somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের সাংবাদিকতার বাজারমুখিনতা (প্রথম পর্ব)

২৯ শে নভেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[প্রাক্কথন: ২০০২ সালের ১৮ নভেম্বর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে যোগাযোগ অধ্যয়ন চক্র একটি সেমিনারের আয়োজন করে। বাংলাদেশের সাংবাদিকতার 'বাজারমুখিনতা ও ভিন্ন ভাবনার প্রস্তাবনা' শীর্ষক সেই সেমিনারটিকে, বলা যায়, ঐ বিভাগে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ক্রমশ বাজারমুখিন হয়ে পড়াকে সমালোচনা করে এবং পুরো মিডিয়ার রাজনৈতিক-অর্থনীতিকে ব্যবচ্ছেদ করে উপস্থাপিত প্রথম বিশ্লেষণের প্রয়াস। সেমিনারের অন্যতম আলোচক, প্রথম আলো পত্রিকার সহকারী সম্পাদক মশিউল আলম ঐ সেমিনারে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতার আলোকে একটি কলাম লেখেন তার পত্রিকায়। পরে ঐ কলামটিকে ঘিরে সেমিনারের প্রবন্ধকার ফাহমিদুল হক (১১ ডিসেম্বর, ২০০২)ও আরেক আলোচক কাবেরী গায়েন একই পত্রিকায় তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। মিডিয়ার রাজনৈতিক-অর্থনীতি নিয়ে বাংলাদেশে এই প্রথম একটি বিতর্ক জমে ওঠে যা একটি শীর্ষস্থানীয় মূলধারার দৈনিকে প্রকাশিত হয়। কৌতূহলোদ্দীপক এই বিতর্কের তাৎপর্যের মাত্রা নিয়ে মানস চৌধুরী 'যোগাযোগ' পত্রিকার সংখ্যা ৬ (২০০৪)-এ একটি নিবন্ধ লেখেন। এখানে সেই বিতর্ককে তুলে ধরা হলো, একটি সিরিজ পোস্টের মাধ্যমে, তবে কাবেরী গায়েনের লেখা ছাড়াই।]

...

একটা উদ্ধৃতি দিয়েই শুরু করা যাক।
"খবরের কাগজ পড়া। সাদা কাগজের উপরে অনিঃশেষ সারিবদ্ধ অরের কালো কালো কীটÑ বিরাজ করছে পাকা ফলের ভেতরে পোকার মতো। সমস্ত পৃথিবী সেখানে উদোম খোলা পড়ে আছেÑ কিন্তু তাতে শাঁস নেই, রক্ত নেই, রস নেই। খবরের কাগজের ভোক্তা যে পাঠক তারও মনে কোন ঢেউ নেই, কোন ক্ষোভ নেই, কোন কিছুতেই ঝাঁপিয়ে পড়ার কোন উদ্যম নেই। মিটছে শুধুমাত্র একটা পরিত্যক্ত কৌতূহলÑ মগজের মধ্যে জমে উঠছে একটির পর একটি জ্ঞানের শুকনো কাঠি। কোনদিক দিয়ে বেরুবার পথ না পেয়ে ¯তূপীকৃত এইসব জ্ঞানকাঠি অন্ধের দিকে নিয়ে আসছে প্রচণ্ড মাথার যন্ত্রণা। তার কোন উপশম তো নেই-ই পরের দিন সকালে চায়ের টেবিলে আবার হাজির খবরের কাগজ। একথা কি ঠিক যে সমস্ত দুনিয়াকে সামনে এনে সমস্ত দুনিয়াকে মানুষের মন থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে খবরের কাগজের জুড়ি নেই।" (হক, ১৯৯৩ )
কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের এই উদ্ধৃতিতে পাঠকের ওপর সংবাদপত্রের প্রভাবের বিষয়টি গভীর পর্যবেক্ষণে ও ভিন্ন মাত্রায় ধরা পড়েছে। সংবাদপত্র পাঠের অভিজ্ঞতা থেকে সংবাদপত্রের একটি দার্শনিক ও মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা এখানে তিনি দিচ্ছেন। তবে দার্শনিক স্তর থেকে নেমে বৈশ্বিক ও এদেশীয় গণমাধ্যমের একেবারে জরুরি কিছু বিষয়ে আমি এই নিবন্ধে আলোকপাত করবো। যদিও এই দার্শনিক ব্যাখ্যার অভিজ্ঞতা পরোভাবে আমাদের আলোচনা চালিয়ে নিতে সাহায্য করবে। খবরের কাগজ পাঠককে কীভাবে সবকিছুর ব্যাপারে উদ্যমহীন করে ফেলে তার বর্ণনা হাসানের উদ্ধৃতিতে আছে। সংবাদপত্র থেকে আহরিত জ্ঞান যে কতটা শুকনো ও স্বাস্থ্যহানিকর তাও হাসান বলছেন। আর সবচেয়ে মারাত্মক উপলব্ধিতে তিনি সংবাদপত্র পাঠ করতে করতে পৌঁছেছেন যে, দুনিয়ার সবকিছুকে একত্রে হাজির করে মানুষের মনকে, সংবাদপত্র, সেই দুনিয়া থেকেই বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এবং এতে তার আর কোনও জুড়ি নেই। আরও একটি কাজে সংবাদপত্র বা গণমাধ্যমের জুড়ি নেই। সেটি হলো পণ্যের প্রচারে ও প্রসারে গণমাধ্যম খুবই করিৎকর্মা।

এই পর্যায়ে বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমের একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা তুলে ধরা হলো।

গণমাধ্যমের বিশ্বদর্শন: বাজারসেবা

আমরা জানতাম গণমাধ্যম আমাদের তথ্য জানায়। কিন্তু এখন দেখছি গণমাধ্যম আমাদের দিয়ে পণ্য কেনায়। গণমাধ্যম ব্যবহার করলেই Ñ তা মুদ্রণ মাধ্যম বা ইলেক্ট্রনিক মাধ্যম, যাই হোক না কেন Ñ আপনি 'খাদক'-সমাজের একজন ভোক্তায় আপনা আপনিই পরিণত হবেন। তথ্যকে আমরা একটা নিরীহ, নিরপে পদার্থ বলে জানতামÑ এখনও আমরা অনেকেই সেরকমই ভাবি। আর মুশকিলটা সেখানেই। তথ্য হলো তাই, যা আমাদের 'অনিশ্চয়তা কমায়'। (Rahim, 1996: 87) যখন আমরা কোনো বিষয় সম্পর্কে তথ্য পাই, তখন সে-বিষয় সম্পর্কে আমাদের জিজ্ঞাসা, প্রশ্ন, অনিশ্চয়তা দূর হয়। কিন্তু বর্তমানের বিশ্বায়নের সময়ে আমরা আগ্রহাধীন ও আগ্রহের বাইরের নানা কিসিমের তথ্য পাচ্ছি। সেগুলো অনিশ্চয়তা কতটুকু কমাচ্ছে বলা মুশকিল, কিন্তু কোন তথ্য নেব এবং কোনটা নেব নাÑ এরকম একটি নতুন ও ভয়াবহ সমস্যার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমরা প্রতিনিয়ত নাজেহাল হচ্ছি। উপরন্তু তথ্য তো আর একলা একলা আমাদের কাঁধে 'ইনফরমেশন ওভারলোড'-এর বোঝা চাপাচ্ছে না, সঙ্গে নিয়ে আসছে রঙবেরঙের বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপনের রঙ ও গ্যামারের প্রেমে মজে আমরা এটা-ওটা কিনতে বাধ্য হচ্ছি, চাহিদা না-থাকলেও। আর চাহিদার ঘাটতি থাকলে অসুবিধা নেই, বিজ্ঞাপন আপনাকে আমাকে ঠিকই তৈরী করে নেবে। কারণ বিজ্ঞাপনের অন্যতম কাজ হলো কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করা।
