আমার প্রিয় পোস্ট
- ফিরে দেখা ২০১০ : বছরজুড়ে সামহোয়্যারইন ব্লগে যা কিছু আলোচিত-সমালোচিত... - ফিউশন ফাইভ
- টিপাইমুখ বাধ প্রসংগে: চাই সংগ্রামের আন্ত:সংযোগ - দিনমজুর
- যেকোন Webpage থেকে বিজ্ঞাপন অপসারন করুন, বিজ্ঞাপনহীন ওয়েবের জগতে আপনাকে স্বাগতম! (রিপোস্ট)
- নাফিস ইফতেখার
- সামহোয়ারইনের যত্তসব অপশনের ব্যাবচ্ছেদ - কাঙাল মামা
- খিস্তি ঠাটে ত্রিতাল ভৈরবের জঙ্গনামা: সামহোয়ার নিয়ে আরো কিছু ভণিতা - রিফাত হাসান
- ফেসবুকে বাংলা অক্ষর ছোট দেখার সমস্যা দূর করে নিন সহজেই.... - সুনীল সমুদ্র
- সাংবাদিক জীবন: তিনি যেভাবে নির্বাচনী চান্দা দিচ্ছিলেন...... - শওকত হোসেন মাসুম
- ফাহমিদুলের আত্মপরিচয় অনুসন্ধান: পুনর্পাঠ - ভূপর্যটক
- হাইব্রীড বীজ নিয়ে আশঙ্কা সত্যি হলো এবার 'সত্যিরা' ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ! - মনজুরুল হক
- দুইরকম তারুণ্য - সুমন রহমান
- ভাস্কর্য বিবাদ: লালন উৎখাতের মচ্ছব বসিয়ে হাওয়ার ওপর তাওয়া গরম করে কার জন্য পিঠা ভাজা হচ্ছে? - ফারুক ওয়াসিফ
- গ্লোবাল ভয়েসের সপ্তাহের ব্লগার হিসাবে নির্বাচিত রেজওয়ান ভাইয়ের অনন্য সাক্ষাৎকার - কৌশিক
- অর্ন্তজালের বাংলা ওয়েব সাইটগুলোর একটা তালিকা তৈরী করলাম। - একজন ব্লগার
- বাংলা ব্লগের বিবর্তন ও সম্ভাবনা - রেজওয়ান
- বাংলা ব্লগ ও ব্লগ পলিটিক্স - রেজওয়ান
- পোস্ট ব্রাত্য রাইসুর, মরীয়া বিতর্ক মানস চৌধুরীর এবং আমাদের ব্লগারকূল - ফাহমিদুল হক
- সংবাদপত্রগুলোর কার অবস্থান কেমন - কাঙাল
- ফাহমিদুল হকের বহুলপঠিত একটি পোস্ট এবং ব্লগের লিখিয়েরা: একটি পর্যবেক্ষণ - রিফাত হাসান
- আগুণের পরশমনিতে ফাহমিদুল হক ও তার সাহিত্যের সুবাস - কৌশিক
- ফিরে দেখা ইতিহাস : ভাষা আন্দোলনের দিনপন্জী (১৯৪৭-৫৬)। উৎসর্গ - সকল ভাষাশহীদকে - মিরাজ
- আমেরিকা!!! - লাল দরজা
- শহরে ষোল জনা বোম্বেটে / করিয়ে পাগলপারা / নিলো তারা সব লুটে - মাহবুব মোর্শেদ
- যারা কথা বলার সময় বাংলার সাথে ইংরেজী মিশায় - তাদের কেন যেন বাটপার ধরনের মানুষ মনে হয়! - এস্কিমো
বিদেশী সাহায্য ছাড়া কি বাংলাদেশ চলতে পারে?
