আমার প্রিয় পোস্ট

সঙ্গে সাহিত্যের সুবাস ...

নারী দিবসে হেঁশেলছাড়া নারী পেলেন ‘রাঁধুনী’র পুরস্কার

০৮ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:০৯

শেয়ারঃ
0 1 0

দেশের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান স্কয়ার কনজুমার প্রডাক্টস তিনজন গুণী নারীকে ‘রাঁধুনী কীর্তিমতী সম্মাননা, ২০০৮’-এ ভূষিত করেছে। এবিষয়ে প্রথম আলোয় এক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে (Click This Link)। সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সুলতানা কামাল, প্রথম আলোর সিনিয়র সাংবাদিক সুমনা শারমিন ও ব্যবসায়-প্রতিষ্ঠান পারসোনার কানিজ আলমাস খান।

পরিহাস হলো, এই কীর্তিমতীরা হেঁশেল থেকে বেরিয়ে এসে সমাজে নিজপরিচয়ে পরিচিত হয়ে ওঠার পুরস্কারস্বরূপ পেলেন রাঁধুনীর এই পুরস্কার। বড়োই আমোদের কথা। রাঁধুনী হলো স্কয়ার-উৎপাদিত মসলাজাতীয় দ্রব্যের ব্রান্ড।

নারীদিবস এলেই প্রতিবছর কর্পোরেট প্রতিষ্ঠাগুলো নানা ধরনের পরিহাসের জন্ম দেয়। এবছরের পরিহাস হলো হেঁশেলছাড়া কীর্তিমতীর জন্য রাঁধুনী-পুরস্কার। এর আগে আমরা দেখেছে খোদ নারী-দিবসকে ‘পন্ডস নারী দিবস’ হিসেবে প্রচার করতে। এরকমও দেখা গেছে যে ফেয়ার এন্ড লাভলী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে নারীকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে কম্পিউটার ইত্যাদি উপহার দিতে। ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমের বিজ্ঞাপনে দেখা যায় কালো মেয়ে চাকরি পাচ্ছেনা, ক্রিম মেখে ফর্সা হওয়ামাত্রই চাকরি জুটে যাচ্ছে। যে পণ্য নারীকে এরকম বর্ণবাদী দৃষ্টিতে দেখে, তারাই আবার নারীর উন্নয়নের জন্য ফাউন্ডেশন বানায়, তাতে উপদেষ্টা হন নারীনেত্রী। পরিহাসের পরাকাষ্ঠা যাকে বলে!

কীর্তিমতীরা নিশ্চয়ই এখনও নিয়মিত বা মাঝেমধ্যে হেঁশেলে ঢোকেন, কিন্তু এটা নিশ্চিত যে তারা কীর্তিমতী হয়েছেন নারীর রাঁধুনী-ইমেজকে অতিক্রম করেই। কিন্তু হেঁশেল থেকে এতদূরের রাস্তা পাড়ি দেবার পরেও তারা সানন্দে রাঁধুনীর সম্মাননা নিচ্ছেন, সমস্যাটা এই জায়গায়। এই সমস্যাকে ধরে আগালে আমরা মিডিয়া-নাগরিক/সুশীল সমাজ-কর্পোরেটের মিথোজীবী (symbiotic) সম্পর্ককে আরেকবার স্পষ্টভাবে ধরে ফেলতে পারবো। কীর্তিমতীদের কীর্তি নিয়ে আমাদের সন্দেহ নাই, আমাদের মনে খচখচ করে, এত কীর্তির পরে তারা কিনা নিলেন রাঁধুনীর পুরস্কার!

সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কীর্তিমতীরা ছাড়াও স্কয়ারের অঞ্জন চৌধুরী, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, চ্যানেল আই-এর প্রধান নির্বাহী ফরিদুর রেজা সাগর, তত্ত্ববধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্ট রোকেয়া আফজাল রহমান, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও নারী প্রতিনিধিরা।

