আমার প্রিয় পোস্ট
- ফিরে দেখা ২০১০ : বছরজুড়ে সামহোয়্যারইন ব্লগে যা কিছু আলোচিত-সমালোচিত... - ফিউশন ফাইভ
- টিপাইমুখ বাধ প্রসংগে: চাই সংগ্রামের আন্ত:সংযোগ - দিনমজুর
- যেকোন Webpage থেকে বিজ্ঞাপন অপসারন করুন, বিজ্ঞাপনহীন ওয়েবের জগতে আপনাকে স্বাগতম! (রিপোস্ট)
- নাফিস ইফতেখার
- সামহোয়ারইনের যত্তসব অপশনের ব্যাবচ্ছেদ - কাঙাল মামা
- খিস্তি ঠাটে ত্রিতাল ভৈরবের জঙ্গনামা: সামহোয়ার নিয়ে আরো কিছু ভণিতা - রিফাত হাসান
- ফেসবুকে বাংলা অক্ষর ছোট দেখার সমস্যা দূর করে নিন সহজেই.... - সুনীল সমুদ্র
- সাংবাদিক জীবন: তিনি যেভাবে নির্বাচনী চান্দা দিচ্ছিলেন...... - শওকত হোসেন মাসুম
- ফাহমিদুলের আত্মপরিচয় অনুসন্ধান: পুনর্পাঠ - ভূপর্যটক
- হাইব্রীড বীজ নিয়ে আশঙ্কা সত্যি হলো এবার 'সত্যিরা' ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ! - মনজুরুল হক
- দুইরকম তারুণ্য - সুমন রহমান
- ভাস্কর্য বিবাদ: লালন উৎখাতের মচ্ছব বসিয়ে হাওয়ার ওপর তাওয়া গরম করে কার জন্য পিঠা ভাজা হচ্ছে? - ফারুক ওয়াসিফ
- গ্লোবাল ভয়েসের সপ্তাহের ব্লগার হিসাবে নির্বাচিত রেজওয়ান ভাইয়ের অনন্য সাক্ষাৎকার - কৌশিক
- অর্ন্তজালের বাংলা ওয়েব সাইটগুলোর একটা তালিকা তৈরী করলাম। - একজন ব্লগার
- বাংলা ব্লগের বিবর্তন ও সম্ভাবনা - রেজওয়ান
- বাংলা ব্লগ ও ব্লগ পলিটিক্স - রেজওয়ান
- পোস্ট ব্রাত্য রাইসুর, মরীয়া বিতর্ক মানস চৌধুরীর এবং আমাদের ব্লগারকূল - ফাহমিদুল হক
- সংবাদপত্রগুলোর কার অবস্থান কেমন - কাঙাল
- ফাহমিদুল হকের বহুলপঠিত একটি পোস্ট এবং ব্লগের লিখিয়েরা: একটি পর্যবেক্ষণ - রিফাত হাসান
- আগুণের পরশমনিতে ফাহমিদুল হক ও তার সাহিত্যের সুবাস - কৌশিক
- ফিরে দেখা ইতিহাস : ভাষা আন্দোলনের দিনপন্জী (১৯৪৭-৫৬)। উৎসর্গ - সকল ভাষাশহীদকে - মিরাজ
- আমেরিকা!!! - লাল দরজা
- শহরে ষোল জনা বোম্বেটে / করিয়ে পাগলপারা / নিলো তারা সব লুটে - মাহবুব মোর্শেদ
- যারা কথা বলার সময় বাংলার সাথে ইংরেজী মিশায় - তাদের কেন যেন বাটপার ধরনের মানুষ মনে হয়! - এস্কিমো
বাংলা ব্লগভূবনে প্রথম আলো: একটি পর্যালোচনা
২৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৩
ইন্টারনেটের বাংলা ব্লগভূবনে প্রথম আলো ব্লগ আসার সম্ভাবনার কথা কমিউনিটি ব্লগগুলোতে অনেক দিন ধরেই আলোচিত হচ্ছিল। একজন ব্লগার হিসেবে এই আলোচনা আমারও দৃষ্টি কাড়ে এবং অল্প-আধটু অংশও নিয়েছি তাতে। সামহোয়ার ইন...ব্লগ-এর নিয়মিত একজন ব্লগার এই নতুন ব্লগের মডারেটর, কিন্তু তিনি নানাভাবে জিজ্ঞাসিত হলেও প্রথম আলো ব্লগের সম্ভাব্য রূপরেখা সম্পর্কে মুখ খোলেননি, ঐসব আলোচনায়। তাই প্রথম আলো ব্লগ সম্প্রতি পরীক্ষামূলকভাবে উন্মুক্ত করে দেবার পরে এর চেহারা দেখে আমি খানিকটা আশ্চর্য হয়েছি। কারণ প্রথম আলো ব্লগ সম্পর্কে আমার মনে যেরকম একটা চিত্র অঙ্কিত হয়েছিল, তা থেকে এটা দেখা গেল অনেকটাই আলাদা।
শীর্ষস্থানীয় দৈনিক হিসেবে আমি ভেবেছিলাম প্রথম আলো আর যাই হোক স্বয়ংসর্ম্পূণ ও পৃথক একটা ব্লগ খুলে বসবে না; যদিও বেশিরভাগ ব্লগারই একে সামহোয়ার-এর মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ ব্লগ ধরেই আলোচনা করছিলেন। কিন্তু আমি শেষ পর্যন্ত ভাবছিলাম, পৃথিবীর অন্যান্য দৈনিক পত্রিকা যেমনভাবে মূল পত্রিকার সঙ্গে ব্লগিংয়ের বা সংবাদশেষে মন্তব্যের অপশন চালু করেছে, ঠিক সেরকম কিছুই হবে এটা।
পৃথিবীর বেশিরভাগ বড়ো পত্রিকাই এখন অনলাইন সংস্করণকে গুরুত্ব দেয়। মুদ্রণমাধ্যমে যা যা অসম্ভব ছিল, একই পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সংবাদের সঙ্গে সঙ্গে পাঠকদের ব্লগিংয়ের অপশন উন্মুক্ত করায় দৈনিকের অনলাইন সংস্করণ এখন ভিন্ন মাত্রার এক সংবাদমাধ্যমে পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি সংবাদ বা অন্যান্য আইটেমশেষে পাঠকরা মন্তব্য করবেন এবং এভাবে পাঠকদের অংশগ্রহণে একেকটি সংবাদ পূর্ণাঙ্গ একটি রূপ পাবে। একেকটি সংবাদকে ঘিরে জনমতের প্রতিফলন ঘটবে, মুদ্রণমাধ্যমে কেবল চিঠিপত্রের কলামেই পাঠকদের এই অংশগ্রহণের সুযোগ আছে। কিন্তু অনলাইন সংস্করণে প্রতিটি সংবাদেই পাঠকরা ঐ ঘটনায় তাদের মতামত জানাতে পারবেন। দৈনিক পত্রিকা, এতদিন যা একরৈখিক