somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... বৃষ্টি ভেজা দিনরাত্রি এখানে সারাবছরই ঝরঝরঝর বৃষ্টি। অন্য সময় তবু মানা যায়। দিনের ফাঁকে ফাঁকে চিলতে চিলতে তেরছা রোদ হানা দেয় ঘরের দেয়ালে, বাস স্টপে কিংবা বিকালের মাঠে। হিউমিড রোদ। তবু মানা যায়।
অথচ গত কয়েকদিন কেবল যখন তখন মেজাজ চুপসে দেয়া বৃষ্টি, ভেজা কাপড়ের গন্ধ, মৃত আলোর মত প্রতিটা দিন, গাড়িতে ক্লান্ত ওয়াইপার, ড্যাম্প হয়ে যাওয়া রিসার্চ- আর কিছু নেই। ডিসেম্বর-জানুয়ারি এলে তাই আমার ভেতর বাহির স্যাতসেতে হয়ে থাকে প্রতিবার।

ঝরা পাতার চেয়েও ম্লান ইপত্রিকার পাতায় চোখ রাখলে বোঝা যায়- বাংলাদেশে শীত এসে গেছে। ছবিতে সোয়েটার পড়া সদ্য মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, চাদর পড়া রমণী, সাজসজ্জার পাতায় পাতায় জ্যাকেট, পুলওভার পরিহিত মত্.স চোখা তরুণ। দেশে এসেছে প্রিয় শীত।
ফেইসবুকে এমেরিকানাডা প্রবাসী বন্ধুদের প্রথম তুষারকেলি দেখে দেখে আসিয়ান জলফোটাকে ভালোবাসতে চাই। আর চাই নাদেখার বিরহ।
তবু থামেনা এই থুত্থুরে বৃষ্টি।

২.
ছুটির আমেজ ছড়িয়ে ছিটিয়ে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সপ্তাহগুলো ফুরিয়েছে, কমেছে আউটলুকে মেইলের চাপ। বছর শেষের হিসেব, ছুটিতে যাবার বেলায় নতুন বছরের অগ্রিম গ্রিটিংস, এখানে ওখানে ক্রিসমাস ট্রি, পত্রিকায় বড়দিনের মূল্যহ্রাস আর পরিচিতজনদের শীতের পাখির মত দেশের দিকে উড়াল দেবার ব্যস্ততা দেখে দেখে ভাবি-
কোথাও যাওয়া যাক।

মালয়েশিয়া?-- তাহলে তো দেশেই যাওয়া যেত।
সেন্তোসা?--হালি দুয়েকবারের ভ্রমণে বোরিং।
উইকএন্ডে বার্ড পার্ক কিংবা কুসু আইল্যান্ড ?-- ঝুম বৃষ্টি।

বৃষ্টি এবং বৃষ্টি!
ক্লান্তিহীন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28751269 http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28751269 2007-12-13 10:21:20
কম্পিউটারের স্ক্রীণশটের ভিডিও নেয়ার জন্য কোন সফটওয়্যার আছে কি?
ধরুন, আমি এই লেখাটা টাইপ করছি পাঁচ মিনিটে, এই পাঁচ মিনিটের কম্পিউটার স্ক্রীণের রিয়েল টাইম ভিডিও আমি চাই।
অথবা, ধরুন, আমি কম্পিউটারে কোনো একটা ডেমনস্ট্রেশন দিচ্ছি, আমি আমার এই ডেমনস্ট্রেশনের একটা ভিডিও কাউকে পাঠাতে চাই। এই ভিডিও ডেমনস্ট্রেশনে আমি কম্পিউটারে কি কি করছি তা দেখা যাবে।
উদাহরণ হিসেবে এই ভিডিওটা দেখতে পারেন-নমুনা

এমন কোনো সফটওয়ার কি আছে যেটা দিয়ে আমি রিয়েল টাইম ভিডিওটা করতে পারি (অডিও সহ)?

সেরকম সফটওয়ারের খোঁজ যদি কারো কাছে থাকে, দয়া করে আমাকে লিংকটা দেবেন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28749434 http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28749434 2007-12-04 23:24:17
এই অগ্রহায়ণে ভালোবাসার নরম রুটির গায়ে সন্দেহের ছত্রাক
প্রতিস্থাপনযোগ্য কোনো কিছুরই কোনো উপমা নেই তবু
সে জড়ায়ে থাক বিমূঢ়তার জালে যখন বেধেছে সংসার।

উপযোগী টেবিলের উপর তাই গুটিকয়েক মরা কালো ভুল
আর এই অগ্রহায়ণে কিছু ছড়ানো ছিটানো চুল খেলা করে,
মনের দাগ যেন শুকনো গোবর
চারিদিকে পক্স, পোলিও, আর শহরে নতুন পাগলা কুকুর।

যে কোনো আয়নার মত পলকহীন চোখে দেখা শহরের
শেষ বাস মাতাল কেরাণির ন্যায় নিঃস্ব হয়ে ফিরে এলে
কিংবা যখন পাশের ঘরে অচেনা রমণীর আঁচলঘেষা খুচরো হাওয়া
উড়ন্ত চড়কের হুংকার হয়ে খেলা করে

মনে পড়ে এই অগ্রহায়ণে আমার
কোথাও যাবার কথা ছিল।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28747635 http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28747635 2007-11-26 11:49:03
সিডর দুর্গতদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন ২২ লাখ মানুষকে টানা তিন মাস খাবার দিতে হবে। তাদেরকে প্রিয়জন হারানোর বেদনা ভুলে আবার জীবন শুরু করার প্রেরণা যোগাতে হবে, জীবন সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়ার সুযোগ করে দিতে হবে। আপনি নিশ্চই পত্রিকায় সর্বস্ব হারানো ক্ষুধার্ত শিশুর নিষ্পাপ মুখটি দেখেছেন, দেখেছেন ত্রাণের জন্য অপেক্ষারত অসহায় বৃদ্ধার আকুতি, বউ-সন্তান-পরিবার হারা দুর্ভাগা মানুষের মিছিল, শুনেছেন মাটির সাথে মিশে যাওয়া বসতবাটির মাঝে দাড়িয়ে ক্রন্দনরতা নারীর হাহাকার। এই মুহুর্তে বাসস্থান লাগবে ১৪ লাখ লোকের। কোত্থেকে আসবে খাবার? কে দেবে টাকা?
বাংলার মানুষ হতোদ্যম নয়। নুনিয়াছটার কালু মাঝি এই সিডরের সাথেই ৩৬ ঘন্টা লড়ে বঙ্গোপসাগরের ৩০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ১৬ জন জেলের জীবন বাঁচিয়েছে। বাংলার মানুষ লড়তে জানে। তাই চরদুয়ানির নূরজাহানের হাত ছিটকে দুই শিশু বানের পানিতে ভেসে গেলেও শোক ভুলে আবার সে জীবন সংগ্রামে নামবে যদি আমরা সাহায্যের হাত বাড়াই,আশার চরের জেলেরা আবার জাল নিয়ে গভীর সাগরের লাল পানিতে ইলিশের ঝাঁক ধরতে যাবে যদি আমরা তাদের জালটা কিনে দিতে পারি, পদ্মা গ্রামের কোনো মাকে আর ক্ষুধার্ত মেয়েকে সান্ত্বনা দিতে মিছেমিছি রান্নার অভিনয় করতে হবে না যদি আমরা আগামী কয়েকটা দিন তাদের খাবারটা মুখে তুলে দিতে পারি।
আপনি যখন জীবনের ব্যস্ততায় মুখর, তখন হয়তো ত্রাণের আশায় বসে আছে বিস্তীর্ণ উপকূলের হাজারো অনাহারি মানুষ। আপনার একটু আর্থিক সাহায্য কত মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলতে পারে তা কি আপনি জানেন?
*
সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত সকল বাংলাদেশীদের জন্য একটি সমন্বিত ত্রাণ তহবিল গঠন করা হয়েছে, যা তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধানের তহবিলে প্রেরণ করা হবে। সকল ধরনের বাংলাদেশী সংগঠন ছাড়াও ওভারসীজ চেপ্টার অব ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ, সিঙ্গাপুর (OCIEBS)য়ের সদস্য, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুর (NUS) এবং নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির (NTU) বাংলাদেশী ছাত্র ও শিক্ষকরাও এতে সক্রিয় অংশগ্রহন করছেন। আপনি যদি সিঙ্গাপুর থেকে আপনার সাহায্য পাঠাতে চান, তাহলে এই তহবিলের মাধ্যমে তা করতে পারেন। ছবিতে এই তহবিল সংক্রান্ত আপিলটি সংযুক্ত করা হলো।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28747241 http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28747241 2007-11-24 12:24:31
ঘুমাবার আগে অটোবায়োগ্রাফি হলুদ সাপের চোখে দেখি টিয়ার ঝাঁক
ভারি পর্দার চামড়ার মত খসখসে প্রতিভা নিয়ে
পুটুলি বাঁধা কালিজিরার গন্ধভরা চাপাচাপি সমঝোতার সুখে
খুঁজে বেড়াই আরোগ্যের মধুর অলসতা -
বহুদূরের টিমটিমে আলোয় আরো দেখি জানালার কাঁচে
খসে পড়া শিশিরের শবদেহ ছেড়ে বৈরাগ্যের চলে যাওয়া
ঘুমন্ত প্রেমিকার পাশে হাতির দাঁত হয়ে সার বেধে থাকা
চুলের কাটায় দেখি বয়সের ছাপ
হয়তো কখনো আয়নার বুক বেয়ে তার লাল টিপ
খসে যাওয়া দেখে
কিয়দক্ষণের গাম্ভীর্য ভুলে আমি বসে থাকি
ধার করে কোনো এক ফুলদানির
স্থির অবসর; এখন সময় হয়ে গেছে বিছানা
কত আর নেশাতুর হয়ে জেগে থাকবে পৃথিবী ?

কেন্দ্রাতিগ মন
ভাজ করা চাদরে এখনও ওখানে সেই একই ডোরাকাটা ভূত
বসে ঝিমোয়।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28746896 http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28746896 2007-11-22 12:04:48
চাই শুধু তোমাকে প্রার্থনায় আমি
চাই শুধু তোমাকে প্রার্থনায়
চাই শুধু তোমাকে
আমি।

শুনবেন?

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28741988 http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28741988 2007-11-02 12:27:09
বিফোর সানসেট নয় বছর আগে একসাথে কিছুটা সময় কাটানোর স্মৃতি বুকে আগলে রেখে দুজন মানুষ বেঁচেছিলো। কোনো ঠিকানা বা ফোন নাম্বার- কিছু বদল ছাড়াই। শুধু ভিয়েনায় একবার দেখা হবার কথা ছিলো। দেখা হয়নি। বয়ে চলা জীবনের কোনো কোনো বাঁকে হয়তো কখনো তারা বাস করেছে একে অপরের খুব কাছে, তবু দেখা হয় নি। অহর্নিশ দুজন চেয়েছে দেখা হোক, হয় নি। যাপিত জীবনের মুহুর্তগুলো তারা পার করেছে আবার হয়তো দেখা হবে এই আশা নিয়ে। আমেরিকান ছেলেটি ফরাসী সেই মেয়েটির সাথে কাটানো এক রাতের স্মৃতি নিয়ে বই লিখেছে, হয়তো মেয়েটি পড়বে এই আশায়।

নয় বছর পর, সেই বইয়ের সূত্র ধরেই আবার দেখা হয় দুজনের, প্যারিসে। কিন্তু ব্যস্ত লেখক ছেলেটির এয়ারপোর্টে যাবার আগে তখন হাতে সময় বলতে একটা বিকালেরও কম, কয়েকটা মিনিট।
সিনেমার শুরুটা তখনি। প্যারিসের রাস্তায় হাটতে হাটতে ক্যাফেতে চা-সিগারেট সহযোগে, নৌবিহারে ঘুরতে ঘুরতে স্মৃতির রোমন্থন, পারস্পরিক জীবনের খবরাখবর, আরো কত কিছু!
দুজন মানুষ কেবল বকবক করতে করতে একটা সিনেমা টেনে নিয়ে যায়, দর্শককে কথায়, গল্পে আটকে রাখে, মোহিত করে তার অনুভুতিকে। দু'জন কেবল গল্প করে আর ক্যামেরা কেবল পিছায়, লং শটের ফ্রেমে ক্রমশ জমতে থাকে কিছু প্রশ্ন আর তার উত্তর। কি হতো যদি তাদের দেখা হতো ভিয়েনা'য়, কি হতো যদি তাদের দেখা হতো আরো আগেই!
কিন্তু তাদের আলাপচারিতা কেবল 'যদি' আর ফেলে আসা পানসে 'অতীত' আর নয় বছর আগে কাটানো সেই 'মোহময় রাতে'র গল্পেই সীমাবদ্ধ থাকে না। অদ্ভুত এক প্রাণ নিয়ে এগোয়। কাম, ভালোবাসা,স্বপ্ন, বাস্তবতা, হাহাকার- সব, সব যেন আগ্নেয়গিরির উদগীরনের মত প্রকাশিত হয়ে যায়।
মিনিটগুলো যতই ফুরিয়ে আসে, ছেলেটা ততই ব্যগ্র হয় আরেকটু মুহুর্ত একসাথে কাটানোর টানে। খুব সূক্ষ্ম দাগে এই প্রশ্নটা সামনে আসে, যা গেছে তা কি একেবারেই গেছে?
ছেলেটা শুধু আর কিছুটা সময় মেয়েটার সাথে কাটানোর বাহানা খোঁজে।
*
ইউটিউবের যে ভিডিও লিংকটা দিলাম, সেটা ম্যুভির শেষ অংশ। মজা শেষ হয়ে যাবে ভেবে ভিডিওটা দেখতে ভয় পাবেন না। পরিচালক সাহেব নিনা সিমোনে'র 'Just in time, You meet mejust in time' গানটা কেন শোনান আমাদের?

