আমার প্রিয় পোস্ট

সঙ্গে সাহিত্যের সুবাস ...

পিএইচডির রাজনীতি: জ্ঞানের গোঁসাই অথবা অচেনা বামুনের পৈতে

৩০ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১০:১৮

শেয়ারঃ
0 16 0

[লেখাটি গতবছর সমকালে ছাপা হয়েছিল এবং বেশ বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। সামহোয়ারের যারা পড়েননি, তাদের জন্য পোস্ট করলাম]

আমার দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, একদিন পিএইচডি করবো এবং তারপরে পিএইচডির রাজনীতি নিয়ে বড়ো প্রবন্ধ লিখবো। পিএইচডি করার পূর্বেই এর রাজনীতি নিয়ে মাঠে নামাটাকে অনেকে পিএইচডি করতে অসমর্থ লোকের ঈর্ষামাখা কাতরোক্তি বলে ভেবে নিতে পারেন বলেই, এতোদিন কিছু লিখি নি। কিন্তু পিএইচডি করাটাও ঠিক হয়ে উঠছে না। তাই এখন মনে হচ্ছে পিএইচডি করি বা না করি একটি নাতিদীর্ঘ নিবন্ধ এখনই লিখে ফেলা যায়। কারণ পিএইচডির সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দেবার পর আমি যখন সিজনড্ টিম্বার হয়ে যাবো, তখন এই শিরোনামের কিছু লিখতে গেলে, এই ভাবনাগুলো থেকেও রস ঝরে গিয়ে তা আরেকটি নিরস অভিসন্দর্ভে রূপ পাবে। অতএব টাটকা থাকতেই ভাবনাগুলো ডাউনলোড করা ভালো। পেয়ারা ডাঁসাই ভালো। নারিকেলে শাঁস থাকে, কিন্তু তার পানি ডাবের মতো মিষ্টি হয় না।

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিকতা করছি প্রায় আট বছর। এই আট বছরে অসংখ্যবার আমার শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে একটা প্রশ্ন শুনেছি।
Ñ কী, লেখালেখি করছো না?
Ñ চলছে টুকটাক, গত মাসে একটা গল্প ছাপা হয়েছে আর গত বইমেলায় ...
Ñ আরে ঐ লেখালেখি না, বাইরে লিখছো না, পিএইচডির জন্য?
Ñ নাহ্, ও সম্ভবত আমার কম্মো নয় ...
আমি শুভানুধ্যায়ীর প্রশ্নটা প্রথমেই বুঝতে পারি, কিন্তু মজা পাবার জন্য কথা চালিয়ে যাই। শুভানুধ্যায়ীরা আমাকে ভালোবাসেন, আমার ভালো চান, তাই পিএইচডিবঞ্চিত আমাকে তারা দেখতে চাননা। ৩০/৩৫ পার হয়ে যাবার পরও কেউ বিয়ে না করলে যেধরনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে দেখা যায়, এেেত্র উদ্বেগটা তেমনই। বলা বাহুল্য, শুভানুধ্যায়ীদের এই উৎকণ্ঠা হৃদয়ে সবসময় প্রসন্ন ভাব আনে না।

রাজনীতিটা এভাবেই চালু থাকে, যে পিএইচডি না করলে ‘মাস্টার’ কখনো সত্যিকারের ‘টিচার’ হয়ে উঠতে পারে না। তা আপনি বাইরে লেখালেখি করে, এডমিশন নিয়ে, স্কলারশিপ নিয়ে চার-দশ বছরব্যাপী গো-এষণা করে অশ্বডিম্ব বা মনুষ্যমল যাই পয়দা করুন না কেন, কেউ অডিট করতে আসবে না। আপনার পিএইচডি না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিকতায় আপনি অচ্ছ্যুৎ, বিপন্ন।

পিএইচডির মধ্যে আবার ভালোমন্দ আছে। আমেরিকা-কানাডায় করলে তার কদর এক রকম, ইংল্যান্ডে-অস্ট্রেলিয়ায় করলে আরেক রকম, ইউরোপের অন্যান্য দেশে করলে আরেক রকম। এই তিনটি বৃহৎ জায়গা থেকে পিএইচডি করলে আপনি এলিট-পিএইচডি কাবে যোগ দিলেন। আর এশিয়ার কোনো দেশে করলে, বিশেষত ভারতে করলে আপনার সম্পর্কে ধারণা করা হবে: উমহু, বিদেশে পিএইচডি হলো বটে, কিন্তু একেবারে ঘরের কাছে! আর দেশে পিএইচডি করলে তো আপনি প্রলেতারিয়েত ডক্টরেট। অস্তিত্বের/আত্মপরিচয়ের এই সঙ্কটে পড়ে দেশী ডক্টরেটরা দ্রুত ও অবশ্যম্ভাবীরূপে নামের আগে ‘ড বিসর্গ’ লাগান। বিদেশ থেকে করা পিএইচডি-এলিটরা অবশ্য চাইলে ‘ড বিসর্গ’ না লাগিয়েই দিব্যি চলাফেরা করতে পারেন। তাদের আত্মপরিচয়ের সঙ্কট নেই। আরেক ধরনের প্রলেতারিয়েত ডক্টরেট ছিলেন, সাবেক সোভিয়েত ফেরত তারা। তারা ডক্টরেট করে দেশে বাড়তি সমাদর পেতেন না, কারণ এই দেশটি পুঁজিতান্ত্রিক।

দেখা যাচ্ছে কোত্থেকে পিএইচডি করলেন, সেটাই প্রধান বিবেচ্য বিষয়। আপনার সহকর্মীরা, ছাত্র-ছাত্রীরা, সমাজের লোকজন, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি, সর্বোপরি দাতাগোষ্ঠী ও এনজিওরাÑ যারা পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের কনসাল্টেন্ট হিসেবে বরণ করে নিতে উদগ্রীব হয়ে থাকে Ñ এদের সবার কাছে আপনার কদর নির্ভর করবে আপনি কোত্থেকে পিএইচডি করলেন তার ওপর। কী কাজ করলেন, আপনার নিজ জ্ঞানকাণ্ডে কী নতুন যোগ হলো, মানবেতিহাসের অগ্রগতিতে কতটুকু অবদান রাখতে পারলো আপনার কাজটিÑ এসব কেউ বিবেচনায় আনবে না। দেশে বসেও কিংবা ভারতে গিয়েও যে যুগান্তকারী গবেষণা করা সম্ভব এবং নর্থ আমেরিকায় গিয়েও যে অতি নিুমানের আবর্জনা উৎপাদন হতে পারেÑ পিএইচডির পলিটিক্স সেই সম্ভবনাগুলোকে নাকচ করে দেয়।

এই গেলো রাজনীতির একটি দিক। এবার আরেকটি দিকে আলো ফেলা যাক। দেখা যায়, পিএইচডি করে আসার পরও একজন ডক্টরেটের সহকর্মী/বন্ধুরা জানতে পারেন না তিনি কী বিষয়ে জ্ঞানার্জন করলেন। তিনি ফিরে আসার পরে সেটা নিয়ে কারও সঙ্গে কোনো আলোচনা করেন না, কোনো সেমিনার দেন না, এমনকি তাকে ঘিরে বিভাগীয় মিটিঙে কোনো কোর্সও যেমন অফার করা যায় না তেমনি বিদ্যমান কোনো কোর্সই এই নব্যবিশেষজ্ঞের হাতে পুরোপুরি ছেড়ে দেয়া যায় না। এর কারণ কী? এর কারণ হলো দুটো: এক, তার অভিসন্দর্ভটি অন্যকে দেখানোর মতো কিছু হয়নি, একেবারে যাচ্ছেতাই ধরনের; দুই, তিনি এমন একটি বিষয়ে পড়ে এসেছেন যার কোনো সংশ্লিষ্টতা দেশীয় প্রোপটে, বিভাগীয় সিলেবাসে নেই।

