রেপ্রিজেন্টশন, প্যারিস ম্যাচ ও ‘দুনিয়া কাঁপানো ৩০ মিনিট’
এবারের একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষ্যে প্রথম আলো ও গ্রামীণ ফোনের যৌথ কর্মসূচি ছিল ‘দুনিয়া কাঁপানো ৩০ মিনিট’। কর্মসূচির আরও কিছু সহ-আয়োজক ছিল চ্যানেল আই, এটিএন বাংলা, এনটিভি, আরটিভি, দেশ.টিভি, রেডিও টুডে ও এবিসি রেডিও, যারা কর্মসূচিটির মিডিয়া পার্টনার হয়ে লাইভ কাভারেজ দিয়েছে। শহিদ মিনারের অদূরে, ঐতিহাসিক আমতলার সামনে (ঢাকা মেডিকেল কলেজের ইমার্জেন্সি গেটে) আয়োজিত ঐ কর্মসূচিতে এখনও-জীবিত ভাষা-সৈনিকদের উপস্থিতিতে ১৯৫২ সালের ঐদিনে কী কী ঘটেছিল তার একটা ডেমোনেস্ট্রেশন অনুষ্ঠিত হয়। সফল সেই অনুষ্ঠানটি এক র্যালির মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। তবে র্যালির তরুণেরা শহিদ মিনারে এক পর্যায়ে এক উন্মাদনার পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন ফুল ছোঁড়াছুঁড়ির মাধ্যমে এমনকি মিনার স্তম্ভে উঠে পড়ার মাধ্যমে, যা পার্টনার মিডিয়ায় প্রচারিত-প্রকাশিত হয়নি। পার্টনার-বঞ্চিত ইটিভির সংবাদেই কেবল তা দেখানো হয়।
যাহোক, এই কর্মসূচির পূর্বে ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১০, প্রথম আলো পত্রিকায় একটি বিজ্ঞাপন ছাপা হয়। আজকের এই রচনার বিষয় হলো সেই বিজ্ঞাপন। সেই বিজ্ঞাপনটির রেপ্রিজেন্টশনকে সেমিওটিক পদ্ধতিতে বিশ্লেষণের মাধ্যমে, বিশেষত রোলাঁ বার্থের (Roland Barthes) সেমিওটিক্সের মাধ্যমে, পুরো কর্মসূচির সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক অভিপ্রায়কে বোঝার চেষ্টা করা হবে। তাই প্রথমে আলোচনা সংক্ষেপে আলোচনা করতে চাইবো রেপ্রিজেন্টশন কী এবং রোলাঁ বার্থের সেমিওটিক্সই বা কী?
রেপ্রিজেন্টেশন হলো ভাষাকে ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের কাছে দুনিয়াকে অর্থপূর্ণভাবে বলা বা উপস্থাপন করা। এই ভাষা হতে পারে আলোকচিত্র, চলচ্চিত্র, সাহিত্য, পেইন্টিং ইত্যাদি। রেপ্রিজেন্টেশনের ধারণা সেই ভাষাকে এবং এর অর্থকে সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত করে। অর্থবহনকারী শব্দ, ধ্বনি ও ইমেজকে আমরা চিহ্ন (সাইন) নামক সাধারণ পরিভাষায় বর্ণনা করে থাকি। আমরা আমাদের মাথায় যেসব-ধারণা ও সেগুলোর মধ্যে বিদ্যমান ধারণাগত সম্পর্ক নিয়ে ঘুরি-ফিরি, চিহ্ন সেগুলোকে রেপ্রিজেন্ট করে অথবা প্রতিনিধিত্ব করে এবং এগুলো একত্রে আমাদের সংস্কৃতির অর্থ-পদ্ধতি তৈরি করে। ট্রাফিক লাইটের যে লাল রঙ কিংবা হলুদ কিংবা