আমার প্রিয় পোস্ট
- ফিরে দেখা ২০১০ : বছরজুড়ে সামহোয়্যারইন ব্লগে যা কিছু আলোচিত-সমালোচিত... - ফিউশন ফাইভ
- টিপাইমুখ বাধ প্রসংগে: চাই সংগ্রামের আন্ত:সংযোগ - দিনমজুর
- যেকোন Webpage থেকে বিজ্ঞাপন অপসারন করুন, বিজ্ঞাপনহীন ওয়েবের জগতে আপনাকে স্বাগতম! (রিপোস্ট)
- নাফিস ইফতেখার
- সামহোয়ারইনের যত্তসব অপশনের ব্যাবচ্ছেদ - কাঙাল মামা
- খিস্তি ঠাটে ত্রিতাল ভৈরবের জঙ্গনামা: সামহোয়ার নিয়ে আরো কিছু ভণিতা - রিফাত হাসান
- ফেসবুকে বাংলা অক্ষর ছোট দেখার সমস্যা দূর করে নিন সহজেই.... - সুনীল সমুদ্র
- সাংবাদিক জীবন: তিনি যেভাবে নির্বাচনী চান্দা দিচ্ছিলেন...... - শওকত হোসেন মাসুম
- ফাহমিদুলের আত্মপরিচয় অনুসন্ধান: পুনর্পাঠ - ভূপর্যটক
- হাইব্রীড বীজ নিয়ে আশঙ্কা সত্যি হলো এবার 'সত্যিরা' ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ! - মনজুরুল হক
- দুইরকম তারুণ্য - সুমন রহমান
- ভাস্কর্য বিবাদ: লালন উৎখাতের মচ্ছব বসিয়ে হাওয়ার ওপর তাওয়া গরম করে কার জন্য পিঠা ভাজা হচ্ছে? - ফারুক ওয়াসিফ
- গ্লোবাল ভয়েসের সপ্তাহের ব্লগার হিসাবে নির্বাচিত রেজওয়ান ভাইয়ের অনন্য সাক্ষাৎকার - কৌশিক
- অর্ন্তজালের বাংলা ওয়েব সাইটগুলোর একটা তালিকা তৈরী করলাম। - একজন ব্লগার
- বাংলা ব্লগের বিবর্তন ও সম্ভাবনা - রেজওয়ান
- বাংলা ব্লগ ও ব্লগ পলিটিক্স - রেজওয়ান
- পোস্ট ব্রাত্য রাইসুর, মরীয়া বিতর্ক মানস চৌধুরীর এবং আমাদের ব্লগারকূল - ফাহমিদুল হক
- সংবাদপত্রগুলোর কার অবস্থান কেমন - কাঙাল
- ফাহমিদুল হকের বহুলপঠিত একটি পোস্ট এবং ব্লগের লিখিয়েরা: একটি পর্যবেক্ষণ - রিফাত হাসান
- আগুণের পরশমনিতে ফাহমিদুল হক ও তার সাহিত্যের সুবাস - কৌশিক
- ফিরে দেখা ইতিহাস : ভাষা আন্দোলনের দিনপন্জী (১৯৪৭-৫৬)। উৎসর্গ - সকল ভাষাশহীদকে - মিরাজ
- আমেরিকা!!! - লাল দরজা
- শহরে ষোল জনা বোম্বেটে / করিয়ে পাগলপারা / নিলো তারা সব লুটে - মাহবুব মোর্শেদ
- যারা কথা বলার সময় বাংলার সাথে ইংরেজী মিশায় - তাদের কেন যেন বাটপার ধরনের মানুষ মনে হয়! - এস্কিমো
এই সময়ে চলচ্চিত্র-সংসদ আন্দোলন
২৬ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১০:৪৯
সময় পাল্টেছে, তাই এই সময়ে চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের উদ্দেশ্য, কর্মপরিধি, তৎপরতা কেমন হবে তা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। এদেশে ষাট, সত্তর ও আশির দশকে সংসদ আন্দোলন যেমন চাঙ্গা ছিল, বিগত দুই দশক ধরে তাতে তীব্র ভাটার টান। পাল্টানো সময়ে কেবল এটুকুই দ্রষ্টব্য নয়, চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের অন্যতম যে-কার্যক্রম, ভালো চলচ্চিত্র সদস্যদের দেখানো, তাও তাৎপর্যহীন হয়ে পড়েছে। কারণ, অতীতে-দুর্লভ সেইসব ক্লাসিক কিংবা মডার্ন ক্লাসিক চলচ্চিত্রগুলো এখন ডিভিডি-আকারে ঢাকায় সুলভ। তাই অদেখা ভিনদেশী চলচ্চিত্র দেখানোর মাধ্যমে চলচ্চিত্র-সংসদগুলো সদস্যদের যেভাবে চমৎকৃত ও চমকিত করতেন, সেই মহত্ত্ব আর শেষ পর্যন্ত বলবৎ থাকছে না। একশো টাকাতেই একটি 'সেভেন্থ সিল' বা 'সিটিজেন কেন' বা 'ব্যাটেলশিপ পটেমকিন' যেকেউই সংগ্রহ করতে পারেন। এমনকি ধীরে ধীরে যেকেউ নিজ বাসগৃহেই একটি ফিল্ম-আর্কাইভ গড়ে তুলতে পারেন, যেমন সংগ্রহ আগে কেবল চলচ্চিত্র সংসদগুলোরই ছিল। প্রযুক্তির কল্যাণে চলচ্চিত্র-সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায় থেকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সম্প্রসারিত হয়েছে। এরকম একটি প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলন কি একটি বিগতপ্রায় প্রপঞ্চে পরিণত হবে, নাকি এর তৎপরতার ধরন পরিবর্তিত হবে? এই নিবন্ধে এবিষয়টিতেই আলোকপাত করা হবে।