ছবিটায় শুধু কথা, কথা আর কথা। তবে একবারের জন্যও মনে হয় না, বোরিং। একটা সাসপেন্স শেষাবধি থাকে।
বিফোর সানসেট একটা সিক্যুয়েল। প্রথম পর্বটি ছিল 'বিফোর সানরাইজ'। নয় বছর আগের সেই ঘটনাই আপনি পাবেন বিফোর সানরাইজে। তবে সূর্যাস্ত্য দেখতে হলে যে আপনাকে সূর্যোদয়ের আগের কাহিনীও দেখতে হবে এমন কোনো কথা নেই।'বিফোর সানসেট' একটি পূর্ণাঙ্গ ভালোবাসার ছবি। সব মিলিয়েই।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28736293 http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28736293 2007-10-08 19:38:45
আকাশের পর আকাশ সেই খাটের উপর দুই ফ্ল্যাট বডি ভালোবাসা বেঁচে
নাক ডাকিয়ে ঘুমোয়-
আর আমরা ব্যাঙপরিবার কিয়ামতের শিংগায়
ফুঁ পড়ল ভেবে এক লাফে দুনিয়া পেরিয়ে
আরেকটা আকাশ খুঁজি;
টেবিলের তলায়।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28735717 http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28735717 2007-10-06 00:30:55
উদ্দেশ্যহীন যন্তর
আপনাকে এই প্রশ্নটা কখনো কেউ করে নাই। আপনি বজ্রাহতের মত কেবল বসে থাকেন, নড়েন না। সিস্টেম আপনাকে সেটা শেখায় নাই। যা শিখিয়েছে তা হলো কিভাবে সফল (এটার মানেটা কি?) ইঞ্জিনিয়ার বা ডাক্তার হওয়া যায়। শিখিয়েছে কিভাবে এই প্রতিযোগিতার বিশ্ব জিততে হয়, টাকা কামাতে হয় আর শিখিয়েছে কিভাব কাজ হাসিল করতে হয়। আরো শিখিয়েছে- যতটা সম্ভব ইন্দ্রিয়ের ভোগ। কিন্তু জীবনের যে উদ্দেশ্য . . . পারতপক্ষে, আমাদের শিক্ষকরাও কখনো এই অস্পৃশ্য ব্যাপারটা তোলে না, যেন অর্থহীন, অস্তিত্বহীন একটা বিষয়। আমরা বৈজ্ঞানিক, প্রকৌশলী - দার্শনিক তো আর না।
আমাদের শিক্ষার কী সংকীর্ণ অবস্থা!
যেমন, চিকিতসাশাস্ত্রই ধরুন- তলপেটে গোলমাল তো দশটা ডাক্তারের কাছে যান। তাদের প্রত্যেকেই রক্ত পরীক্ষা আর এক্সরের বন্যা বইয়ে দেবে, যতক্ষণ না ঘোষণা দেয় যে সমস্যাটা তাদের বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের বাইরে। ততদিনে আপনি ডজন বা তারো বেশিবার তাদের কাছে যেতেই থাকেন আর তাদের পরিবারকে খুশি রাখেন (ভিজিট আপনাকে দিতেই হবে। সমস্যা ধরা পড়ুক, না পড়ুক!)

আমরা হাসি। কিন্তু জীবনের উদ্দেশ্য কি- এই প্রশ্নের উত্তর আর দেয়া হয় না, যত বিদ্যাই আপনার থাকুক না কেন। এটা থাকে কেবল কল্পনায়, যদি আদৌ তেমন কিছু আপনি কল্পনা করেন কখনো।
অতএব স্মৃতি নিংড়ানো।

কেউ কেউ হয়ত কিছু আভাস স্কুলে ফেলে এসেছেন। কোন্ গ্রুপ নেবেন, বিজ্ঞান না মানবিক? গণতন্ত্র:জনগণের জন্য, জনগণ নিয়ে, এবং জনগণেরই । পৃথিবীর সুউচ্চ পর্বত আর মহাসমুদ্র। ক্লোরিন গ্যাস কিভাবে তৈরী করে? মানুষ সামাজিক জীব। ওয়ার্ডসওয়ার্থের কবিতা। কোন খেলা- ক্রিকেট না ফুটবল? বিজ্ঞানমেলায় প্রথম পুরস্কার জিতলেন। মেয়েদের কিভাবে পটাতে হয়? এই ছুটিতে শিমলা ! ডাক্তারী না হয় ইঞ্জিনিয়ারিং- একটাতে হতেই হবে; সেরা চাকরী তো কেবল এখানেই।
নাহ! এগুলোতে জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে সারবস্তু কিছু মেলা দায়।

আপনি স্মরণে আনেন নীতিকথা আর ছেলেবেলায় কিন্ডারগার্টেনে শেখা ছড়া। আন্দ্রোক্লিস আর সিংহ? যে শেয়ালটা বনের রাজা হলো! Mary had a little lamb. ব্যা !ব্যা ! ব্ল্যাক শিপ! আরো অন্যান্য। ভালোরাই ওইসব গল্পে বিজয়ী বীর। কিন্তু সেখানেও আপনি আসলে জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে পান না।
এ একাধারে ভয়ংকর আর হতাশার। অবশেষে এই সহজ সাধারণ বাস্তব প্রশ্নের জবাবের জন্য আপনাকে দারস্থ হতে হয় অকাল্পনিক কল্পনার ফানুসের কাছে।

কোনো কোনো দার্শনিক হয়ত যুক্তি দেখাবেন যে প্রত্যেক মানুষকে তার নিজ নিজ লক্ষ্য নির্ধারণ এবং বাস্তবায়নে তার নিজের ইচ্ছার উপরই ছেড়ে দেয়া উচিত। এখন, কোনো ব্যক্তির স্বেচ্ছাউতসারিত নির্ধারিত লক্ষ্য আর জীবনের আসল উদ্দেশ্যের মধ্যে অবশ্যম্ভাবী একটা পার্থক্য আছে। এই মুহুর্তে সেই জলজ্যান্ত পার্থক্যটা ভুলে থাকা যাক। এবং আসুন দেখি, এই সমাজের যান্ত্রিকতা আপনাকে কতটুকু স্বাধীনতা দেয়, যদি নিজের লক্ষ্য নিজেই নির্ধারন করতে যান। দোলনা থেকে কবর, আপনার লক্ষ্য বাছাই কমবেশি নির্ধারিত হয় সমাজের সাথে আপনার অনিবার্য মিথস্ক্রিয়ায়।
আপনি একদম দুধের শিশু হলে কী খাবেন- সে পছন্দ (choice) কি আপনার থাকে? মার কাছে যেটা ভালো, সে তাই খাওয়ায়- মাঝে মাঝে নির্দয়ভাবেও, বিশেষ করে যখন কোনো খাবার আপনার একদমই ভাল লাগে না, যতই আপনি উগরে দিতে চান বা চিল্লান না কেন। মা কেবল মিষ্টি শব্দ করে, ওলেলেলে, মুখে, কখনো বা লাঠি দিয়ে।
শিগগিরই আপনি প্রতিবাদ মুখর হন যদি সেই খাবারটা না দেয়া হয়, যা খেলে একসময় আপনি অহরহ বমি করতেন।

আপনার কোন স্কুলে যাওয়া উচিত? তারা কি আপনার মত নেয় এ ব্যাপারে? সাধারণত, আপনি সেই স্কুলেই যান, যেখানে আপনার বাবা-মার সামর্থ্য আছে পাঠানোর। যদি সামর্থ্যে কুলোয়,তারা আপনাকে সেই স্কুলে পাঠায় যেটা তারা আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো বলে মনে করেন। আর সামান্য যেটুকু আপনার জ্ঞান- তার সিংহভাগই আপনি পান সেখানেই। কিভাবে বুঝবেন যে সেটা সত্য না মিথ্যা?এটা কোনো বিষয় না, যতক্ষণ পর্যন্ত প্রায় সবাই আপনার কথায় সায় দিচ্ছে।
আপনি কী ঠিক করেন আপনার থাকার জায়গা? কোন ভাষায় কথা বলবেন? কোন পোষাকটা পরবেন? একটা টাই শুধু কোমড়ে জড়ান। আর দেখতে হবে না। ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ারই কেন হতে হবে শুধু?আনকোরা নতুন একটা পেশা কেন নয়?
লিস্টে কুলোবে না।

নাহ! যে পরিস্থিতিতে জন্মেছেন, আপনি কেবল তার গড়া মাটির পুতুল। হয় খাপ খাইতে শেখো, নয়তো . . . আপনি খাপ খাইতে শিখেছেন। That's all. কিছুসময়ের জন্য হয়তো ফালাফালি করেন, কিন্তু কতক্ষণ?

সাদা কথা হলো, জন্ম হবার পর থেকে আপনার ব্রেইন ওয়াশ হয়ে আছে, জীবনে সম্পর্কে এক গতানুগতিক ধারণা নিয়ে আছেন আপনি। স্কুলে যাও। ডিগ্রি নাও। একটা চাকরি গছাও। বিয়ে কর। স্থিতু হও। বাচ্চা পয়দা কর। এবং এইভাবে একদিন মরে যাও।

জীবন হয়ে যায় উদ্দেশ্যহীন একটা যন্ত্র

----------------------------------------
(লেখাটা বিজ্ঞানবিষয়ক পাক্ষিক নিউজলেটার Science and Nescience এর Purposeless Machine নামের একটি লেখার অনুবাদ। মূল লেখাটা ছাপা হয়েছিল ১৯৯৪ এর ১লা সেপ্টেম্বর সংখ্যায়। মূল ইংরেজিটা দারুণ রসঘন। অনুবাদের আড়ালে হনুবাদ হবার তীব্র আশংকা নিয়েও লেখাটি পোস্ট করলাম, কেবল বিষয়টা ইন্টারেস্টিং বলেই )
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28735190 http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28735190 2007-10-03 01:18:55
কিছু শব্দগত ব্যাপার স্যাপার এটা একটা জটিল শব্দ। বলা যায় বাংলা ভাষায় যত ইংরেজী শব্দ আছে তাদের মধ্যে রাজস্থানীয় শব্দ হলো- প্লান্টিক। মানে হলো কোনো খেলা নির্ধারিত সময়েও যদি অমিমাংসিতভাবে শেষ হয় তাহলে এক ধরনের জুয়ার ব্যবস্থা করা যাতে যেনতেন করে জয়পরাজয়টা নির্ধারণ করা যায়।
উদাহরণ: ফুটবলে শুট আউট কিংবা ক্রিকেটে সদ্য চালু হওয়া হিট দ্য স্টাম্প।
বাজে লোকেরা একে অনেকসময় পেনাল্টি বা প্লান্টি নামে অভিহিত করে থাকে।

শব্দ ২. হ্যাম বল
যখন পা দিয়ে ফুটবল খেলতে গিয়ে ফাজিল ইচড়েপাকা নচ্ছার আর বদের হাড্ডি কোনো বালক হাত দিয়ে পদগোলকটা ছুয়ে দেয় তখন তাকে আমরা বলি হ্যাম বল হয়েছে। মানে বলটা থামাও এবং বিনামুল্য লাথি বা ফ্রি কিক নাও।
ব্যাপারটা একদম যেহেতু সহজ যেহেতু সেটা (as simple as that)।

শব্দ ৩. শট খাওয়া
বাসা বাড়িতে বিদ্যুত বা বিজলী বাতির ব্যবস্থা থাকলে আর মাঝে মাঝে পেটে গুড়াকৃমি থাকলে আপনিও কখনও কখনও কোনো উন্মুক্ত বিদ্যুত চলাচলের রাস্তায় হাত দিয়ে শট খেয়ে ফেলতে পারেন। শট হচ্ছে এক ধরনের তাত্ক্ষণিক ঝাকুনিজনিত বডি ম্যাসেজ যা খেতে খুবই সুস্বাদু।

শব্দ ৪. হোয়াইট বল
এর মানে শাদা বল নয়, বরং ক্রিকেট খেলায় এর মানে হলো একটি অতিরিক্ত রান প্রতিপক্ষের খাতায় যোগ করা ও একটি অতিরিক্ত বল নিক্ষেপ করা।
যাদের উচ্চারণে সমস্যা আছে বা যারা একধরনের স্পেশাল একসেন্ট বা টান ছাড়া কথাই বলতে পারেন না, তারা একে হোয়াইট না বলে ওয়াইড বলেন।

শব্দ ৫. ড্রাইব দেয়া
মানে হচ্ছে আপনি ড্রাইব দিয়ে পানিতে পড়লেন বা ক্যাচটা ধরলেন। একেই বলে ড্রাইব দেয়া। কিন্তু ওই উচ্চারনে সমস্যা হলে যা হয়, ড্রাইবরে বলে ডাইব।
(বাংগালী কবে যে স্মার্ট হমু!)