যোগাযোগের মতো ছিল, এখন অনলাইন সংস্করণের মাধ্যমে তা মিথস্ক্রিয়ামূলক একটি মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। অনলাইন সংস্করণের আরেকটি সংযোজন হলো সংবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভিডিও ক্লিপ যুক্ত করা, যা মুদ্রণ মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করার কোনো উপায় নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের বনেদী দুই পত্রিকা নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্ট-এর ইন্টারনেট সংস্করণে পাঠকদের ব্লগিং বা মন্তব্য করার কোনো অপশন নেই। কিন্তু দি বোস্টন গ্লোব, শিকাগো ট্রিবিউনসহ আরও অনেক পত্রিকারই ব্লগিংয়ের সুযোগ আছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের নামীদামী সব পত্রিকাতেই ব্লগিংয়ের সুযোগ আছে Ñ দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট, দি সানসহ অনেক পত্রিকাই এভাবে পাঠকের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করেছে। তবে দি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় সেই সুযোগ নেই। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি মর্নিং হেরাল্ড পত্রিকাতেও সেই সুযোগ নেই। ভারতের সর্ববৃহৎ টাইমস অব ইন্ডিয়া পত্রিকায় সে সুযোগ ভালোমতোই আছে, যদিও পাকিস্তানের দি ডন পত্রিকায় সেসবের অপশন নেই। বাংলাদেশের কেবলমাত্র আমার দেশ পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে ব্লগিংয়ের অপশন আছে।
তাহলে দেখা যাচ্ছে পৃথিবীর নানা দেশের দৈনিকের বেশিরভাগই পাঠকের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী। উল্টোভাবে বলা যায়, প্রযুক্তি যে-সুযোগের সৃষ্টি করেছে, পত্রিকাগুলো তা গ্রহণ করে যুগোপযোগী থাকার চেষ্টা করছে। যদি অনলাইন সংস্করণে ভিডিও ক্লিপ দেয়া যায়, তবে তো ইলেক্ট্রনিক সংবাদমাধ্যমের দিক থেকে আসা যে চ্যালেঞ্জ, দৈনিক পত্রিকা তা একভাবে মোকাবেলা করতে পারবে। এছাড়া কোনও কোনও পত্রিকার ইন্টারনেট সংস্করণে দেখা যায় কোনো একটি প্রসঙ্গ সংবাদে উল্লেখ করা হলে, তা লিঙ্ক আকারে দৃশ্যমান হয়, ঐ লিঙ্কে ক্লিক করলেই যথাযথ স্থানে চলে গিয়ে বিষয়টির আদ্যন্ত জানা যায়। এভাবে সংবাদ পাঠের অভিজ্ঞতাটিও সর্বাঙ্গীন হয়ে ওঠে। ব্লগিং, ভিডিও ও হাইপারলিঙ্ক -- এই তিনটি অপশন দৈনিকের অনলাইন সংস্করণকে একটি পৃথক ও অনন্য মিডিয়া হিসেবে হাজির করেছে। আমাদের দেশের পত্রিকাগুলোর অনলাইন সংস্করণে এই তিনটি অপশনের কোনোটিই দেখা যায়না। অথচ এই বিষয়গুলো চালু করা খুব কঠিন কিছু নয়।
মূল পত্রিকার সঙ্গে ব্লগিং চালু না করে প্রথম আলোর স্বয়সম্পূর্ণ একটি কমিউনিটি ব্লগ চালুর বিষয়টিকে তাই একটু ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার অবকাশ আছে, যেক্ষেত্রে পৃথিবীর অন্যান্য পত্রিকাগুলোর এরকম স্বয়ংসম্পূর্ণ ব্লগ চালুর রীতি আছে বলে শোনা যায়না। ব্লগ মিডিয়াটির অনেকটা অপ্রাতিষ্ঠানিক চেহারা রয়েছে। এখানে পাঠকরাই লেখক বা মন্তব্যকারী, আবার লেখকরাও নিরুপায় পাঠক। মুদ্রণমাধ্যমে লেখক-সাংবাদিকদের যে এলিট অবস্থান, ব্লগে তা বলবৎ থাকেনা। মুদ্রণমাধ্যমে লেখকরা লিখেই খালাস, নিরুপায় পাঠকরা তা একরকম বাধ্য হয়েই পড়েন। আর ব্লগে ব্লগাররা বা পাঠকরা লেখার চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন, ভালো না লাগলে সরাসরি বলেন, আপত্তিকর কিছু থাকলে তার ব্যাখ্যা দিতে লেখককে বাধ্য করেন, তর্কবিতর্কের মাধ্যমে একেকটি পোস্ট দারুণভাবে জমে ওঠে। লেখক বা সাংবাদিকের সঙ্গে পাঠকের যে অবস্থানগত এলিটত্বের ফারাক, ব্লগে তা থাকেনা। ব্লগ অনেক লাগামছাড়া, অনিয়ন্ত্রিত, অসম্পাদিত -- সেই অর্থে অরিজিনাল, কোনো ফিনিশড প্রোডাক্ট নয় একেকটি পোস্ট। এখানে যিনি লেখক তিনিই সম্পাদক-প্রকাশক। একটি মূলধারার সংবাদপত্র যেক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনদাতা, সরকার, আইনের চাপে অনেক সময় সবকিছু ঠিকঠাকমতো প্রকাশ করতে পারেনা, ব্লগ সেক্ষেত্রে বিকল্প মিডিয়া -- সে চাপমুক্ত ও স্বাধীন। প্রথম আলোর মতো সতর্ক, নীতিমালা অনুসারী, বড়ো মিডিয়া-প্রতিষ্ঠান কেন তাহলে একটা অপ্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যম চালু করছে?