এই সময়ে চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের কার্যক্রম অন্তঃত তিনটি এলাকায় চলতে পারে: চলচ্চিত্র আস্বাদন, চলচ্চিত্র নির্মাণ ও চলচ্চিত্র-সংস্কৃতির উন্নয়ন। অতীতে চলচ্চিত্র প্রদর্শনই সংসদের প্রধান কাজের অন্তর্গত ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে দায়িত্ব কেবল চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মধ্যে সীমিত রাখলে চলবে না, বরং প্রদর্শিত বা নির্বাচিত চলচ্চিত্রকে নিয়ে আলোচনা অনেক বেশি জরুরি। চলচ্চিত্রের সহজপ্রাপ্যতা চলচ্চিত্রপ্রদর্শনের বিষয়টিকে অপেক্ষাকৃত অগুরুত্বপূর্ণ কাজে পরিগণিত করেছে। তার স্থলে চলচ্চিত্র আস্বাদনের বিষয়গুলোকে জোরদার করা একটি ভালো সংসদের কাজ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আস্বাদনের কাজটি হতে পারে নানা উপায়ে। একটি হতে পারে নির্বাচিত চলচ্চিত্র অথবা চলচ্চিত্রের তাত্ত্বিক দিক নিয়ে নিয়মিত আলোচনা। সাপ্তাহিক পাঠচক্র এক্ষেত্রে খুব কার্যকর হতে পারে। বড়ো আকারে সেমিনারও মাঝে মাঝে করা যেতে পারে। আর প্রয়োজন প্রকাশনার। এটিও যতটা সম্ভব নিয়মিত করা দরকার। নিয়মিতভাবে চলচ্চিত্রবিষয়ক একটি পত্রিকা চালানোই একটি সংসদের বিরাট একটি অর্জন হতে পারে। পাঠচক্র, সেমিনার ও প্রকাশনার মাধ্যমে চলচ্চিত্র আস্বাদনের পাশাপাশি চলচ্চিত্র সমালোচনা বা গবেষণার একটি ধারাও তৈরী হতে পারে। যেকোনো দেশের উন্নত চলচ্চিত্র-সংস্কৃতি বিকাশে একটি শক্ত সমালোচনা-গবেষণার ধারা খুবই জরুরি। আমাদের দেশের বাস্তবতা হলো চলচ্চিত্র-নির্মাতাদেরই চলচ্চিত্রবিষয়ক লেখালেখি করতে দেখা যায়। এর কারণ চলচ্চিত্র সমালোচক-গবেষকের অভাব। কোনো পরিচালক যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে লেখেন ভিন্ন কথা, কিন্তু অন্য কেউ একাজটি করছে না বলে তা যদি তাদের ঘাড়ে দায়িত্বের মতো এসে পড়ে তবে তা সার্বিক চলচ্চিত্র সংস্কৃতির দৈন্যকেই নির্দেশ করে।
অগ্রগণ্য চলচ্চিত্র সংসদ কর্মী মুহম্মদ খসরু মনে করতেন চলচ্চিত্রনির্মাণ সংসদের কাজ নয়। কিন্তু একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে আজকের স্বাধীনধারার স্বনামখ্যাত পরিচালকবৃন্দ -- তারেক মাসুদ, মোরশেদুল ইসলাম, তানভীর মোকাম্মেল, আবু সাইয়ীদ -- এরা প্রত্যেকেই চলচ্চিত্র সংসদকর্মী ছিলেন। এমনকি আশির দশকে শুরু হওয়া স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র আন্দোলন যা স্বাধীনধারায় রূপলাভ করেছে, তাকে সরাসরি চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের ফসলই বলতে হবে। তাই বর্তমান সময়ে চলচ্চিত্র সংসদের পরিচালক সৃষ্টির কাজটি বাদ পড়ছে না। বরং পূর্বে সংসদগুলোর তেমন কোনো ল্য না-থাকলেও পরিচালকরা ঠিকই বেরিয়ে এসেছিলেন, বর্তমানে একটি সংসদের ল্যই হতে পারে চলচ্চিত্রনির্মাতা তৈরীর। নিয়মিত ছবি দেখা-আলোচনার পাশাপাশি এপ্রেসিয়েশন কোর্স আয়োজনের মাধ্যমেও সংসদ কাজটি করতে পারে। কোনো সম্ভাবনাময় নির্মাতার জন্য অর্থ সংগ্রহ করাও সংসদের কাজের বাইরে পড়বে না।
