ব্লগে 'বিদেশী পত্রিকায় মুক্তিযুদ্ধ' শীর্ষক ৫০ পর্বের একটি ধারাবাহিক আমি সম্প্রতি শেষ করেছি। নভেম্বর, ১৯৭০ থেকে মার্চ, ১৯৭১ এবং জুলাই, ১৯৭১ থেকে অক্টোবর, ১৯৭১ এই দুই কালপর্বের অনেকগুলো রিপোর্ট আমি অনুবাদ করেছিলাম বেশ কয়েকবছর আগে যা মওদুদ এলাহী সম্পাদিত 'এসাইনমেন্ট বাংলাদেশ ১৯৭১' (১৯৯৮) শীর্ষক গ্রন্থের এক-তৃতীয়াংশ মাত্র। সেসব রিপোর্ট আমি ব্লগে ধারাবাহিক আকারে তুলে দেই। আমার এই পোস্টটি লেখার উদ্দেশ্য হলো, আমি এই দীর্ঘ ধারাবাহিক প্রকাশের সময় যেরকম সাড়া ব্লগারদের কাছ থেকে আশা করেছিলাম তেমনটি পাইনি, খবরটি জানানো।
প্রথমে ইতিবাচক কয়েকটি বিষয় বলে নিই। কয়েকজন ব্লগার যেমন মোস্তাফিজ রিপন, ফারহান দাউদ, লোকালটক, দূরন্ত, মুকুল, একরামুল হক শামীম, মাহবুব সুমন, মোহাম্মদ আরজু বা আরও দুয়েকজন নিয়মিতভাবে এই ধারাবাহিকটি পাঠ করেছেন এবং মতবিনিময় করেছেন। অমি রহমান পিয়াল পরিচালিত 'জন্মযুদ্ধ' গ্রুপ-ব্লগে ধারাবাহিকটি তার আমন্ত্রণেই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ব্লগার রেজওয়ান পরিচালিত জেনাসাইডইনবাংলাদেশ ডট অর্গ ওয়েবসাইটেও তিনি ধারাবাহিকটি অন্তর্ভুক্ত করেছেন। লোকালটকের 'ফিরে দেখা একাত্তর' ই-বুকে খুব ভালো ট্রিটমেন্টসহ এ্যান্থনি মাসকারেনহাসেনর একটি সুদীর্ঘ রিপোর্ট অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সর্বোপরি অনেক ব্লগারই অনিয়মিত হলেও মন্তব্যের মাধ্যমে জানিয়েছেন যে ধারাবাহিকটি খুব ভালো একটি উদ্যোগ, সেসময়ের তৃতীয়পক্ষের (বিদেশী পত্রিকা) কাছ থেকে অনেক প্রামাণ্য/নতুন তথ্য তারা পাচ্ছেন, অনুবাদের মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আর সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা করেছেন এসব রিপোর্ট গ্রন্থাকারে প্রকাশ হওয়া প্রয়োজন। নিয়মিত বা অনিয়মিতভাবে যারা প্রতিবেদনগুলো পড়েছেন, মন্তব্য ও আলোচনা করেছেন, তাদের সবার প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা।
কিন্তু হতাশাজনক চিত্র হলো এই যে ব্লগে জামাত-শিবির মতাদর্শের অনুসারী ছাগুদের তাড়ানোয় যারা ব্যস্ত, সেইসব মুক্তিযুদ্ধের ভার্চুয়াল সৈনিকদের অনেকেই এই প্রতিবেদনগুলো পড়েননি, যা আমার কাছে আশ্চর্যজনক না হলেও আপত্তিকর মনে হয়েছে। এরা মুক্তিযুদ্ধ ও দেশপ্রেমের উৎকট ধারক-বাহক হলেও এই রিপোর্টগুলো তারা পড়ার প্রয়োজন মনে করেননি। কোনো কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনেও মন্তব্যকারীর সংখ্যা ৪ পাওয়া গেছে যার মধ্যে দু’টিই হয়তো অুনবাদকের। এই স্বল্প-সাড়ার কয়েকটি কারণ থাকতে পারে:
১. এগুলো সব আগেই পড়া
২. মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলী বিষয়ে তাদের জ্ঞানে তারা এতই সমৃদ্ধ যে এই রিপোর্টগুলো তাদের কাছে বাড়তি কিছু যোগ করেনা
৩. অনুবাদের মান পড়ার উপযোগী নয় এবং
৪. মুক্তিযুদ্ধ তাদের কাছে ব্লগের বাজারে সরব/আলোচিত থাকার হাতিয়ারমাত্র, মুক্তিযুদ্ধ তাদের প্রাণের মাঝে বাস করেনা।
৫. অফলাইনে পড়া এবং মন্তব্যে বিরত থাকা।
আমার অনুমান ১, ২ ও ৩ নম্বর কারণগুলো সত্যি নয় এবং ৪ নম্বর কারণটি সবার জন্য না হোক অনেকের জন্যই প্রযোজ্য।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৯:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