কিন্তু তিনি এরকম একটি সম্পর্কহীন বিষয়ে তিনি কেন গবেষণা করতে গেলেন? এই জায়গায় এসে জ্ঞানের জগতের আন্তর্জাতিক রাজনীতিটা আরও প্রকটিত হয়ে ওঠে। আপনি বেশিরভাগ সময়েই আপনার পছন্দ মতো বিষয়ে ফান্ড/স্কলারশিপ পাবেন না। আপনি হয়তো যথেষ্ট পুরুষতান্ত্রিক, আপনি পড়তে গেলেন জেন্ডার স্টাডিজ। আপনি হয়তো প্রগতিশীল বামপন্থী, পড়তে গেলেন মার্কেট লিবারাইজেশনের ওপরেÑ ফিরে এসে আপনি হবেন বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের কনসাল্টেন্ট। আপনি পলিটিক্যাল ইকোনমির ধারায় পড়তে চান, কিন্তু এরকম কোনো প্রোগ্রামের অফার আপনি পশ্চিমা দেশগুলোতে সচরাচর পাবেন না। কেউ কেউ অবশ্য এরমধ্যেই কিছু একটা পেয়ে যান, তারা ভাগ্যবান। শোনা যায়, আমেরিকায় পলিটিক্যাল ইকোনমি নিয়ে পড়াশোনা হয়, তবে সেটা নাকি আবার কার্ল মার্কসের পলিটিক্যাল ইকোনমি নয়, ভিন্ন কোনো বস্তু। জাপানে বায়োলজিকাল সায়েন্সে যারা ফান্ড পেয়ে যান এবং ফিরে আসেন প্রচুর অর্থ ও একটি ডিগ্রি নিয়েÑ তারা নাকি নিজেই বুঝতে পারেন না, কী পয়দা করে এলেন। কারণ তিনি যে প্রফেসরের অধীনে পিএইচডি করেছেন, তিনি আবার কাজ করছেন বড়ো কোনো কোম্পানির বিরাট এক প্রজেক্ট নিয়ে। সেই বড়ো প্রজেক্টের বেশ কয়েকজন নাট-বল্টুর মতো তিনিও একটা কিছু বের করে দেন, প্রফেসর সবগুলো বল্টু জোড়া দিয়ে একটা প্রজেক্ট নামিয়ে ফেলেন।

তো হরেদরে এরকম পিএইচডিই হচ্ছে। আর এরকম একটি পিএইচডি নিয়ে আপনি দিব্যি করে কেটে খেতে পারেন। আপনি দ্রুত প্রফেসর/অধ্যাপক হতে পারবেন, সমাজে প্রতিপত্তি লাভ করবেন আর কনসাল্টেন্সির বাজারে দাপট দেখিয়ে যথেষ্ট অর্থের মালিকও হতে পারবেন। এই মূল ধারার পিএইচডিধারীদের মধ্যে একটি বিরাট অংশই আবার সারা জীবনে ঐ একটি পিএইচডি ছাড়া আর কিছুই করেন নি। পিএইচডির আগে তিনি এমন কিছু লেখেন নি, যা তার ডিসিপ্লিনে নতুন কিছু যোগ করেছে বা জ্ঞানের জগতে আলোড়ন তুলেছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েই, নিজের ডিসিপ্লিনকে ভালোভাবে না বুঝেই, টোয়েফল, জিআরই , আইএলটিএস-এ ভালো স্কোরের জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করেন, একে ওকে ধরে একটি প্রপোজাল রেডি করেন এবং অক্সফোর্ড-কেম্ব্রিজ মেরে আসেন। ফিরে এসেও তার বিশেষ কোনো অগ্রগতি হয় না, নিজের ডিসিপ্লিনের জন্য, দেশের অগ্রগতিতে কাজে লাগে এরকম নতুন কোনো গবেষণায় তিনি মনোযোগী হন না; হয় বিগ ইউনিভার্সিটি বা বিগ প্রফেসরের নাম আউড়ে অলস সময় পার করে দেন, নয়তো ভাড়াটে গবেষক হয়ে অর্থোপার্জন করেন। এর আগে পরে অবশ্যই তিনি গবেষণাধর্মী কিছু কাজ করেন, ঠিক গুনে গুনে ‘রিকগনাইজড জার্নাল’-এ ততগুলো ‘আর্টিকেল’ই ছাপেন যা তার প্রমোশনের প্রয়োজনে লাগে। তার মতো অন্য অনেকের প্রমোশনমুখী আর্টিকেল নিয়ে প্রকাশিত রিকগনাইজড জার্নালগুলোর দশাও ল করার মতো। বিনামূল্যে শিকদের দেয়া হলেও তারা নিজের লেখা না থাকলে ঐ জার্নালের কপি নিজের কাছে রাখেন না। সেরদরে বেচে দেন। পরিহাসের বিষয় হলো এইসব জার্নাল কোনো বিদ্যাভবনে নয়, নীলেেতর পুরনো বইয়ের দোকানগুলোতে সবচেয়ে বেশি দেখতে পাওয়া যায় ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত শিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সমালোচক মোহিতলাল মজুমদার, বিজ্ঞানী সত্যেন বোস, জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, ভাষাবিজ্ঞানী আব্দুল হাই, নাট্যকার মুনীর চৌধুরী, দর্শন-লেখক সরদার ফজলুর করিমের কোনো পিএইচডি ছিলো না। কবি-লেখক-সম্পাদক ও বহু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বুদ্ধদেব বসুরও পিএইচডি ছিলো না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, আনু মুহাম্মদের পিএইচডি নেই। এরকম নাম আরও অনেক পাওয়া যাবে। অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক পিএইচডি করতে গিয়েও শেষ না করে ফিরে এসেছেন। জিনিসটা তার ধাতে সয় নি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবিতদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত শিকদের কারোরই পিএইচডি নেই। হাসান আজিজুল হক অস্ট্রেলিয়ায় কী একটা করতে গিয়ে কয়েক মাস থেকেই চলে এসেছেন। তারও ধাতে সয় নি। এরকম সনৎ কুমার সাহা, শহিদুল ইসলাম কিংবা জুলফিকার মতিনÑ কারোরই পিএইচডি নেই। অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ ইউনিভার্সিটির সিনেমা স্টাডিজের সিনিয়র লেকচারার ডেভিড হানানের কোনো পিএইচডি নেই, কিন্তু তার অধীনে বেশ কয়েকজন পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছেন। তাহলে দেখা যাচ্ছে জ্ঞানকাণ্ডে কিছু যোগ করতে চাইলে পিএইচডি অত্যাবশ্যকীয় কোনো শর্ত নয়। বরং পিএইচডি করার পরে আর কিছু উৎপাদন না করতে পারার ভুরি ভুরি উদাহরণ আমাদের আশেপাশে আছে।

