somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এজাক্স (Ajax) এর জগতে স্বাগতম!

২৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৮:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এযুগের ওয়েব-সাইট ডেভেলপমেন্টের অন্যতম সেরা হাতিয়ার হল এজাক্স। প্রতিদিন আপনি যেসব ওয়েবসাইট ঘুরে আসছেন, তার অনেকগুলোতেই আছে এজাক্সের ছোয়া। জেনে হোক, না জেনে হোক, আমরা সবাই এই এজাক্স-পাওয়ার্ড ওয়েবসাইট ব্রাউজ করছি। তাই চলুন জেনে নেই কি এই এজাক্স আর এটি ব্যবহারের সুবিধাগুলো।

চলে যাচ্ছি এক যুগ আগে। যখন এইচ টি এম এল এর হাত ধরে হাটি হাটি পা পা করে ওয়েব জগতের যাত্রা শুরু। সেই সময়ের ওয়েবপেইজগুলো নিতান্তই হার্ড-কোডেড স্ট্যাটিক ওয়েবপেইজ ছিল। স্ট্যাটিক মানে হল যে পেইজটি একবার কোডিং করা হলে সেটি আর পরিবর্তন করা যায় না। মানে ঐ পেইজটির কোন রকম পরিবর্তন করতে হলে আপনাকে হাতে-কলমে সেই পেইজটির কোডিং বদলে দিতে হবে। যেহেতু এই ধরণের ওয়েবপেইজগুলোতে কোন রকম ডাইনামিক-পরিবর্তন নেই, তাই এই ধরণের ওয়েবসাইটগুলো নিতান্তই ম্যাড়মেড়ে। দেখতেও ভাল লাগে না। আর এই ধরণের স্ট্যাটিক সাইটে কোন রকম প্রোগ্রামিং করা যেত না বলে সেই আমলে আজকের যুগের ওয়েবদুনিয়ার কথা স্বপ্নেও ভাবা যায়নি :)

যাই হোক, এরপর এল জাভাস্ক্রিপ্ট। প্রথমবারের মত ওয়েবপেইজগুলো পেল প্রাণের ছোয়া। ইউজারের সাথে লাইভ-ইন্টারেক্টও এইসময় সম্ভব হল! সময়ের সাথে ওয়েব ডেভেলপারদের হাতে এসেছে পি.এইচ.পি, এ.এস.পি, জে.এস.পির মত আরো অনেক প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ। আর আজকের যুগের ঝাকানাকা ওয়েব জগতের পিছে এই সবগুলো মিলে কাজ করছে একযোগে B-)

ভূমিকা শেষ, এবার এজাক্সের কথায় আসা যাক। এজাক্স নিজে আসলে কোন প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ নয়। জাভাস্ক্রিপ্টের সাথে এইচ.টি.এম.এল, এক্স.এম.এল সহ আরো কিছু কোর টেকনোলজির সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে এজাক্স। কিন্তু এজাক্সটা আসলে কি? :-* আর সাধরণ এজাক্স-বিহীন ওয়েবের সাথে এজাক্স-পাওয়ার্ড ওয়েবসাইটের পার্থক্যটাই বা কোথায়?

গুগল/ইয়াহুতে একাউন্ট খোলার সময়কার কথা চিন্তা করুন। আপনি আপনার প্রত্যাশিত ইমেইল আইডি লিখলেন, সাথে সাথে গুগুল জানিয়ে দিল এই আইডি টি ইতোমধ্যেই একজন ব্যবহার করে ফেলেছে। অথবা মেইল করার কথা চিন্তা করুন। আপনি মেইল আইডি টাইপ করতে শুরু করলেই কিন্তু মেইল প্রোভাইডারগুলো সম্ভাব্য আইডিগুলো আপনাকে দেখাতে শুরু করে। একটু চিন্তা করে দেখুন তো প্রথাগত যে ওয়েবঘরানা, তাতে কি এইসব সম্ভব? মোটেই না, কারণ ওয়েব জগতের প্রথাগত নিয়ম হল আপনি একটি পেইজ সাবমিট করবেন, সেটি সার্ভারে গিয়ে প্রোসেস করা হবে, এর পর আপনাকে ফলাফল/কাঙ্ক্ষিত তথ্য দেয়া হবে। এজাক্সের মাধ্যমে এইসব কাজগুলো একবারেরই করে ফেলাযায়।

গুগুল/ইয়াহুর জন্য রেজিস্ট্রেশনের কথাই চিন্তা করুন আবার। আপনি যখন পাসওয়ার্ড নির্ধারণ করেন, তখন তারা আপনাকে সাথে সাথেই জানিয়ে দেয় পাসওয়ার্ড কি দুর্বল? নাকি ইনভ্যালিড? নাকি বেশ শক্তিশালী। আপনি পাসওয়ার্ড লেখার কাজটি শেষ করা মাত্র ঐ পেইজেই একটি ফাংশন আপনার ডাটাটি পাস করে দেয় ঐ পেইজেই লুকোনো একটি ফ্রেমে (HIdden Frame)। এরপর আপনি যখন পররর্তীতে অন্য কোন কাজ করছেন, যেমন ধরেন রেজিস্ট্রেশনের জন্য অন্য ফর্মগুলো ফিলআপ করছেন, সেই সময়েই ঐ লুকোনো ফ্রেমটি চুপিচুপি ডাটা পাঠিয়ে দেয় সার্ভারে। সার্ভারে থাকা কোন একটি সার্ভার-সাইড স্ক্রিপ্ট তখন সেই ডেটা নিয়ে কাজ করে ফলাফল আবার পাঠিয়ে দেয় লুকোনো ফ্রেমে, আর সেখান থেকে আরেকটি ফাংশন কলের মাধ্যমে সেটি মেইন ফ্রেমে আপনাকে দেখিয়ে দেয়। কাজটা বেশ স্মার্ট! B-) সামান্য এইকাজটিই প্রথাগত ওয়েবের মাধ্যমে করতে গেলে আপনাকে ফর্মটি সাবমিট করতে হত, এরপর সার্ভারে গিয়ে সেটি প্রসেস্ড হয়ে ফিরে আসত, এরপর আপনি জানলেন আপনার আইডিটি আগেই কেউ দখল করে বসে আছে X( পুরো ফর্মটি আবার সাবমিট করতে হত, আর কয়বার যে করতে হত কে জানে!

এজাক্সের আরো বড় সুবিধা হল এটি ডেটার ট্রান্সফার অনেক অনেক কমিয়ে দেয়। পুরো ওয়বেপেইজ লোড না করে এটি শুধু যতটুকু দরকার, ততটুকুই ডেটা নামায়। তাই বুঝতেই পারছেন এতে লাভ হয় ইউজার আর সার্ভার- দুজনেরই।

এজাক্স নিয়ে পারলে কিছু টিউটোরিয়াল দেব। আর শুধু HIdden Frame না, আজকের যুগে এজাক্সে ব্যবহার করা হয় XML, JSON এর মত শক্তিশালী সাপোর্ট। আর সার্ভার-সাইড স্ক্রিপ্টিং এর জন্য পি.এইচ.পির ধারণা থাকতে হবে। সেই সাথে একেবারে জাভাস্ক্রিপ্টের মোটামোটি ক্লিয়ার কনসেপ্ট- এইগুলো থাকলে আজকেই এজাক্স শুরু করে দিতে পারেন, আর আপনার ওয়েবসাইট টি করে তুলতে পারেন বেশি ঝাকানাকা! B-)
২৭টি মন্তব্য ২৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×