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:৫৯
একসময় কেউ ভাবতেও পারতো না বিদেশী সাহায্য ছাড়া বাংলাদেশ চলতে পারবে। কিন্তু আজ অনেকেই বলা শুরু করেছেন বিদেশী সাহায্য ছাড়া বাংলাদেশ এখন চলতে পারবে। কেউ বা বলছেন এই মুহূর্তে সম্ভব না হলেও, আমরা যদি নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী চলি, তবে অচিরেই এই ভিক্ষাবৃত্তিজনিত দাসত্ব থেকে মুক্তি পেতে পারি।
প্রায় প্রতিটি সরকার বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ-এর ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী নীতিমালা ঠিক করে দেশ চালিয়েছে এতদিন। অথচ এই সংস্থাগুলোর উন্নয়ন কর্মসূচির বেশিরভাগই ব্যর্থ হয়েছে। এরা কেবল রাস্তা-ব্রিজ বানাতে টাকা দেয়, সত্যিকার দারিদ্র্যদূরীকরণে দেয়না। এরা বাংলাদেশে কিছুদিন আগেও কাঠামোগত সংস্কার কর্মসূচি চালু করেছিল, আজ তাদেরই 'কাঠামোগত সংস্কার'-এর দাবি উঠেছে, বিশ্বব্যাপী। ব্রিটিশ সরকার ভারতবর্ষে রেললাইন বানিয়েছিল জনগণের যাতায়াতের সুবিধার জন্য নয়, লুণ্ঠিত মালের পরিবহণ সহজ করার জন্য। আজকের দাতাসংস্থারা কেন রাস্তা বানাতে টাকা দেয়? ব্রিটিশদের উদ্দেশের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে এদের প্রকৃত উদ্দেশ্য বোঝা যাবে। এসব দাতাসংস্থা আসলে পশ্চিমা বহুজাতিক সংস্থার পণ্যায়নের পক্ষে কাজ করে। নীতিমালা অনুযায়ী বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট সবসময়ই আমেরিকান হয়ে থাকেন।
আজকে ধীরে ধীরে আমাদের বোধোদয় হচ্ছে। আইএমএফ-এর সঙ্গে সাম্প্রতিক প্রস্তাবিত একটি চুক্তি এদেশের জনগণ ঠেকিয়ে দিয়েছে। এটা একটা অগ্রগতি। এতদিন তারা নির্বিঘ্নে কাজ চালিয়ে গেছে, কিন্তু আজ এফবিসিসিআইয়ের বণিকরাই বাধা দিচ্ছে। তাদের এতদিনের সাফল্যের পেছনে শুধু প্রভুতোষণকারী সরকার নয়, বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদরাও দায়ী। দাপুটে এই অর্থনীতিবিদরা দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বব্যাংকের প্রজেক্টে কাজ করে আসছেন এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এসব সংস্থার প্রয়োজনীয়তাকে জাস্টিফাই করে এসেছেন।
প্রকাশ করা হয়েছে: অ্যাক্টিভিজম বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই নভেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:০৫ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
রাশেদ বলেছেন:
হুমম...এই বিষয়ে তেমন আইডিয়া নাই।
তানভীর বলেছেন:
ধন্যবাদ। বিদেশী সাহায্য নয়, বিদেশী বিনিয়োগ প্রয়োজন। আপনি কি ম্যাসেঞ্জার ব্যবহার করেন? @ ফাহমিদুল হক
নগর বাউল বলেছেন:
৫
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
রাশেদ ও প্রচেত্যকে ধন্যবাদ কমেন্টের জন্য। তানভীর, বিদেশী বিনিয়োগের চাইতেও বেশি প্রয়োজন স্বদেশী বিনিয়োগ। আমাদের ট্রেডিং ডেভেলপ করেছে, শিল্পায়ন করেনি।আমার ইয়াহু মেইল ওপেন করলেই চ্যাট-এর অপশন আসে, সেখানে কাউকে অনলাইনে পেলে ও ইচ্ছে হলে চ্যাট করি। আপনার কি ইয়াহু একাউন্ট আছে?
রাশেদ বলেছেন:
বিদেশি বিনিয়োগেরও মনে হয় একটা নিয়ম করে দেয়া উচিত তারা কতখানি লভ্যাংশ ফেরত নিতে পারবে নিজের দেশে। আমি তেমন জানি না। ভুল কইলে সরি।
মিরাজ বলেছেন:
তানভির এর সাথে একমত। আমাদের দরকার বড় আকারের বেশ কিছু বিদেশী বিনিয়োগ। ঋণের বোঝা যে হারে আমরা বাড়াচ্ছি তাতে দেশের রাজস্ব আয়ের একটা বড় অংশ চলে যাচ্ছে সুদ শোধ করাতে (গত বাজেটে সম্ভবত: ১৩ শতাংশ ব্যায় হয়েছে সুদ পরিশোধে)।দেশী বিনিয়োগ আমাদের অবশ্যই উত্সাহিত করতে হবে তবে যেহেতু অধিকাংশ দেশী বিনিয়োগ বড় পরিসরের নয় তাই অর্থনীতির ইনফ্রাষ্ট্রাকচারকে শক্ত ভিত্তির উপর দাড় করাতে বিদেশী বিনিয়োগ উত্সাহিত করা ছাড়া আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন কঠিন।
সহমত।
এ এক অন্য আই বলেছেন:
স্মরণে রাখার মতো একটি পোস্ট। আমার পছন্দের ইস্যু। ধন্যবাদ @ফাহমিদুল হক। ৫
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
তানভীর, আপনার লিংকটা খুবই কাজের এবং অপ্রাসঙ্গিক নয় মোটেই। মিরাজ, ছায়ার আলো, মোহাম্মদ অরুনকে ধন্যবাদ।
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
এ এক অন্য আই, ধন্যবাদ
কেএসআমীন বলেছেন:
পারে বৈকি। তবে আমাদের সাহায্যদাতা দেশগুলোর তখন বিরাগভাজন হয় কিনা সেটাই দেখার বিষয় (মাত্র দুএকটি দেশ)। সাবাইতো এখন ১২০০০ হাজার কি.মি. দূরে ছুটছে...
