গত ৫ই জুন ২০০৯ তারিখের বাংলাদেশের একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়, ‘ভারত থেকে বিস্ফোরক সংগ্রহ প্রসঙ্গে জেএমবি'র বোমারু মিজান জানিয়েছে, জেএমবির বিস্কোরক সংগ্রহ করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি দল আছে। সেটা তদারক করেন সংগঠনের আমির সাইদুর রহমান ও ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাহফুজ ওরফে সোহেল। মাহফুজ এর আগে জেএমবির সামরিক শাখার প্রধান ছিলেন। তাঁর পর বোমারু মিজান সামরিক শাখার দায়িত্ব পান।
মিজান জানান, জেএমবি কিছু বিস্ফোরক দেশের বিভিন্ন রাসায়নিকের দোকান থেকে সংগ্রহ করে। তবে পিস্তল, পাওয়ার জেলসহ আরও কিছু বিস্ফোরক সংগ্রহ করা হয় ভারত থেকে। এ কাজে সহায়তার জন্য ভারতের মালদহে জেএমবির একটি শাখা আছে। তারা অস্ত্র-বিস্কোরক সংগ্রহ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর গোদাগাড়ী সীমান্ত দিয়ে এপারে পাঠায়। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে গত বছরের (২০০৮) অক্টোবরে গ্রেফতার হওয়া জেএমবির শূরা সদস্য রফিকও একই রকম তথ্য দিয়েছিলেন।
ফাঁসির আগে জেএমবির প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আব্দুর রহমানও টিএফআই কেন্দ্রে দেয়া জবানবন্দিতে এমন তথ্য দিয়েছিলেন। শায়খ আব্দুর রহমান জবানবন্দিতে বলেছিলেন, ২০০২ সালে ভারতের মালদহ জেলায় জেএমবির কার্যক্রম শুরু হয়। মালদহকে জেএমবির ৬৫তম সাংগঠনিক জেলা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মালদহ শাখার মাধ্যমে জেএমবি ওয়ান শুটারগান, পাওয়ার জেল ও ডেটোনেটর সংগ্রহ করে।'
অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, ১৯৯৮-৯৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১১-১২ বছর ধরে ভারত থেকে এই সকল সন্ত্রাসী কাজের বোমার সরঞ্জাম আসে। আর পশ্চিমবঙ্গের মালদহে বিচ্ছিন্নভাবে নয়, টানা ১১-১২ বছর ধরে জেএমবির গোপন ঘাঁটি আছে। তাই এতটা সময় গোয়েন্দা সংস্থা ও ভারতীয় প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে কিভাবে বাংলাদেশে বোমার সরঞ্জাম আসে- সে প্রশ্নও যথারীতি উঠছে।
উল্লেখ করা যেতে পারে, ২০০৫-এর ১৭ আগস্টের দেশ কাঁপানো ৬৩ জেলায় ৪ শতাধিক সিরিজ বোমা হামলায় ১ জন নিহত হবার ঘটনার জন্য ভারতকে দায়ী করেন তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধূরী। গত ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০০৫ দিল্লীতে অনুষ্ঠিত ‘ইন্দো-বাংলা সীমান্ত সমন্বয়' শীর্ষক ৩ দিনব্যাপী অনৃুষ্ঠিত এক কনফারেন্সে ঢাকার প্রতিনিধিত্ব করার সময় তিনি এই ঘটনায় ভারতের সংশ্লিষ্টতা থাকার অভিযোগ করেন।
তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধূরী বলেন, এই সন্ত্রাসীরা অস্ত্র পেয়েছে ভারত থেকে এবং ভারতের কয়েকটি ক্যাম্পে তাদের ট্রেনিং দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের তদন্তে তা প্রকাশ পেয়েছে। আপনারাই এর জন্য দায়ী। জেনারেল চৌধুরী বলেন, ‘ভারতীয় দুর্বৃত্তরা সীমান্ত পার হয়ে এসে দেশব্যাপী এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে।'
যদিও এই মক্তব্যকে ভিত্তিহীন এবং মানহানীকর উল্লেখ করে ভারতীয় মুখপাত্র জানান, এতে নয়াদিল্লী খুবই মর্মাহত এবং দুঃখিত। মুখপাত্র জানান, বিডিআর এবং বিএসএফ-এর মধ্যে গঠনমূলক আলোচনার পর এই ধরনের বক্তব্য দুঃখজনক। বিএসএফ-এর ডিজি জানান, বোমা হামলার ঘটনায় যে ৫শ' ব্যক্তি আটক হয়েছে তার মধ্যে ভারতীয় মাত্র একজন। তিনি আরো বলেন, গিয়াসউদ্দিন ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশে বাস করছে এবং সে সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশী হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


