আমার প্রিয় পোস্ট
- ফিরে দেখা ২০১০ : বছরজুড়ে সামহোয়্যারইন ব্লগে যা কিছু আলোচিত-সমালোচিত... - ফিউশন ফাইভ
- টিপাইমুখ বাধ প্রসংগে: চাই সংগ্রামের আন্ত:সংযোগ - দিনমজুর
- যেকোন Webpage থেকে বিজ্ঞাপন অপসারন করুন, বিজ্ঞাপনহীন ওয়েবের জগতে আপনাকে স্বাগতম! (রিপোস্ট)
- নাফিস ইফতেখার
- সামহোয়ারইনের যত্তসব অপশনের ব্যাবচ্ছেদ - কাঙাল মামা
- খিস্তি ঠাটে ত্রিতাল ভৈরবের জঙ্গনামা: সামহোয়ার নিয়ে আরো কিছু ভণিতা - রিফাত হাসান
- ফেসবুকে বাংলা অক্ষর ছোট দেখার সমস্যা দূর করে নিন সহজেই.... - সুনীল সমুদ্র
- সাংবাদিক জীবন: তিনি যেভাবে নির্বাচনী চান্দা দিচ্ছিলেন...... - শওকত হোসেন মাসুম
- ফাহমিদুলের আত্মপরিচয় অনুসন্ধান: পুনর্পাঠ - ভূপর্যটক
- হাইব্রীড বীজ নিয়ে আশঙ্কা সত্যি হলো এবার 'সত্যিরা' ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ! - মনজুরুল হক
- দুইরকম তারুণ্য - সুমন রহমান
- ভাস্কর্য বিবাদ: লালন উৎখাতের মচ্ছব বসিয়ে হাওয়ার ওপর তাওয়া গরম করে কার জন্য পিঠা ভাজা হচ্ছে? - ফারুক ওয়াসিফ
- গ্লোবাল ভয়েসের সপ্তাহের ব্লগার হিসাবে নির্বাচিত রেজওয়ান ভাইয়ের অনন্য সাক্ষাৎকার - কৌশিক
- অর্ন্তজালের বাংলা ওয়েব সাইটগুলোর একটা তালিকা তৈরী করলাম। - একজন ব্লগার
- বাংলা ব্লগের বিবর্তন ও সম্ভাবনা - রেজওয়ান
- বাংলা ব্লগ ও ব্লগ পলিটিক্স - রেজওয়ান
- পোস্ট ব্রাত্য রাইসুর, মরীয়া বিতর্ক মানস চৌধুরীর এবং আমাদের ব্লগারকূল - ফাহমিদুল হক
- সংবাদপত্রগুলোর কার অবস্থান কেমন - কাঙাল
- ফাহমিদুল হকের বহুলপঠিত একটি পোস্ট এবং ব্লগের লিখিয়েরা: একটি পর্যবেক্ষণ - রিফাত হাসান
- আগুণের পরশমনিতে ফাহমিদুল হক ও তার সাহিত্যের সুবাস - কৌশিক
- ফিরে দেখা ইতিহাস : ভাষা আন্দোলনের দিনপন্জী (১৯৪৭-৫৬)। উৎসর্গ - সকল ভাষাশহীদকে - মিরাজ
- আমেরিকা!!! - লাল দরজা
- শহরে ষোল জনা বোম্বেটে / করিয়ে পাগলপারা / নিলো তারা সব লুটে - মাহবুব মোর্শেদ
- যারা কথা বলার সময় বাংলার সাথে ইংরেজী মিশায় - তাদের কেন যেন বাটপার ধরনের মানুষ মনে হয়! - এস্কিমো
আজ সকালে এক বিজ্ঞাপনপত্র পড়লাম
০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:১৭
২০০২ সালের ডিসেম্বরের কোনো এক দিন ছিল সেটা। আমরা কয়েকজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা সেমিনার আয়োজন করেছিলাম, শিরোনাম ‘বাংলাদেশের সাংবাদিকতার বাজারমুখিনতা ও ভিন্ন ভাবনার প্রস্তাবনা’। নীতিহীনভাবে হেথায়-হোথায় (নেমপ্লেট সরিয়ে, বিজ্ঞাপনের মাপে খবরকে ঝুলিয়ে-ঘুরিয়ে ইত্যাদি) বিজ্ঞাপন ছাপানো, খবরের ছদ্মবেশে বিজ্ঞাপনদাতার প্রমোশনাল বার্তা সর্বোপরি বাংলাদেশের কর্পোরেট মিডিয়ার কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা ছিল সেই প্রবন্ধে। সেই সেমিনারে প্রথম আলোর একজন সহকারী সম্পাদক হাজির ছিলেন আলোচক হিসেবে। তিনি ব্যাখ্যা দিচ্ছিলেন কী কী কারণে (পত্রিকার উৎপাদনমূল্যের তুলনায় ক্রয়মূল্য অনেক কম ইত্যাদি) তারা বিজ্ঞাপনের বা সর্বোপরি মুক্তবাজারীয় কর্পোরেট সংস্কৃতিকে মেনে নিচ্ছেন ইত্যাদি। তখন বিভাগীয় এক সহকর্মী-অধ্যাপক প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, আমার টাকা আছে, আমি আপনার পত্রিকার প্রথম পাতাজুড়ে আমার ছেলের বিয়ের সংবাদ-চিত্র ইত্যাদি ছাপতে চাই। আপনি ছাপবেন কিনা? সেই প্রশ্নের উত্তর ঠিকঠাকমতো দিতে পারেননি সেই সহকারী সম্পাদক। প্রশ্নটা যে জিনিসটাকে সামনে এনেছিল, তা হলো পত্রিকার জন্য বিজ্ঞাপন প্রয়োজনীয়, কিন্তু সেই বিজ্ঞাপন যেনযেতনভাবে ছাপা যায়না। সাংবাদিকতায় এরও একটা ন্যূনতম এথিকাল দিক আছে।
আজ প্রথম আলো দেখে আমার ৭ বছর আগের অধ্যাপকের উত্থাপিত প্রশ্নটি মনে পড়ে গেল। কারণ আজকের প্রথম আলোর সামনের-পেছনের অর্থাৎ প্রথম চার পাতার পুরোটা জুড়ে বিজ্ঞাপন ছিল। ওপরে নেমপ্লেট আছে, বামে-ওপরে লেখা আছে, রোববার, “মলাট-বিজ্ঞাপন খুললেই মূল পত্রিকা”, নগর সংসকরণ এবং প্রিন্টার্স লাইনের অন্যান্য তথ্য। অর্থাৎ ভেতরে মূল সংবাদপত্র আছে, কিন্তু মলাটময় বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপনটি দিয়েছে সিটি ব্যাংক, বিষয়বস্ত: দি সিটি ব্যাংক নিয়ে সগৌরবে বাংলাদেশে নিয়ে এলো আমেরিকান এক্সপ্রেস (ক্রেডিট কার্ড)। পরে জানলাম এবং দেখলাম সহোদর পত্রিকা দি ডেইলি স্টারেও একই ঘটনা ঘটেছে। প্রথম আলোর তিনের পাতায় (সারা দেশ) সবচেয়ে বড় খবর এটাই। ভাবুন, সারা দেশের সবচেয়ে বড়ো খবর হলো সিটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড!