এখন সবাই বুকে হাত দিয়ে বলেন, আপনি আর কয়টা এইধরনের স্পেশাল শব্দ জানেন এবং ব্যবহারিক জীবনে ব্যবহার করেন।

পরিশিষ্ট:
যাত্রী: এই রিকশা যাবে? হ্যালো, এই যে রিকশাওয়ালা ভাই, আপনি ভাড়া যাবেন প্লিজ।
রিকশাওয়ালা: কই যাইবেন?
যাত্রী: পানির ট্যাংকির ওম্বুরা ।

(ওম্বুরা মানে অপর পাশে)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28731371 http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28731371 2007-09-15 16:45:46
তৃতীয় নয়নে দেখা, কপালে আগুনের চাষবাস আমরা তখন ঢাকা কলেজের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নাইমের রাস্তায় চুরি করা ফুলের টব নিয়ে রাত বিরাতে দৌড়াই। কখনও কখনও স্বাদ জাগে মনে শ্যামলের কাঁধে হাত রেখে মাহতাবকে নিয়ে ধবলা চাঁদনী ফোম খাই, ফার্মগেট টু নিউমার্কেট দুই টাকা টেম্পুর সামনের ডাইনের সীটে বসে বিড়ি ফুঁকি পান্থপথের জ্যামে।

একদিন হলে ফিরতে দেখি পান্থ পাড়ে অহংকার চাঁপা ফুল এক নুয্যমান ভারে । তখনও কেবল দুই আঁখি ফনী মনসার ঝোঁপে তাল খুঁজে বেড়ায়। আমার রুমমেট বায়েজীদের ঝাকড়া চুলে পাগলামীর হাওয়া দোল খায়। বলি, হ্যান্ডস আপ! চাঁপা তুমি শাঁখারি ব্লগের ৩১৭ নম্বর সেলে কয়েদি হয়ে থাকো যাবত্জীবন।

তখনও হয়নি কাল, খুলেনি আঁখি, যাযাবর হাল যত ছুঁড়ে ফেলে যমুনার বুকে। ঘরে ফিরতেই সুবোধ ললাট ছেড়ে ফালি ফালি ঘাম কেবল পড়েছে টইটই ভ্রমনের ঘাড়ে।

একদিন, আমাদের তখন পড়ার বেলায় তিন বালক মুখ গুজে উঁইপোকা হয়ে বই কাঁটি- হিট, মাস, মোমেন্টাম চালাচালি করি চোথা থেকে চোথায়। হঠাত রাস্তায় এক চাঁপা ফুল হাতে দুষ্ট বালকের গান আমাদের চোখ খুলে দেয়। কিংবা নতুন আরেক চোখ তৃতীয় নয়ন- তোমরা যাকে বল সিক্সথ সেন্স অবলিক থার্ড আই- টুপ করে কপালে বসে যায় আগুনের গোলায় ঝলসে যওয়া পিউপিলে।

চাঁপাকে তাই দূর থেকে রাইফেল কাঁধে বলে উঠি, হল্ট!
***

(সম্প্রতি আবিষ্কৃত হয়েছে যে আক্ষরিক অর্থেই কারো কারো ক্ষেত্রে তৃতীয় নয়নের সৃষ্টি করা সম্ভব। ভিটামিন 'এ' সমৃদ্ধ পরিবেশে পিনিয়াল গ্লান্ড ব্যাঙ বা ব্যাঙাচির দেহে এই তৃতীয় চোখের জন্ম দেয়)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28730547 http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28730547 2007-09-11 12:25:15
চলতি সেরা কিছু দিনের সেরা খবর:
একই হাড়ির রান্না খাচ্ছেন দুই নেত্রী

একই হাড়ির রান্না খাওয়া যে কত বিরাট ব্যাপার তা বুঝতে আমার দেশ পত্রিকাটা হাতে নিন। হাড়ির খবরাখবর এখন এই পত্রিকার লিড নিউজ।
একেই বলে ভাগ্যের পরিহাস! কোলাকুলি ছিল সুদূরপরাহত, তার বদলে কত চুলাচুলিই না হয়েছে। আর গালাগালি তো ছিলোই।
তারপরও ভাগ্যে থাকলে ঠ্যাকায় কে! খাও এখন একই হাড়ির ভাত।
তবে হাসিনা একটু হলেও এক্ষেত্রে টেক্কা মেরেছেন। ভাত রান্না হচ্ছে তার সাবজেলে। বলাবলি হচ্ছে যে,এজন্য নাকি কঠিন লবীং চালাতে হয়েছে ।

আজকের তারকা:
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দী বাবুর্চি মুঃ মহসিন।

হাড়ির ভাতটি তিনিই ফুটাচ্ছেন। রান্না বিষয়ে নাকি তার প্রশিক্ষণও রয়েছে।

দিনের সেরা রহস্য:
ঘুঘুর ধান খাওয়া
যায়যায়দিনে এসেছে, বিদিশা আবার এরশাদের বাড়িতে ফিরে এসেছেন। তবে একই ছাদের নিচে নয়, ভিন্ন তলায়। স্বভাবতই প্রশ্ন এসেছে, এত কাছে থাকলে যদি ঘুঘু ঘুরঘুর করতে শুরু করে? বারান্দায়, সিড়িতে দাড়ালে যদি ঘুঘু ফাঁদ পেতে রাখে?
সর্বোপরি, যদি ঘুঘু আবার ধান খেতে চায়?
বিদিশা অবশ্য বলেছেন যে, এবার আর ঘুঘুকে ধান খেতে দেয়া হবে না।

সেরা স্বপ্নভঙ্গ:
স্বপ্ন ছিলো বড় হয়ে পাইলট হবে, হলো কিনা ব্যবসায়ী (ছ্যা!!)!

যুগান্তরে হুবুহু এভাবে এই স্বপ্নভঙ্গের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে- বড় ইচ্ছা ছিল পাইলট হবেন। উড়োজাহাজ নিয়ে অসীম আকাশে ঘুরে বেড়াবেন।......
কিন্তু ভাইয়া যে যুবরাজ! মামু যে কোঠলা আমলা!
তাই পাইলট হবার রঙীন স্বপ্ন আকাশের নীলিমায় হারিয়ে গেল।
বলুন তো এটি কার স্বপ্ন ছিল?

সেরা উক্তি:
গোলাপকে তুমি যে নামেই ডাকো না কেন, গোলাপ গোলাপই.... শেক্সপীয়ার।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28729652 http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28729652 2007-09-06 01:23:23
ছ্যাকা পর্ব বুকের মাঝখানে, মন যেখানে, হৃ-দয় যেখানে।
সেইখানে ছ্যাকার দগদগে ঘা।
'সাদেক তুমি বড় ভালো ছেলে। বেশি ভালো।'-এই বলে সুরমা চেয়েছিলো সাদেকের দিকে। পচিশটা সেকেন্ড।
নক্ষত্রের মত জ্বলজ্বলে প্রেমদেরও মরে যেতে হয়।
হয় নাকি! এই ভেবে সাদেকের সূক্ষ চোখ তখন খেল খতমের আলামত জব্দে ব্যস্ত শিডিউলে ঝাপিয়ে পড়েছিল।
প্রতিদিনকার মত। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হয় নি। সুরমার বুকে তখন অন্য মাংসের গন্ধ। সুরমা তখন যে কোনো নারী।
এইসব সোনার পিত্তল মূর্তিকে সন্ধ্যার শেষ আলোয় শেষবারের মতন রিকশায় তুলে দিয়ে হুমায়ূন সাহেবের মুক্তভার মনীষী হিমু হয়ে যখন সাদেক বাড়ির পথ ধরে তখন আকাশে নতুন চাঁদ। আর তার পাশে মরিচ বাতির মত নক্ষত্ররা নিঃশব্দ কিচির মিচির করে।
সাদেক পরাজিত সেনাপতির ক্ষতবুক নিয়ে সারাটা পথ কাতরায়, একবার নক্ষত্রের পানে চেয়ে, একবার বেদনার পানে।

ছিপখান তিনদার তিনদড়ি মাল্লার মেসে ফিরে সাদেক ঘাম মুছে বালিশের তলা থেকে সুরমার ছবিটা বের করে চেয়ে থাকে। আর ভাবে, কেন সে শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলো?তার কি করার কিছুই ছিল না?
এতদিনের এই ভালোবাসাবাসি তাহলে কি শুধুই মিথ্যে কুহুকিনী?
যে অধিকারে সুরমাকে প্রেমের মিছিলে শরীক হতে বলেছিলো একদিন,বলেছিলো লাল শাড়িটা তোমার পড়ে এসো- সেই অধিকারের সনদ এক কথাতেই ছিড়ে কুটিকুটি?
সে কি অথৈ জলে খুঁজেছিলো শুধু দূরগগনের সাঁঝের তারা আর মেঘের ছায়া?
কোন পাপে খোদা তাকে এই শাস্তি দিলেন?
নিষিদ্ধ গন্ধম তো সাদেক একা খায়নি। সাদেক খেয়েছিলো, খেয়েছিলো সুরমাও। তাহলে শাস্তি কেন শুধুই তার- এই ভাবতে ভাবতে সাদেকের মনে পড়ে যায় প্রয়াত চিত্রনায়ক জাফর ইকবালের সেই অমর গান-
সুখে থাকো,ও আমার নন্দিনী
হয়ে কারো ঘরনী-
জেনে রাখো, প্রাসাদেরও বন্দিনী
প্রেম তবু মরে নি।
সে কী! সাদেক এই সব কী ভাবছে! সুরমা অন্য কারো ঘরনী কেন হতে যাবে?
ছি ছি। ছ্যাকা খেয়ে মাথাটা সাদেকের একদম গ্যাছে।
তবু কেন যেন ঘরণীর ভাবনাটা সাদেকের মাথা থেকে দুর হচ্ছে না।
দুর হ।
দুর হ।
দুর হ।
এই ভাবতে ভাবতে আর সদ্য খাওয়া ছ্যাকার অবিরাম ভার সইতে না পেরে একসময় সাদেক বালিশে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ে, আর ঘুম বাড়ার সাথে সাথে বালিশটাও সাদেকের মুখ নিঃসৃত কষে মাখামাখি হতে থাকে সমানুপাতিক হারে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28728931 http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28728931 2007-09-02 01:11:20
টাইগারদের জলপাই ট্রেনিং উত্পল শুভ্র গং যেভাবে হাবলাবুল আর আশারফুল বাহিনীকে আগলে রাখেন চিল শকুনের থাবা থেকে, পারলে মাঠে গিয়ে খেলে দিয়ে আসেন- এইসব দারুণ রসালো প্রতিবেদন পড়তে কার না ভাল লাগে!
সর্বোপরি ছোটোবেলা থেকে গড়ে উঠা অভ্যাস। বাসায় সকালে পত্রিকা আসা মাত্র পাতা ভাগাভাগি। বড়দের জন্য প্রথম পাতা,বিশ্ব পাতা আর বিনোদন পাতা ছেড়ে দিতে হয়। আমাদের জন্য বরাদ্দ লেখাপড়ার পাতা আর না হয় খেলার পাতা। এভাবেই প্রতিদিন সকালে ক্রীড়া সাংবাদিকদের সাহিত্য পড়া রুটিনে ঢুকে গেছে। সকাল বেলার খাবার খেলার পাতা।

ইদানিং এই খেলার পাতা আমাকে আরো বেশি টানে।

কারণটা আর কিছুই না, বাঙ্লার দামাল কামাল, ক্রিকেটের সোনার ছেলেরা জলপাই মামাদের কাছ থেকে কমান্ডো ট্রেনিং নিচ্ছে, তার দৈন্যন্দিন বিবরণ পড়া।
জাতীয় ক্রিকেট দল এখন আর্মি ট্রেনিং নিচ্ছে, সিলেটে। যেনোতেনো ট্রেনিং না, কমান্ডো ট্রেনিং!

রাতে ঘুম হয় না। কখন আজকের দৈনিকের অনলাইন সংস্করণ বের হবে আর আমি খেলার পাতা খুলে টাইগারদের আর্মি ট্রেনিংয়ের বিশদ বিবরণ পড়ব সেই ভেবে আমার জিবে জল এসে যায়।
হঠাত ভুল করে ঘুমিয়ে গেলে স্বপ্নে দেখি তামিম ইকবালকে। পুরোদস্তুর যুদ্ধংদেহী। জলপাই পোষাকে, হাটু ডুবানো বুটে, পেট কামড়ানো বেঢপ বেল্টে, মাথা বাঁচানো হেলমেটে, বুক-বাহু-ডানায় প্লাস্টিকের সবুজ পাতার আড়ালে তামিমকে ভুলে কমরেড বলে সম্ভাষন করে ফেলি। এমনিতেই বল পিটানোয় জুড়ি নেই, তারউপর এখন দেখি হাতে রাইফেল, তার ডগায় বেয়নেট। থতমত খেয়ে ঘুম ভেঙ্গে যায়।
সিলেটের দুর্গম গিরি পথে টাইগাররা এক নয় দুই নয় দশ দশটি কেজি বয়ে পনেরো মিনিটে আট আটটা পাহাড় ডিঙ্গাচ্ছে, আমার রাত চারটের সময় ঘুম কাতর চোখে কমান্ডো গেমসের কথা মনে পড়ে।
সাবাশ বাঘের বাচ্চা বাঘ, সাবাশ।
সাবাশ ক্রিকেট কমান্ডো , সাবাশ।
সাকিবুল হাসান যদি সেনানী হতেন তাহলে নির্ঘাত জাতিসংঘের শান্তিমিশনে যোগ দিয়ে কোনো নিপীড়িত নির্যাতিত দেশের স্বাধীনতার সূর্য এক হাতেই এনে দিতেন। এই না হলে অলরাউন্ডার! জেনুইন কমান্ডোরা পর্যন্ত তার পার্ফর্মেন্সে ঈর্ষায় জ্বলে মরছে।
আশারফুল আশরাফুল বোধহয় দুনিয়ার একমাত্র সিল (sea air land) এই ত্রিমাত্রিক কারিশমা সম্পন্ন ক্যাপ্টেন হতে যাচ্ছেন। অভিন্দন আশরাফুল। দুনিয়ার একমাত্র কমান্ডো ক্যাপ্টেন!
ক্রিকেটের এই উন্নয়নের জোয়ারে সেদিন বেশি দূরে নেই যখন শুধু ডিম্বাকৃতি খটখটে মাঠে নয়, ঝোপজঙ্গলে, নিঝুপ দ্বীপে 'সারভাইবাল ফিজি আইল্যান্ড' মার্কা রিয়েলিটি ক্রিকেট খেলা হবে। খেলোয়াড়রা হেলিকপ্টার থেকে সমুদ্রে ডাইব দিয়ে ক্যাচ আউট করবে ব্যাটসম্যানকে। কমান্ডো স্টাইলে ইরাক দখলের মত টেষ্ট খেলা হবে মরুর বুকে।
তখন দেখবেন আশরাফুল কেমন ক্যাপ্টেন!

