ফোন লাগাইলো
: হ্যালো, বাড়িআলা নাকি?
: না, হেয় ঘুমায় আমি তার মাইয়া, কেডা?
: আমি আপনাগো বাড়ির সম্মানিত ভাড়াটিয়া, একখান ভেজালে পড়ছি।
: কি ভেজাল?
: আমরা বাড়ির ভিতর চাবী রাইখা দরজা লক কইরা বাইর হইয়া গেছি।
: কি কইলি? আবার ক!
: আরে, কইতাছি আমরা দরজার চাবী ভিতরে রাইখা দরজা লক কইরা বাইর হইয়া গেছি। অখন শীতের মধ্যে জইমা যাইতাছি, ঘরে ঢুকবার পারতাছি না। আর কিছু হুনবি?
: কস কি? চাবী ভিতরে রাইখা দরজা লক করলি কেমতে?
: হেইডাই তো কথা। চাবী তো রুমের ভিতরে, মাগার দরজা লক হইয়া গেছে!
: আজকা কি তোরা সব এক লগে খাইছোস, নাকি দুয়েকটা বাদ আছে? তার আগে এইটা ক আমারে, তুই কি জানস, একখান চাবী হারাইলে বাংলা টাকা ১৫০০০ টাকা ফাইন আর সব কয়টা হারাইলে ৬০০০০ হাজার বাংলা টাকা ন গদের উপর ফাইন?
: কি কস এগুলান? ক্রিসমাসের মাসে ডিসকাউন্ট দিবি না?
: কি কইলি? আবার ক তো দেখি!
: না কইছিলো, অখন রুমের ভিতরে ঢুকুম কেমনে?
: তোরা খাড়া আমি সিড়ি পাঠাই দিতাছি।

ঠান্ডার মধ্যে খাড়ার উপর ১০ মিনিট খাড়াই থিকা দেখলাম বাড়ি আলার মাইয়া সিড়ি নিয়া নামছে। নাইমাই দিলো ঝাড়ি,"তোরা দুইজন থাকবি কথা কইয়া থাকোস ৭ টা, প্রত্যেকদিন রাইতে কাহিনী করস, তোগো মতলব কি?"
এই মাইয়া খান দেখতে সুন্দরী হইলেও সমস্যা একখান, মাইয়া ৭ ফুটি লম্বা! হিল্টু তারে পাম দিয়া কয়,"তোর যে ফিগার, আমাগো সিড়ি লাগতো না, তুই আমাগো কোলে কইরা দুই তালার জানালায় চ্যাঙ্গা মার!!"

মাইয়া দেখি লজ্জায় লাল হইয়া গেলো। অখন আমরা সাত জনে মিল্লা চিন্তায় পড়লাম কে উঠবো।উপরে উঠনের কথা শুইনা হিল্টু মিয়ার মাজা বিষ শুরু হইয়া গেছে, সাজ্জাদ মিয়ার ঠ্যাং এ ব্যাথা, আমান মিয়ার পেট বড় হওনে হাটবার পারে না, উতসবের শীত করে, বেলু মিয়া খালি হাসে, সে অখন হিন্দিও বুঝে না। সবার নজর অখন আমার দিকে। আগে জানতাম মানুষ গরীবের মাথায় কাঠাল ভাঙ্গে, এরা দেখি আমার মাথায় পুরা কাঠাল বাগান ভাংতাছে!

ঠান্ডার মধ্যে আমি উঠলাম আর নীচের দিকে চাইয়া দেখলাম সবাই ঐ মাইয়ার লগে ইটিস পিটিস লাইন শুরু কইরা দিছে। চিন্তা করলাম এক মাইয়ার পিছে ৬ জন লাইন দিলে ভাগে পাইবো কেডা!

রুমের ভিতর ঢুইকা ফ্লাটের দরজা খুলতে গিয়া টাস্কি খাইলাম, আর এই দরজা তো লক আছিলো না! মেজাজ বিলা হইয়া গেলো। নীচে গিয়া সব কয়টারে রুমে আইনা হিল্টুরে কইলান,"রুম লক আছিলো এইডা কেডা কইছে?"
সে একখান হাসি দিয়া কয়,"রুম লক আছিলো না? আরে এইটা ব্যাপার না!"
দেখলাম সবাই যার যার রুমে ঢুইকা গেলো!

মন মেজাজ আমার ইহুদি ক্যাম্পের মতো পুইড়া ছারখার হইয়া গেলো!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29494680 http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29494680 2011-12-02 05:34:37
ভালোবাসার একটা ডেফিনেশন দেই নিজের মতো করে? কি বলেন !
: দোস্ত, তুমি কই?
: লেকের পাড়।
: হিস্যু করার জন্য নাকি ঐডায় ঝাপ দেবার জন্য?
: শিটম্যান, নিজের হিস্যুতে কেউ লাফ দেয়? মেলা দিন পর ফোন দিলি, লন্ডনে কি অখনো স্নোফল শুরু হয় নাই?
: ধুরু তোর লন্ডন! দোস্ত, কিছু টাকা ধার দে, দেশে যামু।
: তারপর?
: দেশে গিয়ে প্রথম দিন বাসার উঠানে বৃষ্টিতে ভিজুম।
: তারপর?
: কয়দিন শান্তিমত ঘুমামু, মায়ের হাতের রান্না খামু, বন্ধুগো লগে জিইসিতে আ্ড্ডা দিমু, আর বিকাল বেলা ভেটেরনারীর মাঠে ফুটবল খেলমু।
: ফর ইউর কাইন্ড ইনফরমেশন, দেশে শীত পড়া শুরু করছে, তাই কোনো বৃষ্টি পাবি না। আর ভেটেরনারীতে কাউকে পাবি না, সবাই পাস আউট।
: না, ও এখনো ঐখানেই আছে!
: তাইলে ওর লগে ডাইরেক্ট দেখা কর, হুদাই মাঠ দাপাইয়া কি করবি? নিজেরে মেসি প্রমান করতে চাস নাকি?
: ধুরু, ওর টিচার জামাই দেখলে ওরে তালাক দিবো। এমনেই শুনছি খালি শুচিবাই করে।
: কেমনে জানলি? কথা হয় নাকি?
: ও কইবো কথা! ওর সাহস আছে নাকি? তয় একটা মেইল করছিলো। খালি লেখছে,"খুব কষ্ট লাগছে, এত বড় পৃথিবীতে কেউ নেই যাকে আমি কিছু বলতে পারি, তাই তোমাকে জানালাম! খুব কষ্ট লাগছে!" তাই খোজ খবর নিছি!
: তুই একটা খবিশ, পরকিয়া করনের লিগা দেশে যাবি? ওয়ার্ক পারমিট পাইছোস, কামে লাগা, টাকা কামা! তারপর এইখান থিকা ফুট। ফ্রান্স বা স্পেন গিয়া পাসপোর্ট বাড়ি দে!
: আরে ধুর, কিছু ভালা লাগতাছে না। কিছু টাকা দে, ২-৩ লাখ, দেশে যামু। আইসা তোরে সব টাকা দিয়া দিমু!
: একখান কাম কর, বার খোলা পাবি দুয়েকটা, জ্যাক ড্যানিয়েলস কিনা খাওয়া শুরু কর, আজকা তো ছুটির দিন!
: গত সপ্তাহে একখান শেষ করছি। আর ভালা লাগে না। দেশে যামু, ফুটবল খেলুম!

হাসবো না কাদবো কিছু মনে হচ্ছে না! ওর একটা গল্প বলি। ২০০৮ এ যখন ও ইউনিতে ভর্তি হয় তখন দেখে কিছু মেয়ে সুন্দর সুন্দর পা জোড়া আর বুকের ৫০% খোলা রেখে সবাইকে বিনা পয়সায় প্যাকেট বিলাচ্ছে। সেদিন ছিলো ভ্যালেন্টাইনস ডে। তো মামা আমার ফ্রিতে ৩-৪ টা প্যাকেট নিয়ে আর ওদেরকে ১০-১৫ মিনিট চোখের দেখা দেখে ক্লাসে ঢুকে। ওদের ইউনিতে মাঝে মাঝেই এরকম চকলেট বা চুইঙ্গাম বিলায় বিভিন্ন কোম্পানী থেকে। তো ক্লাস হচ্ছে আর্টিফিসিয়াল এলগরিদমের উপর তাই মুখে দু একটা চকলেট বা গাম না দিলে জমে না। এই ভেবে প্যাকেট খুলে মুখে দিয়ে ফুলাতে গিয়ে দেখে একটা বেলুনের মতো ফুলছে। ওমনি ক্লাসের ম্যাডাম হা হয়ে তাকিয়ে আছে। ও একটু খেয়াল করে দেখে, এটা চকলেট বা চুইঙ্গাম না, এটা একটা কনডম!
যাই হোক, সহজ সরল বন্ধুটি কোনো খেলাই ভালো পারে না, তবে যেদিন শুনলো ওর গার্লফ্রেন্ড ওকে কথা দিয়ে ভেটেরনারীর কোনো এক টিচারকে বিয়ে করেছে, তখন থেকেই ফুটবল খেলা শিখতে লাগলো!
প্রশ্ন হলো মনের দুঃখে মানুষ কবিতা লেখে অথবা গান গায়, সে কেনো ফুটবল খেলে। ওকে জিজ্ঞেস করতেই বলে চট্টগ্রাম ভেটেরনারীর পাশে ওর ছোটবেলা কাটছে। ওর ছোটবেলার বেকার বন্ধুরা নাকি এখনো ওখানকার মাঠে ফুটবল খেলে প্রতিদিন বিকালে। তাই!
ওর স্বপ্ন ছিলো ইউকে ফেরত ডিগ্রি নিয়ে ঐ মেয়ের বাবা মায়ের সামনে দাড়াবে, ঐ মেয়ের জন্য প্রস্তাব দেবে। কে জানতো ইউকে ফেরত সম্ভাবনাময় ইন্জ্ঞিনিয়ারের চেয়ে ভেটেরনারীর শিক্ষকের ভবিষ্যত অতি উজ্জল!
তাই পড়ালেখা বাদ দিয়ে ও ফুটবল খেলা শুরু করে!

আশ্চর্য্যের ব্যাপার হলো মাস্টার্সের শেষের দিকে ও একটা এলগরিদম লেখে, যেটা অনেকটা ফুটবল খেলার ডিফেন্স সিস্টেমের উপর। ও এটা আইটির একটা প্রোটোকলে ব্যাবহার করে, ওর ইউনির টিচারকে ও দেখায় যে ওর এলগরিদমটা শুধু আইটি ফিল্ডেই না, এগুলো ছোট ছোট ডাব্লুএসএন ক্লায়েন্টের উপর কাজ করবে। ও দেখালো যে এখানে প্যাকেট লস খুব কম আর সিক্যুরিটি দুটোই খুব ভালো আর এক্সেস পয়েন্ট খুবই ডায়নামিক, যদিও এটা কঠিন একটা ব্যাপার যে কঠিন সিকিউরিটিতে ডায়নামিক লিড ক্লায়েন্ট অটোম্যটিক সিলেক্ট করা বেশ কঠিন ব্যাপার কারন তাতে প্রসেসরের কাজ করতে হবে বেশয়য়, কিন্তু ওরটা খুবই শর্টে কাজ করবে।

তারপর আমি যেটা জানি সেটার উপর ওর টিচার একটা জার্নাল পাবলিকেশন করিয়ে দিয়েছে, ও ইউকের নতুন নিয়ম চেন্জ্ঞ হবার আগে ওয়ার্ক পারমিটের এপ্লাই করলে পেয়েও যায়। এখন মামার শখ হইছে ফুটবল খেলা দেখানোর। আমার সন্দেহ বেচারা আর ইুউকেতে আসবে না, সারাজীবন ঐ চট্টগ্রামের ভেটেরনারীর মাঠে খেলেই যাবে। ঐ মেয়ের জীবন অতিষ্ট করবে, তারপর ওর সংসারটা ভাংবে।

ও কি ঐ মেয়েকে বিয়ে করতে পারবে?

যদি করতে পারে, তাহলে আমি বুঝবো ব্যাটা একটা জেনুইন পাগল, একটা বিবাহিত মেয়ের জন্য মানুষ নিজের ক্যারিয়ারের পায়ে কুড়াল মারে?

আর যদি ও বিয়ে না করে তাহলে বুঝবো এটাই ঠিক। আসলেই ব্যাটা ম্যাচিউরড হইছে, মানুষ হইছে এটলিস্ট!

হয়তো আমার কাছে ও মানুষ কারন আমি ভালোবাসার সংজ্ঞা জানি না!

আর ভালোবাসার সংজ্ঞা মনে হয় এটাই।

"জান তুমি যেখানেই থাকো, যে অবস্হায় থাকো, আমি আসছি, তোমাকে আমি আমার করবো, যদি আজ সাগর উল্টে পুরোটা স্হলভাগ ভাসিয়ে নিয়ে যায়, অথবা ঐ চাদ পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়ে সব কিছু উজাড় করেও দেয়, মনে রেখো আমি তোমার পাশেই থাকবো, তোমার আগে যেনো আমার মৃত্যু হয়, আমি তোমার বুকেই মরতে চাই!"

হায়রে শালার প্রেম! হয়তো এরকম প্রেম আমরা করতে পারি না বলে এরকম মন ভাঙ্গার মিছিলে চোখ ভিজাই!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29492613 http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29492613 2011-11-29 06:47:52
বাংলাদেশের রেভ্যুলেশন কেমনে শুরু করন যায়: প্রজেক্ট ১! ইদানিং দাতে ব্যাথা আর জ্বর নিয়া কাজ করতে হইতাছে। ঘুম ঠিক মতো আসে না, মানসিক অশান্তি তো আছেই। যাই হোক, তাও লেখতাছি কারন কাজের সময় ফাকি দিয়া যখন প্রথম আলোর পেজখান আইফোনে খুলি তখন মনে হয় হায়রে আমার দেশ! কাগো মাথায় বসাইছি!

সবাই অনেকে অনেক কথা কয়। কিন্তু আসল ব্যাপারটা মিসিং! আমি জানি সবার ধারনা আর চিন্তাভাবনা খুবই পোক্ত, কিন্তু একটা ব্যাপার সবাই ভুইলা যাইতেছে, সেইটা হইলো বিচ্ছিন্নতা!

এর সবচেয়ে বড় উদাহরন হইলো আপনে, যে এই পোস্ট খান পড়তাছেন। আমি আপনেরে হাতে বাশ নিয়া রাস্তায় দৌড়াইতে কইতাছি না। কিছু কথা শোনেন ঠান্ডা মাথায়। দেখেন বুঝেন কিনা!

আরব জাতী বর্বর এইটা একটা শ্বাশত সত্য! তেল আছে তাই স্বৈরাচারী সরকার গুলান জন গনরে ভুলাই ভালাই রাখছে আর নিজেগো ক্ষমতা ঠিক রাখছে!

মোহাম্মদ বাওয়াজিজি নামের এক তিউনিশিয়ান, জন্ম হয় গরীব এক পরিবারে। বয়স যখন তিন তখন বাবা মারা যায়। তার কিছু দিন পর তার মা তার চাচাকে বিয়ে করেন। বাওয়াজিজিরা ৬ ভাই বোন ছিলো বাস করতো সিদি সালাহ নামের একটা গ্রামের বস্তিতে। যখন বয়স ১০ এর কোঠায় তখন থেকেই ওকে পরিবারের দায়িত্ব নিতে হয় কারন তার সৎ বাবার শরীর খুবই খারাপ থাকতো। তার কয়েক বছর পর তাকে পড়াশোনা বাদ দিয়ে পঠে ফেরী করে বেচতে হয় নানা রকমের জিনিস। ওর বোন বলতো ওর ভাইয়ের নাকি খুব শখ ছিলো ইউনিভার্সিটিতে পড়ার, গ্রাজুয়েশন করার। কিন্তু স্কুলের কোঠাও পেরোতে পারে নি,

তিউনিশিয়ার বেকারত্বের হার ৩০ ভাগের উপর, সেও এই হারের মধ্যেই পড়ে। নানা জায়গায় চাকরীর আবেদন করলেই সবজায়গাতেই না শুনতে হয়। বাধ্য হয়ে ঐ রাস্তার ফেরী ওয়ালার কাজে নামতে হয়। সকাল বেলা বাকীতে ২০০ ডলারের মতো জিনিসপত্র নিয়ে বিক্রিতে নামে বিকেল বেলা তা পরিশোধ করতে হতো। লাভের টাকা দিয়ে বোনের ইউনির খরচ থেকে শুরু করে সবার খাওয়া দাওয়া বাবার চিকিৎসা সবকিছুই।

২০১০, ১৬ই ডিসেম্বরে সকাল বেলা যখন সে ফেরী নিয়ে নামে তখন কিছু পুলিশ শাসিয়ে যায় ভেন্ডর পারমিট ছাড়া ব্যাবসা করা যাবে না। সমস্যা হলো ছোট বেলা থেকেই ও জেনে আসছে এটার জন্য মিউনিসপ্যালিটির কোনো পারমিটের দরকার নেই। তার পর দিন আবার যখন রাস্তায় ব্যাবসা করতে নামে তখন এক মহিলা মিউনিসিপ্যালিটিট অফিসার কিছু পুলিশ নিয়ে এসে চরম অপমান করে। বাওয়াজিজির জিনিসগুলো নিয়ে যায়, মার ধর থেকে শুরু করে মৃত বাবাকে গাল দিতেও ছাড়ে না ভরা রাস্তায়। শুধু কিছু ঘুষ দিলেই ল্যাঠা চুকে যায় সেখানে এতোগুলো অপমান শুনবার একটাই কারন, তখনও সে বনিও করে নি আর পকেটে কোন টাকাও ছিলো না।
রাগে দুঃখে অপমানে বাওয়াজিজি মিউনিসপ্যালিটির অফিসে গিয়ে বিচার করে আর বলে, আমি কিভাবে তোমাদের পেট ভরবো যেখানে আমি যা কামাই তা দিয়ে নিজেরাই কিছু খেতে পারি না? এর বিচার করো নইলে শরীরে আগুন লাগাবো!

কোনো অফিসারের কানে কিছু যায় নি, সে রাগে দুঃখে একটা গ্যাসোলিন ভর্তি গ্যালন যোগাড় করে আর নিজের শরীরে আগুন লাগিয়ে দেয় রাস্তার মধ্য দিয়ে। শত শত লোক দেখতে থাকে, কেউ কেউ পানি ছিটিয়ে আগুন নিভাতে চাইলে আগুন পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সাধারনত ৩০ ভাগের উপরে পুড়ে তার বাচবার সম্ভাবনা থাকে না, কিন্তু বাওয়াজিজির শরীর পুড়েছিলো ৯০ ভাগ। ব্যাপারটি সবাইকে খুব নাড়া দেয়, আলোচনা সমালোচনার ঝড় ওঠে, প্রেসিডেন্ট এসে বড় হাসপাতালে ট্রান্সফার করানো হয় আর আশ্বাস দেয়া হয় উচ্চতর চিকিৎসার জন্য ফ্রান্সে নিয়ে যাওয়া হবে।

১৮ দিন কোমা্য থাকবার পর ছেলেটি মারা যায়। জানাযায় ৫০০০ লোক শরীক হয়েছিলো আর সেখানে থেকে বারুদ ফুটতে থাকলো সবার মনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে। সরকার নামতে বাধ্য হলো কিন্তু তাতেও থেমে থাকেনি এক বাওয়াজিজির মৃত্যুর পর আরব অন্ঞ্চলে একের পর এক স্বৈরশাসকের পতন ঘটতে থাকে আর আজকে শুনলাম গাদ্দাফী মরেছে, ওয়াল স্ট্রিটে আগুন জ্বলছে ইউরোপের শেয়ার মার্কেট দখল চলছে।শুরু হয়েছে আরব বসন্ত যার জোয়ার আজ সবদিকে!

আমি আপনাকে বলছি, কি করছেন আপনি? আমি বাবাকে ফোন দিলে বলি বাসায় বসে আছে। মামাকে ফোন দিলে বলি দোকান করছে। চাচাকে ফোন দিলে বলি তাবলীগে সময় দেবার কথা ভাবছে।

কারো কখনো মনে হয় ডিএসইর সামনে কিচু লোক বোবাকান্না কাদছে ওদের পাশে থেকে দাড়াতে। ওখান থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কিছু একটা শুরু করতে। ভারতের এক অজানা অচেনা আন্না নামের বুড়ো কি করলো আর আমরা?

বিচ্ছিন্নতা আর স্বার্থপরতা!

আমরা গনতন্ত্র চাই, স্বৈরতন্ত্র বা এক নায়কতন্ত্র এক দিনে জন্যও নয়! কিন্তু বসে থাকলে কি হবে?

সাংবাদিক যারা: ভাই আপনার হলেন সবচেয়ে বড় ক্ষমতাধর। যখন টেলিভিশনের ক্যামেরা নিয়ে নেতা নেত্রীদের দিকে তুলে ধরেন তখন তারা যখন বলে এই কাজটি হচ্ছে না বিগত সরকারের দুর্নীতি অথবা এ কারনে, তখন আপনি বলতে পারেন, এই কাজের জন্য কত টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এবং কনট্রাক্টরী কেন তাদের স্বজন দের দিয়েছে! জন গন দেখুক সে কি উত্তর দেয়। যখন আব্দুল মাল উচ্চমার্গের কথা বলে তখন তাকে জিজ্ঞেস কেনো করা হয় না গতবছর কেনো ২০০০ কোটি টাকা ছাপিয়ে জন গনের উপর এত বড় একটা মুদ্রস্ফিতীর বোঝা চাপানো হলো? কেনো শেয়ার মার্কেট বা ডাইনামিক মার্কেট বিশেষজ্ঞ দিয়ে কাজ না করিয়ে পীর দরবেশ নামের জোচ্চর দিয়ে সমাধান খোজা হয়? জন গন যদি এটা দেখে তখন তারা নিজেরাই বুঝবে কে এরা বা কারা এরা

এই গয়েশ্বর সাহেব বা ফখরুল সাহেব বা সাকা সাহেব এত বড় বড় কথা বলে কেউ কোনো দিন কেনো ধরলেন যে তোর যে পাপ করে এই ক্ষমতা নিলি সে পাপের ব্যাপারে কিছু বল....আপনারা এটা করেন নি কারন চাকরি খুব প্রিয়।

আর যদি এটা করতেন তাহলে আজ হোক কাল হোক বাঙ্গালী বুঝতো কাদেরকে তারা মাথায় বসায়!

পেশাজিবীরা কি বলেন: সরকারী চাকরী যারা করেন তাদের সবাই ঘুষখোর না। যারা ঘুষ খান না তারা সারা জীবন সেটা নিয়ে গর্ব করেন। আর যারা ঘুষ খায় তারা সেগুলো নিয়ে গাড়ি বারি বানায়। আমরা যারা সাধারন জন গন টারা যখন আপনাদের কাছে সেবার জন্য আসি তখন যকন আমাদেরকে ইশারায় বলেন টাকা দিতে হবে তখন কি লজ্জা করে না? আমরা কেন এদেরকে রাস্তায় বের করে গন ধোলাই দেই না? মিরপুরের এসপি যিনি ঘুষ ছাড়া খুনের কেস ধরেন না কেন আমরা জন সমক্ষে ধরে শিক্ষা দেই না?

আমজনতা কি করেন? আমরাই কিন্তু সকল দুর্নীতি প্রশ্রয় দিচ্ছি। হয় কারো বাবা অথবা বর ভাই অথবা চাচা অথবা আত্মীয়। আমি কাদের কাছ থেকে এই বিপ্লব আশা করবো যখন যারা এই দুর্নীতির হোতা তারা সবাই আমাদের কেউ না কেউ হয়?

আমার প্রজেক্ট ১ টা খুব সোজা, সাংবাদিক, পেশাজিবী আর আমজনতা এই তিন গ্রুপ এক সূতোয় বাধতে হবে। ফেসবুক গ্রুপ করে পিকনিক করলে লাভ হবে না।

আমরা দুর্নীতি চাই না, যেখানে দুর্নীতি দেখবো, সেখানো আমরা সবাই এগিয়ে যাবো!
কালকে থেকে আমরা একটা স হজ কাজ করি যে পুলিশ সার্জেন্ট বাস আটকালো তার দিকে খেয়াল রাখি, একটু দূরে গিয়ে কন্টাক্টরেরর কাছ থেকে পয়সা নিলো আমরা তখনই এর প্রতিরোধ করি!

একটা কেস নিতে গেলে যখন কেউ টাকা চাইবে এমনকি জিডি লেখাতে হলেও আমরা তখনই সম্মিলিত ভাবে তাকে প্রতিরোধ করি। যখন পুরো এলাকাবাসী এক হবে, তখন পুলিশ বিভাগ থেকেই তদন্ত করতে বাধ্য হবে। কিন্তু সম্মিলিত হতে হবে! আর কত এভাবে বসে থাকবো!

এই সামান্য কিছু কাজ দিয়ে শুরু করা যাক, দেখেন ১ মাসের মধ্যে এটা কতটুকু ছড়িয়ে পরে!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29470366 http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29470366 2011-10-22 06:18:49
নিউট্রিনো এক্সপেরিমেন্ট আপডেট আর তার আলোর গতি ছাড়ায়া যাওয়া অপেরা এক্সপেরিমেন্ট আর কিছু সম্ভাবনা! এডিটেড!
তাহলে দাড়াচ্ছে আপনার যেহেতু সময়ের দরকার নাই, সেহেতু বলা যায় আপনার ওখানে যাবার জন্য রওনা দেবার আগেই ওখানে পৌছে গেলেন। ব্যাপারটা কেমন যেনো হয়ে গেলো না?
আপনি রওনা দেবার আগেই ওখানে যদি আপনি চলে যান তাহলে দেখা যাচ্ছে থার্মোডিনামিক্সের ল ভেঙ্গে ফেলেছেন আপনি। আপনি আপনার নিজের প্রতিরুপকে দেখছেন ওখানে। কি করে সম্ভব এটা?

মাথায় কি কিছু ঢুকছে? যদি বলেন মাথায় ঢুকাবার দরকার নাই তাহলে দুঃখ করে বলতেই হয় আপনি ভদ্রলোকের বৌ এর পালিয়ে যাওয়া সমর্থন করেন। আপনাকে ধিক্কার জানানো উচিত আর বলা উচিত ধিক্কারের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়। আপনার এই পোস্ট পড়বার কোনো দরকার নাই।

আর যদি বলেন না, বৌ রে ভাগতে দেয়া যাবে না, তাহলে একটু পড়া যায় পোস্ট টা, কি বলেন?