দৈনিকের ‘মলাট’ ধারণাটি এদেশের সংবাদপত্রের ক্ষেত্রে নতুন। কিছুকাল আগে প্রথম আলো মলাটে করেছিল সেতু সংখ্যা (সেতু নির্মাণের নামে অনিয়ম-দুর্নীতি) আর দি ডেইলি স্টার করেছিল ‘মৃত/মৃতপ্রায় নদী’ (মানুষ যেভাবে নদী মারছে) সংখ্যা। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনমালার এই দুটি উদ্যোগ প্রশংসনীয় ছিল। কিন্তু আজ সেই নবআবিষ্কৃত মলাট যখন বিজ্ঞাপনগায়ে হাজির হলো তখন সন্দেহ হলো, ওই দুই উদ্যোগের মাধ্যমে আজকের ঘটনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। ‘মলাট’ ধারণাটিকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে, এখন মাঝে মাঝেই এই মলাটকে বিজ্ঞাপনজুড়ে পেশ করা হবে।
প্রথম আলোর একজন ঊর্ধ্বতন সাংবাদিকের কাছে এটা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার পর তিনি জানালেন স্বনামধন্য ইন্টারন্যাশনাল হেরাল্ড ট্রিবিউনও এটা করে। আরও অনেকেই করে। উল্টো আমাকে তিনি জানালেন সারাদেশের সাংবাদিকদের নিয়মিত বেতন এমনি এমনি দেয়া যায়না, এজন্য এসব করতে হয়।
আমার প্রশ্ন হলো যে পত্রিকা খবরের চাইতে আদর্শ বেশি করে বিক্রি করতে চায় (‘বদলে দাও, বদলে যাও’সহ অন্যান্য কর্মসূচি স্মর্তব্য), সেই পত্রিকা কেন সাংবাদিকতার ন্যূনতম আদর্শ লঙ্ঘন করবে? অর্থনৈতিক মন্দার কারণে ও অনলাইন সাংবাদিকতার প্রসারের কারণে পশ্চিমে প্রতিষ্ঠিত সংবাদপত্র বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু বাংলাদেশে অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব তেমন পড়েনি এবং নতুন নতুন পত্রিকা-চ্যানেল বের হচ্ছে। অর্থাৎ পশ্চিমে সংবাদপত্র ক্ষয়িষ্ণু আর এদেশে বর্ধিষ্ণু। তাই হেরাল্ড ট্রিবিউনের উদাহরণ এক্ষেত্রে পুরোপুরি খাটেনা। আর পশ্চিমা মিডিয়া বলেই কর্পোরেট মিডিয়ার যেকোনো কার্যক্রম ছাড় পেয়ে যায়না, বা জায়েজ হয়ে যায়না। অন্তঃত আমরা অত দুর্বলমনা পর্যবেক্ষক নই। আর প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার বাংলা-ইংরেজি মিলিয়ে প্রতিষ্ঠিত ও শীর্ষস্থানীয় দুটি পত্রিকা। তাদের এই ‘টিকে থাকার কৌশল’ অবলম্বনের প্রয়োজন ছিলনা। মুশকিল হলো তাদের মতো প্রতিষ্ঠিত পত্রিকা এটা করার পর বাকিরাও একই কাজ করবে অনেক কম টাকার বিনিময়ে।
সংবাদপত্র আজ সত্যি সত্যি বিজ্ঞাপনপত্রে পরিণত হলো।
জয় সাংবাদিকতা!
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): কর্পোরেট মিডিয়া, বিজ্ঞাপন ;
প্রকাশ করা হয়েছে: অ্যাক্টিভিজম, মিডিয়া অধ্যয়ন বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:২৫ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন:
অভিনন্দন মলাটওয়ালা বিজ্ঞাপন মুলক পত্রিকাকে!