তবে আমি পিএইচডি করাটাকে মোটেই খাটো করে দেখছি না। আমার আপত্তি হলো পিএইচডিকে ঘিরে যে রাজনীতি জারি আছে তার বিরুদ্ধে। নোম চমস্কি পিএইচডি করেছিলেন হিব্র“ ভাষার ওপরে, কিন্তু তার সারা জীবনের কাজ আর কেবল হিব্র“ ভাষায় আবদ্ধ থাকে নি। বরং তিনি ভাষাতত্ত্বের একটি পৃথক ধারা তৈরি করেছেন। হয়েছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিশ্লেষক ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির কট্টর সমালোচক। পরিণত হয়েছেন ‘জীবিতদের মধ্যে সবচাইতে উদ্ধৃত’ বুদ্ধিজীবীতে। এেেত্র হয়তো পিএইচডি তাকে সহায়তা করেছে কীভাবে গবেষণাকর্ম করতে হয় তার উপায় বাৎলে দিয়ে। কিন্তু আমাদের সমাজে পিএইচডি করে সারাজীবন সেটা ভাঙ্গিয়ে চলার রীতিটি খুবই বিপজ্জনক। এক সহকর্মীকে বলতে শুনলাম, ষণ্ডের যেমন গুঁতোগুঁতি করতে দুটো শিঙ লাগে, মাস্টারদেরও এখানে ওখানে মাথা গলানোর জন্য দরকার একটি পিএইচডি-শিঙ।

পিএইচডির রাজনীতির সঙ্গে কলোনিয়াল একটি অনুষঙ্গ ইংরেজি ভাষার রাজনীতিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিদেশে আপনাকে ইংরেজিতে গবেষণা করতে হবে, তাই আপনাকে ভালো ইংরেজিও জানতে হবে। ভালো কথা, আপনি টোয়েফল জিআরই দিয়ে এলিট ইউনিভার্সিটির সন্তুষ্টি অর্জন করলেন। কিন্তু ইংরেজি ইংরেজি করে যে আপনি বাংলায় লিখতে ভুলে গেলেন। এটা বলতেও তো কেমন গর্বভাব মনে জাগে: “আমি বাংলায় লিখিনা!” ভাই আপনি ফিরেছেন বাংলাদেশে, এদেশে বেশিরভাগ লোক ইংরেজিতে প্রবন্ধ পড়ে না, আর ইংরেজিতে লিখে আপনি দাবি করছেন দেশকে বিরাট কিছু দিলেন!

তবে বিদেশে কাজ করতে গেলে একটি অন্য সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় ঘটে, নিজ দেশ নিজ সংস্কৃতিকে ভালোভাবে বোঝার জন্য যে দূরত্ব দরকার হয়, পিএইচডি একজনকে সেই সুযোগ করে দেয়। একটি উন্নত একাডেমিক পরিবেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে দেশে ফিরে নিজ ডিসিপ্লিনের জন্য ও নিজ দেশের জন্য অবদান রাখতে উদ্বুদ্ধ করে। অনেকে সেই অর্জনকে কাজে লাগিয়ে দেশে ফিরে জ্ঞানকাণ্ডকে অনেক সমৃদ্ধ করেছেন, বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই লিখেছেন। তার গবেষণার ফলাফল নীতিনির্ধারকদের নানাভাবে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তাও করেছে। ড. জামাল নজরুল ইসলাম, ড. হারুন উর রশিদ, ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ড. আহমদ শরিফ, ড. হমায়ূন আজাদ, ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এরকম আরও অনেকের নাম করা যায় যারা তাদের পিএইচডির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আরও অনেক অনেক কাজ করেছেন, করেছেন সারা জীবন ধরেই। আমার এই নিবন্ধটি তাদের নিয়ে নয়। আমার এই নিবন্ধটি সেইসব জ্ঞানের গোঁসাইদের নিয়ে, সেই বামনদের নিয়ে যাদের ঐ পিএইচডি-পৈতেটা না থাকলে আর কেউই চিনতো না, আর কোনো পরিচয়েই তাদের পরিচিত করানো যেতো না।

অথচ এই পিএইচডির রাজনীতি জারি থাকায় একজন শিককে কী নাকালই না হতে হয়। পিএইচডি করতে যদি তার চার বছর ব্যয়(নষ্ট) হয় তবে একটি এলিট-পিএইচডির জন্য তার পূর্বে ব্যয়(নষ্ট) হয় অন্তঃত দুই বছর (ভাগ্যবানদের কথা আলাদা): ইন্টারনেট ঘেঁটে ইউনিভার্সিটি খোঁজো, প্রফেসর/সুপারভাইজার খোঁজো, তাকে রাজী করাও, এডমিশন অফিসে যোগাযোগ করো, ফরম ডাউনলোড করে ফিল-আপ করো, প্রপোজাল রেডি করোÑ দশজনকে দেখাও, সঙ্গে দেবার জন্য রাজ্যের ডকুমেন্ট প্রস্তুত করো, রেফারেন্স লেটারের জন্য দেশের প্রফেসরদের পেছনে পেছনে ঘোরো, আরও আছে প্রসেসিং ফি বাবদ কয়েক হাজার, ডিএইচএল/ইএমএস বাবদ কয়েকশ টাকা, পাসপোর্ট বানানো/রিনিউ করা বাবদ কয়েক হাজার। এইসব দীর্ঘ ও কান্তিকর কাজ করতে হবে কেবল এক জায়গায় ‘লেখালেখি’-র জন্য। আপনি দশ জায়গায় লেখলে এক জায়গায় ফান্ড পাবেন। এরমধ্যে বিরাট ফ্যাক্টর আপনি একা না অনেক। আপনার পরিবার থাকলে আরেক হ্যাপা: তাদের কোথায় রেখে যাবেন, বাচ্চা-কাচ্চা কী খাবে, কবে তাদের নিতে পারবেন, নেবার পরে কী খাবেন আর কী পর(ড়)বেন ইত্যাদি ইত্যাদি। এতোকিছুর পরে যদি একজন পিএইচডি করতে না চান, না পারেন তাকে আপনি কীভাবে দোষারোপ করবেন? তিনি যদি পিএইচডির রাজনীতিতে বিরোধীদলে চলে যান, তার পরও আপনি তাকে ‘লেখালেখি’-র জন্য উপদেশ দেবেন?

এই নিবন্ধটি পড়ে মনে হতে পারে আমার সমালোচনায় বিদেশী ডিগ্রি মহত্ত্ব খাটো হয়ে যাচ্ছে এবং ফাঁকে দেশী ডিগ্রির মহত্ত্ব বাড়ছে। কিন্তু দেশে বসে যারা অজস্র আবর্জনা উৎপাদন করছেন তাদের নির্ভার হবার কোনো সুযোগ নেই। বিদেশীরা বরং একটা সিস্টেমের নানা পর্যায় পার হয়ে কিছু একটা অর্জন করেছেন। কিন্তু দেশের ডিগ্রি আরও অল্প আয়াসে পাওয়া সম্ভব। ব্যাপারটা দেশ-বিদেশের নয় মোটেই, অভিসন্দর্ভের মানই প্রধান বিবেচ্য।

এন্ডনোটে বলতে দ্বিধা নেই, লেখকও একটি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের ইঁদুর দৌড়ে সামিল হয়েছেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে লেখকেরও ওরকম একটি ডিগ্রি ভাগ্যে জুটে যেতে পারে। কারণ গুঁতোগুঁতির জন্য তারও একটি শিঙ দরকার।