এই অল এটাক কমান্ডো ট্রেনিংয়ের পর তাকে আর ক্যাপ্টেন পদে রাখা সমীচিন বোধ হয় না। আসুন আমরা তার রাংক বাড়িয়ে দেই, তার জার্সির কলারে তাঁরা ঠুঁকে দেই। আজ থেকে আশরাফুল ক্যাপ্টেন-মেজর-কর্ণেল পেরিয়ে একেবার হাতে খড়ি ওয়ালা জেনারেল!
আশরাফুল, দা সিপাহ্সালার!!
মাশরাফি তরতরিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় উঠে ইতিমধ্যেই সবাইকে হুংকার দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনিই হচ্ছেন শৃঙ্গ বিজয়ী ফার্ষ্ট ফাষ্ট বোলার। একে টাইগার তার উপর পর্বতারোহী। হুশিয়ার!
চল্ চল্ চল্
উর্ধ গগণে বাজে মাদল
নিম্নে উতলা ধরণি তল।
অন্যদের খবরা খবর জানি না। তবে সবাই মাশাল্লাহ এক একটা রাম্বো হয়ে উঠছেন, সেটা বললে উ্যতুক্তি করা হবে না। কিংবা টার্মিনেটর।
সোলজার সোলজার
মিঠি বাতয়ে বোল কার, দিল মেরা চুরা লে গেয়া..
সকাল ছয়টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত কমান্ডো ট্রেনিং। এক একটা কিলিং মেশিন তৈরি হচ্ছে ওখানে। অষ্ট্রেলিয়ার আধিপত্যের দিন শ্যাষ।
নিউজিল্যান্ডের শ্যেন বন্ড পুলিশ হতে পারে, মাগার আমাদের একশো কিলোমিটারের এনামুল হকও এখন কমান্ডো, মাশরাফির পেস তো বাদই দিলাম।
আমাদের আছে কমান্ডো ব্যাটসম্যান, কমান্ডো বোলার, কমান্ডো কীপার। সর্বোপরি কমান্ডো ফিল্ডার। বল জলে-স্হলে-অন্তরীক্ষে যেখানেই যাক, কপালে তার বাঁচণ নাই।
জয় আক্ষরিক অর্থেই এরা ছিনিয়ে আনবে। আমরা আর হারবো না।
সাবাশ জলপাই ট্রেনিং।
ত্রিশ ফুট উপর থেকে পানিতে ফাল দিয়ে পড়া, গেরিলা যুদ্ধের টানটান মানষিক পরীক্ষা- হোক পাষাণ পরাণ তবু জয় হোক জলপাই ট্রেনিংয়ের।

খালি একটাই ভয়, এই লম্ফঝম্ফের ফাঁকে আমাগো টাইগাররা আবার না ক্রিকেট খেলাটাই ভুইলা যায়! সাধু মহাসাবধান!!

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28726622 http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28726622 2007-08-19 17:58:30
কাতারের ডায়রী (শেষ পর্ব) ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোজেক্টে কাতার আসা, বেশ কয়েকবার তাই এখানকার শিল্প এলাকায় যেতে হলো। স্বাভাবিকভাবেই এখানকার প্রায় সব শিল্প-কারখানাই তেল-গ্যাস ভিত্তিক। পরিকল্পনা থাকলে কতটা দারুণভাবে সবশিল্পকে একসাথে ইন্টিগ্রেড করা যায়, সে ব্যাপারে কাতারকে আদর্শ ধরা যেতে পারে। দোহা থেকে প্রায় সত্তর-আশি কিলোমিটার দূরে উত্তরাঞ্চলে পুরো একটা শিল্প শহরই গড়ে তোলা হয়েছে, যার নাম ‘রাজ-লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি’। লিক্যুফায়েড নেচারাল গ্যাস, রিফাইনারি, গ্যাস-টু-লিক্যুইড, ফার্টিলাইজারসহ তেল-গ্যাস ভিত্তিক সব শিল্পই এখানে ঠাই পেয়েছে, শহর থেকে দূরে, সমুদ্রের তীরে আর খনিগুলোর কাছে হয় এমন একটা জায়গায়।

দোহা থেকে রাজ-লাফান যাবার পুরো রাস্তাটাই যেন মরুভূমির বুকে কালো সাপের মত শুয়ে থাকা হাইওয়ে। হাইওয়ের কিছুদূর পর পর রাডার সারভেলান্স সিস্টেম থাকলেও গাড়িগুলোর স্পিডোমিটারের কাটা প্রায়ই দেড়শো কিলোমিটার ছুঁই ছুঁই করে।
নিশান পেট্রলে চড়ে বাইরের মরুভুমির আর কতটাই আঁচ করা যায়! তাই রূক্ষতার বদলে সৌন্দর্য্যটাই ধরা পড়লো বেশি। এখানকার মরুভুমি সমতল, একদম বালুকাময় না হয়ে মাটি একটু পাথুরে, রং একটু লালচে। চোখ মেললে দূরে বেশ কয়েক মাইল পর্যন্ত দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর পর ধু-ধু মরুভুমির মাঝে এখানে ওখানে কিছুটা ঝাপ-ঝাড় আর হয়তো দুয়েকটা বাড়িঘর। আর ভাগ্য খুব ভাল থাকলে কয়েকটা ইতস্তত ঘুরে বেড়ানো উটও দেখে ফেলতে পারেন।
আর সবচেয়ে দারুণ লাগে রাতের বেলা; মরুর বুকে রাতের হাইওয়ে - এক কথায় অসাধারণ।

রাজ-লাফান যাবার পথে পড়ে আরেকটা শহর, আল -খোর। এটা যদিও দোহার পর কাতারের অন্যতম একটা শহর, কিন্তু দেখে বাংলাদেশের সাধারণ যে কোনো উপজেলা শহরের চেয়ে বেশি কিছু মনে হয় না। আসলে সবাই এখন দোহামুখী। কারণটা খুব সহজ, দোহা কেন্দ্রিক আধুনিক কাতারের সবকিছুই এখন দোহায়।

১০.
হাতে সময় খুব কম আর কাজ খুব বেশি থাকায় এবার আর দোহা কিংবা অন্য কোথাও ঘোরাঘুরি হলো না। তবে বেশ কয়েকবার যাওয়া হলো কাতার ইউনিভার্সিটি,তাও কাজের ছুতোয়। এর অবস্থান দোহার উত্তর প্রান্তে। আর্কিটেকচারাল ভিউটা সুন্দর। মিশরীয় এক ভদ্রলোকের ডিজাইনে জ্যামিতিক খাঁজে এমবেডেড আরবীয় ধাঁচের নকশা করা অনতিউচ্চ বিদ্যালয় ভবন- দূর থেকে দেখতে বেশ লাগে।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলেমেয়েদের জন্য আলাদা আলাদা ভবন। মেয়েদের ভাগে কোনো পুরুষ শিক্ষার্থীর প্রবেশ একেবারে নিষেধ। মেয়েদেরও ছেলেদের অংশে আসা মানা। শুধু শিক্ষকরা উভয় অংশে যেতে পারেন বাধা ছাড়াই।
কাতারীরা দেরীতে হলেও ইদানীং বোধহয় শিক্ষার মূল্য বুঝতে পারছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে মেয়েদের সংখ্যা ছেলেদের প্রায় দ্বিগুন দেখে অন্য আরব দেশের তুলনায় নারীশিক্ষার ব্যাপারেও কাতারকে একটু এগিয়ে থাকতে দেখা গেল।
আসলে শিক্ষাব্যবস্থায় কাতার একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। পুরাতনের পাশাপাশি বাংলাদেশের মত এখানেও উঠছে নতুন নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। তবে কোনোটাই বাংলাদেশের মত ভুইফোঁড় কিংবা ব্যবসায়িক স্বার্থে ব্যক্তিমালিকানাধীন নয়। সবই হচ্ছে সরকারের 'কাতার ফাউন্ডেশন' নামক সংগঠনের পরিকল্পনায় ও সরাসরি তত্ত্বাবধানে। সম্পূর্ণ আলাদা কায়দায়, অন্য উদ্দেশ্যে। গুরুত্বপূর্ণ যে কাজটি এই ফাউন্ডেশনের দায়িত্বে হচ্ছে তা হলো বিশ্বের সবচেয়ে নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাতার ক্যাম্পাস চালু করা। ইতিমধ্যেই এখানে আছে কার্নেগি মেলনের বিজনেস স্কুল, কর্ণেল ইউনিভার্সিটির বিখ্যাত মেডিক্যাল স্কুল,জর্জটাউনের ফরেন সার্ভিস স্কুল, টেক্সাস এ এন্ড এম-এর ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল, ভার্জিনিয়া কমনওয়েল্থের স্কুল অব আর্টস। এই দারুন সব স্কুলগুলোতে কেবল কাতারীরাই পড়তে পারবে, প্রয়োজনে স্কলারশীপসহ। বোঝাই যাচ্ছে,পেট্রোডলারের সদ্ব্যবহারও এরা করতে জানে।
দেখছিলাম আর আফসোস হচ্ছিল। আমার দেশেও যদি এমনটা হতো! কত মেধাবী বাঙালী সন্তানের সুযোগ হতো দেশে থেকেই এই স্কুলগুলোতে পড়ার, কমে যেত ব্রেন ড্রেইন। দেশে থেকেই যদি বিশ্বের সবশ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠের জ্ঞান আহরণ সম্ভব হয় তাহলে আর লাগে কিছু?

১১.
বর্ষা-বাদল-বৃক্ষ-বন-বসন্তে বোনা বঙ্গদেশের সন্তান বলেই হয়ত মরুভূমি আর লু হাওয়ার দেশ ততটা টানে না, তবু সব মিলিয়ে অন্যরকম অনুভূতিই হল কাতারে। যদিও দুর্ভাগ্যক্রমে দুইবারই গ্রীষ্মকাল হওয়ায় খুব বেশী উপভোগ্য হয়ে উঠে নাই কাতার ভ্রমণ। এত বেশি হিউমিডির সাথেও এর আগে বোঝাপড়া ছিল না। কিন্তু তারপরও যখন ফিরে আসার সময় ঘনিয়ে আসলো, একটু আফসোসের কাটা যে মনের মধ্যে খচখচ করলো না তা নয়। অনেককিছুই তো দেখা হলো না কাতারের। এখানকার প্রাচীন স্থাপত্য, সভ্যতার অবশেষ কিংবা জাদুঘর দেখা হলো না। হলো না পাম ট্রি আইল্যান্ডে যাওয়া, যদিও মনে হলো ওখানে আর যাওয়া যায় না, কিছুই আর নেই সেখানে। আরবদের পারিবারিক জীবন কাছ থেকে দেখার শখ ছিল, এত অল্প সময়ে তা সম্ভব নয়। খুব ইচ্ছে ছিল এখানকার অতীত জীবনপ্রবাহ সম্পর্কে জানার, পারলে শহর ছেড়ে বেদুইনদের (যদি থাকে আদৌ) জীবন কাছ থেকে দেখার। হয়ে উঠে নাই।

তবু বলতে হয়, ভালো একটা অভিজ্ঞতাই হলো। শহরের দোতলা বক্স বাড়িগুলোর দেয়ালে দেয়ালে চৌকোণা সূক্ষ আরবীয় খাঁজ, ছোট করে ছাটা দাড়ির কাতারি পুরুষের শুভ্র আরব পোষাকে দুপ-দুরস্ত চলাফেরা, চেনা-অচেনা যেই হোক অসম্ভব আন্তরিকতায় সালাম-কুশলাদি বিনিময়, ছায়াহীন দোহার রাস্তায় খাসির শর্মা খাওয়া, গরম বাঁচিয়ে রাত বারোটার ফুটবল, সেলান(sea line)এ শয়তানের সাহস নিয়ে তরুণদের কার রেস এবং মুখোমুখি সংঘর্ষের ডুয়েল, কাতারি রুটি-মাংস-জয়তুন, এদের অনেককিছুই মনে থাকবে অনেকদিন।

তাই যখন ফিরছিলাম, দশ দিনের পুরো প্যাকেট একটা ট্যুর শেষে, তখন মনে হলো দোহা শহরকে আপন করে নেবার অনেক উপকরণই বোধহয় মনে জমা হয়ে গেছে।