সংবাদে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে মতিউর রহমান তিন গুণী নারীকেই প্রথম আলো পরিবারের অংশ বলে উল্লেখ করেন। মজাটা এইখানে। সুমনা শারমিন প্রথম আলো পরিবারের সদস্য বটেন। কিন্তু বাকী দুইজন কীভাবে? মতিউর রহমান না বললেও বোঝা যায় বাকী দুইজন পত্রিকাটির সহযোগী সদস্যের মতো। বিউটিশিয়ান কানিজ আলমাস প্রথম আলোর নকশা পাতার এক্সপার্ট, নারীর রূপ-ম্যানেজমেন্ট নিয়ে তার কারবার। তত্ত্ববধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, নারীনেত্রী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি (যাকে সমাজসেবা ক্যাটাগরিতে সম্মাননা দেয়া হয়েছে) সুলতানা কামাল প্রথম আলোর মধ্য বা প্রথম পাতার একজন এক্সপার্ট। প্রথম আলো পরিবারের এই সদস্যদের পুরস্কার দিচ্ছে শীর্ষ কর্পোরেট-কোম্পানি। এই কোম্পানিও প্রথম আলো পরিবারের বাইরের কেউ না, নিয়মিত বিজ্ঞাপন তো তারা দিচ্ছেই, আরও নানা কর্মসূচিতে তারা প্রথম আলোর সঙ্গে তারা যুক্ত (যেমন প্রথম আলো-মেরিল পুরস্কার)। অনুষ্ঠানে ফরিদুর রেজা সাগরের ভূমিকা কী ছিল তা অস্পষ্ট নয়, মুদ্রণ মাধ্যম প্রথম আলোর সঙ্গে সুশীল-কর্পোরেটের যে সৌহার্দ্য, ইলেক্ট্রনিক মাধ্যম চ্যানেল আই-এর সঙ্গেও তাদের সেরকমই সুসম্পর্ক। তাই প্রথম আলো-চ্যানেল আই-এর যূথবদ্ধতাও অনিবার্য হয়ে ওঠে। নারী দিবসে নারীদের (সুলতানা, সুমনা, কানিজ) সম্মাননা জানানো তাই মিডিয়া(মতি-সাগর)-সুশীল(রোকেয়া-সুলতানা)-কর্পোরেটের(অঞ্জন) মিথোজীবী সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখা ও অন্যদের জানিয়ে রাখা অপরিহার্য হয়ে ওঠে। এই চক্র একইরকম ভাবে, কীরকম বাংলাদেশ তারা দেখতে চায় সেবিষয়ে তাদের ঐক্য আছে। সব প্রতিষ্ঠানের বিরাজনীতিকরণের মাধ্যমে নির্বিবাদী ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারার একটা পরিবেশ চায় এই চক্র। তাদের এই ঐক্য বাংলাদেশের জন্য যে সম্পূর্ণ সুখকর হবেনা, তা বোঝা যাচ্ছে কীর্তিমতীকে রাঁধুনীর পুরস্কার দেবার মতো তামাশা দেখে।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): নারীমিডিয়াকর্পোরেটসুশীল সমাজ ;
প্রকাশ করা হয়েছে: অ্যাক্টিভিজমমিডিয়া অধ্যয়ন  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:৪০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৮ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:২৭
রিজওয়ানুল ইসলাম রুদ্র বলেছেন: আসলে এই দেশের সব প্রতিযোগিতাতেই কারচুপি ! ২য় আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসবে বিচারক ছিলো পাঁচজন শিশু যার মধ্যে একজন উৎসব পরিচালকের ছেলে এবং বাকি একজন পরিচালকের একটি বিশেষ ছবির শিশু অভিনেতা। তো এই শিশুচলচ্চিত্রবোদ্ধাগণ যে বিচার করলো বলা বাহুল্য, সেটা কোনমতেই গ্রহণযোগ্য ছিলো না।
সব প্রতিষ্ঠানই তাহলে দুর্নীতি করে বোঝা গেল! যারা এটা নিয়ে প্রতিবাদ করে, লেখে...তারাও +
০৮ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:৩১

লেখক বলেছেন: হুমম।
আমি অবশ্য এইখানে কোনো প্রতিযোগিতার কথা বলিনি। আর এটা দুর্নীতর বিষয়ও নয়।
সম্মাননা প্রদানের ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে এরকম অভিযোগও কেউ তুলবে না।
আমার ফোকাসটা অন্যত্র।

২. ০৮ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:৩২
সচেতন বলেছেন: কোন একটি লেখায় পড়লাম যে, বিভিন্ন দিবসে বিভিন্ন কম্পানীরই লাভটা বেশী।
০৮ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:৩৪