প্রথম প্রকাশ: কালের খেয়া, সমকাল; ৬ জানুয়ারি ২০০৬।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: অ্যাক্টিভিজম  বিভাগে । বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১০:৩১
রাশেদ বলেছেন: হু। ভালো লাগল।
৩. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১০:৩৭
জেনারেল বলেছেন: অনেক জায়গায় একমত না।
১। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসাবে পিএইচডি না করলে কোনদিনই প্রফেসর হতে পারবেন না, তাই শিক্ষকদের জন্য পিএইচডি করা অনেক বাধ্যতামূলক বলে অনেকেই মনে করে।
২। বিজ্ঞানের যে কোন শাখাতেই আমরা দেশের বাহিরে পিএইডি করি না কেন সেই কাজ দেশে ফিরে সামনে নিয়া যাওয়ার সুবিধা ০% অন্তত আমাদের দেশে
৩। আমাদের দেশের শিক্ষকরা গতানুগতিক প্রশ্নপত্র করে পরীক্ষায়, আর দেশের বাহিরে এই সব মুখস্থ উত্তরের কোন দাম নাই, তাদের কাছে ছাত্ররা কতটুকু বুঝল সেইটাই মুখ্য।
৪। ৭ বছরে একবারও আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে সিলেবাস পরিবর্তন করা হয় না।
৫। দেশ ভিত্তিক পিএইচডি ব্যাপারটা অবশ্যই আলাদা। কারন জাপানে যারা পিএইচডি করে তাদের কোন কোর্স ওয়ার্ক নাই (পদার্থ, রসায়ন), নাই কোন কম্প্রেহেনসিভ পরীক্ষা, ল্যাবে ১৫ ঘন্টা করে কাজ দিনে শেষ করলেই হল। অন্যদিকে নর্থ আমেরিকায়
কোর্স ওয়ার্ক তো আছেই ( যেকোন বিষয়ে ফেল করেল সাথে সাথে কিক আউট ইউনি থেকে), কম্প্রেহেনসিভ ফেল করলেও কিক আউট । এতসব পার করেই পিএইডি শেষ করতে হয়।
তাহলে জাপানের আর নর্থ আমেরিকার ডিগ্রী কে এক করে দেওয়া হলে কি ঠিক হবে?
৪. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১০:৩৮
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন: আগে পড়ি নাই। ভাল লাগলো।
৫. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১০:৩৯
মুকুট বলেছেন: ধন্যবাদ...............আমি নিজেও টের পাচ্ছি! হায়রে শিক্ষকতা পেশা!!! কেন যে..........পা দিলাম!!
৬. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১০:৪৩
মামু বলেছেন: লম্বা পুস্ট. একটু পরে টাইম নিয়া পড়ব, এখন ঘুইরা আসি
৭. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১০:৪৩
ফাহমিদুল হক বলেছেন: ধন্যবাদ সবাইকে। জেনারেলের দ্বিমতগুলো মেনে নিচ্ছি। ক্রাউন, এই বয়সেই এই পেশায়! আমার ছেলেটাকে না পাঠিয়ে ভুল করলাম নাকি!
৯. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১০:৫২
ফাহমিদুল হক বলেছেন: ধন্যবাদ মুকুল। মামু, না পইড়া আজ যাইয়েন না।
১০. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১১:২৩
মুজিব মেহদী বলেছেন: লেখাটা সম্ভবত 'কালের খেয়া'য় ছাপারও আগে পড়া হয়েছিল সফট ভার্সনে। তার আগে পিএইচডি নিয়ে রাজনীতির কথা ভাসা ভাসা শুনতাম, ওই প্রথম লিখিতভাবে পড়েছিলাম। আগ্রহী ছিলাম বলে লেখাটা নিয়ে তখনকার নানা বিতর্কেরও খোঁজ পেয়েছিলাম।

লেখাটায় অনেক সত্য কথা বলা হয়েছে। সত্যের চপেটাঘাত সাংঘাতিক, এজন্যেই বোধকরি আহতদের কেউ কেউ তখন নিতে পারে নি এটি।
১১. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১১:২৬
ফাহমিদুল হক বলেছেন: ধন্যবাদ মুজিব ভাই।
১২. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১১:৩২
কাস্তের মত চাদঁ বলেছেন: চমতকার লেখা পুরোপুরি একমত। শুধু তাই নয়, বিস্তারিত সেন্সে গোটা 'জ্ঞান বানিজ্য' নিয়েই তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে এই ধরনের গুতোগুতি চলে।
১৩. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১১:৩৫
ফাহমিদুল হক বলেছেন: ধন্যবাদ কাস্তের মতো চাঁদ। ভালো বলেছেন 'জ্ঞানবাণিজ্য'।
১৪. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১১:৫০
আমি মাহমুদ বলেছেন: লম্বা লেখা পড়ার সময় হয় কম। তবু পড়লাম। মুগ্ধতা নিয়েই পড়লাম।

একটা অনুরোধ স্যারঃ এই দেশে ভালো জিনিস মার খেয়ে যায়, ভালো মোড়কের অভাবে। আপনার বোধ বিবেচনা যাতে প্রশ্নের মুখে না পড়ে তাই আপনাকে একটা পিএইচডি সিল অর্জনের চেষ্টা করার জন্য অনুপ্রানিত করছি।
১৫. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১১:৫১
মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন: জেনারেল এর সাথে একমত। তবে পিএইচডি মানেই ভাল শিক্ষক, আর না হয় নন, এই ধারনা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত।
১৬. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১১:৫৫
রাগিব বলেছেন: আপনার পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।

পিএইচডির দরকারটা কলা ও বাণিজ্য শাখায় দরকার নাও হতে পারে, কিন্তু বিজ্ঞান ও কারিগরি এলাকাগুলোতে এটা অপরিহার্য। আমি কিন্তু ডিগ্রিটার কথা বলছি না, বলছি পিএইচডি অর্জনের জন্য যে গবেষণা করতে হয়, তার কথা।

গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে যে গবেষণার প্রশিক্ষণ হয়, তার কোনো বিকল্প বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে নেই। পিএইচডি -পূর্ব শিক্ষকতার সাথে আমার যেটুকু পরিচয় ও অভিজ্ঞতা রয়েছে, তার আলোকে এটা জোর দিয়ে বলতে পারি ... স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পড়ালেখার সাথে আকাশ পাতাল তফাৎ। আর পিএইচডি ডিগ্রি ডিফেন্ড করার জন্য বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে যে পরিমাণ কাজ করা লাগে, বিএসসি ডিগ্রি তার তুলনায় দুধ ভাতেরও কম।

আগেই বলেছি, আমার বক্তব্যটা বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিষয়ের জন্য। কলা, সমাজতত্ত্ব, এবং বাণিজ্যে এটার দরকার নাও হতে পারে।
১৮. ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১২:০৪
ফাহমিদুল হক বলেছেন: আমি মাহমুদ, আমি ঐ পাতি হাঁসের ডিমটা পাড়ারই (পিএইচডি) চেষ্টা করছি। অগত্যা। তবে এটাকে আমি কেবল সার্টিফিকেট বানাবো না, এবং অবশ্যই এটাতেই আটকে থাকবো না।
সৌরভকে ধন্যবাদ।
রাগিবের সঙ্গেও দ্বিমত নেই। আর আমি পিএইচডি করতে কাউকে নিরুৎসাহিতও করছি না। আমার বক্তব্য হলো, এই ডিগ্রিটার অহেতুক একটা মূল্য আরোপ করা হয়। আরগুলোর মতো এটাও ডিগ্রি, ধৈর্য, অর্থ, ইচ্ছা থাকলেও এটাও প্রায় সবাই অর্জন করতে পারবে, যেমনটা বিএ(বিএসসি) এমএ (এমএসসি) করে সবাই। সবচেয়ে দুঃখজনক হলো এটা করে আর কিছু না-করা।
১৯. ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১২:১২
রাগিব বলেছেন: ধন্যবাদ ফাহমিদ।

আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে tenure পদ্ধতি নেই, অর্থাৎ একবার শিক্ষক হিসাবে যোগ দিলে চাকুরী প্রায় আজীবন থাকবে, তা নিশ্চিত। এজন্য পিএইচডি করার পরে হয়তো শিক্ষকদের আর গবেষণা করার ইচ্ছা থাকে না।
২০. ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১২:১৪
মিরাজ বলেছেন: চমত্কার লেখা। বাংলাদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের পি এইচ ডি ধারী অনেক শিক্ষকের অবস্থার বেশ খানিকটা প্রতিফলন ঘটেছে আপনার লেখায়।

নিজেও যেহেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তাই পি এইচ ডি ধারী বা পি এইচ ডি বিহীন দুই ধরনের সহকর্মী এবং শিক্ষকের সংস্পর্শে আসার সুযোগ হয়েছে। আপনার লেখার সাথে অনেকের বর্ণনাই মিলে যাবে।

তবে সমস্যাটা হলো পি এইচ ডি ডিগ্রী এর নয়, ডিগ্রী লাভের পরের কর্মকান্ডের।

প্রথমে অবশ্য বলে নিচ্ছি আমি বিজ্ঞানের মানুষ তাই রাগীব ভাইয়ের সাথে একমত যে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণার জন্য পি এইচ ডি অপরিহার্য।

তবে আমি মনে করি কলা, কলা, সমাজতত্ত্ব, এবং বাণিজ্যেও এটির দরকার আছে।

আসলে পি এইচ ডি হলো একটা ট্রেনিং। বিষয় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষণা করতে পারার জন্য এই ট্রেনিং এর প্রয়োজনীয়তা সব বিষয়েরই প্রয়োজন আছে। দেশ বিভেদে পি এইচ ডি এর মানের তারতম্য থাকতে পারে তবে উদ্দেশ্যে কোন তারতম্য নেই।

বিশ্ববিদ্যালয় হলো জ্ঞান সৃষ্টির কেন্দ্র, শুধুমাত্র পুথিগত বিদ্যা পড়ানো আর তা মুখস্থ করে পরীক্ষায় উগড়ে দেবার স্থান নয়। পি এইচ ডি এর ৩-৪ বছরে একজন গবেষক নতুন জ্ঞান সৃষ্টির যে প্রক্রিয়া তার সম্যক ধারণা লাভ করেন এবং তার গবেষণার বিষয়ে নতুন জ্ঞান সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় পদ্ধতির ট্রেনিং লাভ করেন।

উন্নত বিশ্বে শিক্ষক ও গবেষকগণ এই ট্রেনিং কাজে লাগিয়ে নতুন নতুন আবিস্কার করছেন, অনেক অজানা ও অমীমাংসিত বিষয়ের উত্তর খুজছেন। কিংবা নতুন থিওরী বা মডেল প্রদান করছেন এবং সেই মডেল ওর প্রায়োগিকতা নিয়ে গবেষণা করছেন।

আমাদের বাংলাদেশেও সেই চেষ্টা কেউ কেউ করছেন, তবে অধিকাংশ শিক্ষকই বিবিধ কারনে পি এইচ ডি অলংকার ধারণ করে এই ডিগ্রীর মাহাত্ব্যে বাকী জীবন সুযোগ সুবিধা লাভের চেষ্টায় মত্ত থাকছেন।

গবেষণা শিকেয় তুলে শিক্ষকরা জ্ঞান সৃষ্টির বদলে সৃষ্ট জ্ঞানকেই কোন রকমে ক্লাস রুমে যে পড়াচ্ছেন এর ফলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত অর্থই হারিয়ে ফেলেছে। এখন এর জন্য ডিগ্রীর কোন দোষ নেই, সমস্যা আমাদের এবং এটি সমাধান হওয়া দরকার।

আমি নিজেও এ বিষয় নিয়ে কিছুটা লিখছি, সময় হলে আমার ব্লগে যেয়ে পড়ে দেখবেন।

ধন্যবাদ।
২১. ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১২:২৭
ফাহমিদুল হক বলেছেন: মিরাজকে ধন্যবাদ। আপনার ব্লগে যাবো, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আপনার লেখা নজরে এসেছে। আপনার মন্তব্য গুরুত্বের সঙ্গেই গ্রহণ করছি।
রাগিবকেও ধন্যবাদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও নিয়মের বাধ্যবাধকতায় আনতে হয় যদি! নিয়ম বেঁধেই বা কী কাজ হয়? ধরেন প্রমোশনের জন্য 'জার্নাল আর্টিকেল' দরকার। এটা কি কোনো সমস্যা? জার্নাল সম্পাদক/ডিন হাতে থাকলে আর্টিকেল ছাপানো কঠিন নয়। আবার নির্দিষ্ট সংখ্যক আর্টিকেল বা যোগ্যতা নিয়ে আপনি প্রমোশনের জন্য যান, আপনার সঙ্গের অযোগ্য প্রার্থীকে সরাসরি পদে নিয়োগ দিয়ে আপনাকে দেয়া হবে 'আপ্রগ্রেডেশন' বা 'রিস্ট্রাকচারিং'। গবেষণা-নলেজ জেনারেশনের তাগিদ ভেতর থেকে না-আসলে টেনিউর বাধ্যবাধকতাও কাজে দেবে না, বাংলাদেশে।
২২. ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১২:৪৫
ফারহান দাউদ বলেছেন: বিশাল থিসিস,দারুণ লাগলো।
ছোট হয়ে বড়দের মাঝে একটু নাক গলাই,কারণ আমার পিএইচডি করার তেমন কোন সম্ভাবনা নেই,২-১ টা প্রশ্ন শুধু। রাগিব ভাই বললেন--
"আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ঃবহঁৎব পদ্ধতি নেই, অর্থাৎ একবার শিক্ষক হিসাবে যোগ দিলে চাকুরী প্রায় আজীবন থাকবে, তা নিশ্চিত। এজন্য পিএইচডি করার পরে হয়তো শিক্ষকদের আর গবেষণা করার ইচ্ছা থাকে না।"
পেশা,বা খাওয়া-পরার নিশ্চয়তা থাকলে,গবেষণাটা আরো নিশ্চিন্ত মনে করা যায়,ধারণা ছিল আমার। হচ্ছেনা যখন,এটা কি মানসিকতার সমস্যা,নাকি সুযোগের অভাব?
২৩. ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১২:৫৪
মিরাজ বলেছেন: @ ফারহান দাউদ
রাগিব ভাই নিশ্চয়ই উত্তর দিবেন তবে প্রাসঙ্গিক হওয়াতে আমিও কিছু লিখছি। আশা করি কিছু মনে করবেন না।

উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির শিক্ষকদের চাকুরীর অন্যতম প্রধান শর্ত হচ্ছে গবেষণা ও গবেষণার জন্য ফান্ড যোগাড় করা। গবেষনা প্রকাশনা এর মান ও ফান্ড যোগাড়ের সামর্থ্যের উপরই নির্ভর করে কেউ প্রমোশন পাবেন কিনা বা তার আদৌ চাকুরী থাকবে কিনা একটি নির্দিষ্ট সময়ের পরে। যার ফলে অনেক সময় ৪০ বছর বয়সেও কেউ প্রফেসর হয়ে যাচ্ছেন আবার অনেকে লেকচারার হিসাবেই রিটায়ার করছেন।

তাই সকলের ভিতরেই গবেষনার ইচ্ছাটা প্রবল। আর বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের গবেষণার আদৌ কোন প্রয়োজন নেই। চাকুরী নিশ্চিন্ত, রাজনীতি বা সুসম্পর্ক থাকলে প্রমোশনও নিশ্চিন্ত। তাই কে কষ্ট করে ল্যাব গড়ে তুলতে যায়? সময় দেয় বা ফান্ডের জন্য দৌড়াদৌড়ি করে?