এটা কি নীতিনির্ধারকদের দিক থেকে প্রথম আলো ব্র্যান্ডটিকে আরও বেশি পরিচিত করিয়ে তোলার প্রয়াস নয় -- গণিত উৎসব, ভাষা প্রতিযোগিতা ইত্যাদি কর্মসূচি যেভূমিকা পালন করে থাকে? আগামী প্রজন্ম মুদ্রণ মাধ্যমের চাইতে সাইবারমাধ্যমসমূহে বেশি সময় কাটাবে এতো বলাই বাহুল্য, বর্তমান প্রজন্মেই তার লক্ষণ সুস্পষ্ট। ব্লগ চালুর মাধ্যমে প্রথম আলো হয়তো সেই জনগোষ্ঠীকেই ধরতে চাইছে, সবার আগে। সামহোয়ার ব্লগে বিজ্ঞাপন চালু করা ঠিক হবে কি হবেনা, তা নিয়ে খানিক বিতর্ক হয়েছিল। কিন্তু প্রথম আলো ব্লগে প্রথম থেকেই বিজ্ঞাপনের অপশন আছে। তাই আর্থিকভাবেও প্রথম আলো ব্লগকে লাভজনক মাধ্যম হিসেবে প্রথম থেকেই ভাবা হচ্ছে।
কিন্তু একটি ফরমাল মিডিয়া কীভাবে এরকম ইনফরমাল মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করবে? বাংলা ভাষায় প্রথম আলোর ব্লগ ছাড়াও সামহোয়ার ইন...ব্লগ, আমার ব্লগ, সচলায়তন এরকম কয়েকটি কমিউনিটি ব্লগ আছে। এসব ব্লগে সরকারকে নগ্নভাবে সমালোচনা করা, সেনাবাহিনীর প্রতি কটাক্ষ করা, দেশে সংঘটিত যেকোনো অন্যায় ঘটনার বিরুদ্ধে লাগামহীন ভাষায় আক্রমণ করা ও জনমত গঠন করা খুব স্বাভাবিক প্রপঞ্চ। খুব সম্প্রতি বাউলের ভাস্কর্য অপসারণ ইস্যুকে ঘিরে কমিউনিটি ব্লগগুলোতে ঝড় বইয়ে গিয়েছে। ব্লগেই প্রতিবাদ-কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে, ব্লগাররা সেসব কর্মসূচিতে গিয়ে অংশও নিয়েছেন। অনেক ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি গালিগালাজ করা, কাউকে কোনো পশুর নামে নামকরণ করা, অযথা ট্যাগিং করা, সংঘবদ্ধভাবে কাউকে আক্রমণ করা খুব পরিচিত বিষয় ব্লগে। ব্লগ কর্তৃপক্ষ নীতিমালার মাধ্যমে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন, কিন্তু পুরোপুরি বাদ দিতে পারেননা। এইসব বিশৃঙ্খলা ব্লগকে প্রাণবন্তও রাখে। প্রথম আলোর মতো সুশীল ইমেজের পত্রিকার নাম যেখানে আছে, সেখানেও কি এসব চলবে?
সম্ভবত না। কারণ তারা একটা নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন, যা ব্লগের মতো মাধ্যমের জন্য খুবই কঠোর হয়েছে। সেই নীতিমালাগুলোয় কী কী করা যাবে বলা না থাকলেও কী কী করা যাবেনা তার বিস্তর ফিরিস্তি রয়েছে। সেখানে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতমূলক বা দেশের প্রচলিত আইনবিরুদ্ধ কিছু বলা যাবে না -- এরকম কিছু চেনা বিধি যেমন আছে, তেমনি অভিনব ও কৌতুকাবহ কিছু বিধিও আছে। যেমন ব্লগে লিখিত কোনো কিছুর জন্য আইনী ফ্যাসাদে প্রথম আলো জড়িয়ে পড়লে, সেই লড়াইয়ের খরচাপাতি সংশ্লিষ্ট ব্লগারকে দিতে হবে। আরেকটি অভিনব বিধি হলো কোনো নামী ব্র্যান্ডের (বিজ্ঞাপনদাতা!) বিরুদ্ধে অবমাননাকর কিছু বলা যাবেনা। ব্লগের মতো মাধ্যমের জন্য নীতিমালার এই কড়াকড়ি দেখে মনে হচ্ছে, হয় এই নীতিমালা পুরোপুরি পালিত হবেনা, অথবা প্রথম আলোর নাম দেখে অনেক ব্লগারের সমাগম হলেও তা এক পর্যায়ে নিস্প্রাণ হয়ে মুখ থুবড়ে পড়বে।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): নিউ মিডিয়া, ব্লগ, প্রথম আলো ;
প্রকাশ করা হয়েছে: ব্লগভূবন, মিডিয়া অধ্যয়ন বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৯:১১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: আপনার এই অনলাইন 'যুদ্ধ' সত্যিই ইন্টারেস্টিং। জাতীয় দৈনিকের জন্য এইসব এডিটিং ঠিকাছে, যে যার পলিসি অনুসারে আইটেম সাইজ করবে। কিন্তু ব্লগের মতো মাধ্যমে এইটা হয়না।
এরকম চললে অনেক ব্লগার নিরুৎসাহিত হয়ে বিদায় নেবেন। আপনার নাছোড় লড়াই সত্যিই ইন্টারেস্টিং। প্রথম এরকম একটা কেস শুনলাম। আরও শোনা যাবে মনে হচ্ছে।
নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় আর যাই হোক ব্লগিং হয়না।
রাশেদ বলেছেন:
ব্র্যান্ড নেইমের কারনেই তারা অত্যাধিক মডারেশন করতে বাধ্য হবে!