এ-পরিস্থিতিতে তথ্যমাধ্যমসমূহ খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং মাধ্যমসমূহই একেকটি মেগা কর্পোরেশনে রূপান্তরিত হয়েছে। অন্যদিকে কোনো মেগা কর্পোরেট কোম্পানিই আজকাল একটি নির্দিষ্ট দেশের গণ্ডীতে আবদ্ধ থাকতে চাচ্ছে না -- তা কোক-পেপসি হোক বা সফটওয়্যার-কোম্পানি অথবা টেলিভিশন-চ্যানেল হোক। বিশ্বায়নের যুগে এগুলো একেকটি বহুজাতিক কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। আর আজ একথাটা বুঝতে খুব বেশি কষ্ট পেতে হয়না যে, মুক্তবাজার অর্থনীতি হলো, মূলত, পশ্চিমা পণ্যসমূহের জন্য বাজার উন্মুক্ত ও স¤প্রসারণ করার প্রক্রিয়া। মুক্তবাজার সম্পর্কে নোম চমস্কি কী বলেন শোনা যাক:
"মুক্তবাজার-ধারণা একটা প্রতারণা। তারা অন্যদের জন্য মুক্তবাজার নীতিতে বিশ্বাসী, নিজেদের জন্য নয়। প্রতিটি সমাজেই প্রধান কর্পোরেশনসমূহ বস্তুত ব্যবসার অগ্রগামী খাতসমূহ, রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি এবং অন্যান্য সহায়তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তারা আপনাকে মুক্তবাজারে যোগ দেবার আহ্বান জানাবে কিন্তু নিজেরা যোগ দেবে না।" (Chomsky, 1996)
খোদ আমেরিকায় কোম্পানিগুলো প্রচুর পরিমাণে রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি নিচ্ছে, কিন্তু তৃতীয় বিশ্বকে বলছে সবকিছুর রিরাষ্ট্রীয়করন করতে। তৃতীয় বিশ্ব যে বিশ্বায়ন ও মুক্ত বাজার অর্থনীতি থেকে কোনো লাভ পাচ্ছে না, একথা আজ প্রমাণিত। উল্টো বিদেশী পণ্যের অবাধ অনুপ্রবেশের কারণে প্রান্তিক অর্থনীতির দেশের নিজস্ব পণ্যই মার খাচ্ছে। এখন মুক্তবাজারের পণ্য উৎপাদন কোনো সমস্যা নয়Ñ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য ঠিকই তাইওয়ানে কিংবা জাপানি পণ্য মালয়শিয়ায় সস্তাশ্রমের মাধ্যমে অনায়াসে উৎপাদিত হচ্ছে। সমস্যা হলো এতোবড়ো বিশ্ববাজারে এগুলোর বিপণন কীভাবে হবে। বর্তমান পুঁজিবাদ বিপণনের ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণে অর্থব্যয় করে থাকে। "১৯৯২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসাখাত বিপণনের পেছনে ১ ট্রিলিয়ন ডলার (জিডিপির ছয় ভাগের এক ভাগ) খরচ করেছিল।" (Clancy and Shulmar, Dawson and Foster উদ্ধৃত, 2001: 59) আর এই কারণেই গণমাধ্যমসমূহের কদর বেড়েছে। আর সেই গণমাধ্যমের যদি বিশ্ববি¯তৃত নেটওয়ার্ক থাকে, তাহলে তো কথাই নেই। এজন্যই এতো এতো স্যাটেলাইট-টিভি-চ্যানেলের প্রসার, ইন্টারনেটকে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে দেবার জন্য এতো তোড়জোড়। স্যাটেলাইট-টিভিতে রঙীন নাচ-গান দেখ, রোমহর্ষক হলিউডী মুভি দেখ, সারাদিনমান