লেখক বলেছেন: অভিনন্দন। এভাবে বদলে যাও।
সাধারণমানুষ বলেছেন:
the daily star ও আজকে একই কাম করছে
লেখক বলেছেন: সেকথাই তো বলছি।
লেখক বলেছেন: ![]()
পর্যবেক্ষক বলেছেন:
পাঠক গণমাধ্যমের প্রতি আস্থা রাখতে চায়। সেই আস্থা নানারকম স্ট্রাটেজিতে নিজের দখলে নিয়ে তা দিয়ে এমনভাবে ব্যবসা করা উচিত নয় যেন নৈতিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।একজন অনিন্দ সুন্দরীকে প্রস্তাব যদি প্রস্তাব দেওয়া হয়, এক রাতের জন্য লাখ টাকা পাবে। নীতি-নৈতিকতা বিবেচনায় তা উত্তর যেমন হওয়া উচিত, সফল প্রথম আলোর আচরণ তেমন হওয়া উচিত। পাঠকের আস্থাকে পূঁজি করে সে যা খুশী তা করতে পারেনা। করলে মূল্যও দিতে হবে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
অতন্দ্র তওসিফ বলেছেন:
বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হোক, তাতে সমস্যা নেই। বিশেষত বিজ্ঞাপনেরও একটি ভাল দিক আছে, ভোক্তা নতুন পণ্য ও সেবা সম্পর্কে জানতে পারে। কিন্তু কথা হচ্ছে, সবকিছুর মধ্যেই একটি পরিমিতিবোধ থাকাটা জরূরী। কিন্তু 'প্রথম আলো' সব সীমা লঙ্ঘন করে যাচ্ছে ইদানীং।বিশেষত ব্যাপারটি পাঠকের সাথে প্রতারণার সামিল, যেহেতু প্রথম পৃষ্ঠার ওপর লেখা থাকে যে পত্রিকার পৃষ্ঠা সংখ্যা কত। আমি এ বিষয়ে একটি পোস্ট দিতে চেয়েছিলাম।
সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।
হাসান শরিফ বলেছেন:
স্যার। বিষয়টি নিয়ে আমরাও চরম আপত্তি করছি আজ অফিসে। কিন্তু প্রথম আলোর শীর্ষ পদে যারা আছেন তারা উল্টো বোঝাতে লাগলেন, অনেক বিদেশি পত্রিকা এটা করে। চরম মেজাজ খারাপ হলো। আজকে কাজ করতেই ভালো লাগেনি। মতি ভাই যে কাজটা আজ করলেন সেটি এ দেশের সাংবাদিকতার অনেকখানি সর্বনাশ করলো।
লেখক বলেছেন: সংবাদকর্মীদের এই যে 'মেজাজ খারাপ' অবস্থা, এটা খুব মূল্যবান। আপত্তিটাও গুরুত্বপূর্ণ। পরেরবার ভাবা হবে।
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
আমি যেখানটায় থাকি সেখানে শুধু শুক্র এবং শনিবার পত্রিকা রাখা হয় এবং সেটা ডেইলী স্টার।ইংরেজিতে বুৎপত্তি বাড়ানোর চেষ্টা আর কি!আজকে পত্রিকা হাতে নিয়ে মুলপাতা কোনটি ঠিক বুঝতে পারছিলাম না।পরে কোনায় লেখা দেখলাম' রেগুলার নিউজপেপার ইজ ইনসাইড"।
জয়তু প্রথম আলো-ডেইলি স্টার।আপনারা শুরু করেছেন, অন্যরা আপনাদের ঠিকই অনুসরন করবে, সংবাদপত্রের এই দেহবিক্রির ব্যবসায়!
লেখক বলেছেন: সংবাদপত্রের দেহব্যবসা ... ![]()
রিফাত হাসান বলেছেন:
জয়
সরসী রায় বলেছেন:
সংবাদপত্রতো চিরদিনই বিজ্ঞাপনপত্র ছিল !
লেখক বলেছেন: কথাটা সত্যিই। উপমহাদেশের প্রথম পত্রিকার নাম ছিল 'ক্যালকাটা জেনারেল এ্যাডভার্টাইজার'।
এহসান জুয়েল বলেছেন:
আমরা যখন সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে পড়তে নেপাল ছিলাম তখন এমন একটি বিজ্ঞাপন চোখে পড়েছিল। দেশটির অন্যতম প্রধান ইংরেজি দৈনিক "হিমালয়ান টাইমস" এমন একটি বিজ্ঞাপন ছেপেছিল পুরো প্রথম পাতায়। কিন্তু সেটা ছিল পত্রিকার সম্পূর্ন নিজস্ব বিজ্ঞাপন। আমার কাছে বিষয়টি নতুন ছিল বলে আমি পত্রিকাটি কিনে সংগ্রহে রেখেছি। এখন আমাদের দেশেও শুরু হলো। বিষয়টিতে আমি তেমন দোষের কিছু দেখছিনা, যদি সংবাদের জন্য বরাদ্দকৃত অংশ ঠিক থাকে। মলাট বিজ্ঞাপনের কথা যখন আসলো, তখন প্রাসঙ্গিকভাবে মলাটসংবাদ/প্রথম পাতার সংবাদ বা মূল সংবাদের কথাও আসবে। পাঠক পত্রিকা কিনে টাকা দিয়ে। এ দেশের একজন মানুষ ৮ টাকা দিয়ে প্রথম আলো কিনে সংবাদ পড়ার জন্য। কিন্তু কিছু দিন আগে বসুন্ধরা গ্রুপের সাথে বিবাদে জড়িয়ে যেভাবে পরপর কয়েকদিন প্রথম আলো প্রথম পাতায় নিজেদের সংবাদ ছাপিয়েছে, তা কোন যুক্তিতে মেনে নেয়া যায় না।