আজাইড়া কথা বহুত পারলাম আসল কথায় আসি। উমমম....আসল কথা আসবার আগে একটা ঘটনা বলি। বাংলাদেশের অনেক পুচকা পুলাপান এস্ট্রোফিজিক্সে পড়তে চায়, মাগার এইটা জানে না যে দেশে কোনো ইউনিতে এই সাবজেক্ট পড়ানো হয় না। যাই হোক, ভাবতেছি ব্লগে এই কোর্সটা আমি নিজেই চালু করি, যদিও আমি সার্কিট ডিজাইন নিয়া কাজ করি আর ফাও তালে পার্টিক্যাল ফিজিক্সের অল্প কিছু জিনিস নিয়া পড়া লেখা করি।

যাই হোউক সালটা হলো ১৯৮৭। তখন আসলে এতোটা চ্যাট বা ফেসবুকের চল আসে নাই। রাতের বেলা তাই বিভিন্ন অবজার্ভেটরীর বিজ্ঞানীরা রাতের বেলায় হয় ভেরেন্ডা ভাজতো অথবা তাস পিটাইতো টোয়েন্টি নাইন। যদিও আমি ভেরেন্ডা কেমনে ভাজে দূরে থাকে এইটা কি জিনিস আইজও দেখি নাই, তাও ধইরা নিলাম তারা ভাজে। হঠাৎ পৃথিবীর তিনটা অবজার্ভেটরীর ডিশ এন্টেনায় মোট ২৪ খানা নিউট্রিনো ধরা দেয় যেগুলা মহাকাশের টেরেন্টুলা নেব্যুলার দিক থেকে আসে। তার তিন ঘন্টা পর টেলিস্কোপ ঐদিকে সেট করলে দুটো অবজার্ভেটরী একটা সুপারনোভার দেখা পযায় যার নাম হয় পরে SN 1987A।

এটা আমাদের দুনিয়া থেকে ১,৬৮০০০ আলোকবর্ষ দূরে তাই বন্ধুগন ভয় নাই, কারো ঘরে আগুন লাগে নাই। বিজ্ঞানীরা ঐ তিন ঘন্টার হিসাব খুব একটা গোনায় ধরে নাই। যদিও তখন সবাই খুজতেছিলো একটা নিউট্রন তারার যেটা আশেপাশে থাকার কথা। তারপর থিকা হাবল টেলিস্কোপ তন্ন তন্ন কইরা খুইজা না পাইলে নানা থিওরী এবং হাইপো মাইরা ঘটনা বসায় রাখে।

যাই হোউক, অনেকের মনে প্রশ্ন জাগবে এই নিউট্রিনো জিনিসটা আবার কি? খায় না পিন্দে! খুবই কঠিন প্রশ্ন কিন্তু উত্তর সোজা। নিউট্রিনো একটা মৌলিক সাবএটমিক পার্টিক্যাল মানে একেবারে মৌলিক কনিকা। স্ট্যান্ডার্ড মডেলে এর অবস্হান। এর কোনো চার্জ নাই, তাই তড়িৎ ক্ষেত্র বা তড়িৎচৌম্বকীয় ক্ষেত্র এর উপর কোনো প্রভাব ফেলে না। এর ভর খুবই কম আর চার্জ নিরপেক্ষ হওয়ায় বেচারা সব কিছুর ভিতর দিয়ে চলা ফেরা করতে পারে।এটা পলি সাহেন প্রথমে বের করে। আপনেরা যদি বের করতে চান তাহলে একটা নিউক্লিয়ার ফিশন ঘটাতে পারেন। ধরেন একটা নিউক্লিয়া পাওয়ার প্লান্ট, দেখতে সুন্দর ফিটফাট। ওর ভিতরে সবাই ঢুকলেন, ঢুইকা একটা ৪০০ লিটারের টান্কিতে ক্যাডমিয়াম ক্লোরাইড ভরলেন। মনে করেন এইটাই আপনের টার্গেট গুতা মারনের। এখন নিউক্লিয়ার ফিশন চালু করেন, দেখবেন নিউট্রিনো গুলান প্রথমে প্রোটনরে মারলো ঠোয়া, ঠোয় খাইয়া পয়দা হইলো পজিট্রন আর নিউট্রন। পরে পজিট্রন যাইয়া ইলেক্ট্রনরে ঠোয়া মাইরা চুরমার কইরা দুইটা গামা রশ্মি মানে ফোটনের পয়দা করলো।নিউট্রনকে গিলে ফেললো ক্যাডমিয়াম ক্লোরাইডে আর বের করলো ফোটন ১৫ মাইক্রোসেকেন্ড পর পজিট্রনের নির্গমন থেকে। ফোটনের হিসাব নিকাশ জানা থাকলে সহজেই নিউট্রিনো বের করতে পারবেন। আর যদি নিউক্লিয়ার ফিউশনের ভয় থাকে তাহলে একটা কাজ করেন মাটির নীচে একটা টান্কি বানাইয়া উপরে অপটিক্যাল লেন্স বসাইয়া সূর্য্যের দিকে মেইলা ধরেন। আরে ভাই, সূর্য্যের ভিতরেও তো নিউক্লিয়ার ফিশন হইতেছে, তাই না?

এখন আমরা অপেরা এক্সপেরিমেন্টের আগে আরেকটা এক্সপেরিমেন্ট নিয়া কথা বলি। ২০০৭ সালের ঘটনা। হঠাৎ একদল বিজ্ঞানী ঘোষনা দিলেন তারা নাকি আলোর চেয়ে দ্রুতগতির কিছু একটা আবিষ্কার করছেন। দুজন জার্মান বিজ্ঞানী একটা মাইক্রোওয়েভ রেজোনেটরের ব্যাবস্হা করলেন সাথে দুটো প্রিজম। প্রিজম দুটোকে দুটোর বিপরীত দিকে রেখে মাঝখানের খুব সূক্ষ্ম ফাকা রাখলেন, মোটামোটি কোয়ান্টাম টানেলিং এর সমরূপ কিছু একটা। এর পর মাইক্রোওয়েভ এর মধ্যে দিয়ে ঢুকিয়ে দিলেন।সিগন্যালটি প্রথম প্রিজম দিয়ে প্রতিফলিত হয়ে বের হয়ে গেলেও কিছু সিগন্যাল অন্য প্রিজমের ভিতর দিয়ে প্রতিসৃত হচ্ছে। দুপাশে দুটো ফটোডিটেক্টর লাগানো ছিলো এবং বিজ্ঞানী দুজন হিসাব করে দেখলেন ফোটন গুলো প্রায় একই সময়ে পড়ছে যেটা মূলত আলোর গতির এফেক্টের চেয়েও বেশী।

মজার কথা হলো এই রিসার্চ পেপার আজো পাবলিশ হয় নাই। যদিও আপাত দৃষ্টিতে মনে হয়েছিলো আলোর গতির চেয়েও বেশী গতিতে আলো এখানে প্রতিসৃত হচ্ছে কিন্তু কাহিনী অন্য। আপনার রিসার্চ পেপারটা দেখেন। কি ভুল আছে সেটা নিয়ে মন্তব্যে আলাপ করা যাবে। তবে এটা আসলে আলোর চেয়ে দ্রূতগতির উদাহরন বললেন ভুল হবে।

এখন আসি অপেরার ব্যাপারে, কি করেছে এরা!কাজটা খুব সিম্পল। সার্নের এলএইচসির সিএনজিএস বিম পয়েন্ট থেকে ইতালীর গ্রান্ড সাসোর ল্যাবের দূরত্ব ৭৩০ কিলোমিটার।

সিএনজিএস বীম লে আউট

তো সার্নের এই সিএনজিএস বিমগান প্রোটন গুলারে 400 GeV/c এ ত্বরনায়িত করে সুপার প্রোটন সিন্কট্রোনের ভিতর তারপর তারে ম্যাগনেটের ভিতর দিয়া নিয়া যাওয়া হয় ২ মিটার লম্বা গ্রাফাইটের চেম্বারের মধ্যে যেখানে নিউট্রিনোর সৃষ্টি হবে।

এইখানে একটা কথা বইলা রাখি যারা নিউক্লিয়া ফিজিক্স সম্বন্ধে বা পাওয়ার জেনারেশন নিয়া লেখা পড়া করছেন তারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন ক্যাডমিয়াম ক্লোরাইড, গ্রাফাইট এগুলান ফিউশন বা ফিশন নিয়ন্ত্রক হিসাবে ব্যাবহ্রত হয়।


যাই হোক এখানে নিউট্রিনোর দু বারে উৎপাদন হয় যার একেকটা ১০.৫ মাইক্রোসেকেন্ড স্হায়ী হয় এবং সময়ের পার্থক্য ৫০মিলিসেকেন্ড। এগুলোকে সিএনজি সাইকেল হিসাবে বলা যায় কারন এগুলো দুইভাবে এদের উৎপাদনের ব্যাপারটা নির্দিষ্ট সময় পর পর হয়। তাই এগুলোকে সাইকেল হিসাবে বলা যায় যাদের প্রত্যোকটার দৈর্ঘ্য ৬ সেকেন্ড। তার মানে সুপার প্রোটন সিন্কট্রোন নিউট্রিনোর উুৎপাদনের সময়ের পার্থক্য হবে ৬ সেকেন্ড। এর পর এগুলোকে সেকেন্ডারী চার্জড মেসনের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত করা হবে দুটো চৌম্বকীয় শিং এর মাধ্যমে যাতে এদের প্রবাহের দিক নিয়ন্ত্রন করা যায়।

এখানে হিলিয়ামে ভর্তি ব্যাগ এর ভিতর দিয়ে এগুলোকে চালনা করা হয় যাতে করে মেসনের ইন্টারেকশন কমানো যায়।


তারপর বীমটাকে ১০০০ মিটার লম্বা ভ্যাকুয়াম টানেলের ভিতর প্রবাহিত করানো হয় যাতে করে মেসনের ক্ষয় হতে থাকে।


মিওন ডিটেক্টর লে আউট!

পরে এগুলো ছেড়ে দেয়া হয় গ্রান্ড সাসোর ল্যাবে অপেরা ডিটেক্টরের দিকে। এই বীমের গড় শক্তি হলো ১৭ GeV।
অপেরার ডিটেক্টরের ভিতর কতগুলো লাইন বাই লাইন মড্যুল আছে।যার প্রত্যেকটা মূলত টাও ডিটেক্ট করবে। কারন যে নিউট্রন গুলো এতদূর পথ ভ্রমন করে আসবে সেগুলোতে টাও নিওট্রিনো মিথস্ক্রিয়া থাকবে যেখানে টাওয়ের হিসাবটা খুবই দরকারী। কারন এটাতো জানা নিউট্রিনো চার্জ নিরপেক্ষ এবং দুর্বল আনবিক বল বা রেডিওএক্টিভ ডিকের সাথে এর মিথস্ক্রিয়া ঘটে। তাই একে ডিটেক্ট করার জন্য ফটোগ্রাফিক ইমালশনের ইট ব্যাব হার করা হয়। এই ফটোগ্রাফিক ইমালশন গুলো একটু বিশেষ প্রকৃতির যেগুলো মূলত নিউক্লিয়ার ইমালশনের জন্য ব্যাবহ্রত হয়। আর এই ইট গুলো লিডের শিট দিয়ে মোড়ানো থাকে। প্রত্যোকটা ইটের ওজন ৮.৩ কেজি আর দুটো অপেরা সুপার মড্যুল প্রায় দেড়লাখ ইট নিয়ে তৈরী যেগুলো একেকটা সমান্তরাল দেয়ালের মতো করে রাখা হয়েছে যেগুলো প্লাস্টিকের চকমকী কাউন্টার দিয়ে রাখা।
প্রত্যোকটা সুপারমড্যুলের সাথে একটা করে ম্যাগনেটিক স্পেকটোমিটার রাখা হয়েছে যাতে করে যেসব পার্টিক্যাল এখানে ভেদ করছে তাদের কৌনিক মোমেন্টাম বা জড়তার হিসাব রাখা যায়।

সময়ের রেফারেন্স হিসাবে জিপিএসের মাধ্যমে। আর দুপাশে বীমের সাথে সময়ের হিসাবের ব্যাপারটাকে বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ইউনিভার্সাল টাইম কাউন্টারের উপর ভিত্তি করে এলগরিদম এবং সিস্টেমের উন্নয়ন করা হয়েছে। এসব ডিটেল মূলত জার্নালটায় পাওয়া যাবে।


এটা সার্নের দিকের টাইম রেফারেন্স ঠিক করার জন্য

এটা জিপিএসের মাধ্যমে টাইম সিন্ক্রোনাইজেশন

এখন আমরা কাজের কথায় আসি। এখানে নিউট্রিনোর বীম ৭৩০ কিমি ৬০ ন্যানোসেকেন্ডে পার করেছে। কনফিডেন্স লেভেল ইরর মাত্র ৫%। আলোর গতির জন্য হিসাব করলে ৩ লক্ষেরও বেশী।

সবাই চমকে যায় এই ফলাফল দেখে কারন আইনস্টাইনের থিওরীর এ সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন আর বিগত ৭ দশক ধরে লালন করা ধারনার মূলে সমুলে আঘাত। কেন এই আঘাত সেটা শেষের দিকে আলোচনা করবো আগে আলোচনা করি কে কে কি ভুল বের করলো।

এই খবর বের হবার সাথে অনেকগুলো জার্নাল, রিভিউ লেটার জমা হতে শুরু করলো যার মধ্যে দুটো জার্নাল মোটামোটি তাদের যুক্তিটি প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

প্রথমটি হলো লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের এক প্রফেসর। তিনি বললেন গ্রাভিটি গোনায় ধরা হয় নাই।দুইটে ফ্যাসিলিটির উপর গ্রাভিটির প্রভাব এক না, তাই ঘড়ির চালচলনে এইটার প্রভাব থাকতে পারে। আমার মনে মধ্যে খটকা জাগলো, ওগো এলগরিদমে যে টাইম মিজারম্যান্ট করা হইছে সেইখানে প্যান্ডুলামের ঘড়ি কি আছিলো? থাকলে হাত তোলেন।

দ্বিতীয়টা হলো এন্ড্রু কোহেন আর শেলডন গ্লাসগোর যারা কইছে যদি ধইরাই নেয়া হয় নিউট্রিনো এরম গতিতে ঘুর ঘুর করছে তাইলে ওর সাথে আরও কিছু ক্ষয়িষ্ঞু কনিকা আছে সেগুলার ক্ষয় হইছে সারা রাস্তা ভইরা। ফলে সেইখানে এনার্জীর উৎকিরনের কিছুটা হইলেও চিহ্ন রাইখা যাইবো। যেহেতু অপেরার পোলাপান সেগুলা খুজে নাই আর যেহেতু প্লাস এনার্জী ট্রান্সফারের কারনে এর গতির তারতম্যও দেখা যাইবো সেহেতু নিউট্রিনো আসলে ঐ গতিতে যা্য নাই আর যেহেতু তারা সবকিছুর লব্ধি হিসাব করছে সেহেতু তারা আসলে অন্য কিছুর গতি বাইর কইরা ফেলাইছে!
মাফ চাই এই যুক্তি আমি নিজেই বুঝি নাই, কাউন্টার দিমু কি?

যদিও এই দুইটা পেপার জোর দিয়া সরাসরি বলে নাই যে এই এক্সপেরিমেন্টে ভুল আছে কিন্তু তারা এইটা এইভাবে বলছে যে মনে হয় এই কারন গুলা খুইজা দেখা যাইতে পারে!

যাই হোউক অখন আসি মেইন আলোচনায়। যদি ধইরাই নেই তাইলে কাহিনী কি হইবো। আমি বুঝলাম না এইটা নিয়া কেউ কোনো কথা কইতাছে না কেন। কারন ব্যাপারগুলা খুবই স হজ ভাবে ধরা দেয় যে আসলেই যদি রিলেটিভিটি না থাকে তাইলে গ্যান্জ্ঞামটা কই থিকা শুরু হয়। মনে হয় কইয়া পরে ফাসবো কিনা এইটাই তাগো ভয়!

আমার কোনো ভয় নাই কারন নেংটার কখনো চোরের ভয় থাকে না। আমি কোনো পদার্থবিজ্ঞানী না। তাই আমি যা পইড়া মনে হইছে সেইটাই কমু অখন!

১) টাইম মেশিন বানানো সম্ভব, আসলেই সম্ভব। সম্ভব হবার কথা হাইপার ডাইভ বা ডাইমেনশন থেকে ডাইমেশনে তথ্য আদান প্রদান। অন্তত এটা বলা যায় তথ্য আদানে প্রদানে খুবই দ্রুত গতির সম্ভাবনার দুয়ার খুইলা দিবে! সেই সাথে টেলিপোর্টেশনের ব্যাপারটা নিয়া নতুন কইরা ভাবা যায়!

এমনকি আপনি যদি অতীতে তথ্য পাঠানোর জন্য, তাহলে সেটাও সম্ভব!

২) ডাইমেনশন অথবা এক্সট্রা ডাইমেনশন অথবা ডি-ব্রেন তত্ব সেইসাথে গ্রাভিট্রন নামের পার্টিক্যাল আর তার সাথে ডার ম্যাটার এর অস্তিত্ব সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া সম্ভব। কারন তখন এই প্রযুক্তিকে ফ্রেম অব রেফারেন্স হিসাবে কাজ করা যাবে! আর গ্রাভিট্রনের ব্যাপারে আগানো গেলে সুশীর জন্য দরকার বাকী কনাগুলোর উপর অদূর ভবিষ্যতে কাজ করা যাবে যেখানে মানুষ টাইম-স্পেস কার্ভেচার ডাইমেনশনকে নিয়ন্ত্রনে নিতে সক্ষম হবে!

অতিরিক্ত ডাইমেনশনের থিওরী গুলা তখন বাজারে আসতে শুরু করবে। যেমন তখন বলা হবে একই স্হান কাল কার্ভেচারে দুটো ভিন্ন চিত্র। যেমন ত্রিমাত্রিক ছবি বলতে আমরা পরম সমতল আর শূন্য ব্যাপারটাকে বুঝাই। কিন্তু যখনই আমরা ভর ওখানে এনে দেই তখনই হয়ে যায় চতুর্মাত্রিক। আর যখন চতুর্মাত্রিকের ওখানে অসম্ভব গতির কিছু একটা আনতে চেষ্টা করি যেটা ত্রিমাত্রিকের সবকয়টা মাত্রার দৈর্ঘ অসীমের দিকে টেনে নেয় তখন ঐ চিত্রটা পুরোই পাল্টে যায়। ত্রিমাত্রিক বেচারা বোকা হয়ে যায়। তার মানে আমাদের মধ্যেই বাস করছে আরেকটা অসম্ভব শক্তিমান একটা জগৎ!


৩) হিগস বোসন তত্ব থেকে শুরু করে রিলেটিভিটি তত্বের উপর ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। এখানে সবাই হয়তো ধারনা করছেন আইনস্টাইনের রিলেটিভিটি আস্তাকুড়ে নির্বাসিত হবে, কিন্তু এটা সত্য নয়। কারন ডপলার এফেক্ট থেকে শুরু করে তার আগে যতগুলো কাজ হয়েছে সেগুলোর উপর ভিত্তি করে দাড় করানো এই রিলেটিভিটি আরও উন্নত হবে, বিজ্ঞানীদেরকে আরও অনেক সুযোগ দিবে নতুন ভাবে চিন্তা করার!

হয়তো তখন প্লান্ক স্কেলে ভরের সাথে ব্লাক হোল এবং টাইম স্পেস কার্ভেচারের চাক্ষুষ প্রমান দেখা যেতে পারে।
আইনস্টাইনের রিলেটিভিটি অনুযায়ী ম্যাটার কখনোই আলোর চেয়ে দ্রুত গতিতে যেতে পারবে না। যখন সেটা আলোর গতিতে চলা শুরু করবে তখন ঐ কনিকার এনার্জী হবে ভরের সাথে আলোর গতির দ্বিঘাত শক্তির সমান। সে হিসাবে দেখা যাচ্ছে নিউট্রিনো এক্সট্রা এনার্জী পাচ্ছে যেখানে এর এনার্জী ক্ষয় হবার কথা। তাহলে এটা যখন ভ্রমন করছিলো তখন হতে পারে ঐ ভ্যাকুয়ামে সে এমনকিছুর সাথে ইন্টারেকটেড হইছে যার ফলে তার মধ্যে থাকা এনার্জী বৃদ্ধি পায় ফলে আলোর গতির চেয়ে দ্রুত গতিতে চলাচল করতে শুরু করেছে। তাহলে এটা হিগস ফিল্ডের দিকে প্রথম নির্দেশনা চলে আসে!
তবে হিগসের সিগন্যাল এখনও পর্যন্ত যততুকু আপডেট তাতে এটা প্রবল ভাবে থাকার সম্ভাবনা বিদ্যমান সেখানে এই এক্সপেরিমেন্টের সত্য হবার সম্ভাবনা হলে হিগসীর জন্য বাকী ঝামেলাও মিটে যাবে! আর এটার পিছনে যদি হিগস ক্ষেত্র দায়ী হয়ে থাকে তাহলে হিগসীর মধ্যে আরও অনেক কিছু থাকবে যেটা আমাদের কল্পনার বাইরে। কিন্তু সেই হিসাবে হিগস কনিকার আন্তঃ মাত্রিক পরিভ্রমনের সম্ভাবনা প্রবল কিন্তু হিসাব মতে সেটা সম্ভব না। যদি তাকে এটা হতেই হয় তাহলে উচ্চমাত্রায় পরিভ্রমনের কারনে এর ইন্টারেকশন আচরন অনেকটা পরিবর্তিত রূপ নেবে যার ফলে সেখানে এক্সট্রা ডাইমেনশন তত্ব অথবা মাল্টিভার্স তত্বের জন্য খুবই পজিটিভ দিক!

এছাড়া টাউ নিউট্রিনোকে ডার্ক ম্যাটারের জন্য অনন্য শরীক বলা যায়, সেক্ষেত্রে ডার্ক ম্যাটারের সাথে আসলেই এর কোনো সম্পর্ক আছে কিনা সেটা নিয়েও ভাবনার সময় এসে যাবে!

তবে এটা ঠিক আইনস্টাইনের রিলেটিভিটি এখন অনেকটা ফ্লেক্সিবল হয়ে যাবে এতদিন যেটা ছিলো উচ্চ গতির পরিভ্রমনের জন্য একটা বড় বাধা!

৪) টেকিওনিক কনডেন্স বা এনভায়রন ম্যান্ট নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। এখন সেগুলোর জার্নাল গুলো খুলবার পালা। কে জানে হয়তো বা স্ট্যান্ডার্ড মডেলের বাইরে এমন কিছু কনিকা অপেক্ষা করছে যারা সুশীর বদৌলতে এর অংশীদারিত্ব চাইছে!


আমি যে উপ্রে এতো কিছু কইলাম দেখা গেলো এইসবের কিছুই হইলো না। দেখা গেলো ক্লাস সিক্সের সাধারন বিজ্ঞানের একটা ফুটনোটে লেখা ছাড়া আর কোনো গুরুত্বই রইলো না আগামী ৩-৪ বছর। কইবো এইটা একটা এক্সেপশনাল ঘটনা!
তবে ক্যাচাল তখনই বাজবো যদি S-depletion channel এ হিগসরে খুইজা পাওয়া যায়, যদিও পসিবিলিটি নাই আবার আছে, তাইলে এই পরীক্ষা ভুল হওন উচিত। তয় দুইটাই সত্য হয় তাইলে আর আমার জ্ঞানে কুলাইবো না!

তবে হিগস পাওয়া গেলেও টাইম মেশিনের আবিষ্কারের সম্ভাবনা উড়ায় দেওন যায় না আর যদি এই এক্সপেরিমন্ট আসলেই সত্য হয় তাইলেও সম্ভব। সো টাইম মেশিন আসলেই একটা বাস্তবতা! হয়তো এই প্যারাটা নিয়া সামনে কোনো একদিন দীর্ঘ আলোচনা করতে পারি যদিও সন্দেহ পাবলিক বুঝবো কিনা! দেখা গেলো বক্তৃতা তো আমি দিয়াই গেলাম মাগার যাগো লিগা দিলাম তারা শেষ হওনের আগেই মাঠ খালি কইরা দিলো। তাইলে তো আর লাভ নাই!
ইলিনয়েসে ফার্মিল্যাবের বিজ্ঞানীরা অখন প্লান করতাছে এইটা এক্সপেরিমেন্ট করনের জন্য।
তবে এটা যদি আসলেই সত্য হয় আর থিওরেটিক্যালি খুজে পাওয়া যায় কেন এটা হলো তাহলে এটা আমাদের বর্তমান আধুনিক ফিজিক্সের জন্য একটা বড় ধাক্কা আর বিপ্লব ডেকে আনবে!

* কিছু কনসেপচুয়াল ভুল ছিলো যেগুলো ঠিক করে দেয়া হইলো! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29463928 http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29463928 2011-10-11 13:13:13
বান্দরের চিকিৎসা দরকার!: আমার নোটিশবোর্ড! কুনো সমস্যাই সমাধান ছাড়া তৈরী হয় নাই, মহাবিশ্ব নিজের যখন যোগ বিয়োগে শূন্য, তখন সবকিছুরই সমাধান থাকতেই হইবো! সমস্যা হইলো মাঝে মাঝে এই সমাধান খুজতে গেলেও কি জানি টাইনা ধরে। ফিস ফিস কইরা কয়,"নিজেরে আরেকটু দেখ, আরেকটু বুঝ, তারপর সমাধান কর!"
আমি জানি নিজেরে বুঝতে গেলে অনেক কিছু হারাইতে হইবো, এমনেই আমি ফকির মানুষ। কিন্তু তাও অখন ফকির হওনের ধান্ধায় আছি!

দেশে একখান রেভুলেশন করুম, ইচ্ছা আছে, কেমনে করুম সেইটা যদিও অখনো বাইর করতে পারি নাই। ইচ্ছা আছিলো ব্লগটারে প্লাটফর্ম বানামু, কিন্তু অখন মন মানতাছে না!

মনের মধ্যে আমার দুইটা সত্বা আছে। তারা যখন কুনো একটা বিষয় নিয়া ক্যচাল করে আমি তখন নাম্ব হইয়া যা্ই। নাম্ব মানে হইলো ভোম্বল হইয়া যাই। তখন আমি কথা বলা বন্ধ করি। এমুন কইরা নিজের মায়ের সাথে ৩ বছর কথা বলি নাই। এইটা আমার অপরাধ! মাঝে মাঝে আমি নিজের কাছে হাইরা যাই! পাপের বোঝা ভারী হইতাছে!

আমি মনে হয় একখান মানসিক রোগী হইয়া গেছি। আমার চিকিৎসা দরকার, কিন্তু কেডা করবো জানি না। গুজরান খা রে মনে পড়ে, তার দুইটা কথা শুনলে মন ভালো হইয়া যাইতো!

যাই হোউক, কিছু সময় বোলগানো বন্ধ।

জানি আমি এমন কেউ না, তবু কেউ যদি কুনো সমস্যায় পড়েন তাইলে এইখানে মেইলান, ফিজিক্স বা ইলেক্ট্রনিক্স বা অন্যকিছু মেইলাইতে পারেন:

দোয়া কইরেন যাতে দ্রূত সুস্হ হইতে পারি!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29452715 http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29452715 2011-09-22 06:17:07
দৈনিক রোজনামচা!আসেন গরীবগো লিগা কিছু করি! আজকা হইলো ১৮ তারিখ, আর মোটে ১২ দিন তারপরই মাস শেষ!
আমার পোস্টে সব আকামের জিনিস, আসেন ব্লগ পইড়া আমরা একটা কামের জিনিস শিখি!
১) একখান কোকের খালি বোতল নেই। তারপর সেইখানে ফিল্টার পানি রাখি। পানি জানি বিশুদ্ধ হয়!
২) তারপর পানিতে দুই তিন চামচ ক্লোরিন বা ব্লিচিং পাউডার দিয়া বোতলের মাথা ভালো কইরা আটকাই দেই এবং পারলে সীল কইরা দেই!
৩) একটা বস্তির বাসা সিলেক্ট করেন যেইখানে কারেন্ট থাকে না। ঐখানে ঐ বস্তির ছাদে টিনের মাঝে অর্ধেক বাইরে আর অর্ধেক ভিতরে রাইখা লাগাই দেন আর ঘরের ভিতরের অংশ ডাইকা রাখেন কিছু দিয়া।

অখন যখন দরকার হইবো ঐ ঢাকনা সরায় দেন, দেখেন কত সুন্দর আলো জ্বলতাছে!আমরা এইখানে পরিস্কার পানি দিবো এই জন্য যে আলোটা খুব সুন্দর ভাবে ছড়ায় চারিদিকে। এরকম কইরা তিনচারটা বোতল ঘরের টিনের চালে ঝুলায় রাখলে দেখবে ৫৫ ওয়াটের বাত্তির মতো উজ্জবলতা পাইবেন! এটা জ্যোৎস্না রাইতে কাজে লাগতে পারে যদিও টেস্ট করা হয় নাই।

আমাগো দেশ খুব গরীব গ্রামে গন্জ্ঞে অনেক মানুষ বিদ্যূৎ পায় না অন্ধকারে থাকে। আসেন আমরা সবাই এইভাবে খুব অল্প খরচে যদি গরীবদের এটা শিখিয়ে দেই তাহলে তাদের আর অন্ধকারে থাকতে হবে না! ফিলিপিন্সে এটা ওরা করেছে এই লিংকে কিলকাইতে পারেন। আসুন আমরা অন্ধকার দূর করি!বিজ্ঞানকে আমরা এভাবেই কাজে লাগাই! বিজ্ঞানের জয় হোক!