লেখক বলেছেন: সেটা ঠিকই।

৩. ০৮ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:৩৬
হমপগ্র বলেছেন: নোবেল পুরুষ্কারও এক রকম বাণিজ্য। যারা নোবেল পায় তারা কী সবাই ব্যবসায়ী? আপনার কথামত বলতে হয়, রাধুনী মসলাজাত দ্রব্য তাই তার নামে কোন পুরুষ্কার হেশেলে থাকা মহিলাকে না দেওয়া উপহাস।

তাহলে নোবেল পুরুষ্কার কোন আবিষ্কারক, বিজ্ঞানী, ইকোনমিস্টকে দেওয়াওটা কী একধরণের উপহাস নয়?
০৮ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:৪২

লেখক বলেছেন: আপনি মনে হয় পোস্টটা ঠিকমতো পড়েন নাই।

৪. ০৮ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:৩৭
মেঘে ঢাকা তারা বলেছেন:
হুমম। রাধুনী কির্তিমতী। তাদের একটা এড এ আছে না, মা ছেলেকে বলছে 'এবার একটা রাধুনী আন'? সবচে খারাপ লাগে যখন কালো মেয়ে সাদা মেয়ের তফাত টা করা হয়। এরা নারীর অসম্মান ই হয়ত বেশি করছে।
০৮ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:৪৫

লেখক বলেছেন: "এবার একটা রাঁধুনী আন" এ্যাডটার কথাটা মাথায় ছিল, লেখার সময় বাদ পড়ে গেছে। ধন্যবাদ প্রসঙ্গটা তোলার জন্য।

৫. ০৮ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:৩৮
হমপগ্র বলেছেন: আলফ্রেড নোবেল ব্যবসা করেছিলেন বলে ব্যবসায়ী কথাটা বলতে হল।

আমাদের কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডের প্রতি ঈর্ষাটা এত বেশি কেন সবার সেটাই আমি বুঝতে পারি না। কর্পোরেট না থাকলে হাজার মানুষের পেট+পুরেট হবে কেমন করলে। নারী দিবসের একটা প্রমোশনাল কাজেও কিন্তু দশটা ডেকোরেটরের ব্যবসা হয়, ক্রেস্ট বিক্রেতারা কাজ পায়। সেসব চোখে পরে না কেন? অনেক কিছুই তো বাদ দিয়ে গেলাম!
০৮ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:৪৬

লেখক বলেছেন: ঈর্ষার জায়গা থেকে এটা লেখা হয় নি রে ভাই।
আপনাকে মূল বক্তব্যটা বোঝাতে আমি ব্যর্থ হয়েছি।

৬. ০৮ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:৫২
পথিক!!!!!!! বলেছেন: তেলামাথায় তেল দিলে ই যে লভ্যাংশ বেশী
৭. ০৮ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:৫৮
বিডি আইডল বলেছেন: পরিহাস..ইত্যাদিতে একটা গ্যাগ দেখিয়েছিল বোধ হয়......এক মহিলা রন্ধন অনুষ্ঠানে ইলিশের রেসিপি দেখান আর তার কাজের বুয়া টিভিতে তা দেখে উপহাস করছিল...যিনি কোনদিন মাছ ধরেও দেখেন না ঘরে তিনি টিভিতে রান্না শিখাচ্ছেন বলে!
০৮ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ১০:০২

লেখক বলেছেন: হে হে ...
হারপিক হাতে সুবেশী মডেলরাও টয়লেট ক্লিন করেন বলে মনে হয়না।

০৯ ই মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১২:৩২

লেখক বলেছেন: শুইনা ভালো লাগলো।

৯. ০৮ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ১১:১৯
কায়েস মাহমুদ বলেছেন:


নারী দিবসে সুন্দরী প্রতিযোগীতা করা হোক। নারী বাদীরা খুশীই হবে।
১০. ০৯ ই মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১২:৪১
বাফড়া বলেছেন: পরে আসছি (আসলে কমেন্ট টা করে গেলাম দুপুরে ঘুম থেকে উঠে কোন পোস্ট পড়া দরকার সেটা যেন মন্তব্যের লিস্টি থেকে বের করতে পারি সেজন্য!!!)