সবুজ, সেই লাল-হলুদ-সবুজের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই: লাল মানে, যেমন ’থামো’ এবং সবুজ মানে ’যাও’। আমরা আমাদের সংস্কৃতিতে লালের মানে ’থামা’ এবং সবুজের মানে ’যাও’-কে সঙ্কেতাবদ্ধ (এনকোড) করে নিয়েছি। যেকোনো রেপ্রিজেন্টেশন তাই সাংস্কৃতিক। একটি বিজ্ঞাপনের চিত্র বা পোস্টারের তাই ওপরের নির্দেশিত অর্থ (ডিনোটেটিভ মিনিং) থাকে, আমরা যদি তার সঙ্গে লেপ্টে থাকা সাংস্কৃতিক সঙ্কেতলিপি বা কোডগুলোক আলাদা করতে পারি সঙ্কেতোদ্ঘাটনের (ডিকোড) মাধ্যমে, তবে সেই চিত্রের গূঢ়ার্থও (কনোটেটিভ মিনিং) বের করা সম্ভব। ফরাসি তাত্ত্বিক রোলাঁ বার্থ প্রবর্তিত পদ্ধতি সেভাবে কাজ করে।
’প্যারিস ম্যাচ’-এর প্রচ্ছদ
’মিথোলজিস’ গ্রন্থের ‘মিথ টুডে’ প্রবন্ধে রোলাঁ বার্থ একটি উদাহরণ দিয়েছেন, যা সাংস্কৃতিক স্তরে রেপ্রিজেন্টেশন সত্যিকার অর্থে কীভাবে কাজ করে তা বুঝতে আমাদের সহায়ক হয়। একদিন সেলুনে গিয়ে তিনি ফরাসি ম্যাগাজিন ‘প্যারিস ম্যাচ’-এর প্রচ্ছদে দেখতে পান একজন তরুণ নিগ্রো ফরাসি ইউনিফর্ম পরে ওপরের দিকে তাকিয়ে স্যালুট ঠুকছে, সম্ভবত সে তিনরঙা ফরাসি পতাকার দিকে তাকিয়ে ছিল। কোনো অর্থ পেতে চাইলে প্রথম স্তরে আমাদের ইমেজটির প্রতিটি দ্যোতককে (সিগনিফায়ার) যথাযথ ধারণায় সঙ্কেতোদ্ঘাটিত (ডিকোড) করতে হবে। এখানে দ্যোতকগুলো হলো সৈন্য, ইউনিফর্ম, স্যালুট-ঠোকা হাত, ওপরে-তোলা চোখ, ফরাসী পতাকা। এই একপ্রস্থ দ্যোতক এখানে সাধারণ যে-অর্থটি বর্ণনা করছে তা হলো, ‘‘একজন কালো সৈনিক ফরাসি পতাকাকে স্যালুট করছে’’ (নির্দেশিত অর্থ বা ডিনোটেটিভ মিনিং)। কিন্তু বার্থ বলছেন এই ইমেজের একটা বৃহত্তর সাংস্কৃতিক অর্থও রয়েছে। যদি আমরা প্রশ্ন করি, ‘‘কালো সৈন্য ফরাসি পতাকাকে স্যালুট করছে, এই ছবির মাধ্যমে ‘প্যারিস ম্যাচ’ কী বোঝাতে চাচ্ছে?” বার্থ মনে করছেন এর উত্তরে আমরা এই বার্তা পেতে পারি যে: “ফ্রান্স একটা বৃহৎ সাম্রাজ্য, এবং তার প্রতিটি নাগরিক, বর্ণনির্বিশেষে, তার পতাকার নিচে থেকে, বিশ্বস্ততার সঙ্গে তাকে সেবা করে থাকে (নির্দেশিত অর্থ) এবং ফ্রান্সকে উপনিবেশবাদের দায়ে অভিযুক্ত করে থাকে যে-নিন্দুকেরা তাদের জন্য এর চেয়ে ভালো কোনো উত্তর হয় না, যেখানে একজন নিগ্রো তার তথাকথিত নিপীড়কের প্রতি সম্মান দেখাতে কতোখানি উদ্যমী তা দেখা যাচ্ছে (গূঢ়ার্থ বা কনোটেটিভ মিনিং)।”
