নিজস্ব প্রতিনিধি
দি টাইমস্, ২৫ জুলাই, ১৯৭১
ত্রিপুরা, পূর্ব পাকিস্তান সীমান্ত। পূর্ব বাংলার মুক্তিযোদ্ধারা দাবি করেছে তারা ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ পাকিস্তানি সৈন্যকে হত্যা করেছে এবং আরও অনেককে এমনভাবে তারা আহত করেছে যে "হাসপাতালে গিয়ে তাদের অবশ্যই মৃত্যু হবে"। বাংলাদেশ বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ কর্নেল এম এ ওসমানী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন। তিনি জানান যে এই সংখ্যার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধারা আরও যেসব ইনফরমার ও দালালদের হত্যা করেছে, সেসব সংখ্যা ধরা হয় নি।
এই সংখ্যাটা আমার কাছে বেশি মনে হচ্ছিল। পুরাতন ব্রিটিশ (সামরিক) কেতার একজন ব্যক্তি আমাকে এই তথ্য দিলেন, নয়তো এব্যাপারে আমি সন্দেহবাদী ছিলাম। ১০ বছর আগেই ১৯৬৭ সালে সময় ওসমানী সাহেব কর্নেল পদে থাকা অবস্থায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন। ১৯৬৫ সালে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের সময় তিনি মিলিটারি অপারেশনস্-এর পরিচালক ছিলেন এবং সিয়াটো ও সেন্টো সভায় তিনি পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেন।
ইস্টার্ন সেক্টরের অন্যান্য মুক্তি ফৌজ কমান্ডারের সঙ্গে কথা বলে আমি সংখ্যাটা যাচাই করার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু তাদের সঙ্গে কথা বলে মনে হলো কর্নেল ওসমানী বরং কম করে বলেছেন। সঠিক সংখ্যা পাওয়া কঠিন, তবে মুক্তিযোদ্ধারা যদি কল্পকথার মাধ্যমে নিজেদের প্রতারিত না-করে থাকে, তবে বলতে হবে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে।
কমান্ডাররা আমাকে জানালেন শত্রুপক্ষের ক্ষয়ক্ষতি আরও ব্যাপক হতো যদি না সামরিক অস্ত্র-শস্ত্রের ক্ষেত্রে অসমতা না থাকতো। কর্নেল ওসমানী বলেন, "শত্রুরা একাধিক দেশ থেকে বিপুল পরিমাণের অস্ত্র ও উচ্চমানের সামরিক উপকরণ পাচ্ছে। আর আমার মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে তেমন কিছু নেই। যদি মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে যথেষ্ট অস্ত্রশস্ত্র থাকতো তবে এই নিষ্ঠুর যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তি ঘটতো। পাকিস্তানিরা যে-নির্মমতা এই যুদ্ধের মাধ্যমে প্রদর্শন করেছে, তা দেখে হিটলার বাহিনীও লজ্জিত হতো।"
এই দাবির পরে যে যাই ভাবুক না কেন, এটা পরিস্কার যে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের সীমিত অস্ত্রের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে সমর্থ হচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সবচেয়ে সফল অভিযান হলো বেসামরিক লোকদের মধ্যে থেকে গেরিলারা অথবা বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কমান্ডোরা বিশেষ মিশনে স্যাবোটাজের মাধ্যমে যে-অপারেশন চালাচ্ছে, সেগুলো। ইস্টার্ন সেক্টরের হেডকোয়ার্টারে আমি কিছু তরুণের সঙ্গে কথা বললাম যারা ঢাকা ও নারায়নগঞ্জে স্যাবোটাজ অপারেশন শেষে আবার ফিরে এসেছে রিপোর্ট জানাতে এবং পরবর্তী এসাইনমেন্ট নিতে। এদের মধ্যে একজন এমন এক অভিযানে অংশ নিয়েছে যার মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীকে ২০০ স্পিড-বোট ব্যবহার করা থেকে নিরস্ত্র রাখতে পেরেছে। জলে-ঢাকা পূর্ব বঙ্গে অভিযানের জন্য পাকিস্তানিদের ঐ বোটগুলো খুবই প্রয়োজন ছিল।
পূর্ব বাংলার শহরগুলোতে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট সামরিক প্রশাসকের অবশ্যই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত সোমবার ঢাকার বিদ্যুৎ-কেন্দ্রে চোরাগোপ্তা হামলার পর সামরিক কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ-ব্যবস্থা চালু করতে সমর্থ হয় নি। মুক্তি ফৌজের ইস্টার্ন সেক্টরের কমান্ডার মেজর খালেদ দি টাইমস-এর রিপোর্টে প্রকাশিত, এইসব সাফল্যের পেছনে ভারতীয় প্রকৌশলীরা মদদ দিচ্ছে, এমন মন্তব্যকে খারিজ করে দেন। তিনি বলেন, "অবশ্যই এখানে কিছু বিশেষ দক্ষতার ব্যাপার রয়েছে। একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ প্রকৌশলী এব্যাপারে আমাদের নির্দেশনা দেন, আমাদের ছেলেরা অপারেশনে যায় এবং সেভাবে কাজ করে। কিন্তু এই দক্ষতা বাংলাদেশের নিজেরই।"

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