প্রতিদিন সকালে উইঠা একবার ভাবি রুম খানা গুছামু, রুম ভর্তি আজব জিনিসে ভরা! পুরা রুমে মোট ১৩ টা বিভিন্ন বোতল আর ক্যান। রাইতে কাম থিকা ফিরা আসনের সময় ক্যান হাতে নিয়া আসি। ঘরে আইসা ক্যান খালি কইরা ফ্লোরে রাইখা দেই! রুমে সোফার উপর আমার তিনখানা প্যান্ট ল্যাপ্টায় আছে, কয়েকটা টি শার্ট আর গেন্জ্ঞী ভচকাই আছে, দরজার দুই কপাটের উপর তিনখান জাঙ্গিয়া ওড়নার মতো উড়তাছে। আমার বিছানার বেডশীট জাজিমে নীচে পইড়া গেছে, জাজিমের উপরের ম্যাট ফ্লোরে অর্ধে পইড়া রইছে।প্রতিদিন সকালে এইটা হয়, রাইতে জায়গামতো রাইখা শুই, মাগার সকালে উইঠা দেখি আমি জাজিমে এক কুনায়, মাথার বালিশ আরেক কুনা, লেপ চইলা গেছে ফ্লোরে। আমি ঘুমের মধ্যে বিপ্লবী সেনা হইয়া যাই মনে হয়!
যাই হোউক, আমার রুম আর গুছানো হয় না। মাথায় যেমন ৪ মাস ধইরা চিরুনী লাগাই না তেমনি রুম তিনমাস গুছাই না। সকালে উইঠা তাড়াহুড়া কইরা কাজে যাই কারন কাজে যাওনের ৫ মিনিট আগে ঘুম থিকা উঠি আর ভাবি রাইতে গুছামু নে।মাগার রাইতে আইসা কুকের ক্যান হাতে নিয়া ল্যাপুতে বসলে আর কিছু খেয়াল থাকে না!

গত কয়েকদিন ধইরা আমার শরীর ভালো যাইতেছিলো না। দেশান্তরী হওনের আগে আমি আমার ডান সাইডের উপরের পাটির মাড়ির একখান দাত দাতের মিস্ত্রীর কাছে দিয়া আসছিলাম। আমার নানী শুইনা কইছিলো,"তুই কি পাগল হইছোস? এই বয়সে দাত ফেলাস, তাইলে বুড়া কালে কি ফেলাবি?" আমি হাইসা দিছিলাম, কারন এর উত্তর কইলে নানী জান আমার চৌদ্দগুষ্ঠী জায়গায় উদ্ধার করতো!

তো কিছু দিন আগে বামপাটির উপরের একখান মাড়ির দাত আমারে জানাইলো যে তার এক্সপেয়ার ডেট ঘনাই আইছে। মাগার কাহিনী এমুন যে ঘুষনা দিয়াই ব্যাথা করা শুরু করছে। ব্যাথার চোটে মনে হইতাছিলো আমার জ্বর আইসা পড়ছে, মাগার যারে কই জ্বর চেক করতে সে একখান হাসি দিয়া কয়,"না সে আসে নাই! আসলে কি ছুটি নিবেন?"
আমি বুঝলাম না তারা কি এইজন্যই বলে না যে আমার জ্বর আসছে বলা হইলেই আমি ছুটি নিবো না নাকি আমার সত্যি জ্বর আসে নাই। এরকম জ্বর আসে নাই আবার আসছে টাইপ কনফিউশন মার্কা ফিলিংস লইয়া বড্ড জ্বালাতন অনুভব করিতেছিলাম। এমনেই আমার দুই গাল ফুইলা নাকি ঢোল হইছে এখন বাম সাইডে ব্যাথার কারনে খালি ডাইন সাইডে ভাত চিবাই ফলে দেখা যাইতেছে ডান সাইড আমরা লাউ গাছের পাকা কুমড়া হইয়া গেছে! এখনই এই কুমড়া কাটিয়া ডুগডুগী বাজাও!

শীত আসিতেছে, আগে একখান জ্যাকেট পড়লেই কিছু অনুভব হইতো না, মাগার কালকা রাইতে দেখলাম আমার জিন্স প্যান্ট মানুষের চোখ আটকাইতে পারলেও বাতাস আটকাইতে পারতাছে না। নীচে বড়ই ঠান্ডা অনুভব করলাম। উত্তর মেরুতে এই ঠান্ডা নিয়া অনেক কাহিনী। ঢোলা জিন্স পড়লে বেশী ঠান্ডা লাগে, তাই টাইট জিন্স। পরে অবশ্য বাসায় আইসা প্যান্ট চেন্জ্ঞ করনের সময় খেয়াল করলাম আমি জীপার লাগাই নাই। সারা রাস্তা ভইরা আমি আমার পোস্ট অফিস খোলা রাইখা ঘুরছি। এখন কুশ্চেন হইলো এই পোস্ট অফিস খোলা থাকনের কারনেই কি আমার ঠান্ডা লাগছে নাকি প্যান্টের কারনে? এইটা নিয়া একটা গানিতিক মডেল তৈয়ার করতে হবে!

এইখানে শুক্রবার শনিবার আসলে মানুষের মনে ঈদ লাইগা যায়। আমি যেই টাউন থুক্কু গ্রামে আছি এইখানে হিসাবে দেখা যাইতেছে ৩০,০০০ মানুষের মধ্যে ২০ হাজার মানুষই মাইয়া! রাস্তাঘাটে ঘুইরা এইটা বুঝলাম ২০ হাজার মাইয়ার মধ্যে ৭০ ভাগ মাইয়াই লেসবিয়ান! আর রাইতের বেলা যখন কাজে যাই তখন ঘুইরা ফিরা সেই এক চেহারা। একবার ডিস্কোতে গিয়া নাচতে গিয়া একবার একমাইয়ার নাকে আমার বামকাধের হাড্ডি দিয়া এমুন জোরে বাড়ি মারছিলাম মাইয়াটা ড্যান্সফ্লোরে মাথা ঘুরাইয়া পইড়া যায়। সবাই নাচতাছিলো বইলা কেউ খেয়াল করে নাই। আমিও সাইডে পোল্টি নিছিলাম। তারপর যখন ডিস্কো থিকা ফিরতেছিলাম তখন রাস্তায় ঐ ছেমরী ঠোলারে ডাক দিছিলো এবং এইটা নিয়া নানা কাহিনী হয়। যাই হোউক, আমি রাইতের বেলা যেইখানে কাম করি সেইখানে এই মাইয়া রেগুলার কাস্টমার। রাইতের বেলা এরা যখন টাল হয় তখন এরা সার্কাসের বান্দর হইয়া যায় আর সকাল হইলে এগো কিছু মনে থাকে না। তো এই ছেরীর ব্রেন ভালা। যখন সে আমাগো এইখানে আসে তখন আমার দিকে এক মিনিট তাকায়, তারপর কিজানি চিন্তা করে। তারপর আমার দিকে তাকায় আর অর্ডার দেয়।
আমি তখন ভাব নিয়া খাড়ায় থাকি। তো একদিন মনে ধরলো যে এই ছেড়ির লগে কথা কমু। তো যখন বাইরে যাইতাছিলো সদলবলে তখন বাইরে গিয়া দেখি আরেকখান মাইয়ার লগে ল্যাপ্টাল্যাপ্টি করতাছে। কি কপাল আমার! এইটাও লেসবো!

এখন আর বাইরে যাইয়া ফটুক তুলতে ভালা লাগে না। আমাগো দেশে শীত আসলে যেমুন সকল পাতা ঝইরা যায় এই দেশে পাতা ঝরে না, পাতা গাছের লগে ল্যাপ্টাই চ্যাগায় থাকে। স্নো ফল শুরু হইলো গাছের কন্কাল পরিস্কার হয়। এখন হইলো পাতা চ্যাগায় থাকনের প্রক্রিয়া এরা শুরু করছে। সবুজ থিকা এরা ঠান্ডা হাওয়ায় পিঙ্গেল কালার লইতাছে। আগে যেইখানে মনে হইতো পুরো শহরে সবুজের আগুন লাগছে এখন দেখলে মনে হইবো পুরা শহরে লাল আগুন লাগছে। বন সবুজ দেখতেই ভালা লাগে, লাল বন দেখতে ভালা লাগে না!

রাইতের বেলা এখন তাপামাত্রা হয় ৩ থিকা ৪ আর পুরা দিন থাকে ৭ থিকা ৮, আমাগো দেশে ৭-৮ পড়লে উত্তর বঙ্গে টপাটপ মরা শুরু করে আর এইখানে সব হাফপ্যান্ট পইড়া ঘুরে। মাঝে মাঝে জিগাইতে মন চায়, ভাইডি থুক্কু বোইনডি, কুন দুকানের চাল খান, একটু কন। তাইলে আমিও খাই আর এই ঠান্ডার মধ্যে আমিও হাফপ্যান্ট পড়ি!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29450407 http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29450407 2011-09-18 16:33:02
ল্যাবরেটরীতে কৃত্রিম জীবনের সৃষ্টি: কিছু অজৈবিক পদার্থ একত্রিত কইরা জৈবিক কোষের তৈরীর পদক্ষেপ....মানে কিছু ক্যামিকেল দিয়া এমুন কিছু বানাইবো যাতে... (আমি এই বিষয়ের উপর আপডেট রাখবো কমেন্টে। তাই কেউ এই পোস্টে ঢুকলেই এই রিসার্চ রিলেটেড যাবতীয় পরীক্ষা সম্পর্কে জানতে পারেন! হয়তো আজ হতো ৫ বা ১০ বছর পর এই পোস্ট সাক্ষী হয়ে থাকবে এক ঐতিহাসিক গবেষনার সাফল্য মন্ডিত হবার ইতিহাস! মানুষ ২০৪৫ সালে অমর হবে, এটা আমরা বিশ্বাস করতে চাই, আপনি কি চান না?)

ধইরা নিলাম দুনিয়ায় এতো জীবনের সমাহার এমনে এমনে আইছে, তাইলে তো কিছু পদার্থ একত্রিত কইরা কিছু রাসায়নিক বিক্রিয়া করাইয়া জীবনের বৈশিষ্ঠ্য সম্বলিত কোষ তৈরী হয় না কেন?

আর যদি সেইটা করা যায় তাইলে তো মানুষের কিডনী ফুসফুসের মতো জটিল অন্ত্রও তৈরী করনটাও সুবিধা হইয়া যাইবো, নাকি?

যাই হোউক, এইসব চিন্তা নিয়া নানা টাইম গেছে! অখন আর এইটা নিয়া ভাবতে ভালো লাগে না। এছাড়া এইটা আমার ফিল্ডও না। মাগার আমার ফিল্ড এখন এইটা না। তাই তেমন কিছু বলন সম্ভব না আমার পক্ষে। প্রথমে এই ভিড্যু দেখেন, গ্লাসগো ইউনির কিছু পোলাপানরে বুঝাইয়া সুঝাইয়া এক প্রফেসর এই আকাম শুরু করছে!


জার্নাল খান পড়নের ট্রাই নিলাম, আধা কেমিষ্ট্রি, আধা বায়োলজী আধা বায়োকেমিষ্ট্রি দিয়া ক্যাচাল বাধাই ফেলছে! ভাবছিলাম এতদিন ফিজিক্স বুঝলে সব বুঝন যাইবো। মাগার কানে ধরছি, আমি ভুল!

অখন কেউ কি আছেন আমারে এই জার্নালখান বুঝানোর? আমি এই জার্নাল খান বুঝতে চাই!

লিংকু! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29447158 http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29447158 2011-09-13 05:03:39
দৈনিক রোজনামচা! আজকা মনে হয় ১২ তারিখ সেপ্টেম্বরের! প্রত্যেকদিনের রোজনামচা পোস্টাই না তাইলে "দৈনিক" টাইটেলে লেখি কেন?
যাই হোউক, প্রসঙ্গ হইলো রাইতে আমি ঘুমাইনা তা করি কি? কিছুই করি না তেমন। লন্ডনে রাসেল মামা একখান আজিব কাম করে। কানাডা লন্ডনের ইউনির পোলাপান খালি কাম করে, পড়ালেখা করে না। এমবিএ পড়নের সুবিধা হইলো এগুলান বেশীর ভাগ এসাইনমেন্ট আর থিসিস নির্ভর। টিউশন ফি আর ডিস্কোর টাকা জোগাড় করনের লিগা এইসব লাটসাবের পোলাপান সারা দিন কাম করে, পড়নের টাইম নাই। তাগো এইসব কাম আমরা কইরা দেই!রাসেল টাইটেল রিলেটেড জার্নাল জোগাড় করে আর আমি বানাই যাতে এইটা ভার্সিটির সফটুতে প্লাগারিজমে ধরা না খায়! পার থিসিস ৩০ থিকা ৪৫ পাউন্ড! আমার লিগা চলে, তাই সারা দিন কামলা দিয়া এক্সট্রা ইনকামের জন্য এই কাজ করি! সারা বছর ভইরাই কিছু না কিছু কাম থাকে, যখন না থাকে তখন মতলব নাইলে সি নাইলে ভিএইচডিএল নিয়া গুতাগুতি। প্রজেক্ট করতে হবে সামনে, তাই পড়ালেখা ছাইড়া দিলে কি চলবে? সপ্তাহে সাত দিন আমার কাজ করতে হয় সকাল ৯ টা থিকা রাত ১০টা। রাতে রুমে আইসা এইসব কাজে যায় রাত দুইটা। তারপর আবার ঘুম, তারপর সকাল থিকা আবারও একই টাইমে কাজ। শনি রবি বার কাজে দেরী কইরা যাইতে হয় মানে দুপুর ১২ টা নাইলে ২ টা। তাই শুক্রবার শনিবার রাত ১২ টা থিকা রাত তিনটা পর্যন্ত আরেকখান কাজ, এইটা ঐটা। কারন অর্থের প্রচুর প্রয়োজন, আবার পাশ করনটাও দরকার! তাই সংগত কারনেই ঘুমানোর টাইম পাই না!

কুত্তেকি লাইফ হো গ্যায়া হ্যায়, ইয়ার!

তাও এইসবের চীপাচাপি দিয়া টাইম বাইর করি, গ্রামের সাইডে মেলা লাগছে, একদিন গেলাম ঘুরতে, তাও আবার একলা একলা। নেপালী রুম মেট আমার মহা সুখে আছে, তার কান্ডকীর্তি লাইনে লাইনে আসবে! যাই হোউক, ক্যামেরা নাই তাই মনের দুঃখে মোবাইল নিয়া ছুটলাম। ছুটতে গিয়া দেখলাম খুদা লাগছে, মহা মুসিবত। সবসময় টাকা জমানোর টেনশনে থাকি, আর অখন যদি রাস্তাঘাটে খুদা খুদা লাগে কেমনে চলে(এই কথা পইড়া ভুলেও মনে করবেন না যে আমি কিপটা, একচুয়ালী আমি খালি কিপটা না, হাড় কিপটা!)?

তো হাটতে হাটতে পাওয়া গেলাম কিছু প্রতিবেশী রাষ্ট্রের পোলাপান। নেপালী পাকি আর বার্মিজ। দেখি ধুমাইয়া হাসতাছে। হাসির কারন জানতে গিয়া একখান জুক শুনলাম:

পোলারে জিগায়: তুই এলাকা ছাইড়া এইখানে কি করস?
পোলায় কান চুলকাইয়া কয়: এইটা একখান বিশাল ইতিহাস!
মাইয়ায় মুচকি হাসি মাইরা কয়: শুরু কর!
পোলায় অম্লান বদনে শুরু করলো: আমার মায় কতগুলান বিয়া করছে হিসাব নাই। ছোটকাল থিকা মায় দেখায় দিতো আর আমি তাগো "বাবা" কইয়া ডাকতাম। তো ১৮ বছর গিয়া দেখলাম পুরা এলাকায় খুব কম পোলাই বাকি আছিলো যাগো আমি "বাবা" ডাকি নাই! তাই মনের দুঃখে......
মাইয়া মুচকি হাসি চোখ টিপিতে কনভার্ট কইরা কয়: তা তুই কুন এলাকায় থাকতি?
পোলায় কয়: তুমি চিনবা না, আমি এলাকা না, ২-৩ বছর দেশটাই ছাইড়া দিছি!

আমি শুইনা পাকীরে কইলাম,"এইজন্যই কি আপনে ইউরোপে আইছেন?"
পাকীর দেখলাম মুখ শক্ত হইয়া গেলো! যাই হোউক, ওর শক্ত মুখ দেখনের টাইম নাই। অগো লগে ভাগে যোগে বিশাল একখান পিজ্জা কিনা খাইলাম আর মেলা দেখলাম, ফোনে ছবিও তুললাম মাগার বাসায় আইসা দেখি সব ভিডু হইয়া ৪-৫ সেকেন্ডের! মেজাজ খান বিলা হইতাছে কার উপর সেইটা নিয়া ভাবতে বসলাম, পিজ্জা নাকি ঐ পাইক্কা?


গত দুইদিন কাম করতে গিয়া একখান জিনিস আমি খেয়াল করছি। আমি যখনই কিছু রান্ধনের ট্রাই লই, তখন দেখা যায় ঐ খাওন খালি আমি একলাই খাই। অন্য মাইনষেও খায়, কিন্তু বেশী খায় না! তাই ট্রাই লইলাম সামনের ঐ ফরেন মাইয়ারে দিয়া। ঐ মাইয়ারে একদিন খাওয়াইলাম মেলা রিকোয়েস্ট কইরা। সকাল বেলা কামে আইসা খাইছে, সন্ধ্যার সময় আর কামে আসে নাই। ফোনে জানা গেলো তার নাকি পেট নামছে! আমি আর কারও ভয়ে কই নাই আজকা ওরে আমি রাইন্ধা খাওয়াইছি, কিন্তু একখান ব্যাপার বুঝলাম না আমার পেট নামলো না, ওর পেট নামলো কেন?


আমার সাথে আরও দুই তিনটা অভাগা বাঙ্গালী কাম করে। তাগো অভাগা অবশ্য আমি কই না, তারা নিজেরাই কয়। কারন তাগো বক্তব্য অনুসারে: আপনেগো মা বাপ দোয়া করে দেইখা কত ভালো ভালো জায়গায় যান কাম করেন, আর দেখেন আমাগো মা বাপ এমুন দোয়াই করছে যে অখন কামলা খাটতে হয়।

তাহাদের ভাষ্যমতে তাহাদের পিতামাতা নাকি তাহাদের জন্য দোয়া করে নাই। অবশ্য তারা এই দেশে আসছে দেশের অকাম কুকামের ফিরিস্তি দিয়া। একজন হইলো নোয়াখালির জিশান গ্রুপের সাগরেদ যে নাকি একখান মিথ্যাখুনের মামলায় পুলিশ থুক্কু নিজের বাপের দাবড়ি খাইছে (তার ভাষ্যমতে এইটা নাকি মিথ্যামামলা, যদিও যখনই সে এই কথা কয় মুখে একখান হাসি দেয়, আর এই হাসি দেখলে আমার মনে কেন জানি সন্দেহ জাগে)! আরেকজন হইলো বিশাল চাপাবাজ, এ একেক সময় একেক কথা কয়। হাতে পোড়ার দাগ, কয় বোমা বানাইতে গিয়া হাত পুড়ছে। জিগাইছিলাম উইরা যায় নাই কেন? সে মেজাজ খিচা কয় আপনে কি চান আমি মইরা যাই?
কি কথার কি উত্তর। আবার জিহ্বায় কাটাদাগ দেখাইয়া কয় জামাতের পোলাপান নাকি জিহ্বায় রামদা চালাইছে। যদিও তার ছোট ভাই কইছে সে নাকি আমগাছ থিকা আম পাড়তে গিয়া নিজের ওজনের চোটে আমগাছ ভাইঙ্গা পইড়া গেছে, আর পড়নের সময় নিজের জিহ্বায় কামড়া লাগছে! তারে বিশ্বাস করা আর বৌ এর বিয়ার আগের প্রেমের ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞাস করা একই ব্যাপার!

তো যাই হোউক, আজকা একখান রেসিপি দেই, সেইটা হইলো সোলায়মানী মাছ ভাজি! এই মাছ কেমনে ভাজতে হয় সেইটা আমি বর্ননা করুম। তয় একখান শর্ত, কেউ যদি এই মাছে বর্ননানুসারে রাইন্ধা খাওনের পর তারো পেট নামে তাইলে এর দায় দায়িত্ব কুনমতেই আমার উপ্রে চাপান যাইবো না!

১) প্রথমে বাজার থিকা সোলায়মানী ফিস মাছ কেজী দরে কিন্যা আনবেন! দাম নিয়া মতভেদ আছে, তো মতভেদ নিয়া আমারে কুনো কুশ্চেন কইরেন না।
২) এই মাছ ছুলনের দরকার নাই, আশ ফেলানোর দরকার নাই। কষ্ট কইরা আশ ফেলাইবেন কেন? আমার কাছে আছে ভালো টেকনিক। মাছ আগে সাইজ কইরা কাটেন। সাইজ কইরা কাটনের জন্য একখান চাক্কু লন। তারপর চাক্কু লইয়া হাত পাও ধুইয়া চিকন চিকন কইরা কাটেন।
৩) একখান ফ্রাইপেন লন। ননস্টিক বা স্টি্কি যেকোনো লইলেই চলবো। কুনো সমস্যা নাই। আমার কামই হইলো এইরাম, আমি আপনেরে আমার মতোন ইজি রাফ এন্ড টাফ স্টাইলে পাকাই দিমু, আপনে স্বাদ যেমুন পাইবেন তেমুনি এর মধ্যে কাচা বা আইশটার গন্ধ কিছু পাইবেন না! যাই হোউক, অখন তাওয়া গরম দেন!
৪) তাওয়া গরম হইছে? অকন কেউ যদি জিগায় তাওয়া গরম হইছে কি না এইটা দেখতে গিয়া নিজের হাত পুড়ামু নাকি? আসেন একখান বুদ্ধি শিখাই! এই বুদ্ধি আপনে তাওয়া বা তেল গরম করনের সিস্টেমও ধরবার পারবেন। খুবই সোজা, হাত খান ভিজান, তাওয়া বা তেলের উপর পানির ছিটা মারেন। যত বেশী শব্দ হইয়া পানি বাতাস হইবো ততবেশী গরম হইবো! তাইলে অখন টেস্ট মারেন তাওয়া গরম হইছে কিনা? যদি হইয়া যায় তাইলে মাছের গায়ের চামড়াটা তাওয়ার উপর ছাড়েন। কুনো তেল লবনের দরকার নাই।
৫) সামুদ্রিক মাছ তাই লবন নিয়া টেনশন লইয়েন না। দেখেন মাছের তলা ফ্রাই হইতাছে কি না। টেনশন লইয়েন না, পুইরা গেলেও সমস্যা নাই! যখন মাছের তলা ফ্রাই হইবো তখন মাছের উপর একটু হলুদ একটু কাচামরিচের বাটা আরেকটু লবন, বেশী না, ছিটাইয়া দেন! যখন দেখবেন মাছের পিছ নীচ থিকা ফ্রাই হইয়া আসতে আসতে উপরে আসতেছে, তখন একখান চিমটা লইয়া উল্টাই দেন।
৬) এই মাছের ভিতর তেল আছে। তাই তাওয়ায় লাগনের কথা না। লাগলেও কুনো সমস্যা নাই! যাই হোউক মাছের সব পিছ উল্টানি হইয়া গেলে অখন দেখবেন মাছের চামড়া শক্ত হইয়া কালা হইয়া গেছে। অখন আপনে চিমটা দিয়া চামড়া উঠায় ফেলান। ফ্রাইপেনের কুনা কান্ছি দিয়া একটু ঘি বা তেল বা ডালডা মারেন, যেইটা খুশী। মাছের চামড়া যেইখানে উঠাইলেন, ঐখানেও একটু হলুদ বা জীরা গুড়া সাথে মরিচ বাটা আর একটু লবন মারেন!চুলার আগুন কমায় দেন!
৭) মাছ দেখবেন যখন শক্ত হইয়া গেছে,তখন আপনে উল্টাই দেন। মোটামোটি একটু ফরাই মারেন যাতে পানি পানি ভাব খান না থাকে। তারপর আপনে একখান থালে উঠান পিছ উঠান চুলা বন্ধ কইরা। উপরে ধইনা পাতা ছিটাইয়া খাওন শুরু করেন!

খাড়ান একখান ছবি দেই! আমার না, সোলায়মানী ফিস মাছের!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29447154 http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29447154 2011-09-13 04:34:51
দৈনিক রোজনামচা আজকা কয় তারিখ? মনে হয় অখনো ৮।
হেইদিন একজন কইলো এলকোহল ফ্রী ড্রিংক, আমি অবুঝে মতোন টানা ৪ গ্লাস খাইলাম। কেডায় জানতো ঐডায় কড়া জীন মিশানো! কি করছি জানি না, তয় পুলাপান ভিডিও করছে। তাতে যা উঠছে, মনে হইলো আমি হ্যাংওভার মুভী দেখতাছি!আর খামু না নিয়ত করছি!

গতকাইল দুপুর বেলা ভার্সিটির পুলাপান আইলো ছয় সাতটা। কইলো শহর দেখবো! আমি তাজ্জুব বইনা গেলাম। আব্বে, এইডারে শহর কেডা কয়, এইডা গ্রামের নীচে যদি কিছু থাকে হেইডা!

যাই হোউক, সন্ধ্যার সময় এমুন হইয়া গেলো পুরা এলাকা যেনো এই দেশী সরকার বিনা নোটিশে কার্ফু মারছে। সবাই মন খারাপ কইরা ঘরে গেলো তার পিটাইতে। হঠাৎ দেখি লগের একজন পুরা জ্যাক ডেনিয়েলস লইয়া আইছে!আমি আর ধারে কাছে ঘেষলাম না। খালি দেখলাম কি করে!

২৯ খেললো, পুরা জ্যাক ডেনিয়েলস পাল্লা দিয়া খাইলো। নাচতে নাচতে গেলো ডিস্কোতে। আমারে টানাটানি করলো দুই তিনটা টালু। আমি হাসি দিয়া কইলাম,"যামু না গো খালু!" আমি ঘুমাই গেলাম। মাগার ঘুমের মধ্যে দেখলাম মাঝরাইতে গান গাইতে ঘরে ঢুকলো। একজনের উপর আরেকজন শুইলো যদিও সবার লিগা বেড বিভিন্ন রুমে করা আছে। কিছুক্ষন পর নেপালী রুমমেট উইঠা পরনের কোয়ার্টার খুইলা হিস্যু শুরু করলো নিজের বিছানার উপর। ঘুমের ঘোরে এই সীন দেইখা মনে হইলো একাত্তরের বিভীষিকাময় রাইতের চেয়ে এই রাইত কম কিছু না!

সকাল ৬ টায় উইঠা গেলাম ভার্সিটি। ভার্সিটি এই শহর থিকা ১৫০ কিলো দূর! যে গাড়িতে কইরা গেলাম সেইটা আমার ক্লাশমেটরাই কিনিয়াছে। স্বদেশী নকল লাইসেন্স এইখানে আসল বলিয়া তাহারা গাড়ি কিনিয়াছে। একেতো নকল লাইসেন্স তার উপর রাতের বেলা হ্যাংওভার হইয়া ৩ ঘন্টার ঘুম তার উপর কুয়াশা ঘেরা হাইওয়ে, নাজানি কপালে কি আছে ভাবিয়া গাড়িতে উঠিতেই দেখি ল্যাপ তোষকে ভরা! আমি মুখ ফইসকা বইলা ফেলাইলাম,"এই লেপটার কালার দেখি আমারটার মতই। এতো লেপ তোষক কেন?"
গাড়িতে উইঠা টের পাইলাম। গাড়িতে হীটার আছে মাগার চালাইলে শীত করে। আর ঋতুর হাওয়া দেইখা ভালাই টের পাওন যাইতাছে -৩০ এর শীত আইতে আছে! যাই হোউক, ড্রাইভার হিসাবে যে সীটে বইছে তার সাহায্য কারী হিসাবে পাশে বইছে গাড়ী যে কিনছে। সে গাড়ীর অন্যান্য বাটন যেমুন মিউজিক, জিপিএস সম্পর্কিত কারিগরী স হায়তা করিতেছে। আমি কিছুক্ষন পর পর জিগাই,"ভাইজান, দরকার হইলে আশে পাশে যদি কুনো মুদীর দুকান দেখেন, তাইলে একটু জিগায় লইতে পারেন আমরা কি সঠিক পথে আছি না উল্টা পথে আছি!"

সমস্যা হইলো স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলাতে মুদীর দুকানের ব্যাবসার কনসেপ্ট এখনো কেউ দিবার পারে নাই। যদি এই জাতী জানতো, তাইলে এই ব্যবসাটা বাতাসের আগে ছড়ায় পড়তো! এদিকে হীটার চলনের পরও আমরা শীতে কাপিতেছিলাম, কি ভয়াবহ ঠান্ডা, আশে পাশে কুনো মুদীর দুকানও দেখা যায় না! মাঝে মাঝে হঠাৎ কুয়াশার আগমন দেখিয়া এক পন্ডিৎ বলিয়া বসিলো,"এখানে উচ্চতা ধরিতে গেলে পাহাড়ের উপর, তাই কুয়াশা!"
তখনই একজন বলিয়া বসিলো,"তাইলে যেইখানে কুয়াশা নাই, সেইটা কি সাগরের তলে দিয়া গেছে?"