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
ঠিক বলেছেন কেএসআমীন। তবে ছোটারও ধরন আছে, কারও মাথায় একটি মানচিত্র থাকে, কারও মাথায় সঙ্গে দেশেরটিও থাকে।
স্বাধীন বাংলা বলেছেন:
বিদেশী সাহায্য ছাড়া বাংলাদেশ চলতে পারবে। যখন সংখ্যাগিরষ্ট নাগরিক দেশ প্রেমিক হবে।সময়ের ব্যাপার মাত্র।
সুন্দর পোস্টের জন্য ধন্যবাদ
রেটিং ৫
নিজেরআয়না বলেছেন:
বৈদেশিক ঋণ ও বিদেশী বিনিয়োগ নিয়ে আমাদের পর্যালোচনা করার সময় এসেছে। আমি ঢালাওভাবে এর বিরোধীতা করিনা, কিন্তু শর্তহীন-লাগামহীন বিদেশী ঋণ ও বিনিয়োগও মেনে নিতে পারি না। আসলে দাতাদের সঙ্গে আলোচনায় আমাদের আমলাদের সক্ষমতা নিয়ে ভীষণ প্রশ্ন আছে। বিশেষ করে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের কাছে নতজানু নীতির মূল কারণ আমাদের আমলা-রাজনীতিকদের দুর্নীতি প্রবণতা ও সক্ষমতার অভাব। দেশে বিভিন্ন স্থানে বেসরকারি খাতেও প্রচুর যোগ্য-দক্ষ মানুষ আছে। নীতি প্রণয়নে এদের কোনো অবদান নেই মূলতঃ সরকারের দিক থেকে নেতিবাচক মনোভাবের কারণে। বাইরের লোকজনকে জড়িত করলে লুটপাটের সমস্যা হয় বলেই আমলা-রাজনীতিকরা এ বিষয়গুলো নিজেদের কুক্ষিগত করে রাখে।
ল্যাতিন আমেরিকা আজ নতুন এক্সপেরিমেন্টে নেমেছে। সেখানকার দেশগুলো একে একে অর্থনীতিতে মধ্য-বাম নীতি নিয়ে আগ্রসর হচ্ছে। কেউ কেউ আবার জাতীয়করণের পথেও যাচ্ছে। যেমন, ভেনিজুয়েলা, বলিভিয়া ইত্যাদি। আমি জানি না এই এক্সপেরিমেন্ট কতোটা সফল হবে। তবে দেশগুলো যে এই নীতি নিতে পারছে- তার একটা বড় শক্তি নিজেদের সম্পদ।
আমাদের সমস্যা এখানেই। সম্পদ কম। দেশ ছোট, মানুষ বেশি। বিনিয়োগ দরকার বেশি। দারিদ্র বিমোচনের গতি বাড়ানো দরকার। স্থানীয় উদ্যোগ উৎসাহিত করা দরকার।
এসব নিয়ে সুস্থ বিতর্ক, তথ্য বিশ্লেষণ প্রয়োজন। গালাগালি বা একে অপরের দেশপ্রেম নিয়ে কটাক্ষ করে বেশিদূর যাওয়া যাবে না। ধন্যবাদ
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
স্বাধীন বাংলা, আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। নিজের আয়না, আপনার বিশ্লেষণ ভালো লাগলো: "শর্তহীন-লাগামহীন বিদেশী ঋণ ও বিনিয়োগও মেনে নিতে পারি না"--ভালো উক্তি। লাতিন আমেরিকা আসলেই ভালো উদাহরণ, বৈদেশিক সাহায্য-পরামর্শ ছাড়া যে চলা যায় তারা তা নিদর্শন হিসেবে করে দেখাচ্ছে। আমাদের একজন শভেজ থাকলে ভালো হতো, না হলেও চলবে। নিজস্ব নীতিতে চলতে চাইলে কিছু সাহস, কিছু সততা, কিছু ইচ্ছা দরকারমাত্র।
লাল দরজা বলেছেন:
ঝটপট লেখাটা পড়ে নিলাম, মন্তব্য গুলো পড়া হয়নি এখনো পড়ে মন্তব্য করব। আপনার চিন্তাধারার সাথে মিলছে, না মেলার কোন কারন ও নেই হয়ত।
এই মুহূর্তে শুধু এইটুকুই বলি, পুরো পৃথিবী যখন পরিবেশের দিকে ঝুকছে বিদেশী সুপার মার্কেট গুলিতে শৈশবে আমাদের বাবা/চাচাদের হাতে দেখা বাজার করার চটের ব্যাগের কদর যখন বাড়ছে তখন এক দিকে বাংলাদেশের পাটের কল বন্ধ হয় আর আরেক দিকে ভারতে নতুন পাটের কারখানা চালু হয়।

সারা ছোট বেলা বাংলায় ইংরেজীতে কত রচনা মুখস্ত করলাম, জুট ইজ দ্যা গোল্ডেন ফাইবার অব বাংলাদেশ/ পাটকে স্বর্ণতন্তু বলা হয়।