(শেষ)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28723883 http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28723883 2007-08-02 14:55:23
কাতারের ডায়রী-৪ ছোটবেলায় সবচেয়ে ভয়ংকর কাজের মধ্যে একটা ছিল, প্রতিদিন বিকালে দলবেধে সিপারা নিয়ে মসজিদে মাউলানার কাছে আরবি শেখা। বিকালের নির্মল খেলাধুলা বাদ দিয়া কার শখ হয় খটমট আরবির কুল আর ক্বুল এর পার্থক্য গলায় ফুটিয়ে তুলতে! কাতারে এসে সেই আরবি ভাষার সাগরে আবার পড়লাম। ইংরেজি তো আর সবজায়গায় চলে না। কাতারের ভাষা আরবি। শুধু কাতার বলি ক্যান্, পুবে মিডিল ইস্টের কাতার, বাহরাইন, সৌদি, ওমান থেকে শুরু করে চাদ, মরক্কো, সোমালিয়া, ইথিওপিয়া, সুদান, ইরাথ্রিয়া হয়ে আফ্রিকার পশ্চিম তীরের মারাথানিয়া পর্যন্ত সব আরব জাতি আরবি ভাষায় কথা বলে। ওদিকে মিশর, জর্ডান , সিরিয়া তো আছেই। এইদিকে ইরাক, প্যালেস্টাইন। বিভিন্ন দেশের মানুষ দোহায় বাস করে তা তো আগেই বলেছি। অফিস-আদালতে ভুড়ি ভুড়ি মিশর, ওমান, সিরিয়ার লোকজন। এত দেশের লোক, অথচ ইংরেজির চল ততটা নেই । এর কারণ কমন ভাষা- আরবি। একটা ভাষার মাধ্যমে গড়ে উঠা সর্বত্র এক নিদারুণ আত্মিয়তার বাধন দেখে আমি মোহিত। নানান আরব দেশ,পোষাকে অল্পবিস্তর যা পার্থক্য কিন্তু ভাষা, সবার এক। সুতরাং আরবিটা জানা এখানে জীবনধারণের জন্য প্রায় বাধ্যতামূলক।
চাইনিজদের সাথে থেকে যেমন 'নি হাউ মা' কিংবা 'শিশিয়ে' না জানলে ক্যামন দেখায়, তেমনি এখানে এসে কিছু আরবি শিখলাম। এর কিছু অল্পবিস্তর সবাই জানি, বাংলা ভাষায় ঢুকে গেছে যা। কিছু আবার জানতাম ভুল অর্থে। যেমন,'মারহাবা'। যার মানে জানতাম সাবাশ বা উত্সাহ দেওয়া, এখন তার মানে দেখি আসলে স্বাগতম! এছাড়াও অনেকগুলো কথা যেমন, 'কাইফালাক' (বাংলা নাটক (!) দেখে শিখেছিলাম-কাইফা হালুকা) যার মানে কি খবর বা ক্যামন আছেন। শিখলাম 'ইয়া হাবিবি'। মানে হে আমার প্রিয়তম বা হে আমার বন্ধু! তারপর 'মা ইস্মুকা' মানে তোমার নাম কি। জবাবে 'ইস্ম ফাহা'। কিছু শব্দ, যেমন শুকরান (ধন্যবাদ), নাআম (হ্যা), লা (না), মওজুদ (বর্তমান বা উপস্থিত থাকা), খতর (বিপদ বা বিপদজনক)। কিছু সংখ্যাও শেখা হইলো। গতবার যখন এসেছিলাম তখন বিশ্বকাপ ফুটবল চলছে। স্কোর কত জানতে চাইলে জবাব শুনতাম, 'ওয়াহিদ-ওয়াহিদ' মানে এক-এক (গোলে ড্র)। তবে আরবি গণণা আসলে এত সহজ নয়, এরা ৬০ কে বলে চল্লিশের পরে বিশ (বা এরকম কিছু একটা বা তার চেয়েও কঠিন কিছু)। আরবি ভাষাটাই আসলে কঠিন এক ভাষা। এত ক্রিয়ার প্রকারভেদ আছে যে নাভিশ্বাস উঠে যাবে ঠিকমত শিখতে। তারউপর হিন্দির মত স্ত্রীলিঙ্গ-পুরুষলিঙ্গের ব্যাপারতো আছেই।
তবে সবচেয়ে বহুল উচ্চারিত আরবি শব্দ নিঃসন্দেহে 'খাল্লাছ' (কাছাকাছি অর্থ ইংরেজিতে done)। আমার মনে হ্য় এটা আরবদের একটা কমন মুদ্রাদোষ। কথায় কথায় খাল্লাছ বলে এরা, অনেকটা আমাদের বাঙালিদের কথায় কথায় 'আচ্ছা' বলার মত।

৮.
গত দুইদিন কোনো কাজের শিডিউল ছিল না। সপ্তাহে শুক্র আর শনি এই দুইদিন এখানে ছুটির দিন। এছাড়া প্রতিদিন সাতটা থেকে দুপুর দুইটা হলো অফিসটাইম। সকালে আরাম কইরা ঘুমানোর চান্স এইখানে নাই। ছুটি পেয়ে তাই প্রধান কাজ ছিল ঘুমানো। দেখলাম কাজটা সহজও। আমি নরমালি দিনে ঘুমাইতে পারি না। অথচ এখানে শুইলেই ঘুম ধরে। মরু আবহাওয়া আর ভারী খাবারের স্পেসেফিক মিথষ্ক্রিয়া। জেগে থেকে যা করলাম তা হইলো টিভি দেখা। সেইটাই বলি।
অনেক চ্যানেল। দুয়েকটা ছাড়া প্রায় সবই এরাবিক। বিভিন্ন দেশের চ্যানেল দেখলাম। মিউজিক অবশ্য সবই গতানুগতিক মনে হইলো। 'ইহা হাবিবি' টাইপ। মিউজিক ভিডিওগুলোতে আরব্য বেদুইন সংস্কৃতি তুইলা ধরার চেষ্ঠা। কিছু গান যেগুলোকে মনে হইলো মূলধারার, তার সাথে দেখানো হচ্ছে আরবীয় পোষাকে কিছুসংখ্যক যুবকের নাংগা তলোযাড় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে একজায়গায় দাড়িয়ে নাচানাচি আর একটু দুরে কতিপয় সিল্কি পোষাক পরিহিত আরবীয় রমণীর দাড়িয়ে বা বসে মাথার চুল চক্কর মেরে মেরে দুলানো। একই জিনিস দেখে দেখে বিরক্ত হবার যোগাড়। তবে মনে হলো এটাই গান উপভোগের বেদুইন ফর্মূলা। মেয়েদের মাথার চুল ঘোরানো আর কোমড় দোলানো মনে হলো কমন।
দেখলাম কাতারী, ওমানি, সৌদি চ্যানেল- বেশীরভাগই এখনও বিটিভিকে ছাড়াইয়া যাইতে পারে নাই। আরো দেখলাম বিখ্যাত আল-জাজিরা। মনে হইলো বিবিসিরে অনুকরণ করার আরবীয় চেষ্ঠা। অনেক চ্যানেলেই ফুটবল। সৌদি চ্যানেলগুলায় ঘোড়দৌড়! দুবাই চ্যানেলে মোটর রেস। দেখলাম তালির তালে তালে মিডল আফ্রিকান ড্যান্স, আমির-ওমরাহদের বাতচিত, লাইভ জুয়ার চ্যানেল, খেজুড় গাছের তলে বেদুইনটাইপ সেট বানিয়ে পাশে উট রেখে সাখখাতকার, কউন বানেগা ক্রৌড়পতির আরবি সংস্করণ এবং অবশ্যই একটা হিন্দি গানের সিডি চালানো লোকাল চ্যানেল। দুর্লভ দুয়েকটা ইংরেজি চ্যানেলেও নিচে আরবি সাবটাইটেল। সবমিলিয়ে জমজমাট আরব্য বায়োস্কোপ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28722040 http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28722040 2007-07-22 20:40:16
কাতারের ডায়রী-৩ কাতারের ডায়রী-২
৫.
মাটির তলে তেল আর গ্যাসের ভুসভাস শব্দে ইউরোপ-আমেরিকার বেবাকতে আইসা হাজির মিডিল ইস্ট। কাতারেও। এদের দেখলেই আমার ক্যালিফোর্নিয়ায় সোনার খনির মালিক হবার লোভে মত্ত গোয়ার পশ্চিমা পাপীদের কথা মনে পড়ে যায়। সবাই যেন জিহবা বের করে আছে। কাতারীরা তো নিশান ফোর হুইল ড্রাইভ, এসির বাতাস আর আলিশান বাড়ি পাইয়াই খুশী। এই ফাঁকে এমন কোনো এমএনসি নাই দুনিয়ায় যে কাতারে আসে নাই। শেল,শেভরন, সেসল, এক্সনমোবিল, জি ই, কোনোকোফিলিপস, ডলফিন, টোট্যাল, আরো কত অয়েল মেজর, গ্যাস মেজরে দেশটা ভর্তি। যাই হোক, আমার কি। আমার দেশেও গ্যাস আছে, গরীবের ঘরে সুন্দরী মাইয়ার মতন হইলেও তো আছে। কথা সেটা না।
কথা হইলো, উঠতি দোহা সিটি। কে জানি বলছিল, মনে হয় দুনিয়ায় যত ক্রেন আছে তার চার আনাই এখন দোহায়। কারন, কন্সট্রাক্শন। এমনিতে সুন্দর সুন্দর একতলা, দোতলা বাড়িই বেশি চোখে পড়ে। তবে নতুন নতুন টাকা হইলে যা হয়, মাইনষেরে দেখাইতে হইবো না! আমির বলছে, বানাও উঁচা উঁচা বিল্ডিং। ত্রিশ তলা, চল্লিশতলা, আরো বেশি উঁচা হওয়া চাই। দেশের লোকসংখ্যা মোটে আট লাখ (দুই লাখ কাতারী, বাকি অন্যদেশী শ্রমজীবি), কে থাকবে ঐ আকাশছুয়ে যাওয়া ইমারতে! তবু এশিয়ান গেমস দেখতে যারা এসেছিল, তেলের টাকা কামড়াকামড়ি করতে যারা আসে,গলফ আর টেনিস ওপেন দেখতে যারা আসবে,যেই আসুক তাদের দেখাতে হবে না যে এখন এই দেশ আর বেদুইন জাতি নাই, এই দেশ এখন আলো ঝলমলে 'গ্যাস ক্যাপিটাল'!

দোহার শপিংমলগুলো দেখেও ধাক্কা খাইছি। এর কারণও অবশ্য আছে। লোকজন সাধারণ মুদির দোকানকেও এখানে বলে সুপারমার্কেট। তাই প্রথম প্রথম ভাবছিলাম,সুপারমার্কেটের যে অবস্থা, মলগুলান আর কত ভাল হবে। সিটি সেন্টার নামে দোহায় একটা শপিং কমপ্লেক্স আছে। তাতে ঢোকার আগমুহুর্ত পর্যন্ত এই ধারণা ছিল। কিন্তু ভেতরে ঢোকার পর নিজের গালে নিজেই চাটি মারছি। এ তো আলিশান, পশ্চিমের মেসি'স কিংবা সিংহপুরের ভিভোসিটিও তো এর কাছে হার মানবো! কি নাই! দুনিয়ার সব ব্র্যান্ড আইসা হাজির। খালি সিটি সেন্টার না, আরো কি কি যেন আছে, ডড়াইয়া আর যাই নাই। এমনকি এসির হাওয়া খাইতেও না। পকেটের যে অবস্থা!
৬.
যেখানটায় এসে উঠেছি সেটাকে বলা যায় বেশ পরিচিত এলাকাই। জায়গার নাম আল-সাদ। পাশেই ফিলিপিনো স্কুল। কাতারে প্রচুর ফিলিপিনি নাগরিক, অফিসে, হাসপাতালে, শপিংমলে। বেশির ভাগই ক্লার্ক জব করে। তাদের বাচ্চাদের জন্যই এই স্কুল। কাউকে এই স্কুলের কথা বললেই আল-সাদ এলাকার কোথায় থাকি চিনে ফেলে। সকাল-বিকাল অভিভাবকেরা বাচ্চাদের আনা-নেওয়ার সময় এলাকাটাকে আর মিডিল ইস্ট বলে মনে হয় না। কারণ, পোষাক। কাতারে বোরকা-হেজাব ছাড়াও যে মেয়েদের দেখা মেলে সেটা এখানেই। প্রায়শই দেখি, পথ চলতিরা হা করে তাকিয়ে আছে। এখানে অবশ্য বলে নেয়া ভাল, দোহার পথে পথিক খুবই কম। এই গরমে রাতে ছাড়া আর গাড়ি ছাড়া কে বের হয়! তাই পথিকদের বেশিরভাগই শ্রমিক। অন্তত দুই সামারে তাই দেখলাম। অন্যসময়ের কথা জানি না।
দোহার রাস্তাঘাটগুলো পরিস্কার। তবে আইল্যান্ড বা মোড়গুলোতে জোড় কইরা গাছ বা ঘাস লাগানোর চেষ্ঠা দেখলে সত্যিই হাসি পায়। সকাল সন্ধ্যা এই যে পানি ঢালতেছে, তবু সব গাছের জন্ডিস আর সারে না, আর ঘাসগুলান যে ক্যান লাগায়। লাগানোর ঘন্টাখানেক পরই মনে হয় পুইড়া শেষ! যা থাকে তা ঐ এক ও অদ্বিতীয় খেজুড় গাছ। তবে বলতেই হয়, এখন এই খেজুড়ের মোসুমে বাটু বাটু গাছগুলান যেভাবে খেজুড়ের ভাড়ে রাস্তায় নুয্যমান, মনে হয় গাড়ি থামাইয়া মুঠো মুঠো খেজুড় মুখে দিয়া মুখ ভইরা ফেলি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28721885 http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28721885 2007-07-21 22:32:32
হোটেলে তাকায়।
যারা উল্টোমুখী
তাদের চোখ প্লেটে
মুরগীর গিলা কলিজায়, পরোটার পোড়া অংশে
ঘুরপাক খায়।