ক্রিকেট-যুদ্ধ দেখ আর ফাঁকে ফাঁকে পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখ। (এর উল্টোটাই হয়তো সত্যি -- আমরা বিজ্ঞাপনের ফাঁকে ফাঁকে টিভি-অনুষ্ঠান দেখি।) আর নয়তো ঘণ্টার পর ঘণ্টা ইন্টারনেটে কাটাও, বিজ্ঞাপনের এনিমেটেড ভেলকি দেখ। গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সারাবিশ্বে পণ্যসমূহের পরিচিতি হয়ে গেল। ইতোমধ্যে উন্নত দেশের পণ্য অনুন্নত দেশে পৌঁছেছে। ব্যস, ব্যবসা হয়ে গেল। এছাড়া এগুলো ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেবার জন্য ইন্টারনেটের সাহায্যও নেয়া হচ্ছে। আজকাল অনেক পণ্যই তথ্যাশ্রিত। তাই ই-কমার্সের উদ্ভব হলো। ইন্টারনেট থেকেই একটি সফটওয়্যার অর্ডার দিয়ে ডাউনলোড করে নেয়া যাচ্ছে। পেমেন্টটাও অনলাইনেই হচ্ছে। আর যেসব পণ্য অনলাইন থেকে নেয়া যাচ্ছে না, তার অর্ডার তো অনলাইনে দেয়া যাচ্ছে, সাপাই দেবার জন্য আপনার দেশেই তাদের 'ওয়্যারহাউস' আছে। এভাবেই ক্রমশ তথ্য তার নিরীহ চেহারা হারিয়ে পুরোপুরি পণ্যের ও পণ্যের সহায়ক রূপ ধারণ করেছে। হার্বার্ট শিলার বলেন, গণমাধ্যমের কাজ দাঁড়িয়েছে "বিক্রি করা ও বিক্রিতে সহায়তা করা।" (Webster উদ্ধৃত, 2002: 132)
এতণে যা বলার চেষ্টা করা হয়েছে, তা হলো, বর্তমানের বিশ্বায়নের যুগে পণ্য যখন নিজেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে সারা বিশ্বে ছোটার জন্য উদগ্রীব হয়ে রয়েছে তখন তার হয়ে কাজটি সহজ করে দিচ্ছে গণমাধ্যম। তাই বলা যায়, বৈশ্বিক গণমাধ্যমসমূহ কর্পোরেট কোম্পানিকে সেবা প্রদান করছে, জনগণ বা মানবতার জন্য তার পে কাজ করা কিছুতেই সম্ভব হয়ে উঠছে না। আমরা যারা এই গোপন ব্যাপারটি বুঝে ফেলতে পারছি, গণমাধ্যম সম্পর্কে আমাদের শ্রদ্ধার আর কৃতজ্ঞতার অনুভবটি আর টিঁকে থাকছে না। বরং বর্তমানের জনবিরোধী (অবশ্য তারা দাবি করে তারা প্রো-পিপল্) কর্পোরেট-মিডিয়াগুলোকে ভালোমতো চিনে নেয়াটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে জরুরি কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ-পর্যায়ে এই বৈশ্বিক মাধ্যমসমূহকে বুঝতে আমরা কয়েকজন মিডিয়া-বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেব। তাদের মতামত এই বক্তব্যকে আরো জোরালে করবে এরকম প্রত্যাশা করা যেতেই পারে। জর্জ গার্বনার বলেন, "“মিডিয়া জায়ান্টস্ হ্যাভ নাথিং টু টেল, বাট পেন্টি টু সেল"। (McChesney উদ্ধৃত, 2001: 17) অথচ গণমাধ্যম সম্পর্কে প্রায়ই বলা হয় তার কাজ হলো 'টু সেল এন্ড টু টেল'। ম্যাকচেজনি বলছেন, "কর্পোরেট মিডিয়া জনগণের ওপরে, তারা পছন্দ করুক বা না করুক, বিজ্ঞাপন ও বাণিজ্যায়নের কার্পেট-বোমা