যাই হোউক, ভার্সিটি এলাকায় আসিয়া পরানটা ভরিয়া যতদ্রূত গেলো আবার তত দ্রূত শুকাইয়া গেলো। এই সবুজ আর ১ মাস পর থাকবো না। যেদিকে তাকামু সেদিকে সাদা। আশেপাশের পাহাড়ের সাথে দুয়েকটা নতুন পাহাড় গজাইবো সেইগুলা হইলো বরফের পাহাড়!
ঠান্ডায় মনে হইবো গলায় দড়ী দেই মাগার দড়িও দেখা যাইবো বরফে জইমা লোহার রডের মতো শক্ত হইয়া গেছে! কি নসিব আমার!

কিছু ঘুরা ঘুরি আর ল্যাবে একটু উকিঝুকি মারিয়া প্রফেসরের সাথে না দেখা করিয়া ট্রেনে কইরা আবারও বাসায় চইলা আসলাম। বাসায় আইসা দেখি আমার লেপ নাই!

মনে মনে আফসোস করিলাম, যেই লেপের কালার নিজের বলিয়া মনে করিয়া ছিলাম সে লেপখানা আসলে আমারই আছিলো! এদিকে রুমে হিসুর গন্ধে মৌ মৌ করিবার কারনে নেপালী ব্যাটাকে পাটালী দিয়া ছ্যাচা দিয়া কইলাম,"ব্যাটা, টয়লেটের কাম ঘরে নেক্সট টাইম করলে, ঘর মুছামু না, ঘর চাটাইয়া সাফ করামু!"

কার কথা কানে যায়..........ব্যাটা হাসে........হাসবো না কেন নেপালী কি আর বাংলা বুঝে!

মেজাজ আরো গরম হইলো এই সামারে আমাগো ভার্সিটির পুরা এলাকাটা কত সুন্দর দেখায় সেইটা নতুন আইফোনে তুইলা রাখতে গেলাম! বাসায় আইসা দেখি সব ভিডিও উইঠা বইসা আছে! বুঝতাছি না কার উপর মেজাজ বিলা করুম, সামার না স্টিভ জবস?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29445149 http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29445149 2011-09-09 04:25:56
দৈনিক রোজনামচা: অখনও দেখী ৪ঠা সেপ্টেম্বর ২০১১!
অখনও ক্যামেরা কিনবার পারি নাই, আইফোনের অর্ডার দিছি তিনসপ্তাহ আগে, এক মাসের বিলও দিয়া দিলাম, মাগার ফুনের কুনো খবর নাই! এক আজিব দেশে আছি, ছাত্র হইলে ডিসকাউন্টও যেমুন আছে তেমুন সবার হাইসা হাইসা বাশও আছে!

আমি অখন যেই শহরে আছি শহর খানা ছিমছাম! একেকখান বাড়ির গায়ে তার বানানির ডেট লেখন আছে। সবচেয়ে আধুনিক বাড়িখান পয়দা হইছে ১৯৪৮। কামের ফাকে ফাকে পুরান পুরান বাড়ি খুজি। তো সবচেয়ে পুরান বাড়ি খুজতে গিয়া একখান ঘর পাইলাম, যেইটার গায়ে অনেক বিদেশী কথা লিখা যার মধ্যে ১৭৪৭, ১৮৪২, ১৯৫৩ লেখা। মনে মনে গল্প বানাইলাম ১৭৪৭ সালে কুনো এক অভাগা এই ঘর খানা বানাইয়া ঘুম দিছিলো। পরে ঘুম থিকা উইঠা দেখে বরফের মধ্যে আগুন ধইরা গেছে। তো সেই আগুন নিভাইয়া ১৮৪২ সালে আবারও রিপেয়ার করছে। ১৯৫৩ সালে যখন বাংলাদেশে ভাষা আন্দোলন হইছিলো তখন একখান বুলেট এক বছর পর এইখানে আইসা লাগনে আবারও রিপেয়ার করছে! নিজের ক্যামেরা নাই, থাকলে শিওর একখান ফটুক তুলতাম!

পাশ দিয়া একখান সুন্দরী যাইতাছিলো। মন চাইতাছিলো ফুন নম্বর জানতে, যাই হোউক হাই হ্যালো কইরা এই ঘর নিয়া জিগাইতেই সে কয় এইটা নাকি টয়লেট, এইখানে বড় ছুটো যেই কামই করি দেশী টাকায় ১০০ টাকা! আমি শুইনাই খুশি হইয়া গেলো, সামনে বিশাল সাগর, এই সাগর রাইখা কুন পাগলে এই দাদার আমলের টেকনোলজী সমৃদ্ধ খোয়াড়ে বদনা নিয়া টয়লেট করবো?

যাই হোউক, সারা দিন আমি কয়টা ভালা কাজ করছি। তার একখান লিস্টি করি:

১) হাসিনা খালেদারে সকালে উইঠাই একটা গাইল দিছি! কারন হইলো আমার মোবাইলে টাইমলি বেল বাজে না, ৭ টার সময় বেল দিলে বাজে ৯ টায়, নাইলে ৬ টায়! এর কারন হইলো তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আর্মির একখান লাঠির বাড়ির পড়ছিলো আমার ঠ্যাং এ। মোবাইল মামা তার বডি দিয়া আমার ঠ্যাং বাচায়! সব হাসিনা খালেদার দোষ!

২) যেইখানে কাম করি সেইখানে প্রত্যোকদিন কয়টা চড়ুই পাখি জ্বালাতন করে। এইখানে পাখির গায়ে হাত দিলে দেশী টাকায় ৩০০০০ টাকা ফাইন! ৩০০ টাকা কেজী মুরগীর গোস্ত খাইয়া কুন খায়েসে পাখির গায়ে হাত দিমু কন? যাই হোউক, তাই জ্বালাতন সামলাইতে হাতে মালিকের মাগনা চাউল লইয়া পাশের দোকানের সামনে ফেলায় রাখি! পাশের দোকানের দোকানদার হইলো ২৮ বছরের এক সুন্দরী। যদিও তার একখান পুচকী আছে সারা দিন ট্যা ট্যা করে, মাগার তার সামনে পাখিগো খাওয়াইতে বড়ই ভালা লাগে! ভবিষ্যতের জন্য ইনভেষ্টও হয়! এক ঢিলে এমুন ছয় পাখি মারনের সুযোগ কয় জনে পায়?
৩) আজকা দরজায় তালা মাইরা যাই নাই, ফলে আমার রুম মেটগো রুমে ঢুকতে কুনো সমস্যা হয় নাই!

অখন কই আজকা কি কি অকাম করছি!

১) রুমে তালা মারি নাই দেইখা বাসায় অখন মিটিং বইছে। সবার জিহাদী জোশ উইঠা গেছে! আল্লা মালুম কালকা এই বাসায় থাকতে দিবো কি না!
২) আমার রুম মেটের পরান পাখিরে আজকা রাস্তায় পাইয়া আমার ফুন নম্বর দিয়া আইছি। ফুন নম্বর দিছি এই জন্য যে তার কম্পুতে সমস্যা দেখা দিছে। মাগার রুম মেট মনে করতাছে আমি নাকি তার বাড়াভাতে ভাগ বসাইছি! আসেন বলি আস্তাগফিরুল্লাহ, আমি ভাগ বসানির লোক না, পুরাটা খাওনের লুক যেইটা রুম মেট অখনো জানে না!
৩) রাস্তা দিয়া আসনের সময় হেভী লো প্রেসার হইছিলো, তো ব্যাংকের দরজার সামনে দিলাম প্রেসার ছাইড়া। ব্যাংকের সামনে ক্যামেরা সাইন থাকলেও এই ব্যাংকে ক্যামেরা খালি ভিতরে। তয় ধরা খামু না মনে হয়, বাকি সব আল্লাহ ভরসা। তাই আগামী এক মাস ঐ রাস্তা দিয়া আমি কুনো কামে যামু না!


যাই হোউক, পাপ পূন্য আজকা সমান হইছে! আমার টার্গেট হইলো প্রত্যোকদিন পাপ পূন্য সমান রাইখা কাম করুম আর মাঝে মাঝে পূন্য দুয়েকটা বেশী কইরা কুটিকালের পাপের রিকভারী মারুম!

আমার কুটিকালের পাপের হালখাতা জানি বন্ধ করতে পারি সেই দুয়ায় আমি উদাস বান্দর!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29443108 http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29443108 2011-09-05 03:11:32
প্রলয়ের অপেক্ষায়!
সেদিন ছিলো শনিবার রাত, পার্টি নাইট। সোলেমন মাছ ভাজা আর মশুরীর ডাল দিয়ে ভাত খেয়ে আমি গান শুনছি রুমে আর রুম মেট বসে বসে খাজুর মাজুর করছে। হঠাৎ রুম মেটের একটা ফোন: কে?
: ও হ্যা কি খবর?
: কেন কি হইছে?
: ও আচ্ছা, কোনো সমস্যা নাই! এসে পড়ো!

রুম মেটের এই কয়টা কথা শুনে তাকিয়ে রইলাম, রুম মেট হেসে বললো,"বস, একটা ভেজাল হইছে। নীচের তলায় সবুজ ভাইয়ের রুম মেট জামিল ভাই, পার্টিতে গেছিলো। তো পার্টি শেষ করবার পর নাকি একটা পাখি জোগাড় হইছে, তো রুম মেটের জন্য সবুজ ভাই আজকে রাতে এখানে শুতে চায়!"
আমি একটা হাসি দিয়ে বললাম,"হায়রে! এক লগে থাকলে কি সমস্যা, মাইয়া নিয়া রুমের এক কুনায় কাম করবো, সে লেপ মুড়ি দিয়া ঘুমাইবো। মাঝে মাঝে উকি ঝুকি দিবো, মাগনা মৌজ লইবো....যাই হোউক, এক্সট্রা জাজিম বিছায় দেন!"

একটু পর সবুজ ভাই রুমে নক করে ঢুকে পড়লেন। আমি কানে হেড ফোন দিয়ে এমন ভাব করলাম যে আমি গান শুনছই। আসলে আমি এদের আড্ডায় যেতে চাচ্ছি না। ঘটনা যেটা হবে শিওর রুমে আড্ডা বসবে। গান ছাড়িনি শুধু কথাগুলো শুনছি!
: আরে সবুজ ভাই, আপনের রুম মেট দেখি কঠিন জিনিস। আমার তো এইসব বিষয় মাথাতেই ঢুকে না!
: আর বইলেন না, খুবই ঘোড়েল চীজ। প্রতিসপ্তাহে পার্টিতে যাওয়া চাই, মাঝে মাঝে বোতলও নিয়া আসে!জামিল ভাই যে এত দ্রুত মানাই গেছে এইখানে এইটাও আশ্চর্য্য বিষয়!
: হ, বছর দুয়েক ধইরা এইসব বুঝা সোজা কথা না, আর আমিতো মাত্র ২ মাস!
: নারে ভাই, সে এইখানে ৭ বছর, এর আগে ইতালী থাইকা আসছে ২ বছর!

আমার রুম মেট একটা কাশি দিয়া বললো চা বানাইবো নাকি। সে গেল চা বানাইতে। আর আমি কম্পুতে খুব ভাব ধইরা একখান প্রোগ্রাম খুইলা সেইটার দিকে আন্দাজে চোখ চালাইতে থাকলাম। হঠাৎ রুমে আরেকখান বেলের শব্দ। রুমমেট দরজা খুইলাই শুনলাম হাসাহাসির শব্দ। একটু পর রুমে দেখি স্বয়ং জামিল ভাই। আমি দেইখাই আর তর সইলো না, হেড ফোন নামাইয়া খাড়াই গেলাম গরম ঘটনা শোনার জন্য।
সবুজ ভাই হাসতাছে, দুই জন মুখোমুখি আর আমার রুম মেট দুইজনের মাঝখানে।
: আরে জামিল ভাই, এতো তাড়াতাড়ি কাম শেষ, একটু দেখাইলেনও না!
: আরে ধুর মাইয়াটা ভালা না। রুমের সামনে আইসা কইলো ওর নাকি মানিব্যাগ হারাই গেছে। রুমে ঢুকলো তারপর টয়লেট ব্যাব হার কইরা গেলো গা। কইলো ও নাকি ওর মানিব্যাগ নিয়া আবার আসবো!আসলে ওর ধান্ধা অন্য!
: ও, তাইলে কি অখন আইবো?
: আইতেও পারে আবার নাও পারে। সমস্যা নাই, আড্ডা দিতাছিলেন নাকি?

আমি "না না" করতে যামু অমুন সময় রুম মেটের হাতে কফির দুই কাপ দেইখা জামিল কয়,"ও আচ্ছা আড্ডা বসছে মনে হয়। তাইলে আহেন আড্ডা দেই। আজকা ডিসকো তেমন জমে নাই!"
আমি এমুন ভাব ধইরা খাড়া্য রইলাম যেনো আমার উপর একখান থাডা নাযিল হইছে। আমার রুমমেটের একখান সমস্যা আছে, সে স্হানীয় ব্যাংকে গেলে কফির ব্যাগ ফ্রিতে জ্যাকেটের চীপায় নিয়া আসবে আর দিনের মধ্যে দুইতিনবার কফি বানাবার সময় জিজ্ঞেস করবে,"বস চা বানাই?" এমনকি রাত তিনটার সময় ঘুমাতে যাবার আগেও তার কফি খাওয়া দরকার। আর সকাল বেলা উঠে গম্ভীরগলায় বলবে,"ও্স্তাদ, ইদানিং রাতে ঘুম আসে না!"

যাই হোউক জামিল ভাইরে রুমের ভিতর আড্ডায় বসতে দেইখা আমি কানে আবার হেড ফোন দিয়া জানাইলাম,"ভাই, প্রজেক্ট নিয়া দুনিয়া আমার কামরুখ কামাক্ষা হইয়া যাইতাছে। আমি একটু পরেই আড্ডায় আসতাছি!"

শুরু হইলো তাগো আড্ডা, প্রথমে জামিলভাইয়ের ফ্লোর
: আর কইয়েন না, সাইপ্রাসের মাইয়ারা যে কত খারাপ চিন্তা করতে পারবেন না।
: কেন কি হইছে?
: এই ধরেন আজকা ওরা আই লাভ ইউ কইছে আপনারে, কালকাই আবার আরেকটার লগে শুইতে গেছে গা। তয় ইতালির গুলান এই দিক থিকা ভালো। আগে তো এইখানে অনেকে মাইয়া দিয়াও পারমিশন লইছে!
: এখন সমস্যাডা কুন জায়গায়?
: সমস্যা কুনো জায়গায় না। বিদেশীগো ওরা চিনা গেছে। আজকা পারমিশন পাইলে কালকা যে এ আর ঘরে আইবো না এরম কেস অনেক আছে! এখন এরা খুজে আ্ফ্রিকান পোলা, সব বড় বড় জিনিস!
: ধুরো, দিন দিন সব কঠিন হইয়া যাইতাছে।

দুইজনের কনভার্সেশনে আমার রুম মেট সুবিধা করতে পারতাছিলো না। হঠাৎ বইলা ফেললো,"অনেকদিন ধইরা কার্ড খেলি না, আসেন, এক দাঈং খেলি!"
কার্ড খেলার কথা শুইনা আমার মনটাও নাইচা উঠলো। মেলা দিন টোয়েন্টি নাইন খেলি না। হেড ফোন নামাইয়া একটা মোচড় দিলাম,"তো কি নিয়া আলোচনা?"
ওমনি জামিল ভাই কইলো,"এই তো চারজন হইয়া গেছে। রনি ভাই, আপনেরা তো সরকারী হোস্টেলে ফাটাইয়া কার্ড খেলতেন তাই না?"
আমি হাইসা কইলাম,"আবার জিগস, পয়লা তিন বছর তো গেলো কার্ড পিটাইয়া আর লেডিস হলে এডাল্ট সিডি পোস্টে পাঠাইয়া!"
আমার রুম মেট তার ড্রেয়ার বো্র্ড থিকা কার্ড বের করতে করতে বললো,"আরে ওনারা তো ওস্তাদ মানুষ, আমরা কুষ্টিয়া ইউনিভর্সিটির হলে ধুমাইয়া খেলতাম পুরা ফোরথ ইয়ার পর্যন্ত।"
সবুজ ভাই কার্ড হাতে নিয়া বলা শুরু করলো,"তাইলে আসেন হইয়া যাক। দাড়ান আমি ক্রিজ মাইরা দেই। ভালা কইরা ক্রিজ না মারলে নতুন কার্ডে সব একজায়গায় চইলা যায়!"
আমি একটা গেন্জ্ঞি গায়ে দিয়া কইলাম,"ভাই আমি আসলে ঝানু প্লিয়ার না, কালারে মাঝে মাঝে গন্ডগোল হইয়া যায়। সীটের হিসাবটা আপনেরা করেন!"
ওমনি দেখি তারা পুরা কার্ড বাছা শুরু করলো, আমি কইলাম, "ভাইয়েরা, কি খেলবেন আপনেরা? আমি কিন্তু ইন্টারন্যাশনাল ব্রিজ পারি না। খালি টোয়েন্ট নাইন আর কল ব্রিজ!"
অমুন সময় জামিল ভাই কইলো,"ভাই আমরা তো ৯ কার্ড খেলুম, মিলান্তি। টোয়েন্ট নাইন তো অনেক দূরের কথা, কল ব্রীজও পারি না!"
আমার রুম মেট হাসি দিয়া কয়,"আমি আসলে ৯ কার্ড খেলার জন্য কার্ড কিনছি এইখানে আইসা! তাও আবার একটু নিয়মটা কন!"

নাইন কার্ডের কথা শুইনা মেজাজ চরমে খিচলো। মন চাইলো এই দুইটারে থাবড়া দিয়া বাইর কইরা দেই!
কুনো মতো এক ঘন্টা খেইলা, জামিল ভাইরে জিগাইলাম,"ভাই, খিদা লাগছে। নুডলস বানাই?"
জামিল ভাই হাসি দিয়া কইলো,"আবার জিগস, তয় নুডলসের পর আমাগো টোয়েন্টি নাইন শিখাইতে হইবো!"

আমি নুডলস বানাইলাম একটু কম। আসলে খিদা মেইন কথা না, মেইন কথা ছিলো নাইন কার্ড খেলা বাদ দেয়া। নুডলস সব তাগো দিতেই সব শেষ! দেইখা মনে হইলো রাতে এরা খায় নাই! আমি একটু ভাব নিয়া ইনডাইরেক্ট জিগাইলাম," আচ্ছা জামিল ভাই, দেশ থিকা টাকা আননের রাস্তা কি?
: কখনো আনাই নাই, তয় আপনে শহীদ ভাইয়ের সাথে কথা বইলা দেখতে পারেন। কি টাকা আনাইবেন নাকি? আপনে তো মিয়া মাসে অনেক টাকা কামান!
: আরে নারে ভাই, আরেকজনের জন্য দরকার। আপনে কখনো আনান নাই?
: নারে ভাই, আনামু কেমনে? টাকা দেওয়ার সমর্থ নাই!
: তাইলে আপনের এইখানে চলে কেমনে?
: এই দুয়েকটা বিজ্ঞাপন বিলি আর মাঝে মাঝে এর ওর বাসায় কাজ কইরা দেয়া!

জামিল ভাই শুরু করলো,"ভাই, অনেক কষ্ট করতাছি, এসাইলামের কেস করছি বছর দুয়েক। জানি টিকবো না, তবু যদি হয়! দেশে গেলে কি করুম, লোন আছে মাথার উপর, যা বাকী ছিলো তার সবকিছু বেইচা সাইপ্রাসে গেছিলাম। গিয়া দেখি কিছু নাই। পরে ছোট একটা বোটে জানটা কোনো মতে হাতে নিয়া আসি ইতালীতে। যখন তীরে সাতার কাইটা আসি, তখন মনে পড়ে নৌকায় চাচাতো ভাইটারে পানির পিপাসায় সাগরের পানি খাইতাছে। তারপর এইখান ঐ খান ঘুইরা এখন এইখানে।"
____________________________________

আমার কাছে এসব ঘটনা খুব সাধারন মনে হয়, লোকটা যে পথে এসেছে, মারা যাবার কথা ছিলো ক্ষুধায় অথবা পানিতে ডুবে। লোকটা কিছু অতিরিক্ত সময় বেচে আছে!

ছোট একটা দেশ, বিপুল জন সংখ্যা। জনসংখ্যার প্রবৃদ্ধির হার কমলেও যেভাবে বাড়ছে সেটাও কম নয়। তার উপর চলছে দুর্নীতি। সম্পদের সুষম বন্টন তাই কল্পনা করা যায় না। যার সুযোগ হয় তারই দেশ ছাড়তে মন চায়। যদি কালকে কোনো এক ইবলিশ বলে,"তোকে আমি ১ লাখ টাকায় এমন একটা দেশে নেবো যেখানে জাহান্নামের আগুনের মতো গরম!" মানুষ সেখানেও যাবে, কারন ১ লাখ টাকা খুব অল্প টাকা।

আমরা আমাদের দেশটাকে পাল্টাতে পারিনি, যারা পাল্টাতে চান তাদেরকে আমরা টেনে ধরি, তাদের নানা দোষ বের করি, কারন আমরা হিংসা করি। আমরা সবাই অল্প বিস্তর মানসিক ভাবে অসুস্হ। সমালোচনা স হ্য করতে পারি, কারো ফিরিয়ে দেয়াটাকে ভালো চোখে দেখি না। দেশটা অন্ধকারে নিমজ্জিত।
আমার কাছে মনে হয় দেশটার সুদিন আসবে, খুব সুন্দর একটা সময় আসবে। কিভাবে যদি বলতে হয় তাহলে একটা থিওরীর কথা বলি যেটা এস্ট্রোফিজিক্সে একসময় খুবই জনপ্রিয় ছিলো।
কোয়ান্টাম ইনফ্লেশনের কারনে মহাবিশ্ব সম্প্রসারনশীল কিন্তু একসময় এটা হঠাৎ করে সংকুচিত হতে শুরু করবে এবং সেটা একসময় কেন্দ্রবিন্দুতে সবকিছু চলে এসে আবারও বিগ ব্যাং ঘটাবে!

আমাদের মধ্যে এই আধার ছড়িয়ে গেছে, যেটাকে আমরা রুখতে পারবো না। আমাদের মধ্যে নৈতিক অবক্ষয়, সামাজীক অবক্ষয় নীতি ভ্রষ্টতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাড়ছে এবং বেড়েই চলেছে। একসময় প্রলয়ে সৃষ্টি হবে, আমরা এতটাই অসহনশীল হয়ে যাবো যে আমরা সবাই সবার মাথা খাবো। এর ফলে আমাদের মাঝে আামাদের সংখ্যা বা অস্তিত্ব কমে যেতে থাকবে, ফলে আমাদের মধ্যে থেকে যারা হারিয়ে যাবে তারা তাদের আধার নিয়ে হারিয়ে যাবে। আস্তে দেখা যাবে প্রলয়ের একটা পর্যায়ে আমাদের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যাক মানুষ আমরা বেচে আছি আর স্বভাবতই আমাদের মধ্যে তখন এই অন্ধকার জিনিসটার পরিমান কম হবে। তখন আমরা বুঝতে পারবো কিভাবে আমাদের নিজেদেরকে গড়তে পারবো।
হাতে গোনা কয়েকটা মানুষকে আবারও শুরু করবো এই দেশের যাত্রা, এবং ঠিক তখনই আমাদের দেশটা হবে নিখুত একটা দেশ!

ঈদের দিনে কিছু লোক আমরন অনশন করছে। তাদেরকে ঈদ মোবারক জানানোর খুব ইচ্ছে ছিলো, আর আফসোস হচ্ছে আমি দেশে নেই। দেশে থাকলে আমিও ওদের দলে মিশতাম! আমি এই প্রলয়ের শুরু হওয়াটা দেখতে ভয় পাই!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29441621 http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29441621 2011-09-01 05:50:42
খোড় পাবলিকের ধরা খাওয়া!! : অখনো ৭ মিনিট বাকি। তোরে না কইছি রাইত বিরাইতে ফোন দিবি না, আবার ফোন দিছস কেন?
: দুস্ত চেতো কেন? ঈদে কি করুম বুঝতাছি না। কালকা কারোই ফ্রি পাইলাম না। পড়া লেখা শেষ, কাম কাইজেও ছুটি। কালকা ঈদ কি করুম বুঝতাছি না!
: এই লিগা তুই আমার ঘুমের পরোটা ভাইজা নীহারী বানাইয়া খাবি! দেশে গিয়া বিয়া কর!
: দুস্ত দেশের নাম কইবা না। দেশে সব দুই নম্বর!
: তুই লন্ডনে বইসা দেশের র‌্যাংকিং কেমনে শুরু করলি?
: তাইলে মামা কাহিনী শুনো। এফবিতে একখানের সাথে পরিচিত হইলো। কিছু দিন কথা হইলো, ভিডিও চ্যাট হইলো....দুস্ত আছো না ঘুমাই গেছো? ফুনটাতো আমিই করছি, বিল নিয়া টেনশন করো কেন?
: আব্বে ক্যাচাল বন্ধ কইরা প্যাচালে আয়!
: ওকে! পরে আমি আমার বন্ধু বান্ধবগো নক করলাম। ওরা আবার ওরে ভালো চিনে। তো ওর ব্যাপারে আমি কিছু জিগাই নাই, মাগার এফবিতে ইদানিং ঘুরাঘুরি দেইখা আমারে জিগায় তার ব্যাপারে। আমি তো লজ্জায় কই না! তখন শুরু করলো ওর কাহিনী! ওর আগে একখান বিয়া হইছিলো পরে ডিভোর্স হইয়া যায়! এইটার খবর আমি নিজেও জানতাম। পরে একখান পোলা, ঐ পোলারে আমি চিনতাম তার লগে শুরু করে প্রেম। মাঝখানে আরেক পোলা যে কিনা ওর ভার্সিটিতে পড়তো তার লগেও প্রেম শুরু হইলো। তখন আগের পোলারে পাত্তাই দেয় না। কিন্তু যখন নেক্সট পোলা ওরে প্রেসার দেয় তখন ওরে বাদ দিয়া ঐ আগের পোলার কাছে চইলা যায়। তখন ঐ পোলা জানায় দেয় মা বাপের সম্মতি ছাড়া বিয়া করন সম্ভব না!
: ওরে শয়তান, ঘাড়ে উইঠা ধরলি কান, কুন পোলা কার পোলা মিলাইতে গিয়া আমার মাথা ঘুরে! নাম নাই?
: নাম আছে মাগার কওন যাইবো না, তুই সব কয়টারে চিনবি! তুই তো আবার রাডার, দেখা গেলো মাইয়ার ঠাই ঠিকানা লইয়া নিজেই লটর পটর শুরু করছোস! তুই তো খোড়ে এ আজিম!
: দেখ মদনা, লন্ডনে আইসা ডান্ডা মাইরা ঠান্ডা করুম। প্যাচাল শুরু কর দুরত!
: তারপর আগের পোলার সাথে সম্পর্ক কাট হইয়া গেলো পরের পোলাটা হইয়া গেলো শুধু ফ্রেন্ড। এর মাঝখানে আরেক খান বাইরের পোলার লগে লটর পটর শুরু করছে। পরে জানলাম ঐ পোলারে বাদ দিয়া তোর আশেপাশের কুন দেশের এক পোলার লগে ভাব জমাইছে। নাম বাইর করতে পারি নাই। পরে আরও যেইটা জানতে পারলাম ওর এফবি ঘাইটা যে আরেকখান নোয়াপাড়ার পোলা আরেকখান লন্ডনীরে গান শুনাইতাছে!
: তুই এফবি ঘাইটা জানলি কেমনে?
: আমি তাগো ডাইরেক্ট মারছিলাম, তারা ইনডাইরেক্ট হইয়া গেছে!
: তো কথা শেষ হইছে?
: মামা, একখান কথা কই? টাইম আছে?
: বল।
: দুস্ত দেশে যামু না! বিদেশেই ভালো আছি!
: তুই থাক, আমি খাটে গেলাম!

ফুন কাইটা মহা বিরক্তে বইসা রইলাম। সারা দিন কাজ কর্ম আর কাহিনীর পর ফুনে সবার গল্প শুননের কাম শুনতে ভালা লাগে না। এদিকে একখান এমবিএ থিসিসের কাম আটকাই আছে, রাসেল মামা আমারে খাড়া দাবড়ির উপর রাখছে!
এমুন সময় রুম মেট জিগায়,"ওস্তাদ, কালকা নামাজে যাইবেন না?"
: যামু তো, মাগার নামাজ কুনজায়গায় পড়ায়?
: এই খান থিকা ১০ মিনিটের পথ, মসজিদ আছে একখান।
: অফকোর্স যামু!
: জয়নাব গো বাড়ি পাশেই। লন যাই একটু ঘুইরা আসি?