আমি একটা ফাঁকা টেবিল পেয়ে কোণার চেয়ারটাতে গিয়ে বসি
তারপর
ক্যাশবাক্সে চেতনাটা ঢুকিয়ে দিয়ে বসে থাকি
বেশ খানিকক্ষণ।

তারোপর হাফপ্যান্ট খালি গা পানিপোলা চারটে শ্যাওলা রঙা কাঁচের গ্লাস রেখে যায়
পানি ভর্তি জীবন।

আমি কাঁচের বুদবুদ পানিতে ভেবে মুঠো খুলে খুলে সময়গুলো তার গায়ে লেপ্টে দিলে
অস্থির হয় হোটেলের চুনখসা দেয়াল,
আমার গাঢ় চোখ আরো লাল হয়, টেবিলের কোণা বেয়ে চুপ করে একফোটা জল
খসে পড়ে আমার পায়ের বুড়ো নখে,
আর তাকে নিঃশব্দে অনুসরণ করে একটা নদী
তার প্রতিটা ঢেউ আমি বসে
গুনি।

আরোপরে
লুংগি পড়া হাফ হাতা শার্ট গায়ে মামু এসে
টেবিলের অন্য কোণায়
হড়হড় করে নাম উগরে দেয়
ভাত, রুটি, পরোটা, চিকেন বিরানি,
খাশি, গরু, মুরগি,ইলশা, কই, পাঙ্গাশ, সরপুটি, কাতল।

মত্স চোখে তাকে দেখি, লুংগি পড়া হাফ হাতা শার্ট গায়ে
হোটেল মামার 'কি খাইবেন' তাগাদায়
আমি ধান্দায় পড়ে যাই।
ক্রমাগত হয়ে যাই নীল, চোখে রেল লাইন দেখি-

আমি কি জেগে আছি, না স্বপ্নে
তাকে দেখি

সবশেষে বলি, না থাক, আরেক দিন।

খুচরো কিছু মনের ঘাম দাতের কাঠি হয়ে পাশের বাটিতে পড়ে থাকে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28721745 http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28721745 2007-07-20 20:44:57
কাতারের ডায়রী-২
৩.
বলছিলাম ল্যান্ড ক্রুজারের কথা। এই বিষয়ে আমার থিউরি হইলো, হাজার বছর ধইরা উট চালানোর পরে নিচু কোনো জিনিস আর বোধহয় শেখ সাহেবগো ভালো লাগে না। তাই উঁচা উঁচা পাজেরো, রাস্তাঘাটে খালি এই জিনিস। এইচআরের যে আহ্ লান ওয়া সাহ্ লান কাজে নিযুক্ত ইংলিশমূর্খ শেখ সাহেব আমাকে এয়ারপোর্টে নিতে আইলেন, তার পাজেরোখান দেইখা মনে মনে কইছিলাম, ব্যাটা এইটা তোর হইতেই পারে না। নির্ঘাত আমিরের বাড়ি থিকা চুরি কইরা আনছস। পরে ইশারা ইঙ্গিতে জিগাইছিলাম, এইটা কি তোমার? শেখের ব্যাটা তখন এক পা এক্সিলারেটর আর অন্য পা পাছার তলে মুড়াইয়া ডানহাতে তছবি আর বামহাতে স্টিয়ারিং হুইল ধইরা মারহাবা মারহাবা মার্কা গান শুনতে শুনতে যান্ত্রিক উট চালাইতেছিলো, আমার প্রশ্ন বুঝতে পাইরা তছবিওয়ালা হাতটারে এমনভাবে উপরে তুললো যে আমি বুইঝা নিলাম, সবই উপরওয়ালার কুদরত।

দোহার রাস্তাগুলানও মাশাল্লাহ। সিগনালের বদলে খালি ঢাকার শাপলা চত্বর। সারকেলে যে য্যামনে পারে গাড়ি ঢুকাইতেছে, আবার হুশহাশ বাহির হইয়া যাইতেছে। আর সোজা রাস্তায় লেন বইলা যে একটা জিনিস আছে সেইটা বোধহয় আরবি ডিকশনারিতে নাই। গতবছর প্রোজেক্টের গাড়ি ছিল, সেইটা চইড়া দোহা'র রাস্তায় ঘুরাঘুরির পর এইবার স্বত:প্রনোদিত হইয়া কইছি, আমার গাড়ির শখ নাই!
এতে অবশ্য একটু কষ্ট হইয়া যাইতেছে,কাতার তো আর সিংহপুর না যে, ছায়া সুনিবিড় ছাদওয়ালা করিডর হাটলেই বাসস্টপ যাহাতে পটাপট একের পর এক গাড়ি আইসা থামে। কাতারীরা ব্যাপাকতে বড় লোক হওয়ায় তারা মনে হয় ধইরাই নিছে যে, পাবলিক সার্ভিসের কোনো দরকার নাই। জিগাইলে কয়, বাস, উহা আবার কি?
আপাতত কলিগদের কাছ থেকে লিফট নিয়া নিয়া আর শাটল মাইক্রো দিয়া ইনডাস্ট্রি-ভার্সিটি-গেস্ট হাউজ করতাছি। ট্যাক্সির চিন্তা না করাই উত্তম, কল করলেই আসে দুই ঘন্টা পর, তারজন্যে মরুভুমির মধ্যে দাড়াইয়া না থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।

৪.
তবে একটা জিনিস ভালো লাগছে যেইটা গতবারো লাগছিলো, সেইটা হইলো, খানাদানা। ট্র্যাডিশনাল খাবারের মধ্যে পড়ে শুকনা রুটি কিন্তু ইহা এখন শুধু টেবিলের শোভাবর্ধনের জন্যই ব্যবহৃত। কেউ কেউ খায়, কেউ খায় না। পাশে যদি বিরিয়ানি, রোস্ট, কাবাব থাকে তাহলে ওই রুটি খাবার প্রয়োজনও হয় না। মানুষ ক্যামনে এই গরমে এই সব খাইয়া বাইচ্যা থাকে, এটা একটা প্রশ্ন বটে। এর মধ্যে পইড়া বাঙালির হইছে মহা মুশকিল। চিজ-বাটার-হানি,মুরগি-দুম্বা-গরুর ভিড়ে মাছের নামগন্ধ নাই। এইসব বস্তাভারী খাবার খাইয়া প্রথমদিন টানা পনেরো ঘন্টা ঘুমাইছি।
তবে শুকনা রুটিটা খাওনের মতন। এইটা আরবরা খায়ও দারুণ সুন্দর কইরা। প্রথমে দুই টুকরা করে, তারপর এক টুকরা নিয়া মাঝবরাবর ফাক কইরা শুকনা মাংস, রোস্ট, সালাদ, হাবিজাবি যত কিছু আছে ভইরা আস্ত একটা স্যান্ডওইচ বানাইয়া ফালায়। সামনে বইসা কেউ যখন ধীরেসুস্হে এই জিনিস তৈরী করে, তখন মনে হয় কাইরা নিয়া খাইয়া ফালাই। হাত কাটা যাবার ভয়ে অবশ্য তা করা হয়ে উঠে না। (চলবে)
১৬/০৭/০৭
দোহা, কাতার

(একই সাথে সচলায়তনে প্রকাশিত)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28721177 http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28721177 2007-07-16 17:22:18
কাতারের ডায়রী-১ ঠিক এক বছর পর আবার কাতার আসতে হইলো।
প্রজেক্টের কাজে গতবছর এই সময়েই দু'মাস কাতার থাকতে হইছিল। সে এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। পণ করছিলাম, এই দেশে যেখানে রোদের তাপে খেজুর গাছের পাতাও পুইড়া খা খা, সেইখানে আর আসবো না। অন্ততপক্ষে সামারে (মে-জুলাই) তো নয়ই।

কপাল বদ নসিবের গোডাউন হইলে ঠেকায় কে! আবার আইলাম শ্যাখের শ্যাখ কাতারীগো দেশে।

গতবারের কথা ভুলি নাই। ভুলি ক্যামনে! মিনিমাম পয়তাল্লিশ ডিগ্রি রোদমাত্রা আর নব্বইয়ের ঘরে হিউমিডিটিওয়ালা কাতারী গ্রীষ্মবকাশ কি ভোলা যায়! তবে এই একশভাগ মরুভূমি আর বেদুইনের দেশে গতবার গরমের চাইতেও বেশী ভোগাইছিল সর্দি। ঠিকই শুনলেন, সর্দি। অতিরিক্ত গরমে বরফ কুসুম পানি আর অহর্নিশ এসির হিমেল হাওয়া খাইয়া বংশগতিসূত্রে পাওয়া এলার্জিরে দিসিলাম উস্কাইয়া। সাথে ধুলিময় লু হাওয়া তো ছিলই।
এইবার তাই অতিমাত্রায় সতর্ক হইয়া ধুলাশার (ধুলার কুয়াশা)চাদর গায়ে দিয়া গরমে ঝিম মাইরা যাওয়া রাজধানী শহর দোহা'য় পা দিছি।

২.
গাল্ফের (GULF)পাড়ের দেশ কাতার। এরা এই পাড়ে খাড়াইয়া বলে, ইয়া ব্রাদারানে আরব, ইহা এরাবিক গাল্ফ। পারস্যদেশের খলিফারা তখন হুংকার দিয়া বলে, কইলেই হইলো? এইটা পারসিয়ান গাল্ফ। আমি কই, এইটা কোনো ইস্যু হইলো? শেক্সপীয়ার বলেছেন, নামে কি আসে যায়।
গায়বি আওয়াজ আমারে কইস্যা থাপ্পর লাগায়,ইস্যু আছেরে পাগলা। দুনিয়ার সবতে বড় পানির তলের প্রাকৃতিক গ্যাসের খনি এই গাল্ফের তলায়। বাংলাদেশের ব্যাবাক প্রোভেন, পসিবল গ্যাসের চাইতে মাত্র ৬০ গুন বেশী।
কাইজ্যার কারণ বুইজা ফালাই।

কাতারী মানে কাতারের নাগরিক আগে হয় আছিলো বেদুইন নয়তো মুক্তার ডুবুরী। একদিন বালিয়াড়ির পাশে খেজুর পাতায় শুইয়া ঘুম থেকে উঠার পর দেখে, তেল আর গ্যাসের উপরে দ্যাশ দুনিয়া ভাসে।
সেই থিকা বেদুইন উটের বদলে টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার ধরছে।
(চলবে)

(সচলায়তনে প্রকাশিত)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28721150 http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28721150 2007-07-16 14:54:06
লগ্নহীন মন্ত্র-১ এই হোক তব গ্রহনের কাল, শবদেহ জাগানিয়া মন্ত্রের ডাকিনী সকালে কপাল পুড়ে চিতার আগুনে নিয়তি করেছি দান।]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28718239 http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28718239 2007-06-28 11:39:38 আমার অক্ষম প্রলাপ তবু বলি।
এই সব কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ হোক।
এই সব অশ্লীলতা বন্ধ হোক।
ব্লগকে হিট লিস্টে তোলার এই সব ষড়যন্ত্র বন্ধ হোক।
এই সব নোংড়ামি বন্ধ হোক।
এই সব দুধ-গোবরে মাখামাখি বন্ধ হোক।
এখানে একটা জিনিস শিখেছি। যারা অহর্নিশ দ্বন্দে লিপ্ত, তারাও বুঝেছেন, এখানে যা হয়, শুধু একে অপরকে উলংগ করা। আজন্ম উলংগ রাজাকাররা অন্যকেও উলংগ করবে এটাই তাদের স্বভাব। এছাড়া তাদের টিকে থাকায় টানাটানি।
কিন্তু তাকে থাপ্পর না দিয়ে তার কাপড় ধরে টানাটানি কেন? এতে কি রাজাকারকে নকল করা হচ্ছে না?
আসুন আমরা রাজাকারকে তার কাপড় না টেনে কষে থাপ্পর দেই।
রাগইমন- ত্রিভুজ কাইজ্জা (এর চেয়ে ভাল কিছু বলা যায় না) নিয়ে ভাল ফায়দা লুটলেন যারা তাদেরকে আর কি বলবো। ব্লগটাকে তো দিন দিন আপনারা দখলদারিত্বের মনোভাব নিয়ে খোয়াড়ে পরিণত করছেন।
এখন নতুন নিকের প্রথম পোস্টে আর 'আমি এই ব্লগে নতুন' বাক্যটা থাকেনা। থাকে একরাশ গালাগালি।
আসুন ছাগলকে দেখে শেখা এই সব ছাগলামি বাদ দেই।
সবাই একদিনের জন্য হলেও অন্তত নিজেকে বদলে দেখি, কেমন হয়।
ব্লগটা বদলায় কিনা।
ত্রিভুজের কান ধরে না টানাটানি করে আসুন জেবতিক আরিফের দুই পয়সার মানুষ হই। একদিনের জন্য।
দেখি না কি হয়।
টিম এ-- একদিনের জন্য ক্লান্তি বোধ করুন না! না হয় একটু রিফ্রেশ।
আলভী আবার মুগ্ধ পাঠক সিরিজ শুরু করুক, মো: জুবায়ের আবার উপন্যাস নামাক, হিমুর যৎন করে কামড়ে দেয়া গল্পে সবাই বারবার হাসুক, শাওনের 'হাত খুলে লিখে যান' বাস্তবে নেমে আসুক।

আমাকে, আমাদের মতন নো বডি পাঠক-কাম-ব্লগারদের কে সেই স্বর্ণযুগ ফিরিয়ে দিন।
একদিনের জন্য।
***
আমি স্বপ্ন দেখি ফেলে আসা সেদিনের....




