somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টিপাইমুখ বাঁধ ও একটি ভিসা প্রত্যাখ্যান

১০ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

টিপাইমুখ বাঁধ এখন বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে সবচেয়ে বড়ো ইস্যু, যার আবার আন্তর্জাতিক দিকমাত্রা রয়েছে। ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্ত্তীর নানা বেসামাল উক্তি ইস্যুটিকে আরও বড়ো করে তুলেছে। টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণপ্রক্রিয়ার প্রতিবাদে ল্যাম্পপোস্ট নামের একটি সংগঠনের ভারতীয় দূতাবাস ঘেরাও ও তাদের ওপরে পুলিশি হামলা-গ্রেফতারও ইস্যুতে আরেকটি সংযোজন। অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধ ইস্যুকে আড়ালে ঠেলতে সচেষ্ট গোষ্ঠী তাদের ভারতবিরোধিতার জোশকে এই ফাঁকে চাগিয়ে নিচ্ছে। এই রাজনৈতিক তাপ-উত্তাপের মধ্যেই আমি চেষ্টা করছিলাম ভারতীয় দূতাবাস থেকে একটি কনফারেন্স ভিসা সংগ্রহের। এই রচনাটি সেই অভিজ্ঞতারই ব্যক্তিগত বয়ান। স্বীকার করছি যে বৃহত্তর রাজনৈতিক তাপে হাত না-সেঁকে বা আগুনে তুষ কিংবা পানি কোনোটাই না-যোগ করে আমি স্বার্থপরের মতো ভারতগমনে সচেষ্ট ছিলাম।

তবে সচেতন নাগরিক হিসেবে টিপাইমুখ ইস্যুতে আমার মত তো আছেই, এবং তা বিরোধিতার। মণিপুরের বরাক নদীতে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগটি ভারত সরকার কয়েক দশক ধরেই নিচ্ছে, কিন্তু মণিপুরবাসীদের বাধার মুখে এতদিন এটি বাস্তবায়িত হতে পারেনি। ভারতের নর্মদা বাঁধবিরোধী মেধা পাটেকররাও এই বাঁধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তবে টিপাইমুখ প্রকল্প আজ বাস্তবায়নের মুখে। কিন্তু খোদ উজানের লোকজনরাই যখন এই বাঁধের বিরুদ্ধে, তখন বরাক-থেকে-বের-হওয়া সুরমা-কুশিয়ারাবিধৌত ভাটির বাংলাদেশ যে এই প্রকল্প থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা সহজেই অনুমেয়। ‘ভারতবান্ধব’ বলে পরিচিত বর্তমান সরকার এই ইস্যুতে দ্বিধাগ্রস্ত। কিন্তু জনমত ধীরে ধীরে এই প্রকল্পের বিরুদ্ধেই দাঁড়াচ্ছে। জানিনা এই প্রকল্পকে আদৌ ঠেকানো যাবে কিনা, কিন্তু হাসিনা-সরকারকে ‘ভারতনির্মিত আরেকটি বাংলাদেশের-জন্য-সর্বনাশ প্রকল্প’ হতে-দেওয়ার দায় নিতে হবে। বঙ্গবন্ধু সরকারের সময়ে নির্মিত ফারাক্কার দায় যেমন প্রথম হাসিনা-সরকার পানিচুক্তি করার মাধ্যমে মেটাতে সচেষ্ট হয়েছিল, এই বাঁধ নির্মিত হলে, পরবর্তী কোনো এক আওয়ামী সরকারকেই হয়তো সেই দায় মেটাতে হবে। তবে সময় এখনও ফুরায়নি, বিপুল ভোটে নির্বাচিত সরকারকে জনগণের ম্যান্ডেট রক্ষাতে সচেষ্ট হওয়া ছাড়া কোনো উপায় নাই। যৌথ নদী-ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হেলসিংকি রুল (১৯৬৭) কিংবা জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নদী ব্যবহারের কনভেনশন (১৯৯৭), কোনোটাকেই তোয়াক্কা করছে না ভারত সরকার। বন্ধু বা বড়োভাই যাই হোক না কেন, তার অন্যায়কে অন্যায় বলতে হবে, প্রয়োজনে প্রতিবাদ অন্যান্য ভাইবেরাদারের সহায়তা নিয়ে।