সার্বিক চলচ্চিত্র-সংস্কৃতি বিকাশের জন্য অবদান রাখার বিষয়টি অনেক ব্যাপক। এবং একটি সংসদের পক্ষে এর পুরো এলাকায় কাজ করা সম্ভব নয়। একটি সংসদ কয়েকটি লক্ষ্য স্থির করতে পারে। যেমন, চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের তৎপরতা কেবলই রাজধানীকেন্দ্রিকÑ এরকম একটি অভিযোগ রয়েছে। একটি সংসদ এর তৎপরতাকে ঢাকার বাইরেও ছড়িয়ে দেবার মতো গুরুদায়িত্ব নিতে পারে। প্রতিটি জেলায় না হোক, প্রতিটি বিভাগীয় কিংবা বড়ো বেশ কয়েকটি শহরে একটি সংসদের শাখা খোলা যেতে পারে। সেইসব শাখা স্থানীয় সদস্যদের দ্বারা স্বাধীনভাবে পরিচালিত হতে পারে। কেন্দ্রীয় সংসদ কেবল কিছু দিকনির্দেশনা দেবে। এই পর্যায়ে এসে চলচ্চিত্রপ্রদর্শনের পুরনো কার্যক্রমটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ ক্লাসিক চলচ্চিত্রগুলো কেবল ঢাকাতেই পাওয়া যায়। ঢাকার বাইরের শহরগুলোতে সংসদের শাখাগুলোর আর্কাইভ এক্ষেত্রে বিশ্বচলচ্চিত্রের বিশাল ভাণ্ডার স্থানীয় দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে পারে, নিয়মিত চলচ্চিত্রপ্রদর্শনের মাধ্যমে এবং চলচ্চিত্র উৎসবের মাধ্যমে। যদি জেলা পর্যায়ে শাখা খোলাটা খুব বড়ো ব্যবস্থাপনার কাজ বলে মনে হয়, তবে পর্যায়ক্রমে জেলাগুলোতে উৎসব করাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ হতে পারে। চলচ্চিত্রের সহজপ্রাপ্যতা যেকোনো উৎসব আয়োজন করাকেও সহজ করে দিয়েছে। উন্নত চলচ্চিত্র কী, এই বোধটা ঢাকার বাইরে ছড়িয়ে দেয়া খুবই দরকারি কাজ এই মুহূর্তে। কারণ, ডিজিটাল প্রযুক্তির কারণে এখন চলচ্চিত্রনির্মাণের খরচ অনেক কমে আসছে এবং সম্পাদনাসহ পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজগুলোও প্রায় ব্যক্তিগত পর্যায়ে চলে আসছে। এখন চাঁপাই নবাবগঞ্জের কিংবা বাগেরহাটের একজন মেধাবী মানুষের পক্ষে চলচ্চিত্র নির্মাণের সাহস করা সম্ভব। ঢাকায় দৌড়াদৌড়ি ছাড়াই তিনি এই নির্মাণের কাজটি সারতে পারেন। স্থানীয় পর্যায়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র স্থানীয়, জাতীয় এবং এমনকি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রদর্শিত হতে পারে। এজন্য স্থানীয় ঐ শিল্পমনস্ক মেধাবী মানুষটিকে বিশ্বমানের চলচ্চিত্রগুলোর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া জরুরি। মানি, এই কাজটি বাস্তবায়নে সরকারী উদ্যোগ থাকলে আরও ভালো হতো, কিন্তু যেহেতু তা হবার কোনো সম্ভাবনা নেই, তাই চলচ্চিত্র সংসদই শেষ ভরসাস্থল যারা চলচ্চিত্র-সংস্কৃতি সম্প্রসারণের কাজটি করতে পারে।
প্রকাশ করা হয়েছে: চলচ্চিত্র বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০০৭ বিকাল ৩:১০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
রাহা সংসদের কাজ কী তাহলে, ছবি দেখানো? ঐ কাজটা তো গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে। সংসদ আন্দোলন চলচ্চিত্রকার সৃষ্টির কাজটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে করতেই পারে। পূর্ণাঙ্গ ফিল্ম ইনস্টিটিউট তো দেশে নেই, আর ইনস্টিটিউট তো কেবল পরিচালক সৃষ্টি করেনা, টেকনিশিয়ানও তৈরি করে। ফিল্ম ইন্সটিটিউট হলে সংসদের কর্মকাণ্ড রিভাইস করা যাবে।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















আর সংসদ কর্মী যে চলচ্চিত্রকার হবেনা তা নয় । সত্যজিৎই তো চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলন সূত্রপাত করেছেন ।
চলচ্চিত্র সংসদ নয় চলচ্চিত্র বানানো শেখার জন্য চাই ফিল্ম ইনিস্টিটিউট ।