আপাতত পোস্টের টাইটেল পড়েই হাসি দিয়ে বাসার সবার ঘুম ভাংগায়া দিলাম!!!
০৯ ই মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৫

লেখক বলেছেন: অপেক্ষা করছি।

০৯ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:৫৯

লেখক বলেছেন: কই আসলেন না তো।

১১. ০৯ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ১০:৫৭
আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন: খাইছেরে ইহার চেয়ে বড় ট্রাজেডী আর কি হতে পারে!!
০৯ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ১১:১৩

লেখক বলেছেন: বিডিআর ট্র্যাজেডি।

১০ ই মার্চ, ২০০৯ সকাল ১০:০০

লেখক বলেছেন: তাই নাকি? হয়তো তাই। কিন্তু আমাদের মধ্যে একটা বোধ কাজ করে যে এরকম হওয়া উচিত না।

সেজন্য এইসব লেখা-বলা।

১৩. ১০ ই মার্চ, ২০০৯ সকাল ১০:২১
নুশেরা বলেছেন: সমস্যা কী! রাঁধুনি সেরা রাঁধুনি, প্রাণ সেরা আচার--- এইসব পুরস্কারও তো দেয়া হয়।
১০ ই মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:০৯

লেখক বলেছেন: আমরা যদি সব পুরস্কার বা সব ঘটনাকেই বিনা প্রশ্নে ছেড়ে দিই যে ঐটা তো একটা রীতি দাঁড়িয়ে গেছে, তবে তো বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবনার কোনো দরকারই পড়েনা।

দূরন্তের মন্তব্যটির জবাব দেখুন।

১৪. ১০ ই মার্চ, ২০০৯ সকাল ১০:৪৫
দূরন্ত বলেছেন: আপনার শিরোনামের পয়েন্টটা বুঝতে আমিও ব্যর্থ হয়েছি :(

দ্বিতীয় একটা জিনিস ভাবছি কারা পুরস্কারগুলি দিলে কোনো সমালোচনা হতো না?

(রাধুনির মসলাগুলি রান্না ঘরের মানলাম। কিন্তু মহিলাদের জন্যই এটা মানলাম না। কারণ সেগুলো আমার বেশ কাজে লাগে। এ কারনে সম্ভবত অবচেতন মনে আমি রাধুনির একজন ভক্ত। তাই রান্না ঘরের জন্য পন্য বানালেও তাদের কোনো দোষ দেখছি না)
১০ ই মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:০৮

লেখক বলেছেন: বিষয়টা আবার ব্যাখ্যা করতে হবে ভাবিনি।

১. রাঁধুনী গুঁড়ো মশলার এডটার কথা জানেন তো। মা ছেলের আনন্দমুখর আলাপের শেষ পর্যায়ে মা বলেন, এইবার ঘরে একটা সত্যিকারের রাঁধুনী নিয়ে আয়।

এখানে বউ=রাঁধুনী মিন করা হচ্ছে। প্রথম প্রশ্ন হলো আপনি মানেন কিনা যে এই এডটি নারীর জন্য অবমাননাকর?

২. যে নারীদের পুরস্কার দেয়া হয়েছে তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। এবং অগ্রবর্তী নারীদের প্রতিনিধি। আমার বিশ্বাস এরা প্রত্যেকেই (এবং যেকোনো আত্মসম্মানওয়ালা নারী) এই এ্যাডটির বিরোধিতা করবেন। উপরন্তু রাঁধুনী হবার মধ্য দিয়ে নারীকে হেঁশেলে আটকে রাখঅর একটা পুরুষতান্ত্রিক ষড়যন্ত্রও আছে।

৩. তাহলে এই অগ্রবর্তী কীর্তিমতীরা রাঁধুনী ব্রান্ডের পুরস্কার কেন নেবেন? (যে-রাঁধুনী কোম্পানি ঐ রকম একটা এ্যাড বানায় এবং যে-পরিচয়টি প্রতীকী অবমাননার জন্ম দেয় ও নারীর অগ্রযাত্রাকে রুখতে ব্যবহৃত হয়)

১০ ই মার্চ, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০০

লেখক বলেছেন: আপনি পুরস্কারটি দিলে আমি সমালোচনা করতাম না। এমনকি 'রাঁধুনী' প্রতীকায়িত করে না এরকম অন্য যেকেউ দিলেও ...। কেউ কাউকে পুরস্কার দিলে অন্যের সাধারণত মাথাব্যথা হবার কথা নয়। আমরা বড়োজোর অভিনন্দন জানাতি পারি।