বার্থের এই প্রকৃত বার্তা খুঁজে পাওয়ার ব্যাপারে আপনি যাই ভাবুন না কেন, যথাযথ সেমিওটিক বিশ্লেষণের জন্য আপনাকে অবশ্যই বিভিন্ন স্তরের সূক্ষ্ম সীমারেখা বের করতে পারতে হবে, যে-পদ্ধতিতে এই বৃহত্তর অর্থ উৎপাদনের বিষয়টি বের হয়ে আসবে। বার্থ বলছেন এখানে রেপ্রিজেন্টেশন ঘটছে দুইটি ভিন্ন কিন্তু পরস্পর সম্পর্কিত প্রক্রিয়ায়। প্রথমত, দ্যোতক (ইমেজের উপাদান) ও দ্যোতিত (ধারণাসমূহ -- যেমন সৈন্য, পতাকা এবং অন্যান্য) মিলে একটা চিহ্ন গঠন করছে যার একটা নির্দেশিত অর্থ রয়েছে: ‘কালো সৈন্য ফরাসী পতাকাকে স্যালুট ঠুকছে’। দ্বিতীয় স্তরে এই সমাপ্ত বার্তা বা চিহ্ন আরেকপ্রস্থ দ্যোতকের সঙ্গে সম্পর্কিত হচ্ছে -- সেটি হলো ফরাসি উপনিবেশবাদ সম্পর্কিত একটা বৃহত্তর, আদর্শগত থিম। প্রথম সমাপ্ত অর্থটি রেপ্রিজেন্টেশন প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় স্তরের দ্যোতক হিসেবে কাজ করছে এবং যখন একজন পাঠক এই দ্যেতককে বৃহত্তর থিমের সঙ্গে মিলিয়ে পড়ছেন তখন মুহূর্তের মধ্যে অধিক বিস্তৃত ও আদর্শগতভাবে কাঠামোবদ্ধ বার্তা বা অর্থ পাচ্ছেন। বার্থ এই দ্বিতীয় ধারণা বা থিমের একটা নাম দিচ্ছেন -- তিনি একে বলছেন “‘ফরাসি উপনিবেশবাদ’ ও ‘সামরিকায়ন’-এর উদ্দেশ্যমূলক মিশ্রণ।” তিনি বলছেন এই মিশ্রণ ফরাসি উপনিবেশ ও তার বিশ্বাসী নিগ্রো সেনা-জোয়ানের জন্য দেয় বার্তার সঙ্গে আরও কিছু যোগ করে। বার্থ এই দ্বিতীয় স্তরের দ্যোতনায়নকে বলছেন মিথ-এর স্তর। এই প্রসঙ্গে তিনি যোগ করছেন, “মিথটির পিছনে ফরাসি উপনিবেশবাদই তাড়না হিসেবে কাজ করছে। ধারণাটি একসারি কার্যকারণ ও ফলাফল, অভিসন্ধি ও ইচ্ছাকে পুননির্মাণ করে ...। এই ধারণার মাধ্যমে ... একটা সম্পূর্ণ নতুন ইতিহাস ... মিথটির মধ্যে রোপিত হয় ... ফরাসি উপনিবেশবাদের ধারণা ... বিশ্বের সমগ্রতার সঙ্গে আবার জুড়ে দেওয়া হচ্ছে; ফ্রান্সের সাধারণ ইতিহাসকে এর ঔপনিবেশিক অভিযানের সঙ্গে, এর বর্তমান সঙ্কটের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে।”
এবং ‘দুনিয়া কাঁপানো ৩০ মিনিট’
এবার আমরা ‘দুনিয়া কাঁপানো ৩০ মিনিট’ কর্মসূচির বিজ্ঞাপনটির দিকে তাকাই। এখানে দ্যোতক হিসেবে পাচ্ছি: আমতলা গেটের ছবি ও তার সামনের রাস্তায় রক্তেভেজা কিছু পদচ্ছাপ, দুনিয়া কাঁপানো কর্মসূচির লোগো ও বায়ান্ন সালের ‘সেই ৩০ মিনিট’-এর কিছু তথ্য এবং ২০১০ সালের ২১ ফেব্র“য়ারির দিনে ঘটনাস্থলে সর্বস্তরের মানুষের মিলিত হবার আহ্বান। একেবারে নিচে আয়োজক প্রথম আলো এবং গ্রামীণ ফোনের লোগো এবং মিডিয়া পার্টনার চ্যানেল আই, এটিএন বাংলা, এনটিভি, আরটিভি, দেশ.