somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নতুন শতাব্দীর বাংলা সিনেমার হালচাল ১

১৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছায়াছন্দ নিয়ে নুশেরার বহুল জনপ্রিয় পোস্টকে (Click This Link) ঘিরে বয়েসী ব্লগাররা নস্টালজিক হয়ে পড়েন। আমিও তার মধ্যে পড়ি। ভাবলাম, নস্টালজিয়া বন্দী না থেকে সাম্প্রতিক বাংলা সিনেমার হালচাল নিয়ে কিছু পোস্ট দিই। আজকে দেয়া হলো ২০০৪ সালের ছবি বাঘের বাচ্চার কাহিনী। আশা করি এই শতকের বাংলা সিনেমা অনেকেরই দেখার 'সৌভাগ্য' হয়নি।

আমি কেবল কাহিনী তুলে দিলাম। আসেন সবাই মিলে এই ছবির ব্যবচ্ছেদ করি। :)

...

বিশাল হাতিয়ার নিয়ে নায়ক দৌড়ে আসছে, তার পেছনে আগুন জ্বলছে, সাউন্ড ট্র্যাকে সম্মিলিত পুরুষকণ্ঠের প্রতিধ্বনিত আওয়াজ ওঠে “বাঘে-ঘ-র-বাঘে-ঘ-র বাচ্চা...”Ñ এঅবস্থায় নায়কের ইমেজটি ফ্রিজ হয়ে যায়। বাঘের বাচ্চা ছবির শুরুটা এমন। এরপরে ফ্ল্যাশব্যাকে দেখানো হয় এক বিজয় দিবসে নায়কের মা তাকে জন্ম দিচ্ছে, তার নানা “মেয়েকে কলেজে পাঠাইয়া ভুল করছিলাম” স্বীকারোক্তির পরে সদ্যজাত নাতিকে জ্যান্ত পুঁতে ফেলতে চান কারণ নাতির বাবাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কাহিনীতে দেখা গেলো মাজারে গিয়ে সহপাঠীকে নায়কের মা বিয়ে করেছিল, তারা মিলিত হয়েছিল এবং পরের দৃশ্যেই ট্রাকের ধাক্কায় নায়কের মোটরসাইকেল-আরোহী বাবা মারা যায়। এই পরিপ্রেক্ষিতে, বাবার অনুপস্থিতিতে এবং সমাজ ও নানার পীড়াপীড়িতে মা বাধ্য হয়ে সদ্যজাত নায়ককে নদীতে ভাসিয়ে দেয়। নদীতে ভাসতে ভাসতে শিশু নায়ক এমন এক মহিলার হাতে পড়ে যার স্বামী যুদ্ধে গিয়ে আর ফেরে নি। সম্রাট নামের এই নায়কই পরে হয়ে উঠে বস্তির বিপন্ন মানুষের বন্ধু, তাদের রক্ষাকর্তা। বস্তি দখল করতে আসে কোকা শেঠ ও রাজনÑ এই দুই গডফাদার-যুগলের লোকজন। সম্রাট তাদের মেরে তাড়িয়ে দেয়। এর আগে কোকার ভাইকে সম্রাট গুরুতর আহত করে কারণ সে বস্তির এক স্কুলগামী মেয়েকে ধর্ষণ করতে উদ্যত হয়েছিল। গডফাদার-যুগলের সঙ্গে সম্রাটের শত্র“তা স্থায়ী রূপ পায়। এদিকে এক সড়ক-দুর্ঘটনায় স্কুলগামী শিশু মারাত্মক আহত হয়, সেখানে হাজির হয় জনদরদী সম্রাট। শিশুটিকে হাসপাতালে নেবার জন্য কোনো বাহন পাওয়া যায় না। স্কুটারে করে স্কুলশিক্ষক নায়িকা যাচ্ছিলো, সম্রাট তাকে থামায় ও জোর করে স্কুটার থেকে নামিয়ে দেয়। নায়িকা শোভা সম্রাটকে ‘ইউ বাস্টার্ড’ বলে গালি দেয়। সম্রাট খেপে যায়, বাস্টার্ড গালি সে মোটেও সহ্য করতে পারে না। কারণ সে জানে সে সত্যিকারের বাস্টার্ড, মা তাকে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে। কিন্তু সে তৎক্ষণাৎ কিছু না বলে শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতালে যায়, রক্ত দিয়ে বাঁচিয়ে তোলে। ঘটনাচক্রে শিশুটি রাজনের কন্যা ও নায়িকার স্কুলের ছাত্রী। রাজনের মন সম্রাটের প্রতি নরম হয়। আর নায়িকা তার ছাত্রীকে দেখতে এলে নায়ক ‘বাস্টার্ড’-গালির প্রতিশোধ নিতে নায়িকাকে হাসপাতাল থেকে উঠিয়ে নিয়ে যায় এবং নির্জন স্থানে নায়িকাকে নিয়ে গিয়ে হুমকি দেয় “আজকে তোমার গর্ভে আমি বাস্টার্ডের জন্ম দেবো।” কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে তা করে না এবং জানায় এ কেবলই তার ক্রোধের প্রকাশ সে কখনোই কোনো মেয়ের গায়ে হাত দেয়নি। এরপর সে তার পেছনের কাহিনী জানায়, এবং তাতে নায়িকা উল্টো মুগ্ধ হয়, ‘সত্যিকারের মানুষ’ খুঁজে পাবার আনন্দে কাঁদতে থাকে। এদিকে কোকার ভাই হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করে। সম্রাট গ্রেফতার হয়, কোকা সম্রাটের বস্তি জ্বালিয়ে দিতে যায়, সম্রাটের প্রতি কৃতজ্ঞ রাজন বাধা দেয়। কোকা ও রাজনের বিরোধিতা শুরু হয়, কোকা হুমকি দেয়: “সম্রাটের আগে তোর খবর আমি খারাপ কইরা দিবো।” জেল থেকে সম্রাটকে রাজনই বের করে নিয়ে আসে, এবং সম্রাটের কারণেই রাজন বস্তিবাসীর-বন্ধু হিসেবে এগিয়ে আসে। সম্রাটের মা দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছিল এবং তার দ্বিতীয় সন্তানও ছেলে হয় এবং সে ঘটনাস্থল শান্তিপুরে পুলিশ-অফিসার হয়ে আসে। সম্রাটের কাছে রক্ষিত, নদীতে ভাসিয়ে দেবার সময়কার লাল চাদরটির মাধ্যমে মা-ছেলের পরিচয় হয়। সম্রাটের মা-ভাইপ্রাপ্তির কাহিনী শুনে অভিভূত রাজন সম্রাটকে নিয়ে সম্রাটের ভাই পুলিশ অফিসার রানার কাছে সারেন্ডার করতে যায়। কিন্তু কোকার লোক সেখানেই রাজনকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এরপর সম্রাট একাই কোকার প্রাসাদে আক্রমণ করে দলবলসহ কোকাকে নিধন করে। কোর্টে সম্রাটের মাত্র সাত বছরের জেল হয়। ছবির কাহিনী এভাবেই শেষ হয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১১:০৯
৪৩টি মন্তব্য ৩৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×