মনখান খিচা গেলো, মাইয়া মানুষের নেশা ইদানিং দেশ বিদেশ সব জায়গায়! পড়ালেখার লিগা বৈদেশ আইসা অনেক কিছু চিনা হইলো, অনেক কিছু জানা হইলো!

ইদানিং নিজের বিয়া শাদী নিয়া ভাবি! দেশে গিয়া কি করুম? চাকরী একটা। আগের জায়গায় চাকরী না পাইলে অন্য কোনো সেক্টরে, একটা না একটা জায়গায় চাকরী হইবোই! আর থিসিসের সাথে সাথে এপ্লিকেশন। যদি পিএইচডি পাই, তাইলে শুকুরআলহামদুলিল্লাহ, যদি জব পাইয়া যাই আরো ভালা, যদি হেইডাও না পাই, তাইলে তো দেশ!

অতীত তো সবারই আছে। কিন্তু কিছু মানুষ এডিকটেড হইয়া যায়। আমারও এডিকশন ছিলো। কিন্তু অখন নাই! আমি খালি দেখি আর জানতে চাই! চোখ দেখলেই বুঝতে পারি তার এডিকশন আছে কি নাই! যদি এডিকশন পাই, তাইলে বাদ, আর যদি না পাই, তাহলে ভাববো একবার শুরু করি একটা সুন্দর জীবন! আর যদি ধোকা খাই, তাইলে লাইফটা অন্যরকম কইরা বানাবো, বডি বিল্ডিং, পয়সা আর আয়েসী...........এই তিনটা হবে তখন লাইফ!

একটাই লাইফ, লেটস এনজয়!

সবাইকে আয়েসী ঈদ মোবারক!


এন্ড লাইফ রকস!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29440832 http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29440832 2011-08-30 04:29:25
একদিন!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
বাজারে ঢুকে মনে হলো রাত ৯ টাতেও মানুষের কেনাকাটার দরকার। সারাদিন ৯ টা ৫ টা অফিস করে সবার ফিরতেই কি রাত ৯ টা বাজে? আর বাসায় ঢুকবার আগে সবাইকেই কি বাজার করতে হয়?

বাজারে ৫ মিনিট ঘুরে মনে হলো, না খেয়ে থাকলে কেমন হয়? পরশু ঈদ, বান্দাদের জন্য বরাদ্দকৃত খোদার বিশেষ একটা দিন। সবাই নাকি এই দিনে খুশী থাকে, শাহেদ সাহেবকেও খুশী থাকতে হবে। হোক না বেতনের বোনাসটা খরচ হয়ে যাক স্ত্রীর অসুখের পথ্যে অথবা কিছু ভালো মন্দ কেনাকাটা বা খাওয়া দাওয়ার পিছনে ব্যালেন্স করতে!

ছোট খাটো একটা থলে নিয়ে বাসায় ফিরলেন, ঘরে ছোট একটা নক। রাতের অন্ধকারে মাঝে মাঝে আকাশের চাদকে খুব কাছের বলে মনে হয়। পুরো নগরবাসী যে তার কাছে ঋনী সেটা হয়তো নগর বাসীরা জানে না। অন্ধকার রাতেও বিনা পয়সার সুন্দর আলো কেই বা দেয়!

ঘর খুলেই রেহানা মুখে আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করে শব্দ না করতে, শাহেদ সাহেব আস্তে করে ঢুকতে ঢুকতে বললেন," আরিফ ঘুমায় নি?"
রেহানা বাজারের ব্যাগটা শাহেদ সাহেবের হাত থেকে নিয়ে বললো," বাথরুমে পানি আছে, গোসল করে নাও। তারপর খেতে বসি!" এই বলে রেহানা রান্নাঘরে চলে গেলো!

শাহেদ কিছুক্ষন রেহানার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে। মনে পড়ে যখন ওদের প্রথম বিয়ে হেলো, তখন রেহানাকে পেয়ে ওর মনে যে ঝড়টা বয়ে যেতো এখন আর বয় না। এখন একটা হতাশা কাজ করে। ১৫ বছর দেখতে দেখতে চলে গেলো। সুখে দুখে এক সাথে কেটে গেলেও শাহেদের মনে ইদানিং সংকোচ লেগে থাকে। ইদানিং কেনো যেনো মনে হয় রেহানাকে সুখী করতে পারেনি কখনো।

গোসলটা সেরে টাওয়াল হাতে নিয়ে রান্নাঘরে উকি দিলো, রেহানা মোমের আলোয় প্লেট সাজাচ্ছে।
: টেবিলে বসো, আমি আসছি।
: আরিফকে নিয়ে আসো, কথা বলি। আজকে বাবা ছেলে গল্প করে রাত টা পার করি।
: (রেহানা একটা হাসি ঝুলিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে) কি ব্যাপার বলোতো, বাবা ছেলে মিলে কি কোনো ষড়যন্ত্র করবে নাকি?

এমন সময় আরিফ পিছনে চোখ ডলতে ডলতে দাড়িয়ে বললো,"আম্মু, কারেন্ট আসবে কখন?"

শাহেদ খেতে বসেছে আর দেখছে আরিফের ভাত নাড়া চাড়া। দেখতে দেখতে আরিফের বয়স গত মাসে ৭ হলো।কেমন যেনো আনমনা
: কি হলো? রান্না ভালো হয় নি?
: ক্ষিধে নেই, বাবা।
: হুমমম, ক্ষিধেটার কোনো ফোন নম্বর আছে? থাকলে দাও, ফোন করে নিয়ে আসতে বলি।

আরিফ কিছুই শুনলো না শুধু ভাত নাড়ছে আগের মতোই। শাহেদ তাকালো রেহানার দিকে।
: তোমার ছেলে এবার বায়না ধরেছে জীন্সের প্যান্ট আর স্নীকারস। এটা নাহলে নাকি ওর বন্ধুদের কাছে ওর মাথা হেট হয়ে যাবে।

শাহেদ শুধু শুনলো। প্লেটের বাকী খাবারটুকু দ্রূত খেয়ে নিলো,"আরিফ, খাওয়াটা একটু দ্রূত শেষ করো, আমরা ঈদের প্লান করবো!"

আরিফ এটা শুনে চমকে গেলো,"তাই? দাড়াও আমি এখনি আসছি!"

শাহেদ হাত ধুয়ে সোফায় বসের আজকের পেপার দেখতে লাগলো। অফিসের যদিও পেপারটা দুবার পড়ে ফেলেছে, তবু দেখছে। একটু ঘুম আসার জন্য অথবা কিছু একটা নিয়ে ব্যাস্ত থাকবার জন্য। বয়স কত হবে, খুব বেশী না , ৪৫ এর মতো। কিন্তু সংসার আর বাস্তবতা সামলাতে ওর হিমশিম খাবার যোগাড়!

আরিফ পাশে বসছে ওর বাবার পেপার পড়া। পেপার থেকে একবার চোখ টা সরিয়ে আবার পেপারে চোখ দিয়ে বললো,"তো আরিফ সাহেব, এবার বার্ষিক পরীক্ষার প্রিপারেশনটা কেমন হবে?"
: বাবা, এটা কিন্তু ভালো না। তুমি বললে ঈদের প্লান, আর এখন তুমি পড়ালেখার কথা বলছো। এটা খুবই অন্যায়!
: গল্প শুনবে?
: (চোখটা বন্ধ করে মুখের হাসিটা এমনভাবে দিলো যে একটা স্বর্গীয় সুখ শিশুটার চোখে মুখে)বলো!
: (শাহেদ সাহেব পেপারটা ভাজ করে আরিফের দিকে ঘুমিয়ে বসলো) হুমমম... বাংলাদেশের উত্তর দিকে একটা গ্রাম ছিলো, গ্রামের নাম জলঢাকা। ওখানে ছিলো ছোট একটা পরিবার। একজন কৃষক তার স্ত্রী আর তিন সন্তান। তেমন কিছু ছিলো না, খালি নিজের একটা জমি ছিলো। সেখানে রাত দিন কষ্ট করে ফসল ফলাতো। আর সে ফসল দিয়ে সারা বছর খেয়ে না খেয়ে চলতো। বছরের দু দিন ওদের বাসায় গোস্ত রান্না হতো। আর সারা বছর আলু ভর্তা না হলে শাক এসব দিয়ে। বছর দুদিন বলতে দুটো ঈদ। তবু ওরা সুখী ছিলো, খুব সুখী। বড় ছেলেটা সব সময় ক্লাসে প্রথম হতো, মেয়ে যে ক্লাসে পড়তো সেই ক্লাসে ওর মতো কেউ অংক করতে পারতো না। আর ছোট টা খুব ভালো গান গাইতে পারতো। ঐ কৃষক শিক্ষিত ছিলো না, কিন্তু স্বপ্ন ছিলো তার সন্তানকে যেভাবেই হোক, শিক্ষিত করবে। একদিন ঐ কৃষক ক্ষেতে কাজ করছিলো, ওমন সময় গায়ের মোড়ল আর তার ছেলে হোন্ডা করে যাচ্ছিলো। যখন হোন্ডা করে যাচ্ছিলো তখন ওর ছেলেটা বললো ঐ কৃষককে লক্ষ্য করে," ঐ দেখো চাষা, গাধার মতো খাটছে!"
কথাটা কৃষকের গায়ে খুব লাগে। কৃষক তখন বেশ জোরেই বলে উঠে,"আমি চাষা হইলেও কারোটা চুরি কইরা খাই নাই।"

কথাটা মোড়লের খুব গায়ে লাগে। তার কয়েকদিন পর ওদের বাসায় আগুন লাগিয়ে দিয়ে মোড়লের পোষা চামচাদের দিয়ে, ক্ষেতের উপর গাড়ি চালিয়ে দেয়। ফসল নষ্ট হয়ে যায়, বিচার চেয়েও কোথাও পায়নি। সেবার কোনো ফসল ঐ গরীবের গোলায় উঠেনি। ঈদে রান্না হয়নি কোনো গোস্তর তরকারী। প্রচুর খাটা খাটুনিতে কৃষক অসুস্হ হয়ে যায়, না খেয়ে খেয়ে ছোট মেয়েটার কঠিন অসুখ হয়। চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেবার টাকা ছিলো না। জমি বন্দক দেয় কৃষক ঐ মোড়লের কাছে। একদিন সকালে ঢাকা যাবার জন্য রওনা দেয় ওরা, পথে মারা যায় ঐ ছোট মেয়েটা।
.........................
গল্পটা বলতে বলতে শাহেদ সাহেব থেমে যায়, আরিফের দিকে তাকিয়ে দেখে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে গেছে। রেহানা আশে পাশে নেই। শাহেদ একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়ে, চোখের চশমাটা খোলে চোখটা মুছে। ও জানে রেহানা কাদছে খাটে বসে। আজকে ওর মন টা ভালো নেই। জীবনটা কেমন যেনো হয়ে গেলো, সৎ আদর্শ সব যেনো অর্থহীন।

এবার আসুন শাহেদের গল্পের বাকী অংশটা শুনি!

ঐ মেয়েটি মারা যাবার পর ঐ কৃষকের স্ত্রী পাগলের মতো হয়ে যায়। সেবার কৃষক অসুস্হ শরীরে ধান বুনলেও তিস্তার ছোবলে সব চলে যায়। স্ত্রী হারিয়ে যায় সে বন্যায়, বছর না ঘুরতেই মোড়ল জমি নিয়ে যায়। কৃষকের বড় ছেলে টিউশনি করাতে থাকে, যা পায় তাই দিয়ে বাবার চিকিৎসা আর নিজেদের খাবারে খরচেই চলে যায়। ম্যাট্রিক পরীক্ষার ফিস দেবার টাকা ছিলো না, কৃষক বাবা প্রচন্ড অসুস্হ। একবার ভাবে শহরে গিয়ে চাকরী নেবে, বাবার চিকিৎসা করাবে। স্কুলে খবরটা জানাজানি হতেই হেডমাস্টার নিজের পকেটের টাকায় রেজিষ্ট্রেশন করালেন।সেবার পুরো লালমনিরহাটে একজন ছেলে ১৮ তম বোর্ড স্ট্যান্ড করে। যেদিন ওর রেজাল্ট দেয় তার দুদিন আগে কৃষক বাবা মারা যায়। বোনটাকে সাথে নিয়ে ঢাকায় চলে আসে। টিউশনি করতে করতে একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায়, বোনের বিয়ে দেয়। সবসময় ছেলেটির মনে একটা কথা বাজতো, ওর বাবার কথা,"চাষা হইছি কি হইছে, জীবনে কখনো চুরি নাই।" সারা জীবন সৎ থাকার জন্য সরকারী চাকুরি করেও ঘুষের টাকা ছোয় নি!

সেই ছেলেটি আর কেউ নয়, এই গল্পের এই প্রৌঢ় চরিত্র শাহেদ সাহেব! আমার মনে হয় একদিন আমরা এমন মানুষদের সম্মান করবো, যারা আমাদের আশেপাশেই আছে, নিজেদের মূল্যবোধকে লালন করে কাটিয়ে দিচ্ছে সারাটা জীবন!

ঈদ মোবারক সবাইকে!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29440253 http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29440253 2011-08-29 04:48:05
গ্যাস এনালাইসিস (পোস্ট কিন্তু চূড়ান্ত অশ্লীল) ছুটোকালে শুনলাম বাংলাদেশ নাকি গ্যাসে ভাসতেছে। ক্লাস নাইনে নতুন সায়েন্সে উইঠা ১৩ নম্বর পাতায় নিউটনের তিন নম্বর ল না বুইঝা কাকারে ন গদে প্রশ্ন করলাম,"কি কন কাকা? আমি তো জানি নদীতে নাকি মানুষ ভাসে, মাগার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় বায়ুদূষন কইরা তো কারো ভাসতে দেখি নাই? সবাই তো খালি চোখ টিপি মারে!"
আর যায় কই, কাকায় দিলো আম্মাজানরে ডাক, আম্মাজান হাতে লইলো লাঠি!

তবুও ভাবনা আমার থাইমা থাকে নাই, জলে ভাসা নদীর মতোন আমি ভাবিয়া চলি, মাঝে মাঝে আমি খাড়াই থাকি মাগার রিক্সা আলা আমার বাজারের ব্যাগ নিয়া চইলা যায়, মাগার আমি খাড়াইয়াই থাকি!

গতকাল রাতে একটা ঘটনার কথা মনে পড়লো। এইসব ঘটনা সবসময় মনে পড়ে না, হঠাৎ কুনো ঘটনা চোখের সামনে ঘটলে তাইলেই ঐসব পুরান বিশেষ ঘটনা মনে পড়ে!

আগে কই কি ঘটছিলো যা দেইখা আমার ঐ ঘটনার কথা মনে পড়লো!

দিন ভইরা মামলাখাইয়া কামলাখাটার মতো গতরখাটাইয়া সদলবলে রাইতের বেলা বাড়ি ফিরিতেছিলাম। লগেরটা বিড়িতে আগুন ধরাইতে ধরাইতে পিছন দিয়া সশব্দে তিনবার বায়ূ নির্গমন করলো। চারিদিকে প্রাকৃতিক বায়ু প্রবাহ সত্বেও ঘটনার সম্ভাব্য তীব্রতার কারনে নাক চাপা দিলাম আর মুখ দিয়া কইলাম,"ভাইজান, সিগারেট বন্ধ করেন, গ্যাস যেমনে ছড়াইলেন, চারিদিকে আগুন ধইরা যাইতে পারে!"
বিড়িতে আরেকখান সুখটান দিয়া কয়,"ব্যাপারটা বুঝলাম না, প্রথমটারে গন্ধে বুঝ পাইলাম যে সকালে উইঠা আমি গতকালকের পরোটাটা চানাচুর দিয়া খাইতে গিয়া কেন টক টক লাগছিলো, এরকম লেয়ার বিশিষ্ট বায়ু নির্গমনের দ্বিতীয়টায়....."
আমি এক হাত দিয়া নাক চাপা আরেক হাতে ময়লা জামাকাপড় লন্ড্রিতে দাওয়াত খাওয়ানোর জন্য ধইরা রাখছিলাম। অতি দুঃসময়ে আমি আমার তিন নম্বর হাতের অভাব বোধ করিলাম আর কানের প্রতি বিশেষ মায়া উদ্ভব হইলো আর কি!

যাই হোউক এই ঘটনা দেইখা মনে পইড়া গেলো ভার্সিটি লাইফের কথা। আমাগো ব্যাচের অনেক বড় নেতা আছিলো ঝিমানী সাইফু (পুরা নাম লিখলাম না, কারন দেশে না বিদেশে ও নাকি বড় ম্যানেজার হইছে) একখান জরুরী টপিক নিয়া আলোচনা করতাছিলো। আলোচনায় অনেক পুচকী পাচকী যোগ দিছিলো। হঠাৎ আমাগো মধ্যে থিকা সম্ভাবনাময় নেতা মুরগী মিলন হঠাৎ সশব্দে ফিচকী হাসি দিলো। আমরা তখন একটা গুরুতর আলোচনায় জরূরী পয়েন্টে আছিলাম। জরূরী বিষয়টা আছিলো," রুমে খাওন আনাইলে নষ্ট হইয়া যায়, কি করা যায়?" আর আমরা এই বিষয়ের যেই পয়েন্টে আটকাই ছিলাম সেইটা হইলো,"লেডিস হলের সাথে আমাদের সুসম্পর্ক স্হাপন করা যাতে কইরা চোথার বিনিময়ে খাদ্য পাইতে পারি!"
এমুন সময় মুরগী মিলন ক্ষনে ক্ষনে ফিচকি হাসি শুইনা টেবিল চাপকে কইলাম,"কিরে ব্যাটা? ডিম পাড়লে বাইরে যাইয়া পাড়, এমুন ফিচকাস ক্যা?"
মিলন মুামা মুখ থিকা হাত সরাইয়া কয়," না মামা, ঘটনা তেমন কিছু না, (সাইফুর দিকে ইশারা কইরা), বস, পিছনের জানালাটা খোলা, আটকাই দাও!"
ঝিমানী সাইফু হঠাৎ ঝিমানী ছাইরা ওর দিকে খুব মনোযোগ দিলো আর আমরা ঘরের কুন জানালা খোলা থুক্কু ঘরেতো কুনো জানালাই নাই!
কিন্তু মুরগী হঠাৎ ওর চোখের ইশারা উপর নীচ করতে হঠাৎ সাইফ সোজা হইয়া বইসা প্যান্টের জীপার খান লাগাইয়া বললো,"ওহো, ঐ জানালাটা বন্ধ করো তো ক্যান্টিনের দরজার পাশের জানালাটা একটু খোলা!"
ভাব দেইখা মনে হইলো আমরা ওর জীপার খোলা কেউ দেখি নাই, খালি মুরগী দেখছে আর ঝিমানী ছাইড়া সে জীপার লাগাইছে!
হালার কাহিনী!

তখন আমি হাইসা সবাইরে কইলাম,"আরে মামা, এই জানালা দেইখা আমার একখান কাহিনী মনে পড়লো, তহন আমি ছুটো আছিলাম। হঠাৎ আমারে এক দুস্ত কইলো, অয় নাকি ওর বাপরে বিয়া খাইছে, হেভী মজা পাইছে। আমি কইলাম তোর বাপের যখন বিয়া হইছিলো তখন তুমার বয়স কত আছিলো? সে অনেক হিসাব কইরা কইলো, মনে হয় ২, ৩! আমি কইলাম কস কি?তুই কি তোর বাপ মায়ের বিয়ার আগেই পয়দা হইছোস, ইজ্জত মারছে! আমার ঐ দুস্তের এই ইজ্জত মারা বুঝতে নিজের বিয়া পর্য্ন্ত ওয়েট করতে হইছে, বিয়ার দিন আমারে ফুন কইরা কি কয় জানস?"
চারিদিক চাইয়া দেখি কেউ হাসতাছে না। আমি দুই তিনটা ঢোক গিল্লা কইলাম,"দুস্ত, একটা গল্প বানাইতে চাইছিলাম, মাগার মনে হয় ফ্লপ খাইছে! যাই হোউক আলোচনা শুরু করো!"

আমার এই কথা শুইনা সবাই হাসতে হাসতে শেষ।
এই হাসির কথা লেখতে গিয়া মনে পড়লো আমার বুড়া কালের একটা কাহিনী যখন আমি ইউএসএতে এক নোয়াখাইল্লা খুজতে গেছিলাম। ঘটনা হইলো..... না থাক গল্প আপাতত কিছু মনে পড়তাছে না। গল্প আর কতো বানামু? গল্প বানাইতেও তো কাহিনী লাগে, নাকি?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29438196 http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29438196 2011-08-25 03:02:51
আমরা ভর পেলাম কিভাবে? হিগস বোসনের হিসাব নিকাশ-৩ (শেষ পর্ব) প্রথম পর্ব
দ্বিতীয় পর্ব

বিজ্ঞান আর ধর্ম ব্যাপারটা আমার কাছে অনেকটা নিশ্চয়তা আর অনিশ্চয়তা টাইপ কিছু লাগে। ২+২ করলে ৪ হবে। বিজ্ঞানে শিখাবে এটা কিভাবে হলো আর ধর্ম শিখাবে এটা ঈশ্বরের নিয়ম তাই খানিকটা মুখস্হ করো!

ঘটনা কিন্তু একই। যদি ঈশ্বর থেকে থাকেন তাহলে উনি একটা নিয়ম বানিয়ে দিয়েছেন যে ২+২ সবসময় ৪ হবে। আমাদের এজন্য খুব একটা কষ্ট করতে হবেনা এটা আবিস্কারের জন্য। এখন কেউ যদি মনে করে, সে শিখবে কিভাবে হলো, শিখেও এটাই পাবে। ঈশ্বর যদি সবকিছু অনেকটা ওপেন সোর্সের মতো করে দিয়ে থাকেন তাহলে আমরা সবসময় একই জিনিস পাবো।

তবু সমস্যা হলো যদি আমরা এভাবে ঈশ্বরের অপেক্ষায় বসে থাকি তাহলে সভ্যতার অগ্রযাত্রা এক জায়গায় আটকে যেতো, আর যদি আমরা নিজে থেকে জানতে চাই তাহলে আমরা একই ভাবে ২+৩ যোগ করলে কত হবে সেটার আরও কয়েকটা রাস্তা বের করতে পারবে। রাস্তা এখন দুটো। ঈশ্বরকে বিশ্বাস করা অথবা না করা, ফলাফল কিন্তু একই।হিগসের সিগমা ক্যালকুলেশন খানিকটা এরকমই মনে হয় আমার কাছে, অদ্ভূৎ লাগে কি?

ফাইনম্যানের ধ্বংস আর সৃষ্টির নিয়ম আর ফাইনম্যান ডায়াগ্রাম:

ধরা যাক কোলাইডারে একটা কলিশন রেকর্ড করা হলো যেখানে একটা ইলেক্ট্রন আর একটা এন্টি ইলেক্ট্রন মুখোমুখি আঘাত করলো তখন আমরা এভাবে লিখতে পারি: e+ e- → μ+ μ-

এই মিথস্ক্রিয়াতে তড়িৎচৌম্বকীয় অথবা দুর্বল নিউক্লিয় বল কার্যকর এবং ফাইনম্যানের ম্যাথম্যাটিক্যাল মডেল দিয়ে এই প্রসেস বা কাজটার প্রস্হচ্ছেদের নানা অংশের প্রোবাবিলিটি নির্নয় করতে পারি খুব সহজে।সূত্রটি হলো:

N=Lσ

যেখানে N হলো কতগুলো ইভেন্ট সংঘটিত হলো আর L হলো এক্সিলারেটরের পার্টিক্যাল বীমের তীব্রতা এবং সংকীর্নতা আর σ হলো নির্নয়কৃত গুচ্ছ বীমগুলো প্রস্হচ্ছেদ।

তাত্বীকভাবে ফাইনম্যানের নিয়ম আর স্ট্যান্ডার্ড মডেল দিয়ে যতগুলো ভবিষ্যতদ্বানী তত্বীয় পার্টিক্যাল পদার্থবীদরা করেছেন তা এক্সিলারেটর কর্তৃক সম্পাদিত পরীক্ষামূহের ডাটার সাথে হুবহু মিলে যায়। এখানে বিজ্ঞানীরা শুধু দেখতে চান এই ডাটার সাথে কোনো প্রকার পার্থক্য খুজে পাওয়া যায় কিনা, এবং পাওয়া গেলেই তখন বলা হয় এটা "নতুন পদার্থবিজ্ঞান"।

এখনও পর্যন্ত স্ট্যান্ডার্ড মডেল খুবই নিখুতভাবে ভাবিষ্যতদ্বানী করে গেছে।

ম্যাডগ্রাফ বা ম্যাড ইভেন্ট:

পার্টিক্যাল এক্সিলারেটরে সংঘটিত সংঘর্ষ সমূহের সিম্যুলেশন পরীক্ষা করার জন্য ম্যাড গ্রাফ বা ম্যাড ইভেন্ট হলো একটা অত্যাধুনিক রিসার্চ সফটওয়ার যেটা মূলত কলিশন ডাটা সমূহকে স্ট্যান্ডার্ড মডেলের ভিত্তিতে বিভিন্ন পরীক্ষার প্রস্হচ্ছেদ নির্নয় করে এবং সে অনুযায়ী বিভিন্ন প্যারামিটারের সাপেক্ষে হিস্টোগ্রাম তৈরী করে।

উদাহরন হিসেবে একটা প্রসেস ধরে নিতে পারি: e+e-→mu+mu
যতটা যম্ভব এখানে ইভ্যারিয়েন্ট ভর, মোমেন্টাম এবং কৌনিক ডিস্ট্রিবিউশনের ফাইনম্যান ডায়াগ্রাম নির্নয় করা হয়।একটা ইভেন্টের নির্নিত প্রোবাবিলিট বা প্রস্হচ্ছেদকে পরে প্রদর্শন করা হয় যেখানে মূলত e+e-→mu+mu এর বহনকারী হিসেবে হয় Z বোসন পাওয়া যাবে অথবা ফোটনকে পাওয়া যাবে।

কৌনিক ডিস্ট্রিবিউশনে দেখা যায় যে যখন e এবং e- সংঘর্ষে লিপ্ত হয় মুখোমুখি, তখন বেশীরভাগ মিওন ঠিকরে ওঠে বীম লাইনের খুব অল্প কৌনিক দূরত্বে।

নীচের ম্যাডগ্রাফ আর মডেলগুলো থেকে ব্যাপারগুলো আরো পরিস্কার হবে:


হিগসের খোজে:

যদি হিগস সত্যি থেকে থাকে তাহলে তার উপস্হিতিটা হবে খুবই বিরল ঘটনা।একটা সাধারন হিসাবে দেখা যায় যে প্রতি কয়েক ট্রিলিয়ন সংঘর্ষের মধ্যে মাত্র একটা হিগস তৈরী হতে পারে।

N=L σ সূত্রটি ব্যাবহার করতে পারি এখানে আমরা যেখানে L হবে ২.৪ fb^-১ এবং গড়পড়তা σ এর মান .০৮২৮ fb যেখানে আমরা যে ঘটনার মান পাবো সেটার মান ১ এরও কম।

ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েস টেভাট্রনের চেয়ে এলএইচসিতে খুব বেশী কারন এলএইচসিতে অনেক বেশী পরিমান বল আর গ্লুওন মিথষ্ক্রিয়া হবে।তবে এলএইচসি স্বভাবতই ভারী হিগসকে (M(H)>180 GeV) খুজে পাবার জন্য উপযোগী।ফার্মিল্যাবে হালকা হিগস ( MH=১৬৫-১৭৫ GeV)খুজে পাবার জন্য সবচেয়ে বেশী উপযোগী স্বভাবত এই ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েসের কারনেই।

তবে এলএইচসির একটা এক্সপেরিমেন্ট করার জন্য যে পরিমান শক্তি প্রয়োগ করার ক্ষমতা আছে তা দিয়ে হিগসকে খুজে পাওয়ার কথা।

আর এই এক্সিলারেটরেই কেনো হিগস পাওয়া যাবে সেটা সাদামাটা ভাবে বলতে গেলে :

আমরা হয়তো সবাই জেনে থাকবো যে এক্সিলারেটরগুলোর কাজই হলো আলোর গতির কাছাকাছি কনিকাগুলোকে এনে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত করানো আর টেভাট্রন যেখানে প্রোটন আর এন্টি প্রোটনের সংঘর্ষ ঘটাতে পারে সেখানে এলএইচসি প্রোটনের প্রোটনের সংঘর্ষও ঘটাতে পারে। এই সংঘর্ষের ফলে দেখা যায় এই আদিম কনার সংঘর্ষ্বের কারনে বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরনের এক সেকেন্ডের কয়েক ভগ্নাংশের পরের সময় পর আসলে কি পরিবেশ তখন বিদ্যমান ছিলো সেটার প্রতিরূপ সৃষ্টি করা।
এই বিস্ফোরনের সময় অতিঠান্ডা (-২৭৩ এর কাছাকছি) ম্যাগনেট বা চৌম্বক ব্যাবহার করা হয় কনাগুলোর গতি এবং ত্বরানায়িত করার জন্য এবং এসব সংঘর্ষের কারনে কনাগুলো ধ্বংস হয়ে শক্তিতে রূপান্তরিত হয় এবং নতুন কনিকার সৃষ্টি করে আইনস্টাইনের E=mc^2 সূত্রানুসারে।

পার্টিক্যল ডিটেক্টর গুলো নতুন তৈরী হওয়া পার্টিক্যালগুলোর গতিবিধি এবং সংঘর্ষের পর এগুলো যায় কোথায় বা পরিনতি কি সেটা নির্নয় করে।

ম্যাকগ্রাফ হিগস মডেলিং:

এখন এই প্রসেসটা যদি আমরা ম্যাক গ্রাফ লাইন ডায়াগ্রামে বর্ননা করতে যাই তাহলে: pp>mu+mu- b সূত্রানুসারে সেখানে Z বোসন আর হিগসকে বাহক হিসেবে ধরে নিতে হবে।ফার্মিল্যাবের টেভাট্রনে সম্ভাব্য ফেনোমেনা হিসেবে হিগস প্রসেসকে এভাবে সনাক্ত করা যেতে পারে।

এর প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে বলা যেতে পারে হিগসের প্রসেসের মাধ্যমে হিগসের উপস্হিতির খোজ এভাবে করা হয় (এর সাক্ষ্য হিসেবে ম্যাডইভেন্টের প্রস্হচ্ছেদ এবং হিস্টোগ্রামের কথা বলতে পারি)।



এসব ফলাফলের কিছু অংশ টেভাট্রন আর বাকী অংশ এলএইচসি থেকে নেয়া হয়েছে।
পরীক্ষার সময় দেখা যায় যে হিগসে ভর যখন বাড়তে থাকবে তখন একটা হিগস সিগন্যাল পাওয়া যাবে যেটার দেখা পাওয়া দুঃসাধ্য।হিগসের সর্বোচ্চ মান পাওয়া যেতে পারে ১৬৫ থেকে ১৭৫GeV কিন্তু ২০০ GeV দেখা পাওয়া একটু কঠিন।
যদি হিগসের উদ্ভব সত্যি হয়ে থাকে তাহলে হিগস সিগন্যালের অধিকতর সমতল অথবা দুর্বল মানের হলেও ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েসকে বাদ দেওয়াটা জরুরী হয়ে যাবে।
এলএইচসির ফলাফলে যেটা পাওয়া যায় শক্তিশালী বলের সাথে অধিকতর ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েস হিসাবে গ্লুওন আর W আর আরও বলের মিথষ্ক্রিয়ার কারনে এটা খুবই দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে!