বিজ্ঞাপন কিংবা নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থে যখন পাঠককে সংবাদ থেকে বঞ্চিত করা হয়, তখন তাদের মুখে আর যাই হোক সাংবাদিকতার আদর্শের কথা শুনতে ইচ্ছে করে না। চোরের মায়ের গলাটা একটু ছোট থাকাই সকলে কাম্য করে।
প্রথম আলোর একটা নিজস্ব ধাছের সাংবাদিকতা আছে, যেটা কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধের সীমা লংঘন করে। কিন্তু জন্মের পর থেকেই পাঠকের ভালোবাসার শীর্ষে থাকা এ পত্রিকাটির এমন উদ্ভুত কিছু করা উচিত নয়, যাতে অন্যরাও এটাকে ফলো করা শুরু করে।
লেখক বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
ফিউশন ফাইভ বলেছেন:
ব্যাপারটি ভালো লাগেনি মোটেও। এবং এই প্রথম আমার মনে হল যে, প্রথম আলো এই প্রথমবারের মতো একটি খারাপ কাজ করল। সবচেয়ে দুঃখজনক হল, এটা এখন অন্য পত্রিকাও অনুকরণ করবে।তবে এর চেয়ে ন্যাক্কারজনক কাণ্ডটি করেছিল আমাদের সময়। তারা মলাট নয়, প্রথম পাতাতেই পূর্ণ পৃষ্ঠা বিজ্ঞাপন ছেপেছিল। তাছাড়া ঈদ সংখ্যাগুলোর বেশিরভাগই প্রায় এভাবেই (বিজ্ঞাপনে আচ্ছাদিত হয়ে) বের হয়ে আসছে বহু বছর ধরে।
লেখক বলেছেন: "প্রথম আলো এই প্রথমবারের মতো একটি খারাপ কাজ করল।"
স্বীকার করার জন্য ধন্যবাদ যে প্রথম বারের মতো হলেও আপনি এটাকে ভালো কাজের স্বীকৃতি দিচ্ছেন না। বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে এই দিনটিকে আমি এখনই একটি কলঙ্কজনক দিন বলে নোট রাখতে চাই। ভবিষ্যতই বলে দিবে, তা ঠিক হলো কিনা।
আমাদের সময় যদি প্রথম পাতায় পুরো বিজ্ঞাপন ছেপে থাকে (এই খবরটা আমি জানতাম না, আমাদের সময় পড়া হয়না), তবে তাও ন্যাক্কারজনক। ঈদ সংখ্যাগুলোর প্রথম পাতার নিচে বিজ্ঞাপন থাকে, প্রচ্ছদে কি থাকে, নেমপ্লেটসমেত?
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
আপনারা যারা সাংবাদিকতা পড়ান, আপনারা যারা প্রথম আলোতে লেখেন, এবং আপনারা যারা প্রথম আলোতে সাংবাদিকতা করেন (ফিউশন ফাইভ এর মতো) তারা যে প্রথম আলোর এই অর্থ লোলুপতার বিরুদ্ধে বলছেন, অন্তত ভালো না লাগা জানাচ্ছেন (যদিও ফিউশন আমাদের সময় এর উদাহরণ টেনে প্রথম আলোর বিষয়টাকে হালকা করার প্রয়াস নিচ্ছেন), কলম ধরছেন বা কি বোর্ড চালাচ্ছেন, তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই । আশান্বিত হবার মতো খবর এই প্রতিবাদটুকুই ।
বিজ্ঞাপন না, সংবাদ পড়তেই মানুষ পত্রিকা কিনে ।
বদলে যাও, বদলে দাও শ্লোগানধারী এই অদর্শ বিকানো পত্রিকাটি বিজ্ঞাপন বেচার মধ্য দিয়েই কি নিজেদের বদলানো স্বরূপ উন্মোচন করছেন ?
লেখক বলেছেন: আপনার 'না বলুন' কর্মসূচি কদ্দূর?
ফিউশন ফাইভ বলেছেন:
বড়ো করে দেখুন এখানে
এছাড়া নাঈমুল ইসলাম খানের কাণ্ডকারখানা নিয়ে একটি পোস্ট আছে। দেখবেন আশা করি।
লেখক বলেছেন: হমম। কিন্তু এই ফাঁকা জায়গায় কী ছিল, বোঝা গেলনা। মানে কীসের বিজ্ঞাপন ছিল?
লেখক বলেছেন: পোস্টটা আগেই দেখেছি।
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন:
''কিছুকাল আগে প্রথম আলো মলাটে করেছিল সেতু সংখ্যা (সেতু নির্মাণের নামে অনিয়ম-দুর্নীতি) আর দি ডেইলি স্টার করেছিল ‘মৃত/মৃতপ্রায় নদী’ (মানুষ যেভাবে নদী মারছে) সংখ্যা। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনমালার এই দুটি উদ্যোগ প্রশংসনীয় ছিল। কিন্তু আজ সেই নবআবিষ্কৃত মলাট যখন বিজ্ঞাপনগায়ে হাজির হলো তখন সন্দেহ হলো, ওই দুই উদ্যোগের মাধ্যমে আজকের ঘটনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। ‘মলাট’ ধারণাটিকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে, এখন মাঝে মাঝেই এই মলাটকে বিজ্ঞাপনজুড়ে পেশ করা হবে।''ফাহমিদ ভাই, বিষয়টি অনেকের ভাল লাগে নি। এর পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো যুক্তিও দেবো না। কারণ পাঠক হিসেবে সমালোচনা করছেন, সেটা প্রথম আলোকে গুরুত্ব দিতেই হবে। তবে উপরে যে কথাগুলো তুলে দিয়েছি আপত্তি সেখানে। শাহেদের নেতৃত্বে একদল সাংবাদিক অনেক খেটে সেতু সংখ্যাটি করেছিল। প্রথমে আলাদা ৪ পাতা করার পরিকল্পনা ছিল না। পরে যখন এতো এতো ভাল লেখা পাওয়া গেল তখন সিদ্ধান্ত হলো আলাদা ৪ পাতা করা হোক।
