আমি কেবল কাহিনী তুলে দিলাম। আসেন সবাই মিলে এই ছবির ব্যবচ্ছেদ করি।
...
বিশাল হাতিয়ার নিয়ে নায়ক দৌড়ে আসছে, তার পেছনে আগুন জ্বলছে, সাউন্ড ট্র্যাকে সম্মিলিত পুরুষকণ্ঠের প্রতিধ্বনিত আওয়াজ ওঠে “বাঘে-ঘ-র-বাঘে-ঘ-র বাচ্চা...”Ñ এঅবস্থায় নায়কের ইমেজটি ফ্রিজ হয়ে যায়। বাঘের বাচ্চা ছবির শুরুটা এমন। এরপরে ফ্ল্যাশব্যাকে দেখানো হয় এক বিজয় দিবসে নায়কের মা তাকে জন্ম দিচ্ছে, তার নানা “মেয়েকে কলেজে পাঠাইয়া ভুল করছিলাম” স্বীকারোক্তির পরে সদ্যজাত নাতিকে জ্যান্ত পুঁতে ফেলতে চান কারণ নাতির বাবাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কাহিনীতে দেখা গেলো মাজারে গিয়ে সহপাঠীকে নায়কের মা বিয়ে করেছিল, তারা মিলিত হয়েছিল এবং পরের দৃশ্যেই ট্রাকের ধাক্কায় নায়কের মোটরসাইকেল-আরোহী বাবা মারা যায়। এই পরিপ্রেক্ষিতে, বাবার অনুপস্থিতিতে এবং সমাজ ও নানার পীড়াপীড়িতে মা বাধ্য হয়ে সদ্যজাত নায়ককে নদীতে ভাসিয়ে দেয়। নদীতে ভাসতে ভাসতে শিশু নায়ক এমন এক মহিলার হাতে পড়ে যার স্বামী যুদ্ধে গিয়ে আর ফেরে নি। সম্রাট নামের এই নায়কই পরে হয়ে উঠে বস্তির বিপন্ন মানুষের বন্ধু, তাদের রক্ষাকর্তা। বস্তি দখল করতে আসে কোকা শেঠ ও রাজনÑ এই দুই গডফাদার-যুগলের লোকজন। সম্রাট তাদের মেরে তাড়িয়ে দেয়। এর আগে কোকার ভাইকে সম্রাট গুরুতর আহত করে কারণ সে বস্তির এক স্কুলগামী মেয়েকে ধর্ষণ করতে উদ্যত হয়েছিল। গডফাদার-যুগলের সঙ্গে সম্রাটের শত্র“তা স্থায়ী রূপ পায়। এদিকে এক সড়ক-দুর্ঘটনায় স্কুলগামী শিশু মারাত্মক আহত হয়, সেখানে হাজির হয় জনদরদী সম্রাট। শিশুটিকে হাসপাতালে নেবার জন্য কোনো বাহন পাওয়া যায় না। স্কুটারে করে স্কুলশিক্ষক নায়িকা যাচ্ছিলো, সম্রাট তাকে থামায় ও জোর করে স্কুটার থেকে নামিয়ে দেয়। নায়িকা শোভা সম্রাটকে ‘ইউ বাস্টার্ড’ বলে গালি দেয়। সম্রাট খেপে যায়, বাস্টার্ড গালি সে মোটেও সহ্য করতে পারে না। কারণ সে জানে সে সত্যিকারের বাস্টার্ড, মা তাকে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে। কিন্তু সে তৎক্ষণাৎ কিছু না বলে শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতালে যায়, রক্ত দিয়ে বাঁচিয়ে তোলে। ঘটনাচক্রে শিশুটি রাজনের কন্যা ও নায়িকার স্কুলের ছাত্রী। রাজনের মন সম্রাটের প্রতি নরম হয়। আর নায়িকা তার ছাত্রীকে দেখতে এলে নায়ক ‘বাস্টার্ড’-গালির প্রতিশোধ নিতে নায়িকাকে হাসপাতাল থেকে উঠিয়ে নিয়ে যায় এবং নির্জন স্থানে নায়িকাকে নিয়ে গিয়ে হুমকি দেয় “আজকে তোমার গর্ভে আমি বাস্টার্ডের জন্ম দেবো।” কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে তা করে না এবং জানায় এ কেবলই তার ক্রোধের প্রকাশ সে কখনোই কোনো মেয়ের গায়ে হাত দেয়নি। এরপর সে তার পেছনের কাহিনী জানায়, এবং তাতে নায়িকা উল্টো মুগ্ধ হয়, ‘সত্যিকারের মানুষ’ খুঁজে পাবার আনন্দে কাঁদতে থাকে। এদিকে কোকার ভাই হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করে। সম্রাট গ্রেফতার হয়, কোকা সম্রাটের বস্তি জ্বালিয়ে দিতে যায়, সম্রাটের প্রতি কৃতজ্ঞ রাজন বাধা দেয়। কোকা ও রাজনের বিরোধিতা শুরু হয়, কোকা হুমকি দেয়: “সম্রাটের আগে তোর খবর আমি খারাপ কইরা দিবো।” জেল থেকে সম্রাটকে রাজনই বের করে নিয়ে আসে, এবং সম্রাটের কারণেই রাজন বস্তিবাসীর-বন্ধু হিসেবে এগিয়ে আসে। সম্রাটের মা দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছিল এবং তার দ্বিতীয় সন্তানও ছেলে হয় এবং সে ঘটনাস্থল শান্তিপুরে পুলিশ-অফিসার হয়ে আসে। সম্রাটের কাছে রক্ষিত, নদীতে ভাসিয়ে দেবার সময়কার লাল চাদরটির মাধ্যমে মা-ছেলের পরিচয় হয়। সম্রাটের মা-ভাইপ্রাপ্তির কাহিনী শুনে অভিভূত রাজন সম্রাটকে নিয়ে সম্রাটের ভাই পুলিশ অফিসার রানার কাছে সারেন্ডার করতে যায়। কিন্তু কোকার লোক সেখানেই রাজনকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এরপর সম্রাট একাই কোকার প্রাসাদে আক্রমণ করে দলবলসহ কোকাকে নিধন করে। কোর্টে সম্রাটের মাত্র সাত বছরের জেল হয়। ছবির কাহিনী এভাবেই শেষ হয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

