একসময় কেউ ভাবতেও পারতো না বিদেশী সাহায্য ছাড়া বাংলাদেশ চলতে পারবে। কিন্তু আজ অনেকেই বলা শুরু করেছেন বিদেশী সাহায্য ছাড়া বাংলাদেশ এখন চলতে পারবে। কেউ বা বলছেন এই মুহূর্তে সম্ভব না হলেও, আমরা যদি নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী চলি, তবে অচিরেই এই ভিক্ষাবৃত্তিজনিত দাসত্ব থেকে মুক্তি পেতে পারি।
প্রায় প্রতিটি সরকার বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ-এর ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী নীতিমালা ঠিক করে দেশ চালিয়েছে এতদিন। অথচ এই সংস্থাগুলোর উন্নয়ন কর্মসূচির বেশিরভাগই ব্যর্থ হয়েছে। এরা কেবল রাস্তা-ব্রিজ বানাতে টাকা দেয়, সত্যিকার দারিদ্র্যদূরীকরণে দেয়না। এরা বাংলাদেশে কিছুদিন আগেও কাঠামোগত সংস্কার কর্মসূচি চালু করেছিল, আজ তাদেরই 'কাঠামোগত সংস্কার'-এর দাবি উঠেছে, বিশ্বব্যাপী। ব্রিটিশ সরকার ভারতবর্ষে রেললাইন বানিয়েছিল জনগণের যাতায়াতের সুবিধার জন্য নয়, লুণ্ঠিত মালের পরিবহণ সহজ করার জন্য। আজকের দাতাসংস্থারা কেন রাস্তা বানাতে টাকা দেয়? ব্রিটিশদের উদ্দেশের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে এদের প্রকৃত উদ্দেশ্য বোঝা যাবে। এসব দাতাসংস্থা আসলে পশ্চিমা বহুজাতিক সংস্থার পণ্যায়নের পক্ষে কাজ করে। নীতিমালা অনুযায়ী বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট সবসময়ই আমেরিকান হয়ে থাকেন।
আজকে ধীরে ধীরে আমাদের বোধোদয় হচ্ছে। আইএমএফ-এর সঙ্গে সাম্প্রতিক প্রস্তাবিত একটি চুক্তি এদেশের জনগণ ঠেকিয়ে দিয়েছে। এটা একটা অগ্রগতি। এতদিন তারা নির্বিঘ্নে কাজ চালিয়ে গেছে, কিন্তু আজ এফবিসিসিআইয়ের বণিকরাই বাধা দিচ্ছে। তাদের এতদিনের সাফল্যের পেছনে শুধু প্রভুতোষণকারী সরকার নয়, বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদরাও দায়ী। দাপুটে এই অর্থনীতিবিদরা দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বব্যাংকের প্রজেক্টে কাজ করে আসছেন এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এসব সংস্থার প্রয়োজনীয়তাকে জাস্টিফাই করে এসেছেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই নভেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