কম মানের হিগস ভরের জন্য টেভাট্রনে Z হিগসের প্রসেসের মানগুলো আর বেশী পাওয়া যাবে গানিতিক হিসাবে।
হিগস প্রসেসের এই মান উদ্ঘাটনের পর যেগুলো মূলত দরকার সেগুলো হলো অন্যান্য হিগস প্রসেসের মধ্য দিয়ে W এর ক্ষয়িষ্ঞুতা আর গ্লুওন মিথস্ক্রিয়ার দিকে যেগুলো মূলত এক করে হিগস প্রসেসকে দেখা আর এখান থেকে হিগস সিগন্যালটাকে বের করে আনা। GeVফার্মিল্যাবে হিগসকে খুজে পাওয়া একটু কঠিন হলেও একটা সুযোগ আছে যার মাধ্যমে 'অধিকতর হালকা' হিগস (110-180 GeV ) স্ট্যান্ডার্ড মডেল কর্তৃক নির্ধারিত রেন্জ্ঞে পাওয়াটা অসম্ভব কিছু মনে হবে না।
এখন অবশ্য রেন্জ্ঞটা আরো ছোট হয়ে এসেছে যেটা ১৬০-১৭০ GeV এর মধ্যে হয়ে এসেছে।

এখন আমরা একটু গানিতিক দিকে আর হিগসের ক্ষয়ের দিকে চোখ বুলাই:

সিগমা ক্যালকুলেশন:

প্রথমে আসি হিগস কাদের কাদের সাথে কাপলিং করে। কাপলিং বলতে বোঝানো হচ্ছে যে কোন কোন পার্টিক্যাল হিগস ক্ষেত্রের সংশ্পর্শে এসে ভর প্রাপ্ত হয় এ ব্যাপারটাই! ফার্মিওন আর ভেক্টর বোসন কনাগুলোর সাথে হিগস ক্ষেত্রের সর্বদা কাপলিং হয় যেটা আমরা ভেক্টর ডায়াগ্রামে নীচের মতো দেখাতে পারি!



তাহলে সে অনুসারে ফোটন আর গ্লুওনের সাথে হিগস ক্ষেত্রের কাপলিংটা হবে অনেকটা নীচের মতোই!


কাপলিং ভরপ্রাপ্তির সমানুপাতিক।তাহলে এখান থেকে আমরা একটা ইকোয়েশন দাড় করাতে পারি সেটা হলো


একটু ডিটেইলে ব্যাখ্যা করা যাক এই ব্যাপারটা!

এখন এখানে একটা প্রায়শই সামনে এসে দাড়ায় যেটা হলো ইলেক্ট্রন-এন্টি ইলেক্ট্রন সংঘর্ষের মাধ্যমে আমরা সত্যি হিগসের দেখা পাবো?

আসলে এই সংঘর্ষের মাধ্যমে যেই কোলাইডারে সংঘর্ষ ঘটানো হবে সেখানে হিগসের ভর ধরতে পারবো আর এখন পর্যন্ত বেশ ভালো ভাবেই একটা কোলাইডারে ২০৯ গিগাইলেক্ট্রনভোল্ট ডিটেক্ট করা যায়।আমরা জানি যে হিগস-ইলেক্ট্রন মিথষ্ক্রিয়া অথবা কাপলিং ইলেক্ট্রনের ভরের সমানুপাতিক যার পরিমান দুর্বল তড়িৎবলের ২৪৬ গিগাইলেক্ট্রনভোল্টের চেয়ে একটু কম এবং কাপলিং শাক্তির মান ১.৫*১০^-৬। কিন্তু আগেই এটা বলেছি কেন এরকম একটা ঘটনার মুখোমুখি হতে আমাদের ৪ বছরের মতো অপেক্ষা করতে হবে।

তাহলে আমাদের এখানে ভাবা দরকার এমন একটা প্রসেসের কথা যার মাধ্যমে এরকম একটা খুব ভারী এবং বিস্তৃত হিগস কাপলিং এর মিথষ্ক্রিয়ার হার দেখা যেতে পারে খুব বেশী পরিমানে যেটাকে আমরা খুব সহজ পন্হায় ডিটেক্ট করতে পারি।

এর জন্য বেশ কিছু সম্ভাবনা নিয়ে আমরা কাজ করতে পারি:
১) গ্লুওন গ্লুওন ফিউশন

২) ভেক্টর বোসন ফিউশন

৩) গজ বোসনের সহজাত হিসাবে তৈরী

৪) টপ কোয়ার্ক-এন্টি কোয়ার্ক জোড়ের সহজাত তৈরী

এদের ফাইনম্যান ডায়াগ্রাম নীচে সিরিয়ালী দেয়া হলো!

এখান উপরোক্ত গ্রাফ দেখে বোঝা যাচ্ছে MH এর মান গননা করা যেটা করা যায় ফাইনম্যান ডায়াগ্রাম অনুসরন করেই।
e+e-→ w+w- H প্রসেসে দেখা যায় দুটো w এর প্রয়োজন যার শক্তির পরিমান Z তৈরী করার চাইতে বেশী হতে হবে। তাহলে সেই মতে যদি ইকোয়েশনটা e+e-→ ZH তাহলে MH আরো পরিলক্ষনীয় হয় এবং ফাইনম্যানের এই প্রসেসটায় ইলেক্ট্রন পজিট্রন সংঘর্ষে এই ভার্চুয়াল Z সৃষ্টি হয় যেখানে হিগস বোসনকে দুভাগ করে ফেলে বেশী ভর প্রাপ্ত হয়ে। এই ঘটনাটিকে হিগসস্ট্রলাং বলা হয় যেটাকে আবার ব্রেমস্ট্রলাং প্রসেস হিসাবেও বলা হয়।এখানে হিগস এবং Z সাথে সাথ এসিম্পটটিক্যালি (এটার বাংলা এখনও খুজে পাইনি তবে কোনো একটা কার্ভেচারর পাশ দিয়ে একটা লাইন এমন ভাবে পরিভ্রমন করে যেটা অসীমতটে এর সাথে মিলিত হবে: ডিটেল উইকি ) ক্ষয় হয়ে স্ট্যান্ডার্ড মডেলের পার্টিক্যালের রূপ নেবে।যখন Z এর ক্ষয় ফার্মিওনের গজ কাপলিং এর রুপ নিতে থাকে তখন হিগসের জন্য এটা সবচেয়ে বেশী ভর প্রাপ্তির সুযোগ ঘটে যায়। এক কথায় Z ক্ষয়ের পরিমান জেটের ৭০% হয় আর ২০% অদৃশ্য কনা হিসাবে যেটাকে নিউট্রিনো হিসাবে ধরা হয় আর পার্টিক্যাল ডিটেক্টরে ডিটেক্ট করাও যায় না (কেন যায় না সেটা পরে ব্যাখ্যা করবো) আর বাকি ১০% লেপটন যেটাকে ডিটেক্টরে সবচেয়ে ভালো ভাবে ডিটেক্ট করা যায়।

হিগসের ক্ষয় জানতে হলে আমাদের বুঝতে হবে আসলেই হিগসের BR কি? BR হলো হিগসের ব্রান্ঞ্চিং রেশিও। এই হিসাবটা বের করা জন্য আগে হিগসের আংশিক প্রস্হ কিভাবে নির্নয় করে যার সংজ্ঞা হিসাবে আমরা বলতে পারি সর্বেশেষ রুপে যাবার জন্য বিপরীত ক্ষয়িষ্ঞুতার হার(Inverse Decay rates)।
হিসাবটা বুঝতে আমরা সবচেয়ে স হজ কাপলিংটা দিয়ে শুরু করি হিগসের ফার্মিওনে ক্ষয় হবার ঘটনাটা যেটা মূলত একটা ম্যাট্রক্স কাঠামো। নীচের কাঠামোটা দেখলেই বোঝা যায় ব্যাপারটা।


এখানে ক্যালকুলেশনের সুবিধার্থে mq(MH) ব্যাব হার করা হয় কারন কোয়ার্কের ভর হিগসের ভরের স্কেলে সমন্বয় করা যায় কোয়ার্কের পোল ভরের চাইতে। এই পুরো ক্যালুলেশন hdecay এ করা যায়, যার চিত্রটি নীচে দেয়া হলো।


একটু লক্ষ্য করলে দেখতে পাবো MH এর মান যখন ১৯০ GeV তখন এর পুরো প্রস্হতার বাড়ার হার ১GeV।

আমরা এই গ্রাফ থেকে সকল রকম আংশিক প্রস্হের মান বের করে নিতে পারি যেগুলোর সবগুলোর যোগফল হিসাবে আমরা হিগসের পুরো ক্ষয়ের প্রস্হচ্ছেদ পেতে পারি ।এখানে স্ট্যান্ডার্ড মডেলের ব্রান্ঞ্চিং রেশিওকে MH এর ফাংশন হিসাবে ধরা হয়েছে। হিগসের সর্বশেষ রূপে ক্ষয় হবার ব্যাপারটাকে দেখানো হয়েছে। ফার্মিওনিক ব্রান্ঞ্চিং রেশিও ফার্মিওন ভরের বর্গের আর রংএর ফ্যাক্টর আর রেডিওএক্টিভ কারেকশনের সমানুপাতিক আর প্রতিটা BR পেতে পারি Γi/Γtot অনুপাত থেকে যেটা দিয়ে নীচের গ্রাফটা পাওয়া যায়।



থ্রেশোল্ড পয়েন্টের কাছাকাছি BR থেকে WW হার ৫০% যখন MH এর মান ১৪০GeV।
উপরের আলোচনা থেকে আমরা কিছুটা হলেও ধারনা পেতে পারি যে হিগসের ক্ষয় আর এর উৎপন্ন হবার সম্ভাব্য প্রক্রিয়া এখন আমরা একটু নজর দিবো এর হিসাব বা পরিসংখ্যান গত দিকটির উপর।
প্রথমেই বলে নেই প্রতিটা কলিশনের মাধ্যমে উৎপন্ন হওয়া পার্টিক্যালের শক্তির মান নিখুতভাবে নির্নয় করা সম্ভব কিন্তু এর জন্য আমাদেরকে নির্ভর করতে হয় পার্টিক্যাল ডিটেক্টরের উপর। তত্বগত ভাবে নিখুতদিকটা এসব ডিটেক্টরের থাকে না কারন এখানে যেসব ক্যালরিমিটারগুলো ব্যাব হার করা হয় সেগুলো আসলে একেকটা স্যাম্পলিং যন্ত্র যার অর্থ হলো এগুলো সব শক্তি ধরতে পারে না, এগুলো যেটা করে সেগুলো মূলত একটা বড় পরিংখ্যানের নিখুতভাবে নির্নিত কেন্দ্রিক মানের ক্যালিব্রেশন করা থাকে যেখানে গশিয়ান অনিশ্চয়তার সূত্র ব্যাব হার করে প্রত্যেকটা ইভেন্টের গড় মানের জন্য।অতিরিক্ত এনার্জীর দেখা মিলতে পারে নানা কারনে যেমন কসমিক রশ্মি, বীম-গ্যাস অথবা বীম সেকন্ডারী মিথষ্ক্রিয়া ব্লা ব্লা। কোয়ার্কের সর্বশেষ দশাকে হ্যড্রনাইজ করে তার জেটকে ডিটেক্টরে ডিটেক্ট করা খুবই কঠিন এবং জটিল একটা প্রক্রিয়া যেখান থেকে আমরা নিখুত মানও পেতে পারি না।ইলেক্ট্রনিক্স যন্ত্রাংশের নিজস্ব সীমাবদ্ধতাতো আছেই সাথে যুক্ত সফটওয়্যার বাগস বা এলগরিদম ইনএফিসিয়েন্সি যার ফলাফল ভুলভাল ডাটা।যার ফলে একটা দুটো ইভেন্ট দিয়ে আমরা বলতে পারি না যে এই হলো হিগস এবং এর ভর হলো ১২৮.৯৮৪৯৫ GeV (এই মানটা আন্দাজে)। এর জন্যই আমরা যেটা পাই সেটা হলো অনেকগুলো ভরের ডিস্ট্রিবিউশন যেখানে থেকে আমরা বের করি এর কেন্দ্রিক মান এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অনিশ্চয়তা।

যেকোনো ইভেন্টের জন্য এর গননা হয় অনেকটা কোয়ান্টাম ডাইসের মতোই এবং যেকোনো উপর্যুপরী সংখ্যক ইভেন্টের গশিয়ান ডিস্ট্রিবিউশনের পরম গড় মান (true mean value) হলো

এখানে পরিসংখ্যান গত অনিশ্চয়তার হার হলো ১/N, যেখানে N এর মান হলো ইভেন্টের সংখ্যা। একে বলা হয় ১ সিগমার অনিশ্য়তা: ৬৮.২% মিলে যাওয়া N পরিমান এক্সপেরিমেন্টাল ইভেন্ট এর সিগমার মান হবে ±√N যেখানে μ = Ntrue হলো পরম প্রস্হচ্ছেদ।নীচের চিত্রটি সিগমার প্রবাবিলিট দেখানো হয়েছে। যেকোনো আবিষ্কারের নিশ্চয়তা নির্ধারনের জন্য 5σ এর নিশ্চয়তা ধরা হয় যার মানে হলো এখানে পরিসংখ্যানগত তারতম্য হবার সম্ভাবনা .০০০০৬%।

ছবিতে µ এর গড় মানের গশিয়ান ডিস্ট্রিবিউশন দেখানো হয়েছে যেখানে একটি ইভেন্টের ফাংশনাল প্রোবাবিলিটির স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশনের গড় দেখানো হয়েছে ১, ২, ৩ বার।

এখানে এক্সপেরিমেন্টে BR এর মান নির্ধারনের পর সকল ইভেন্টের মান নিরূপন করে তারপর দুটো আলাদা গশিয়ান ডিস্ট্রিবিউশন নিয়ে কাজ শুরু হয় : এখানে কতগুলো সিগন্যাল উৎপন্ন হয়েছে আর কতগুলো প্যারামিটার ডিটেক্টর গননা করতে পেরেছে। কিন্তু যখন ক্যালকুলেশন শুরু করা হয় তখন আমরা আমাদের কাঙ্খিত সিগনালের মান আর তার ব্যাকগ্রাউন্ড হিসাব করা হয় যার ইকোয়েশন হলো S/(S+B) নীচের টেবিলের হিসাবটা দেখলেই ব্যাপরটা আরো ক্লিয়ার হবে আশা করি।


উপরের চিত্রটি আলেফ ডিটেক্টরের লার্জ ইলেক্ট্রন পজিট্রন (LEPII)এর সর্বশেষ এনার্জী লিমিটে সংঘটিত একটা ইভেন্ট ডিসপ্লে যেখানে Z → jj, H → b¯b এর ব্যাপারটা দেখানো হয়েছে। অনুশীলনের জন্য এই টেবিলটা সবার সহায়ক হতে পারে!

আর এখানেই হিগসের লেখাটা আমি শেষ করলাম। যদিও নেক্সট একটা টপিক হবে যেখানে মূলত লেখা থাকবে হিগস যদি খুজে না পাওয়া যায় তাহলে আমরা কোন থিওরী নিয়ে কাজ করবো ভরের উত্তর পাবার জন্য। আরেকটা টপিক লেখার ইচ্ছে ছিলো সেটা হিগসকে খুজে পেলে টাইম মেশিনের যে কজালিটি প্রবলেম সেটাকে কিভাবে সমাধান করে সেটার উপর যদি কোয়ান্টাম এনটেঙ্গলমেন্ট দিয়ে পোস্ট সিটিসির প্রক্রিয়াটা এটা অনেক আগেই সমাধান করেছে তবু হয়তো কোনোদিন এটা নিয়ে লেখবো হাতে সময় পেলে! অনেক কথাই এখানে বলা হয়নি, হতে পারি এখানে আমার নিজের বুঝার ভুল থাকতে পারে, কারন আমি ফিজিক্সের ছাত্র নই, পার্টিক্যাল ফিজিক্সের থিওরী আমার কোর সাবজেক্ট না। তাই ভুল ত্রুটি কেও যদি ধরিয়ে দেন তাহলে খুশী হবো। এছাড়া ইংলিশ টার্মের বাংলা লেখা যে কি কষ্টের সেটা কেমনে বুঝাই!

সূত্র:

১) হিগস হান্টার গাইড
২) কর্নেল ইউনি
৩) সিডিএফ আর্টিক্যালের ভান্ড!
৪) এটলাস
৫) বাকীটা আমার মাথা আর গুগলা চাচা!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29427892 http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29427892 2011-08-08 15:41:45
বাংলাদেশে একটা রেভুলেশন দরকার: কিন্তু হচ্ছে না কেন?
রেভ্যুলেশন নিয়া ভাবি। কিন্তু ভাবনের প্রথমেই নিজের লগে কিছু বাতচিত:

উদাসী মন: একখান রেভুলেশন করন দরকার।
আমি: মাগার আমি কই খাড়ামু? পিছে না সামনে না ঘরের খাটে?
উদাসী মন: গুড কুশ্চেন। নিজে বাচলে বাপের নাম, তাই বইলা কেন করুম না কাম!

তারপরও ভাবি। ভাবা হইলো আমার কাজ। ফিজিক্স নিয়া ভাবি, কাজ করি। এইটাও আমার কাজ। প্রোগ্রাম (সি, ভিএইডিএল, ম্যাটল্যাব ইত্যাদি) নিয়া কাজ করি, কাজ না করলে খবর আছে!

আমার ভাবনাটা অনেকটা এরম:

গত সরকারের আমলে ডেসকো অফিসে হামলা হইলো মিরপুর ১০ এ। তখন আমার বন্ধু ক্লাসমেট কাল্টু আছিলো সুইচগীয়ারের ম্যানেজার। ব্যাটার কাজ আছিলো লোডশেডিং এর ডিসিশন দেয়া আর কোন কোন এলাকা আন্ধারে থাকবো সেইটার ডিসিশন নেয়া। তো মামা সেইদিন নাকি জান নিয়া সুইচগীয়ারের রুমে ঢুইকা রইছিলো। তারপর দিন আমাগো সবাইরে ফোন দিয়া কয়,"তোরা বন্ধু না, শত্রু, আমি জান নিয়া বাইচা আছি না মইরা গেছি সেইটা তোরা খবরও লইলি না!" আমি কইলাম,"মদনা, কারেন্ট না থাকলে তোরে যে কয়টা গাইল দেই সেই হিসাব করতেও একখান ডিমাই সাইজের খাতা দরকার!" বন্ধু রাগ কইরা মাস দুই কথা কয় না!

কথা হইলো তখন খালি এই জায়গায় না, কানসাট, যাত্রাবাড়ী অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও হইছিলো আন্দোলন হইছিলো। একজন দৌড় সালাউদ্দিন দাবড়ানিও খাইছিলো। রাজশাহী বিভাবগের প্রধানমন্ত্রী বিএনপির মিনু না কি জানি তার নাম, সেও টেনশনে পড়ছিলো।
তখন কারা আন্দোলন করছিলো?: আম জনতা।

বুদ্ধিজীবি বা ছাত্রসমাজ সেটার পক্ষে বিপক্ষে কোনো ভূমিকা নিছে কিনা চোখে পড়ে নাই।

তত্বাবধায়ক সরকারের পয়লা পার্টের বিরুদ্ধে মানে বিএনপির তত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে যেই আন্দোলনটা করা হইছিলো সেখানে ছিলো রাজনৈতিক দল গুলো। ছাত্রসমাজ বা আমজনতা সেটা নিয়া খুব বেশী মাথা না ঘামাইলেও বিরক্ত হইছিলো এইটা শিওর। যার ফলে ফকরু মামারে সবাই মাইনা নেই আর ভোটের সময় মেলা আশা নিয়া সীল মারে নৌকাতে! যদিও অনেকেই বলে খুব বড় মাপের সাগর চুরি হইছে!

এর পরও আন্দোলন হইছে, আমজনতা ইনভলভ হইলেও ছাত্ররা সেইখানে ভূমিকা রাখে না, আর ছাত্ররা আন্দোলনে গেলে আমজনতা কয়,"ছাত্রগুলান দেশটারে ডুবাইলো!"

আইজকা দেখলাম অনলাইন কমুনিটি আর ছাত্রসমাজ আন্দোলন করলো। কিছু ব্লগার ধরা খাইলো, ভার্সিটির টিচার ধরা খাইলো। জন গন ঘরে বইসা বইসা টিভি দেখলো। বাপেরে ফোনে জিগাইলাম, সে কয় সে নাকি ঘুমাইছে সারা দিন। অন্যান্য মুরুব্বীরা দোকানের শাটার বন্ধ কইরা ছুটি পালন করছে!

মনে হইতাছে দেশটা হইয়া গেছে গ্রামীন ফোনের অফিস। সব লাট সাব। এক ডিপার্টম্যান্টের কান অন্য ডিপার্টম্যান্ট করে না। এক ডিপার্টম্যান্টের ব্যাপারে আরেক ডি্পার্টম্যান্টের কোনো আগ্রহ নাই!

সমস্যাটা কি কেউ ধরতে পারছেন? ছোট ছোট রেভুলেশন স্ট্যাবল হইতাছে না কেন?

বিচ্ছিন্নতা: সমস্যা হইলো আমাগো দেশের সবাই নিজের হয় বঙ্গবন্ধুর মতো সেয়ান অথবা জিয়াউর রহমানের মতো চালাক মনে করে নিজেরে। তাগো চাল চলন দেইখা মনে হয় ৮০ র দশকের তুখোড় ফটুবলার সামাদের মতো যিনি ততক্ষন পর্যন্ত দৌড়াতেন না যতক্ষন পর্যন্ত তার পায়ে বল না আসে। যখন বাল না আসে সে বল সোজা জালে ঢুকায় যেমনেই হোউক। যদিও দেশের মানুষের গোলপোস্ট সবার ভিন্ন ভিন্ন!

এইটাই হইলো সমস্যা।

কি করা উচিত ছিলো?: আমরা সবাই জানি আমরা খালেদা - হাসিনার চীপায় পইড়া গেছি। এই গ্রুপটা থিকা আমাগো মুক্ত পাইতে হইবো। কিন্তু কেউ এদের সমূলে উৎপাটনের মনোযোগ দিতাছি না। কিন্তু এগো সমূলে উৎপাটনের হাতিয়ার কিন্তু আমাগো হাতে আছে। আমরা সবাই জানি।

এগো পুরা গং দের উৎপাটন কইরা মেধাবী এবং সৎ এবং বয়সে তরুন লোকদের ক্ষমতা আর প্রশাসনে বসাইতে হবে। ফল পাবেন ৩ বছরে।

যদি এইটা চান আপনেরা তাইলে আমি কিছু কথা কইতে চাই! তবে কমেন্টে কমু, পোস্টে না। দেখেন আমার আইডিয়া আপনাদের পছন্দ হয় কিনা!

তয় শর্ত একটা: এই বিচ্ছিন্নতা কাটাইতে হবে। কিভাবে কাটাবেন সেটা আগে সিদ্ধান্ত নেন।এমনে কইরা কিছুই হইবো না। দেশ বিক্রি হইবোই, আমাগো দুর্ভোগ বাড়বোই!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29406807 http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29406807 2011-07-04 00:13:54
আমরা ভর পেলাম কিভাবে?: হিগস বোসনের ইতিবৃত্তান্ত এবং কিভাবে খোজ পেতে পারি-২ প্রথম পর্ব


বসন্তের কোনো এক বিকেলে দখিনা হাওয়ায় শরীর টা এলিয়ে সবুজ মাঠে শুয়ে থাকার অনুভূতি অনেকেরই আছে। চোখটা বন্ধ করে যখন বাতাসের স্পর্শ নিজের শরীরে অনুভূত হয় তখন নিজেকে বেশ হালকা মনে হয়। মনে হয় আমি ভরহীন। এক অদ্ভূত অনুভূতি! ভরহীন যদি হতে পারতাম তাহলে হয়তো পাখিদের সাথে ডানা মেলে উড়ে বেড়াতে পারতাম আর দেখতাম সবুজ তেপান্তরের ঐ পাড়ে কিভাবে নীল আকাশ মিশে যায়!

কিছু তথ্য:

১) হিগস বোসনের "দ্য গড পার্টিক্যাল" নামকরন করেছিলেন নোবেলবিজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী লিওন লিডারম্যান কারন এই সাব এটমিক পার্টিক্যালের কারনেই এই মহাবিশ্ব ভরপ্রাপ্ত হয়েছে বলে ধারনা করা হয়!

২) আমরা মনে করি আমাদের প্রচলিত মহাবিশ্বের সৃষ্টি এক প্রচন্ড বিগব্যাং এ যেখানে কজালিটি ইনিশিয়েটিভ হিসেবে দেখি গ্রাভিটিকে আর এই মহাবিশ্ব গড়ে উঠার পিছনে যেটা কাজ করেছে সেটা হলো এর নিজস্ব স্বতঃস্ফূর্ততা। সেহেতু এসব কিছুর পিছনে কিছু মৌলিক বিষয়ের উপর মহাবিশ্ব তৈরী হয়েছে সেটা বোঝাবার জন্য পদার্থবিজ্ঞানে স্ট্যান্ডার্ড মডেল দাড়া করানো হয়েছে। যার মূল লক্ষ্যই হলো গ্রান্ড ইউনিফাইড থিওরেমের জন্য কাজ করা।

৩) এ যাবৎকাল এই স্ট্যান্ডার্ড মডেল দ্বারা ভাবিষ্যতবানী কাটায় কাটায় মিলে গেছে শুধু মিলছে না এই হিগস বোসন আর গ্রাভিট্রন। গ্রাভিট্রন কনাটার পিছনে থিওরী দিয়ে কাজ করাটা খুব একটা কঠিন কিছু হবে না কিন্তু তার আগে এই হিগস বোসন খুজে পাওয়া খুবই দরকার!