টিভি, রেডিও টুডে ও এবিসি রেডিওর লোগো। এই একপ্রস্থ দ্যোতক সাধারণ যে অর্থ বহন করে তা হলো: বায়ান্ন সালের ২১ ফেব্র“য়ারির মূল ঘটনাটি (যা আয়োজকদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ৩০ মিনিটের একটি ঘটনা ছিল) যেখানে ঘটেছিল, সেই একই স্থলে এবারের ২১ ফ্রেব্র“য়ারিতে দেশবাসী কাছে আসবেন এবং এক হবেন। বলা যায় জীবিত ভাষাসৈনিকদের উপস্থিতিতে পুরো দেশ আবার একুশের চেতনায় কাছে আসবেন এবং উজ্জীবিত হবেন।
এখানে রেপ্রিজেন্টশন ঘটছে ছে দুইটি ভিন্ন কিন্তু পরস্পর সম্পর্কিত প্রক্রিয়ায়। প্রথমত, দ্যোতক (বিজ্ঞাপনের বিভিন্ন উপাদান) ও দ্যোতিত (ধারণাসমূহ, যেমন একুশের ঘটনা, এক হওয়া) মিলে একটা চিহ্ন গঠন করছে যার একটা নির্দেশিত অর্থ রয়েছে -- ‘একুশের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে এক হতে হবে’। দ্বিতীয় স্তরে এই সমাপ্ত বার্তা বা চিহ্ন আরেকপ্রস্থ দ্যোতকের সঙ্গে সম্পর্কিত হচ্ছে -- গ্রামীণফোন একটি বৃহৎ কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান যার প্রধান লক্ষ্য মুনাফা অর্জন ও প্রথম আলো একটি সংবাদপ্রতিষ্ঠান মুনাফার পাশাপাশি যা দেশের সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক-সামাজিক ক্ষেত্রে প্রভাব রাখতে চায় এবং কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটর আওতায় উভয়ের অন্যান্য নানা যৌথ কর্মসূচি রয়েছে। প্রথম সমাপ্ত অর্থটি রেপ্রিজেন্টেশন প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় স্তরের দ্যোতক হিসেবে কাজ করছে এবং যখন একজন পাঠক এই দ্যোতককে বৃহত্তর থিমের (গ্রামীণ ফোনের ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য ও প্রথম আলোর সাংস্কৃতিক প্রভাব) সঙ্গে মিলিয়ে পড়ছেন তখন মুহূর্তের মধ্যে অধিক বিস্তৃত ও আদর্শগতভাবে কাঠামোবদ্ধ বার্তা বা অর্থ পাবেন। দ্যোতনায়নের এই দ্বিতীয় স্তরই মিথের স্তর এক্ষেত্রে, রোলাঁ বার্থের বরাতে যা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। এই স্তরে বলতে চাওয়া হচ্ছে যে ইতিহাস তখনই রচিত হতে পারে যখন মানুষ গ্রামীণ ফোনের মতো করে সবার ‘কাছে আসতে’ পারে। লক্ষ্যণীয় যে গ্রামীণ ফোনের স্লোগান ‘কাছে থাকুন’, যা লোগোর অপরিহার্য অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং গ্রামীণজীবনের নানা চিহ্নের রেপ্রিজেন্টেশনের সময় তারা বৃহৎ বিলবোর্ডে লিখে থাকেন যে ‘আপনাকে কাছে রাখতেই আমাদের এতদূর আসা’। লক্ষণীয়, আলোচ্য বিজ্ঞাপনে গ্রামীণ ফোন-এর লোগোতে অপরিহার্য অংশ ‘কাছে থাকুন’ উধাও এবং তাকে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে কর্মসূচির স্লোগানে: ‘কাছে আসার শক্তিতে মাত্র ৩০ মিনিটেই তৈরি হতে পারে ইতিহাস’। নিচে বলা হচ্ছে: ‘চলুন আবারো কাছে আসি। এক হই। এই ২১ ফেব্র“য়ারি, ঠিক দুপুর ৩টায়, সেই আমতলার গেটে। চলুন আবারো ৫২’র সেই ইতিহাসের মহান সংগ্রামী আহমদ রফিক, ভাষা মতিন ও রওশন আরা বাচ্চু-সহ অনেকের সাথে এক হয়ে পৃথিবীকে মনে করিয়ে দেই মানুষের কাছে আসার শক্তি।’ আজকের একুশের এই মিথের পুরো ব্যাপারটাই ‘কাছে আসা’ বা ‘কাছে থাকা’র ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বলাবাহুল্য এর স্বরূপ হবে গ্রামীণফোন-নির্ধারিত। বায়ান্ন সালের ঐ ঘটনাটি হঠাৎ ৩০ মিনিটে ঘটে যায়নি। বরং এর পেছনে আরও অনেক রাজনৈতিক ঘটনাবলী রয়েছে, একটা জাতির আত্মপরিচয় খোঁজার ব্যাকুলতা রয়েছে যা একটি সাংস্কৃতিক অভিপ্রকাশের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে স্পষ্ট হয়ে উঠলেও পরবর্তী সময়ে স্বাধিকার আন্দোলন ও স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করেছে। অথচ এই কর্মসূচি ঘটনাটিকে ৩০ মিনিটে সংক্ষেপকরণের প্রয়াস নিয়েছে।
এভাবে আজকের এই মিথ প্রকৃত ভাষা আন্দোলন, প্রকৃত ২১ ফেব্র“য়ারি, প্রকৃত ভাষাপ্রেমীদের আড়ালে ফেলে দেয়। রফিক-মতিন-বাচ্চুকে সামনে রাখলেও, মিথের পর্যায়ে, আজকের ভাষাপ্রেমী/সৈনিক হয়ে উঠছে প্রথম আলো বা গ্রামীণ ফোন। জাতীয় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক চেতনাটিকে এবং সেই চেতনার জীবন্ত কিংবদন্তীদের এভাবেই বিক্রি করে দেয়া হয়েছে লাখ লাখ গ্রামীণফোন-ভোক্তা এবং প্রথম আলো ও অন্যান্য মিডিয়া পার্টনারের অডিয়েন্সের কাছে। তা কিংবদন্তীরা বুঝতে ব্যর্থ হলেও কেউ কেউ এই রেপ্রিজেন্টেশন ও মিথের গূঢ়ার্থ বুঝতে পেরেছেন। শহিদ মিনার ও ‘দুনিয়া কাঁপানো ৩০ মিনিট’ অনুষ্ঠানের মাঝামাঝি, মেডিকেল কলেজের বহির্বিভাগের উল্টোদিকে, বিশাল বিলবোর্ডে আলোচ্য একই রেপ্রিজেন্টেশন হুবহু লাগানো রয়েছে। ২৩ ফেব্র“য়ারি ২০১০ তারিখে দেখলাম, বিলবোর্ডে ব্যবহৃত চিত্রের নিচ বরাবর ও গ্রামীণ ফোন ও মিডিয়া পার্টনারদের লোগোর ওপর দিয়ে কে যেন বড়ো বড়ো করে লিখে রেখেছে: ‘রক্তে গড়া ইতিহাস জনতার, এদের ধান্দাবাজি আর ব্যবসার জন্য নয়’।
তথ্যসূত্র
স্টুয়ার্ট হলের গ্রন্থ ‘রেপ্রিজেন্টশন: কালচারাল রেপ্রিজেন্টশন এন্ড সিগনিফাইং প্র্যাকটিসেস’ (লন্ডন: দি ওপেন ইউনিভার্সিটি, ১৯৯৭)।
আসলে কেউ ফেরে না।
মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর
যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।