জুলাইয়ের প্রথমার্থে বন্ধু বা বড়োভাইরাষ্ট্র ভারতে যেতে সচেষ্ট ছিলাম যেকারণে তা বলা যাক। ভারতে যেতে এটা আমার পঞ্চম প্রয়াস ছিল --প্রথমবার ছাত্রাবস্থায় শিক্ষাসফরে, দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার চিকিৎসার্থে, চতুর্থবার একটি সম্মেলনে, এবং এবারও সম্মেলনে। আগের সম্মেলনটির আয়োজক ছিল ভারতের একটি প্রতিষ্ঠান। এবারের সম্মেলনটির আয়োজক ছিল সিঙ্গাপুরের একটি প্রতিষ্ঠান। সিঙ্গাপুরভিত্তিক এশিয়ান মিডিয়া ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন সেন্টার (অ্যামিক) প্রতিবছর এশিয়ার বিভিন্ন শহরে মিডিয়াবিষয়ক বার্ষিক সম্মেলন করে। এবারের সম্মেলনের জন্য নির্বাচিত শহর ছিল দিল্লি। সেখানে আমার একটা গবেষণাপত্র উপস্থাপন করার কথা। আমার গবেষণাপত্রের বিষয় ছিল অনলাইনভিত্তিক বাংলা ব্লগ কমিউনিটি। বাংলাদেশ, ভারত ও পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাংলাভাষীদের স্বাধীন মতপ্রকাশের প্ল্যাটফর্ম ব্লগ কমিউনিটি। সামহোয়ার...ইন, সচলায়তন, আমার ব্লগ ও প্রথম আলো ব্লগ -- এই চারটি ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম নিয়েই আমার গবেষণাপত্রটি ছিল। সম্মেলনে যাবার বিমানভাড়া, থাকা-খাওয়াসহ যাবতীয় ব্যয়ভার সম্মেলন কর্তৃপক্ষই দেবে। শুধু ভিসা নাও এবং যাও। কিন্তু আমাকে ভিসা দেয়া হলো না।

ভারতে শেষ গিয়েছি ২০০৪ সালে। গিয়েছি সম্মেলনে, কিন্তু নিয়েছিলাম ট্যুরিস্ট ভিসা। এবারও সেরকমই ভাবছিলাম। মাঝখানে তিন বছর দেশে ছিলাম না। এদফায় সবাই বলছিল ঢাকায় ভারতীয় ভিসা পাওয়া এখন খুবই কঠিন। বিশেষত কনফারেন্স ভিসা নিয়ে নানা ঝামেলা হয়। আমি জানতাম ঢাকায় ট্যুরিস্ট ভিসা পাবারই অনেক হ্যাপা -- সাত সকালে লাইনে দাঁড়ালে দেখা যাবে বিরাট লম্বা লাইন, লাইনে দাঁড়ানো অনেকেই আবার দালালশ্রেণীর যারা অর্থের বিনিময়ে সিরিয়াল বিক্রি করে। আমি একবার ভাবলাম নিজশহর রাজশাহী যাই, সেখানে গিয়ে একদিনে ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে ফিরে আসি। কিন্তু একজন সহকর্মীর একটি মন্তব্য আমার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে বাধ্য করলো। তিনি বললেন আমি ভারতে সম্মেলনে গেলে সম্মেলন ভিসা নিয়েই যাই। নয়তো যাবো না। যাবো এক কাজে, আর নিবো আরেক ভিসা, তা হয়না।

কথাটা মনে দাগ কাটলো। সিদ্ধান্ত নিলাম, সম্মেলন ভিসার জন্যই আবেদন করবো। কিন্তু জমা দেবার লাইন-দালাল চক্র ইত্যাদির কথা ভেবে গায়ে জ্বর আসার মতো অবস্থা। আর রাজশাহী-চট্টগ্রাম ট্যুরিস্ট ভিসা দিতে পারে, সম্মেলন ভিসা নয়। একটা উপায় বেরিয়ে গেল, সহজে জমা দেবার বন্দোবস্ত হলো। এক আত্মীয়ের মধ্যস্ততায় দূতাবাসের একজন জুনিয়ার অফিসার আমার আবেদনপত্র গ্রহণ করলেন, লাইন ছাড়াই। তিনি আশ্বাস দিলেন, দুই সপ্তাহের মধ্যেই ভিসা পেয়ে যাবেন। ভিসার বিষয়ে তার সঙ্গেই পরবর্তী যোগাযোগ করবো বলে রফা হলো।