যদিও সেই শৈশব থেকেই মনের ভেতর খটকা লাগত পাট ত পাটই এ জিনিসের সাথে সোনাদানার তুলনা হয় কিভাবে আমার ছোট মাথায় কিছু আসত না। পরীক্ষায় লিখতে হবে তাই মুখস্ত করতাম হরলাল বাবুর রচনা বই। তবে এইটুকু সত্য জানতাম/মানতাম স্বর্ণ হউক ছাই না হউক পাট কেবল বাংলাদেশের কেবলই আমাদের নিজেদের কিছু। (পাটের সাথে আমার জীবনের এক দীর্ঘ সম্পর্ক আছে, সে না হয় অন্য কোন সময় লিখব।)আজ যখন জুট লিখে গুগলে সার্চ দেই সত্যি কথা নিজের চোখ কে মানাতে পারি না, সবার আগে পৃষ্ঠাকে পৃষ্ঠা জুড়ে কেবল ভারত আর ভারত, কি সমস্ত সব পাট ও পাট জাত বাহারী বাহারী সামগ্রীর সব ফ্লাশ প্রেজেন্টেশন। বাওি লাগাইয়া আপনাকে বাংলাদেশের খোজ লাগাইতে হবে, ভাগ্য খারাপ থাকলে কিছু খুজে পাবেন।
বাংলাদেশ স্বাধীনের এ্যাতোদিন পরে এসে আজ যখন আমরা পাট কল গুলি সব মহা আনন্দে বন্ধ করছি আমাদের প্রতিবেশীদের কাছে তখন পাট সত্তি সত্তি স্বর্ণতন্তু হয়ে উঠছে। অনলাইনে প্রতিবেশীরা যখন ফাটাফাটি ওয়েব পেইজ বানিয়ে রেখেছে সেখানে আমাদের দেশের পাট গবেষণা ইনিষ্টিটিউট এই ৩৬ বছরে দিন পঞ্জিকা আর ফুট পাথে বেচা সিনেমার গানের বইয়ের মতো কিছু চটি বই ছাপতে ছাপতে টোটাল পাট শিল্পটাকে কবে কেমন করে ধ্বংসের দুয়ারে নিয়ে গেল আমাদের চোখের সামনে আমরা কিছুই বুঝলাম না।
আসেন ভাই মনের দুঃখে একটু গোল্ডেন হ্যান্ডশেক করি!
ফাহমিদুল হক সাহেব, কি লিখলাম কে জানে,প্রাসঙ্গিক হল কি হলনা আমি আর ফিরে ও দেখছিনা এই পোষ্ট করলাম। ভালো থাইকেন।
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
লাল দরজা, আপনার বক্তব্য খুবই প্রাসঙ্গিক। এদেশে পাটকল বন্ধের পরামর্শ বিশ্বব্যাংকের, এজন্য তারা টাকাও দিয়েছে, ক্ষতিপূরণ খাতে। প্রায় একই সময়ে ভারতে নতুন পাটকল বসানোর টাকাও তাদেরই দেয়া। ফারহান দাউদ, দুর্নীতি, ইউনিয়নবাজি কারা করেছে? সরকারপুষ্ট মাস্তানেরা, যখন যে-সরকার ক্ষমতায়, তাদের মাস্তানরাই দাপট চালিয়েছে। এই সরকারগুলোই কিন্তু বিশ্বব্যাংকের কথায় ওঠে বসে। দুর্নীতিবাজ রাজনীতিক আর আমলাদের এইসব দাতাসংস্থার সঙ্গে ডিল করার মতো মন ও কোমরের জোর নেই। রাষ্ট্রপরিচালকরা দুর্বল হলে বিদেশী দুর্বৃত্তরা আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠে।

আমার মনে হয় বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এর ঋণ থেকে দায়মুক্তির জন্য আন্দোলন গড়ে তোলা উচিত। আমাদের ভিক্ষা চাইনা, কুকুর সামলান অবস্থা।
আমাদের সম্পদ দিয়েই যদি আমরা এগিয়ে যাই, তাহলেই মনে হয় সত্যিকারের উন্নতি করতে পারবো।
পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।
*****
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
মুকুল, আপনাকেও ধন্যবাদ
লাল দরজা বলেছেন:
যাক দুঃখ'টা আমার অপ্রাসঙ্গিক ছিল না। চলুক আলোচনা, বহু তামাসা হচ্ছে/ করছি কিছু কাজের চিন্তা ও করা দরকার। ফাহমিদুল হক, আপনাকে ধন্যবাদ।
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
ধন্যবাদ লাল দরজা। আমাদের সবার দুঃখ এক করতে পারলে তা সুখের উৎস হতে পারে
লাল দরজা বলেছেন:
"আমাদের সবার দুঃখ এক করতে পারলে তা সুখের উৎস হতে পারে" - উক্তি অব দ্যা ডে।
মনে থাকলো।