লেখক বলেছেন: Tai hobe. Tobe shesh porjomto ki darai ta 'worth observing' hobe.
ত্রিভুজ বলেছেন:
পড়লাম। সা.ইনের ব্লগিং স্টাইল দেখে ব্লগ সম্পর্কে এদেশের মানুষের মনে যে ভুল ধারনা সৃষ্টি হচ্ছে এটা বন্ধুদের আড্ডায় বেশ কয়েকবারই বলেছিলাম। আপনার লেখাটা আমার সেসব বক্তব্যকে আরো শক্তিশালী করলো। "গালিগালাজ করা, কাউকে কোনো পশুর নামে নামকরণ করা, অযথা ট্যাগিং করা, সংঘবদ্ধভাবে কাউকে আক্রমণ করা খুব পরিচিত বিষয় ব্লগে।".. কিন্তু এমনটা হওয়ার কথা ছিলো না। তবে এমনটাই হচ্ছে... আর আমরাও ব্লগিং বলতে এমনটাই বুঝতে শুরু করছি.. আপনার মত একজন মিডিয়া বিশেষজ্ঞেরও ব্লগ সম্পর্কে কি ভুল ধারনা সৃষ্টি হয়ে গিয়েছে!সত্যি দু:খজনক!!
লেখক বলেছেন: অযথা গালিগালাজ-এর পক্ষে আমি নেই। তবে মাঝে মাঝে তার প্রয়োজন পড়তে পারে।
অন্য দেশের কমিউনিটি ব্লগ অল্প যা দেখেছি, তাতে মনে হয়েছে স্ল্যাং সেখানে ভালোমতো চলে। তবে হয়তো পোস্টের উদ্দিষ্ট যেমন সরকারপ্রধানকে বা কোনো মন্ত্রীকে গালি দেয়া হচ্ছে। ব্লগাররা পরস্পরকে কমই গালি দেন।
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
কোথায় জানি মন্তব্যকরেছিলাম ব্লগিং করে কিভাবে টাকা কামাইতে হয়, তা প্রথম আলো হাতে কলমে অন্যদের দেখিয়ে দিবোআমিও ভেবেছিলাম সংবাদের নিচে মন্তব্য লেখার অপশন অনেক সংবাদমাধ্যমে যেমনটা দেখা যায়, প্রথম আলোও হ্য়তোবা সেটাই করবে।এখন তো দেখি পুরাদস্তুর ব্লগ খুলে বসছে।
প্রথম আলোগ্রুপ মিডিয়ার মুঘল হয়ে ওঠার আপ্রাণ চেষ্টায় আসে।ফরমাল এবং নন-ফরমাল সবধরনের মাধ্যমকেই তারা করায়ত্ত করতে চায়।তাই লিডিং দৈনিকের পাশাপাশি জবসাইট,ব্লগ সাইটের লোভও তারা সামলাতে পারছে না।
যাইহোক,আমি হ্য়তোবা সংশ্লিষ্ট হবোনা।তবে কিছুটা হলেও পজিটিভ।আফ্রিকায় বসে ব্র্যাকের অফিস দেখলে যেমনটা খুশি হয়,সুদখোর প্রতিষ্ঠান জেনেও।
লেখক বলেছেন: হুমমম।
শাওন বলেছেন:
লেখাটা পড়ে মন্তব্য করতে গিয়েছিলাম । কিন্তু কি মনে করে আগে উপরের মন্তব্য গুলা পড়লাম । দেখলাম যা বলতে চেয়েছিলাম সেটি ত্রিভুজ বলে দিয়েছে ।
আমার মনে হয় প্রথম আলোর মানসম্পন্ন ব্লগাররা এমন টি হতে দেবেন না। তবে সামহোয়ার ঠিকই তার জায়গায় থাকবে।
লেখক বলেছেন: সময় বলে দিবে সবকিছু।
সরপ বলেছেন:
"গালিগালাজ করা, কাউকে কোনো পশুর নামে নামকরণ করা, অযথা ট্যাগিং করা, সংঘবদ্ধভাবে কাউকে আক্রমণ করা খুব পরিচিত বিষয় ব্লগে।".. কিন্তু এমনটা হওয়ার কথা ছিলো না।যা বলতে চেয়েছিলাম সেটি ত্রিভুজ বলে দিয়েছে ।
