এযুগের ওয়েব-সাইট ডেভেলপমেন্টের অন্যতম সেরা হাতিয়ার হল এজাক্স। প্রতিদিন আপনি যেসব ওয়েবসাইট ঘুরে আসছেন, তার অনেকগুলোতেই আছে এজাক্সের ছোয়া। জেনে হোক, না জেনে হোক, আমরা সবাই এই এজাক্স-পাওয়ার্ড ওয়েবসাইট ব্রাউজ করছি। তাই চলুন জেনে নেই কি এই এজাক্স আর এটি ব্যবহারের সুবিধাগুলো।
চলে যাচ্ছি এক যুগ আগে। যখন এইচ টি এম এল এর হাত ধরে হাটি হাটি পা পা করে ওয়েব জগতের যাত্রা শুরু। সেই সময়ের ওয়েবপেইজগুলো নিতান্তই হার্ড-কোডেড স্ট্যাটিক ওয়েবপেইজ ছিল। স্ট্যাটিক মানে হল যে পেইজটি একবার কোডিং করা হলে সেটি আর পরিবর্তন করা যায় না। মানে ঐ পেইজটির কোন রকম পরিবর্তন করতে হলে আপনাকে হাতে-কলমে সেই পেইজটির কোডিং বদলে দিতে হবে। যেহেতু এই ধরণের ওয়েবপেইজগুলোতে কোন রকম ডাইনামিক-পরিবর্তন নেই, তাই এই ধরণের ওয়েবসাইটগুলো নিতান্তই ম্যাড়মেড়ে। দেখতেও ভাল লাগে না। আর এই ধরণের স্ট্যাটিক সাইটে কোন রকম প্রোগ্রামিং করা যেত না বলে সেই আমলে আজকের যুগের ওয়েবদুনিয়ার কথা স্বপ্নেও ভাবা যায়নি
যাই হোক, এরপর এল জাভাস্ক্রিপ্ট। প্রথমবারের মত ওয়েবপেইজগুলো পেল প্রাণের ছোয়া। ইউজারের সাথে লাইভ-ইন্টারেক্টও এইসময় সম্ভব হল! সময়ের সাথে ওয়েব ডেভেলপারদের হাতে এসেছে পি.এইচ.পি, এ.এস.পি, জে.এস.পির মত আরো অনেক প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ। আর আজকের যুগের ঝাকানাকা ওয়েব জগতের পিছে এই সবগুলো মিলে কাজ করছে একযোগে
ভূমিকা শেষ, এবার এজাক্সের কথায় আসা যাক। এজাক্স নিজে আসলে কোন প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ নয়। জাভাস্ক্রিপ্টের সাথে এইচ.টি.এম.এল, এক্স.এম.এল সহ আরো কিছু কোর টেকনোলজির সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে এজাক্স। কিন্তু এজাক্সটা আসলে কি?
গুগল/ইয়াহুতে একাউন্ট খোলার সময়কার কথা চিন্তা করুন। আপনি আপনার প্রত্যাশিত ইমেইল আইডি লিখলেন, সাথে সাথে গুগুল জানিয়ে দিল এই আইডি টি ইতোমধ্যেই একজন ব্যবহার করে ফেলেছে। অথবা মেইল করার কথা চিন্তা করুন। আপনি মেইল আইডি টাইপ করতে শুরু করলেই কিন্তু মেইল প্রোভাইডারগুলো সম্ভাব্য আইডিগুলো আপনাকে দেখাতে শুরু করে। একটু চিন্তা করে দেখুন তো প্রথাগত যে ওয়েবঘরানা, তাতে কি এইসব সম্ভব? মোটেই না, কারণ ওয়েব জগতের প্রথাগত নিয়ম হল আপনি একটি পেইজ সাবমিট করবেন, সেটি সার্ভারে গিয়ে প্রোসেস করা হবে, এর পর আপনাকে ফলাফল/কাঙ্ক্ষিত তথ্য দেয়া হবে। এজাক্সের মাধ্যমে এইসব কাজগুলো একবারেরই করে ফেলাযায়।
গুগুল/ইয়াহুর জন্য রেজিস্ট্রেশনের কথাই চিন্তা করুন আবার। আপনি যখন পাসওয়ার্ড নির্ধারণ করেন, তখন তারা আপনাকে সাথে সাথেই জানিয়ে দেয় পাসওয়ার্ড কি দুর্বল? নাকি ইনভ্যালিড? নাকি বেশ শক্তিশালী। আপনি পাসওয়ার্ড লেখার কাজটি শেষ করা মাত্র ঐ পেইজেই একটি ফাংশন আপনার ডাটাটি পাস করে দেয় ঐ পেইজেই লুকোনো একটি ফ্রেমে (HIdden Frame)। এরপর আপনি যখন পররর্তীতে অন্য কোন কাজ করছেন, যেমন ধরেন রেজিস্ট্রেশনের জন্য অন্য ফর্মগুলো ফিলআপ করছেন, সেই সময়েই ঐ লুকোনো ফ্রেমটি চুপিচুপি ডাটা পাঠিয়ে দেয় সার্ভারে। সার্ভারে থাকা কোন একটি সার্ভার-সাইড স্ক্রিপ্ট তখন সেই ডেটা নিয়ে কাজ করে ফলাফল আবার পাঠিয়ে দেয় লুকোনো ফ্রেমে, আর সেখান থেকে আরেকটি ফাংশন কলের মাধ্যমে সেটি মেইন ফ্রেমে আপনাকে দেখিয়ে দেয়। কাজটা বেশ স্মার্ট!
এজাক্সের আরো বড় সুবিধা হল এটি ডেটার ট্রান্সফার অনেক অনেক কমিয়ে দেয়। পুরো ওয়বেপেইজ লোড না করে এটি শুধু যতটুকু দরকার, ততটুকুই ডেটা নামায়। তাই বুঝতেই পারছেন এতে লাভ হয় ইউজার আর সার্ভার- দুজনেরই।
এজাক্স নিয়ে পারলে কিছু টিউটোরিয়াল দেব। আর শুধু HIdden Frame না, আজকের যুগে এজাক্সে ব্যবহার করা হয় XML, JSON এর মত শক্তিশালী সাপোর্ট। আর সার্ভার-সাইড স্ক্রিপ্টিং এর জন্য পি.এইচ.পির ধারণা থাকতে হবে। সেই সাথে একেবারে জাভাস্ক্রিপ্টের মোটামোটি ক্লিয়ার কনসেপ্ট- এইগুলো থাকলে আজকেই এজাক্স শুরু করে দিতে পারেন, আর আপনার ওয়েবসাইট টি করে তুলতে পারেন বেশি ঝাকানাকা!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