সুযোগের অভাব আছে কোন সন্দেহ নাই, বেতনেরও সমস্য আছে যার ফলে অনেকেরই অন্য কিছু করতে হয় তাও সত্য, তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো মানসিকতার অভাব ও জ্ঞানের তৃষ্ণা না থাকা।
২৪. ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১:০৫
ভাইটামিন বদি বলেছেন: পি এইচ ডি করার মধ্যে দোষের কিছু দেখছি না...
যদি তা দেশ ও দশের কাজে লাগে...
কিন্তু কত পার্সেন্ট যেন দেশের বাইরেই থেক যান...!!!
২৫. ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১:৩৬
রাগিব বলেছেন: @ফারহান দাউদ

আসলে, অন্তত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই ব্যাপারটা আছে ঠেলা দেয়ার জন্য। বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেয়ার পরে প্রথম ৫-৬ বছর চরম খাটাখাটুনি করে দেখিয়ে দিতে হয় যোগ্যতা ... নইলে বের করে দেয় ওখানেও। আর এই ঠেলার জন্যই আলসেমী বাদ দিয়ে নতুন অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসরেরা জান প্রাণ দিয়ে খাটুনি করে।

যদি চাকুরিতে যোগ দিলেই চাকুরি পাকা হয়ে যায় আজীবনের জন্য, তাহলে আর খাটাখাটুনির দরকার কী - এরকম চিন্তা অধিকাংশ মানুষের মধ্যেই এসে যায়।
২৬. ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১:৪০
ডাক্তাড়' বলেছেন: রাগিব ভাইজান কলা আর বানিয্য কমপিটিসন টা আরো বেশি কেননা এ দুইটা ফিল্ডে আমেরিকান রা বেশী যায়, আর পড়াশুনা কঠিন কেননা লেখা জোকা গবেষনার চেয়ে বেসী
২৭. ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১:৫১
রাগিব বলেছেন: ডাক্তাড় ভাই, আমি বলতে চেয়েছি কলা আর বাণিজ্যে হয়তোবা পিএইচডি পর্যায়ে গবেষণার প্রয়োজনীয়তাটা কম। আমি মিস্তিরি মানুষ, এই দুই এলাকা সম্পর্কে আমার জ্ঞান বেশ কম, তাই বিস্তারিত জানিনা। যারা বিজ্ঞান ও প্রকৌশল ছাড়া অন্য বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন, তাঁরা ভালো বলতে পারবেন। ধন্যবাদ।
২৮. ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ২:০৩
পথের ফকির বলেছেন: পিয়াজডি কি? খ্যায় না মাতায় দ্যায়?...
২৯. ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৭ ভোর ৪:২৬
নরাধম বলেছেন: আলোচনাটা খুব ভাল লাগল।আমি নিজেই PhD করার ইচ্ছে আছে। তবে তা Finance এ। টপ টেন-এ Finance PhD তে apply করে ৩০০/৪০০ জন। admission পাই ৪/৫ জন। বুঝেন ঠেলা। তবে PhD ছাড়া আসলে reasearch করা অসম্ভব। DUতে ৯৯% শিক্ষকরা ত কিছুই জানেনা। পলিটিক্স নিয়ে ব্যস্ত থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রধান duty কিন্তু research। এই ধারনাটা DU তে নেই বল্লেই চলে। আমি DU Accounting থেকে BBA করেছি। সেখানে Journal of Business Studies নামে একটা Journal বের হ্য়। সেটাতে যা বের হ্য় তা দেখলে বুঝা যায় শিক্ষকদের knowledge ছাত্রদের থেকেও অনেক কম।
তবে আপনার লেখা অনেকখানি সত্য। ProfScam নামে এ নিয়ে NYTBestSeller একটি বই আছে। দেখতে পারে।

৫ দিলাম।
৩১. ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৭ ভোর ৪:৪২
হাসিব বলেছেন: রাগিব, জেনারেল - আপনাদের বুঝতে একটু ভুল হচ্ছে বোধহয় । 'পিএইচডির রাজনীতি' প্রবন্ধটির প্রতিপাদ্য ছিলো । পিএইচডি করা দরকার কি না দরকার সেটা এই প্রবন্ধের মূল উদ্দেশ্য না ।
৩২. ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৭ ভোর ৪:৫২
অমিত বলেছেন: কলা আর বাণিজ্যে হয়তোবা পিএইচডি পর্যায়ে গবেষণার প্রয়োজনীয়তাটা কম। ----
??!!??
ব্যাপারটা বুঝলাম না । কেন ?
৩৩. ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৭ ভোর ৫:৪১
সূর্য বলেছেন: ফাহমিদ, ধন্যবাদ চমতকার এই চক্ষুউন্মোচক আলোচনার জন্য। হাসিবকেও ধন্যবাদ আলোচনার ধারাকে ঠিকপথে নেয়ার জন্য।
আগে বোধহয় পড়েছিলাম। তবে এও মনে হচ্ছে যে, কাবেরী কি এর জবাবে কিছু লিখেছিল? প্রথম আলোয় যেন দেখেছিলাম ওর লেখাটা।
কামনা করি আরো লিখুন আপনার ওখানকার নানারকম ভাঁড়ামি নিয়ে।
৩৪. ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ৮:২৪
ফাহমিদুল হক বলেছেন: যারা আলোচনা করছেন, সবাইকে ধন্যবাদ। আমার মতে কলা বা বাণিজ্যে গবেষণার প্রয়োজন একেবারেই কম নয়। ল্যাবনির্ভর না হওয়ায় এই ধরনের গবেষণাকে হালকা মনে করার কোনো কারণ নেই। সমাজ-রাজনীতি-অর্থনীতির দিকনির্দেশনা এইসব গবেষণা থেকেই আসে।
নরাধম, ঢাবির ৯৯% শিক্ষক কিছু জানেনা, এটা একটু বেশি হয়ে গেছে। পারসেন্টজে আরও কমে আসবে। আর শিক্ষকদের বেতন (সরকারী পে-স্কেলও) এত কম যে তাদের এদিক-ওদিক দৌড়াদৌড়ি করা লাগে, শিক্ষকতায় যার প্রভাব পড়ে। কিন্তু সেটা অজুহাত হিসেবে সবসময় খাড়া করাও ঠিক না। এর মধ্য দিয়েই তো কাজ করতে হবে।
সূর্য, আপনাকে আমি নির্ঘাত চিনি। কিন্তু এইসব নিক নেম সমস্যাজনক। এবিষয়ে একটা পোস্টের কথা ভাবছি।
হাসিবকে ধন্যবাদ, আলোচনাকে ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনার জন্য।
৩৫. ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ৮:২৯
নরাধম বলেছেন: ফাহমিদুল হক, ঠিক বলেছেন ৯৯% হবেনা। আমি এটা কথার কথা বল্লাম। তবে মেজরিটিই ফালতু। আমার ৪ বছরে আমি ২/৩ জন ভাল টিচার দেখেচি মাত্র।
৩৬. ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ৮:৩২
ফাহমিদুল হক বলেছেন: ২০ জনে ৩ জন, ১৫% ভালো
৩৭. ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১২:২১
অনিশ্চিত বলেছেন: সমকালে তখন একটা প্রতিক্রিয়া পাঠিয়েছিলাম। ছাপে নাই। আমার পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক আছেন যিনি পিএইচডি করে আসার পর বাংলাদেশে সে বিষয়ের ওপর একটি লেকচার দিয়েছিলেন। অনেকে তখন চোখ তুলে প্রশ্ন করেছিলেন, এটা পিএইচডি অভিসন্দর্ভ?! মাস্টার্সের থিসিসও এর চাইতে ভালো হয়।
এটা একটা ঘটনা। এর বিপরীত ঘটনা বেশি হোক তাই চাই।
৩৮. ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১২:২৭
ফাহমিদুল হক বলেছেন: অনিশ্চিত, আপনার উল্লিখিত ঘটনাটা দুঃখজনক। তবে সাধারণ পরিস্থিতি এতটা মন্দ নয় বলেই আমি বিশ্বাস করি।
৩৯. ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১২:৩১
অনিশ্চিত বলেছেন: আমিও তাই বিশ্বাস করি। এবং আরো জোরালোভাবে বিশ্বাস করতে চাই।
তবে ভারতের কিছু ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি আনা যায়, কীভাবে সেগুলো বোধহয় আপনি ওয়াকিফহাল। সেগুলো নিয়ে লেখালেখি করলে অনেকেই উপকৃত হবেন।
তবে যে শিক্ষকের কথা বললাম, তিনি বোধহয় জানতেনই না নতুন জ্ঞান সৃষ্টির জন্য পিএইচডি করতে হয়, পুরনো জ্ঞান বিতরণের জন্য নয়।
৪০. ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ৯:১২
নরাধম বলেছেন: সহমত@অনিশ্চিত।
৪১. ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১০:১১
তানভীর বলেছেন: কি যে কমু...জাবির এক শিক্ষক পাইছিলাম আম্রিকায় পিএইচডি করতাছে...পিএইচডি শুরু করার আগেই তার দশটা পেপার...আমি তো কইলাম হায় হায় আমার তো কুন পেপার নাই...আপনের এতগুলা কেমনে হইল...চাপাচাপি করতে কইল...তার ডিপার্টমেন্ট থেইকা জার্ণাল বাইর হয়, ডিন হইল এডিটর...যা দেয় তাই ছাপে ...বিশেষ করে যাগো প্রমোশন দরকার, যারা কোথাও পেপার ছাপাইতে পারে না...তাগো জন্যেই এই জার্নাল...কই যামু!

পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।
৪২. ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১০:২৪
ফাহমিদুল হক বলেছেন: তানভীর, এভাবেই সবকিছু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
৪৩. ২৩ শে নভেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:৪০
মাহিন্দ্র রায় বলেছেন: অনেক অনেক লম্বা লেখসেন , কিছু বিষয়ে দ্বিমতও আছে । কিন্তু ভালো লাগসে অনেক , থ্যাংকস , এখন থেকে রেগুলার ব্লগে আসার চেষ্টা করবো ।
আপনার লেখাগুলো পড়তে হবে
৪৪. ২৩ শে নভেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:১৭
ফাহমিদুল হক বলেছেন: ধন্যবাদ মাহিন্দ্র রায়। দ্বিমতগুলো জানালে খুশি হতাম। আমার ব্লগে সদা স্বাগতম।
৪৫. ২৯ শে জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১২:৪৫
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: আমার মতে পি.এইচ.ডিকে এ্যাকাডেমিয়াতে যে মূল্য দেয়া হয়, সেটা ঠিক আছে ... তবে রাগিবের সাথে একমত যে, শিক্ষকদের ফান্ডিং/ tenure -- এসব চালু করা যেতে পারে ...

কেন প্রয়োজন, কারণ, পি.এই.ডি টা যদি আসলেই ভাল প্রফেসরের আন্ডারে করা হয়, তাহলে এটা একটা মানুষের চিন্তা করার ক্ষমতাকেই আমূল বদলে দেয় ... অনেক এফিশিয়েন্ট করে তোলে ... ব্যাপারটাকে আমি অনেকটা মনে করি এরকম ... এর আগের পড়াশোনা, যেগুলো মূলতঃ কোর্সভিত্তিক, যেগুলো হলো সমুদ্রে সাঁতরে বেড়ানোর মতো ... মোটামুটি একটা এলাকায় সাঁতরে জানলাম সমুদ্রটা কি ... আর পিএইচডি'র গবেষণা কাজটা হলো অনেকটা স্কুবা ডাইভিংয়ের মতো ... আপনি সারফেস ছেড়ে এখন খুঁড়ে খুঁড়ে ভেতরে ঢুকে দেখতে থকেলেন কি আছে ... যত দেখবেন তত মজা পাবেন ... সেই নেশা আর কাটবেনা ...

একটা সমস্যাকে শেষ পর্যন্ত দেখে ছাড়ার মানসিকতা তৈরীতে পিএইচডি'র গবেষণার স্টাইলটা আসলেই কার্যকরী ...

তবে বর্তমানে যে বানিজ্যিক পিএইচডি সিস্টেম তৈরী হয়েছে ... অমুক রকম জার্নালে অতগুলো পেপার থাকলেই চলবে ... সেটা আসলেই পিএইচডি'র আসল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে

আর থিসিস লেখাটাও দারুন এক অভিজ্ঞতা ...
২৯ শে জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ২:২৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য। পছন্দ হলো

৪৬. ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৮:৪০
শফিউল আলম ইমন বলেছেন: এত সুন্দর লিখেছেন কি বলব বুঝে উঠতে পারছিনা....আমি বাংলাদেশের ইউনিভার্সিটিতে পড়িনি (H.S.C করে লন্ডলে চলে এসেছি) তাই অনেক কিছুই জানিনা...শুধু টিচারদের 'লাল দল' 'নীল দল' হয়ে দলাদলি করে এসব নিউজে দেখি....
আপনার লেখা এবং মন্তব্যগুলো পড়ে অনেক কিছু জানতে পারলাম।
এ ধরনের বাস্তবিক লেখা আরো লিখবেন বলে আশা রাখি..।
অনেক ধন্যবাদ।
০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:০২

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।
অল্প বয়সে লন্ডনে আসার পরেও বাংলায় লিখছেন দেখে ভালো লাগলো।

৪৭. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৮:০৮
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন: বিশাল বড় !!! পরে সময় করে পড়ব
৪৮. ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৫১
শিট সুজি বলেছেন: বিষাক্ত মানুষ বলেছেন: বিশাল বড় !!! পরে সময় করে পড়ব
৪৯. ১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:১৫
অচেনা সৈকত বলেছেন: ধন্যবাদ সুন্দর পোস্টের জন্য। পোস্টের বক্তব্যের সাথে পুরোপুরি একমত। আমি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলাম। পিএইচডির রাজনীতিতে টিকে থাকবার জন্যই বিদেশে আসা। দেশ ছাড়ার আগেই প্রায় এক লাখ টাকা খরচ করতে হয়েছে। আমার বিদেশে আসবার দরুণ আমার স্ত্রীর ( যিনি একজন কৃতী চিকিৎসক) ক্যারিয়ারও হুমকির সম্মুখীন। এখন সমস্যা হচ্ছে পিএইচডি করলেও বিপদ, না করলেও বিপদ। দেশে পিএইচডি করতে গেলে কি হত বলা মুশকিল। ভরসা পাইনি দেশের গবেষণার মান দেখে। দেশের গবেষণার মান উন্নত করলেই কিন্তু আর বাইরে আসতে হয় না আমাদের। আর পিএইচডি করে যারা দেশে ফিরছেন তারাও তো বলার মত নতুন কিছু করছেন না। এ ব্যাপারে সচেতনতাও নেই।
২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৭:২২

লেখক বলেছেন: এই লেখাটি লিখেছিলাম পিএইচডি শুরু করার আগে। এখন আমি নিজেও ঐ কর্মে নিযুক্ত।
পিএইচডি-পর্বেরও কত অভিজ্ঞতা, কত যন্ত্রণা।
সেসব নিয়ে হয়তো পরে লেখা যাবে।