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
লজ্জা দিয়েন না @লাল দরজা। কিন্তু আমি কথাটা বিশ্বাস করি।
দিগন্ত বলেছেন:
বক্তব্যের মূলধারার সাথে আমার কোনো বিরোধ নেই তবে আমার মতে বাংলাদেশ, ভারত এমনকি চিনেরও এখনো সাহায্য ছাড়া চলার মত সময় আসেনি। সময় এলে সবাই নিজের নিজের মত স্বাধীনতা আদায় করে নেবে। কেউ শখ করে পরাধীন থাকেনা। আর হুগো চেভেজের তেলের জোর আছে তাই এখন চেভেজ স্বাধীনচেতা দেশ গড়ার সুযোগ পাচ্ছে। সবাই অতটা ভাগ্যবান হয় না। তাছাড়া চেভেজ কাজটা কতটা ঠিক করছেন সেটা বোঝার সময় এখনও আসেনি ... সময় লাগবে মূল্যায়ন করতে।
পুঁজিকে যেমন প্রশ্রয় দেওয়া ঠিক নয় তেমনই অবহেলা করাও ঠিক না। আজ থেকে তিরিশ-চল্লিশ বছর আগে তাকান। যে দেশগুলো পুঁজিবাদী সমাজ তৈরী করেছিল তারাই কিন্তু দেশের গরিবি বেশী করে দূর করতে পেরেছে - যেমন দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান বা সিঙ্গাপুর। উল্টোদিকে যারা পুঁজীর বিপক্ষে হেঁটেছিল তারা আজ নিজেদের ভুল শোধরানোর পথে - যেমন চিন বা ভিয়েতনাম।
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
দিগন্ত, আপনার কথায় যুক্তি আছে। আমি পুঁজির বিপক্ষে কিছু বলিনি। আমি বলছি দাতাসংস্থানির্ভর অর্থ ও প্রেসক্রিপশনে ভর করে কয়েক দশকে আমাদের বিশেষ কোনো পরিবর্তন আসেনি। তাই স্বাধীনভাবে চিন্তা করার সময় এসেছে। আমরা এতদিন যেভাবে এগিয়েছি, তাতে অর্থনীতির নীতি পুঁজিতান্ত্রিক ধারাতেই বিকাশ হতে দিতে হবে। তবে কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের ধারণাকে সঙ্গে রাখতে কোনো অসুবিধা দেখিনা। বিশ্বব্যাংক আমাদের সবকিছু বেসরকারীকরণ করতে বলে, অথচ পুঁজিতন্ত্রের মোড়ল যুক্তরাষ্ট্রেই রাষ্ট্রীয়ভাবে যতটুকু 'সোশ্যাল সিকিউরিটি' নিশ্চিত করা হয়, তা আমরা ভাবতেও পারিনা। আর শভেজ কি কেবল তেলের জোরে স্বাধীনভাবে ভাবতে পারছে? স্বাধীন থাকতে চাওয়া একটা ইচ্ছাশক্তির প্রকাশ, সম্পদ এখানে বড়ো কথা নয়, সহায়ক হতে পারে তা। পৃথিবীর বহু দেশেই বহু তেলসম্পদ ছিল/আছে। সবাই কি সমান স্বাধীনচেতা? শভেজ যে বুশ/মার্কিনবিরোধী অবস্থান নিতে পারছে, ইউনিপোলার বিশ্বে এটারই অনেক মূল্য আছে। তার নীতি কতখানি সঠিক, তা আপনার মতো আমিও মনে করি ভবিষ্যত বলে দেবে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করতে চাই লাতিন আমেরিকার জাগরণ ভবিষ্যতে একটি যুগান্তকারী ঘটনা বলেই প্রমাণিত হবে।
দিগন্ত বলেছেন:
আপনি যদি লাতিন আমেরিকা দেখতে চান তবে আমি বলব আপনি দেশগুলোর লিটারেসি রেট দেখুন। ওরা আগে কিন্তু ওদের 'হোমওয়ার্ক' সেরে ফেলেছে। সেটাই আমাদের এখন করার সময়। সেটার জন্য সাহায্য না নিয়ে কিভাবে চলা সম্ভব?সাহায্য যদি ঠিকঠাক ব্যবহার করে দেশের লোকের কাজে লাগানো যায় তাহলে সব সাহায্যই মূল্যবান হতে পারে। আমি এখানে সাহায্যকে পুঁজীরই আরেকটা রূপ হিসাবে গণ্য করছি। কারণ সাহায্যও শেষে দেশের মধ্যে এফিসিয়েন্টলি বন্টন করা যায় তাহলে সেটাও একই কাজ করতে পারে।
প্রশ্নোত্তর বলেছেন:
বিদেশী গোষ্ঠীর সাথে আলোচনায় আমাদের প্রতিনিধিদের নেগোসিয়েশন পাওয়ার নিয়েও প্রশ্ন উঠছে ইদানীং! আমাদের একটা যুতসই ও সময়োপযোগী নীতিমালা থাকাটা আতি দরকার (নীতিমালা আছে কিন্তু যুতের না!) বিদেশী-দেশী সব বিনিয়োগই বাড়ানো দরকার। হক সাহেব খাঁটি কথা বলেছেন, "আমাদের ট্রেডিং ডেভেলপ করেছে, শিল্পায়ন করেনি।" কিন্তু কোন উন্নয়নই সম্ভব না এই 'ছ্যাচড়া' আর অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে। তবে যা-ই বলুন না কেন, কৃষি উন্নয়ন ছাড়া আমাদের গতি নেই। কেননা আমাদের পপুলেশনের সবচেয়ে বড় অংশ এখানে জড়িত (অবশ্য আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ কারণও আছে)।
এদেশের এত বড় একটা পপুলেশন কে রাতারাতি দারিদ্রমুক্ত করা সম্ভব নয়! লক্ষ্য করুন, এখন আমাদের বিদেশী মুদ্রার বড় অংশটা আসছে প্রবাসীদের কাছ থেকে! যদি এও সংখ্যাটা বাড়ানো যায়! একসাথে দু'টি নগদ লাভ হবেঃ বিদেশী মুদ্রার প্রবাহ বাড়বে আর আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যার একটি, বেকারত্ব কমবে; লোকাল শ্রমের বাজারে প্রতিযোগীতা কমবে।
মুজিব মেহদী বলেছেন:
ফাহমিদ ভাই, খুব জরুরি একটা প্রসঙ্গের অবতারণা করেছেন আপনি। এ বিষয়ে বিস্তর কথা বলা হয়েছে, আরো হবে, হওয়া দরকারও।এখানে আলোচনার সুবিধার্থে আমার কিছু মত আমি উপস্থাপন করতে চাচ্ছি। সারকথা হলো যে, আমরা ক্রমশ এমন একটা অবস্থায় এসে উপনীত হয়েছি বা হতে বাধ্য হয়েছি যে, বিদেশী সাহায্য ছাড়া আমাদের চলতে পারার সম্ভাবনা এখন খুবই ক্ষীণ। ইতোমধ্যে আমাদের হাতে পায়ে শিকল পড়ে গেছে, যা অত্যন্ত বেদনার।
আমার তো মনে হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদেশী সাহায্য ছাড়া আমাদের পালা করে উপোস দেয়া ছাড়া গতি থাকবে না। কারণ--
১. দীর্ঘদিন রান্নাবান্না না হওয়ায় আমাদের নিজেদের হাঁড়িপাতিল যা ছিল, তাতে মরিচা ধরে গেছে।
২. ব্যবহার না করতে করতে আমাদের রান্নাঘর ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে।
৩. রাধুঁনি যারা ছিলেন, অনভ্যস্ততার কারণে তারা রাঁধা ভুলে গেছেন।
৪. যে মাঠ থেকে আনাজ-ব্যঞ্জন আসত, সে মাঠ পতিত থাকতে থাকতে বুনো ঘাসের দখলে চলে গেছে।
৫. আমাদের হাত এখন আর কাজ করতে পারে না, কেবল গুটানো হাত খুলে অন্যের দান গ্রহণ করতে পারে।
আমি বিশ্বাস করি, মানুষের সম্ভাবনা অশেষ। আর মানুষকে নিয়েই যেহেতু দেশ,ফলে দেশের সম্ভাবনাও ফুরায় নি। অতএব আমরা এখন ওই সম্ভাবনার কথা ভেবে স্বপ্ন রচনা করতে পারি মাত্র। কোনো স্বপ্নই কখনো বাস্তবে রূপ নেয় না তা নয়, নিতে পারে। আবার সমভাবে স্বপ্ন চিরকাল স্বপ্নই থেকে যেতে পারে।
দিগন্ত বলেছেন:
মুজিব-ভাই, আপনার শেষ অংশটা অন্যরকম হয়ে গেল। বাকি বক্তব্যের সাথে আমি একমত - এখন যা অবস্থা তাতে সাহায্য ছাড়া চলার উপায় নেই, আর পরে সাহায্য ছাড়া চলতে পারব কিনা সেটা নির্ভর করছে আজকে পাওয়া সাহায্য আমরা কিভাবে ব্যবহার করি তার ওপর।
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
দিগন্ত, প্রশ্নোত্তর ও মুজিব মেহদীতাহলে আসেন এই পর্যায়ে আমরা বিদেশী সাহায্য নিই যাতে আর বিদেশী সাহায্য না নিতে হয়।
দিগন্ত বলেছেন:
আমারো মনে হয় সেটাই ঠিক হবে, কিন্তু শর্তের ব্যাপারে যতটা সম্ভব সাবধানী থাকতে হবে - এই আর কি ...