**১৬ তারিখে আমাদের বীর সেনা প্রধান জেনারেল ওসমানী উপস্থিত থাকলো না ? এটা নিয়ে একটা মন গড়া দেড়হাতা ম্যাৎকার লিখে ফেলা
**'৭১ এ মাত্র ১৬০০ লোক মারা গেছে বড়জোর .. এইটা ম্যাৎকারিয় ফর্মুলায় প্রমান করা ।
**ভারতের ফার্মের মুর্গির ডিম আমাদের থেকে বড় কেন ? এটা কোন ষড়যন্ত্র নিয়মিত খুঁজে বের করা!!
ব্লা ব্লা (বা ব্যা ব্যা) করাই কি ব্লগিঙ
লেখক বলেছেন: প্রশ্নগুলো ভালোই। এগুলো হলো আদর্শিক আবর্জনা, হয়তো এগুলোও ব্লগিংয়ের বস্তু, যেহেতু সবারই সুযোগ আছে ব্লা ব্লা করার।
ত্রিভুজ বলেছেন:
@হাতেম তাঈ"**'৭১ এ মাত্র ১৬০০ লোক মারা গেছে বড়জোর .. এইটা ম্যাৎকারিয় ফর্মুলায় প্রমান করা ।"
এই আজগুবী বক্তব্য যারা দেয়, তাদের কথার প্রতিবাদ করা যায় বলেই ব্লগ জনপ্রিয় হচ্ছে। বাই দ্য ওয়ে, এই আজগুবী কথাটা কে বলেছিলো? আমার চোখে পড়েনি...
সোমেশ্বর অলি বলেছেন:
''... শিল্প মানেই সম্পাদনার ব্যাপার থাকে...'''--- জনৈক অভিনেতা। @মাহবুব সুমনফাহমিদুল হক ভাই,
আপনার চুলচেরা বিশ্লেষন ভালো লেগেছে অনেক কারনে। সামহোয়ার করার কারনে আমি প্রথম আলো ব্লগ করতে পারি ভেবে অনেকেই জানতে চেয়েছে নিক নিয়েছি কিনা। আমি 'সময় পাচ্ছিনা' বলে প্রসঙ্গ এড়িয়েছি। প্রথম আলো ব্লগ সম্পর্কে সামহোয়ারে একটা পোস্ট দেয়ার কথা ভাবছিলাম, তা আর দরকার নেই, কেননা আমার পর্যবেক্ষণের অধিকাংশই আপনার এ লেখায় আছে। এ পোস্ট এ সময়ের জন্য খুব উপকারী।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে সহমত প্রকাশের জন্য।
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন:
আমার ঘটনাটাতো ক্রমে হাস্যকর একটা বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে যেটা প্রথমালো ব্লগের দ্বায়ীত্বে থাকা কর্তাব্যক্তিদের মুখোশ খুলে দিচ্ছে ।আমি ইনভাইটেশন কোড পাই এক বন্ধুর কাছ থেকে । যেদিন সবার জন্য সেই ব্লগ ওপেন হয়েছে সেদিন । সাথে সাথে 'বিষাক্ত মানুষ' নিকটি রেজিঃ করে ফেলি । তখন জানতে পারি তারা আমাকে মেইলে আমার পাসওয়ার্ড জানাবে । আমি ঘন্টা দুয়েক অপেক্ষা করি মেইলের জন্য । এরপর কি চিন্তা করে আমার নিজের পিতৃপ্রদত্ত নাম দিয়ে আরেকটা নিক খুলে ফেলি । অবাক করা ব্যপার হলো সেটার ফিরতি মেইল আমি সাথে সাথেই পেয়ে যাই প্রথম আলো থেকে ।
সেটা ৫ দিন আগের ঘটনা । আমি এখনো আমার 'বিষাক্ত মানুষ' নিকটার এক্সেস পাইনি । কতৃপক্ষ এখনো কোন মেইল পাঠান নি ।
প্রথম আলো ব্লগ কি সামহোয়ানইন এর কিছু ব্লগারদের উপর ক্ষিপ্ত ?
তারা কি ব্যক্তি হিংসা নিজেদের ক্ষমতার সুযোগে উসুল করছে ?
লেখক বলেছেন: জানা থাকলো।
প্রথম আলো ব্লগ কি সামহোয়ানইন এর কিছু ব্লগারদের উপর ক্ষিপ্ত ?
এমনটা হবার তো কথা না। আপনি কি সরাসরি মেইল করেছেন?
একরামুল হক শামীম বলেছেন:
আপনার পর্যবেক্ষণ লক্ষ্য করলাম।বাংলা ব্লগিংয়ের চরিত্র কিংবা বৈশিষ্ট্য কেমন দাড়াবে আগামী কয়েকবছরই তা নির্ধারিত হয়ে যাবে বলে মনে হয়। এখন দেখা যাক আদতে বিষয়গুলো কোথায় দাড়ায়।
লেখক বলেছেন: দেখা যাক।
আমার জানতে ইচ্ছে করে, এরকম কমিউনিটি ব্লগ প্রথম আলো কেন খুলেছে?
অবশ্যই প্রথম আলোর সেই অধিকার আছে।
কিন্তু এরকম নীতিমালা দিয়ে কী ধাঁচের ব্লগ দাঁড়াবে শেষ পর্যন্ত?