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28718044 http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28718044 2007-06-27 12:36:43
হারাধনের হাসি ***
প্রথম প্রথম দশটি উইকেট ছিল। গেল লংকা পার।
আমি হারাধন বসলাম ক্রিকইনফোর সামনে। দিনশেষে বাহাদুর পুতেরা ৮৯ রানের বিশাল ইনিংস ঘোষনা করায় যারপরনাই খুশি হয়ে নিজের বেহুদা খরচ করা ৩২ ওভার টাইমের দুঃখ ভোলার জন্য আইলাম সামহোয়্যার 'ইনে' ইন করতে।

হারাধনের কয়েক পোলায় মিল্যা এই 'ইন' অর্থাৎ কসাইখানায় তখন এক ছাগল বানাইতাছে। ছাগলে মাপ চায়, পোলারায় কি তাতে থামে! বাজারে খাশীর মাংসের যে দাম!
কাঠাল পাতা চাবাইলে আবার আমার গ্যাস হয়। বুঝলাম, এইখানেও আমার ভাত নাই।

গেলাম বাড়িত্। যাই দেহি, একরাশ আন্ধাইরের মইধ্যে আমার বউ ঘর আলো কইরে বইস্যা আছে। ক্যামনে কি। হাউজ হোল্ড কাজকর্মে আমার মন নাকি বড্ড উচাটন। তাই থার্মোমিটারের পারদ উপ্রে। রাগনে যদি এমন আলো দেয়, তাইলে বিজলী বাতির ঠ্যাকা কিয়ের মোর বাড়িত্ থাকনের?
গেলাম বাজারে।

বাজারে যাইয়া দেখি আমার পরফেসরও সেইখানে। আমি লুকাই বউয়ের পিছে, তিনি লুকান আনারসের ঝাপির পেছনে। কিছুক্ষণ এইভাবে কাটলে পর সারাদিনের একমাত্র বাহাদুরির টাইমটা চলে আসে।
আস্ত হাতির খাবার কিনে ব্যাংক কার্ডটা এগিয়ে দিয়ে পিন দিতে গিয়ে দেখি নাম্বার গেছি ভুলে।
আর মনে পড়ে না।

তারপর আর কিছু বলতে হবে? (হারাধনের হাসি)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28717830 http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28717830 2007-06-26 14:44:42
ট্রেসি চ্যাপম্যান- আমার 'পশ্চিমের লালন' আমার অল টাইম ফেভারেট tracy chapman
'র 'ইফ নট নাও' গানটা অনেকক্ষণ খুঁজাখুজি করেও ইউ টিউবে পেলাম না। গানটার কোনো ভিডিও কি কোথাও নেই? কিংবা নাদানপক্ষে অডিও?
কোনো এক অদ্ভুত কারনে আমার অডিও ফাইলটি চলছে না। কারো কাছে থাকলে কি শেয়ার দেবেন?

চ্যাপম্যানের শুধু গানের গলা শুনে আপনি প্রথম প্রথম হয়ত তাকে ছেলে বলে ভুল করতে পারেন, আমিও করেছিলাম। নামের শেষে ম্যান থাকলেও সে আসলে ও্যম্যান। এত ভারী গলার কোনো নারী কন্ঠ আমি আগে শুনিনি। কিন্তু তার প্রতিটা গান অসাধারণ, তার চেয়ে অসাধারণ তার গায়কি। তাই ভারী গলাটা গানের কথা আর গায়কির সাথে খাপ খেয়ে যায় বেশ।
ট্রেসিকে আমার কাছে অনেকটা লালনের মতন মনে হয়। অবশ্য এটা আমার একান্তই ব্যক্তিগত অনুভুতি। লালন আমাদের, আর ট্রেসি ওয়েস্টার্ন। লালন আগের, ট্রেসি এখনকার। লালনের একতারা ট্রেসির হাতে গীটার। ভাষাও ভিন্ন।
কিন্তু কথার কত মিল।
দুজনেই আমার কাছে সাধক।
দুজনেই মানবতার গায়ক। ট্রেসি লালনের মতই একজন মানবতাবাদী সমাজকর্মী।
দুজনের গানই আপনাকে একটু হলেও ভাবাবে। একই লাইনে, একই তালে, একইরকম সূক্ষভাবে।
উদাহরণ: ট্রেসির এই
গানটা শুনুন।
যদি ভাল লাগে, ইউ টিউব একটা দারুন হাতিয়ার। শুধু ট্রেসির নাম দিয়ে সার্চ দিন।
আরো দারুন দু'টি গান হলো ক্রসরোড এবং ফাস্টকার।
ট্রেসির গানের লিরিকস গুগুলে সার্চ করলেই পাবেন। সেগুলোর সবই শুধু গানই নয়, কবিতাও। যেমনটা লালনের গান।

এবং প্রেমে মশগুলরা অলস দুপুরে অবশ্যই এই গানটি শুনুন।

সবশেষে, 'ইফ নট নাও' গানটির লিরিকস--

If not now, then when?
If not today,
Then, why make your promises?
A love declared for days to come,
Is as good as none.

You can wait 'til morning comes.
You can wait for the new day.
You can wait and lose this heart.
You can wait and soon be sorry.

If not now, then when?
If not today,
Then, why make your promises?
A love declared for days to come,
Is as good as none.

Now love's the only thing that's free.
We must take it where it's found.
Pretty soon it may be costly.

'Cause if not now, then when?
If not today,
Then, why make your promises?
A love declared for days to come,
Is as good as none.

If not now, what then?
We all must live our lives.
Always feeling.
Always thinking.
The moment has arrived.

If not now, then when?

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28717642 http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28717642 2007-06-25 12:31:09
এর চেয়ে অনেক ভালো ছিলো শরতের দিন ব্লগে এখন নাকি ৬০০০ বাসিন্দা।
ছোট্ট ছাউনি থেকে মাটির দেয়াল, দো'চালা হয়ে ব্লগ এখন পাকা মেঝে টিনের বেড়া,
হয়তো অচিড়েই হয়ে যাবে হাফ-বিল্ডিং, বিল্ডিং, আকাশছোয়া
পোক্ত ইমারত।
তবু ছাউনিটাই মনে রয়ে যাবে ঘর হয়ে।

২.
দেবতার শবদেহ পিশাচের আসন হয় যদি
কি আসে যায় তাতে
তান্ত্রিকের ধ্যান নদীর মতন বয়ে চলে নিরবধি।

শরতের আকাশে শুভ্র মেঘদল খুন হয় যদি
'তাতে কি', এই বলে
চলে যাবো।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28717456 http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28717456 2007-06-24 14:11:12
নতুন ব্লগারদের জন্য 'ছাগুনামা'
এই ব্লগে 'ছাগু' একটি বহুল উচ্চারিত শব্দ। হয়তো সার্চ করলে দেখা যাবে যে ২ বর্ণের এই শব্দটি এই ব্লগে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা শব্দের মধ্যে অন্যতম। এই শব্দের আড়ালে বাস করা ভালোমন্দ বিচার করা প্রেজেন্ট রিভিওয়ের উদ্দেশ্য নয়। তাই সেদিকে যাচ্ছি না। কিছু মৌলিক ব্যাপারে আলোকপাতই উদ্দেশ্য।
আগের জিনিস আগে সেরে নেয়া ভাল। প্রশ্ন করতে পারেন, ছাগু কে বা কি? এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন এস্কিমো। বলা যায় এস্কিমো একজন জীবন্ত ছাগুকোষ। তার ধারাবাহিক পোষ্টগুলো ছাগু বিষয়ে আপনার চোখ, দাঁত, হাত পা সব খুলে দেবে। ছাগুর জন্মরহস্য উন্মোচন করেছেন ব্লগার চক্র। যদিও তার স্বপ্নে পাওয়া এই থিওরি অফ অরিজিন ব্যাপক জনপ্রিয় তবে আরো যেসব থিউরি আছে তাদের মধ্যে উপপাদ্য ৭৮৬ আর ৪২০ বিশেষ উল্লেখ্য।

ছাগু নিয়ে কি হয়নি! ঝড়াপাতা একটা কালজয়ীপ্যারডি করেছেন। ছাগুরঈশ্বরের সাথে কথপকথন ফাস করেছেন মুখফোড়। মুখফোড়কে বলা যায় ছাগুবিষয়ক হোমারের গদ্য সংস্করণ। ছাগুরামের যে শুধু আলোচকই আছেন, তা নয়। অ:র:পি:র মত কিছু বেরসিক সমালোচক ছাগুর কিছু বেসিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ছাগুর নিয়মিত খোজখবর রাখা এবং করে দেয়াঅনেকের ধর্মকর্মের মধ্যে পড়ে।
ছাগুর ছবির অভাব নেই।
ছাগুর রেফারেন্স হিসেবে অবশ্যপাঠ্য তিনটি ব্লগ--.)এস্কিমো, মুখফোড় এবং অ:র:পি:
(সবার রেফারেন্স পাঠ শেষ হলে আসতে পারে ছাগুনামা ২)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28717056 http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28717056 2007-06-22 19:23:37
ভেলরি টেইলর, আপনি এইবার অফ যান এইবার ধর্ম-কর্মে মন দিন,
বয়স তো কম হল না, এবার ক্ষান্ত দিন।
পোড়ামুখে পড়ে আছেন
অহেতুকদের ধরে আছেন
এক জীবনে অনেক তো হল, বলি ফেরত যান।

কি বললেন, যাবেন না?

তা বলতেই পারেন,
কই আর যাবেন বলুন, থাকুন।
আমাদের কোনো অসুবিধা নেই,
এতদিন থাকতে দিলাম, আর এখন পারবো না!

তবে কিনা, বুঝলেনই তো এখন আমরা আছি।
ম্যানেজেরিয়াল ব্যাপারে আপনার না থাকাই শ্রেয়
বিদেশী মানুষ আপনি, ভাংগাচুরাদের বলেন ভালবাসি
তা যত ইচ্ছা বলুন, ওদের নিয়ে আনন্দ করুন, ফুর্তি করুন
আপনাকে ওদের দরকার, আমাদের তো নয়।
ওদের মত আপনারও
আনন্দ দরকার,
চুপ মেরে মেয়ের খাতায় আঁকিবুকি করুন
এদিক নিয়ে ভাববেন না
আমরা সব গুছিয়ে নেবো।

আপনি বরং পরিবারে সময় দিন।

টাকা পয়সা নিয়ে ভাববেন না,
এজন্য আমরা আছি, সব গুছিয়ে দেবো।
এমন ম্যানেজ করবো যা আপনার ছত্রিশ বছরের প্রবাস জীবনে
কোনোদিন দেখেননি, করা তো দূরের কথা।
ভিক্ষা ছাড়াও যে দাতব্য হয়ে উঠে তা দেখিয়ে দেব।
কত হাজার এফ.সি.আর.পির ফান্ড নিজে ভরে দিয়ে এলাম!

আর এখন তো সবকিছুই পন্য, তাহলে এই সিআরপি নয় কেন?

