এই জীবনের কথা শুধু আমি আর এই ব্লগের ভার্চুয়াল কটা জীবন জানে।
জানে না আমার বউ। কারণ, তার মতে এর কোনো মানে হয় না। সে মনে করে, আমি শুধু অন্যের লেখা তাদের না জানিয়ে পড়ি, আর এটা খুবই বাজে একটা কাজ। সে মনে করে, এইখানে আমার কোনো আইডি নেই, নিক নেই, আমি খালি অন্যের লেখা চুরি করে পড়ি।
কারণ, হয়তো সেও।
আমার যে এখানে একটা রীতিমত ঘর আছে, নাম আছে,সংসার আছে, তা তার অজানা।
আমি এ নিয়ে ভাবি না। একদিন সবই তার কাছে প্রকাশ পায়, প্রকাশ পেতে হয়। সোনালী পাতার ধোঁয়া, অনিয়মিত পত্রিকার পাতায় কবিতা আর নাটকের স্ক্রীপ্টের পাতার সাথে আমার গোপন জড়াজড়ি যখন তার কাছে আজীবন গোপন থাকে না, তখন ব্লগের পাতাও একদিন নগ্ন হয়ে যাবে তার কাছে- এটা ধরেই আমার এই ব্লগের সিকিওরিটি সিস্টেম আবর্তিত হয়।
জানে না আমার প্রতিবেশী। আমি শুধু মাঝে মাঝে তাদেরকে দারুন কিছু গরম গরম, নতুন নতুন খবর সবার আগে পরিবেশন করি আর তাদেরকে একধরনের ইনফেরিওরিটি কমপ্লক্সে ভুগতে দেখে দাঁত কেলিয়ে হাসি।
জানে না আমার বস, ইউনিভার্সিটি দাপানো জাঁদরেল প্রফেসর। কিন্তু আমি কখনো তার মেইল রিপ্লাই করতে দেরী করি না, শুধু গ্রুপ মিটিংএ নখ চিবাই, হোসেইনের চেহারাটা মনে পড়লে ফিচ করে হেসে ফেলি।
জানে না আলভী, কারন সে আমার 'বন্ধু ভাবনা-১' কবিতাটা এখনো পড়েনি।
দিন যায়, আমি এখানে আসি, জেগে উঠি, বাস করি, তারপর বাস্তব জগতে ঘুমাই। নিদারুণ আগ্রহে প্রহর গুনি, কখন ঘুম ভাঙ্গবে সে আশায়
ঘরকুনো হই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

