somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গেরিলাদের দাবি: ২০,০০০ পাকিস্তানি মারা গিয়েছে (বিদেশী পত্রিকায় মুক্তিযুদ্ধ, পর্ব ৪৭)

০৪ ঠা আগস্ট, ২০০৮ রাত ১১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


নিজস্ব প্রতিনিধি
দি টাইমস্, ২৫ জুলাই, ১৯৭১


ত্রিপুরা, পূর্ব পাকিস্তান সীমান্ত। পূর্ব বাংলার মুক্তিযোদ্ধারা দাবি করেছে তারা ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ পাকিস্তানি সৈন্যকে হত্যা করেছে এবং আরও অনেককে এমনভাবে তারা আহত করেছে যে "হাসপাতালে গিয়ে তাদের অবশ্যই মৃত্যু হবে"। বাংলাদেশ বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ কর্নেল এম এ ওসমানী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন। তিনি জানান যে এই সংখ্যার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধারা আরও যেসব ইনফরমার ও দালালদের হত্যা করেছে, সেসব সংখ্যা ধরা হয় নি।

এই সংখ্যাটা আমার কাছে বেশি মনে হচ্ছিল। পুরাতন ব্রিটিশ (সামরিক) কেতার একজন ব্যক্তি আমাকে এই তথ্য দিলেন, নয়তো এব্যাপারে আমি সন্দেহবাদী ছিলাম। ১০ বছর আগেই ১৯৬৭ সালে সময় ওসমানী সাহেব কর্নেল পদে থাকা অবস্থায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন। ১৯৬৫ সালে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের সময় তিনি মিলিটারি অপারেশনস্-এর পরিচালক ছিলেন এবং সিয়াটো ও সেন্টো সভায় তিনি পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেন।

ইস্টার্ন সেক্টরের অন্যান্য মুক্তি ফৌজ কমান্ডারের সঙ্গে কথা বলে আমি সংখ্যাটা যাচাই করার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু তাদের সঙ্গে কথা বলে মনে হলো কর্নেল ওসমানী বরং কম করে বলেছেন। সঠিক সংখ্যা পাওয়া কঠিন, তবে মুক্তিযোদ্ধারা যদি কল্পকথার মাধ্যমে নিজেদের প্রতারিত না-করে থাকে, তবে বলতে হবে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে।

কমান্ডাররা আমাকে জানালেন শত্রুপক্ষের ক্ষয়ক্ষতি আরও ব্যাপক হতো যদি না সামরিক অস্ত্র-শস্ত্রের ক্ষেত্রে অসমতা না থাকতো। কর্নেল ওসমানী বলেন, "শত্রুরা একাধিক দেশ থেকে বিপুল পরিমাণের অস্ত্র ও উচ্চমানের সামরিক উপকরণ পাচ্ছে। আর আমার মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে তেমন কিছু নেই। যদি মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে যথেষ্ট অস্ত্রশস্ত্র থাকতো তবে এই নিষ্ঠুর যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তি ঘটতো। পাকিস্তানিরা যে-নির্মমতা এই যুদ্ধের মাধ্যমে প্রদর্শন করেছে, তা দেখে হিটলার বাহিনীও লজ্জিত হতো।"

এই দাবির পরে যে যাই ভাবুক না কেন, এটা পরিস্কার যে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের সীমিত অস্ত্রের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে সমর্থ হচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সবচেয়ে সফল অভিযান হলো বেসামরিক লোকদের মধ্যে থেকে গেরিলারা অথবা বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কমান্ডোরা বিশেষ মিশনে স্যাবোটাজের মাধ্যমে যে-অপারেশন চালাচ্ছে, সেগুলো। ইস্টার্ন সেক্টরের হেডকোয়ার্টারে আমি কিছু তরুণের সঙ্গে কথা বললাম যারা ঢাকা ও নারায়নগঞ্জে স্যাবোটাজ অপারেশন শেষে আবার ফিরে এসেছে রিপোর্ট জানাতে এবং পরবর্তী এসাইনমেন্ট নিতে। এদের মধ্যে একজন এমন এক অভিযানে অংশ নিয়েছে যার মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীকে ২০০ স্পিড-বোট ব্যবহার করা থেকে নিরস্ত্র রাখতে পেরেছে। জলে-ঢাকা পূর্ব বঙ্গে অভিযানের জন্য পাকিস্তানিদের ঐ বোটগুলো খুবই প্রয়োজন ছিল।

পূর্ব বাংলার শহরগুলোতে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট সামরিক প্রশাসকের অবশ্যই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত সোমবার ঢাকার বিদ্যুৎ-কেন্দ্রে চোরাগোপ্তা হামলার পর সামরিক কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ-ব্যবস্থা চালু করতে সমর্থ হয় নি। মুক্তি ফৌজের ইস্টার্ন সেক্টরের কমান্ডার মেজর খালেদ দি টাইমস-এর রিপোর্টে প্রকাশিত, এইসব সাফল্যের পেছনে ভারতীয় প্রকৌশলীরা মদদ দিচ্ছে, এমন মন্তব্যকে খারিজ করে দেন। তিনি বলেন, "অবশ্যই এখানে কিছু বিশেষ দক্ষতার ব্যাপার রয়েছে। একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ প্রকৌশলী এব্যাপারে আমাদের নির্দেশনা দেন, আমাদের ছেলেরা অপারেশনে যায় এবং সেভাবে কাজ করে। কিন্তু এই দক্ষতা বাংলাদেশের নিজেরই।"
৭টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×