এতো মানুষের একটা প্রচেষ্টাকে এক বাক্যে নাকচ করে দিলেন বিজ্ঞাপন পাতাটার জন্য। এতোটা সরলীকরণ আশা করিনি।
অনেক সময় ভাল একটা রিপোর্ট লিখি, যখন কেউ বলে এটা কোনো এক ষড়যন্ত্রের অংশ তখন আগ্রহ হারিয়ে ফেলি।
লেখক বলেছেন: শাহেদের সেই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই, বিশেষত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের আকালে এটা ব্যতিক্রম। কিন্তু দেখেন, 'মলাটে বিজ্ঞাপন' ধারণাটি কিন্তু এর আগে প্রয়োগ করা হয়নি। একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আকস্মিকভাবেই হয়তো মলাট ধারণার জন্ম হয়েছে। একটি নতুন স্পেস তৈরী হয়েছে। কিন্তু সেই স্পেস সংবাদের জন্য বরাদ্দ থাকাই উচিত ছিল। পত্রিকা কর্তৃপক্ষ বা বিজ্ঞাপনবিভাগ ধারণাটির অপপ্রয়োগ করলো। এবং মহতী উদ্যোগকে ঘিরে 'সন্দেহ' করার সুযোগ তৈরি করে দিল।
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন:
পাঠক এবং গবেষক হিসেবে সমালোচনা করতেই পারেন। সেটা নিয়ে আমি কোনো প্রশ্ন করছি না। বাংলাদেশে বিষয়টি নতুন হলেও ধারণাটি নতুন না। এখন সেটি বাংলাদেশে দেখতে চাই কি চাই না সেটি নিয়ে তর্ক হতে পারে। আর ৪ পাতা মলাট দেখে মলাট বিজ্ঞাপনের ধারনাটি এসেছে মনে করাটা মনে হয় ঠিক হলো না। কেননা বেশি দূর যেতে হয় না টাইমস অব ইন্ডিয়াও এটা হরদম করে। আইএইচটি তো করেই। বাংলাদেশে এটা হয়নি কারণ এটি ব্যয়বহুল, সবার পক্ষে সম্ভব হয়তো হবে না। তবে আগেই বলেছি এ নিয়ে সমালোচনা করার অধিকার আপনার আছে। সুতরাং কাজটি ভাল হয়েছে বা খারাপ হয়েছে সেটি আমি বলতে পারবো না। সেটি নিয়ে কথা বলতেই পারেন। তবে সরলীকরণটা মেনে নিতে পারলাম না। আমার আপত্তি ওখানেই। ভাল কাজকে স্বীকৃতি না দিয়ে সন্দেহ করাটা অনেক বেশি সরলীকরণ। এইটা আশা করি নাই।
জিপিএস বলেছেন:
''আমার প্রশ্ন হলো যে পত্রিকা খবরের চাইতে আদর্শ বেশি করে বিক্রি করতে চায় ''-- আপনারে সাংবাদিকতার মাস্টা হিসাবে জিগাই কোন পত্রিকা আদতে খবর বিক্রি করে। তথাকথিত 'নিউজ' বইলা আদতে কিছু আছে কিনা? ফ্যাক্টস এন্ড ভিউজ এর পার্থক্য তাইলে আপনারও গুলায়া যায়?
আর, পি আলো কবে কোন সময় তাদের এজেন্ডার রাজনীতি/ আদর্শ প্রচার করে নাই? তথাপি নতুন যে 'প্রচার' কিম্বা প্রপাগান্ডা আপনি দেখতেছেন সেটাও যে অন্যকেউ বিজ্ঞাপন আকারে প্রচারের দায়িত্ব দেয় নাই তা কি করে নিশ্চিত হইলেন? প্রথম আলোর কোনটা বিজ্ঞাপন আর কোনটা 'খবর' সেইটা বুঝা কি আপনার মতো কর্পোরেট কারবার নিয়া ভাবিত মাস্টারের এত অসুবিধা হবার কথা?
আপনি যে অনুসন্ধানী 'খবর'র কথা উল্লেখ করছেন সেইগুলা কি কেবলই খবর ছিল। এই যে কয়দিন আগে বসুন্ধরাকে নিয়া একটা ব্যাপক অনুসন্ধান বাইর করল তারা, সেইটার উল্লেখ যদিও করেন নাই, ওইটা অন্য অনুসন্ধান থেকে কোন জায়গায় আলাদা?
লেখক বলেছেন: "তথাকথিত 'নিউজ' বইলা আদতে কিছু আছে কিনা? ফ্যাক্টস এন্ড ভিউজ এর পার্থক্য তাইলে আপনারও গুলায়া যায়?"
আপনি প্রশ্নটা ভিন্ন জায়গা থেকে করছেন। আমার পাটাতন আলাদা। আমি ইঙ্গিত করছিলাম 'বদলে দাও বদলে যাও' কর্মসূচিকে, যে কর্মসূচি প্রবীণ বুদ্ধিজীবীকে কাজের ছেলেকে পড়াতে বাধ্য করে। এটা একটা মিশনারি কর্মসূচি, সংবাদপত্রের কাজ সংবাদ সরবরাহ করা, পয়গম্বরী করা না। বদলে দেবার দায়িত্ব কে সরবরাহ করলো? সংবাদের চাইতে বেশি আদর্শ ফেরি করার প্রবণতা, এইটা যার আছে, তার কি বিজ্ঞাপনসর্বস্ব হয়ে পড়া মানায় কিনা? এটা কি বৈপরীত্য কিনা?