প্রশ্নোত্তর বলেছেন:
@ফাহমিদুল হকবিদেশী সাহায্য নেব না নেব না বলে রাজনীতির মাঠ গরম করা সহজ কিন্তু বাস্তব অবস্থা হলো বিদেশী সাহায্য ছাড়া আমাদের এই মুহুর্তে উপায়ও নেই! নির্মম হলেও এটা সত্যি! মুজিব মেহদীর সাথে একমত। দিগন্তের মতামত খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সাবধানী হতে হবে।
সবচেয়ে বড় কথা বিদেশী সাহায্যের এই বিপদজনক জুয়া থেকে বেরুতে হলে তা করতে হবে আমাদেরকেই।
* আমাদের নীতিনির্ধারকদের টার্গেট অরিয়েন্টেড পরিকল্পনা প্রনয়ণ করতে হবে।
* কত বছর লাগবে বিদেশী সাহায্য থেকে বেরিয়ে আসতে সেটা যথাসম্ভব সঠিকভাবে ফোরকাস্ট করে সেইমত কাজ করতে হবে।
* নির্বাচনের রাজনীতির মত আত্মবিরোধী কালচার থেকে আমাদের রাজনীতিবিদদের বেরুতে হবে। এছাড়া সরকার বদলের সাথে সাথে যেভাবে প্রকল্প বন্ধ-বদল হয় তা থেকে মুক্তির উপায় নেই।
* বেকারত্ব কমাতে ও 'জাতীয় মোট আয়' দেশের এতবড় জনগোষ্ঠীকে বিদেশে কর্মসংস্থান দিতে হবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে।
* কৃষি উন্নয়নে জোর দিতে হবে; কৃষিভিত্তিক প্রসেসিং ও ব্যাক-লিঙ্কেজ শিল্প গড়ে তুলতে হবে। শুধু দেশের চাহিদা মেটানো নয়, এই ব্যাপারটা করতে হবে রপ্তানি বানিজ্য মাথায় রেখে।
দেখুন, মধ্যপ্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ দেশগুলার তুলনায় আমরা কি গরীব দেশ না? অবশ্যই। ওই তেল সমৃদ্ধ দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব বলতে কিছু নেই। তা তাদের শেখতন্ত্রের কারণে শুধু নয়, গ্লোবেলাইজেশনের অর্থনৈতিক মাস্তানীর কারণে। দু'বছর আগে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জন মেজর আবুধাবীতে এক সেমিনারে একেবারে স্পষ্ট করে বলেছেন। প্রমানসহ দেখিয়েছেন ক্ষুদ্র বৃহত জাতি-রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব বর্তমান বিশ্বে আক্রান্ত অনেক দিক থেকে। সবচেয়ে বড় কারণ অর্থনীতি।
আমরা অবশ্যই নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারবো আমাদের যা আছে তা দিয়েই। সর্বাগ্রে প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা।
ভালো পোস্ট
৫
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
প্রশ্নোত্তর, আপনার সম্ভাব্য করণীয়-র বক্তব্য যদি নীতিনির্ধারকরা বুঝতেন! সারওয়ারচোৗধুরী, দাতা-দানবদের মোকাবেলা করার জন্য নিজেদের মনোবল, বাহুবল বাড়াতে হবে। কিন্তু এতো এক চক্র, হাত পাততে পাততে তো আমরা হাতকে অন্য কাজে লাগানোর কথা ভুলে গেছি। এখন যেহেতু দাতাসংস্থার কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, তাহলে আমাদের ভিক্ষার হাত গুটিয়ে কর্মের হাত উত্তোলন করার সময় এসেছে। আজ পৃথিবী অনেক উন্মুক্ত, অন্তঃত তথ্যপ্রাপ্তির দিক থেকে। কী করলে কী হয় জানা কঠিন নয়। নীতিনির্ধারকরা যদি এখন কেবল নিজের কথা না ভাবেন, তবে সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যেতে পারে।
ধন্যবাদ আপনাদের মন্তব্যের জন্য।
তানভীর বলেছেন:
কাজে ব্যস্ত, তবুও যোগ দিলাম। যুক্তরাষ্ট্র পুঁজিবাদী অর্থনীতির ঘাঁটি হলেও এটি আগে একটি ‘ওয়েলফেয়ার স্টেট’ যার মানে হল মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো মেটানোর ব্যবস্থা এখানে রাষ্ট্রই করে, যা অনেক সমাজতান্ত্রিক দেশও করতে পারে না। এখানে ধনী-গরীবের বৈষম্য আছে ঠিকই, কিন্তু কোন গরীব যেন না খেয়ে মরে, যেন খাদ্য, শিক্ষা, চিকিতসা, বাসস্থান ঠিকমত পায় তার ব্যবস্থা রাষ্ট্র করে। এখানে যারা বেকার, যতদিন না কাজ যোগাড় করতে পারে ততদিন রাষ্ট্র থেকে ‘ফুড স্টাম্প’ পায়, ওই টাকা