ফেলছে।" (McChesney, 2001: 17) চমস্কি বলেন, "তাদের [গণমাধ্যমসমূহের] প্রাথমিক কাজ হলো বিজ্ঞাপনদাতাদের নিকট অডিয়েন্সকে বিক্রি করা। তারা তাদের সাবস্ক্রিপশন থেকে মুনাফা অর্জন করে না। আপনি যখন টেলিভিশন খুলে বসেন তখন সিবিএস-নিউজ নিশ্চয়ই আপনার কাছ থেকে টাকা নেয় না।" (Chomsky, 1996) অর্থাৎ বিজ্ঞাপনদাতারা গণমাধ্যমকে টাকা দেয় বিজ্ঞাপন প্রচার বা ছাপার জন্য আর সেই বিজ্ঞাপন দেখে আমরা পণ্য কিনি। বিজ্ঞাপনই গণমাধ্যমগুলোর আয়ের প্রধান উৎস। তাই তারা বিজ্ঞাপনদাতা বা কর্পোরেট-কোম্পানিগুলোর স্বার্থই বড়ো করে দেখে, পাঠকের বা জনগণের স্বার্থ চিন্তা করা তাদের কাছে সেকেন্ড প্রায়োরিটি।
কিন্তু প্রশ্ন উঠতে পারে বাংলাদেশের নতুন ধারার সাংবাদিকতার অনুসন্ধান করতে গিয়ে অন্য দেশের গণমাধ্যমের কথা এতণ ধরে বলা হচ্ছে কেন। বলা হচ্ছে বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে ভালোভাবে চিনে নেবার জন্য। কারণ এদেশের গণমাধ্যমগুলো বৈশ্বিক গণমাধ্যমসমূহ থেকে পৃথক কোনো সত্তা নয়। পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে আমাদের সংস্কৃতিতে ধর্মে ভাষায় জীবনযাপনে এবং অন্য অনেক কিছুতেই পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু গণমাধ্যমের প্রকৃতিতে পার্থক্য নেই বললেই চলে -- পূর্বে কোনো এক সময়ে থাকলেও, বর্তমানে বাজারকে সহায়তা করার জন্য গণমাধ্যমের দায়বদ্ধতায় পার্থক্য নেই। এর কারণও খুব স্পষ্ট। বাংলাদেশ ডব্লিউটিও-তে স্বাক্ষরকারী দেশ এবং এখানে বিশ্বায়ন প্রক্রিয়া ভালোভাবেই চলছে। বাংলাদেশে শিল্পের শক্ত অবকাঠামো নেই, বরং এখানে আদমজীর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। হয়তো কৃষির ওপর ভিত্তি করেই দেশটা কোনোরকমে দাঁড়িয়ে আছে। এখানে বড়ো বড়ো কোম্পানিগুলোর মূল কাজ হলো বাইরের জিনিস এনে এদেশে বিক্রি করা। বাণিজ্যই এদের মূল ভিত্তি। বিশ্বায়ন-প্রক্রিয়া দ্বারা এরা উৎসাহিত। এরাই আবার কোনো কোনো পত্রিকার মালিক। তাই খুব স্বাভাবিক কারণেই বৈশ্বিক গণমাধ্যমগুলোর মতোই এখানকার সংবাদপত্রের মূল কাজ হলো বাজারের সেবা প্রদান করা। জনগণ তাদের কাছে সেকেন্ড প্রায়োরিটি।
এই মূল উপলব্ধির ওপরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে এ-নিবন্ধে যাচাই করা হচ্ছে। এছাড়া এখানে অন্যান্য প্রবণতাগুলোও শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে। বিকল্প ধারার সাংবাদিকতার স্বরূপ আবিষ্কারের পূর্বে বিদ্যমান মাধ্যমকে বুঝে নেয়া জরুরি। নয়তো নতুন ধারার ব্যাপারে কোনো আলোচনা করা নির্বুদ্ধিতায় পর্যবেশিত হবে।
(চলবে)
২৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×