এখানে কী এমন ঘটলো যে উল্টো সমালোচনা করছি? শিরোনামের গূঢ়ার্থ (কনোটেটিভ মিনিং) খুঁজতে অনুরোধ করি।

রান্নার সময় আমাকেও মসলা ব্যবহার করতে হয়, সেটা রাঁধুনীও হতে পারে। কিন্তু কীর্তিমতীকে নারীকে যখন রাঁধুনী'র পুরস্কার দেয়া হয় তখন সবমিলিয়ে অর্থের জগতে একটা শোরগোল পড়ে, এ কেবল এ্যাডে বউকে রাঁধুনী প্রতিপাদ্য করেছে বলেই নয়।

১৫. ১০ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ১০:৫৯
দূরন্ত বলেছেন: আমি রাধুনির বিজ্ঞাপণটা এখনো দেখার সুযোগ পাইনি। ইউটিউবে খুজেও পেলাম না।

একথা সত্যি যে, কিছু বিজ্ঞাপণ অত্যন্ত অবমাননাকর। তেমন কিছু হয়ে থাকলে নিঃসন্দেহে নিন্দা জানাচ্ছি.....

ব্যাখ্যা করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
১০ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ১১:০৩

লেখক বলেছেন: ঠিকাছে।

১৬. ১৫ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৩:৪১
ফেরারী পাখি বলেছেন: সত্যিই অসাধারণ লিখেছেন এবং বিশ্লেষণও চমৎকার। আপনার এই পেশাদারী লেখার ভাবনাগুলো আমাদের মত আমজনতার অনেকেরই মনের কথা।

কিন্তু বিষয়টা হল এদের চক্রটাকে ভাঙ্গবে কে? কি ভাবে? সেই গুলোর চর্চা কি ভাবে করতে হয়?

হয়তো, এই সম্মাননা একদিন এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককেও দেওয়া হবে- তখন তিনিও হাসতে হাসতে সেটি নিতে যাবেন। আমরা বাহবা দেব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত শিক্ষকরা বা যারা সুশীল বা আপনাদের মত সমাজের মুখপাত্র তারা কি কোনভাবেই একজোট হয়ে আমাদের সচেতন করতে পারেন না, এই রঙ ফর্সাকারী ক্রীমের বিরুদ্ধে? একজন রাঁধুনী আনার বিরুদ্ধে, করতে পারেন না কোন বিজ্ঞাপণ?
মতিউর-সাগর এরা সবচেয়ে সচেতন মানুষের আড়ালে এসব নিয়ে কিভাবে এত জেঁকে বসলেন? বুদ্ধিজীবিদের কি এতে কোন আশ্রয় প্রশ্রয় নেই?
১৫ ই মার্চ, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫২

লেখক বলেছেন: চক্রটা খুব শক্ত, ভাঙ্গা খুব কঠিন। কিন্তু ভাঙ্গার প্রয়াস থেমে নেই। ব্যক্তির প্রত্যাখ্যান যেমন আছে তেমনি সাংগঠনিক উদ্যোগও আছে। জেন্ডার ইন মিডিয়া ফোরাম নামে একটি সংগঠন আছে যারা বিজ্ঞাপনদাতাদের সঙ্গে দরকষাকষি চালিয়ে যাচ্ছে বিজ্ঞাপনগুলোকে আরও জেন্ডারসংবেদনশীল করে তোলার জন্য।

সম্মাননা পাওয়া সৌভাগ্যের, নেয়াও দোষের কিছু নয়। প্রশ্ন ওঠে আদর্শগত হিপোক্রিসির সন্ধান মিললে। অনেক নারীবাদী থেকে অনেক শিক্ষক-বুদ্ধিজীবী-সুশীলই এই চক্রে সামিল আছেন; তবে সবাই যে নয়, সেটাই আশার কথা।

০২ রা এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১২:১৩

লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৪৯৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াই। ফিকশন ও নন-ফিকশন দুই ধরনের লেখাই লিখি। গল্প লিখি, প্রবন্ধ লিখি, অনুবাদ...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