দিয়েই কোন রকমে আরেকটা জব না পাওয়া পর্যন্ত চলা যায়। যারা বৃদ্ধ তারা ‘সোশাল সিকিউরিটি’ থেকে টাকা পায়, কারও ওপর নির্ভরশীল থাকা লাগে না। মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি এবং এমন নয় যে বড়লোকের ছেলে বড় স্কুলে যাবে, গরীবের ছেলে গরীব স্কুলে- কে কোথায় যাবে সেটা কর্তৃপক্ষই ঠিক করে দেয় লোকেশন অনুযায়ী। গরীবরা হেলথ ইন্সুরেন্স এফোর্ড করতে পারে না ঠিকই, কিন্তু তাদের জন্য ফ্রি কমুনিটি হাসপাতাল আছে। কোন শিশু অসুস্থ হলে তার চিকিতসা রাষ্ট্রই করে। তার সেবার জন্য তার পরিবারকেও ভাতা দেয়া হয়। এমনকি সব শিশুর ভরণপোষণের জন্যই প্রত্যেক পরিবার ভাতা পায়। এরকম আরও অনেক আছে। পুঁজিবাদের বাইরেও আমেরিকার একটি অন্য দিক আছে, যেটা আমেরিকার বাইরে থেকে দেখা যায় না। এইখানে ব্যাংকগুলাতে টাকা রাখলে কোন সুদ পাওয়া যায় না, আর বাংলাদেশের মত মুসলিম দেশগুলাতে সুদ খাওয়ার জন্যই মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখে! যাই হোক, প্রসঙ্গে আসি। বিদেশী সাহায্যের সমস্যাটা আসলে সেই চৈনিক প্রবাদ বা নবীজির হাদিসের মত। আপনি কাউকে প্রতিদিন মাছ না দিয়ে যদি মাছ ধরাটা শিখিয়ে দেন বা প্রতিদিন খাদ্য না দিয়ে যদি একটা কুঠার কিনে দেন- এই রকম একটা ব্যাপার। কিন্তু জিনিষটা এখন আর এই রকম সরল নেই। কারণ যারা মাছ বা খাদ্য দিচ্ছে, তারা এখন এর মধ্যেই তাদের একটা স্বার্থ খুঁজে পেয়েছে। মাছের বা খাদ্যের একটা বড় অংশ নিয়ে তারা এখন আমাদের শুধু উচ্ছিষ্ট দিচ্ছে। বেগারদের চয়েস করার কোন অধিকার থাকে না। আমাদেরও নেই। এবং ওরাও এখন আর আমাদের মাছ ধরা শিখিয়ে দেবে না বা কুঠার কিনে দেবে না। আমাদের এখন নিজেদেরই এটা শিখে নিতে হবে এবং নিজেদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে- আমরা কি ভিক্ষুক হয়ে প্রতিনিয়ত উচ্ছিষ্ট গ্রহণ করতে থাকব নাকি মাছ ধরা শিখে ভিক্ষাবৃত্বি থেকে বের হব? যারা বলেন উচ্ছিষ্ট গ্রহণ করা ছাড়া কোন উপায় নেই, আমি তাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করছি।
বড় মন্তব্যের জন্য দুঃখিত। ধন্যবাদ।
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
তানভীর, আপনার সুচিন্তিত মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। এরকম 'বড়ো' মন্তব্য বেশি কাজে আসে।
খোমেনী ইহসান বলেছেন:
আমরা বিদেশী সাহায্য ছাড়া চলতে পারবো, অবশ্যই। কিন্তু বিদেশী চিন্তা ছাড়া পারবো কি? আমাদের বিভাগে তো এর কোন নজির দেখিনা।
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
'আমাদের বিভাগ' বলতে আপনি কী বোঝালেন খোমেনী ইহসান?
বিহংগ বলেছেন:
"এই দেশ পলিটিক্যালি ষ্ট্যাবল না হলে স্বদেশী বা বিদেশী কোন বিনিয়োগকারীই আগ্রহ দেখাবেনা।"একমত।
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
আগে দেখি নাই; কতকিছুই যে পড়ার বাকী!যাইহোক, ভালো পোষ্ট।সমসাময়িক হলে বিতর্কে অংশ নিতাম; বিষয়টা সমসাময়িক(এখনো) কিন্তু পোষ্টটা পুরোনো।
লেখক বলেছেন: এই পুরনো পোস্টটি কীভাবে আপনার নজরে এলো তাই বরং জানতে ইচ্ছে করছে।
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
প্রথমত বিষয়টা আমার মতে বর্তমান বাস্তবতায় আলোচনার জন্য জরুরী।কার ব্লগে জানি শোকেসে দেখলাম।সেখান থেকেই ঢুঁ মারলাম।
ঢাকাইয়া টোকাই বলেছেন:
এ বিষয়ে আমার মতন গরিব মানুষের কিছু বলার আছে।তবে আমার আপনার মতন গরিব মানুষের কথার দাম নাই এই দেশে।
টোকাইয়ের দেশ গড়ার মহাপরিকল্পনা ( পর্ব ১: ভিক্ষা অভ্যাস ত্যাগ করা)
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