কি বললেন? আর যাদের জন্য দাতব্য, তারা?
ওহ, এই ব্যাপার!
ওদেরকে দিয়ে দিন অখন্ড অবসর
ওদের তো এখন অবসর
আপনারও।

ওদের জন্য আপনি তো আছেনই।

এত বড় একটা প্রতিষ্ঠান, সেবা, চ্যারেটি, চিকিতসা, ফান্ড
আমাদের কাজ
ভেলরি টেইলর,
আপনি অনেক করেছেন
এবার আমাদেরকে করতে দিন।
আপনি এইবার অফ যান।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28712997 http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28712997 2007-05-28 00:58:10
এক রাতের গল্প (শেষ পর্ব) এক রাতের গল্প - ১
এক রাতের গল্প - ২
অমল খাবার নিয়ে আসে। এবং কিছুটা বুদ্ধির পরিচয় দিয়ে কটা মোমবাতি।
মোমের আলোয় রাখা চিকেন টিক্কা, নান, সালাদ আর কোক - আমরা সবাই হাতে নিয়ে যার যার মতন আঁধারে দাড়িয়ে দাড়িয়ে সাবার করে দেই সব। খাওয়া শেষে পরে থাকে শুধু কয়েকটা খালি গ্লাস, কোকের বোতল আর আমার হ্যাভারস্যাকে দুই বোতল মদ।
কারেন্ট তখনো আসে না।
হাদু সিগারেট ধরায়, তারপর রনি, তারপর কমল।
কিছুক্ষন পর সবাই মাল খাবো- চিন্তাটা সবার মনে গাঢ় হতে হতে নিয়াজে গিয়ে ধ্বস খায়।
হ্যাভারস্যাকে দুই বোতল বিদেশী জিনিস চুপচাপ শুয়ে থাকে।
সিগারেটের হাত বদল হয়। হাদু থেকে সুমন, কমল থেকে টিটু, রনির বাম হাত থেকে ডান।
তারপর মাল খাবো চিন্তাটা আবার সবার মনে ধীরে ধীরে ফিরে আসতে শুরু করে। আগের চেয়ে গাঢ় হয়। তারপর আমাদের সবাইকে ঘিরে চক্কর কাটতে শুরু করে। মাল খাবো, মাল খাবো, মাল খাবো।
এই সময় সিড়িতে পায়ের শব্দ শোনা যায়। থেমে থেমে।
কেউ আসছে।
নিয়াজ বলে উঠে, অমল একটা মোম নিয়ে দেখতো কে আসে?
অমল অনিচ্ছা নিয়ে উঠে মোমটা নিয়ে আস্তে আস্তে দরজার চৌকাঠে গিয়ে দাড়ায়। ওখান থেকে সিড়ি দেখা যাওয়ার কথা।
তারপর মনে হয় আমরা কোনো সিনেমা দেখছি।
দরজার চৌকাঠে অমল, অমলের হাতে মোম। আমরা অমলকে দেখি।
সিনেমার দৃশ্য বদল হয়।
এখন দরজার চৌকাঠে অমল, অমলের হাতে মোম, মোমের আলোয় তুলির মুখ।

আমার হ্যাভারস্যাকে দুই বোতল বিদেশী মদ পাশাপাশি চুপচাপ শুয়ে থাকে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28712482 http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28712482 2007-05-25 15:40:29
এক রাতের গল্প - ২ -এইটা একটা কথা তুই বল্! ট্রাম।
ভাবিষ্ট্ রনি কোনো একজনের টেক্কার উপর ট্রাম্প করতে করতে বলে।
নিয়াজ দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
টিটোর বোধহয় মেজাজ খারাপ হয়। ধুর বলে চৌকির খালি জায়গাটায় শুয়ে পড়ে। আমি ওর মেজাজ খারাপের কারনটা বুঝে ফেলি। আজকের রাতের মজাটা গেল। এত কষ্ট করে জোগাড় করা মাল খাওয়া চাংগে। মাল খাওয়ার জন্য দরকার ফুরফুরে মন। অথচ ব্ন্ধুর মহাসমস্যা। তার নায়িকার অন্যত্র বিয়ে হয়ে যাচ্ছে চব্বিশ ঘন্টা পর। এই সময়ে ফুরফুরে ফুর্তি করা যায় না।
তাও আবার যার প্রব্লেম তার ঘরে, যার নিজের জন্মদিনে ডারলিং আরেকজনের বউ হবে তারই সাথে বসে।
ওরা আবার তাস খেলায় মন দেয়।
সুনসান। সুনসান।
আমি বাইরে বের হই। বালুর ডিবিটার একপাশ ভিজিয়ে তারপর পাশের সদ্য ঢালাই করা পিলারটার গায়ে হেলান দিয়ে সারাদিনের কথা ভাবতে থাকি।
কিছুক্ষন পর কমল আসে। সেও বালুর ডিবিটার শীর্ষ আন্দাজ করে তার জলকামান ছুঁড়ে দেয়। তারপর চেন টানতে টানতে বলে, কি করা যায় বলতো।
আমি কিছু বলি না। মদের দোকানের লোকটার কথা ভাবি। কেমন তাকিয়ে ছিল আমার দিকে। এ কিসের লক্ষন কে জানে।
আমার সাড়া না পেয়ে কমল বলে চলে, ব্যাটা এইজন্যেই বলি ঐসব ফালতু কাজে জড়াইস না। শুধু শুধু। দুইদিন পিতলা পিরিত,আবডুম বাগডুম, চড়ুই পাখির ড্যান্স, তারপর মালদার পার্টি একটা পাইলেই লগে লগে ফুরুত। শালা নিয়াজ, মালের বোতল কোলে নিয়া এখন কান্দো!
অন্ধকারে কমলের মুখ দেখা যায় না। কথা শেষে থু দিয়ে কমল থুথু ফেলে বালির ঢিবির উপর।
আর তখনি কারেন্ট চলে আসে।

মোমবাতিটা প্রায় শেষ হয়ে এসেছিল। হাদু ফু দিয়ে নিভিয়ে দেয়। তারপর মোমটা হাতে নিয়ে বলে, রাত বারোটায় তোমাকে আবার জ্বালাবো সুন্দরী।
অমল বলে, গুরু মোম কিন্তু এই একটাই। আবার বাতি গেলেগা এইটাই ভরসা। নিয়াইজ্জারে ফুও দেয়াইতে হইবো এইটাতে। কিরে নিয়াইজ্জা ফু দিবি না?
অমল হ্য়তো ভুলে গেছে, এখনকার মূল বিষয় আর নিয়াজের জন্মদিন নয়, তুলির বিয়ে।
বশির তাস গুটায়। কারেন্ট আসার পর সবাই হাতের তাস ফেলে দিয়ে নড়েচড়ে ওঠেছে। খেলায় কারো মন নেই।
সুমন ওঠে একটা স্প্রাইটের বোতল হাতে নিয়ে মুখ খুলতে খুলতে বলে, অমল অফ যা। তোর শালা কমনসেন্স নাই।
বলে বোতলে চুমুক দেয়। অমলের বোধহয় হঠাত আসল কথা খেয়াল হয়। কিন্তু নিজের বলা আগের কথাকে সাপোর্ট করতেই হয়তো বলে, তোরা খালি প্রবলেম আমদানি করস। এমন একটা দিন, কই মৌজ করুম তা না।
এইটুকু বলে অমল এদিক ওদিক তাকায়।
শুয়ে থাকা টিটোর হাতে এখন নিয়াজের স্প্যানিশ গীটার। টুং করে একটা তারে আওয়াজ তোলে। অমল টিটোর দিকে তাকিয়ে হাসতে চেষ্ঠা করে।
অমলটা বোকাটে। ভেবেচিন্তে কিছু বলে না।
আমি হ্যাভারসেকটা সরিয়ে নিচে রেখে চেয়ারটায় বসে পড়ি।
কিছু মুহুর্ত কথাহীন কেটে যায়।
নিরবতা কাটাতে হাদু রনিকে জিগ্গাসা করে, ভাবিষ্ট, তোর বালের ঘড়িতে কয়টা বাজেরে?
-সাড়ে নয়টা।
-খিদা লাইগা গেল।
এইবার নিয়াজ উঠে গিয়ে আলনায় ঝুলানো জি্নসের প্যান্ট হাতে নিয়ে পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করে। আজ রাতে ওর আমাদের সবাইকে নান আর চিকেন টিক্কা খাওয়ানোর কথা। পাচশোঁ টাকার একটা নোট বের করে অমলের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে নিয়াজ বলে, যা, তোরা কি খাবি নিয়া আয়।
কথার মধ্যে ঝাঝ টের পাওয়া যায়।
কমল জোরে বলে উঠে, যা অমল তাড়াতাড়ি নিয়া আয়। খাওয়ার পর সবাই মিলা বইসা নিয়াজ আর তুলির ব্যাপারটা একটু ভাবতে হবে। এমনি এমনি তো ছাইড়া দেয়া যায় না। কিছু করন লাগবো।
নিয়াজ টিটোর হাত থেকে গীটারটা বলতে গেলে কেড়ে নেয়। তারপর বলে, আমার ব্যাপার নিয়া তোদের কাউকে কিছু ভাবতে হবে না। তোরা বাল কি খাবি খা, তারপর যারযার মত বাড়ি যাগা।
স্পষ্টতই রাগত স্বর।
অমল দ্রুত বের হয়ে যায়। বশির আমার দিকে তাকায়। কেউ কিছু বলে না।
কারেন্টটা আবার চলে গেলে সুনসান নিরবতার দেহ ফালি ফালি করে কেটে ফেলতেই হ্য়তো গীটারের তারগুলো অহেতুক কেঁপে উঠে।
নিয়াজ গীটার ভালোই বাজায়।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28711328 http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28711328 2007-05-19 01:43:31
এক রাতের গল্প - ০১ মোবাইলে কেউ প্রশ্ন করলে আমি কখনো উত্তর দেইনা। বদলে আমি বলি, 'আপনি ভাল আছেন?'
-ব্যাটা ফাইজলামি করস? হালারপুত, আমি টিটু। কই তুই?
আবার প্রশ্ন। আমি বিগলিত গলায় বলি,
-আসসালামুআলাইকুম। কেমন আছেন টিটু ভাই?
-হারামি, আমার মোবাইলে বেশী ট্যাকা নাই, ফাইজালামি করিস না, হীরা। তোর জন্য ব্যাটা রইদে দাড়াইয়া আছি পাক্কা বিশ মিনিট। আইবি না?
গু খা বলে আমি লাইন কেটে দেই।
কালকে নিয়াজের জন্মদিন। আজ রাতে এই উপলক্ষে পার্টি। রাত বারোটায়, নিয়াজের মেসে।
আমার আর টিটুর উপর দায়িত্ব দুই বোতল মাল কেনার। এক বোতল কেরু আর এক বোতল বিদেশী, যেটা পাওয়া যায়।
টিটুর এসএমএস আসে- 'আমি গ্যালাক্সির সামনে। কাম কুইক।'

দূর থেকে টিটুকে দেখে মায়া হয়। বেচারা সত্যি সত্যি এই দুপুরের রোদে দাড়িয়ে আছে। এত তাড়াতাড়ি বের হবার প্ল্যান করা ঠিক হয়নি।
আমি রিকসা ছেড়ে দিয়ে টিটুর কাছে যাই। আমাকে দেখে টিটু বোধহয় স্বস্তিবোধ করে। বলে, কিরে হালা, এতক্ষণ লাগে আসতে?
আমি শুধু বলি, চল্।
দুজনে সিড়ি বেয়ে উঠে হোটেলে ঢুকি।
কিছুক্ষণ পর আমাদেরকে আবার রিকশা নিতে হয়। কেরু পাওয়া যায়নি। এরা নাকি বাংলা মদ বিক্রি করে না।
আবার রোদ।
গ্রীনরোডের দোকান বন্ধ। এক বোতলে এতগুলা পোলাপানের হবে না।তখনই আরেকটা বিদেশী কিনলে ভাল হতো।
মগবাজারের দোকানটাও দোতলায়। সিড়িতে সিগারেটের তীব্র গন্ধ। মদের দোকানে সিগারেটের গন্ধ কেমন বেমানান মনে হয় আমার কাছে। মদের দোকানে থাকবে মদের গন্ধ। ভুড়ভুড়ে নয়,এলকোহলের মিষ্টি গন্ধ। আমি সিগারেট খাই না। বমি আসে। একারনেই হয়তোবা আমার ভাল লাগে না।
যে লোকটা দোকানে ছিল সে বারবার আমার দিকে তাকাচ্ছে। আমার হাতে হ্যাভারসেক। ভেতরে অন্য দোকানের মাল। লোকটা গন্ধ পেয়ে গেছে নাকি।
এখানেও কেরু নেই। রাম পাওয়া গেল। ফালতু জিনিস। তবে বোতলটা সুন্দর। কিনে ব্যাগে ভরার সময় দুই বোতলে ঠোক্কর খাওয়ার শব্দ হলো। লোকটার চোখে চোখ পড়তেই দেখি সে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। থাক ব্যাটা। কার কি।

জিগাতলা ফিরতে ফিরতে সন্ধা। চারদিকে অন্ধকার। কারেন্ট চলে গেছে।
হাতড়ে হাতড়ে সিড়ি বেয়ে মেসবাড়িটার ছয়তলায় উঠা। এই তলায় এখনও কাজ চলছে। একটাই ঘর। বাকী অংশে নতুন ছাদ উঠছে। বাঁশ, কাঠ, ইট বালুর স্তুপ। হিসু পেলে এখানেই ছেড়ে দেয়া। সুব্যবস্থাই বলা যায়। ঝামেলা কম। আর অন্যটার জন্য পাঁচতলার বাথরুম। গোসলের জন্যও তাই।
খাবার নিচ থেকে আসে।
মোমবাতির আলোতে কটা মুখ দেখা যায়, বাকীগুলো জলন্ত সিগারেটের আড়ালে পড়ে থাকে।
মেঝেতে মোমটা ঘিরে অমল, বশির, হাদু (গুরু) আর সুমনের (সাধু) হাতে তাস।
নিয়াজ, রনি (ভাবিস্ট) আর কমল চৌকিতে শুয়ে বসা। ওখানে কোনায় কিছুটা জমাট বাধা আঁধার।
পাশে চার বোতল স্প্রাইটের বোতল, কয়েকটা গ্লাস, আর পলিথিন ব্যাগে হয়তো চানাচুড়। সেরকমই কথা ছিল।
সবাই আমাদের ঢুকতে দেখে ঘুরে তাকায়। ব্যাগটা খালি চেয়ারটায় রাখতেই এক হাতে তাস নিয়ে সাধু ডান পা দোলাতে দোলাতে আমাদের দিকে চেয়ে বলে উঠে, খবর খারাপ রে। কালকে তুলির বিয়া।
চট করে নিয়াজের মুখের দিকে তাকাই। ঘরের কোনায় জমে থাকা অন্ধকার এখন নিয়াজের মুখ ঢেকে রাখে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28711047 http://www.somewhereinblog.net/blog/fahablog/28711047 2007-05-17 14:57:30