৫০. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৭:২৬
রাগিব বলেছেন: ফাহমিদ ভাই, পিএইচডি করায় আপনি যেহেতু এখন যুক্ত, পোস্টের মূল বক্তব্যের সাথে আপনার এখনকার ধারণায় কি পরিবর্তন এসেছে? টিচিং-এর কথা বলছি না, রিসার্চের ক্ষেত্রে পিএইচডি পর্যায়ের আগের আপনি,আর এখনকার আপনি -- এর মধ্যে পার্থক্য কেমন অনুভব করছেন?
২১ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪৬

লেখক বলেছেন: ভালো প্রশ্ন তুলেছেন।
মূল প্রস্তাবনায় পরিবর্তন আসেনি একেবারেই। তবে আমার এই লেখায় বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বা ঐখানকার ডিগ্রিগুলোকে পাত্তা কম দেবার প্রবণতা ছিল, সেটায় খানিকটা পরিবর্তন এসেছে। আসলেই আমাদের দেশের তুলনায় সেসব দেশে লাইব্রেরি, গবেষণাগার ও অন্যান্য সুবিধা যেভাবে গড়ে তোলা হয়েছে সেখান থেকে ভালো কাজ করা সম্ভাবনা থাকে। সেটা নির্ভর করছে গবেষকের মেধা, সুপারভাইজারের দিকনির্দেশনা ইত্যাদির ওপর।
আমার গবেষণার স্কিল খুব বেড়েছে বলে মনে হয়না। তবে একটা বিষয় নিয়ে যেহেতু তিন বছর লেগে আছি, সেই অঞ্চলে অনেক জানা হলো। এই ধরনের কাজ আরও করার আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। আর ইংরেজিতে গবেষণা-প্রবন্ধ লেখাটা আয়ত্বে চলে এসেছে। প্রসঙ্গত বলতে হয়, কলা-সামাজিক বিজ্ঞান এলাকায় কাজ করতে গেলে ইংরেজি ভাষায় দখল জরুরি, অন্তঃত বিজ্ঞান-ব্যবসায় সংক্রান্ত বিষয়গুলোর তুলনায়। ক্রিটিকাল সব তত্ত্বের গভীরে যাওয়া ও তার সার তুলে এনে নিজের ভাষায় (ইংরেজিতে) লেখা, নিজের প্রজেক্টে প্রয়োগ করা -- সহজ কাজ নয়।
তবে এখনই বুঝতে পারছি শিং গজালে গুঁতোগুঁতি বেশ সহজ হয়ে যাবে।

৫১. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৭:৩৮
তনুজা বলেছেন: পোস্ট টা সাথে করে নিয়ে গেলাম, মনে হচ্ছে অনেক জায়গাতেই মনের কথাটা বলে ফেলেছেন।

++
৫২. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৮:১৩
সাঈফ শেরিফ বলেছেন: স্বনামধন্য ডক্টরেটধারী ব্লগার মানস চৌধুরীর মন্তব্য আশা করছি। পিএইচডিটা আমার কাছে দেশে গিয়ে রুজি রোজগারের মাধ্যম। কলা বাণিজ্যে ল্যাবের প্রয়োজন বা খরচ নেই, হাল নাগাদ পুথি, নথি, পুস্তক প্রকাশনা হাতে পেলেই বাকি চিন্তা করেই হয়ত গবেষণার দিগন্ত খুলে দেয়া যায়। বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে একটা যন্ত্র বা সফটওয়ার কিনতেই লক্ষাধিত ডলার গুণতে হয়, গবেষণার কথা পরে ভেবে দেখা যাক। কাজেই কলা বাণিজ্যের গবেষণার জন্য সিঙ্গাপুর, জাপান, ভারত, বাংলাদেশ কে যথেষ্টই বলা উচিৎ হবে। সিঙ্গাপুরের নাসে যে মানের গবেষণা হয় বিষয় ভেদে, নর্থ আমেরিকার অনেক হাবিবুল্লা বাহার মার্কা বিশ্ববিদ্যালয়ে তা হয়না। অথচ নাসে গেলে প্রকৌশলী মহলে জাত নেমে যাবার অভিযোগ তোলা হয়। দেশ ভিত্তিক ডিগ্রীর কদরের বিষয়টি বিশ্লেষণের দাবি রাখে।
৫৩. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৯:৫৯
রঙীন বলেছেন: মানুষের দুটো (ভালো এবং খারাপ ) দিকের কোনটাই কোনটার সাথে তুলনার যোগ্য নয়। লেখাটায় যে রাজনীতির কথা বলা হলো তা দেশের অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়। উচচশিক্ষা অর্জনের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে এ অর্জন মানুষের মাঝে যে সুপরিবর্তন আনে তার সঠিক প্রয়োগের সুযোগ এবং মানসিকতা তৈরীর জন্য আমাদেরকে এক হতে হবে। পরিবর্তন মানুষের পক্ষেই সমভব।

লেখা এবং আলোচনার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।

৫৪. ১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:৫৮
শা‌হ্ আসাদুজ্জামান বলেছেন: আপনার পোস্টটা আগে দেখিনি। ফেসবুকের সুবাদে লিংক পেয়ে লেখার তিন বছর পরে দেখতে এলাম।

লেখাটা এক কথায় চমৎকার লাগল। আমি প্রকাশনার রাজনৈতিক অর্থনীতি নিয়ে কদিন ধরে ভাবছিলাম। আপনি বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে পিএইচডির রাজনৈতিক-অর্থনীতি নিয়ে যেমনটা ভেবেছেন, তারই একটা বৈশ্বিক রূপ।

মোটামুটি আপনার সব বক্তব্যের সাথেই একমত। বিশেষ করে, লড়াই করার একটা শিং জোগাড়ের জন্যই আসলে পিএইচডি করা, এটা আমি মানি অনেক আগে থেকেই।

নিজের বেড়ে ওঠার যে ইনডকট্রিনেটিং পারিপার্শ্বিক, তার থেকে দূরে এসে বহির্বিশ্বে পা ফেলাটা একটা বড় অভিজ্ঞতা অর্জনের সুজোগ।

আর, কলোনিয়াল যে মনস্তত্ব আমাদের, তা থেকে মুক্ত হবার জন্যও কলোনিস্টদের কায়কারবারের একটা চাক্ষুস পর্যবেক্ষণ বেশ কাজের।

তবে, বিদ্যাপীঠ সবসময়েই সম্পদশালীর হাতে থেকেছে। পেটের জোগাড়ের পর অফুরাণ সময় আর অঢেল সম্পদ যার আছে, সেই ত শিল্প-সংস্কৃতি-গবেষণা করে। সুতরাং অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য তাদের ঘর একবার মাড়িয়ে আসা উচিত।

আর টেনিউর পদ্ধতি, "স্বীকৃত জার্নাল" এগুলো মূলত রাজনীতির হাতিয়ার হিসাবেই ব্যবহার হয়। গবেষণায় উতসাহ যোগানর ক্ষেত্রে এসবের ব্যবহার মূলত গবেষণাকর্মকে একটা অর্থনৈতিক পণ্যে পরিণত করে, যেটা গবেষণার মৌলিকত্ব লঘু করা ছাড়া আর কোন সুফল বয়ে আনে না।
১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:১১

লেখক বলেছেন: বাহ, আপনার পর্যবেক্ষণ ও মন্তব্য পড়ে মুগ্ধ হলাম।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৪৫২ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াই। ফিকশন ও নন-ফিকশন দুই ধরনের লেখাই লিখি। গল্প লিখি, প্রবন্ধ লিখি, অনুবাদ...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