somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কক্সবাজারের নীল পানিতে কালো 'বিষ'!

২৭ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১০:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বঙ্গোপসাগরে চট্টগ্রাম কক্সবাজার উপকূল মারাত্মক দূষণের শিকার হচ্ছে। কক্সবাজারের নাজিরারটেক থেকে চট্টগ্রামের ভাটিয়ারী পর্যন্ত প্রায় দু'শ কিলোমিটার উপকূলজুড়ে সমুদ্রের পানিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। নদী মোহনাগুলোয় এই দূষণের মাত্রা অস্বাভাবিক বেশি। পরিবেশ অধিদফতরের সাম্প্রতিক মনিটরিংয়ে এ ভয়াবহ অবস্থা ধরা পড়েছে।

সমুদ্র উপকূলজুড়ে তেলজাতীয় পদার্থ নিঃসরণের কারণে দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। এখানে প্রতি লিটার পানিতে ১০০ থেকে ১৩০ মিলি গ্রাম পর্যন্ত তেলজাতীয় পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। কোনো কোনো স্থানে আরও বেশিমাত্রায় পাওয়া যাচ্ছে। কক্সবাজারের বাঁকখালী নদী এবং চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী মোহনার অবস্থা আরও ভয়াবহ।

উপকূলজুড়ে সারা বছর ধরে দূষণের মাত্রা অস্বাভাবিক বেশি থাকে। শীতকালে তা ভয়াবহ পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। প্রতি লিটার পানিতে ২০ মিলি গ্রাম তেলজাতীয় পদার্থের উপস্থিতি থাকলে তা সাধারণ সহনীয় মাত্রা বলে গণ্য করা হয়। এর ওপরে গেলেই দূষণের পর্যায়ে চলে যায়।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মাছ ধরার যান্ত্রিক নৌকা এবং মালবাহী জাহাজ থেকে নিক্ষিপ্ত বর্জ্যের কারণে সমুদ্রে দূষণ হচ্ছে সব চেয়ে বেশি। সাগরে ৩০ হাজারের বেশি ফিশিং বোট রয়েছে। যেগুলোর মাধ্যমে সমুদ্র দূষণ হচ্ছে উলেল্গখযোগ্য হারে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারী জাহাজগুলো কর্ণফুলী থেকে কুতুবদিয়া উপকূল পর্যন্ত স্থানে বর্জ্য নিক্ষেপ করছে প্রতিনিয়ত। এছাড়া বিভিন্ন নদী মোহনায় রয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় ডকইয়ার্ড।

এখানে মাছ ধরার নৌকা ও ইঞ্জিন সার্ভিসিং করে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে সমুদ্রে। প্রাপ্ত তথ্য মতে শুধু কক্সবাজারের বাঁকখালী নদী মোহনায় রয়েছে শতাধিক ডকইয়ার্ড।

পরিবেশ অধিদফতরের সংশিল্গষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের অসংখ্য শিল্প-কারখানা থেকে নিক্ষিপ্ত বর্জ্যে কর্ণফুলী নদী মোহনা দূষিত হওয়ার আরও একটি বড় কারণ। এছাড়া ভাটিয়ারীতে জাহাজ ভাঙা শিল্পের কারণেও সমুদ্র দূষণ হচ্ছে অস্বাভাবিক মাত্রায়। চট্টগ্রাম থেকে ভাটিয়ারী উপকূলজুড়ে সমুদ্রের পানিতে অ্যামোনিয়ার উপস্থিতিও আশঙ্কাজনক মাত্রায় পাওয়া গেছে।

পরিবেশ অধিদফতরের চট্টগ্রাম অফিসের সিনিয়র রসায়নবিদ মুস্তাফিজুর রহমান, সমুদ্র দূষণের কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, তারা এ বিষয়ে নিয়মিত মনিটরিং করে সরকারের সংশিল্গষ্ট মহলকে অবহিত করছেন। তিনি জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার উপকূল পর্যন্ত স্থানে সমুদ্রের পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ প্রতি লিটার পানিতে স্থান ভেদে ৫ মিলি গ্রামের নিচে নেমে যাচ্ছে। তিনি জানান, পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ ৩-এর নিচে নেমে গেলে জলজ প্রাণী মারা যাবে। সমুদ্র দূষণের কারণে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

কক্সবাজারের সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, সমুদ্র উপকূলজুড়ে তেলজাতীয় দূষণের মাত্রা এখন সবচেয়ে বেশি। দূষণের ফলে ইলিশসহ সামুদ্রিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্রগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রজনন ক্ষেত্র নষ্ট হওয়ায় বঙ্গোপসাগরে ৪৭৫ প্রজাতির মাছের মধ্যে অনেক প্রজাতি এরই মধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

প্রিয় ব্লগারগণ সময় কি ঘনিয়ে আসছে??????? বাংলাদেশে একটিই মাত্র জায়গা আছে...আমার খুব প্রিয়! আমাদের গর্ব করার আরেকটি জিনিস বোধহয় আবার আমরা হেলায় হারাতে চলেছি!
(সমকালে সৌজন্যে)
১০টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×