সর্বদাবেলায়েত বলেছেন:
স্যার, ভারতীয় উপমহাদেশে সাংবাদিকতার ইতিহাস কিন্তু আকবরী আমলের 'খুফিয়া নবীশ' পর্যন্তই। এখানে যখন একদল সরকারী গোমস্তা বড় চৌরাস্তার মোড়ে ঢেড়া পিটিয়ে দিনের খবর হাজির করতো, সেই সময়টাতেই কিন্তু পশ্চিমে সাংবাদিকতা এগিয়ে গেছে অনেকদূর। আমি যে কারণে এ কথাগুলো বললাম তা হচ্ছে উপমহাদেশেও সাংবাদিকতা সাবজেক্টটি এসেছে পশ্চিমাদের হাত ধরে। তারা এখানে সাবজেক্টটিকে পেশাদার রূপ দিয়েছে এবং পেশাদার সাংবাদিকতার পৃষ্ঠপোষকতাও করেছে। এর সুফল ভোগ করছি এখনকার প্রজন্ম, আমরা।
তাই আমি মনে করি যেহেতু এটি পশ্চিমাবিশ্বে চালু আছে তাই এখানেও চালু হওয়াটা মূলতঃ সময়ের দাবি। যদি 'স্বনামধন্য ইন্টারন্যাশনাল হেরাল্ড ট্রিবিউনও এটা করে।' তাহলে এখানে করলে দোষ কোথায়? কেননা আগে হোক পরে হোক আমাদের সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার উন্নতির খাতিরে আমাদেরকে এটা মেনে নিতেই হবে।
আমি কিন্তু পশ্চিমাদের অন্ধ-সমর্থন করছি না, বরং বাস্তবতাটা মেনে নিতে চাচ্ছি। আমি এও জানি যে, সুযোগ পেলে আমাদের বিভাগের অধিকাংশ শিক্ষার্থী বিনাবাক্যব্যয়ে পশ্চিমা সংবাদপত্রগুলোতে কাজ করতে চাইবে। সেক্ষেত্রে পশ্চিমাদের ভালো-মন্দ সম্পর্কে সজ্ঞান থাকা, সেগুলোর চর্চা করা এবং সেখান থেকে স্বতন্ত্র কিছু বের করে আনা সবকিছুরই দরকার আছে। এতে বিভিন্নভাবে এদেশের সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা শিক্ষা, চর্চা ও ব্যবসায় সাহায্য হবে বলেই আমি মনে করি।
আরেকটি বিষয়, সিটি ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। তারা নিজেদের টাকা এ দেশের খাটিয়েছে, এখান থেকে মুনাফা করছে, তার বিনিময়ে সেবা দিচ্ছে (আমার মতে এ সেবাও বহুমুখী, একদিকে ব্যাংকিং সেবা, অপরদিকে এদেশের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা)। তাদের গাঁটের পয়সায় প্রথম পৃষ্ঠার ওপরে একটা মলাট ছেপেছে। এতে চারটি পৃষ্ঠা কমেছে ঠিকই কিন্তু যেদিন তৃতীয় পৃষ্ঠা পুরোটা বাংলালিংক/জিপি যখন কিনে নেয় সেদিনও তো ওই পৃষ্ঠা বাদই থাকে, তাই না? আপনি খেয়াল করেছেন কি না, রোববার কিন্তু প্রথম আলোতে শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন ছাপানো হয়েছে মাত্র অর্ধেক পৃষ্ঠা (৬ পৃষ্ঠার প্রথম চার কলাম), যেটা সাধারণতঃ এক পৃষ্ঠার বেশি অংশ জুড়ে থাকে। এবং ওইদিনের কোন গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ (অন্ততঃ অন্যান্য দৈনিকের তুলনায়) কিন্তু প্রথম আলো মিস করেনি। এমনকি আগের দিনে (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের বিজ্ঞাপনও দুই পৃষ্ঠা জুড়ে ছাপানো হয়েছে, শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে এক পৃষ্ঠা। তার আগের দিনে প্রায় দুই পৃষ্ঠা। এগুলোও কি খেয়াল করার বিষয় নয়? আমার হাতের কাছে স্কেল নেই, কিন্তু প্রথম আলোর ফাইল দেখে মনে হচ্ছে যে 'কন্টেন্ট এ্যানালাইসিস' করলে ৮ নভেম্বরের পত্রিকায় সংবাদের অংশ অন্যান্য দিনের চেয়ে নেহায়েত কম হবে না।
তাই আমি ৮ তারিখের বিজ্ঞাপনটিতে অসমর্থনের কিছু এখনও পাচ্ছি না। আরেকটা ছোট্ট বিষয় হচ্ছে, রাম-শাম-যদু-মধুতে সমস্যা নেই কিন্তু আপনি যখন এ রকম একটা পোস্ট দেন তখন কিন্তু প্রথম আলো বিরোধীরা এখান থেকে একটা ইন্ধন পায়। সেটা নিশ্চই আমাদের কারো কাম্য নয়।
ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: প্রথম আলো বিরোধী আবার কারা? এদের কি চিহ্নিত করার মতো আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে? আপনি কাদের নির্দেশ করছেন? ধর্মব্যবসায়ী/জঙ্গীরা না বসুন্ধরা? বলা দরকার, আপনার হিসেবে আমি সবচাইতে পুরনো সমালোচকদের একজন। আমি এই পোস্টে যে সেমিনার-পেপারের কথা বলেছি, তা ২০০২ সালের। লিখিত ফর্মে আমার প্রবন্ধটিই ছিল ঢাকা শহরে প্রথম প্রকাশ্য বিশ্লেষণ। সেখানে মশিউল আলম এসেছিলেন, ফিরে গিয়ে প্রবন্ধ লিখেছিলেন, আমি প্রতিক্রিয়া লিখেছিলাম, কাবেরী গায়েন লিখেছিলেন। এইসব প্রেক্ষাপট মতি ভাই জানেন, সাজ্জাদ ভাই জানেন। আজ সবাই কর্পোরেট মিডিয়ার চরিত্র বুঝে, বলে, প্রথম আলো বিরোধী গোষ্ঠী্ও (আপনার ভাষায়) দাঁড়িয়ে গেছে। কিন্তু আজ থেকে সাত/আট বছর আগেই আমাদের 'যোগাযোগ' পত্রিকার মাধ্যমে প্রথম-আলো/ডেইলি স্টারের কর্পোরেট চরিত্র তুলে ধরেছিলাম। সে হিসেবে আমি পুরান রাম-শাম বা যদু-মধু।
আমি বলতে চাই মলাট, যাতে পত্রিকার নেমপ্লেট আছে, এবং তাতে কেবলই এ্যাড ছাপা হয়েছে, এটা পাঠক-সমালোচক হিসেবে আমি মানতে নারাজ। এটা আনএথিকাল। আইএইচটি করলেও আনএথিকাল। এবং আইএইচটির দেশেও এটা নিয়ে প্রতিবাদ আছে, সমালোচনা আছে। সেসব ভুলে যাচ্ছেন।
যেদিন গ্রামীণফোনের হ্যান্ডসেট বাজারে আসে, সেদিন প্রথম আলো প্রথম পৃষ্ঠায় এক খবর ছাপে, তার নিচে বক্স করে লিখে দেয়: এসংক্রান্ত বিজ্ঞাপন আছে ২১ ও ২২ পৃষ্ঠায়। বিজ্ঞাপনের বিজ্ঞাপন পত্রিকা নিজে কেন দেবে? দুই পাতাজুড়ে প্রকাশিত বিজ্ঞাপন এমনিতেই চোখ এড়ানো মুশকিল। কিন্তু পত্রিকার এই তাঁবেদারী কেন? কর্পোরেট চরিত্র এতটা নগ্ন হবে কেন?