স্ট্যান্ডার্ড মডেলের দ্বারা চিহ্নিত চারটা মৌলিক বল এবং তাদের মিথসক্রিয়ায় তৈরী করা সমূহ নীচের মতো সংক্ষেপিত করা যায়!

গ্রাভিটি- গ্রাভিট্রন
দুর্বল- W+, W-, Z
তড়িৎ চৌম্বক- ফোটন
শক্তিশালী- গ্লুওন

এখানে গ্রাভিটি, দুর্বল আর তড়িৎ চৌম্বক মিলিয়ে ইলেক্ট্রন, মিওন, আর কোয়ার্কের সৃষ্টি হয় আর উপরের চারটি মিলিয়ে কোয়ার্কের সৃস্টি হয়।তাহলে বোঝা যাচ্ছে এই চারটি মৌলিক বল দিয়েই পুরো ইউনিভার্সের ব্যাখ্যা দাড় করানো যায়।



নীচের টেবিল থেকে আরো বিস্তারিত জানা যাবে কে কোন সাব এটমিক পার্টিক্যালের কি অবস্হা:



আগের পোস্টে ব্যাখ্যা করেছি হিগস ম্যাকানিজম আর হিগস পার্টিক্যাল সম্বন্ধে আর একটা উদাহরন দিয়েছিলাম সুন্দরী অভিনেত্রী যখন হল রুমে প্রবেশ করে এবং কিভাবে সে ভরপ্রাপ্ত হয়। এটাই মূলত হিগস ম্যাকানিজমের কাহিনী।

ফারমিওন সহ যেসব পার্টিক্যাল দুর্বল বলের ধর্ম প্রদর্শন করে তারা হিগস ফিল্ডের মধ্যে চলাচল করবার সময় এর সাথে মিথস্ক্রিয়ায় অংশ নেয় বলেই তারা ভরপ্রাপ্ত হয়। ভারী পার্টিক্যাল সমূহ আরো বেশী পরিমানে মিথস্ক্রিয়ায় অংশ গ্রহন করে বলে আরো বেশী ভারী হয়ে যায়।আর যারা মিথস্ক্রিয়ায় অংশগ্রহন করে না তারা ভরপ্রাপ্তও হয় না!

উপরের বোল্ড কৃত অংশটুকু মনে রাখলে মনে হয় না এই পো্স্ট বুঝতে কারো অসুবিধা হবে।

আমাদের কেন হিগস বোসনের এতো প্রয়োজন?

স্ট্যান্ডার্ড মডেলের সিমেট্রি বা প্রতিসাম্য ঠিক রাখতে হলে সকল পার্টিক্যালকে ভরহীন হতে হবে। কিন্তু এটা সম্ভব না কারন এক্সপেরিমেন্ট অনুসারে দুর্বল বল ব হনকারী কনিকাগুলোর ভর বিদ্যমান আগে থেকেই।



ইউকুওয়া ফরমুলা অনুসারে (R= h/(2πcµ) যেখানে R হলো সকল শক্তির রেন্জ্ঞ বা কর্মপরিধি আর µ হলো ভেক্টর বোসন বা ফিল্ড কোয়ান্টামের ভর) বল ব হনকারী ভর শক্তির রেন্জ্ঞের ব্যাস্তানুপাতিক। এভাবে আমরা দুর্বল শক্তি বহনকারী কনিকাদের ভরের ব্যাপারটা সমাধান করা যায়(এটা তাত্বিক ভাবে এভাবে বলা যায় প্রকৃতিগত ভাবে শক্তিশালী ভরের এই ব্যাপারটা একটা ব্যাতিক্রম ঘটনা)।

হিগস ম্যাকানিজমটার ধারনাটাই এসেছে W এবং Z বোসনের ভরের ব্যাপারটাকে বোঝানোর জন্যই।আর পদার্থবিজ্ঞানীরা ঠিক এভাবেই ফার্মিওন কনিকা সমূহের ভরের ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করেন।

ল্যাঙ্গ্রান্জিয়ান ম্যাকানিকস অনুযায়ী গজ ট্রানসফর্মেশনে স্ট্যান্ডার্ড মডেলের প্রতিসাম্যতা নিখুত ভাবে বজায় থাকে। হিগস ম্যাকানিজমকে বাদ দিলে স্ট্যান্ডার্ড মডেলের প্রতিসাম্যতা ঠিক থাকে যদি বল ব হনকারী কনাসমূহ ভরহীন হয় কিন্তু ফলাফল তখনই উল্টাপাল্টা হবে যখন দুর্বল শক্তি বহনকারী কনিকা সমূহ ভরপ্রা্প্ত হয়।

তাই হিগস ম্যাকানিজমের ধারনাটা স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিসাম্যতাকে ভেঙ্গে ফেলে কিন্তু স্ট্যান্ডার্ড মডেলের ওভারঅল প্রতিসাম্যতা ঠিক রাখে বলেই ডেভেলপাররা এটা নিয়ে কাজ করা শুরু করেছে।
এখানে শুধুমাত্র একটা মাত্র নির্দিষ্ট বিন্দুতে স্ট্যান্ডার্ড মডেলের প্রতিসাম্যতা ভেঙ্গে যায়।



এই প্রতিসাম্যতার এক বিন্দুতে ভেঙ্গে যাওয়াটাকে আমরা দুটো উদাহরন দিয়ে ব্যাখ্যা করতে পারি:

দেখা গেলো একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে গোল টেবিলের ব্যাবস্হা হলো ডিনারের জন্য। প্রতিটা টেবিলে গোল করে প্লেটের পাশে গ্লাস আর চামচ রাখা হলো আর গোল করে চেয়ার সাজানো হলো। এখন যে লোকটি প্রথমে বসবেন সে যদি ডান পাশের গ্লাসটি তার জন্য বেছে নেন তাহলে সবাইকে ডানপাশের গ্লাসটিকেই বেছে নিতে হবে। তার মানে সে যে পাশটাকে বেছে নিচ্ছেন সবাইকে বাধ্য হয়ে সে পাশটাকেই বেছে নিতে হবে। বাসায় গোল টেবিল থাকলে এটা পরীক্ষা করতে পারেন।

আরেকটা উদাহরন দিতে পারি, যেটা হলো একটা ম্যাক্সিকান টুপি নীচের ছবির মতোই যেখানে আপনি একটি বল রেখে দিলেন ঠিক ওর চূড়ার উপর। আপনি বলটার উপরই ছেড়ে দিলেন বলটা কোন দিক দিয়ে পড়ে চলা শুরু করবে। এই ছবিতে ক্যাপের উচূ চূড়ার নীচ যে অন্ঞ্চল যেখানে বলটা পড়ে ঐ রাস্তা দিয়ে ঘুরবে সেটাকে হিগস ফিল্ডের সর্বনিম্ব এনার্জী স্টেট হিসেবে ধরে নিতে পারি।এখানে এই ক্ষেত্রটি দেখা যাচ্ছে যে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে বেছে নেয়া হচ্ছে বলেই এটাকে একটা নির্দিষ্ট বিন্দুতে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিসাম্যতা ভেঙ্গে যায়।


স্ট্যান্ডার্ড মডেলে এই হিগসের ধারনা ঠিক এজন্যই দেয়া হয়েছে সে যাতে কারে নির্দিষ্ট বিন্দুতে প্রতিসাম্যতা ভেঙ্গে পড়লেও সর্বত ভাবে এর প্রতিসাম্যতা ঠিক থাকে। ঠিক এ কারনেই হিগসের ব্যাপারটা আরো বেশী গুরুত্বপূর্ন।

হিগস এবং বিগ ব্যাং:

এই প্যারাটা আমার লেখার এখতিয়ারে ছিলো না, কিন্তু কারো কারো প্রশ্নের কারনে এটা আমি লিখছি।

বিগ ব্যাং এর মুহুর্তে এই মহাবিশ্ব ছিলো বিশুদ্ধ এনার্জীর পার্টিক্যালের সমন্বয়ে কিছু একটা মন্ড টাইপের।বিস্ফোরনের মিলিসেকেন্ডের মধ্যে আমাদের মহাবিশ্বটা ঠান্ডা হয়ে যায় এবং হিগস ক্ষেত্র গড়ে উঠে যেটা আমি আগের পোস্টে বলেছি ইকোয়েশন দিয়ে। মহাবিশ্ব ক্রমান্বয়ে ঠান্ডা হতে হতে কনিকা গুলো ধীর হতে থাকে, হিগস ক্ষেত্রের সংস্পর্শে এসে গতিশক্তি হারিয়ে ভরপ্রাপ্ত হয় আইনস্টাইনের E=mc^2 সূত্রানুসারে।


এভাবে এলিমেন্টারী পার্টিক্যাল গুলা উৎপন্ন হওয়া শুরু করলো এবং হিগস ক্ষেত্রটি স্পেস-টাইম অর্থাৎ স্হান-কালের মধ্যে দিয়ে ঢুকে গেলো।আমি একটু আগেই বলেছিলাম ইউনিফিকেশন থিওরী নিয়ে কাজ করছে বিজ্ঞানীরা। এর কারন হলো যদি আমরা এই গ্রাভিটিকেই অথবা একটা সুপার ফোর্সকেই টোটাল ইনিশিয়েটিভ ধরি তাহলে আমাদের সব কিছুর উৎস একেই দেখাতে হবে এবং বিগ ব্যাং যে এখান থেকেই হয়েছে সেটা বোঝাতে হবে।তাই থিওরেটিক্যালি নিম্ন এনার্জী স্টেটে চারটি মৌলিক বলের প্রত্যেকটিই হলো এই একটা সুপার ফোর্সের বাহ্যিক রূপ।


পার্টিক্যাল এক্সিলারেটর এই পরিবেশটাকে ধরে নিয়েই তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

হিগস বোসনের ভর কত হতে পারে?

১) স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে এর ভর ১ টেরাইলেক্ট্রন ভোল্টের নীচে হবে।
২) ফার্মিল্যাব হালকা বোসনকে খুজছে ১১৫ থেকে ১৮০ গিগাইলেক্ট্রনভোল্টের মধ্যে।
৩) এলএইচসি খুজছে আরেকটু ভারীটা যেটার ভর ১৮০ এর উপরে।
৪) ফার্মিল্যাব এই হিগস বোসনের ভরের জন্য ১৬০ থেকে ১৭০ রেন্জ্ঞের মধ্যে অনেক ডাটা অলরেডী সংগ্রহ করেছে।
৫) আরো কিছু ডাটা দিয়ে ফার্মিল্যাব ঐ রেন্জ্ঞের মধ্যে পুরোটার ডাটা আর কিছু দিনের মধ্যে নিয়ে ফেলতে পারবে।

মজার কথা হলো অনেক নামী দামী পদার্থবিজ্ঞানী এমনকি হকিং ও মনে করে হিগসকে পাওয়া যাবে না।

যদি হিগস না পাওয়া যায় তাহলে পদার্থবিজ্ঞানীদের স্ট্যান্ডার্ড মডেলের উপর কিছু কাটা ছেড়া করতে হবে, হয়তোবা দেখা গেলো অনেক বেসিক কনসেপ্ট পাল্টে ফেলতে হলো। একটা চরম সত্য কথা হলো আমরা আজো নিউটন আর আইনস্টাইনের কনসেপ্টে আটকে আছি। এখনো নতুন রেভুল্যুশনারী ফিজিক্সের দেখা পাই নাই যদিনা এম থিওরী আবারও হোচট না খায়।
তবে হিগস কে পাবার পসিবিলিটি এখনো খুব বেশী।

আসেন আমরা এইখানে একটু হাসি!



আসুন আমরা এবার একটু ম্যাথমেটিক্যাল টার্মের দিকো এগোই!

ফাইন ম্যান রুলস এবং ফাইনম্যান ডায়াগ্রাম:

ফাইনম্যানের নাম পদার্থবিজ্ঞানের যেকোনো ছাত্রর কাছেই ঈশ্বর আর তার প্রেরিত রাসুলের নামের পরেই মনে রাখতে হয় অনেকটা। এটা এজন্য যে এখানে এসে সেটাই দেখলাম।

উনি কিছু ম্যাথমেটিক্যাল মডেল ডেভেলপ করেন যেটা দিয়ে পার্টিক্যাল কলিশনের ব্যাপারগুলো ব্যাখ্যা করা যায়।



এই ইকোয়েশনের প্রথম দুটো অপারেটরে দেখানো হচ্ছে যে কিভাবে একটা m ভরের পার্টিক্যাল স্হান-কালের স্হানাংকে চলতে থাকে আর পরের অংশটি দেখাচ্ছে যে তড়িৎচৌম্বকীয় একটা পার্টিক্যাল কিভাবে মিথস্ক্রিয়ায় অংশ নেবে যার বলের পরিমান তড়ীৎ চার্জ q নির্ধারিত করা হয়।



উপরের এই ছবিটাতে এই ইকোয়েশনেরই একটা পিকটোরিক্যাল রিপ্রেজেন্টেশন যেখানে কলিশনের পর কিভাবে হচ্ছে সেটাই রৈখিক ভাবে দেখানো হচ্ছে!


চলবে..................

রেফারেন্স:

১) স্ট্যান্ডার্ড মডেল উইকি
২) সিডিএফ, ফার্মিল্যাব
৩) মাদ্রাজ কলেজ, ম্যাথমেটিক্স ডিপার্টম্যান্ট
৪) সার্ন-১
৫) সার্ন - ২ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29406237 http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29406237 2011-07-03 00:19:02
প্রতিশোধ! শাহেদ দৌড়াতে দৌড়াতে মোড়ে দাড়িয়ে থাকা টনির কলার খামচে ধরে শূন্যে ভাসিয়ে নেয় হেচকা টানে। মুদীর দোকানের ওয়ালে টনির পিঠ সজোরে আছড়ে,"মেয়ে মানুষ দেখলে মাথা ঠিক থাকে না, না?" শাহেদের চিৎকারটা হুংকারের মতোই মনে হলো। ছেলেটির চোখে বিস্ময়, ঠোট দুটো কাপছে, কাপা গলায় ডাকছে,"ঐ মনছুর, রইন্যা, আব্বাস, কই গেলি? ভুল করতাছোসরে, ছাইড়া দে আমারে!"

শাহেদ কলারটা ছাড়তেই শুকনো কালো টনির পা মাটির উপর দাড়ায়, তখনও ওয়ালে সে পিঠ ঠেকিয়ে আর চোখে মুখে জগতের আতন্ক আর বিষ্ময়। দুপা পেছায শাহেদ়, মুখে একটু হেসে এনে," আজকে তোর শেষ দিন!" এই বলে রডটা ডান পায়ে জোড়ে একটা আঘাত বসাতেই কাঠ ভাঙ্গার মতো আওয়াজ হলো, আর টনি ডানে ঝুকেই জোরে "বাবারে" বলে পড়ে গেলো! টনি পড়তে পড়তে শাহেদ ওর মাথাটা উপর একটা জোড়ে আঘাতে তরমুজের মতো ফেটে রক্ত বেরুতে লাগলো! তারপর আরো কয়েকটা আঘাত সম্পূর্ন গুড়ো না হওয়া পর্যন্ত আঘাত করতে লাগলো! ততক্ষনে রনি আর মনছুর পিছনে এসে দাড়ায়ে। কি করবে বুঝতে পারছে না, শুধু দাড়িয়ে দেখলো এরকম একটা ঘটনা।

এবার শাহেদ পিছনে ঘুরলো, রনির দিকে এভাবে তাকালো যাতে ও ওর শ্যেনদৃষ্টিতেই ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। মনছুর দৌড়াতে উদ্যেত হলো!

দু'মাস আগের কথা
১.
: ভাইয়া, চা খাবি?

শাহেদ ল্যাপটপ থেকে চোখটা সরিয়ে বোনটার দিকে তাকিয়ে বললো,"কিরে, ইন্টারভিউ কেমন হলো?"
নিশা মুখ ভেংচি দিয়ে বললো,"আর ইন্টারভিউ, সবাই বলে অভিজ্ঞতা!"
শাহেদ ল্যাপটপে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে,"দিতে থাক, আর আমি চা খাবো না।জীম থেকে এসেই দুধ, ২ হালি কলা আর দুটো ডিম খেয়েছি। চা পোষাবে না!"
নিশা শাহেদের পাশে বসে,"ভাইয়া, তোকে একটা কথা বলি? তোর অফিসে দেখ না?"

শাহেদ নিশার দিকে তাকালো, আবার ল্যাপটপে চোখ ফিরিয়ে নিলো। নিশা দেখলো ওর ভাই জরুরী কোনো কাজ করছে না, কাউন্টার স্ট্রাইক খেলছে। একটা টেলিকমে ঢুকে অলটাইম বিজি। বাসায় আসলে কথা বলার টাইম নাই, গেম আর অফিসে গিয়ে যে কি করে খোদা জানে!

২.

: ভাইয়া, একটা কথা বলতাম।
শাহেদ শুয়ে আছে কানে এফএম লাগিয়ে, ওর দিকে তাকিয়ে বললো,"কালকে ৫০০ নিলি, আজকে কত?"
: ভাইয়া, টনি নামের ছেলেটাকে চিনিস?
: পরশু ওর সাথে কথা হলো। আমার সাথে হায় হ্যালো করলো। লীগের কি যেনো! ব্যাটা ট্যাম্পোস্ট্যান্ডে চাদাবাজি করে। কি হইছে?
: তেমন কিছু না। যখনই রাস্তা দিয়ে আসি, তখনই সালাম দেয়।
: সালাম দিলে উত্তর দিবি। সমস্যা কি?
: (একটু ভেবে বললো) না কিছু না।

৩.

শাহেদ অনেকক্ষন ধরে জুনিপার রাউটার টাকে মাউন্ট করার চেষ্টা করছে। লোকাল নেটওয়ার্কে বিজেপি কাজ করছে ভালো কিন্তু গেটওয়ে রাউটার পিংক করেও কোনো প্যাকেট পাওয়া যাচ্ছে না। ম্যাঙ্গোকে ফোন করা হয়েছে, বলছে ওদের এন্ড থেকে সমস্যা নেই, কিন্তু এখান থেকে পাচ্ছে না। একটু আগে মিটিং হয়েছে, শাহেদের ওপর পুরো দায়িত্ব পড়লো লিংক আপ করার। সবকিছু কাজ করছে, কিন্তু ঐ আইপিতে মাঝে মাঝে লিংকও হারিয়ে যাচ্ছে। দু'ঘন্টা ধরে ল্যাপীর সামনে বসে। ওদিকে কাউন্টার স্ট্রাইকের আজকে টুর্নামেন্টের ফাইনাল, অনলাইন ক্লানের সবাই বসে আছে।

এমন সময় ফোন। শাহেদ ফোনটা হন্ত দন্ত নিয়ে তুলে নাম দেখেই হতাশ। খুব এক্সপেক্ট করছিলো ম্যাঙ্গো থেকে একটা ফিডব্যাক পাবে, কিন্তু নিশার নাম দেখে মেজাজ খিচে গেলো।
: কিরে, এই অসময়ে?
ও পাশে কান্নার শব্দ) ভাইয়া তুই কখন আসবি?
শাহেদের মেজাজ চড়ে গেলো। একেতো এখানে লিংক ডাউন তার উপর আবার বাসার গ্যান্জ্ঞাম। এমন সময় পিছন থেকে মাসুদ এসে বললো,"ভাইয়া, খবর শুনেছেন?"

শাহেদের মাথা তখন দপদপ করছে, "ও হ্যা, মাসুদ কি খবর?"

মাসুদ হেসে বললো,"আগে বলেন সিগারেট খাওয়াবেন কিনা? শুনে আপনি হাসবেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়েতে ওয়াসার লোকজন তার কেটে ফেলেছে। এটা ওরা কেবল ধরতে পেরেছে" এই বলেমাসুদ আরো জোরে হাসা শুরু করলো, মনে হলো সে থ্রি স্টুজেস দেখে এসেছে!

শাহেদ সামনে এসে বললো,"মাসুদ, সব কনফিগার করা, শুধু আইপি পিং করতে হবে। পারবে না? আমাকে এখন একটু যেতে হবে, বাসায় একটু প্রবলেম হয়েছে। উপরের ব্যাপারে ভেবো না, আমি ফোনে ম্যানেজ করে নেবো! কোনো প্রবলেম হলে আমাকে জানাবা। আমি টেলনেট করবো!"
: শাহেদ ভাই, সিরিয়াস কিছু? চিন্তা করবেন না। আই উইল ম্যানেজ!

শাহেদ একটা থ্যাংক্স দিয়ে দ্রুত অফিস থেকে বের হয়ে মোবাইলটা হাতে নিয়ে কিছু নাম্বার খুজতে লাগলো!

৪.

: ভাইয়া, আজকে ও আমার ওড়না ধরে টান দিয়ে খারাপ কথা বলেছে! আমরা এখানে থাকবো না। তুই নতুন বাসা দেখ!
শাহেদ কিছু বললো না, খালি দেখলো ওর বোনটা ওর বুকে জড়িয়ে ধরে কাদছে।
শাহেদ তার দুদিন পরেই মিরপুর ছেড়ে মহাখালীতে একটা বাসা ভাড়া করে। বেশ বড় ছিম ছাম।
ওর মনে হলো বেশ একটা ভালো কাজ হয়েছে। আসবার আগে একটা কাজ করেছে পরিচিত একজনকে ধরে থানায় জিডি করিয়ে এসেছে। দুদিন জেলে ছিলো দুরাত টনি জেলে ছিলো। পরে জামিন পেয়ে যায়।

৫.


ছুটির দিন শাহেদ ঘুমায়। দিন ভর ঘুমায়। কোনো গেম খেলে না, জীম ওয়ার্ক বাদ। খাওয়া টিভি দেখা আর ঘুম। এই চাকরীটা দিন দিন এতো আয়েষি করে ফেলছে যে জীম করে পোষাচ্ছে না, এ্যাবস হারিয়ে ভূড়ির উকি ঝুকি আজকাল।দৌড়ানো দরকার মাইলের পর মাইল প্রতিদিন কিন্তউ এশহরে তার উপায় নেই!

হঠাৎ বাসার কলিং বেল বেজে উঠলো। শাহেদ উঠে দরজা খুলেই দেখে নীচ তলার জাহিদ।
: আরে জাহিদ কি খবর?
: (তোতলাতে তোতলাতে থাকলো জাহিদ, চোখে মুখে একটা আতন্ক) শাহেদ ভাই, নি-শা আ-পু-কে কা-রা যে-নো গা-ড়ি-তে উ-ঠি-য়ে নি-য়ে গে-ছে। ভা-ই পু-লি-শ-কে খ-ব-র দে-ন!
: হোয়াট?

শাহেদের বুকের হার্ট বিট এক লাফে ছটফট শুরু করে দিলো, মাথায় রক্ত চড়ে গেলো কিন্তু স হসাই মনে হলো, নিশাকে কারা উঠাবে ? কাকে ফোন দেবে? তানিম কে ফোন দেয়া যায়। ও ব্যাপারটা জানে,"তানিম, দোস্ত, বোনটাকে ওরা উঠিয়ে নিয়ে গেছে।"

: (ফোনের ওপাশ থেকে তানিম) কুল ডাউন শাহেদ, আমি আসছি এখনি়। তুই খবরদার বাসা থেকে বের হবি না। কোথাও যাবি না, আমি যতক্ষন না আসি!

৬.

দু সপ্তাহ পর নিশার খবর পেলো। ঢাকা মেডিকেল কলেজে বেডে ছিলো এক সপ্তাহ।বেচে গেছে এই যাত্রায়!। কিছু নাম বলে যার মধ্যে টনির নামটা ছিলো। তানিম এরেস্টও করে সবাইকে। তানিম জানায় নারী নির্যাতন আইনে জামিন পাবে না। কিন্তু দুদিন পর রিমান্ডের আবেদন করলে সেটা তো পেলোই না, উল্টো জামিনে ছাড়া পেয়ে গেলো!

নিশা বাসায় পড়ে আছে। সুস্হ কিন্তু কথা বলে না।

শাহেদ বসে আছে আর জানালা দিয়ে দেখছে একটা নারিকেল গাছ ঝুকে আছে। মাথায় অনেক ডাব, কিন্তু এতগুলো ডাব নিয়ে সে ভেঙ্গে পড়ছে না। বরংচ বাতাসে হেলে দুলে যায়!
_________________________
কিছুক্ষন ফোনটা বেজে উঠতেই শাহেদ কানে নিয়ে,"ওকি এখন এলাকায়?"
ওপাশ থেকে হ্যা সূচক কিছু জানালো!

শাহেদ জিন্সটা পড়লো। একটা সাদা শার্ট গায়ে জড়ালো। আস্তে করে দরজাটা লক করে বাইরে বেরিয়ে হাটতে থাকে। গাড়িটার দরজা খুলে একটানে মিরপুর। গাড়িটা গলির মাথায় দাড় করিয়ে রাখলো ধীর স্হির ভাবে। গলির মুখেই চলছে দুটো বিল্ডিং এর কনস্ট্রাকশন। ঢালাইয়ের জন্য সাইজ করা রড পড়ে আছে রাস্তার উপর। ওখান থেকে একটা মোটা রড হাতে নিলো শাহেদ!সান গ্লাসটা দিয়ে লাল চোখ দুটো ঢাকলো, আস্তে আস্তে করে গলির ভিতর এগিয়ে চললো টনির বাসার দিকে!
আর রডটা বাতাসে খেলাতে থাকলো। শাহেদের বাইসেপের রগটা নীল হয়ে জেগে উঠলো আর ডেল্টয়েড শার্ট টা ফেটে বের হয়ে আসতে চাইছে! মনে হলো স্বয়ং প্রমিথিউস আজ শৌর্যবীর্যে এগিয়ে চলছে একটা যুদ্ধের ঘোষনা করতে!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29396943 http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29396943 2011-06-15 10:17:52
আমরা ভর পেলাম কিভাবে?: হিগস বোসন- পর্ব ১ উৎসর্গ স্যার সত্যেন বোসকে!


আমরা প্রশ্ন করতে ভালো বাসি।এ পুরো মহাবিশ্ব আমরা সবাই জানি অনুপরমানু দিয়ে সৃষ্টি। তারপর আমরা পাই নিউক্লিয়াস আর ইলেক্ট্রন। ওগুলো কি দিয়ে সৃষ্টি তাহলে সরাসরি বলি আইনস্টাইনের E=mc^2 সবকিছুই এনার্জীর মাধ্যমে সৃষ্টি। কিন্তু এনার্জীর তো ভর বা ওজন নেই তাহলে এত ওজন কিভাবে তৈরী হলো?
তাহলে আরেকটু ডিটেইলে যাই যদি আমরা ইলেক্টরিন প্রোটন ভাঙ্গি তাহলে পঅয়া যাবে কোয়ার্কের প্যাকেট আরও কিছু লেপটন (এখানে ৬ টা কোয়ার্ক আর ৬ টা লেপটন স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে) দিয়ে তৈরী।

এখানে আমরা স্ট্যান্ডার্ড মডেল সম্পর্কে খুব বেশী একটা সচেতন নি। যাই হোউক ছবিতে এটা ডিটেইলে পাবেন!

প্রথম প্রথম মনে হবে কিছু একটা মিসিং, বা সব মিথ্যা। কারন এনার্জী থেকে ভর কিভাবে আসে?

যাই হোউক, আলোচনা একটু এগিয়ে নেই। এখন অনেকেই জানেন হিগস বোসনের নাম। সেটা নিয়েই কথা বলবো!

যেহেতু পার্টিক্যালগুলো এই ভর জিনিসটা নিয়ে বহাল তবিয়তে মহাবিশ্ব বিদ্যমান তাহলে নিশ্চয়ই কাহিনী আছে। তো কাহিনী শুরু হয় অনেকটা এমন ভাবে, ১৯২০ এর দিকে সত্যেন বোস নামের এক লেকচারার ঢাকা ইউনিভার্সিটির ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টে লেকচার দেবার এময় একটা আইডিয়া পান: সেটা হলো আলো আসলে ছোট ছোট এনার্জীর প্যাকেট (যাকে পরে ফোটন নাম দেয়া হয়), তো বোস সাহেব প্লান্কের বিকিরন তত্ব থেকে একটা হিসাব দাড়া করান যার মাধ্যমে দুটো ফোটনকে আলাদা বা ভিন্ন ভাবে তাদের দশাকে গননা করা যায়। তো স্যারের এই হিসাবটা আইনস্টাইন অনু দের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করেন যেটা পরে বোস আইন্সটাইন পরিসংখ্যান নামে পরিচিত!