স্পামে চেক করুন। আমারটা স্পামে পেলাম।
সরপ বলেছেন:
উন্মু আব্দুল্লাহের সাথে একমত। আমার পাসওর্ড স্পার্মে ইমেইল পেয়েছি।
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন:
আমার নিজের নামে যেটার এক্সেস পেয়েছি সেটা স্পামেই এসেছিলো .. সুতরাং আমি জানি কোথায় আসবে ।নিয়মিত মেইল চেক হচ্ছে প্রতিদিন .. আলুর কোন খবর নাই ।
বিডি আইডল বলেছেন:
স্বর্পের মত পেইড শিবিরের লোক যখন ওই ব্লগ সার্পোট দিচ্ছে সেটি অবশ্যই দাড়াবে। জামাত-শিবির হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে অর্গানাইজড দল। এরাই ওই ব্লগকে প্রানবন্ত রাখবে। নমুনা ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে।
লেখক বলেছেন: পড়বো।
যাই হোক। পোস্টে প্লাস। +
লেখক বলেছেন: বড়ো গোলমেলে ব্যাপার।
হাসিব মাহমুদ বলেছেন:
মন্তব্যগুলা পড়লাম । আর হাহা কৈরা একটা হাসি দিলাম । অর্বাচীনগুলা বাংলা ব্লগের সংজ্ঞা বিদেশি ব্লগ দেইখা দিতে চায় ।
লেখক বলেছেন: পোস্ট পইড়াও কি হাসি আসলো নাকি?
গতকাল মাহবুব সুমনের পোস্টটা আমি দেখেছি - প্রথম আলো এবং সাহোয়্যার ইন দুই জায়গাতেই। সামহোয়্যারে লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে অবিকৃত আকারে। অন্যদিকে প্রথম আলোতে লেখাটির ওপর কাটা ছেড়া চালানো হয়েছে। ছবি/পোস্টার মোছা এবং বিভিন্ন শব্দ (শব্দগুলো মোটেই অশ্লীল কিংবা আপত্তিকর নয়) মডারেট করা। তারপরেও তিনি বার বার পোস্টে ছবি যোগ করেছেন। সে জন্য তাঁকে সাধুবাদ জানাই।
বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়াতে প্রকাশিত সংবাদের নিচে পাঠকের মন্তব্য অ্যাড করার সুবিধা আর একটি পৃথক ব্লগ সাইট - দুটি ভিন্ন জিনিস। প্রথমটিতে আপনি মতামত জানাচ্ছেন শুধু কমেন্টের মাধ্যমে এবং আপনি কখনোই অফ টপিক কোন কিছু বলতে পারবেন না। এটি অনেক ফর্মাল একটি ব্যাপার।
অন্য দিকে সামহোয়্যার বা অন্যান্য বাংলা ব্লগকে ঠিক ফর্মাল সংবাদ মাধ্যম বলা যাবে না। এখানে যে সিরিয়াস জিনিস আলোচনা হয় না তা নয়, কিন্তু পাশাপাশি গল্প, কবিতা, কৌতুক কিংবা নিছক আড্ডা মারার ছলেও অনেক পোস্ট দেয়া হয়। সেটিকে সবাই এনজয়ই করে।
সমস্যাটা হল, প্রথম আলো বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী (কিংবা প্রভাবশালী) সংবাদ মাধ্যমগুলোর একটি। তারা যখন একটি পৃথক ব্লগের সাইট খোলে তখন তা নিছক একটি ব্লগের সাইট নয়, তার সাথে জড়িত আছে প্রথম আলোর ইমেজ। তাই তারা অস্বাভাবিক কড়া এবং ব্লগারদের স্বার্থবিরোধী একটি নীতিমালা তৈরি করেছে। তার পরেও মনে হয় না শেষ রক্ষা হবে। কারণ, জনৈক ব্লগার একটি নিরীহ প্রাণীকে নিয়ে সেখানে নিয়মিত পোস্ট দিচ্ছেন এবং তা ব্লগের নীতিমালাবিরোধী নয় কোনভাবেই, অথচ নিঃসন্দেহে প্রথম আলোর ইমেজের জন্য ক্ষতিকারক।
আপনাকে ধন্যবাদ পোস্টের জন্য। +
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।
আরিফ জেবতিক বলেছেন:
পোস্টটি ভালো লেগেছে ।প্রথম আলো আলাদা একটি ব্লগ সাইট করবে বলে আমারও ধারনা ছিল না , তবে শুধু মন্তব্যের অপশন থাকবে এমনটাও ভাবিনি ।
বাংলা ব্লগ আসলে একটা ভিন্ন সিস্টেমে চলছে , এর পাইওনিয়ার সামহোয়্যার । প্রথম পাতার আইডিয়াটি যার মাথা থেকে এসেছিল তাকে সাবাশি দেই ।
এই প্রথম পাতার কারনেই ব্লগ প্রানবন্ত এবং অনেক অনেক মানুষের উপস্থিতি ।
কিন্তু একই সাথে বলা যায় , এই কনসেপ্টটি বিশ্বের অন্যান্য স্থানের ব্লগ কনসেপ্টের থেকে বেশ আলাদা । "ফাহমিদ ভাই আমারে ফোন দিয়েন " এধরনের পোস্টও এখানে সম্ভব , যেটি আসলে ঠিক ব্লগ না , চ্যাটের সাথেই বেশি মানানসই ।
তবে আমাদের মতো একটা বিষয় গড়ে উঠছে , জিনিষটাকে আমি এভাবেই দেখছি । এডাপশন খারাপ নয় , চূড়ান্ত বিচারে কোন কিছুই এবসলিউট হিসেবে মিডিয়াতে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করি ।
প্রথম আলো ব্লগটি কিন্তু এখনও উন্মুক্ত হয়নি , উন্মুক্ত হওয়ার পরেই এর সাফল্য ব্যর্থতা যাচাই করা যাবে । আমি নিজে এই পর্যবেক্ষনটি আগামী ৬ মাস পরে করতে ইচ্ছুক ।
ব্যক্তিগত ভাবে তাদের নীতিমালা আমার নীতির সাথে যায় না বলে আমি রেজিষ্ট্রেশন করিনি , কিন্তু নিশ্চয়ই অনেকে সেই নীতিমালা মেনেই ব্লগিং করে আমাদেরকে পাঠযোগ্য কিছু লেখা দেবেন ।
প্রথম আলোর কারনে যদি বাংলা ব্লগে আরো নতুন নতুন ব্লগারের আবির্ভাব হয় , তাহলে আমি খুশী হবো ।
লেখক বলেছেন: প্রথম আলোর কারনে যদি বাংলা ব্লগে আরো নতুন নতুন ব্লগারের আবির্ভাব হয় , তাহলে আমিও খুশী হবো ।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
নরাধম বলেছেন:
পোস্ট ভাল লাগল।
লেখক বলেছেন: নিক কবে ফেরত পেলেন?