লেখক বলেছেন: প্রথম আলো ডেইলি স্টার কিছু কিছু এথিকাল জায়গায় অন্যদের চাইতে অনেক ভালো। যেমন মেহনাজ-বারীর সেনসেশনাল রিপোর্ট প্রথম আলো বা ডেইলি স্টার করবে না, অথচ ইত্তেফাকের মতো পত্রিকা অবলীলায় সেসব করেছে।
কিন্তু এর কর্পোরেট চরিত্র ভয়ানক সমস্যাজনক। বিরাজনীতিকরণের মাধ্যমে ব্যবসা-অনুকূল নিরাপদ বাংলাদেশ, যার শাসনভার থাকবে সিভিল-কর্পোরেট-(প্রয়োজনে) মিলিটারি চক্রের হাতে -- তেমন একটি বাংলাদেশ তৈরী এর এজেন্ডা।
হট্টগোল বলেছেন:
আজাইরা পোস্ট। সজ্ঞানে মাইনাস এখন মলাটস্বরূপ বিজ্ঞাপন ছাপিয়েছে বলেই যতো দোষ। এর আগে কতো কতো বার ভেতরের পূর্ণপৃষ্ঠায় বিজ্ঞাপন ছাপিয়েছে তার বেলায় এসব পোস্ট পয়দা হয় না কেন?
প্রথম আলোর গীত গাইতে এখানে কমেন্ট করছি না। ব্যবসায়িক মুনাফা বৃদ্ধির জন্য এরকম কৌশল প্রথম আলো নয়, যে কোনো পত্রিকাই গ্রহণ করতে পারে। বিদেশে হরহামেশাই এরকম হচ্ছে চাক্ষুস দেখছি, এতে কারো গাত্রোত্থান হয় না। আপনার নিউজ (তথাকথিত কিংবা অন্যকিছু যাই হোক) পাতা ঠিক থাকলেই হইল। ওইসব নিয়া সমালোচনা কইরেন।
লেখক বলেছেন: বিজ্ঞাপনদাতা মিডিয়াকে চেপে ধরলে নিউজ ঠিক থাকে ক্যামনে? যে আপনাকে প্রচুর টাকার বিজ্ঞাপন দেয়, নিয়মিত, তার আকাম নিয়ে আপনি লিখবেন কেমনে? নিউজ ঠিক নাই বলেই তো এই আলাপ। প্রথম আলো বেক্সিমকো আর বসুন্ধরাকে ধরে। এর বাইরে আর কর্পোরেট কেলেঙ্কারি কেউ করে না? ঋণখেলাপি আর নাই?
ভাবেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হলো দুনিয়ার মোড়ল, ওতো মোড়লগিরি করবেই -- এরকম যারা ভাবে, আপনি তাদের দলে। আপনার কাছে এসব তো আজাইড়া লাগবেই।
আর এইটা খুবই ভুল ধারণা যে বিদেশে হরহামেশা হচ্ছে, কিন্তু কেউ কিছু বলেনা। বলে এবং ভালোভাবেই বলে। আপনার কর্ণকূহরে তা পৌঁছায় না।
লেখক বলেছেন: ভেতরে পূর্ণপৃষ্ঠার বিজ্ঞাপন আর মলাটে বিজ্ঞাপন যে কতখানি আলাদা সেই জ্ঞান দেখি খোদাতালা আপনাকে দেয়নি।
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
''আমার প্রশ্ন হলো যে পত্রিকা খবরের চাইতে আদর্শ বেশি করে বিক্রি করতে চায় (‘বদলে দাও, বদলে যাও’সহ অন্যান্য কর্মসূচি স্মর্তব্য),''বুঝি নাই। বুঝায়া কইলে খুশি হইতাম।
লেখক বলেছেন: প্রথম আলো বদলে দাও কর্মসূচি, আসলে আদর্শ বিলির কর্মসূচি। মানে সংবাদপত্রের মূল যে কাজ, সংবাদ পরিবেশন, প্রথম আলো তার চাইতে বেশি কিছু করতে চায়। মাদকমুক্তি, এসিডমুক্তি ইত্যাদি এর সঙ্গে যুক্ত করেন।
তারা বসুন্ধরার কুৎসামূলক বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে প্রবল নিন্দা জানিয়েছেন এবং নীতির প্রশ্ন তুলেছিলেন। এখন এই মলাট-বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে নীতির প্রশ্নই তোলা হয়েছে।
মোহাম্মদ আরজু ঐ কথাটা বুঝেন নাই, কেন বুঝেন নাই, তাতো আবার আমি বুঝলাম না।
লেখক বলেছেন: হমম।
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
হ। বুঝি নাই সত্য। তয় কেন বুঝি নাই সেইটা কই।যারে আপনে প্রথম আলোর 'আদর্শ বিক্রি' কইতাছেন, সেইটা নিয়া আপনের বুঝ আমি বুঝনের কসরত করতে আছিলাম। কিন্তু আমার মনে হইলো- ''আমার প্রশ্ন হলো যে পত্রিকা খবরের চাইতে আদর্শ বেশি করে বিক্রি করতে চায় (‘বদলে দাও, বদলে যাও’সহ অন্যান্য কর্মসূচি স্মর্তব্য),''। এইভাবে যখন আপনে বলেন তখন আসলে এইটা আপনের মূল বিষয় না হওয়ার কারনে ছোট কইরা বলতে গিয়া বলেন। যার ফলে আমাদের, বাজারের নিছক সাধারন ভোক্তাদের ভেতরে নিজস্ব বুঝের বিষয়ে গন্ডগোল তৈয়ার হয়।