কিন্তু দুই সপ্তাহ পার হলেও ভিসার কোনো খবর নাই। এর মধ্যে আমি আয়োজক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করলাম আমার অংশগ্রহণ বিষয়ে ফ্যাক্স করতে। তারা তা করেছেন। কিন্তু তাতেও কোনো ফল আসলো না। এদিকে সম্মেলন শুরু হবার কথা ১৩ জুলাই। আমার পেপার উপস্থাপন করার কথা ১৪ জুলাই। আমি ১২ জুলাই মরিয়া হয়ে আবার ভারতীয় দূতাবাসে গেলাম। আমার সেই কনট্যাক্ট পারসন ইতোমধ্যে আমার ফোন ধরা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু ১১ তারিখে পাঠানো একটা এসএমএস-এর উত্তর দিলেন তিনি। ১২ তারিখে হ্যাঁ-না কিছু একটা তিনি জানাবেন। উত্তর ‘না’ হলে পাসপোর্ট ফেরতের ব্যবস্থা করবেন। আমি ১২ তারিখ সকালে দূতাবাসে একটা বিশেষ অনুরোধের ফর্ম পূরণ করলাম। সেই ফর্মে কেন আমাকে আজকের মধ্যেই ভিসা দেয়া উচিত তার বর্ণনা করলাম। আর সঙ্গে আয়োজকদের ফ্যাক্সকপি এবং মূল আবেদনপত্রের সঙ্গে দেয়া সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্র ও অন্যান্য কাগজপত্র পুনরায় যুক্ত করে দিলাম। সকাল ১১টা থেকে সারাদিন ঐ ভবনে ঘোরাঘুরি করে বেলা সাড়ে ৫টা নাগাদ জানতে পারলাম, আমার ভিসা হয়নি। কারণ ভারতীয় স্থানীয় সরকারের কাছ থেকে অনুমোদন আসেনি। তাই ঢাকা হাইকমিশন আমাকে ভিসা দিতে পারছে না। আমার মানসিক প্রস্তুতি ছিল, আমি চলে আসলাম। ভারতীয় দূতাবাসে বিক্ষোভ করতে যাওয়া ল্যাম্পপোস্টের গ্রেফতারকৃত সদস্যদের মুক্তির দাবিতে ঐদিন বিকেল ৪টায় টিএসসি সড়কদ্বীপে একটা সমাবেশ ছিল, আয়োজকরা আশা করছিলেন আমি সেখানে উপস্থিত থাকবো। সেই ভারতীয় দূতাবাসে সারাদিন কাটানোর কারণেই সেটা সম্ভব হলো না। কী পরিহাস!

কিন্তু মনখারাপ তো হলোই। কয়েকমাস ধরে অনেক মেইল চালাচালি হয়েছে, আয়োজকদের সঙ্গে। বিভাগের চেয়ারপারসন অনেক আগে থেকেই অফিসবোর্ডে লিখে রেখেছেন আমার দিল্লি যাবার কথা -- সবাই জানে। একটা আনন্দদায়ক একাডেমিক সফরের কথা মনে চিত্রিত হয়ে ছিল। এশিয়া ও এশিয়ার বাইরের অনেক মিডিয়া-স্কলারের সঙ্গে মতবিনিময়-পরিচয়ের একটা সম্ভবনা তৈরী হয়েছিল। কিন্তু দু’টি দেশের পারস্পরিক অবিশ্বাস এরকম একাডেমিক কার্যক্রমের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ইতোমধ্যে জানা গেল পশ্চিমবঙ্গের একজন মিডিয়া-গবেষক ও লেখক পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আগস্ট মাসে আমাদের বিভাগে আসার কথা ছিল, আলোচনায়-সেমিনারে অংশ নেবার কথা ছিল। তিনি আসতে পারছেন না, কারণ তিনি ভিসা চেয়ে ব্যর্থ হয়েছেন, বাংলাদেশের হাইকমিশন অফিস তাকে ভিসা দেয়নি। মনে পড়লো দু’তিন বছর আগেই তিনি আরেকবার উদ্যোগ নিয়েছিলেন, ঢাকা আসার। কিন্তু তিনি সেবারও ভিসা পাননি। তখন তিনি ভগ্নহৃদয়সহকারে এক করুণরসসঞ্চারী এক পত্র দিয়েছিলেন আমাদের বিভাগীয় চেয়ারের কাছে। এবার বোধহয় তার মানসিক প্রস্তুতি ছিলই। সেরকম চিঠি তিনি এবার দেননি। এরকম ঘটনা তাহলে দুই দিক থেকেই ঘটছে।