লুকার বলেছেন:
ভাল প্রসঙ্গ তুলেছেন।
পত্রিকার অনলাইন এডিশনের কিছু বাড়তি সুবিধে আছে, যেমন
'অমুক পাতায় তমুক কলামে দেখুন' এসব এড়িয়ে একবারেই পুরো খবর দেয়া যায়, বা হাইপার লিংক দিয়ে ঘরের- বাইরের যেকোন পাতা যুক্ত করে দেয়া যায়, ভিডিও ক্লিপ দেয়া যায়, পাঠকের মন্তব্য সাথে সাথে পাওয়া যায়। তবে বিভিন্ন খবরের শেষে এইসব মন্তব্য খুব অল্প সময়ের জন্য লোকের নজরে থাকে। আমার দেশ পত্রিকায় খবরে মন্তব্য ও চ্যাটরুমের ব্যবস্থা ছিল, কিন্তু খুব কাজে আসেনি কেন জানি।
সংবাদপত্র যতই বলুক স্বাধীন, আসলে মালিক, পার্টি, বিজ্ঞাপনদাতা, সরকার ইত্যাদি নানা দিক থেকে বিধিনিষেধ মেনে চলে। আবার পাঠককে উত্তেজনার খোরাক দিতে ও পত্রিকার কাটতি বাড়াতে অনেক ভাল খবর বাদ দিয়ে নেগেটিভ খবরকে রং চড়িয়ে বলা হয়। অনেক সাংবাদিকের কাছেই শুনেছি যে সরকারী সংস্থার পজেটিভ রিপোর্ট সম্পাদক ছাপতে রাজী না। নেগেটিভ না হলে পাবলিক খাবে না। গ্রামীণের কোন নেগেটিভ খবর দেয়া যাবে না, কারণ তাদের বিজ্ঞাপনের টাকায় মালিক-সম্পাদকেরা জীবন ধারণ করেন।
সমহোয়ার বাংলা ব্লগিং এর ভাল-মন্দ যাই হোক একটা স্ট্যান্ডার্ড তৈরী করে দিয়েছে। ফলে এর বাইরে নতুন কিছু ভাবা একটু কঠিন। প্রথম আলো একটা ব্লগ সাইট তৈরী করেছে, যেটার সাথে সংবাদপত্রের নাম ছাড়া আর কিছু মিল নেই। সম্পূর্ণ আলাদা প্লাটফর্ম। এটা থেকে তারা কি আশা করে? ব্লগোস্ফিয়ারে আধিপত্য? সংবাদপত্র বা রেডিও- টিভি হলো ওয়ান ওয়ে ট্রান্সমিশন (ব্রডকাস্টিং), পাঠক যাই ভাবুক, সেটা প্রকাশ করতে পারে না। কিন্তু ব্লগে সব পাঠক কথা বলতে পারবে এবং সেটা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে ফল মারাত্মক হতে পারে। হয়তো এই ব্লগের জন্যই পত্রিকার মুখোশ খুলে যাবে এবং ভরাডুবি হবে।
লেখক বলেছেন: আপনার বিশ্লেষণও ভালো লাগলো।
কাঙাল বলেছেন:
সাধারণ ব্লগ ও সংবাদপত্রের ব্লগ এক হওয়ার কথা না। কিন্তু তারা এ কি করলো ?সামুরে কপি করছে খালি
সংবাদপতের ব্লগ অনেক আকর্ষনীয় হতে পারে
হাসিব মাহমুদ বলেছেন:
না হাসি নাই ।
লেখক বলেছেন: তা বেশ।
কিসলু বলেছেন:
প্রথম আলো ব্লগ দেখে হতাশ হয়েছি । সামহোয়ারইনের কপি পেস্ট মাত্র । জনপ্রিয় সংবাদপত্র হিসেবে তাদের একটু অন্যরকম ব্লগসাইট করার ভাল সুযোগ ছিল । এছাড়া প্রথম আলো ব্লগের কঠোর মডারেশন বাংলাদেশের ব্লগাররা কিভাবে নিবে সেটাও ভেবে দেখবার বিষয় ।
রেজওয়ান বলেছেন:
ভাল বিশ্লেষণ। ব্লগ নিয়ে আসলে অনেক নতুন কিছুই করা সম্ভব। বিভিন্ন পত্রিকায় সাংবাদিকদের আলাদা ব্লগ থাকে যেখানে সংবাদের পেছনের ঘটনা সম্পর্কে তাদের ব্যক্তিগত মতামত থাকে। থাকে কোন একটি সংবাদ নিয়ে কোন ব্লগগুলো আলাপ করছে তার লিন্ক। থাকে মূল সংবাদেই মন্তব্য করার অপশন।কিন্তু প্রথম আলো ব্লগে এখন পর্যন্ত সেরকম কিছু দেখিনি। তবে আমি বেশ কয়েক মাস দেখেই বিচারে যাব।
আর সেখানে মডারেশনের যে ব্যাপারটি শুনছি সেটি ভীতিজনক। এটি হচ্ছে বর্তমান সংবাদ মাধ্যমগুলোতে যে সেল্ফ সেন্সরশীপ চলছে তারই প্রতিচ্ছবি। ব্লগে অশোভন মন্তব্য বা ব্যক্তিগত আক্রমণ মডারেট হতে পারে কিন্তু কোন ব্রান্ড, গোষ্ঠী বা ক্ষমতাধারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবে না এমন তো অবাধ তথ্য প্রবাহে হস্তক্ষেপ।
জরুরী অবস্থার সময় ব্লগগুলোর সাহসী প্রতিবাদী কন্ঠ আমাদের জনজীবনে যে আশা জাগিয়েছে সেটির অবসান আমরা নিশ্চয়ই চাইবোনা। আশা করি প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ সে ব্যাপারটা মাথায় রাখবেন।
লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্যগুলো গুরুত্বপূর্ণ।
মাহবুব সুমন বলেছেন:
@ হাসিব,পি আলোতে কমেন্ট করতে পারছি না, ব্যান খেয়েছি।
পোস্ট করতে পারি কি না সেটা পরীক্ষা করি নাই।
মাহবুব সুমন বলেছেন:
ফাহমিদ ভাই আপনার সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি, প্রথম আলো ব্লগে আমাকে স্থায়ী ভাবে ব্যান করা হয়েছে। অপরাধঃ রাজাকারকে রাজাকার বলা, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে গালী দেয়া ও কমেন্ট ব্যান করার পর ক্ষমা না চাওয়া।
লেখক বলেছেন: অবগত হলাম।
রাশেদ বলেছেন:
জন্মদিনের শুভেচ্ছা।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ রাশেদ।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
প্রথমে শুভ জন্মদিন। খোমেনী ইহসানের পোস্টে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলাম।ভাল লিখলেন। প্রথমালো ব্লগের মডারেশন কতটা উজবুকদের দ্বারা হয় তা কালকে দেখলাম। আমার একটা পোস্টে শয়তান শব্দটি ছিল। অটোফিল্টারে সব শয়তান ***** হয়ে গেছে। ফিল্টারে যারা শয়তান শব্দটি যোগ করার মত হাস্যকর কাজ করতে পারে তাদের বিচারবুদ্ধির উপর আর শ্রদ্ধা রাখা সম্ভ হল না।
ব্লগিং কি বুঝতে তাদের হয়ত আরো ১০ বছর ব্লগাতে হবে
লেখক বলেছেন: ব্লগার ও লেখক মাহবুব মোর্শেদ আমার পছন্দের। কিন্তু ঐ ব্লগের নীতিনির্ধারক তো আর সে একা নয়।
প্রথম আলো বাংলাদেশের একমাত্র মিডিয়া-প্রতিষ্ঠান যাদের লিখিত নীতিমালা আছে। এবং তারা সেটা মেনেও চলে।
ব্লগের নীতিমালাটা নিয়ে তাই এত ভাবনা।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
ব্যাপারটি নিয়ে হাসাহাসি হওয়ায় আজকে সকালে দেখলাম শয়তানের ফিল্টারিং বাদ দেওয়া হয়েছে। শয়তান এখন মুক্তলেখক বলেছেন: শয়তানেরও মুক্তির দরকার হয় তাহলে। :-)
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। ব্লগে কম দেখি আপনাকে।
|জনারন্যে নিসংঙগ পথিক| বলেছেন:
প্রথম আলোতে প্রদায়ক ছিলাম অল্প কিছুদিন, বন্ধুসভার সদস্য নাম্বারো প্রথম পঞ্চাশের মাঝে। আমি প্রথম আলো ব্লগে যাইনি, যাবার ইচ্ছাও নেই।
প্রথম আলো/ট্রান্সকম এখন সব মিডিয়াতে তাদের ব্যাবসা খুঁজছে। এবিসি রেডিও, ব্লগ এর পর অপেক্ষা করুন টিভি চ্যানেলের জন্য।
ফাহমিদুল হকের চমৎকার পর্যবেক্ষণ আর ব্লগিং এর চরিত্রের প্রাসঙ্গিক আলোচনা ভালো লেগেছে।
মাহবুব সুমন ভাইয়ের প্রথম কমেন্ট টা পড়ুন, এই বল্গের ভবিষ্যৎ বুঝতে পারবেন।
আরেকটি অভিনব বিধি হলো কোনো নামী ব্র্যান্ডের (বিজ্ঞাপনদাতা!) বিরুদ্ধে অবমাননাকর কিছু বলা যাবেনা।
----
!!!
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















গত কাল টেস্ট কেস হিসেবে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম প্রথম আলো ব্লগে যা সামহোয়্যারইনেও দিয়েছিলাম। পোস্ট টা ছিলো জামাতে ইসলামকে নিয়ে যেখানে কামরুল হাসানের সেই বিখ্যাত পোস্টারটি ব্যবহার করেছিলাম। যাই হোক...........প্রথমেই পোস্টের শীরোনাম বারবার পরিবর্তন করা হয়েছে ,আমিও নাছোর বান্দার মতো শীরোনাম আবারো পরিবর্তন করেছি........... ছবি মুছে দেয়া হচ্ছিলো বার বার, আমিও বার বার ছবি যোগ করছিলা...........১০/১২ টি কমেন্ট মুছে দেয়া হয়েছিলো যা ফেরত পাবার উপায় ছিলো না..........পোস্টে অনেক শব্দ মডারেটেড হচ্ছিলো, শব্দের মাঝে *** বসিয়ে এমন রুপ দেয়া হচ্ছিলো যাতে অনেক সময় পাঠক ভুল বুঝতে পারে।
এটাকে আপনি কি বলেন ?
শুরুতেই এতো ভয়, এত মডারেশন.........ভবিষ্যতে কি হবে সেটা আন্দাজ করে নেয়া যায়