আপনের ভাষায় যা 'আদর্শ বিক্রি' কিংবা 'সংবাদপত্রের মূল যে কাজ' এর 'চাইতে বেশি কিছু' যা কিছু প্রথমালো করে; সেইগুলানরে তো আমরা, মানে যারা মিডিয়া-বাজারের ভোক্তা, আমরা তো এইগুলানরে নিজেদের সামনে পাইছি- তাগোর পণ্যের প্রমোশনাল কর্মসূচী হিসাবে। বাজার ধরা, বাজারে গাইড়া বসা, বাজারের পসার ঘটানো ইত্যাদি অনিবার্য প্রয়োজনে সবাই-ই প্রমোশনার কর্মসূচী করে। আইজকাইল অবশ্য এগুলানরে আপনে কোম্পানীর (কেবল মুনাফা করলেই যার নির্বানপ্রাপ্তি ঘটে) সামাজিক দায়বদ্ধতাও বলতে পারেন। (যে দায়বদ্ধতার প্রয়োজন সমাজ থেইকা আসে না। কোম্পানীর নির্বানপ্রাপ্তির যে রাস্তা, মুনাফা এবং আরো মুনাফা এবং যত পারো মুনাফা; সেই প্রয়োজন থেইকাই আসে।)
তো, এইসব বিষয়াশয়কে আপনে যখন এইভাবে বলেন- মানে সংবাদপত্রের মূল যে কাজ, সংবাদ পরিবেশন, প্রথম আলো তার চাইতে বেশি কিছু করতে চায়। তখন কি বার্তা আমাগোর কাছে আসে (আপনে যা-ই পাঠান না কেন, সেইটা বিবেচনায় না রাইখা) ?
আপনের এমন টেক্সট দেইখা আমাদের মনে হয় আপনে বলতেছেন- যে নির্বানপ্রাপ্তি মানে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান হিসাবে আর্থিক সফলতার জন্য প্রথমালো সংবাদ পরিবেশন করলেই যথেষ্ট ছিল। এইগুলান যে তারা করতেছে তা তারা সেই সফলতার কথা চিন্তা না কইরাই 'আদর্শ বিক্রি'র জন্যই, অব্যবসায়িক লক্ষ্যেই করতেছে।
কিন্তু স্যার! একটু আগেই আমি বলছি, নিজস্ব পন্যের বিপনন যারা নিজেরাই করে সেই উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসাবে প্রথমআলো সম্পর্কে এইটা অসত্য কথা।
লেখক বলেছেন: সংবাদের চাইতে আদর্শ বিক্রির বিষয়টা আপনি কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি বা শেষতক ব্যবসায়িক কারণেই করছে -- যাই বলেন না কেন, আমি এটা দেখি আরও পাঠককে ধরার জন্য। এমন পাঠক যাকে ধরার পর আর ছুটবে না। ভাষা প্রতিযোগিতায় যে ছেলেটা/মেয়েটা অংশ নিয়েছে, সে নিঃসন্দেহে তার বাসা থেকে ইত্তেফাক,বো নয়া দিগন্ত, বা ইনকিলাব বা যুগান্তরকে বিদায় করতে বাবা-মাকে বাধ্য করবে।
এই অধিক পাঠক ধরাটাই হলো অধিক ব্যবসা, অধিক প্রতিপত্তি, অধিক বিরাজনীতিকরণ, অধিক সিভিল-সোসাইটি ... অধিক 'বদলে দাও ...।
অথচ 'আদর্শবাদী' পত্রিকাটিই অনাদর্শিকভাবে মলাটে বিজ্ঞাপন ছাপছে।
অতন্দ্র তওসিফ বলেছেন:
আমি এত কিছু বুঝি না। সোজা কথা হল, পেপারের উপর লেখা থাকে কত পৃষ্ঠা। আমি আমজনতা যে পেপারে বেশি পৃষ্ঠা থাকে, মনে করি সেটাতে বেশি খবর থাকবে। আমি সেটা কিনে যদি দেখি অর্ধেকের মত শুধু বিজ্ঞাপন, তাহলে আমি প্রতারিত বোধ করি। আর আমার মত সাধারণ পাঠকের সাথে এরূপ প্রতারণার অধিকার কারও নাই।যারা আইএইচটি-র উদাহরণ টেনে আনছেন তাঁদের কাছে একটি বিনীত জিজ্ঞাসা--- '৭০, '৮০ ও '৯০-এর দশকের বিখ্যাত অভিনয়শিল্পী, নির্দেশক, প্রযোজক ও চিত্রনাট্য-লেখক সিলভেস্টার স্ট্যালোনের অভিনয় জীবন শুরু হয়েছিল পর্নো মুভিতে অভিনয়ের মাধ্যমে, সেটা কি অনুসরণীয় কিছু?
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