যেসব পার্টিক্যাল (যাদের স্পিন সংখ্যা পূর্ন সংখ্যার নয় (হাফ ইন্টিজারের বাংলা কি ভাই?) ) এই পরিসংখ্যান মেনে চলে তাদেরকে বলা হয় বোসন (যেটা সত্যেন বোস স্যারের নামানুসারেই) বলে।

১৯৬৪ এর দিকে একটা জার্নাল প্রকাশিত হয় যেখানে পিটার হিগস নামের এক ভদ্রলোক একটা মডেল তৈরীর প্রচেষ্টা শুরু করলেন যেখানে তিনি এমন একটা পার্টিক্যাল নিয়ে কাজ করতে লাগলেন যেই পার্টিক্যালের গুনাগুন ছিলো এর শুধুমাত্র ভর থাকবে কিন্তু শূন্য স্হানে এ কোনো চার্জ প্রদর্শন করে না। এই পার্টিক্যালটার নাম আমরা H বলতে পারি। এই H পার্টিক্যালটি অন্যান্য পার্টিক্যালের সান্নিধ্যে আসলে এদের মধ্যে একটা বল কাজ করবে।

এখন ধরা যাক এই H পার্টিক্যালটি একটা ইলেক্ট্রনের সান্নিধ্যে আসলো তখন কি হবে? ইলেক্ট্রন নেগেটিভ চার্জের ভরযুক্ত পার্টিক্যাল, নিশ্চয়ই তাদের মধ্যে একটা বলের আবির্ভাব ঘটবে।

এখন আমরা যদি এভাবে বলি কোয়ান্টাম ম্যাকানিক্সে যখন আমরা মৌলিক পার্টিক্যাল গুলোর ধ্বংস এবং সৃষ্টির হিসাবটা করি গাণিতিকভাবে (যার ব্যাব হারিক প্রয়োগ পাওয়া যায় এক্সিলারেটর বা কোলাইডার গুলোতে ) তখন দেখা যায় সাব এটমিক পার্টিক্যালগুলোর উদ্ভব ঘটে স্হান এবং কালের বিদ্যমান ক্ষেত্র থেকে। হিগস এই গানিতিক মডেল থেকে H এর সাথে সম্পর্কযুক্ত প্যারামিটারগুলোকে এমন ভাবে সাজান যে শূন্যস্হানে ঐ ক্ষেত্রের সবচেয়ে নিম্ন এনার্জী স্তরেরমান ১ হয়। তখন দেখা যায় যে শূন্যস্হানে ঐ ক্ষেত্রের মান আসলেই শূন্য থাকে না কিন্তু ফলাফলে যেটা পাওয়া যায় সব পার্টিক্যাল গুলো H এর সান্নিধ্যে এসে ভর লাভ করে।



এভাবেই গানিতিকভাবে H এর অস্তিত্ব আর তার সাথে যেসব পার্টিক্যালের মিথস্ক্রিয়তায় ভর লাভ করে এই ঘটনাকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই মডেলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন যে ব্যাপারটা সেটা হলো নিম্ন এনার্জী স্তর, শূন্যস্হানে দেখা যায় H পার্টিক্যালের নিজস্ব কোনো এনার্জী থাকে না। অন্যান্য পার্টিক্যাল এই শূন্য-এনার্জীর H পার্টিক্যালের সাথে মিথস্ক্রিয়তার মাধ্যমে ভর প্রাপ্ত হয়। এই ভরকে বলা যায় জড়তা অথবা বস্তুকে গতিশীল করতে বাধা প্রদান করার ক্ষমতা এবং মূলত এভাবে আসে যে পার্টিক্যালটিকে হিগস পার্টিক্যাল দ্বারা অনেকটা আবিষ্ট করাকেই দায়ী করা যায় যখন আমরা একে নড়াতে চাই!

যদি পার্টিক্যাল হিগস ক্ষেত্রের শূন্য স্হানে মিথস্ক্রিয়তা করার মাধ্যমে ভর প্রাপ্তির সুযোগ পায় তাহলে হিগস পার্টিক্যালের অস্তিত্ব থাকতেই হবে, কিন্তু একে দেখে বিনা এটার অস্তিত্বের ব্যাপার নিশ্চিত ভাবে কিছু বলা যায় না। হিগস সম্পর্কে আরও অনেক পটেন্ট আছে যেমন এটা যদি সত্যি থেকে থাকে তাহলে এই কনিকা বিভিন্ন মৌলিক বলের একীভূত করনের পিছনে কাজ করে।

হিগস ক্ষেত্র:

প্রথমে আমরা হিগস ক্ষেত্রটিকে জানতে চেষ্টা করি। বিগ ব্যাং এর পর পর আমাদের চেনাজানা মহা বিশ্ব প্রচন্ড উত্তপ্ত ছিলো, তখন হিগস ক্ষেত্রের প্রচন্ড প্রভাব ছিলো (এখানে পটেনশিয়াল এনার্জী কর্ভ অনুসারে নীচের চিত্রটি অনুসরন করা যেতে পারে)।

যখন মহাবিশ্ব প্রচন্ড রকম উত্তপ্ত ছিলো এবং φ = 0

যখন মহাবিশ্ব ঠান্ডা হতে শুরু করলো এবং φ0= (-μ^2/λ)^১/২ = v।

যখন মহাবিশ্ব আস্তে আস্তে ঠান্ডা হতে থাকে অনেকখানি, একটা নির্দিস্ট তাপমাত্রার নীচে এই হিগস ক্ষেত্রটি একটি নির্দিষ্ট মানে পৌছায় যেটা মূলত সর্বনিম্ন এনার্জী স্তরকেই (এখানে পটেনশিয়াল এনার্জী শূন্য হলেও হিগস ক্ষেত্রটির মান শূন্য নয় আর এই লেভেলটাকে বলা হয় শূন্য বা ভ্যাকুয়াম) বুঝায় এবং এই এনার্জী স্তরটি এখন পুরোটা মহাবিশ্বে থেকে যায়।

এখন ধরা যাক একটি কোয়ার্ক বা ইলেক্ট্রন ঘুরতে ঘুরতে এই ইউনিফর্ম হিগস ক্ষেত্রে এসে পড়লো। যদি ঐ পার্টিক্যালটি তার চলার গতি পরিবর্তন করে অর্থাৎ ত্বরনায়িত হয় (এটাই হয় সবসময়), তখন এই হিগস ক্ষেত্রটি একটি নির্দিষ্ট মানের বাধার সৃষ্টি করে যাকে বলা হয় স্হিতির জড়তার উৎস হিসাবে বলা হয়। এটাকে সোজা বাংলায় বলা যায় পার্টিক্যালের সাথে হিগস ক্ষেত্রের মিথস্ক্রিয়তার ফলেই এই স্হিতির জড়তা উৎপন্ন হয় এবং ভরের শুরু এখান থেকেই এবং এর সাথে অন্যান্য মিথস্ক্রিয়া যেমন শক্তিশালী মিথষ্ক্রিয়া (যেটা গ্লুওনের বলের প্রভাবে ঘটে, কোয়ার্কগুলো আঠার মতো লেগে ফোটনের উদ্ভব ঘটায় এমন কিছু বলা যেতে পারে) এই উদ্ভুৎ ভরে সম্পৃক্ত ঘটায়। এখানে বলা যেতে পারে হিগস ক্ষেত্রের বাধার পরিমান নির্ভর করে কি রকম পার্টিক্যালের সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে আর এর কারনেই বিভিন্ন পার্টিক্যালের বিভিন্ন ভরের সৃষ্টি হয়।

এখন একটা উদাহরন দেই। দেখা গেলো আপনি আপনার ক্লাসের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দরী একটা মেয়ে। অনেকদিন পর গেট টুগেদার পার্টির ডাক পেলেন। যেহেতু আপনি কো এডুকেশন পড়েছিলেন সেহেতু আপনার প্রচুর শুভাকাঙ্গি। তো যখন পার্টি শুরু হলো তখন রুম ভর্তি ছেলে মেয়ে। আপনি যখন রুমে ঢুকলেন তখন দেখা গেলো সবাই জেনে গেলো আপনি এখনো সিঙ্গেল। আপনি যত পার্টির ভিতরে যেতে থাকবেন তত আপনার সাথে ডেট করবার জন্য ছেলেরা এগিয়ে আসবে। আর যারা মেয়ে সহপাঠি তারা দূরে দারিয়ে থাকবে। তার মানে দেখা যাচ্ছে আপনি একটা সময় নিঃসঙ্গ থেকে যত ভীড়ের ভিতরে ঢুকছেন আপনি তত মানুষকে আকর্ষন করছেন। দেখা গেলো ছেলেদের দ্বারা সবচেয়ে বেশী আকৃষ্ট হচ্ছেন নতুন ভাবে আর মেয়েরা দূরে সরে যাচ্ছে। ফলে আপনি তত বেশী মোমেন্টাম প্রাপ্ত হচ্ছেন। যেটা ভর প্রাপ্তির প্রাথমিক লক্ষন! এখন আপনি অনেকবেশী ভর প্রাপ্ত হবেন তখন আপনার সামনে যাওয়া কষ্টকর হয়ে যাবে। আপনি আবার তখনই সামনে যাবেন আগের মতো দ্রুত যখন আপনি আবার নিঃসঙ্গ! এটাই হলো হিগস ম্যাকানিজম।

পিটার হিগস এর উপর ভিত্তি করেই তার থিওরীটা রচনা করেন যে হিগস ক্ষেত্রটি মুলত একটা বিস্তৃত জালের মতো ক্ষেত্র (আমরা এখানে বুঝবার জন্য ইলেক্ট্রম্যাগনেটিক ফিল্ডের অনুরুপ ধরতে পারি বিস্তৃতির ক্ষেত্রে) যার মাধ্যমে এটা পার্টিক্যাল সমূহকে প্রভাবিত করতে পারে যারা এর মধ্য দিয়ে চলতে থাকে (এটা আমরা সলিড ফিজিক্সেও খাটাতে পারি)।

আমরা জানি যে যখন একটা ইলেক্ট্রন পজিটিভ চার্জযুক্ত কোনো কৃস্টালের অনুর পাশ দিয়ে যায় তখন ইলেক্ট্রনের ভর ৪০ গুন বেড়ে যায়। এটা এখানকার জন্যও সত্য হতে পারে যখন হিগস ক্ষেত্রে মধ্য দিয়ে কোনো পার্টিক্যাল ভ্রমন করে তখন এটা একটা ডিসটর্শন তৈরী করে যেটা ঐ পার্টিক্যালকে ভর প্রদান করে।

এখন স্ট্যান্ডার্ড মডেলে হিগস ক্ষেত্র দুটি নিরপেক্ষ আর দুটি চার্জযুক্ত ক্ষেত্রের সমন্বয়ে গঠিত।ক্ষেত্রটির উভয় চার্জযুক্ত আর একটি নিরপেক্ষ উপাদানের নাম গোল্ডস্টোন বোসন যেটা অভিলম্ব বরাবর ৩ রকমের মেরু প্রদর্শন করে যাদের নাম গুলো W+, W- এবং Z বোসন। আর বাকী কোয়ান্টাম উপাদানটির নাম ভারী হিগস বোসন। যেহেতু হিগস ক্ষেত্রটি একটা স্কেলার ক্ষেত্র, তাই হিগস বোসনের কোনো স্পিন নাই যার ফলে এর কোনো কৌনিক মোমেন্টাম নাই! হিগস বোসন অবশ্য নিজেই নিজের এন্টি পার্টিক্যাল আর জোড় চার্জ প্যারিটির।

একটু হিসাব:

গজ বোসনের ভরের ইকোয়েশন গুলো:
M(W+ এর) = M(W−) =.৫ *v*g

এবং M(Z বোসনের) =.৫*v(g^2 + g′^2)^.৫

এখান থেকে আমরা M (W+ এবং W- এর জন্য) পাই: ৮০.৪ GeV আর M(Z বোসনের) জন্য পাই ৯১.২ GeV।

আর ভরহীন গজ বোসনের মান ফোটনের সমান মানে ০।

হিগস বোসনের ভরের সূত্র M(h) = √(2*λ*v^2) যেখানে (v ≈ 246 GeV)। আমরা এখনও এর মান জানি না!

পরবর্তী পরে আর ডিটেইল আলোচনা করবো এবং পরিশেষে আলোচনা করার ইচ্ছে আছে যদি হিগস বোসন নাই থেকে থাকে তাহলে ভরের হিসাব কিভাবে মেলানো হবে!

সূত্র:

১) হিগস বোসন উইকি!
২) সিডিএফ লিংক
৩) সার্ন
৪) আর বাকী অন্যান্য পোস্টে লিংক করে দেয়া আছে!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29392752 http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29392752 2011-06-07 04:28:07
একটা স্ট্যাবল ওয়ার্মহোল: পার্ট টু! পয়লা পার্ট!


১.

ইদানিং দিনকাল খুব দ্রূত পাল্টে যাচ্ছে।ফড়িং এর পাখার মতো দ্রূত লয়ে সবাই ছুটছে, অনিশ্চয়তা চারপাশ থেকে খুব দ্রুত ছেকে ধরছে। তবু মানুষ ছুটছে, যদি লেগে যায়! কখনো তাই স্বপ্ন গুলো খুব দ্রূত মারা যায়, কেউবা হারিয়ে যায়, মনটা কিছুক্ষন খারাপ হয়....আবারও সবাই মিশে যায় এই ব্যাস্ত জনসমুদ্রে!

অফিসের পথে হাটতে হাটতে দেখছে কত মানুষ, যাদের কাজ নেই তারাও বসে নেই। সবার মুখ থেকে কিছু একটা হারিয়ে গেছে, কারো চোখে মুখে চতুরতা অথবা বিষন্নতার ছাপ। আবেগ ভালোবাসা আস্তে আস্তে নিভু নিভু জীবন থেকে। আজকের আকাশের বিষন্ন মন দেখে মনে হলো যদি বৃষ্টি আসে একবার তাহলে একটু ভিজা যায়, বৃষ্টির শব্দে তাল মিলিয়ে গাওয়া যায় গান! কেমন হয় যদি ছুটিটা একটা কল করেই হয়ে যায়?

ব্যাগ থেকে ফোনটা বের করতে করতে হঠাৎ মনে হলো আজ ফারজানার একটা এসএমএস পাওনা ছিলো। নেই, ফোনে সেই এসএমএস টা নেই। ভাইটা কালকে বাসায় আসেনি। কাল বিকেলেই বুঝতে পারে কিছু একটা হয়েছে। শেয়ারে আবারও ধাক্কা খেয়েছে। এটাই ওর জন্য প্রথম না,যদিও প্রতিবার ধাক্কা খাবার পর বলেছে কিছু টাকা জমলেই আর নয়। বয়স অনেক হয়েছে বৈকি...বোনের বিয়ে না দিয়ে নাকি নিজে বিয়ে করবে না। অদ্ভূত সব দায়িত্বের কথা বলে, বলবে নাই বা কেন? ছোট বেলা দেখতো ভাইটা কথা বলতে বলতে শুধু হারিয়ে যেতো। আস্তে আস্তে ও বড় হতে লাগলো, ওর কথাগুলো যেনো হারিয়ে গেলো। ভাইটা পাল্টে গেলো!

ভালো চাকরী পায়নি বলে শেয়ার বাজারে চেষ্টা করবে। যদি লেগে যায়, তাহলে আর চিন্তা নাই!

সেই লাগাটা আর লাগে নি, যতটুকু চর্বি জমে ওখান থেকে প্রতিবছর সেটা ঐ এক ধাক্কাতেই চলে যায়। এভাবে ও নিঃস্ব হচ্ছে। দোষ কাকে দেবে? ফারজানা চোয়াল শক্ত করে চারিদিকে তাকায়। একটা প্রচন্ড আক্রোশ বুক থেকে উঠে আসে...প্রকাশ করতে না পেরে চোখটা ভিজে যায়!

২.

গুলশানের শর্মাহাউজ শাহেদের খুব প্রিয়, অন্তত ফারাজানাকে ও তাই বলে কিন্তু শাহেদকে শর্মা খেতে দেখলে মনে হয় না এই খাবারটা ওর খুব প্রিয়। প্রথমবার অফিস থেকে লান্ঞ্চ করতে এসে যখন ওর সাথে দেখা হয় তখন কথায় কথায় বলেছিলো শর্মা খেতে ওর প্রচন্ড ভালো লাগে। তারপর থেকে যতবার কোনো সিরিয়াস ব্যাপার নিয়ে আলাপ করবে ততবারই এই শর্মাহাউজ। একটা বৃত্তে আটকে পড়ে আছে বেচারা।

৫ টা বাজতে ১৫ মিনিট বাকি। শাহেদ বলেছিলো ৫:৩০ টায়। আজকে ওর অফিসে কাজ। শনিবার, তবু অফিসে কাজ। আইএসপি গুলোতে মনে হয় ছুটির দিনের কোনো ঠিক ঠিকানা নেই। যখনই আসে তখনই দেখি হাতে কোনো ক্যাবল অথবা মোটা লিনাক্সের বই! ও একটু আগে এসেছে। জরুরী মিটিং ছিলো, বৃষ্টিতে ভিজবার ছলে মিটিং থেকে ছুটি নিলো। বাসায় ফিরতেই দেখে বিষন্ন আকাশ ফুচকি দিয়ে কড়া রোদকে স্বাগত জানালো। আনমনে হাসলো ৫ মিনিট। তখনই শাহেদের এসএমএস।

এখনও ৪৫ মিনিট, কি করা যায়?আশে পাশে তাকাচ্ছে, বেশ কিছু কাপল হাসি ঠাট্টা, একটা ছেলে মেয়ের ইয়ো ইয়ো গ্রুপ গল্প গুজবে মত্ত। জামা কাপড়ে আটসাট আর শর্টকাট! ও একা, মনে এতো আগে এসে ভুলটাই করলো।

কি করবে ফারজানা, ওর দিন এখন কাটে শাহেদকে নিয়ে। শাহেদ ওকে নতুন করে স্বপ্ন দেখিয়েছে, উড়তে শিখিয়েছে ঈগলের মতো। ও সবার থেকে আলাদা। এটা ঠিক শাহেদ এ নিয়ে ৪ নম্বর। যারা এসেছিলো তারা কোনো না কোনো কারনে ওকে কষ্ট দেয়, কিছু না বলে চলে যায়। কি করবে ও? সবার মনে এতো কলুষতা কেন সেটা ভাবতেই ওকে পীড়া দেয়!

শাহেদ সব জানে, আজকে জানালো ওর ভাইয়ের খবর নাকি নিয়েছে। যখন জানালো তখন ফারজানার মনে হলো শাহেদকে ওর মনের কথাটা জানানো উচিত! হ্যা, শাহেদকে ও ভালোবেসেছে!

অদ্ভূত একট ছেলে, দ্বিতীয়বার দেখা করতে এসেই প্রপোজ করে। চেনে না জানে না, কেনো একটা ছেলেকে ও মেনে নেবে? ও বলতেই শাহেদের মন খারাপ হয়ে যায়। তবু কিছু সময় দেয় সেদিন। সেদিনের পর থেকে শাহেদ ওকে পাল্টাতে শুরু করে। এমনটি কেউ আগে করে নি, শাহেদ করেছে। প্রতিদিনের কস্টগুলোর মাঝে একটা সম্ভাব্য সুখের সময় লুকিয়ে আছে সেটা শাহেদই ওকে শিখিয়েছে। তারপরও একটা ব্যাপার ওকে খুব অস্বস্তিতে ফেলতো। প্রপোজ করা ঘন ঘন! অনেক শাসিয়েছে, শুনেছে, তবুও!

কিন্তু আজকে মনে হলো এটা অন্যায় হয়েছে। ওকে বলা উচিত! ও সবার থেকেই আলাদা!

হঠাৎ পিছন থেকে কি যেনো চোখের সামনে এসে পড়লো! চমকে উঠে চেয়ে দেখে বিশাল এক রজনীগন্ধার তোড়া! পিছনে তাকিয়ে দেখে শাহেদ মিটি মিটি হাসছে! ফারজানা হেসে বললো,"তুমি আমাকে চমকে দিলে!"
শাহেদ ফুলের তোড়াটা ওর হাতে দিয়ে বললো,"হ্যাপী বার্থডে ফারু প্রিন্সেস, হ্যাপী বার্থডে!

ফারজানার হাসি যেনো থামছে না, আবেগে চোখটা ভিজে গেছে কখন সেটাও ও টের পায়নি! কাপা কাপা কন্ঠে বললো,"থ্যান্ক ইুউ। এতো দেরী করলে কেন?"
- এই দেখ, আসতে না আসতেই শাসন! আরে গুলশানে ফুলের দোকান খুজতে খুজতে মাথা খারাপ তার ওপর আজকে শনিবার!
- অফিস কেমন হলো?
- তার আগে এটা বলো ভাইয়া কি ফোন করেছে?
- না করেনি। মোবাইল বন্ধ। তুমি জানো ও কোথায় আছে?
- জানি। ভালো আছে। সোমবার অফিসে যাবে, অফিস করে বাসায় ফিরবে। চিন্তা করতে মানা করছে তোমাদের।
- কিন্তু তুমি কিভাবে জানলে?
- কালকে মতিঝিলে ওদের অফিসের সার্ভার ডাউন ছিলো। সার্ভিসের পর আজকে ওদের অফিসে ফোন দেই। তখন জানায় ওদের অফিসের অনেকেরই এরকম ধরা খাওয়া অবস্হা! তবে ভেবো না, ওরা সবাই ভালো আছে। শুধু চেষ্টা করছে এই ধরাটা কিভাবে সামলানো যায়!
ফারজানা মাথাটা নীচু করে বসে আছে। শাহেদ একটু হাসি দিয়ে বললো,"আরে তোমার চিন্তা কি? তোমার ভাই তোমার জন্য সুন্দর পাত্র দেখেছে। দেখবে একটু ভালো অবস্হা হলেই তোমার বিয়ে ধুম ধাম করে। আমাকে দাওয়াত দিবে তো!"
ফারজানা যখন শাহেদের দিকে মাথাটা উচু করে তাকায় তখন শাহেদ দেখে ফারজানার চোখ টলমল করছে। শাহেদের এই দৃশ্য অনেকবার দেখা হয়েছে, কিন্তু যতবারই দেখেছে ওর মনে হয়েছে ওর পৃথিবীটা উলটে যাচ্ছে, ও ঠেকাতে পারছে না!

শাহেদ সাথে সাথে মুখটা ঘুরিয়ে জানালায় তাকালো, বললো,"আজকে বষ্টি হলো না, তাই তুমি অশ্রু লুকালে আমার কাছে?"
ফারজানা ওর মুখটা হাত দিয়ে ঘুরিয়ে নিজের মুখোমুখি এনে বললো,"তোমাকে আজ একটা কথা বলবো! শুনবে?"

শাহেদ একটা মুচকি হেসে টিসু হাতে এগিয়ে দিয়ে বললো," আগে চোখ মুছো। কিছু খাই আগে। তারপর শুনবো তোমার কথা। তোমার কথা শুনবো না এটা কি কোনো কথা হলো? তোমাকে পাওয়ার জন্য একসময় পাগল ছিলাম। এখনও পাগল, পাবো না জানি, তবু পাগল! কি খাবে?"
- সব সময় কেন এই ভাঙ্গা রেকর্ড বাজাও?
- সমস্যাটা এখানেই প্রিন্সেস, আমি গরীব মানুষ, তাই রেকর্স অল টাইম ভাঙ্গা!

খাবারের অর্ডার দিয়ে শাহেদ চেয়ারে বসতে বসতে বললো,"তোমাকে যেজন্য ডেকেছিলাম, একটা গুড নিউজ পেয়েছি। সেটা সেলিব্রেট করবো! বাসায় সেলিব্রেট করা যেতো। কিন্তু বাবা শুনে যেরকম রিএক্ট করলো মনে হলো তার বাসায় কে যেনো এটম বোম ফুটিয়েছে! গতপরশু আমাকে চিঠি পাঠিয়েছে আমেরিকা এম্বাসী থেকে, ভিসা পেয়েগেছি। আগামী বুধবার ফ্লাইট। তোমাকে বলিনি ভাবলাম একটা সারপ্রাইজ দেবো।"

ফারজানা শুনে হঠাৎ বিদ্যূৎ চমকে গেলো ওর মাথায়। হাসিটা এসে হঠাৎ করে চলে গেলো,"তুমি চলে যাচ্ছো তাহলে?"
- কি করবো বলো? তুমি ছাড়া সব যেনো কেমন? কত করে বললাম, হয়তো আমার মধ্যেই যোগ্যতার অভাব। চাকরী করি ছোট, যা পাই তা দিয়ে নিজে চলতে পারি না। তাই চুরি করি অফিসে। তাই ভাবলাম সব ছেড়ে দেই। কিন্তু এত দ্রূত ছাড়বো সেটাও জানতাম না! তোমাকে আর জ্বালাচ্ছি না। হয়তো পথা চলাটা আমার একাই হবে!

ফারজানা হাতে টিস্যুটা রেখে ব্যাগটা কাধে নিয়ে হুট করে উঠে বললো শান্ত স্বরে বললো,"তুমি কিছু জানো না, জানলে না!" এই বলে রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে আসলো!


শাহেদ হা করে চেয়ে রইলো। কি হলো এটা: এটা বুঝতে ওর টাইম লাগছে! এমন সময় ওয়েটার এসে খাবার টেবিলে সাজাচ্ছে! শাহেদ মুখের 'হা' টা বন্ধ করে, খাবার সব প্যাক করো, আর বিল কত হইছে বলো, আমি একটু পর এসে এগুলো নিয়ে যাবো। এই বলে ১০০০ টাকার একটা বের করে ওর হাতে দিয়ে প্রায় দৌড়াতে দৌড়াতে দরজার কাছে গিয়ে ওয়েটারকে চেচিয়ে বললো,"ভাংতি টাকা কিন্তু আমি এসে নিয়ে যাবো!"

এই বলে শাহেদও বের হয়ে গেলো!

৩.

আজকে আকাশে অনেক তারা। কিন্ত চাদ নেই। ফকফকা আকাশ যাকে বলে, আছে বাতাসও। ফারজানা বারান্দায় বসে, চোখের জল ফোটায় ফোটায় পড়ছে। কিছুক্ষন আগে ভাইটা বাসায় এসেছে। অনেকক্ষন ধরে দুই ভাইবোন একসাথে কাদলো দরজা বন্ধ করে। একজন শেয়ার বাজারে নিঃস্ব, আরেকজন সময় হারিয়ে নিঃস্ব!

ও ভাবছে শাহেদই একমাত্র ব্যাতিক্রম, যাকে ও পেতে চেয়েছিলো। যে ছিলো ওর জন্য একটু বেশী যোগ্য। হয়তোবা একজন মানুষ ওর জন্য এতকিছু করবে, তাকে আরও উপরে উঠতে দেয়াই উচিত! হয়তো নিজের ভালোবাসাটা ওর ভালোবাসার কাছে খুবই তুচ্ছ! আজকে এই প্রথম একটা ছেলে ওকে চড় মারলো, বললো "তুমি বেশী বুঝো", কাদতে কাদতে চিৎকার করলো,"জীবনটা নষ্ট করার অধিকার তোমার নেই!"

ও চুপচাপ চলে আসলো!

হয়তো ভুল করলো, তাও ভালো হয়তো শাহেদ একদিন নিজের মতো কাউকে বেছে নিবে!




ঠ্যং লিখাঃ আজকা ৪ই জুন! যাগো আজকা জন্মদিন তাগো সবাইরে জন্মদিনের শুভেচ্ছা! এখন থিকা নয়া স্টাইল যেদিন পোস্টামু সেইদিন যারা পয়দা হইবো তাগো জন্মদিনের মাগনা শুভেচ্ছা। আর প্রথম পার্ট সায়েন্স ফিকশন মারছিলাম দ্বিতীয় পার্ট হুগনা লাইফ মারলাম কেউ বাস্তবের লগে মিল খুজলে খবর আছে কইলাম, কারন বাস্তবে শাহেদ ফারু নামের কেউ নাই!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29391482 http://www.somewhereinblog.net/blog/fadeddreamsblog/29391482 2011-06-04 23:00:48