সেমিনার-সম্মেলনে শিক্ষাবিদদের অংশ নেবার মতো নির্দোষ বিষয়ে দুই দেশই বেশ স্পর্শকাতর হয়ে পড়ে, বিশেষত অংশগ্রহণকারীর পরিচয়ের সঙ্গে যদি সাংবাদিকতা বা মিডিয়া শব্দগুলো যুক্ত থাকে, স্পর্শকাতরতার মাত্রা আরও বেড়ে যায়। দুই প্রতিবেশী দেশের এই পারস্পরিক অবিশ্বাস খুবই চিন্তার বিষয়। যে দুই দেশ একসময় একত্র ছিল, যাদের সাধারণ ইতিহাস আছে, সং®কৃতিগত মিল রয়েছে, ইতিহাসের কোনো এক বাঁকে তারা পৃথক হয়ে যাবার পর যে দূরত্ব কেবল বাড়তেই থাকবে, এটা দুঃখজনক। আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য সার্ক গঠিত হয়েছিল, কিন্তু তার কোনো ইতবাচক প্রভাবই লক্ষ করা যায়না। প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত অতিক্রম করতে এইরকম হেনস্থা হবার কোনো মানেই হয়না। অথচ ইইউ বা আসিয়ানভুক্ত মানুষদের জন্য এইসব কাজ কত সহজে হয়ে যায়। মালয়েশিয়ার শহরগুলোতে থাই নেমপ্লেটওয়ালা গাড়ি চলাচল করতে দেখেছি। দিনের কাজ দিনে সেরে আবার তারা থাইল্যান্ডে ফিরে যেতে পারে। অথচ বাংলাদেশ থেকে ভারতে যেতে, এমনকি ভারত থেকে বাংলাদেশে যেতে পরস্পরকে সন্দেহ করা হচ্ছে। অবশ্য ভারতে যেতে নেপালিদের ভিসা লাগেনা, নেপাল সীমান্তে নেই কাঁটাতারের বেড়াও। তাহলে ভারতে যেতে বাংলাদেশি বা পাকিস্তানিদের ভিসা লাগছে কেন? মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে বাংলাদেশীদের জন্য ভারতীয় ভিসা পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। কিন্তু মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার পেছনে কি ভারতের কাশ্মির নীতি একটুও দায়ী নয়? আজ মাওবাদী আন্দোলন ভারতের নিরাপত্তার জন্য অন্যতম একটা হুমকি এবং মাওবাদের উৎস নেপাল। তারপরও নেপালিরা বিনাভিসায় ভারতে যেতে পারছে। ভারত কি হিন্দু-রাষ্ট্র বলেই নেপালকে ছাড় দিচ্ছে? সার্কের ব্যর্থতার জন্য বৃহৎ রাষ্ট্র ভারতের অনীহাই কি মূলত দায়ী নয়?

আর বাংলাদেশ থেকে ভারতে যারা যাচ্ছেন তাদের সবাই কি ভারতের জন্য ‘উৎপাত’? ভারতভ্রমণকারী বাংলাদেশীদের সিংহভাগই চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন, লাখ লাখ টাকা ব্যয় করছেন ভারতীয় হাসপাতাল-ক্লিনিক-হোটেলে। এই বাণিজ্য থেকে যে বৈদেশিক মুদ্রা তারা পাচ্ছে, তার বিনিময়ে কি এই হয়রানি? প্রেক্ষাপটে যখন টিপাইমুখ ইস্যু ভারতীয় হাই কমিশনার কোন বরাতে বলেন যে ভিসাপ্রার্থীদের শতকরা ৮০ ভাগ টাউট? তার কথা যদি আংশিক সত্য ধরেও নিই, তবে টাউটদের সঙ্গে দূতাবাসের লোকজনের সংশ্লিষ্টতা একেবারেই নেই? আর তিনি কোন সূত্রে বলে বসলেন যে প্রতিবছর ২৫ হাজার বাংলাদেশী ভারতে গিয়ে আর ফিরে আসেনা?

দুদেশের মধ্যে এই পারস্পরিক অবিশ্বাস কমিয়ে ফেলাই দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য ফলপ্রসু হবে। পৃথিবীর অন্যতম দরিদ্র মানুষ বাস করে এই অঞ্চলে। এই আঞ্চলিক দারিদ্র্য দূর করতে চাই অধিক আঞ্চলিক সহযোগিতা। একটা কথা মনে রাখা দরকার ভারত ও বাংলাদেশের মানুষ পরস্পরকে অবিশ্বাস করেনা। যত অবিশ্বাস রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে, রাজনৈতিক কারণে। এই অবিশ্বাস দূর করতে ভারতের দায়িত্বই বেশি। কারণ সে কেবল এই অঞ্চলের বড়ো ভাই নয়, তার দেশেই অন্য দেশ থেকে যাবার হার বেশি। এই যাওয়া প্রয়োজনের যাওয়া। আর মানুষ আদিম কাল থেকে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে গমন করছে জীবন-জীবিকা বা অন্য কোনো জরুরি প্রয়োজনেই। অধুনা রাষ্ট্র সৃষ্টি হবার পরেই ভিসাপ্রথার উদ্ভব হয়েছে। আঞ্চলিক সহযোগিতার কথা উঠলে এই প্রেক্ষপটটিকে ভুলে যাওয়া হয়।

...

দৈনিক সমকালে প্রথম প্রকাশ: Click This Link

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১১:২৬
২৪টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×